গল্প সামনে গেলে রেসপন্স করবেন!
--" মানুষ বলে প্রেম নাকি অন্ধ! প্রেমে পড়লে মানুষ ভুলেতে ও ফুল দেখে। ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসে। তবে বুঝো! আমি তার উপর অবসেডড। আমার কেমন দশা! তার ওই ছোট্ট মুখ টা আমাকে বড্ড টানে। আলকোহলের নেশা আমাকে ড্রাংকড করতে পারে না। কিন্তু তার চোখ জোড়া আমাকে ধ্বংস করতে সংক্ষম। আমার লিটল গার্লের চোখের মেইবি আফিম মেশানো আছে! হবে হয়তো, আই ডোন্ট নো। ভালো, খারাপের এক অদ্ভুত মিলনে জাদু বিদ্যার সৃষ্টি। এ জগতে আলৌকিক বহু ঘটনা ঘটে। তেমনি এক আলৌকিক বিষয় হচ্ছে কালো জাদু। বহু দিনের পরিশ্রম আর তপস্যা.. ..."
বিশাল কালো দেয়ালটাতে আর কিছুই লেখা নেই। সম্পূর্ণ দেয়াল খালি। কালো রঙের দেয়ালে লাল কালিতে লেখা ছিলো উপরের লাইন গুলো। ইসরাহ অবাক হয়ে সেই লেখা পড়লো। তার হাত পা কম্পমান। শরীর অবশ হয়ে আসছে!
তলপেটে চিনচিনে ব্যথার উৎপত্তি দেখা দিলো। নিজেকে সামলালো ইসরাহ। সে দাঁড়িয়ে আছে রুমের দরজার সামনে। দরজার সাথের দেয়ালের মধ্যে উপরোক্ত কথা গুলো লেখা ছিলো। ইসরাহর হাত কাঁপছে। দরজার কপাটে ফের ধাক্কা দিতে গিয়ে ও হাত গুটিয়ে নিলো সে। মনের দোলাচলে ক্লান্ত লাগছে ইসরাহর। সে ফারিস কে ভালোবাসে। তাদের অনাগত সন্তান তার উদোরে। এখন ফারিসের কোনো গোপন সত্যি ইসরাহর মন জানতে চাইছে না।
কিন্তু মস্তিষ্ক অবিচল।
মস্তিষ্কে সবটা গুছিয়ে দরজা ঢেলে রুমে ঢুকে পড়লো ইসরাহ। ফোনের ফ্ল্যাশ অন করে সুইচ বোর্ড খুঁজলো সে। এবং পেয়ে ও গেলো। রুমটাতে একটা মাত্র লাল আলোর লাইট লাগানো। সেই লাইটের আলো পুরো ঘরে ছড়াতে অক্ষম। পুরো বাড়ি দামী রঙ, আসবাবপত্রে সাজানো হলে ও এই ঘরটা পুরোটাই ভিন্ন। বড় একটা টেবিল পাতা রুমের এক পাশে। টেবিলটার উপর গুটি কয়েক পেন্টিং; সারিবদ্ধ ভাবে সাজিয়ে রাখা। ইসরাহ এগিয়ে গেলো সেদিকে। ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট পেন্টিংকে তাক করলো।
আচানক কয়েক কদম পিছিয়ে গেলো ইসরাহ। পেট মুড়িয়ে বমি আসতে চাইলো। মুখ চেপে ধরলো সে। র*ক্তে*র বি*চ্ছিরি গন্ধ ছাড়ছে পেন্টিংয়ের পাশ থেকে। বাম হাত এগিয়ে একটা পুরুষ অবয়ের পেন্টিং ছুঁয়ে দেখলো ইসরাহ। তার হাতে উঠে এলো শুকিয়ে যাওয়া র*ক্তের কিছুটা অংশ। আরেকটু এগোতে ইসরাহর চোখ টলমলিয়ে উঠলো। একটা মাঝারি সাইজের সাদা পাত্র জুড়ে পুরোনো র*ক্ত রাখা। চিনতে ইসরাহর অসুবিধে হলো না। কারণ সে সাইন্স ল্যাবে পুরোনো র*ক্ত দেখেছিলো।
নিজেকে সামলে সেদিক থেকে সরে এলো ইসরাহ। অপর পাশের দেয়ালে চোখ যেতে ফের আঁতকে উঠলো সে। বিশাল এক বইয়ের তাক। তাতে থরে থরে বই সাজানো। দুটো বই দাঁড় করানো। তার মধ্যে অদ্ভুত চিহ্ন আঁকা। মেঝেতে ফ্ল্যাশের আলো ফেললো ইসরাহ।
ছোটো ছোটো মাটির পাত্রে ভিন্ন ভিন্ন রকমের ধূপ, দুনো, কড়ি মাটি নেওয়া। পাশে অসংখ্য গলিত, অগলিত মোমবাতি সাজিয়ে রাখা। তার সামনে ইসরাহর একটি ফ্রেম বন্দি ছবি রাখা।
মাথা চক্কর কাটলো ইসরাহর। হাত থেকে ফোন মেঝেতে খসে পড়লো। ঠোঁট ভেঙে কেঁদে মেঝেতে বসে পড়লো সে। গগণ কাঁপিয়ে চিৎকার করলো ইসরাহ।
--" আমার বিশ্বাস হচ্ছে না এসব আল্লাহ্! আপনি আমাকে এ কেমন পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করালেন? আমার সামনের ফারিস। আর এই ফারিস এক না। আমি মেলাতে পারছি না দুজন কে। আমার সে এমন না। সে তো আমাকে ভালোবাসে। তবে কালো জাদু কেনো?"
