She is my Obsession

পর্ব - ৩৩

🟢

--" একবার তোমাকে জড়িয়ে

ধরতে দিবে? তোমার বুকে মুখ গুঁজে একবার তোমার অর্কিড পারফিউমের সুভাষ নিতে দিবে ফারিস জাওয়ান? মৃত্যু তো আমাকে দিবে। তবে শেষ ইচ্ছে টা রাখো? জীবনে অনেক পুরুষের সান্নিধ্যে গিয়েছিলাম। কতো জন চেয়ে ও আমাকে পায়নি। কিন্তু তোমার মতো এতোটা ব্যক্তিত্ববান পুরুষ আমি দ্বিতীয় টি দেখিনি।"

ফারিস সারা ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠলো। পর পর সামনে থেকে বড় একটা ইনজেকশনের সিরিজ নিয়ে। এক চোখ বন্ধ করে ছুঁড়ে মারলো লিয়ানার ঠোঁটের দিকে। ইনজেকশনের সুচ টা গেঁথে গেলো লিয়ানার নিচের ঠোঁটের মাঝ বরাবর। হৃদয় কাঁপানো চিৎকার দিলো লিয়ানা।

সুচ টা নিচের ঠোঁটে গেঁথে থুতনি তে এসে লেগেছে। সুচের খোঁচায় গলগলিয়ে র*ক্ত বেরোলো লিয়ানার থুতনি দিয়ে। মেয়েটার মরি মরি দশা। হাতের ব্যথা, মাথা ব্যথা, তার সাথে এখন আবার যোগ হয়েছে ঠোঁটের ব্যথা। সব মিলিয়ে লিয়ানার ইচ্ছে হচ্ছে নিজের গলার টিপে ধরতে। তার আর সহ্য হচ্ছে না ফারিসের টর্চার।

পরম তৃপ্তির সহিত সেই দৃশ্য টা অবলোকন করলো ফারিস। লিয়ানা ততক্ষণে থুতনি চেপে ধরেছে। অপর হাতে ইনজেকশনের সিরিজ টা বের করার চেষ্টা করলো। কিন্তু পারলো না সে। ফারিস চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। হেঁচকা টানে লিয়ানার ঠোঁট থেকে সিরিজ টা বের করে নিলো সে। ফের চিৎকার করে উঠলো লিয়ানা। ধড়ফড়িয়ে চেয়ার ছেড়ে পা চেপে ধরলো ফারিসের। ফারিস জোরে লাথি বসালো লিয়ানার পেটে।

ফারিসের লাথির কারণে লিয়ানার কপালের কাঁটা পাশটা গিয়ে লাগলো কাঠের চেয়ারের কোণায়। কপাল চেপে কেঁদে উঠলো লিয়ানা। কাকুতি মিনতি করে ফারিসের উদ্দেশ্যে বললো সে;-

--" আমা..কে মৃত্যু দাও ফারিস জাওয়ান। তো...মার স্পর্শ আমার প্রয়ো..জন নেই। আমা...কে স্যুট করো ফারিস। প্লি..জ!"

--" যতক্ষণ পর্যন্ত না। তোর মন থেকে আমাকে পাওয়ার লালসা যাচ্ছে। ততক্ষণ তড়পে মর।"

--" আ...মি আ..আ.র তো...মাকে চা..ই না ফা..রিস।"

ফারিস কিছু ই বললো না। রিজভি গিয়ে কালো চাবুক টা নিয়ে এলো। ফারিসের আর সেই দৃশ্য দেখার ইচ্ছে হলো না। জুতোর শব্দ তুলে বেরিয়ে গেলো সে রুম থেকে। লিয়ানা করুণ চোখে ফারিসের প্রস্থান দেখলো। এবং এটা ও বুঝলো।

যে রিজভি এখন তাকে অমানবিক নির্যাতন করবে; তার মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত।

-----------

রাত দশটা বাজে।

আর দিনের তুলনায় আজ বেশ শীত পড়েছে। ড্রয়িং রুমের হিটার অন থাকা শর্তে ও ইসরাহর বেশ শীত করছে। হুডির উপর কম্পোটার জড়িয়ে বসে আছে সে। অথচ ফারিস উদোম শরীরে কিচেনে দাঁড়িয়ে রান্না করছে। তার শীত করছে না? ইসরাহর কাছে সেই উত্তর নেই।

