"আমি আপনার বিয়ে করা বউ,কোনো সিনেমার হিরোইন হই।আর না এখানে কোনো সিনেমা চলছে,যে আমি বলবো,*ওগো সোয়ামী, আপনি বিছানায় ঘুমিয়ে পরুন,আমি ফ্লোরে ঘুমাবো।*
আমি আপনার সাথে আপনার বিছানাতেই ঘুমাবো,আজ, কাল,আগামীতে প্রতিটা দিন।কারণ আমি আপনাকে ভীষণ ভালোবাসি,বুঝলেন শহর স্যার?"
কঙ্কার মুখে এমন তীর্যক কথা শুনে কপালের রগ ফুলে উঠলো শহরের।আঙ্গুল উচিয়ে বললো...
"শোনো মেয়ে,আমি শখে তোমায় বিয়ে করিনি,,মা বাবার জন্য বাধ্য হয়েই তোমায় বিয়ে করেছি,,এই সব কিছুর জন্যই তুমি দায়ী। "
"তাতে কি?আমি আপনাকে ভালোবাসি বলেই তো বিয়ে করেছি।এখন থেকে আমি আপনার অর্ধাঙ্গিনী। "
"তোমাকে আমি বউ বলে মানি না।তুমি আমার স্টুডেন্ট, আর আমি তোমার টিচার,,ভবিষ্যতেও এমনটাই থাকবে,এর বাইরে কিচ্ছু না।"
"আপনি যত যাই বলুন স্যার, আমি আপনাকে ভার্সিটির সেই প্রথম দিন থেকেই ভালোবাসি।ভালোবাসি, ভালোবাসি,ভালোবাসি।"
কঙ্কার মুখে উচ্ছাসিত ভালোবাসি শব্দটা পছন্দ হলো না শহরের।রাগে তেড়ে এসে দু বাহু চেপে ধরলো কঙ্কার।বিছানার সাথে চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বললো...
"আমার সাথে ঘুমানোর এতো ইচ্ছে?? পুরুষ ছোঁয়া তোমার বেশ কাম্য তাই না??ঠিক আছে।আজ আমি তোমার শখ পূরন করছি।দেখি তুমি কতটা নিতে পারো..."
বলেই শহর কঙ্কার মুখের দিকে এগোতে গেলেই কঙ্কা চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো।দু হাতে খামছে ধরলো শহরের পাঞ্জাবির হাতা।শহর জিজ্ঞেস করলো...
"এখন কি হলো??"
কঙ্কা পিটপিট করে চোখ খুলে বললো....
"নাহ,,রাগ নিয়ে নয়।যেদিন একটু ভালোবেসে ছুঁয়ে দিবেন,সেদিন আমি নিজেকে আপনার করে দেবো।একটু ভালোবেসে ছুয়ে দিলে কি হয় স্যার?"
কি সুন্দর আবদার।এই আবদারের উর্ধ্বে গিয়ে কি কোনো মানুষ কিছু করতে পারে?শহরও পারলো না,তবে রাগের তোপও কমলো না মেয়েটার থেকে।ঐ অবস্থা থেকেই ছুড়ে ফেললো বিছানায়।এরপর নিজে সরে এসে বিছানার আরেক পাশে গিয়ে ওপাশ ফিরে শুয়ে পড়লো। এদিকে কঙ্কার ঠোঁটের কোনে মিটমিটে হাসি।তার যে আজ বেশ খুশির দিন,নিজের ভালোবাসার মানুষটি আজ থেকে কঙ্কাবতীর স্বামী,এ কি কম নাকি?আর ভালোবাসা?সেটাও কঙ্কা ঠিক আদায় করে ছাড়বে।
ভাবতে ভাবতেই দূরত্ব নিয়েই শহরের আরেক পাশে শুয়ে পড়লো কঙ্কা।মনে আনন্দ থাকলে প্রশান্তির ঘুম হয়,কথাটা আজ যেন কঙ্কার সাথে হাড়ে হাড়ে মিলে গেলো।নিশ্চিন্তে এক ঘুমে রাত পাড় করে ভোরেই ঘুম ভেঙে শহর স্যারের স্নিগ্ধ মুখ খানা দেখেই আলতো হাসলো কঙ্কা।নিজের মুখটা একটু শহরের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে শুধালো....