ইসরাহ থামলো, উদোরে হাত চেপে ফের বললো সে।
--" তবে কি সে আমার থেকে প্রতিশোধ নিতে এতসব নাটক করেছে? কেবল আমার মা কে শাস্তি দিবে বলে? একটা জীবন্ত ছোট্ট প্রাণ নিয়ে খেলা করছে ফারিস জাওয়ান?"
পেট ছেড়ে মাথায় হাত চাপলো ইসরাহ। ব্যথায় মাথা টনটন করছে। হৃদয়ের ব্যথার কাছে এই মাথা ব্যথা কিছুই না। তবুও মাথা ব্যথা তে পাগল পাগল লাগলো ইসরাহর। আচমকা একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসলো সে। ফারিসের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে সে। তার শরীরে অবস্থানরত ছোট্ট দেহটাকে এই পাপিষ্ঠের ছোঁয়াতে সে রাখবে না। অনেক টা দূর পালিয়ে যাবে। যাতে ফারিসের ছায়া ও তার বাচ্চার উপর না পড়ে।
ফোন পেলে ওড়না টা মুখে পেঁচিয়ে মেঝে থেকে উঠে পড়লো ইসরাহর। ফোন সাথে নিলে ফারিস লোকেশন ট্র্যাক করতে পারে। অতঃপর, আবার এই জীবনে তাকে ফিরতে হবে। সব কিছু পেলে সে এক ছুটে নিচ তলার সদর দরজার নিকটে এসে থামলো। দরজার পাস সে জানে। দ্রুত হাতে পাস ইন করে প্যালেস থেকে বেরিয়ে এলো ইসরাহ। বাহিরে প্রচন্ড ঠান্ডা। এক মিনিট খালি গায়ে দাঁড়ানো অসম্ভব।
ওভার কোর্টের কথা মনে পড়লে ও দ্বিতীয় বার প্যালেসে প্রবেশের ইচ্ছে হলো না ইসরাহর মনে। মেইন গেটে লোহার বিশাল ছিটকিনি। লোহার শিক গলিয়ে হাত বাহিরে নিয়ে ছিটকিনি খুলে নিলো ইসরাহ। তারপর? তারপর, ফারিসের বন্দি পাখি খাঁচা কেটে পালালো নিমিষে। ফারিস তা ঘুণাক্ষরে ও ঢের পেলো না।
-----------
ব্লু - টুথ কানে গুঁজে পার্কিং লটে ড্রাইভিং সিটে বসে গান শুনছে রিজভি।
গানের সাথে তাল মিলিয়ে লিপ সিং করছে সে। হঠাৎ, কেউ গাড়ির ফন্ট সিটের দরজা খোলার সাথে সাথে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো রিজভি। ফারিস এসেছে। সেকেন্ড না ঘুরতে ফন্ট সিটে বসে গলার ট্রাই খুলে নিলো সে। দুই হাতে চুল গুলো পেছনে ঠেলে গমগমে কন্ঠে ফারিস বললো;-
--" রিজভি গাড়ি ঘুরাও।"
--" বস ম্যাম প্রেগন্যান্ট।
রিজভির উত্তরে ঘুরে বসলো ফারিস। সিট টা আরেকটু পেছনে ঠেলে সন্দিহান কন্ঠে প্রশ্ন করলো;-
--" তো ? লিটল গার্ল প্রেগন্যান্ট হওয়াতে কি এখন আমি বাড়ি ও ফিরতে পারবো না?"
