অবেলার অতিথি

পর্ব - ৪

🟢

ভার্সিটির ক্যান্টিনের কর্নার সাইডের একটা টেবিলে সামনা সামনি বসে আছে শহর আর চৈত্র।সামনে রাখা কিছু দামি ফাস্টফুড। যেগুলো ধীরে ধীরে বসে খাচ্ছে চৈত্র।শহর শুধু তাকিয়ে দেখছে, ব্যস।চৈত্রীকা খেতে খেতেই বললো...

"কই,ফুটেজ দেখাও দেখি।"

শহর বুঝলো চৈত্র কি চাইছে।পকেট থেকে ফোনটা বের করে রাখলো চৈত্রের সামনে।লক পাসওয়ার্ড চৈত্রের জানা। তাই আর লক খুলে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না।চৈত্র হাতে নিয়ে দেখলো ভিডিও।তখনই সাবিহা কল করলো শহরের ফোনে।প্রথমবার চৈত্র কেটে দিলো বিরক্তিতে। দ্বিতীয় বার কল করতেই শহর জিজ্ঞেস করলো...

"কে ফোন করছে দেখি?"

চৈত্র বিরক্তিতে নাক কুঁচকে বললো...

"আরেহ,তোমার আম্মু।উফহ,দেখছে ফোনটা কেটে দিচ্ছি,তাও আবার কল দিচ্ছে।ওয়েট,কেটে দিচ্ছি আবার..."

বলতে না বলতেই শহর ছো মেরে ফোনটা নিয়ে নিলো চৈত্রের হাত থেকে।নিশ্চয়ই রেগে গেছে চৈত্রের উপর।তবে কিছু না বলে কলটা রিসিভ করলো শহর...

"হ্যালো, আম্মু?"

"হ্যা, বাবা,,তুই কোথায়?ফ্রী আছিস?"

"এইতো,,বলো না?"

"একটু দ্রুত বাসায় আসতে পারবি বাবা?"

"কেন,কি হয়েছে?"

"আরেহ,,কঙ্কাকে তো..."

কঙ্কা নামটা কানে আজতেই মেজাজটা আবার বিগড়ে গেলো শহরের।সাথে সাথেই বললো...

"আম্মু আমি ব্যস্ত আছি।এখন কোনো ভাবেই বাসায় যাওয়া সম্ভব না।রাখছি।"

বলেই ফোনটা কেটে দিলো শহর।তার চোখ মুখে বিরক্তির আভা লক্ষ্য করে চৈত্র জিজ্ঞেস করলো...

"কি হলো?"

"আর বলো না চৈত্র।।ঐ মেয়েটা যাস্ট পাগল করে দিচ্ছে আমায়। পিরিয়ড হয়েছে যাস্ট।বাট ভাবটা এমন যেন সে ম*রে যাচ্ছে। সকালে আমি আসার সময়ও আয়েশ করে ঘুমাচ্ছিলো।এখন আবার কোন নতুন নাটক শুরু করেছে কে জানে.."

চৈত্র খাবারে আরেকটা কামড় বসিয়ে হাসলো।তাচ্ছিল্য হেসে বললো...

"এতো ঢং কেন করছে সেটাই তো বুঝতে পারছি না।সামান্য পিরিয়ডে এতো ঢং?সো ফানি..."

শহর হাসলো না,তবে কিছু বললোও না আর।ব্যস্ত হলো আশপাশে চোখ বুলাতে।

----------

বিকাল প্রায় সাড়ে চারটা।শহর মাত্রই বাসার সামনে এসে দাঁড়ালো। সদর দরজায় তালা ঝুলতে দেখে ভ্রু কুঁচকে এলো তার।বাড়ির সবাই মিলে কোথায় গেলো আবার?

