রজনী ঘটিকার হিসেব নেই,কাঙ্খিত এক শুভ্রতার স্পর্শকে খুঁজতে বেরিয়ে পরেছে শহর।এতোটা রাতে নিস্তব্ধ শহরের কোথায় খুঁজবে শহর তার কঙ্কাবতীকে?সন্দেহজনক সবগুলো জায়গায় খোঁজ করেও মিললো না কঙ্কাবতী।শহরের পরিচিত সব বন্ধুরা মিলেই খুঁজে চলেছে কঙ্কাবতীকে এতরাতে।থানায় ডায়েরি করা হয়েছে কিছুক্ষণ আগেই।
রাত প্রায় আড়াইটা,ক্লান্ত শহর যেন নিজের পরিচিত শহরেই অপরিচিত গলির সন্ধানে নামলো,যদি কঙ্কাবতীকে পাওয়া যায় কোথাও।
গাড়ির সীটে হেলান দিয়ে চোখ বুঁজে আছে শহর।ধুপধাপ কম্পনটা যেন কমতেই চাইচে না,হৃৎস্পন্দন গুলো বারবার হাহাকার করছে যেন কঙ্কাবতীকে পাওয়ার জন্য।
চোখের পাতায় ভেসে উঠলো কঙ্কাবতীর ক্রন্দনরত মুখটি,বিদ্ধস্ত সেই মুখখানিতে কত যন্ত্রণা মিশ্রিত,হুট করেই যেন শহরের কানে প্রতিধ্বনি হতে লাগলো কঙ্কাবতীর করুন ডাক...
"শহর স্যার..."
তড়িৎ বেগে চোখ খুলে লাফিয়ে উঠলো শহর।নিজের চারপাশে চোখ বুলিয়ে ডাকলো কঙ্কাকে...
"কঙ্কাবতী?,,কঙ্কাবতী কোথায় তুমি?"
পাশের সীটে বসে থাকা শহরের নীকট বন্ধু রাফি শহরের এমন কান্ড দেখে বলে উঠলো...
"কি হলো,তুই এমন করছিস কেন?শান্ত হ...."
শহর শুনে সেই আগের মতো করেই বললো...
"কঙ্কাবতী কোথায়?ওর তো কষ্ট হচ্ছে, আমায় মাত্র ডাকলো তো ও।কোথায় কঙ্কাবতী?"
রাফি বুঝতে পারলো শহর উল্টো পাল্টা চিন্তা করছে।তাই তাকে শান্ত করার চেষ্টা চালাতে লাগলো নিজের সাধ্য মতো।কিন্তু শহরকে স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না।বারবার নিজেকেই নিজে দোষ দিচ্ছে, কেন তখন কঙ্কাবতীকে থাপ্পর মারলো,কেন রাগের মাথায় একা চলে যেতে বললো।তখন যদি এসব কথা না বলতো তাহলে যে কঙ্কাবতী আজ আর হারিয়ো যেতো না।সবটাই যেন শহরের নিজের জন্য হয়েছে।কঙ্কাবতী ঠিক নেই,শহরের মন বলছে কঙ্কাবতীর ঘোর বিপদ।কিন্তু কোথায় আছে কঙ্কাবতী?.....
দেখতে দেখতে রাত পাড় হয়ে সকাল হলো,কঙ্কাবতী নেই।কিছুক্ষণ আগেই রাফি শহরকে নিয়ে বাড়ি এলো।সারাটা রাত পাগলের মতো এদিক ওদিক ছুটেছে শহর।এখন আবার মাথায় নিয়েছে বালুকহাটি যাবে।
এটা শুনেই রাফি অনেক কষ্টে তাকে বাঁধা দিয়ে বললো, এখনই যাওয়ার দরকার নেই।বাড়িতে গিয়ে একটু রেস্ট নিয়ে তবেই বের হবে।শহর মানতে চাইলো না,তবে রাফি যখন বুদ্ধি করে বললো...