ফারিস কি রান্না করছে ইসরাহ তাও জানে না। তাকে সোফায় বসিয়ে টিভি চালিয়ে দিয়ে ফারিস কিচেন গিয়েছিলো। যাওয়ার আগে শক্ত কন্ঠে বলে গেছে যাতে ইসরাহ এখান থেকে এক পা ও না নড়ে।

লাইভ কিচেন হওয়াতে সোফায় বসা অবস্থাতেই ইসরাহ ফারিস কে দেখতে পাচ্ছে। ইসরাহ টিভি থেকে চোখ সরিয়ে ড্রয়িং রুমে চোখ বুলালো। মাথার উপর বড় ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি জ্বলছে। ঝাড়বাতির সোনালী আলোয় সাদা ফার্নিচার গুলো সোনালী বর্ণ ধারণ করেছে। পুরো ফ্ল্যাট টা সাদা রঙ করা।

তবে ফারিসের বেডরুমের রঙ কালো। প্যালেসে ও তেমন ই ছিলো। দামী দেওয়াল গুলোতে টানানো ইসরাহ পেন্টিং, সহ আলাস্কার বিভিন্ন মরসুমের পেন্টিং। এটা ফারিসের জুনোর ফ্ল্যাট টা। হসপিটাল থেকে ইসরাহ কে রিলিজ করে এখানে নিয়ে এসেছিলো ফারিস।

ইসরাহর ভাবনার মাঝে ফারিস তাকে নরম স্বরে ডাকলো।

--" লিটল কুইন, কাম হেয়ার। ইউর ডিনার ইজ রেডি বেবি গার্ল।"

ইসরাহ কম্পোটার ছেড়ে স্লিপার পরে ড্রাইনিং টেবিলের পাশে এসে দাঁড়ালো। টেবিল জুড়ে হরেক পদের খাবার সার্ভ করা। স্টেক, ম্যাশ পটেটো, চিকেন স্যুপ, তার সাথে সোটেড ব্রকোলি, গাজর, বিনস। ডের্জাট হিসেবে ফ্রুট সালাদ ও করেছে ফারিস। ইসরাহ অবাক কন্ঠে সুধালো;-

--" এতো খাবার কে খাবে ফারিস?"

--" তুমি লিটল গার্ল! ডক্টর কি বলেছে মনে নেই? তোমাকে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।"

--" তাই বলে এতো খাবার?"

--" ইয়েস প্রিন্সেস।"

কিচেন এপ্রোণ গলা থেকে খুলে টেবিলের একপাশে রাখলো ফারিস। নিজের পাশের চেয়ার টা টেনে চোখের ইশারায় ইসরাহ কে বসতে বললো সে। ইসরাহ বসলো।

--" তোমার মায়ের সাথে কথা বলবে লিটল গার্ল?"

--" যদি আপনি চান। না হলে থাক।"

--" খাবার শেষ করো। তারপর কথা বলো।"

ইসরাহ মাথা নাড়িয়ে খাবারে মনোনিবেশ করলো। ফারিস নিজে ও খাওয়া শুরু করলো। খাওয়ার মাঝে টুকটাক সোটেড ভেজিটেবলস তুলে দিলো ইসরাহ প্লেটে। ইসরাহ চোখ মুখ কুঁচকে নিলে ও ফারিসের দিকে তাকিয়ে সবটা খেলো সে।

------------

ফারিসের পেন্টিং টেবিলের উপর বসে আছে ইসরাহ। তার পাশেই ফারিস দাঁড়িয়ে। ইসরাহর হাতে উষ্ণ এক কাপ দুধ। হুডির টুপিটা মাথায় দিয়ে উৎসুক চোখে ফারিস কে দেখছে সে। ফারিস কম্পিউটারে আরহাম সিকদার কে কল দিচ্ছে। কয়েকবার কল দেওয়ার পর ও আরহাম সিকদারের ফোন টা বেজে কেটে গেলো। শেষ বার কল টা রিসিভ করলেন আসফা বেগম। ফারিস দ্রুত ইসরাহর দিকে স্কিন ঘুরিয়ে দিলো। মায়ের মুখ স্কিনে দেখেই ফুঁপিয়ে কেঁদে দিলো ইসরাহ।

--" কেমন আছো আম্মু?"