--" মানে এই সময় এসব না করাই ভালো না? ডাক্তারের কাছে শুনেছিলাম।"
--" কি সব?"
--" মানে ইয়ে, আমি তো সিঙ্গেল। তাই ওসবের নাম মুখে নিতে চাইছি না। যদি পাপ হয়।"
ইনডাইরেক্টলি রিজভি কি বোঝাতে চাইছে। ফারিস বেশ ভালোই বুঝলো তা। রাগে গমগমে কন্ঠে সুধালো সে;-
--" রিজভি তোর ডার্টি মাইন্ডের চিন্তা ভাবনা বন্ধ কর। নাহলে আমার পা ও কিন্তু তোকে লাথি দিতে প্রস্তুত।"
রিজভি থতমত খেলো। কান থেকে ব্লু - টুথ খুলে সিট ঠিক করে গাড়ির হুইলে হাত রেখে গাড়ি স্টার্ট দিলো। ফারিস সিটে পিঠ এলিয়ে দিলো। বক্ষবিভাজনের হঠাৎ তোলপাড় শুরু হয়েছে। যার দরুন আর্ট এক্সিজিবিশনে সে মন বসাতে পারেনি। আজকের এক্সিজিবিশন টা তার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ছিলো। ইন্টারন্যাশনাল এক্সিজিবিশন গুলো বছরে দুই বার হয়।
প্রতিবারে তার দুই, তিনটে আর্ট নিলামে উঠে। আজ একটা আর্ট নিলামে; উঠার পর পর সে ছুটে বেরিয়ে চলে এসেছে এক্সজিবিশন হল থেকে। কিছুতেই এক্সিজিবিশনে মন বসাতে পারছিলো না। ইসরাহর জন্য বক্ষ কপাটে ঝড় বইছে। বারো বছর আগে ইসরাহ কে হারিয়ে ফেলার আগে যেমন হয়েছিলো। ঠিক তেমনি, বাজে একটা অনুভূতি। ফারিস শত চেষ্টা করে ও স্বাভাবিক হতে পারেনি।
তাই সব কিছু গার্ডদের হাতে রেখে ইসরাহর সান্নিধ্যে ছুটে যাচ্ছে সে।
-----------
প্যালেসের বিশাল কালো গেটের ফটক চোখে আসতেই কিছুটা স্থির হলো ফারিস।
আর কিছুক্ষণ, অতঃপর তার লিটল গার্ল কে জড়িয়ে ধরতে পারবে সে। সেই কথা ভেবে মায়া মায়া হাসলো ফারিস। গেটের সামনে এসে তড়িৎ বেগে সোজা হয়ে বসলো ফারিস।
--" এই রিজভি গেট খোলা কেন? তুই যাওয়ার সময় গেট বন্ধ করিসনি? এই বার্স্টাড? কথা বল শালা।"
রিজভি হকচকিয়ে ব্রেক কষলো।
--" করেছি তো বস। আপনি দেখেননি?"
ফারিস দ্রুত পায়ে নেমে সদর দরজায় এসে থামলো। দরজা বন্ধ। লক প্রেস করে দরজা খুলে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়লো সে। রিজভি ও ফারিসের পেছন পেছন এলো। ফারিস বাড়ির ভেতরে ঢুকে। সিঁড়ির দিকে এগোতে এগোতে গলা ছেড়ে ইসরাহ কে ডাকলো।
--" লিটল গার্ল? লিটল গার্ল?"
কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ পেলো না। ভয় বাড়লো ফারিসের। তার মন কু ডাকছে। পরিবেশ কেমন অদ্ভুত শীতলতা বহন করছে। ঝড় থেমে যাওয়ার পর বাড়ি হারানো গেরস্থ যেমন শান্ত হয়ে যায়। তেমন ফারিসের বাড়ি টাও নীরবতা বুকে চেপেছে। ফারিসের সহ্য হলো না সেই নীরবতা।
--" এই লিটল জান! কই তুই? তোর খোদার কসম লাগে আমাকে ফাঁকি দিয়ে পালাস না।"