নিজের রুমের দরজার সামনে আসতেই থেমে গেলো শহরের পা জোড়া।ড্রেসিন টেবিলের সামনে বসে থাকা কঙ্কাবতীর অবস্থা দেখে নিজের গালেই ঠাটিয়ে চর মারতে ইচ্ছে হলো তার।নিজের প্রতি ভাবনাধারী, বুদ্ধিমান ট্যাগটা যে এতগুলো দিন বৃথাই লাগিয়ে রেখেছে তা আন্দাজ হলো শহরের।
ভেতরে যাওয়া কি উচিৎ হবে এখন?হয় তো না।ভেবেই নীরবে উলটো ঘুরে চলে আসতে গেলেই শহরের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে উঠলো,ঐ রুমে আরো কেউ আছে।যে ভিষন কামুক ভাবে কঙ্কাবতীর অঙ্গসোভায় চোখ বুলাচ্ছে,নিজ মস্তিষ্কে ধারন করছে কঙ্কাবতীর ছোট্ট দেহের ভাজ।কিন্তু কে?..
হুট করেই মাথায় এলো হিডেন ক্যামেরাটার কথা।ওটা তো রুমেই আছে।শহর চিন্তা করলো না কিছু।ঘুরে গিয়ে আস্তে করে রুমে ঢুকে ক্যামেরা রাখা জায়গাটার সামনে একটি ফুলদানি রাখলো,পরে প্রয়োজনে না হয় সরিয়ে দেবে।এখন থাক এভাবেই।
এদিকে নিজের বা হাতের ইনজেকশন দেওয়া জায়গাটা থেকে গলগলিয়ে রক্ত পড়ে শুকিয়ে আছে কঙ্কার অসহ্য ব্যাথাও।তখন স্কেলের বারি টা বেশ ভালো ভাবেই লেগেছে যে। পড়নের জামাটার পিছনে চেইন থাকায়, সেটি একটু খুলে হাতের দিকটায় একটু নামিয়ে ক্ষতস্থানের শুকিয়ে যাওয়া রক্ত গুলো পরিষ্কার করছিলো কঙ্কা।ব্যাথা লাগছিলো বেশ,টান পড়ার কারনে মুখ কুঁচকে ব্যথা কোনো মতে সহ্য করে হলেও মলম লাগাতে নিচ্ছিলো কঙ্কা।
শর্মি আপু বাড়ি নেই।আর আম্মুও ঘুমাচ্ছে একটু,তাই তাদের কাউকেই আর ডাকা হলো না কঙ্কার।নিজে নিজেই চেষ্টা করছিলো।হঠাৎ পেছন থেকে কিছু একটার শব্দ পেতেই আয়নায় দেখলো শহরকে।তাকে দেখেই চমকে দ্রুত জামার হাতাটা উপরে তুলে নিলো কঙ্কা। থতমত খেয়ে বলে উঠলো...
"আপনি এখানে??"
শহর স্বাভাবিক। যেন কিছুই হয়নি। এগিয়ে এসে হাতের ঘড়িটা খুলে টেবিলের উপর রাখতে রাখতে আস্তে করে বললো...
"এটা আমারও রুম।"
কঙ্কা উঠে দাঁড়িয়ে পেছনে পিঠ দিয়ে জামার চেইনটা আঁটকে নিলো দ্রুত।বললো....
"একটু জানিয়ে আসবেন তো। আমি কেমনে... "
শহর শার্টের উপরের বোতাম গুলো খুলতে খুলতে সরাসরি তাকালো কঙ্কার দিকে।বললো....
"আ'ম ইউর হাসবেন্ড, অন্য পুরুষ তো নই।"
"বউ বলে মানেন আমায়?"
