পারিবারিক দিক থেকে কঙ্কার পরিবার সচ্ছল।পরিবার বলতে মা,বাবা আর কঙ্কাই।ছোটবেলা থেকেই বাবাকে খুব একটা কাছে পায়না কঙ্কা।ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টে চাকরি বলে কঙ্কার বাবাকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি হতে হয়।ছুটি?ছয় মাস নয় মাসে একবার,তাও মাত্র দু তিন দিনের জন্য। কঙ্কার মায়ের নিজের একটি এনজিও আছে মহিলা ও শিশু কল্যান অধিদপ্তর।সারাটা দিন তিনি নিজের সংস্থা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।অন্যের সন্তানদের নিয়ে ভাবতে ভাবতে ভদ্রমহিলা বুঝেই উঠতে পারেনি তার মেয়েটা কখন এতো চটপটে,হাওয়ায় উরু ধরনের হয়ে গেলো।
ছোটবেলা থেকেই কঙ্কা যা চেয়েছে,তাই পেয়েছে টাকার বিনিময়ে।পায়নি শুধু পারিবারিক শিক্ষা আর বাবা মায়ের সাথে কাঙ্খিত কিছু সময়।জিনিসপত্র দিতে কঙ্কার মা কখনো দুবার ভাবতো না,তেমনি ভাবেনি এবারও।
কঙ্কা শুধু একবার বলেছিলো,সে ভার্সিটির এক লেকচারারকে বিয়ে করতে চায়,তার বাবা মা প্রস্তাব নিয়ে আসবে।
সেদিন কঙ্কার মা শুধু বলেছিলো...
"ঠিক আছে,আগামী শুক্রবার তাদের ডিনারে আসতে বলো,লাঞ্চ টাইমে আমার সময় হবে না।"
একটিবার মহিলা জানতেও চায়নি ছেলের নাম কি,দেখতে কেমন,বয়স কত,বা পরিবার কেমন।এভাবেই ব্যস্ততার কারনে কোনো আপত্তি দু কথা ছাড়াই কঙ্কার মা তাকে তার ভালোবাসার ঘরে পাঠিয়ে দিলো।
কতগুলো বছর কঙ্কার কেটেছে হীনমন্যতায়,টানা তিন চার দিনও একা মা বাবা ছাড়া কেটেছে,কাজের খালার সাথে।কঙ্কার মাঝে মাঝে মনে হয়,তাদের বাড়ির কাজের খালাটা তাকে যতটুকু ভালোবাসে,তা নিজের মা হয়তো তার এক অংশও বাসে না।
সেই অসহ্যকর জিবন থেকে কঙ্কাবতী কিছুটা রেয়াই পেয়েছে তার এক ঝামেলাপূর্ণ বন্ধুমহল পেয়ে।ঐ তো,ভার্সিটির কামিনী বাগানের ধারে শানে বাঁধানো সিড়িটায় সবাই গোল করে বসে আছে।
গেইট থেকেই দৃশ্যটি দেখে ঠোঁটের কোনে দুরন্ত এক হাসি ফুটে উঠলো কঙ্কার।কামিনী বাগানে বসার জায়গাটা প্রায় সময়ই বন্ধি থাকে এই ভেজালদের দিয়ে।তারা আসলে বাকিরা কোনো কথা ছাড়াই উঠে চলে যায়।
কঙ্কা লাফাতে লাফাতে গিয়ে বসলো সবার মাঝখানে একদম বাবু হয়ে।সাথে সাথেই পুরো বন্ধু মহলটা একত্রে বলে উঠলো...
"ওও মাই কঙ্কাবতী?"
কঙ্কা ঢং করে খোলা চুলগুলো হাত দিয়ে ঝামটা দিয়ে বললো...
"নতুন বউকে দেখতে কেমন লাগছে বল??"
বন্ধুমহলের সদস্যের মধ্যে অন্যতম হলো নিনাদ,প্রিয়তা,নির্জনা,মাহিক,সৌরভ।কঙ্কা সহ মোট ছয় জন।নিজের পরিবারের বাইরে এই পাঁচজন নিয়েই কঙ্কার আরেকটি পরিবার ছিলো এতদিন।আর এখনতো শহর স্যারও...
কথাটা ভাবতেই মিটিমিটি হাসলো কঙ্কা।তার লাজুক ভাবে এক থাবা গোবর ছিটিয়ে নির্জনা বলে উঠলো...