"তুই নিজেই তো অসুস্থ হয়ে পড়ছিস,,তোর কিছু হলে এবার কঙ্কাবতীকে খুঁজবি কি করে।আগে নিজেকে তো ঠিক রাখতে হবে,অন্তত কঙ্কাবতীর কোনো খোঁজ পাওয়া পর্যন্ত। "
শহর মানলো।বাড়িতে এসে ফ্রেশ হলো।জোর করেও কিছু খাওয়াতে পারলো না তাকে।ওভাবেই রাফিকে নিয়ো রওয়ানা হলো বালুকহাটির দিকে।
কঙ্কাবতীর ফোনটি যেই লোকটা পেয়েছে তার সাথে যোগাযোগ করলো।লেকটাও যতটুকু পারলো সাহায্য করলো,তবে কিছুতেই কিছু যেন মিলছে না, বালুকহাটিতে কঙ্কাবতীর ফোনটা পাওয়া গেছে,এই ভেবে শহর আশপাশে কঙ্কাবতীর ছবি দেখিয়ে লোকজনদের জিজ্ঞেস করতে লাগলো তাকে কেউ দেখেছে কিনা।
বেশ অনেকক্ষণ খোঁজ করেও কোনো লাভ হলো না।হাল ছেড়ে যখন শহর গাড়িতে উঠে বসলো,তখন একটা ছেলে দৌড়ে এসে শহরকে ডাকলো....
"এক্সকিউজ মি ব্রো,আই ওয়ান টু সেয় সামথিং। "
শহর বিরক্ত বোধ করলো।তবুও জিজ্ঞেস করলো...
"কি?"
ছেলেটি চোখের পাতা ঝাপটিয়ে নিলো কয়েকবার।এরপর বললো...
"একটু আগে দেখলাম আপনারা কাউকে খুজছিলেন।আমি কি ছবিটি আরেকবার দেখতে পারি?"
শহর ফোন থেকে কঙ্কাবতীর হাস্যজ্জল মুখের একটি ছবি দেখালো....
ছেলেটি ভালো করে দেখে উৎকন্ঠা নিয়ে বললো...
"ইয়াহ,,এক্সাক্ট এই মেয়েটাই ছিলো গত কাল।হ্যা,,এই-ই.."
শহর আর রাফি যেন কিছু একটার দিশা খুঁজে পেলো।তড়িঘড়ি করে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলো...
"আপনি দেখেছেন ওকে?"
"হ্যা,,গতকাল আমি আর এই মেয়েটা একই বাসেই ছিলাম।জ্ঞান ছিলো না ওর। দু-তিনজন লোক মিলে ধরে ধরে নামিয়েছে আগের স্টপেজ এ।এরকম দেখে কন্ডাকটর জিজ্ঞেস ও করেছিলো কি হয়েছে উনার,তো লোকগুলো বললো মেয়েটা নাকি তাদের বোন হয়,অসুস্থ তাই জ্ঞান নেই।এর পর তো আর জানি না।"
শহরের বুকের ভেতর কিছু একটা যেন মুছড়ে ধরলো।কঙ্কাবতী মা বাবার এক মাত্র মেয়ে।কোনো ভাই নেই ওর,এমন কি তাদের পরিবারের সাথে আত্মীয়দেরও তেমন একটা ভালো বন্ডিং নেই,যে চাচাতো,ফুফাতো ভাই হবে কঙ্কার।
চিন্তাগ্রস্ত হয়ে দ্রুত পাশে তাকিয়ে রাফিকে বললো....
"কঙ্কাবতীর এমন কোনো ভাই নেই রাফি।ওরা কারা ছিলো তাহলে?"
ছেলেটিও শুনলো তাদের কথা।একটু হতাশ হয়ে বললো...
"আমার খুব খারাপ লাগছে সবটা জেনে।তখন যদি একটু আচ করতে পারতো বাসের কেউ,তাহলে হয়তো মেয়েটার এতো বড় বিপদ হতো না।"
শহরের বুক কাঁপছে। হা হুতাশ কন্ঠে বললো...