"আচ্ছা,, আপনি যে এত্তো এত্তো কিউট,তা কি জানেন আপনি শহর স্যার? সরি,আমার শহর স্যার?"
ঘুমন্ত শহরের দিক থেকে কোনো উত্তর পাওয়া গেলো না,তবুও পাগল মেয়েটা আপন মনেই হাসলো।
উঠে গিয়ে গোসল সেরে নিজের লাগেজ থেকে খুব যতনে নিজের ব্যাক্তিগত ডায়েরিটা বের করলো।ডায়েরিটার একটা নামও দিয়েছে কঙ্কা।তা হলো "অন্তঃবাসিনী",, আজ আবার সেই অন্তঃবাসিনীর মাঝেই গুটি গুটি অক্ষরে ফুটিয়ে তুললো মনের কিছু কথা...
" আমার জীবনের সব থেকে সুন্দর মুহুর্তটি আজ দেখলাম,ঐ যে, আমার শহর স্যারের ঘুমন্ত মুখখানা।কি মায়া,কি মায়া।ইশশ,আমি ভাবতেও পারিনি এতোটা সহজে আমি পূর্ণতা পাবো।
জানেন তো স্যার,আপনার মা বাবাকে রাজি করাতে আমার বেশ অসুবিধা হয়েছে।রোজ রোজ কষ্ট করে আপনার বাড়ি এসে আপনার থেকে লুকিয়ে তাদের সাথে ভাব জমানোটা এতটাও সহজ ছিলো না।আমি যে আপনাকে ভালোবাসি, এই কথাটা সরাসরি বলাটাও সহজ ছিলো না।তবুও আমি সাহস করে বলেছি তাদের।এরপর অবশ্য আর কোনো সমস্যা হয়নি,আমার পরিবারের দিকটা তারাই সামলে নিয়েছে।
এবার শুধু আপনাকে সারিয়ে তোলা বাকি,তাও আমি ঠিক একদিন করে ফেলবো,বুঝলেন তো স্যার,ভার্সিটির সেই প্রথম দিন থেকে ভালোবেসে ফেলেছি আপনাকে।এতো সহজে তো ছাড়ছি না আপনাকে।আপনি ও একদিন ঠিক বুঝবেন,আমি আপনাকে কতটা ভালোবাসি,এরপর?আমাদের একটা টোনাটুনির সংসার হবে।ইশশ, কত সুখেরই না হবে দিন গুলো,তাই না স্যার?,,,
এতটুকু লিখেই মুচকি হেসে অন্তঃবাসিনী বন্ধ করলো কঙ্কা।রুমে কোনো কাজ খুঁজে না পেয়ে ভাবলো মাকে সাহায্য করবে কাজে।যেই ভাবা,সেই কাজ,,খুশি মনেই কিচেনে এসে পেছন থেকে গলা জড়িয়ে ধরলো শহরের মা সাবিহা বেগমের।
"গুড মর্নিং মা।"
সাবিহা হেসে বললো...
"গুড মর্নিং।ঘুম হলো ঠিক মতো?"
কঙ্কা একটা মচমচা বরা তুলে খেতে খেতে বললো...
"একদম জাবরদস্ত ঘুম হয়েছে মা,,তুমি তো জানোই,আমি আজ কত্ত খুশি।তোমার ছেলেকে পেয়ে গেছি কিনা?"
সাবিহা হাসলো কঙ্কার এতো উৎফুল্ল চিত্তের কথা শুনে।রান্নার হাত চালু রেখেই বললো...
"তা আমার ছেলের মন গলেছে?"
এবার কঙ্কা একটু মাথা নাড়িয়ে বললো...