"শা" লির ঘরের ভাবি,বিয়া করেছিস হুট করে ভালো কথা।তাই বলে বিয়ের পর পাক্কা এক সপ্তাহ কলেজে আসবি না?"
নিনাদ বললো...
"তাইতো,তা কি করলি এতদিন?বরের লুঙ্গি ধরে বসে ছিলি তাই না?আর বলছিলি,আমায় দুইডা ডিংডং চিপস কিন্না দেওয়া সোয়ামী,, "
নিনাদের অভিনয় করে কথা বলা দেখে পুরো বন্ধুমহলটায় একটা হাসির রোল পড়লো।তবে তার কথায় উল্টো রিয়াকশন পড়লো কঙ্কার মধ্যে,, তারাহুরো করে উঠতে নিয়ে বললো...
"আসলেই তো,,আমি গত এক সপ্তাহ ধইরা ডিংডং খাই না দোস্ত। চল না একপিস মেরে আসি?"
প্রিয়তা তাকে চেপে ধরে বসিয়ে বললো...
"রাখ শা*লি তোর ডিংডং।আগে দুলাভাইয়ের ছবি দেখা পেত্নি।নাম বল,ঠিকানা দে,আমরাও যাবো তোর শশুরবাড়ি।"
প্রিয়তার কথায় ধ্যানে পড়লো কঙ্কা।আসার সময় গাড়িতে বসে শহর বারবার করে কড়া নির্দেশ দিয়েছে,ক্যাম্পাসের একটা কাক পক্ষিও যেন টের না পায় তাদের বিয়ের ব্যপারে।আর সেখানে এই ভেজাল মহল কে একটু খানি বলা মানেই পুরো ক্যম্পাসে ঢ্যারা পিটিয়ে বলে দেওয়া।কঙ্কা আগে থেকেই ভেবে নিলো,এতবড় কথাটা তার বন্ধুমহলটার থেকেও লুকাতে হবে।শহর স্যার বলেছে,নিশ্চই কোনো কারন আছে।সম্পর্কটা স্বাভাবিক হলেই নাহয় সবাইকে জানিয়ে দেওয়া যাবে।
সামনের পথ দিয়ে একটু দূরত্বেই শহর ভার্সিটিতে ঢুকছে।মনে হয় গাড়ি পার্ক করতেই এতো লেইট।ইশশ,ভাবতেই হাসি পায়,কত যে কষ্ট করে লোকটাকে সবাই মিলে রাজি করালো কঙ্কাকে রোজ ভার্সিটি নিয়ে আসার। তবুও কত নিয়ম,ভার্সিটি থেকে একটু দূরত্বেই কঙ্কাকে নেমে যেতে হবে।যাতে কেউ বুঝতে না পারে যে কঙ্কাবতী শহর স্যারের গাড়িতে করে রোজ আসা যাওয়া করে।
লোকটাকে দেখলেই কঙ্কার মনের ভেতর এক প্রশান্তময় হাওয়া বয়ে যায়।এই যে এখন?মনের মধ্যে দুরু দুরে উত্তাল ঢেউয়ে আনমনেই মুচকি হাসলো কঙ্কা।ইশশ,বিয়ের একটা সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলো,এখনো যেন বিশ্বাসই হয়না এই সুদর্শন পুরুষটি তার স্বামী।
ভার্সিটির সবথেকে মুডি,হ্যান্ডসাম লেকচারার শেহেরিশ বিন শহরের দিকে তাকিয়ে কঙ্কাকে এমন মুচকি হাসতে দেখে,তার কাঁধে চাটি মারলো প্রিয়তা...
"কিরে চোদ্দ ডাঙার জল,বিয়া করে নিলি।এখনো পুরোনো ক্রাশকে দেখে ব্লাসিং ব্লাসিং।তোর তো বান্ধবী শরিয়ত ভালা না।"
কঙ্কার দৃষ্টি সরলো না শহরের থেকে।ওভাবে থেকেই টেনে টেনে বললো...