"ওরা কারা ছিলো রাফি?"
রাফি বুঝতে পারছে বিষয়টা খুব বেশিই ভয়ঙ্কর হতে চলেছে।শহরকে কিভাবে শান্তনা দেবে বুঝতে পারছে না সে।অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠলো.....
"তোর কঙ্কাবতী কি*ডন্যাপড...."
শহর টলটল চোখে হতাশ হয়ে তাকালো রাফির দিকে।ছেলেটি বললো....
"আজকাল পরিস্থিতি ভালো না।মেয়েটা যথেষ্ট সুন্দর ছিলো।হতেও পারে কেউ বাজে কিছুর জন্য, আই মিন...পাচার বা দেহ ব্যাবসার কাজে..."
"নাহ....এমন কিচ্ছু হবে না আমার কঙ্কাবতীর সাথে।"
শহরের চিৎকারে থেমে যায় ছেলেটি।শহরের পাগল পাগল লাগছে, ছেলেটির বলা কথা গুলো ভাবতেই কেমন গা শিউরে উঠছে তার।কঙ্কাবতী তো পবিত্র, শহর তো স্বামী হয়েও ওকে কখনো গভীর ভাবে স্পর্শ করেনি,সেখানে অন্য পুরুষ কঙ্কাবতীর শরীরে বিচরন করবে? নাহ,কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না শহর।কিছুতেই না।
সারাটা দিন খুঁজলো কঙ্কাকে।কখনো পুলিশের সাথে মিলে,আবার কখনো একা একা রাফির সাথে গিয়ে।তবুও যেন কঙ্কাবতীর অস্তিত্ব খুঁজে পেলো না সে।কি করে এমন প্রাণোচ্ছল মেয়েটি হারিয়ে গেলো?
বাড়িটায় আজ দুদিন ধরে কোনো হল্লাহল্লি নেই।কঙ্কাবতীর নুপুর পায়ে ছুটাছুটির আওয়াজ নেই।শহরকে জ্বালানোর ফায়দা নেই,কেমন গুমোট হয়ে আছে যেন সব।
সন্ধ্যার পরে যখন ক্লান্ত মস্তিষ্ক নিয়ে শহর আর রাফি বাসায় এসে ড্রয়িং রুমের সোফায় গা এলিয়ে দেয়,তার মিনিট দুয়েক পরেই শহরের ফোনে কল আসে।শহরের বিরক্ত লাগছে সব,সে কল তুলছে না দেখে রাফিই রিসিভ করে কথা বললো সব।
কল কাটার পর রাফির দিকে তাকাতেই ভ্রু জোড়া কুঁচকে এলো শহরের,সাথে লাবিব আর সাবিহারও।রাফিকে কেমন যেন দেখাচ্ছে, ছেলেটা কেমন হাসফাস করছে।তার এমন অবস্থা দেখে শহর দ্রুত জিজ্ঞেস করলো....
"কে ফোন করেছে?কি বললো বল আমায়।রাফি বল বলছি.."
" প্ পুলিশ অফিসার কল করেছে।"
"কি বললো উনি??আমার কঙ্কাবতীর কোনো খোঁজ পেয়েছে?জানা গেছে ও কোথায় আছে?"
রাফি ঢোক গিললো।তার চুপ থাকা দেখে সাবিহাও উত্তেজিত হয়ে বললো...
"রাফি বাবা,চুপ করে থেকো না, বলো না কি বলেছে অফিসার?"
রাফি সবার দিকে একবার নজর বুলিয়ে নিয়ে বিদ্ধস্ত চোখে তাকালো শহরের দিকে।এক দমে বলে উঠলো...