"তা তো গলেনি এখনো,,তবে তুমি একদম চিন্তা করো না মা,,স্যার ঠিক আমায় মেনে নেবে, আর তা খুব দ্রুতই।"
সাবিহা হাসলো।তখনই হাতে একবাটি কাটা তরকারি নিয়ে কিচেনে ঢুকতে ঢুকতে শর্মি বললো...
"বর পেয়ে আমায় ভুলে গেলি,?"
কঙ্কা হাসলো তার দিকে তাকিয়ে।দুষ্টুমি করে বললো...
"আর কি করবো আপুই,,তোমার ভাইটা এত্তো কিউট,তাকে দেখলে আর কারোর কথা মনেই থাকে না।"
শর্মিও হাসলো।মেয়েটাকে সে কয়েকদিন আগে থেকেই চেনে।খুব প্রানবন্ত লাগে কঙ্কাকে তার।কঙ্কা যবে থেকে তার জীবনে এসেছে তবে থেকেই যেন শর্মির সকল বিষন্নতার অবসান ঘটেছে।
শর্মি ডিভোর্সি,,বিয়ের চার বছর পরেও যখন সে সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম,তখন আর তার স্বামী মেনে নিতে পারলো না তাকে।ডিভোর্স দিয়ে প্রায় মাসখানেকের মাথায়ই আরেকটা বিয়ে করে নিয়েছে।সেই থেকে শর্মির বাসস্থান হয়েছে বাপের বাড়িতে।গত একটা বছর শর্মির বিষন্নতা ছড়িয়ে ছিলো। কিন্তু এই কঙ্কাবতী তার বিষন্নতার অবসান দিয়েছে।বাকিদের মতো মেয়েটা কখনো তার দিকে বাকা চোখে তাকায় না।কথায় কঘ্থায় উৎফুল্ল হয়ে বলে,..
"ভালোই হলো,সারাদিন সময় কাটানোর জন্য একজন বন্ধু তো পেলাম আমি।"
ফরৃমাল গেটআপে রেডি হয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো শহর।তারাহুরো করে ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে তাকালো তার মায়ের দিকে।জিজ্ঞেস করলো...
"আব্বু কোথায়?"
সাবিহা কিছু বলার আগেই শহরের পেছন থেকে ভেসে এলো এক উচ্ছাসিত কন্ঠ...
"গুড মর্নিং বেটা।"
পেছনে তাকিয়ে আলতো হেঁসে শহরও বললো..
"মর্নিং, আব্বু।আজ এতো লেইট?"
"অফিস যাচ্ছি না,তাই ভাবলাম একটু দেরি করেই উঠি।"
শহর একটু হাসলো শুধু।তার বাবা লাবিব হাসান,তাকে ফের প্রশ্ন করলো...
"আজও তুই ভার্সিটি যাবি?"
"ইম্পর্ট্যান্ট ক্লাস আছে আব্বু,মিস দেওয়া যাবে না।"
শর্মি কিচেন থেকে টুকটাক জিনিস টেবিলে আনতে আনতে বললো...
"আমি বুঝি না ভাই। তুই কেমিস্ট্রি লেকচারার নাকি অন্য কিছু?কোন ভার্সিটিতে এমন রেগুলার ক্লাস থাকে কেমিস্ট্রির?"
"ও তুই বুঝবি না।"
কঙ্কা এগিয়ে এসে লাবিব আর শহরের প্লেটে নাস্তা তুলে দিলো।শহর এক পলক তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে ফেললো তার থেকে।প্লেট থেকে একটু খাবার মুখে নিয়ে শর্মির দিকে তাকিয়ে বললো...
"খাবারটা কে বানিয়েছে?"
শর্মি কিছু বলার আগেই নাছোরবান্দা কঙ্কা বলে উঠলো...
"কঙ্কা বানিয়েছে।"
শহর কেমন যেন এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালো কঙ্কার হাসি হাসি মুখটার দিকে।হঠাৎই শহর খাবারের প্লেটটা সামনের দিকে একটু ঠেলে দিলে কঙ্কাকে ক্ষুন্ন স্বরে বললো...