পরক্ষণেই ভাবলো,হয়তো আশপাশে কোথাও একটা ঘুরতে গেছে।শর্মির ডিভোর্সের পর প্রায়ই সাবিহা তাকে নিয়ে ঘুরতে যায়,যেন মেয়েটার মন ভালো থাকে।আজও হয়তো তাই গেছে কোথাও একটা।

ভেবেই নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে বসলো শহর।বেশ ক্লান্ত লাগছে দেখে টেবিলে থাকা জগ থেকে একগ্লাস পানি ঢেলে খেলো সে।বেশ কিছুক্ষণ পর শহর চিন্তা করলো,এবার একবার আম্মুকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করবে কোথায় আছে।তবে তার আর প্রয়োজন হয়নি।দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে পেছনে ফিরে তাকালো সে।সাবিহা এসেছে,ছেলেকে সোফায় বসে থাকতে দেখেই থেমে গেলো সে।শহর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন করলো...

"সবাই মিলে গেলে,আমাকে একবার বলবে না?"

সাবিহা উত্তর দিলো না।চোখ মুখের ভাবে শহর বুঝে উঠতে পারলো না তার মায়ের মনে কি চলছে।না রাগ,না অন্যকিছু,কেমন যেন গোমট একটা ভাব।মায়ের ভাব বুঝে উঠার মধ্যেই কানে এলো একটি পুরুষালী কন্ঠের আওয়াজ...

"ওকে কোথায় রাখবো আন্টি?"

কন্ঠটা শুনেই শহর মায়ের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে তার পাশে তাকালো।ছেলেটিকে চেনে শহর,তাদের পাশের ফ্ল্যাটেই থাকে।নাম মাহের।মাহেরকে দেখে অবাক হয়নি শহর,মূলত অবাক হওয়ার কারনটা হলো মাহেরের কোলে ঘুমন্ত, নেতিয়ে পড়া কঙ্কাকে দেখে।কঙ্কাকে পাঁজা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাহের।সাবিহা তাকে বললো...

"চলো বাবা,,আমার সাথে চলো আমার রুমে।ওখানেই একটু কষ্ট করে শুইয়ে দিও কঙ্কাকে "

বলতে বলতেই সাবিহা এগিয়ে গেলো নিজের রুমের দিকে।সাথে মাহেরও।সাবিহার রুমে গিয়ে বিছানায় কঙ্কাকে ঠিক করে শুইয়ে দিয়ে মাহের বললো...

"এবার আমি আসছি আন্টি।প্রয়োজন হলে ডাকবেন।সমস্যা নেই।"

সাবিহা হালকা হেঁসে বললো...

"খুব উপকার করলপ বাবা। তুমি না থাকলে আজ মেয়েটার কি যে হতো।"

"কিছু হবে না আন্টি।ওর খেয়াল রাখবেন।"

বলেই মাহের যাওয়ার জন্য উদ্ধত হলো। ড্রয়িংরুমের মাঝে দিয়ে যাওয়ার সময় শহরের চোখে চোখ পড়তেই মুচকি হেঁসে চলে গেলো।

সে যেতেই যেন শহর হুঁশে ফিরলো।কি হলো,কি দেখলো,বিষয়টা বুঝে উঠতেই মাথায় চাড়া দিয়ে উঠলো এক দমকা আগুনের ছাট।পেশিবহুল হাত দুটি মুষ্টিবদ্ধ করে দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলো মায়ের রুমে।এদিক ওদিক কাউকেই পরোয়া না করে কঙ্কার কাছে গিয়ে থামলো।বেপরোয়ার মতো কঙ্কার দু বাহু ধরে ঝাঁকাতে লাগলো তাকে।রাগের তোপে বলতে লাগলো....

"এই মেয়ে,,উঠো।নাটক বন্ধ করো এবার।পুরুষ মানুষের ছোঁয়া পেতে এতো ভাল্লাগে না তোমার,,যে ঐ ছেলেটার কোলে মিশে ছিলে একদম?উত্তর দাও আমার..."