কন্ঠের প্রখরতা কেমন যেন কাতর শোনালো না?তাই তো,শহরের বুদ্ধি লোপ পেয়েছে,শ্রবন শক্তি তো লোপ পায়নি।চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ এক নিশ্বাস ফেললো শহর।..মেয়েটা এতো নিখুঁত অভিনয় কি করে পারে,কঙ্কাবতীর এই অভিয়নেই তো শহররা বি*ষে ডুবে মরে।সে যে শহরকে ভালোবাসে না তা তো স্পষ্ট। ভালোবাসায় মানুষ মানুষকে জানতে হয়,নিখুঁত ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।কঙ্কাবতী তো তাকে একবার দেখেই ভালোবাসি ভালোবাসি বলে নাচতে শুরু করেছে। শহরদের মতে,ইহা ভালোবাসা নয়,ইয়া বর্তমান যুগে ক্রাশ খাওয়া নামে পরিচিত।
অথচ শহররা বুঝতেও পারলো না, প্রথম দেখায়ও ভালোবাসা হয়।কঙ্কাবতীও তাকে ওভাবেই ভালোবেসেছিলো।অনুভব করে ভালোবাসেনি,কঙ্কাবতী ভালোবেসে তারপরই অনুভব করেছে দিনের পর দিন তার শহর স্যারকে।
কঙ্কাবতীর প্রশ্নটার উত্তর দিতে পারলো না শহর।চাইলো ও না ঐ টুকুন মেয়ের কথার উত্তর দিতে।শার্টের হাতা ফোল্ড করে দু কদম এগিয়ে এলো কঙ্কার দিকে।হাতের দিকে ইশারা করে বললো...
"দেখি,হাতটা দেখাও?"
বলতেই কঙ্কা হুট করে দু কদম পিছিয়ে গেলো।ভ্রু কুঁচকে এলো শহরের।সেও এগিয়ে যেতে নিয়ে বললো...
"কি হলো, এদিকে এসো।"
"নাহ"
কঙ্কার কথায় দাঁড়িয়ে গেলো শহর।ঘন একটা নিশ্বাস ফেললো সে।বললো...
"আ'ম সো সরি।তখন আমার মাথায় ছিলো না, তুমি আমাকে এতোক্ষণ বলো নি কেন,হাত থেকে যে রক্ত বেরিয়েছে?"
"বলে কি লাভ?আপনার কিছু আসে যায়?"
শহর উত্তর দিলো না।হুট করেই কঙ্কার হাত ধরে টেনে কাছে নিয়ে এলো সে।জোর করে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসানোর সময় কঙ্কা বললো...
"আমি প্রমিস করেছিলাম,অনুমতি ছাড়া আপনাকে ছোঁয়া যাবে না। "
শহর গিয়ে ড্রয়ার থেকে ফার্স্ট এইড বক্স আনতে আনতে বললো...
"এটা তোমার প্রমিস,।তুমি আমাকে অনুমতি ছাড়া ছুঁতে পারবে না।কিন্তু আমি যখন ইচ্ছে তোমাকে টার্চ করতে পারবো।নাও কিপ ইউর মাউথ শ্যাট।"
শহর বক্স থেকে এন্টিসেপ্টিক নিয়ে কঙ্কার কাঁধে হাত দিতেই কঙ্কা লাফিয়ে উঠে বললো...
"আ্ আমি পারবো। এদিকে দিন।"
শহর চুপচাপ তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ কঙ্কাবতীর দিকে।পরমুহূর্তেই ঢোক গিলে মলমটা এগিয়ে দিলো কঙ্কার দিকে।এরপর বক্স থেকে একটি টেবলেট নিয়ে কঙ্কার হাতে দিয়ে বললো...
"এটা খেয়ে নেবে।ব্যাথা কমে যাবে।"
কঙ্কার পৃরশ্নের ঝুলি তো কোথাও থামার নেই,তাই এই এখনও জিজ্ঞেস করে বসলো...
"আপনি তো কেমিস্ট্রি টিচার।তাহলে মেডিকেল কবে পরলেন?ঔষুধ ও দিচ্ছেন যে?"
খুবই বিরক্ত হলো শহর।মুখ কুঁচকে বললো...
"গাধা মেয়ে কোথাকার।তারাতারি মলমটা লাগাও,আমি রুমে আসবো,চেঞ্জ করবো।কুইক..."