"বিয়ে করার জন্য যে লাফালাফি করতে,কাজ টাজ কিছু আদেও পারো?কি বানিয়েছো এটা?"
শেষের কথাটায় শহরের কন্ঠস্বর একটু উঁচু হলো।কঙ্কা খনিক কেঁপে উঠলেও মিটিমিটি হাসি থামালো না মেয়েটা।তাকে দেখে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলছে শহর।মেয়েটার কি একটুও লজ্জা নেই? নির্লজ্জের মতো একটা ছেলের অনুমতি ছাড়া নাচতে নাচতে তাকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে গেছে?
লাবিব দ্রুত একটু খাবার মুখে তুলে বললো...
"খাবার তো ঠিকই আছে?"
শহর তাকালো বাবার দিকে।বললো...
"আমার কাছে ঠিক লাগছে না আব্বু৷ এই মেয়ে কেন খাবার বানাবে?কি বিচ্ছিরি খেতে হয়েছে।"
এতোক্ষণে সাবিহা এগিয়ে এলো হাতে খুন্তি নিয়ে,ছেলের সামনে দাড়িয়ে বললো...
"তোর সমস্যা খাবারে নাকি এই মেয়েতে?"
শহর একটা ঢোক গিললো,,বললো...
"কি বলছো আম্মু?,তুমি জানো,এই খাবার কি বাজে খেতে?"
সাবিহা হালকা চোখ রাঙালো ছেলের দিকে..
"সত্যি তো?"
"সত্যি"
তখন কঙ্কা কিটকিটেয়ে হাসলো।দু হাত পেছনে নিয়ে দুলতে দুলতে বললো...
"খাবারটা তো আম্মু বানিয়েছে স্যার।আপনার আম্মুট রান্না পছন্দ হয়নি বুঝি?"
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো যেন শহর।একবার কঙ্কার দিকে তাকায়,তো আবার ফিরে সাবিহার দিকে তাকায়।মেয়েটা তো আস্ত মিথ্যুক।একবার এটা বলে তো আবার ওটা।কি ঝামেলা রে বাবা,,
"আ্ আম্মু এটা তুমি...."
"হ্যা,,আমিই বানিয়েছি খাবারটা।এতোদিন আমার হাতের রান্না খাচ্ছিস,কই কখনো তো বলিস নি আমার হাতের রান্না এতো খারাপ খেতে?"
শহর পড়লো মহা ফ্যাসাদে,তবুও মেকি হেঁসে বললো....
"না না আম্মু,,খাবার তো খারাপ হয়নি।ও্ ওই একটু..এমনি আরকি.."
সাবিহা হাত উঁচু বাঁধা দিলো শহরকে...
"থাক,,আমায় আর বোঝাতে হবে না তোকে।মানলাম, কঙ্কাকে তুই বৌ হিসেবে এখনো মেনে নিতে পারিস নি।তাই বলে এভাবে ওর উপর এসব মিথ্যা অজুহাত কেন দিবি বাবা?"