কঙ্কাবতীর ঘুম ভাঙলো না। উল্টো ঘুমের মাঝেই ব্যাথায় কেমন কুঁকড়ে উঠলো।সাবিহা, শর্মি হঠাৎ শহরের এমন চিৎকার শুনে এক প্রকার দৌড়ে এলো রুমে।কঙ্কাকে এভাবে ঝাঁকাতে দেখে দুজনই

শহরকে টেনে ছাড়ালো কঙ্কার থেকে।সাবিহাও এবার শহরের মতো করেই চেঁচিয়ে বললো...

"মেয়েটা অসুস্থ, শহর।কেন ওকে আরে দূর্বল করে দিচ্ছিস তুই।দেখছিস না ও ঘুমাচ্ছে??"

শর্মিও এগিয়ে এসে বললো...

" তুই ওর প্রতি কোনো ভালো মানুষি নাই দেখাতে পারিস।তাই বলে মেয়েটার অসুস্থতা বাড়াতে পারবি না।"

শহরের রাগ যেন সপ্তম আকাশে।পেছনে নেতিয়ে পড়া কঙ্কার দিকে আঙুল তাক করে সাবিহা কে বললো...

"ও কেন মাহেরের কোলে চড়ে এসেছে, জবাব দাও আমার।কেন কঙ্কাবতীকে ঐ ছেলেটা ছুঁয়েছে?"

"আমি মাহেরকে বলেছি ওকে কোলে নিতে।"

"কেন বলেছো?ও কি হাটতে পারে না?ও মাহেরের কোলে কেন উঠবে?"

সাবিহার কন্ঠও বেশ কঠোর আজ।শহরের প্রত্যেকটা কথার প্রতিত্তোরে মোক্ষম জবাবটাই দিচ্ছে যেন।এই যে এখনও উত্তর দিলো..

"ওকে দেখে তোমার মনে হচ্ছে, ও নিজের পায়ে হাঁটার মতো অবস্থায় আছে?"

শহর চুপ রইলো।শুধু ফোঁস ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলতে লাগলো অনবরত।শর্মি বললো...

"মেয়েটার কি অবস্থা হয়েছিলো ভাবতে পারছিস তুই ভাই?ঐ মুহুর্তে মাহেরকে না ডাকলে কি যে হতো আজ কঙ্কার।উফহ,আমার তো ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠছে।"

"কি হয়েছে কঙ্কাবতীর,যে ঐ মাহেরকে কোলেই নিতে হলো ওকে?আরে তোমরা আমায় কেন বলো নি?"

সাবিহার কড়লঠিন কন্ঠ হতে আরো একটি কঠিন উত্তর বের হলো শহরের জন্য ...

"কল দিই নি তোকে?মেয়েটার নাম শুনতেই কেমন ব্যস্ততা দেখিয়ে কেটে দিয়েছিস মনে নেই? কাল রাত থেকে মেয়েটা তোর পাশে ছিলো।যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলো মেয়েটা,তোর চোখেই পড়লো না?সকালে এসে বলছিস নাটক করছে।ওর দিকে একটিবার তাকিয়েছিলি তুই?যন্ত্রণায় মেয়েটার সারা শরীর বি'ষের মতো করছিলো।জ্ঞান ছিলো না।ঐ অবস্থায় তার স্বামী বলে ভীষণ ব্যাস্ত। কি করছিলি তুই তখন?তোর চৈত্রের সাথে ছিলি?"

শহর আর একটি কথাও বলতে পারলো না।গনঘন নিশ্বাস ফেলতে ফেলতে একবার পেছন ফিরে কঙ্কাবতীর দিকে তাকিয়ে চলে গেলো নিজের রুমে।লম্বা এক শাওয়ার নিয়ে নিজেকে কিছুটা শান্ত করলো।মস্তিষ্ক জুড়ে শুধু বিচরন করছে তখন মাহেরের কোলে কঙ্কাবতীর লেপ্টে থাকার দৃশ্যটা।কেন যেন সহ্য হচ্ছে না শহরের।একটুও সহ্য হচ্ছে না।তার উপর মেয়েটা শাড়ি পড়ে কোলে উঠেছে ওর।কি যে অসহ্য লাগছে শহরের, কাউকে বলে বোঝানো দায়। নাহ,মাহের ছেলেটাকে একটু নজরে রাখতে হবে,পের যদি কঙ্কাবতীর দিকে তাকায়ও তাহলে শহর তাকে...