"আজ বিকালে সরাইহাটের হাইরোডে দুটো বাসের এক্সিডে*ন্ট হয়েছে শহর।ক্ কঙ্কা সেখানের একটি বাসে ছিলো।পুলিশ পৌছেছে সেখানে।ব্ বলেছে ইমিডিয়েটলি আমাদের সেখানকার লোকাল হসপিটালে পৌঁছাতে। "
সোফা ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলো শহর।কানের পাশ দিয়ে যেন ভনভনিয়ে বোলতা উড়তে লাগলো,,রাফির কথাগুলো বারবার যেন কানে প্রতিধ্বনি হয়ে বাজতে লাগলো তার।আর কোনো শব্দ নেই,,আর কোনো কথা কানে পৌঁছায় না যেন তার।
হুট করে এতোটা শক নিতে পারেনি সাবিহাও।দাঁড়িয়ে থাকা থেকেই মাথা ঘুরে পড়তে নিলেই রাফি আর লাবিব মিলে ধরে ফেললো তাকে।সোফায় বসিয়ে চোখে মুখে পানি দিতে লাগলো লাবিব তার।
শহরকে স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কাঁধে হাত দিয়ে রাফি করুন কন্ঠে বললো...
"আমাদের দ্রুত যেতে হবে শহর।নিজেকে শক্ত কর,কিচ্ছু হবে না তোর কঙ্কার।"
শহর ঠিক কতটা কানে নিলো বুঝতে পারলো না রাফি।আর কোনো দিকে না তাকিয়ে দ্রুত ছুটলো গাড়ির কাছে।গন্তব্য তার কঙ্কাবতী ছাড়া আর কিছুই নয়।
------------
সরাইহাট,জায়গাটা খুব একটা শহুরে এলাকা নয়।চিকিৎসা সেবার জন্য একটি মাত্র হসপিটাল আছে। সেখানেই এই বড় বিপদে স্থান হয়েছে কত শত মানুষ।আহত ও নিহত রোগীর সংখ্যা এক শতাধিক।
এ লোক সে লোক পেরিয়ে হসপিটালে ঢুকলো শহর আর রাফি।প্রতিটা কোনায় কোনায় কঙ্কাবতীকে পাগলের মতো খুঁজে চলেছে তারা।কোথায় আছে সে?চিকিৎসা চলমান জায়গা গুলোতে খুঁজেও যখন তাকে পাওয়া গেলো না,তখন রাফি মনের মধ্যে একটু সাহস সঞ্চয় করে ভীরু কন্ঠে বললো....
"এ্ একবার ল্ লা*শের জায়গাটা চেক করবি?"
সাথে সাথেই শহর অগ্নি চক্ষু নিয়ে তাকালো রাফির দিকে। চোয়াল শক্ত করে তর্জনী উঁচিয়ে রাফিকে সতর্ক কন্ঠে বললো....
"খবরদার এই কথা বলবি না। আমার কঙ্কাবতীর কিচ্ছু হবে না।ও বেঁচে আছে এবং সুস্থ আছে।"
শহরের এমন প্রতিক্রিয়া দেখে রাফি আর দ্বিতীয়বার সাহস করলো না কথাটি বলার।এবার শহর হসপিটালের মধ্যেই লোকজনকে কঙ্কাবতীর ছবি দেখিয়ে খোঁজ করতে লাগলো।বেশ অনেকটা সময় পাড় হলেও কঙ্কাবতীর খোঁজ মিললো না।তাও চেষ্টা ছাড়লো না তারা।কিছুক্ষণ পর সেখানে কর্মরত এক ডাক্তার চিনতে পারলো কঙ্কাবতীর ছবিটি দেখে।ছবিটি দেখেই তিনি বলা উঠলেন....
"এই পেশেন্টকে তো একটু আগে সিটি হসপিটালে পাঠানো হয়েছে।আমিই ওর ট্রিটমেন্ট করছিলাম এতোক্ষণ ধরে। "
শহর উতলা হয়ে প্রশ্ন করলো...
"হসপিটাল ট্রান্সফার?আ্ আমার কঙ্কাবতীর কি হয়েছে এমন,ও্ ও ঠিক আছে তো?"