মাথায় যেন তাজা রক্ত টগবগ করছে শহরের,ইচ্ছে করছে এই কঙ্কাকে মাথায় তুলে এক আছার মারতে।বাবার গড়ে তোলা আলিসান ব্যবসা ছেড়ে শখের বসে শহরের সবচেয়ে নাম করা ভার্সিটিতে শিক্ষকতার পেশা বেছে নিয়েছে। গত তিনটা বছরতো বেশ ভালোই কেটেছে তার।কিন্তু এই বছর কোন কুক্ষনে যে এই মেয়েটা তার স্টুডেন্ট হয়ে এলো।মাত্র চারটা মাস,,চারটা মাসেই এই মেয়ে শহরের মা,বাবার মাথা চিবিয়ে খেয়ে বউ রূপে জায়গা করে নিলো তার ঘরে।
যাকে শহর চায় না।তার সাথে যাকে মানায়না।এমন পাগলাটে ,উর্ধ্ব চঞ্চল স্বভাবের মেয়েকে বলতে গেলে সহ্যই করতে পারে না শহর।ক্লাসের প্রথম দিনই স্যারের অনুমতি না নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করেছিলো এই কঙ্কাবতী।ভার্সিটির সবাই যখন জানবে,দা মুডি,হ্যান্ডসাম,গম্ভীর শেহরিশ বিন শহর স্যার এই বেখেয়ালি, বেলেল্লাপনায় ব্যাস্ত মেয়েটাকে নিজের বউ করে নিয়েছে,তখন তো হাসবে শহরকে নিয়ে সবাই।নাহ,পারিবারিক ভেতরগত কথা বাইরের কাউকেই জানানো যাবে না।ভালোই হয়েছে একদম ছোটখাটো করে বিয়ে হয়েছে।তেমন আত্মীয়ও ছিলো না বলতে গেলে।এই মেয়েটাকে ছেড়ে দেওয়ার সময়ও সোসাইটিতে আর কোনো বদনাম রটবে না।
খাবারটা খেলো না শহর।উঠে দাঁড়িয়ে অগ্নি চোখে তাকালো সাবিহার দিকে।গম্ভীর স্বরে বললো....
"এই মেয়েটাকে মাথায় তুলে রেখো না মা।তোমাদের ঘোল খাওয়াচ্ছে এই মেয়েটা।এই মেয়ে এতোটাও সহজ সরল না আম্মু। নিশ্চিত কোনো না কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এই বাড়িতে ঘাটি গাড়ছে এই মেয়ে।"
শহরের কথা শেষ হতে না হতেই কঙ্কা নিজের দু হাত কোমরে ঠেকিয়ে হেসে বললো...
"উদ্দেশ্য ছাড়া এসেছি নাকি আমি?উদ্দেশ্য তো আছেই।ঐ যে,,আমি আপনাকে ভালোবাসি, এটাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য। "
শহরের সহ্য হয়না কঙ্কার কথাগুলো।চেচিয়ে উঠে কঙ্কার দিকে আঙ্গুল তাক করে বলে...
"চুপ,,একদম চুপ।আমায় সবার মতো বোকা পেয়েছো তুমি?এসব ভালোবাসা তুমি আমায় শেখাচ্ছো?বয়স কত তোমার?ইমম্যাচিউর, গাধা মেয়ে কোথাকার।আমার বয়স জানো? টুয়েন্টি সেভেন।তোমার থেকে কম করে হলেও সাত আট বছরের বড়।এত বছরের বড় একটা লোককে তুমি ভালোবাসতে পারো?এভাবে ভালোবাসা হয় কখনো?পাগলাটে মেয়ে কোথাকার।"
বলেই আবার নিজের মা-বাবাকে উদ্দেশ্য করে বললো...
"আম্মু,আব্বু তোমরা দুজনই শুনে রাখো।এই মেয়ে কি চায় না চায় আমি জানি না।তোমরা আমাকে বাধ্য করেছো একে বিয়ে করতে।আমি বরাবরই নিজের বউ হিসেবে একজন শান্ত, ম্যাচিউর,সেইম এজ মেয়ে চেয়েছি।সো,এই পাগলাটে,বাচ্চা মেয়েটিকে আমি কখনোই নিজের বউ হিসেবে মেনে নিতে পারছি না ব্যস।"
আর একটু কথাও ব্যয় করলো না শহর।হনহন করে বেরিয়ে যেতে লাগলো বাড়ি থেকে।পেছন থে সাবিহা, শর্মি কত করে বললো খাবারটা খেয়ে যেতে।কিন্তু কে শুনে কার কথা,শহর তো পেছন ফিরে চাইলোও না একবার।
হুট করেই কোথা থেকে যেন কঙ্কা দৌড়ে এসে দাড়ালো শহরের সামনে।হাতে নাস্তার প্লেট,শাড়ির আচল কোমড়ে গুঁজে পাকা গিন্নি হয়েছে যেন সে।প্লেট থেকে একটুকরো খাবার তুলে সে এগিয়ে ধরলো শহরের মুখের সামনে....
