ভরা ক্লাস থেকে অফিস-রুমে ডেকে নেওয়া হয়েছে কঙ্কাদের সবাইকে।এভাবে অফিসরুমে তাদের ডেকে নেওয়াটা নতুন কিছু নয়।প্রায়ই সবগুলা বিচ্ছু মিলে কিছু না কিছু গন্ডগোল করে,এরপর প্রিন্সিপালকে দিয়ে অফিসরুমে ডেকে স্যারদের হাতে মাইর খাওয়া।।
কিন্তু আজ তো কিছুই করেনি তারা।এই নিয়েই ভাবছে সবাই।তবে ভয় করছে না।ঐ সামান্য মাইরই তো,খেয়ে নেবেই না হয়।গিয়েই দেখুক।করিডোর দিয়ে হাটতে হাটতে নিনাদ সকলের উদ্দেশ্যে বললো...
"দোস্ত, কে আবার আমাদের নামে ব্যাগড়া দিলো কও তো?এই ক'দিনে তো কিছুই করলাম না।"
প্রিয়তা লাফিয়ে এসে নিনাদের সামনে তুরি বাজিয়ে বললো...
"যেই হোক না কেন ইয়ার,,আজ যদি আমরা শুধু শুধু মাইর খাই,তো কাল আর ভার্সিটিতেই আসবে না শিউর.."
কঙ্কাকে চুপ দেখে সৌরভ বললো...
"কিরে,কঙ্কাবতীর পায়ের গতি কম কেন আজ?"
কঙ্কা আস্তে করে বললো...
"শরীরটা ভালো না রে দোস্ত।"
এই কথা শুনে নির্জনা এসে পেছন থেকে লাফিয়ে কঙ্কার কাঁধে ভর দিতে গেলেই কঙ্কা আঙুল তুলে বাধা দিয়ে বললো...
"এই,এই দুরে থাক।দু হাতে দুটো সুই মেরে দিয়েছে কালকে,এখনো ব্যাথা আছে মাস্ত,তুই আবার বাড়াতে যাস না।"
বন্ধুমহলের কাছে কঙ্কাবতীর এইসব নর্মাল।ক'দিন পরপরই তার এই নয় সেই লেগেই থাকে।তাই আলাদা করে কেউ আর জিজ্ঞেস করলো না কেন হাতে ইনজেকশন দিয়েছে। তবে মাহিক হেঁসে বললো...
"আরেহ, তোর আর কি,,যত কিছুই হোক,তোর তো ঐ, ডিংডং খাও, অর শুরু হো জাও৷ তো দোস্ত ব্যাগে আছে নাকি তোর ডিংডং চিপস? আজ মাইরের পর খাওয়ার জন্য?"
প্রিয়তা বললো...
"তা আর বলতে?কঙ্কাবতীর ব্যাগে বই খাতা থাকবে না,কিন্তু ডিংডং নিশ্চয়ই থাকবে।ওটা মিস যাবে না।"
কথা বলার সাথে সাথে তারা অফিস রুমে গিয়ে পৌঁছালো। ঢুকতেই সবাই মুখে তালা লাগিয়ে ঢুকলো,এটা তাদের রেগুলার সিম্বল বলতে গেলে।আশপাশে চোখ বুলিয়ে পর্যবেক্ষণ করে নিলো কে কে আছে।প্রিন্সিপাল, শহর স্যার সহ আরো কয়েকজন শিক্ষক।আরো আছে একটি মেয়ে স্টুডেন্ট। একে চেনে না কঙ্কারা কেউই,তার সাথেই দাঁড়িয়ে আছে চৈত্রীকা।তাকে দেখেই প্রীয়তা, নিনাদকে ফিসফিস করে বললো..
"এই চৈত্রীকা ম্যাম এখানে কি করছে?উনি তো বাংলা শিক্ষিকা।"
নিনাদও ফিসফিস করে বললো...
"নিশ্চয়ই এই মেয়েটা বাংলা ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট। "
মাহিকও শুনছিলো তাদের কথা,আস্তে করে মুখ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো...
"কোন ইয়ার?"
নিনাদ দাঁতে দাঁত চেপে বললো....
"হা*লার পো,তুই যেখানে, মুই ও সেখানে।চিনি নাকি ওরে।সব বলবে, যাস্ট ওয়েট।"
কঙ্কা চুপচাপ সবাইকে একবার করে পর্যবেক্ষণ করে নিলো।শহরকেও দেখলো কয়েকবার।লোকটা সকাল থেকেই কেমন যেন গুমোট ভাব ধরে আছে।কিন্তু কেন?...