ভাবতে পারলো না আর।শাওয়ার শেষে রুমে আসতেই কেমন যেন খালি খালি লাগলো শহরের কাছে।আজ বাড়িটা নিপুন শান্ত,বাকিদিনের মতো হৈ-হুল্লোড় নেই।হাহ,থাকবে কি করে।চেচামেচি করার মানুষটাই তো বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।

শহরের চোখ গেলো সোফার দিকে।কঙ্কাবতীর গায়ে জড়ানো ব্ল্যাঙ্কেটটা সোফার মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে।বিছানাটাও গোছানো হয়নি আজ।সকালে যেভাবে রেখে গিয়েছিলো,ঠিক সেভাবেই আছে।হয়তো কঙ্কাবতীও আর ঘুম থেকে উঠেনি সকালে।ওভাবে থেকেই ওকে নিয়ে গেছে আম্মুরা।

আচ্ছা কি এমন হয়েছে কঙ্কাবতীর,যে ওভাবে নিয়ে যেতে হলো.?

মাথায় আসতেই শহর আর এক মুহুর্তও দাড়ালো না।দ্রুত পায়ে ড্রয়িংরুমে গিয়ে সাবিহাকে ডাকলো কয়েকবার।উত্তর পেলো না,শর্মি এসে শহরকে বললো...

"আম্মু তো রুমেই আছে কঙ্কার সাথে।হয়তো ওয়াশরুমে।"

বলেই শর্মি চলে যেতে নিলেই শহর ডাকলো পেছন থেকে....

"শোন আপু?"

"বল?"

"কঙ্কাবতীর কি হয়েছিলো?"

শর্মি সরাসরি দৃষ্টি দিলো শহরের উপর।আস্তে করে বললো....

"ওকে নিয়ে জানার আগ্রহ আদেও তোর আছে?"

শহর বিরক্ত হলো।বললো...

"প্লিজ আপু,এসব রাখ এখন।।ওরকি হয়েছে সেটা বল?হঠাৎ করে এমন..."

"ওর মান্থলি প্রবলেমে কিছু কমপ্লিকেশন আছে আগে থেকেই।মেডিসিন নেয় প্রতি মাসে,এই সময়টাতে।তোদের বিয়ের তো সবে মাস খানেক হয়েছে,মেয়েটার মেডিসিনের কথা মাথায়ও ছিলো না।অনেক রাত হওয়ায় ভেবেছিলো সকালে মেডিসিন আনিয়ে নেবে ফার্মেসী থেকে।তার আগেই তো ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়েছিলো।গরম সেক লাগলে হয়তো এতো ব্যথাও হতো না,জ্ঞানও হারাতো না।তারউপর এত রাতে গোসল করেছে,ঠিক মতো চুল মুছেনি।জ্বরও এলো,তাই সব মিলিয়ে সেই এক অবস্থা। "

মাথাটা কেমন নিচু করে ফেললো শহর।কঙ্কাবতী কাল রাতে তার কাছে হটব্যাগ চেয়েছিলো।দেয়নি সে, ইশশ,যদি তখন মেয়েটার প্রতি একটু সদয় হতো শহর,তাহলে হয়তো আজ এতটা কষ্ট করতে হতো না কঙ্কাবতীকে।

খারাপ লাগছে শহরের।কিন্তু এখন যে কিছু করার নেই।শর্মিকে আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো...

"এখন কি অবস্থা,, জ্ঞান কি ফেরেনি ওর?"