বলেই দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
-------
মাহেরের সাথে বেশ শান্ত ভাষায় কথা বললো শহর।বুঝিয়েও দিলো শেহেরিশ বিন শহরের বউ সে।ভবিষ্যতে যেন ভেবে চিন্তে চলে। মাহের খুবই স্বাভাবিক ভাবে নিলো।হাহ,এবার ঐ নিনাদ ছেলেটার ব্যবস্থা করতে হবে।
সন্ধ্যায় নাস্তা করার সময় ড্রয়িং রুমে একত্রিত হলো সবাই।তখনই সাবিহা কথা তুললো,তারা গ্রামের বাড়িতে যাবে।সাবিহার কথাটা খুব একটা অবাক হলো না শহর।তার বাবা,মা, আপু প্রায়ই এমন ভাবে গ্রামের বাড়িতে যায়।কখনো থাকে এক সপ্তাহ,আবার কখনো কখনো একমাসও থাকে।শহর কখনোই যায় না তাদের সাথে।ভার্সিটির ক্লাস মিস দেয় না সে কখনোই।কাজের ক্ষেত্রে বলতে গেলে ভিষন মনোযোগী শহর।সাবিহার কথা শুনে শহর নাস্তা করতে করতেই বললো...
"ঠিক আছে।যাও,ঘুরে আসো কিছু দিন।"
ছেলের কথা শুনে সাবিহাও এবার হাসি হাসি মুখ করে কঙ্কার দিকে তাকিয়ে বললো....
"আমরা কবে ফিরবো তার তো ঠিক নেই,,এই কটা দিন তোকেই এখানে সবটা সামলাতে হবে কিন্তু। "
কঙ্কাও হেসে বললো...
"সমস্যা নেই আম্মু,,আমি ঠিক সামলে নিবো।"
এদের কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে এলো শহরের।জিজ্ঞেস করলো...
"সামলে নেবে মানে??ও কি এখানে থাকবে নাকি?"
শর্মি বললো...
"হ্যা,,কঙ্কা তো এখানেই থাকবে।"
শহর বুঝতে পারলো না ওকে কেন রেখে যাচ্ছে তারা।তেজি গলায় বললো...
"ইম্পসিবল,,আমি এই মেয়ের কোনো প্রকার খেয়াল রাখতে পারবো না।ব্যস।তোমরা ওকেও নিয়ে যাও সাথে করে।আমি একা থাকতে চাই এই কয়েকটা দিন।"
ওমনি কঙ্কা কেমড়ে হাত গুঁজে বলে উঠলো...
"আমি বলেছি?আপনাকে আমার খেয়াল রাখতে হবে?বলেছি একবার?"
লাবিবও বলে উঠলো...
"ঠিকই তো।কঙ্কা কি বাচ্চা নাকি?বাড়িতেও ওর খেয়াল রাখতে হবে?তুই শুধু প্রতিদিনের মতো,ওকে ভার্সিটি নিয়ে যাবি,আসার সময় সময় করে বাড়ি নিয়ে আসবি, ব্যস।আর তো কিছু না?"
সাবিহাও বললো...
"হ্যা,তাই তো।আর আমরা কবে ফিরবো তার তো কোনো ঠিক নেই।।এতগুলো দিন মেয়েটার ভার্সিটি মিস দেওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না।ও বাড়িতেই থাকবে। "
অনেক চেষ্টা করেও শহর কঙ্কাকে তাদের সাথে পাঠাতে পারলো না।মেয়েটা এবার আরো বেশি বেশি জ্বালাবে তাকে,ফাঁকা বাড়ি পেয়ে।নাহ,,চর সহ্য হচ্ছে না এই কঙ্কাবতীকে।
-------
ফোনের স্ক্রীনে কঙ্কার চিত্র ভাসছে।যেখানে হালকা আলো যুক্ত রুমটার কোনে কঙ্কাবতী পড়নের শাড়িটা উন্মুক্ত করছে নিজের শরীর থেকে।সম্পূর্ণ শাড়ি খোলার পর নিজের ব্লাউজের হুক খোলার জন্য হাত দিতেই আবার কিছু একটা ভেবে থেমে গেলো কঙ্কা।হুট করেই মাথা ঘুরিয়ে সারা রুমের এদিক ওদিক তাকিয়ে নিলো।ভ্রু জোড়া কুচকানো তার। এরপর কিছু একটা চিন্তা করেই বিছানা থেকে জামা নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো কঙ্কা।
কঙ্কাবতীর এতোক্ষনের কার্যবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলো চৈত্র।কঙ্কাকে ওয়াশরুমের ভেতরে যেতেই আপসোসের সুরে টেবিলের উপর একটা বারি দিয়ে উঠলো।বলে উঠলো...