"ক্রাশ না রে বান্ধবী, ভালোবাসা।"
হঠাৎই খেয়াল হলো শহর তার দিকে তাকিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই চোখ রাঙাচ্ছে।তা দেখেই কঙ্কা এবার দৃষ্টি সরিয়ে নিলো শহরের থেকে।নির্ঘাত লোকটা ভাবছে,কঙ্কা তাদের বিয়ের কথা জানিয়ে দিচ্ছে সবাইকে।কি বোকা বরই না পেলো কঙ্কাবতী।
"ভালো হয়ে যাও বান্ধবী,নতুন বিয়ে করেছো।জামাই রেখে অন্য বেডার দিকে নজর দেওয়া বাদ দে এবার।"
মাহিকের কথায় হাসলো কঙ্কা।তারা তো আর জানে না কঙ্কাবতী তার জামাই এর দিকেই নজর দিচ্ছিলো।
"আচ্ছা ওসব বাদ।এই কঙ্কা,তোর বরের ছবি দেখা আমাদের?"
এইতো গেলো,এবার কি করবে কঙ্কা?নিনাদ যে এভাবে হুট করে ছবি চেয়ে বসবে তা তো মাথাতেই আসেনি।আমতা আমতা করে বললো...
"ছবি তো তুলা হয়নি রে দোস্ত। আচ্ছা,আমি আজকে বাসায় গিয়ে সুন্দর করে আমার জামাইয়ের একটা ছবি তুলে আনবো।নেক্সট ক্লাসে দেখিস তোরা।"
সবাই মিলে মাত্রই কঙ্কার উপর চড়াও হতে যাবে তখনই বেল পড়ায় কঙ্কা দ্রুত উঠে বললো...
"এই এই এখন নাহ।বায়োকেমিস্ট্রি ক্লাস।হাজবু গাজবু শহর স্যারের ক্লাস,এক মিনিট লেট তো ক্লাসই মিস।সো,দ্রুত চল।"
প্রথম ক্লাসটা আজকে শহরেরই পড়েছে।কঙ্কারা সবাই-ই কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট। বাকিদের সাবজেক্ট পড়লেও কঙ্কা আর নিনাদ মুলত ঘুস দিয়েই ভর্তি হয়েছে।শুধু মাত্র বন্ধুমহলটা এক সাথে থাকার জন্য।
শহরের ক্লাস যথারীতি শেষ হলেই সে সবাইকে জিজ্ঞেস করে,কারো কোনো প্রশ্ন আছে কি না।তেমনি আজও তাই করতেই পেছন থেকে একটি মেয়েলি হাত উপরে উঠলো।কঙ্কাকে দাঁড়াতে দেখেই ভ্রু কুঁচকালো শহর।এই মেয়েও যে জীবনে কোনো প্রশ্ন করতে পারে ক্লাসে,তা হয়তো ধারনায় ছিলো না কারোরই। তবুও ফর্মালিটি ম্যান্টেইনের জন্য শহর স্বাভাবিক ভাবেই বললো...
"বলো,তোমার কি প্রশ্ন?"
কঙ্কা রোজ কার মতো করেই তার সেই বিশ্ব বিখ্যাত হাসিটা দিয়ে বললো....
"ইয়ে মানে স্যার,,এবার কি ফ্যান গুলো একটু চালানো যাবে?প্রচুর গরম। "
পুরো ক্লাস জুড়ে পড়লো হাসির রোল।নিনাদরা তো হাসতে হাসতে হাতে তালি দেওয়াই শুরু করলো।কিন্তু তা আর বেশিক্ষণ টিকলো না, যখন শহর পুরো ক্লাসে শুধু গকবার চোখ ঘুরিয়ে নিলো।আবার নিস্তব্ধতা, সেই নিস্তব্ধতার রেশ কাটিয়ে শহর কঙ্কাকে উদ্দেশ্য করে বললো....
"মিস কঙ্কাবতী,আমি জিজ্ঞেস করেছি,এতোক্ষণ যা পড়িয়েছি, সেই গুলোর সাথে সম্পর্কিত যদি প্রশ্ন থাকে তাহলে বলতে।"
এদিকে কঙ্কা কিছু বলার আগেই সৌরভ আস্তে করে বললো...
"মিস নয় স্যার,মিসেস।"
শহর শুনলো।ঠোঁট বাকিয়ে এক অদ্ভুত হাসি দিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বললো...
"ওকেয়,,তো মিসেস কঙ্কাবতী,তোমার কি লেকচার সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন আছে?"
কঙ্কাবতী কি এত সহজে নেতিয়ে যাজয়ার মেয়ে?একদমই নয়।টাটকা হেসে বললো...