"এর সাথে কি করেছো তোমরা?"
প্রিন্সিপালের কঠোর কন্ঠে সকলের দৃষ্টি পড়লো চৈত্রীকার সাথে থাকা মেয়েটার দিকে।মুখটা এমন করে রেখেছে, যেন খুব সরল সিধে।আসলেই কি তাই?
এরপর আবার সবাই প্রিন্সিপালের দিকে তাকালো।নিনাদ বললো....
"আমরা ওকে চিনি না স্যার।"
আরেকজন স্যার জিজ্ঞেস করলো...
"তোমরা কেউই ওকে চিনো না?"
এবার কঙ্কারা সবাই একত্রে বলে উঠলো..
"নাহ।"
তখনই মেয়েটা কাদো কাদো সুরে বলে উঠলো...
"মিথ্যে বলছে এরা সবাই।"
পরক্ষণেই কঙ্কার দিকে আঙ্গুল তাক করে বললো...
"এই মেয়েটা,এই মেয়েটাই আমাকে কামিনীতলায় ডেকে নিয়ে গেছিলো।"
কঙ্কার ভ্রু জোড়া কুঁচকে এলো।চুপচাপ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করলো, কি করতে চাইছে মেয়েটা।চোখ ঘুরিয়ে একবার শহরের দিকে তাকাতেই দেখলো,শহর দাঁতে দাঁত চেপে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।দৃষ্টি সরিয়ে নিলো কঙ্কা তার থেকে।ঐ মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলো....
"আমি তোমাকে কামিনীতলায় ডেকে নিয়ে গেছিলাম।কেন?"
মেয়েটি চুপ করে রইলো।চৈত্র একটু ধমনে বলে উঠলো...
"নাটক করছো তুমি?জানো না কেন ডেকে নিয়েছিলে?"
নির্জনা আস্তে করে বললো...
"সরি ম্যম।বাট আমরা পুরো ঘটনাটা একটু শুনতে চাইছি।মে বি কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। "
চৈত্রীকা আবারো বলতে নিলো...
"ভুল?কিসের ভুল,,তোমাদের কথা..."
এতটুকু বলতেই শহর হাত উঁচিয়ে থাকতে বললো চৈত্রকে।এরপর ঐ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললো...
"ওদের সামনে বলো,কি করেছে ওরা তোমার সাথে।"
মেয়েটি মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।এরপর নেকি সুরে বলতে লাগলো...
"গতকাল আমি যখন ক্যাম্পাসে আসলাম, তখন কঙ্কা আমাকে ডেকে নিয়ে গেলো কামিনীতলার দিকে।বললো,ওর নাকি আমার থেকে একটা হেল্প লাগবে।আমিও ভাবলাম,ছোট বোন,হয়তো কোনো কিছু নিয়ে প্রবলেমে পড়েছে,তাই গেলাম।কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি কঙ্কা সহ এরা সবাই মিলে আমাকে র্যাগ দেওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে গেলো।বুঝতে পেরে আমি চলে আসতে চাইলাম। কিন্তু এই এই কঙ্কা আর এই মেয়ে দুটো মিলে আমাকে আটকে ধরলো।আর এরা আমাকে পুরো ভার্সিটির সামনে আমাকে নাচালো..."
কথাটা শুনেই কঙ্কারা সবাই ফিক করে হেসে দিলো।নিনাদ তো আস্তে করে বলেই ফেললো...
"জুনিয়রের হাতে র্যাগ খেয়ে আবার স্যারদের বিচারও দেয়,কি লজ্জা,কি লজ্জা..."
সাথে সাথেই চৈত্র চেঁচিয়ে বলে উঠলো...
"চুপ করো তোমরা। "
আসলেই সবাই হাসি থাকিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে নিলো।মাহিক মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলো...
"আপু যেন কোন ইয়ারের স্টুডেন্ট? "
মেয়েটি নাক কুঁচকে বললো...
"থার্ড ইয়ার।"
মাহিক আবার বললো...
"ওহ,,বাংলা ডিপার্টমেন্ট তাই তো?যাক,চিনে রাখলাম একটু।"
মেয়েটি বুঝতেও পারলো না তার জন্য সামনে কি অপেক্ষা করছে।প্রিন্সিপাল স্যার কড়া কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো...