"নাস্তা না করো কোথাও যাওয়া হচ্ছে না স্যার।"
কঙ্কার হাস্যকরি মুখের ভাজ বেশ মনকাড়া।কিন্তু শহরের কি সেই মায়ময়ী হাসি দেখার সময় আছে?তেঁতো কন্ঠে চেচিয়ে উঠলো সে....
"এই মেয়ে,,তুমি কোন সাহসে আমার পথ আটকাচ্ছো,সরো আমার সামনে থেকে।"
শহরের কথার ফাঁকেই কঙ্কা খাবার টুকু ঠেসে দিলো শহরের মুখে।বিষয়টা বুঝে উঠতেই শহর রক্তচক্ষু নিয়ে কঙ্কার দিকে তাকালো।মুখের খাবারটা থুথু দিয়ে ফেলে দিবে,এমন সময় কঙ্কা দ্রুত বলে উঠলো...
"দেখুন স্যার।আমাকে আপনি রাগ দেখান,,বউ বলে না মানুন সমস্যা নেই।কিন্তু খাবার ফেললে মাথার একটা চুলও রাখবো না আপনার।সবটা খাবার খেয়ে না বের হলে দেখবেন এই কঙ্কাবতী কি করে।আম্মু অনেক কষ্ট করে খাবারটা বানিয়েছে।আমার উপর জেদ দেখিয়ে আপনার আম্মুকে কেন কষ্ট দিবেন আপনি হুম?"
মুখের খাবার টুকু আর ফেললো না শহর।মাথা ঘুরিয়ে একবার সাবিহার কৌতুহলি মুখের দিকে তাকালো।কিছু একটা ভেবেই নিজের রাগকে সংবরণ করে খাবারটুকু গিলে নিলো।তাকে খাবারটা খেতে দেখেই কঙ্কার মুখে ফুটে উঠলো বিশ্বজয়ের হাসি।তারাতারি করে আরো একটু খাবার তুলে ধরলো শহরের মুখের সামনে।কিন্তু এবার আর শহর তা মুখে নিলো না।কঙ্কার অন্য হাত থেকে খাবারের প্লেটটা নিয়ে গিয়ে টেবিলে বসে নিজেই খেতে লাগলো।
কঙ্কাবতী কি একটু খানি কষ্ট পেলো?কই,না তো। এই তো দিব্বি হাসছে সে।শহরকে তো খাবারটা খাইয়েছে সে,না হোক সেটা নিজের হাতে।এতটুকু তো কঙ্কাবতীর এমনিই পাওনা।অবাধ্যের ন্যয় অনুমতিবিহীন বিয়ে করেছে কিনা তার প্রিয় শহর স্যারকে।
তবুও কঙ্কাবতী বুক বাঁধে এক আশাতুর দৃষ্টি নিয়ে।কঙ্কাবতী মানে,ভালোবাসলে কখনো কেউ হারে না,তেমনি এই কঙ্কাবতীও হারবে না তার শহর স্যারের রাগের কাছে। ভালোবাসায় ভরিয়ে দেবে তার রাগী রাজাকে। এইসব ভেবেই তো কষ্টদের নিজের মাঝে জায়গা দেয় না কঙ্কাবতী।উচ্ছ্বাসে ভরা চঞ্চল পরাণে বারবার বলে উঠে...
"আপনি যত যাই বলুন না কেন স্যার।একদিন এই কঙ্কাবতী ঠিক আপনার হৃদয়ের সুপ্ত কোনে জায়গা করে নিবে।তখন যে আপনি খুব চোখে হারাবেন এই কঙ্কাবতীকেই।প্রতিদিনের, প্রতিটি প্রহর ঠোঁটের কোণে বারবার উচ্চারণ করবেন আপনি আমার নাম খানা,,প্রিয় কঙ্কাবতী,শহর স্যারের অন্তকোনের প্রিয় কঙ্কাবতী।"