"ইশশ,আর একটুর জন্য হাত ছাড়া হয়ে গেলো।"
চৈত্রের এমন হতাশ ভাব দেখে খাওয়া ছেড় মুখ তুলে তাকালো শহর।চৈত্রের হাতে থাকা নিজের ফোনটার দিকে একবার তাকিয়ে বললো....
"কি হলো??কিছু জানতে পেরেছো?কঙ্কাবতীর উদ্দেশ্য? "
চৈত্র মুখ কুঁচকে বললো....
"নাথিং,,এমন কিছুই নয়।"
"তাহলে এতো হতাশ যে?"
চৈত্র তাকালো শহরের দিকে।ঠোঁটের কোনে এক বাঁকা হাসি এনে বললো...
"হুহ,,তোমার সো কল্ড বউ,রুমের মধ্যে শাড়ি খুলেছে বেইবি।"
শহর একটু নড়েচড়ে বসলো। চৈত্রের মুখের ভঙ্গি আর উক্ত কথাখানা এই মুহুর্তে আশা করেনি শহর।বলতে গেলে উক্ত বিষয়ে কথা বলার বা জানার কোনো ইচ্ছেই নেই তার।কিন্তু চৈত্র এই বিষয়টা নিয়ে এতটা আপসোস করছে কেন??
"তো?"
শহরের ধীরে সুস্থে বলা প্রশ্নটার উত্তরে চৈত্র একটু উত্তেজিত কন্ঠে বললো...
"শাড়ি তো খুলেছে,কিন্তু বাকি সব খুলার আগেই ঐ মেয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।ইশশ,একবার যদি রুমেই পুরোপুরি চেঞ্জটা করতো..."
শহরের ভ্রু কুঁচকে এলো,খনিক বিরক্তও লাগছে কথাগুলো।তাই বিরক্তিকর কন্ঠেই বললো...
"তো??এটা নিয়ে এতো হাইপার হচ্ছো কেন তুমি?আমি তো বুঝতে পারছি না।"
"তুমি বুঝতে পারছো না বেইবি??ও যদি একবার রুমেই চেঞ্জ করতো।তাহলে আমরা ওর এই ভিডিও টা সোসাল মিডিয়ায় একবার ভাইরাল করতে পারলেই তো খেল খতম।তখন তুমি চাইলেই...."
মুকের কথাখানা শেষ করতে পারলো না চৈত্র।তার আগেই শহর টান মেরে নিজের মোবাইলটা নিয়ে নিলো চৈত্রের হাত থেকে।একটা কথাও না বলে গটগট পায়ে চলে গেলো চৈত্রের কাছ থেকে।পেছন থেকে চৈত্র হা করে শুধু তাকিয়ে দেখলো শহরের চলে যাওয়া।দাতে দাত চেপে সহ্য করলো সব,মনে মনে নিজেই ভেবে নিলো কিছু একটা,বিরবির করে বললো...
"তুমি ঐ কঙ্কার প্রতি আটকে যাচ্ছো বেইবি।খুব দ্রুতই তোমাকে ফেরাতে হবে।"
-------
সন্ধ্যার পরে বাড়ি ফিরতেই পুরো বাড়ি খালি পেলো শহর।দরজাটা সে নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়েই খুলেছে।কোনো প্রকার শব্দ না পেয়ে বুঝলো তার মা বাবা,আপু গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছে।কিন্তু, ঐ কঙ্কাবতী কই?সে তো যাওয়ার কথা নয়।
ভাবনা শেষ করতে পারলো না।মনে মনে বললো..নিবে না বলে ওকেও নিয়ে গেলো নাকি আবার আম্মু?একবার বললোও না?
সোফায় হেলান দিয়ে বসতেই একটু আরাম লাগলো শহরের।কোন যেন হুট করে চোখের পাতায় ভেসে উঠলো কঙ্কাবতীর মুখটা।দ্রুত চোখ খুলে ফেললো শহর।অস্থির লাগছে তার।কিন্তু কেন? জানা নেই।
দ্রুত গিয়ে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিলো সে।নিজেকে একটু শান্ত করে পুরো বাড়িতে চোখ বুলিয়ে নিলো সে।মনে মনে বললো...