"তোমাদের কিছু বলার আছে?"
কঙ্কা বললো...
"আমরা কিছু করিনি স্যার।আর আমরা কেউই এই আপুকে চিনি না।"
এবার শহর বললো....
"প্রমান কি যে,তোমরা কিছুই করো নি?"
এবার আর দৃঢ় কন্ঠ রইলো না কারোর।একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে প্রিয়তা বললো...
"প্রমান নেই স্যার।"
প্রিন্সিপাল উঠে দাঁড়ালো। শহরের দিকে তাকিয়ে বললো...
"যা ইচ্ছে করুন।"
বলেই প্রিন্সিপাল রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেলো।শহর কিচ্ছুটি বললো না। হাতের কাছে টেবিলের উপর একটা স্টিলের স্কেল পেলো।ওটাই হাতে তুলে নিয়ে এগিয়ে এলো কঙ্কাদের কাছে।প্রথমেই সৌরভকে কয়েক ঘা লাগিয়ে দিলো।এরপর একে একে নিনাদ,মাহিক,প্রীয়তা,নির্জনাকে।তারপরই হুট করে কঙ্কার বাহুতে এক ঘা লাগিয়ে দিকে স্কেল দিয়ে। সাথে সাথেই মেয়েটা 'উউহ' করে উঠে বাহু চেপে ধরে দু কদম পিছিয়ে গেলো। শহর বুঝতেও পারলো না, মেয়েটার ব্যাথাস্থানে আরো ব্যাথা দিয়ে ফেললো সে। অন্যদিকে বাকি সবার কেউই জানলো না শহর এই কঙ্কাবতীকে শুধু একটা অন্যায়ের শাস্তি দিচ্ছে না,সকালে হেঁসে হেসে মাহেরের সাথে কথা বলার শাস্তিটাও দিচ্ছে।
কঙ্কা পিছিয়ে যেতেই শহরও এক কদম এগিয়ে গেলো তার দিকে।তা দেখে কঙ্কা কিচ্ছু বললো না,টলমল চোখ নিয়েই নিজের হাতের তালু এগিয়ে দিলো শহরের দিকে।শহর সেই হাতের তালুতেই নিজের মনের ভেতর লুকিয়ে রাখা সমস্ত ক্ষোব নিয়ে একের পর এক আঘাত করে গেলো কঙ্কাবতীকে।
এদিকে এতো মা'রার পরেও যখন শহর স্যার থামছে না দেখলো,সমানে মে'রেই যাচ্ছে কঙ্কাবতীকে,তখন নিনাদ দ্রিত এগিয়ে এসে কঙ্কার হাত খানা নামিয়ে তাকে আগলে নিয়ে বললো...
"স্যার,স্যার,,প্লিজ,আর মারবেন না ওকে।আ্ আমি সবার হয়ে ক্ষমা চাইছি, প্লিজ স্যার।"
শহরের বক্ষস্থল অস্বাভাবিক হারে উঠা নামা করছে।আঁড়চোখে তাকিয়ে দেখলো নিনাদের হাতের মুষ্টিতে থাকা কঙ্কাবতীর হাত খানা।এটা কি হ্যা? এক ছেলে কঙ্কাবতীর কাছাকাছি হওয়ার অপরাধে তাকে শাস্তি দিলো।এখন আরেক ছেলে এসে তাকে শাস্তি থেকে বাঁচাচ্ছে? কোথায় যাবে শহর? মাথার রগ গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার।কিন্তু পরিস্থিতি তাকে কিছু করতেও দিচ্ছে না।কঙ্কাবতী এমন কেন?মেয়েটা কেন এতোক্ষণ এই নিনাদের হাত ধরে রেখেছে?হুয়াই?
"তোমার পারিবারিক শিক্ষার খুব অভাব। "
কঙ্কার দিকে আঙুল তাক করে কথাটা বলতেই নিনাদ আগ বাড়িয়ে বলতে নিলো...
"স্যার,আপনি ওকে এভাবে..."
তবে কথাটা শেষ করতে পারলো না নিনাদ।তার আগেই কঙ্কা তাকে বাঁধা দিলো।শহরের চোখে চোখ রেখে ঠোঁটের কোনে এক তাচ্ছিল্য হাসি এনে বললো...