ডাক্তার তাকে চোখের ইশারায় শান্ত থাকতে বললো...
"আপনি একটু শান্ত হয়।সত্যি বলতে এই পেশেন্টের কন্ডিশন আমার খুব অদ্ভুত লেগেছে।এক্সিডেন্টের কারনে তার তেমন বড় কোনো ক্ষতি হয়নি,ঐ টুকটাক কাটা ছেড়া।মাথায়ও আঘাত লাগেনি তেমন।কিন্তু জ্ঞান ফেরার পরও ঠিক মতো নড়তে চড়তে পাড়ছিলো না,এমনকি কথাও বলতে পারছিলো না,এক ঝিমুনির মতো লাগছিলো কেমন।তাই আমি খুব একটা রিস্ক নিতে চাইনি বলে ভালো ট্রিটমেন্টের জন্য সিটি হসপিটাল পাঠিয়েছি।উনার কিছু ব্যবহৃত জিনিস হসপিটালে জমা রয়েছে,ওগুলো নিয়ো যাবেন প্লিজ মনে করে।"
ডাক্তারের কথা শুনে কি বলবে ভেবে পেলো না শহর আর রাফি।তবে একটু সস্তি পেলো কঙ্কাবতীর এক্সিডেন্টের ফলে বিশেষ কোনো ক্ষতি হয়নি শুনে।
খুব একটা দেরি করলো না তারা আর।সিটি হসপিটাল পৌঁছেই কঙ্কাবতীর খোঁজ করলো।ফর্মালিটিস ম্যান্টেইনের কারনে খুব সহজে পেয়েও গেলো খোঁজ। একটু আগেই তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে দেওয়া হয়েছে।কেবিন নং ৪৪৫,
ভেতরে ঢুকতেই শহরের হৃদপিণ্ডের গতির পরিবর্তন ঘটলো।বেডে শুয়ে থাকা ঘুমন্ত কঙ্কাবতীর নেতিয়ে পড়া মুখটা দেখেও যেন রাজ্যের শ্রান্তি ভর করলো।
গত দুটো দিন যে শহরের চোখের পাতায় সস্তি ছিলো না।ভয় ভয়,কঙ্কাবতীকে হারানোর ভয়,যেন গ্রাস করে রেখেছিলো পুরো শহরটাকেই।এই যে এখন কঙ্কাবতী ঠিক শহরের সামনেই।আর হারিয়ে যেতে দেবে না কিছুতেই। আগলে রাখবে নিজের বুকের মাঝে।
আলতো হাত খানা কঙ্কাবতীর রুক্ষ চুলের মাঝে বুলিয়ে দিলো শহর।কঙ্কাবতীর সারা শরীরে থেকে থেকে ক্ষতের দাগ।ইশশ,কি বিধ্বস্ত অবস্থা..
কঙ্কাবতীর ট্রিটমেন্ট করা ডক্টরটির সাথে শহর কথা বলতে চাইলো।ডক্টরও ঠিক তাই,শহর তার কেবিনে গিয়ে বসতেই ডক্টর হালকা হেসে জিজ্ঞেস করলো....
"উনি আপনার কে হয়?"
শহর জিভ দিয়ে হালকা ঠোঁট ভিজিয়ে নিলো।প্রশ্নটা আজকাল সে নিজেকেই তো করে প্রায় সময়।কঙ্কাবতী তার কে?বউ নাকি ভালোবাসা? কিছুটা কম্পমান স্বরে ডক্টরের প্রশ্নের উত্তর দিলো শহর....
"আমার ওয়াইফ।কঙ্কাবতী।"
"কঙ্কাবতী,আই সি...।"
"ওর হয়েছেটা কি ডক্টর?"