"এটা তো লেকচার সম্পর্কিত প্রশ্নই স্যার।এই গরমের মধ্যেও আপনি এসেই ফ্যানগুলো বন্ধ করে দিলেন।এখন গরমে আমাদের মাথা ঘুরবে।আর মাথা ঘুরলে তো লেকচারটাই মাথায় ঢুকবে না স্যার।"
শহর বিরক্তিকর এক নিশ্বাস ফেললো।তবুও ক্লাসের মধ্যে কোনো প্রকার সমস্যা তৈরি করতে চায়না বলে শান্ত রইলো সে।হাতে থাকা বইটি ডেস্কে রেখে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো কঙ্কার দিকে।বুকে দু হাত ভাজ করে উপরের দিকে তাকিয়ে আবার তাকালো সে কঙ্কার দিকে।বললো....
"খুব গরম তাই না?"
কঙ্কাও দুষ্টু হেসে মাথা উপর নিচ ঝাকালো।
"তো এতই যখন গরম,বাবার টাকায় বাড়িতে ফ্যান চালিয়ে বসে থাকুন না মিসেস কঙ্কাবতী?ওপস সরি,এখন তো স্বামীর টাকায় হবে।আপনার স্বামীর বাড়িতে কি ফ্যান নেই?হাতপাখা ব্যবহার করে এখনো?"
কঙ্কা ঠোঁট বেকিয়ে হাসলো।এক আঙুল দিয়ে ভ্রু চুলকাতে চুলকাতে বললো....
"আমার স্বামীর বাড়িতে হাতপাখা নাকি এসি, তা তো আমার থেকে আপনিই ভালো জানবেন স্যার?"
শহর চুপ রইলো।এই মেয়ের কথার ধরন ঠিক নেই।একটু থেকে একটু এদিক ওদিক হলেই যে কেউ বুঝে নিতে পারে বিষয়টা।তাই এই বাচাল মেয়েটির সাথে একটাও বাড়তি কথা বলতে চায় না শহর।
ছোটছোট চোখ করে কঙ্কার হাসি হাসি মুখটা একবার পরখ করে নিয়ে উচ্চ স্বরে বললো...
"দা ক্লাস ইজ ওভার।"
আর এক মুহুর্তও দাঁড়ালো না শহর,বেরিয়ে এলো ক্লাস থেকে।সে যেতেই উচ্চ হাসিতে মত্ত হলো কঙ্কারা।
এদিকে ক্লাসের বাইরে করিডোর থেকে এক জোড়া চোখ গভীর ভাবে এতোক্ষণ ধরে পুরো ঘটনাটা পর্যবেক্ষণ করে গেছে। নাহ,কোনো কথাই কানে আসে নি তার।কিন্তু দেখেছে তো?ঐ দেখা টুকুতেই যে মাথা জ্বলে যাচ্ছে তার।এটা তো আগাতে দেওয়া যাবে না কিছুতেই।
-----
তৃতীয় ক্লাস টাইমের পর নিজের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে এসে একটু বসলো শহর।আজ আর ক্লাস নেই তার।ভাবছে চলে যাবে।কিন্তু ঐ মেয়েটাকে না নিয়ে গেলে বাড়িতে আরেকটা ঝামেলা হবে।তাই তো বসে আছে শহর কঙ্কাবতীর জন্য।
টেবিলে থাকা ফোনটা বায়ব্রেট হতেই সেথায় নজর দিলো। ডিসপ্লে তে জ্বলজ্বল করছে "চৈত্রীকা" নামটি।ভ্রু কুঁচকালো শহর,এই সময় চৈত্র কেন কল করছে,ওর তো ক্লাস টাইম এখন।কেটে গেলো কলটা।সাথে সাথেই টুং করে একটা মেসেজ এলো শহরের ফোনে...
"চারুকলা ভবনের চারতলায় আসবে তুমি। এক্ষুনি।"
হাফ ছাড়লো শহর।ময়াডাম নিশ্চয়ই কিছু একটা নিয়ে রেগে আছে।কিছু করার নেই,এখন তো যেতেই হবে।বড় একটা নিশ্বাস ফেলে ফোনটা পকেটে নিয়ে হাটা ধরলো চারুকলা ভবনের দিকে।
চারতলাটা আজ খালি।চারুকলা ডিপার্টমেন্টের ক্লাস নেই হয়তো।একটু এগোতেই খালি একটা রুমে পেয়ে গেলো কাঙ্খিত রমনীটির দেখা।আশপাশে তাকিয়ে রুমে যেতেই চৈত্রীকা ক্ষ্যাপা বাঘের মতো তেড়ে এসে শহরের শার্টের কলার চেপে ধরলো।শহর অপ্রস্তুত, চেষ্টা করলো চৈত্রীকাকে সামলে নেওয়ার...