"যার পরিবার থেকেও নেই,,তার পারিবারিক শিক্ষার অভাব কি?কঙ্কাবতীর তো পারিবারিক শিক্ষা নেই-ই।"
শহর কখনো জানতে চায়নি কঙ্কার পারিবারিক ব্যপারে।শুধু জানে সে বাবা মায়ের একটি মাত্র বিগড়ে যাওয়া মেয়ে, ব্যাস।তাই তো কঙ্কাবতীর মাত্র বলা কথাটিকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে নিলো শহর।হাতের স্কেলটা টেবিলের উপর ছুড়ে ফেলে কঙ্কাসহ বাকি পাঁচ জনের দিকে তাকিয়ে বললো....
"শেষ বারের মতো তোমাদের ছেড়ে দেওয়া হলো।নেক্সট টাইম এমন কিছু করলে,ভার্সিটি থেকে তোমাদের সবার জন্য টিসির ব্যবস্থা করা হবে।
নাও গেট আউট ফ্রম হিয়ার..."
কেউ আর একটি শব্দও ব্যয় করলো না।চুপচাপ বেরিয়ে গেলো অফিস থেকে।কঙ্কাবতী যেতে নিয়েও থেমে দাড়ালো ঐ মেয়েটি আর চৈত্রীকার সামনে।নীরবে এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তাদের দিকে।তাকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে নিনাদ আলতো করে এক হাতে কঙ্কার গলা জড়িয়ে হাটতে হাঁটতে বললো...
"চল কঙ্কাবতী।এখন দাঁড়িয়ে লাভ নেই।"
------
কিছুক্ষণ পরেই শহরের ফোনে কল এলো কঙ্কার।এই কলের মানে কঙ্কা বাড়ি যাবে।শহর খুব বিরক্ত হলো।ভেবেছিলো এতো মা'রার পর মেয়েটা আজ রাগ করবে বেশ শহরের উপর।রাগ করে কলও দিবে না,শহরের সাথে ফিরতেও চাইবে না।
কিন্তু তার কিছুই হলো না। কল রিসিভ করতেই কঙ্কার সেই পরিচিত উচ্ছ্বাসে মাখা কন্ঠটাই শুনতে পেলো শহর।কোনো রাগ নেই,ক্লান্তি নেই,ক্ষোব নেই সেই কন্ঠে।
শহর ভারী এক নিশ্বাস ফেললো।আজ আর তার ক্লাসও নেই।তাই আর ঘুরালো না কঙ্কাকে।মেয়েটাকে কেন যেন খুব দেখতেও ইচ্ছে করছে তার।অথচ মাত্র কিছু মুহুর্ত আগেই সর্বশক্তি দিয়ে পিটিয়েছে নওজ হাতে।
গাড়ি নিয়ে ভার্সিটি গেইট থেকে বেরিয়ে একটু এগিয়ে গিয়ে থামলো শহর।রেজ এখানেই কঙ্কাকে নামিয়ে দেয়, আবার এখান থেকেই পিক আপ করে তাকে।এই দিকটায় স্টুডেন্ট কম কিনা,,তাই।
শহরেরে গাড়ি দেখেই কঙ্কা এসে বসলো গাড়ির ফ্রন্ট সীটে।সীটবেল্টটা বাঁধতে বাধতেই প্রতিদিনের মতো আবার শহরের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিলো সে।যেন একটু আগে কিছুই হয়নি।
শহর গাড়ি স্টার্ট দিলো।বেশ কিছুটা পথ এগিয়ে যাওয়ার পরও আজ আর কঙ্কাবতীর পকপকানি শুনা গেলো না।এমনিতে তো রোজ এই সেই বলে বলে শহরের কান পচিয়ে ফেলে,কিন্তু আজ তা নেই।
চোখ ঘুরিয়ে একবার কঙ্কাবতীর দিকে তাকাতেই দেখলো, মেয়েটা জানালার পাশে মাথা কাত করে হেলান দিয়ে আছে।চোখ বন্ধ, ঘুমাচ্ছে নাকি মেয়েটা? শিউর হতে শহর গলা কাশ দিলো একটু।কঙ্কাবতী চোখ মেলে তাকিয়েছে একটু ওভাবে থেকেই।নাহ,ঘুমায়নি তাহলে। শহর সামনে তাকিয়েই কঠিন স্বরে বললো....