"দেখুন,যেভাবে এক্সিডেন্ট হলো ভাগ্য ভালো যে তার ফলে তেমনমকোনো ক্ষতিই হয়নি।তবে কঙ্কাবতীর শরীরে এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক মেডিসিন পাওয়া গেছে।খুবই সেনসিটিভ বলা যায়।এটি সাধারণত মানুষকে পুরোপুরি অবশ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।যেটির প্রভাব সহজে কাটে নাই বলে যায়।আমার ধারনা থেকে বলছি,হয়তো ঐ বাসে কোনো ক্যামিক্যাল কয়ারি করা হচ্ছিল, যেটার থেকে ভুল বসত কঙ্কাবতীর শরীরে প্রবেশ করে সেটি।"
শহরের চিন্তার যেন শেষই হচ্ছে না।কি থেকে কি হয়ে গেলো এতোসব?চিন্তিত হয়ে শহর ডক্টরকে ফের প্রশ্ন করলো...
" এখন?এখন কেমন আছে কঙ্কাবতী?বয়ের কোনো কারন...."
"নাহ,এখন উনি রিস্ক মুক্ত বলা যায়।আমরা এন্টিডোজ দিয়েছি।আজ রাতটা এখানেই থাকবে,আরো একটি ইনজেকশন রয়েছে বাকি।সেটা দেওয়ার পর না হয় কালকে রিলিজ দেওয়া হবে।জ্ঞান ফিরলেই আশা করি কথা বলতে পারবেন।"
কঙ্কাবতী আপাতত সুস্থ আছে শুনে যেন বুকের থেকে বড় একটা পাথর সরলো শহরের।ডক্টরের সাথে কতা শেষ করে বাড়িতে জানিয়েছে যে কঙ্কাবতী ঠিক আছে।তারপর কঙ্কার কেবিনে এসে তার মাথার কাছে বসে অপলক তাকিয়ে রইলো তার দিকে।
রাত বাড়ার সাথে সাথে ক্লান্ত শহর যেন একটু নিশ্চিন্ত হয়ে চোখের পাতায় ঘুম লেগে এলো। বেডের বোর্ডেই মাথাটা হেলান দিয়ে একটু ঘুমানোর প্রয়াশ চালালো শহর।
রাতের মধ্য ভাগে নিজের হাতের উপর তরল কিছুর আভাস পেয়ে চোখ খুলে ফেললো শহর।
হাতটা কঙ্কাবতীর গালের কাছেই ছিলো।সেথায় কঙ্কাবতীর চোখের পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে শহরের হাত ছুঁয়েছে।
শহর চকিত হয়ে দেখলো কঙ্কাবতীর জ্ঞান ফিরেছে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনে কঙ্কাবতী।নীরবে চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু।কিন্তু কঙ্কাবতী কাঁদছে কেন?
শহর দু হাতের আজলে আগলে নিলো কঙ্কাবতীর গালদুটি।উতলা হয়ে বললো...
"কঙ্কাবতী?কাঁদছো কেন তুমি?কোথায় কষ্ট হচ্ছে তোমার, আমায় বলো?"
কঙ্কা কোনো উত্তর দিলো না।তার নীরবতা দেখে শহর আরো একটু জোড় নিয়ে বললো..
"তুমি ভয় পাচ্ছো কঙ্কাবতী?একদম ভয় পেও না,দেখ আমি এখানেই আছে,তোমার শহর স্যার এখানেই আছে কঙ্কাবতী।প্লিজ কেদোনা। কি হয়েছে বলো আমায়?"
বেশ অনেক চেষ্টা করার পরও কঙ্কাবতীর মুখ থেকে কোনো কথা বের হলো না।শহর যখন ক্লান্ত হয়ে নীরবে কঙ্কাবতীর চুলের ভাঁজে আবার হাত বুলিয়ে দেওয়া শুরু করলো,তখন কঙ্কাবতী ভাঙা স্বরে ধীরে ধীরে বলে উঠলো....
"আ্ আমার থেকে মুক্তি পাওয়ার স্ সময় চলে এসেছে আপনার, শহর স্ স্যার.......।"