"ফিরেছে জ্ঞান। ডক্টর ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছে,যাতে একটু রেস্ট নিতে পারে।ঠিক হয়ে যাবে বলেছে।"

শহর গভীর ভাবে ভাবলো কিছু একটা।কঙ্কার প্রতি খানিক রাগও হলো,সারাটা রাত সে নিজে নিজে কষ্ট করেছে,অথচ শহরকে একটিবারও বলার প্রয়োজনবোধ করেনি।

শহর চাইলো এবার রুমে ফিরে যাবে,সন্ধ্যা হয়ে এলো প্রায়।কিন্তু মায়ের রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পা জোড়া থেমে গেলো তার।কঙ্কাবতীকে কি একবার দেখে যাবে?মন বলছে, কঙ্কাবতীর তোকে প্রয়োজন,আবার মস্তিষ্ক বলছে একদম যাবি না শহর,মেয়েটা তোর কিচ্ছু না।

এই মন ও মস্তিকের দ্বন্দ্বে শহর মনকেই জায়গা দিলো।ধীর পায়ে রুমে প্রবেশ করলো সে।কঙ্কাবতী এখনো ঘুমে।এলোমেলো হয়ে ঘুমাচ্ছে মেয়েটা।নিজের পাশে থাকলেও শহর কখনো কঙ্কাবতীর ঘুমন্ত রূপ দেখেনি,আজ সকালে ছাড়া।আর এই এখন।মেয়েটা মুখ দিয়ে নিশ্বাস ফেলছে হা করে।বিষয়টা বেশ চোখে লাগলো শহরের।চোখ ছোট ছোট করে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখলো কঙ্কাবতীর নিশ্বাসের চলাচল প্রক্রীয়া।

এগিয়ে এসে কঙ্কার পাশে বসলো সে।ভালো লাগছে,কেন যেন অদ্ভুত এক ভালোলাগা কাজ করছে একটু আগে থেকে।অসান্ত মনটাও কেমন যেন শীতল লাগছে।মেয়েটার শরীর এখনো হালকা মেদি রঙের দেখাচ্ছে।ইশশ,এতো কষ্ট কি করে সহ্য করেছে ও?

শহরের খুব ইচ্ছে করলো কঙ্কাবতীর এলোকেশের ভাজে নিজের আঙুল গুলো ডুবিয়ে দিতে।একটু খানি যত্ন কি করতে পারে শহর কঙ্কাবতীর?মানে না তো বউ বলে,তাহলে কি করে ছুঁয়ে দিবে সে কঙ্কাবতীর পবিত্র মস্তক?

অপ্রতিভ ভাবনা গুলোকে আর এগোতে দিলো না শহর।মাথায় হাতখানাও বুলিয়ে দেওয়া হলো না কঙ্কাবতীর।

হুট করেই নজর আটকালো কঙ্কাবতীর লতানো কোমরে।মনে পড়লো তখন মাহেরের হাতের আঙুল গুলো একটুখানি এই কোমরটাও ছুঁয়ে ছিলো।আবারও মাথা বিগড়াচ্ছে শহরের।নাহ কঙ্কাবতীর প্রতি ঘৃনা হচ্ছে না,তবে রাগ হচ্ছে খুব।কেন মেয়েটা কাল রাতেই শাড়ি পড়তে গেলো।জামা পড়া থাকলে অন্তত কিছুটা আবরিত থাকতো। তা তো হয়নি।মাহের দেখেছে এই ফর্সা, লতানো কোমর।ইচ্ছে করছে এক্ষুনি ভেঙে দিই এই কোমরের হাড়গুলো...

ভাবনার সাথে মিলিয়ে শহর আনমনেই নিজের হাতখানা দিয়ে চেপে ধরলো কঙ্কার সরু কোমড়ের ভাঁজে। কঙ্কাবতী নড়ে উঠলো একটু।আলগা হয়ে থাকা ঠোঁট দুটো দিয়ে বিড়বিড় করে উচ্চারণ করলো কিছু একটা,,শুনতে পেলো না শহর।ভ্রু কুঁচকে কঙ্কার মুখ ভঙ্গি লক্ষ্য করতে যাবে,তখনই পেছন থেকে শর্মির সতর্ক বানী ছুড়ে এলো...