"ভার্সিটি তে র্যাগিংই করার হয়,তাহলে আমার ঘরের বউকে কাল থেকে আর ভার্সিটি আসার প্রয়োজন নেই।"
কঙ্কা চোখ বন্ধ করেই ফিচেল হাসলো।মাথা সোজা করেনি আর,ঐ ভাবে জানালায় হেলান দেওয়াই আছে।কন্ঠ তার নুইয়ে পড়েছে।যেন কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে তার।সেই নুইয়ে পড়া কন্ঠেই বললো...
"গতকাল, আপনার ঘরের বউকে আপনার আম্মু আর আপু মিলে মাহের ভাইয়ের কোলে চড়িয়ে ভার্সিটির কামিনীতলায় নিয়ে এসেছে।তারপর আপনার ঘরের সেই বউ ঐ মেয়েটাকে র্যাগ দিয়েছে তার বন্ধুদের সাথে মিলে।তাই না?"
কথাটা বেশ ভাবেই যেন ধাক্কা লাগলো শহরের মস্তিষ্কে। চমকে তাকালো সে কঙ্কাবতীর ক্লান্ত মুখশ্রীর দিকে।গাড়ির গতি আগে থেকে কমে এলে যেন একটু।কঙ্কা হাসলো।সেই হাসির কারনটা শহর বেশ বুঝলো।কিছুক্ষণ ভেবেই বললো...
"এই কথাটা তুমি তখন কেন বলোনি ড্যামিড।আমার তো মাথাতেই ছিলো না যে কাল তুমি..."
আরেকটু চওড়া করে হাসলো কঙ্কা।বললো...
"কি লাভ হতো? ভার্সিটিতে তো এটেন্ডেন্স নেওয়া হয়না।কেউ কি বিশ্বাস করতো,আমি যে কাল ক্যাম্পাসেই যাই নি?"
"বিশ্বাস না করার কি আছে?আমি তো জানতাম তেমার..."
"আমার স্বামী জানতো,ভার্সিটির কেমিস্ট্রি স্যার তো জানতো না।আর জানলেও কি হতো তখন?আমি না হয় মা'র খেতাম না।কিন্তু আমার বন্ধুরা তো খেতো,তাদের তো ঠিক কোনো না কোনো ভাবে ফাঁসিয়েই দিতো মেয়েটি।কিন্তু আমি জানি আমার বন্ধুরা কেউ দোষ করেনি।তো ওরা যদি বিনা দোষে মাই'র খায়,তাহলে আমি কেন পাড় পেয়ে যাবো?"
শহর বিদ্যবানের সাথে সাথে বুদ্ধিমানও বলা যায়।ঘটনাটার আসল রহস্য কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারছে সে।
বাড়িতে পৌছাতেই কঙ্কা নেমে গেলো গাড়ি থেকে।সে বাড়ির ভেতরে যেতেই শহর কল করলো চৈত্রের নম্বরে।রিসিভ করতেই জিজ্ঞেস করলো...
"কোথায় আছো তুমি?"
"তোমার বাড়ির সামনেই,রিক্সায়।"
অবাক হলো শহর,,বিরক্ত হয়ে বললো...
"ওয়াট,,তুমি আমার বাড়ির সামনে কি করছো?? আর ইউ ক্রেজি চৈত্র?তুমি ফলো করছো আমাকে.?"
"হ্যা করছি।তুমি ঐ মেয়েটার সাথে একা একা যাবে,আর আমি করবো না সন্দেহ?"
"বাড়াবাড়ির সীমা থাকা প্রয়োজন চৈত্র। ওকেয়,,তুমি ওয়েট করো।।আমি আসছি।"
বলেই কল কেটে দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে গেইটের বাইরে গেলো শহর।চৈত্র তাকে দেখেই হাসি হাসি মুখে এগিয়ে আসতেই ঠাসস করে একটা থাপ্পড় দিলো শহর তার গালে।রাগে চোখ মুখ টান টান করে বললো....
"এটা তোমার আজকের অন্যায়ের ফল।এভাবে ছেলেমেয়ে গুলোকে মিথ্যা অভিযোগে আমার হাতে মা'র খাওয়ানো টা একদমই উচিৎ হয়নি তোমার।তোমার থেকে অন্তত এই কুচালটা আশা করিনি আমি চৈত্র।নেক্সট টাইম নিজের ভুলটা যতক্ষণ না অনুধাবন করবে,আমার সাথে একদম যোগাযোগ করবে না তুমি।নাও গেট আউট।"