"চৈত্র, চৈত্র,চৈত্র,, কি করছো এটা।কি হয়েছে সেটা তো বলো?"
চৈত্রীকা হিংস্র বাঘিনীর মতো হাসফাস করতে করতে বললো....
"ঐ মেয়েটার এতো কাছে কেন গিয়েছিলে তুমি?এতো কিসের কথা তোমার ওর সাথে?তুমি তো বলেছিলে ঐ মেয়েটাকে তুমি ছুয়েও দেখো নি।তাহলে ওর এতো কাছাকাছি কি তোমার?এই,বাড়িতে থেকে তোমরা আরো কাছাকাছি... "
শহর একহাতে মুখ চেপে ধরলো চৈত্রীকার।অন্যহাতে নিজের কলার থেকে চৈত্রীকার হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলো...
"কি সব বলছো চৈত্র।আমি কঙ্কাকে ছুঁয়েও দেখিনি এখনো।এই এক সপ্তাহের প্রতি মুহুর্তের খবর তো আমি তোমায় দিয়েছি তাই না? এরকম করছো কেন বাচ্চাদের মতো। বি ম্যাচিউর চৈত্র,তোমার এই বাচ্চামো গুলো ভালো লাগছে না আমার।"
"তাহলে আজ ক্লাসে তুমি ওর এতো কাছে কেন গিয়েছিলে বলো?"
"ওটা যাস্ট ক্লাসের একটা পড়া নিয়ে কথা হচ্ছিলো ওর সাথে।আর কিচ্ছু না।প্লিজ কুল বেবি।"
চৈত্র কি শুনলো কথাখানা?মনে হয়, এইতো চুপ গেলো।কিন্তু পরক্ষণেই শহরের কলার থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে শহরের হাত নিয়ে রাখলো নিজের সরু, ধবধবে ফর্সা কোমরে।আগ্নেয়গিরির লাভার ন্যয় জ্বলতে থাকা ওষ্ঠ জোড়া চেপে ধরলো শহরের পুরুষালী ওষ্ঠে।
প্রেম প্রেম খেলাটা তাদের মধ্যে প্রায় চার বছরের কাছাকাছি। অত্যাধুনিক যুগ এখন,তাই তো দুই প্রেম সন্ধির মানব ওষ্ঠ চুষে খাওয়াটাকে নিতান্তই নগন্য মনে করে।তেমনি নগন্য মনে করেছে শহর আর চৈত্রও।
শহর জানে,চৈত্রীকা বরাবরই ছোঁয়াছুয়ির দিকটায় এগিয়ে।যুগ তৎপরতার ভাষায় যাকে বলে "হ*র্নি"।
প্রেমের দু'মাসের মাথায় প্রথম বারের মতো ওষ্ঠ ছোঁয়ায় এগিয়েছিলো চৈত্রীকা।নাহ, শহর তাকে ডাকে নি কাছে।কেন যেন চৈত্রের এতো আকর্ষণীয় দেহের গড়ন শহরকে টানে নি।ছিলো এক না থাকার মতো। চৈত্রই নিজে এগিয়েছে সবসময়।
কতবার যে চৈত্র নিজেকে শহরের কাছে সম্পূর্ণ বিলিয়ে দিতে চেয়েছিলো,শহরই বারবার বাঁধা দিয়েছে মেয়েটাকে।বুঝিয়েছে,আর যাই হোক,বিয়ের আগে সে চৈত্রর শরীরে কলঙ্ক দিতে চায় না।
নিজের প্রাণ তৃষ্ণা মিটিয়ে তবেই চৈত্র ছাড়লো শহরের ওষ্ঠ।উচ্চতার দিক থেকে শহরের সমানই বলা যায় চৈত্রীকার।এমনকি বয়সের তফাতও মাত্র তিন মাসের। তাইতো ম্যাচিউরিটির দিক থেকে সে সব সময়ই শহরের সমান সমান।মূলত এই দিকটিই চৈত্রকে নিজের প্রেমিকা হিসেবে মানিয়ে নিয়েছে শহর।শহর বরাবরই একজন শান্ত,বুদ্ধিদিপ্ত,ম্যাচিউর মেয়ে চায় নিজের জীবন সঙ্গী হিসেবে।চৈত্র ঠিক তেমনই।
নিজের পঞ্চ আঙুল দিয়ে শহরের গালের সুন্দর কাটা দাঁড়িগুলোতে স্লাইড করতে করতে চৈত্র ওয়াইনি স্বরে বললো...