"কঙ্কাবতীকে না নিয়ে গেলেই পারতো আম্মু।"
হঠাৎ এমন ভাবনার কারন টুকুও খুজে পেলো না শহর।আজকাল সে যেন তার আয়ত্তে থাকতে পারছে না।কোনো এক ভ্রম জালে জড়িয়ে পড়ছে।আর কিছু চিন্তা না করেই শহর এগিয়ে গেলো নিজের রুমের দিকে।রুমের দরজা খুলে ঢুকতেই ওয়াশরুম থেকে ঝর্নার আওয়াজ পেয়ে থেমে গেলো শহর।আভ্রু কুঁচকে একটু কান পাততেই আরো স্পষ্ট ভাবে শোনা গেলো সেই ঝিরঝির শব্দ,সাথে এক মিষ্টি মেয়েলি কন্ঠের গুন গুন সুরে তোলা গান।
আনমনেই শহরের ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটলো যেন।কিন্তু কেন?জানতে চাইলোও না শহর।কঙ্কাবতী যায় নি,এখানেই আছে।ভালো লাগছে শহরের।কোনো এক অজানা কারনেই অনেকটা ভালো লাগছে শহরের।ভাবনার মাঝেই ঝর্নার আওয়াজ থেমে গেলো।একটু পরই সহ্য গোসল নিয়ে বেরোলো কঙ্কাবতী ভ।ভেজা চুলে শুভ্র তোয়ালে প্যাচানো।পড়নে একটা সাদামাটা গোল জামা।ওড়না কোথায় মেয়েটার?
সুমৈত্রী নারী দেহের বক্ষস্থলের ভাজ যে সুস্পষ্ট ভাবে এক পুরুষের কাছে প্রলয়ংকরী রূপে ধরা দিচ্ছে তা কি বুঝতে পারছে না কঙ্কাবতী?
সত্যিই বুঝতে পারছে না সে।বুঝবে কি করে?পেছনে দরজার সাথে যে কেউ একজন নীরবে দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে তো খেয়ালই নেই কঙ্কার।আপন মনে গুনগুন করতে পরতে ওদিক ফিরে চুলের পানি ঝাড়তে ব্যস্ত সে।
শহর চাইলো না কঙ্কাবতীর আবেদনী কোনো রূপের দিকে তাকাতে।কিন্তু আবাধ্য চোখ দুটি বারবা সেদিকেই ছুটছে।কঙ্কাবতীর শরীরের ভাজ সূক্ষ্ম।এক কথায় বলতে গেলে যে কোনো পুরুষেরই নজরে পড়ার মতো। নাহ,মেয়েটা তো জিমে যায় না,কোনো রকম ডায়ার্টও করে না।ইশশ, অযত্নে গড়ে ওঠা নারী দেহের ভাজও বুঝি এতো আকর্ষণীয় হয়?
এই যে খনিক এই ওড়না ছাড়া রূপে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি।শহরের চোখ দুটি দেখছে সেই অন্তস্তলের ওঠা নামা,সামান্য এই দৃশ্য দেখেই তো যেকোনো পুরুষের ক্ষনে ক্ষনে পৌরুষত্ব জাগ্রত হবে নিশ্চিত। আর চৈত্র কিনা এই লোভনীয় দেহের আবরনবিহীন চিত্র সারা দুনিয়াকে দেখানোর পরিকল্পনা করছিলো,, ছিহ!!
চার বছরের সম্পর্কে চৈত্রের এই বিভৎস চিন্তা ধারার দিকটি কখনোই তো দেখেনি শহর।চৈত্রের মনে যে এতটা কুৎসিত পরিকল্পনাপ আসতে পারে চিন্তাও করতে পারেনি সে। কিন্তু আজ চৈত্র তা বাস্তবে প্রমান করলো।নাহ,ডেইলি টু ডেইলি ভিডিও ফুটেজ আর চৈত্রকে দেখানো যাবে না।মেয়ে হয়েও চৈত্রের মতো মেয়ের কাছে নিরাপদ নয় কঙ্কাবতী। এই শহরের চৈত্ররা কখনো নিজেকে কঙ্কাবতীর জায়গায় রেখে কল্পনা করতে জানে না।
তবে কি শহর প্রিয় চৈত্র মাসের হয়ে চরম ভুল করেছে?এই চৈত্র মাস যে বসন্তের আভাস দেয় না,বরং গ্রীষ্মের উত্তপ্ত তাপ দাহের মতো জ্বালিয়ে দেয় শহরের শীতল, নাজুক কঙ্কাবতীদেরও।
"আপনি এখানে?কখন এলেন?"