"কি করছিস ভাই,হাত সরা।কোমড়ে ইনজেকশন দিয়েছে ওকে,তুই এভাবে ধরলে তো মেয়েটার আরো ব্যাথা লাগবে।"

ইশশ,শহর দ্রুত হাতখানা সরিয়ে নিলো।খানিকটা লজ্জাও পেলো এভাবে বড়বোনের সামনে।তবে বুঝতে দিলো না।স্বাভাবিক ভাবেই উঠে চলে গেলো রুম ছেড়ে।

সে যেতেই রুমের একটু আড়াল থেকে বেড়িয়ে এলো সাবিহা।ভদ্রমহিলার ঠোঁটের কোনে হালকা হাসি।শর্মি জিজ্ঞেস করলো...

"হাসছো কেন আম্মু?"

"ছেলেটার মনে হয় একটু মায়া হলো কঙ্কার জন্য। ওকে কঙ্কার কাছে দেখে আমি আর সামনে আসিনি।তুই এখন না আসলে আরো কিছুক্ষণ থাকতো দেখতি।উপরওয়ালার কাছে আমার একটাই চাওয়া,,ছেলেটা যেন নিজের ভালোটাকে চিনে নেয়।সময় থাকতে যেন বুঝে কঙ্কা তার জীবনে কি।"

-------------

পরদিন সকালে চৈত্রের কলে ঘুম ভাঙে শহরের।উঠে রোজকার মতো ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে নাস্তা সেরে নিলো সে।মন চাইছে একবার জিজ্ঞেস করতে কঙ্কাবতীর কথা।ঘুম ভেঙেছে কিনা।কেমন আছে জানতে।কিন্তু সামনেই লাবিব বসে নাস্তা করছে।এখন যদি একবার শহর কঙ্কাবতীর কঢ্থা জিজ্ঞেস করে তাহলে তার উৎসুক বাবা নিশ্চয়ই কিছু না কিছু জিজ্ঞেস করে বসবে তাই মনের ইচ্ছাকে মনেই সংবরন করে নিলো শহর।জিজ্ঞেস করা হয়নি কঙ্কাবতীর কথা।

নাস্তা শেষ করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে পার্কিং লটে যেতেই থেমে গেলো শহর।সামনে থাকা দৃশ্যটি দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না সে।কঙ্কাবতী তার গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছে একদম ভার্সিটির জন্য তৈরি হয়েই।দাঁড়িয়ে আছে বললে ভুল হবে,দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মাহেরের৷ সাথে কথা বলছে।

হুট করেই সেই অজানা কারনে আবার মাথাটা গরম হয়ে গেলো শহরের।এই ছেলেটার সাথে কিসের এতো কথা কঙ্কাবতীর? তাও এতো হেঁসে হেঁসে।

যতক্ষণ মাহের চলে না গেলো,ততক্ষণ শহর আড়ালে দাঁড়িয়েই দেখলো তাদের।মাহের যেতেই কঙ্কা গাড়ির ফ্রন্ট সীটে উঠে বসলো।তখনই শহরও এসে ড্রাইভিং সীটে উঠে বসলো দুজনের একবার চোখাচোখি হতেই কঙ্কাবতী সেই নিয়মকরা তার মিষ্টি হাসিটা উপহার দিলো শহরকে।কিন্তু শহরের তো আজ মাথা গরম।কিচ্ছুটি না বলেই সামনে তাকিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো।একটিবার জিজ্ঞেসও করলো না কঙ্কাবতীর শরীর সুস্থ আছে কি না।

শহরের মাথায় চারা দিলো শুধু একটি কথা....

'এই মাহেরকে আজই কিছু করতে হবে।ভুলেও আর তাকে কঙ্কাবতীর কাছে ঘেঁষতে দেওয়া যাবে না।'

অবেলার অতিথি গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক থ্রিলার ভিত্তিক গল্প