" বেবি?শোনো?"
"হুম?"
"আর যাই হোক,,আমার মতো সুখ তোমাকে ঐ মেয়েটা দিতে পারবে না।"
শহরের ভালো লাগছে না আজ কেন যেন চৈত্রীকার এই আবেশের ছোঁয়া গুলো। তবুও বাঁধা দিলো না,চৈত্রকে ঠান্ডা হতে হবে ভেবে।উত্তর দিলো...
"আই নো বেইবি।ইউ আর দা পার্ফেক্ট পার্সন ফর মি।"
চৈত্র একটু নেকি সুরে বললো...
"ঐ মেয়েটাকে তুমি ছেড়ে দেবে কবে বেবি?আমরা কবে বিয়ে করবো?আমার আর সহ্য হচ্ছে না এইসব। প্লিজ শহর?"
"আমি কোর্টে আপিল করেছি তো ডিভোর্স পেপারের জন্য।। যাস্ট কয়েকটা দিন ওয়েট করো,,আমি বাড়িতে বলবো তোমার কথা।আমাদের বিয়ের কথাও বলবো।প্লিজ চৈত্র।"
"ঐ মেয়েটা,তোমাদের সম্পত্তির লোভে পড়ে এসব করছে শহর।আমি ড্যাম শিওর।"
"আমারও মবে হয় তা।"
চৈত্র সম্পুর্ন ছেড়ে দাঁড়ালো শহরকে।উদ্বিগ্ন হয়ে বললো...
"তাহলে ওকে পুলিশের হাতে তুলে কেন দিচ্ছো না তুমি?"
"আহ চৈত্র,প্রমান ছাড়া কি করবো আমি?"
"আমি জানি না কি করবে। আমার সহ্য হয়না ঐ মেয়েটাকে।তোমরা একই রুমে থাকছো,আবার বলছো,মেয়েটা জোর করে তোমার পাশে ঘুমায়।এরপর তো বলবে জোর করে আরো কিছু,,না নাহ,,আমি কোনো রিস্ক নেবো না তোমাকে নিয়ে।।এই,তোমাকে না বলেছিলাম রুমে হিডেন ক্যামেরা সেট করতে?করেছো তুমি?বলো?"
"চৈত্র এটা কি ঠিক হবে?কঙ্কার পার্সোনাল..."
"কিসের পার্সোনাল হ্যা??ওটা তোমার বাড়ি,,তোমার রুম, তুমি যা ইচ্ছে করতে পারো।আমি এতোশত জানি না,,তুমি ক্যামেরা সেট করবে কিনা বলো।উত্তর দাও আমাকে।..."
"ওকেয় ওকেয়,তুমি শান্ত হও। আমি সেট করবো রুমে ক্যামেরা। নাও হ্যাপি?"
চৈত্র হেঁসে আবারো জড়িয়ে ধরলো শহরকে।
ইশশ, এই শূন্য ঘরের লিপ্ত প্রেমিক যুগলকে যদি এক অষ্টাদশী কন্যা নিজ চক্ষে দেখতো,তাহলে কি হতো?হৃদয় কি একটু খানি কাতরতায় ভরে উঠতো নিজের ভালোবাসার মানুষটির বুকের পাজর স্থানে অন্য এক রমনীর মাথা দেখে? নাকি উদ্বিগ্ন হতো চৈত্রের মতো করেই,চিন্তারা কি একটি বারও বলতো?চৈত্রের শহরে তুই বড্ড নিষিদ্ধ কঙ্কাবতী...
আবার মুখ্য মুখ চৈত্রের শহর কি আদেও জানে,চৈত্র ছেড়ে ঐ এক অষ্টাদশী কঙ্কাবতীর পিছু নিয়েই মৃ*ত্যু পথের যাত্রী হবে এই শহর?