রিনরিনে সুরেলা কন্ঠের ডাকে চিন্তা ছাড়লো শহর।চঞ্চল দৃষ্টি জোড়া নিবদ্ধ হলো কঙ্কাবতীতে।গায়ে ওড়না জরিয়েছে নিয়েছে মেয়েটা।হয়তো শহরকে দেখার পরেই তারাহুরো করে নিয়েছে।নাহ,আর যাই হোক,মেয়েটাকে কোনো পুরুষের সামনেই সামান্য ওড়না বিহীনও যেতে দেওয়া যাবে না,থাক তো দুরে ওয়েস্টার্ন, শর্ট,ওয়ান পিস।কিন্তু এই পজেসিভ শহর কি কখনো কঙ্কাবতীর পোশাকের দায়িত্বটা নিয়েছে?দায়িত্ব থাক,বিয়ের প্রায় দু মাস ঘনিয়ে এলো।কখনো তো শখের বসেও মেয়েটার জন্য একটা চকলেট পর্যন্ত আনেনি,আর তো রইলো পোশাক পরিচ্ছদ।
কিঞ্চিৎ রাগ হলো শহরের।কঙ্কাবতী সারাটা ক্ষন শহরকে জ্বালায়।পেটের সব কথা বের হয় তার শহরের সামনে আসলেই।কখনো কি একটা শাড়ির বায়না ধরতে পারে না শহরের কাছে?কোন ধরে না বায়না কঙ্কাবতী?শখ করে না হোক,বিরক্ত হয়েও তো কঙ্কাবতীর জন্য নিজে পছন্দ করে একটা শাড়ি কিনে আনতো শহর।
"কি হলো?স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কেন আপনি?এটা কি আপনার কোনো মুদ্রা দোষ?প্রায় দেখি রুমের সামনে এসে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকোন চুপচাপ।"
শহর বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে রুমে ঢুকলো।হাত ঘড়িটা খুলতে খুলতে বললো...
"কি করছিলে তুমি?"
কঙ্কাবতী কোমড়ে দুহাত গুঁজে বললো...
"বড়রাস্তার মোড়ে বসে বসে চা বিক্রি করছিলাম।খাবেন আপনি?"
ত্যাড়া কথাটা একটুও পছন্দ হলো না শহরের।আড়চোখে একবার দৃষ্টি দিলো কঙ্কার দিকে।মেয়েটার ঠোঁটের কোনের মিষ্টি হাসিটা আজকাল এই শক্তপোক্ত শহরকেও ঘায়েল করে দেখছি।এই যে এখন?শহর বিরক্ত ছেড়ে নিজেও একটুখানি ঠাট্টা করে বললো...
"দুধ চা হলে খাবো। স্পেশাল, ইনটেক দুধ চা।"
কঙ্কাবতী এক ভ্রু উচিয়ে অবাক হওয়ার মতো করে বলল...
"আপনি মজাও করতে পারেন?"
শহর এবার সরাসরি দাঁড়ালো কঙ্কাবতীর বরাবর।কন্ঠে একটু তীব্রতা এনে বললো...
"ফালতু কথা বন্ধ করো।জিজ্ঞেস করতে চাইছি,যাওনি কেন তুমি?"
"এমনিই।"
বলতে বলতেই খাটের উপর পা ঝুলিয়ে বসলো কঙ্কা।শহর শাওয়ার নেওয়ার উদ্দেশ্যে কাঁধে টাওয়াল ঝুলিয়ে বললো...
"সারা বাড়ি খালি এখন।এই কটাদিন অন্য যেকোনো রুমে থাকো তুমি।আমাকে একা থাকতে দাও আমার রুমে।"
কঙ্কা মুখের উপর জবাব দিলো...
"আমি ভুলেও যাবো না এই রুম থেকে।"
কঙ্কাবতীর জেদে রাগ হলো না শহরের।বরং ওয়াশ রুমের দরজাটা আটকানোর আগে শান্ত স্বরেই বললো...
"ঠিক আছে।তাহলে আমিই অন্যরুমে সিফ্ট করবো।"
যদিও শহর আর শুনতে পায়নি,কঙ্কাবতী কিটকিটিয়ে হেসে বললো...
"তবুও কঙ্কাবতী আপনার পিছু ছাড়বে না শহর স্যার.."