মেয়ের অশ্রু সিক্ত অক্ষি আর কাঁপা গলার স্বর কানে পৌঁছাতে ই নড়ে উঠলো আসফা বেগমের শক্ত হৃদয়। আজ পাঁচ দিন পর উনি মেয়ে কে দেখেছেন। মেয়ের কন্ঠ শুনতে পাচ্ছেন। যাকে প্রতিদিন নিজ হাতে নাশতা খাওয়া থেকে শুরু করে রাতের খাবার পর্যন্ত খাইয়ে দিতেন। অথচ আজ পাঁচ দিন তাকে দেখছেন না তিনি। ছুঁতে পারছেন না বুকের চাঁদটাকে।

ফারিস ইসরাহ কে নিয়ে চলে আসার পর মনের মধ্যে ইসরাহ জন্য রাগ জন্মালে ও; আরহাম সিকদারের কথায় তা কিছুটা গলে এসে ছিলো। বাকি টা ইসরাহ কন্ঠ শুনতেই শেষ। শক্ত আসফার মাতৃত্ব কেঁদে উঠলো। চোখের পানি মুছে আসফা বললেন;-

--" ভালো আছি, তুমি কেমন আছো?"

--" তোমার আর বাবার জন্য মন খারাপ করছে আম্মু। ইচ্ছে করছে তোমাকে জড়িয়ে ধরি।"

মেয়ের কথায় ইসরাহর দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন আসফা বেগম। ইসরাহর দিকে তাকাতেই কপাল কুঁচকে নিলেন তিনি।

--" তোমার কপালে কি হয়েছে ইসু? ব্যান্ডেজ করা কেন?"

--" কেটে গিয়েছিলো আম্মু।"

--" কিভাবে কেটেছে? ওই ছেলে তোমাকে আঘাত করেছি নাকি?"

আসফা বেগমের তাচ্ছিল্যে পূর্ণ কন্ঠ শুনে বাঁকা হাসলো ফারিস।

--" আপনাকে নানু বানিয়ে দিলাম। এখনো ওই ছেলে, ওই ছেলে করছেন? একটু তো সম্মান দিন শাশুড়ি আম্মু। না হলে আপনার নাতি পুতি কে আর আদর করা লাগবে না। আমাকে যেহেতু দেখতে পারেন না। তাহলে আমার সন্তান কে ভালোবাসবেন কিভাবে?"

--" ইসু? কি বলছে ও?"

মায়ের প্রশ্নে থতমত খেলো ইসরাহ। ল্যাপটপের স্কিন ফারিসের দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে নিচু কন্ঠে সুধালো সে;-

--" যে বলেছে। তাকেই জিজ্ঞেস করো কি বলেছে।"

কোনো মতে টেবিল থেকে নেমে ফারিসের রুমের দিকে ছুটলো ইসরাহ। যাওয়ার পথে ফারিস কে গাল দিতে ও ভুললো না সে। লোকটা এতোটাই নির্লজ্জ হয়েছে; যে কোথায় কি বলতে হয় তা ও ভুলে যাচ্ছে। একটু লিমিট রেখে তো নির্লজ্জ হওয়া উচিত। কিন্তু ফারিস যেনো সব লিমিট ছাড়িয়ে নির্লজ্জদের লিডারের জায়গায় নাম লিখিয়েছে।

মেয়ে কে যেতে দেখে ফারিস কে ধমকে উঠলেন আসফা।

--" আমার মেয়ে কোথায় গেছে ফারিস?"

--" সে লজ্জা পেয়েছে। প্রথম বার মা হচ্ছে তো। তাই লজ্জা পাচ্ছে।"

--" তুমি দ্বিতীয় বার বাবা হচ্ছো নাকি? তোমার লজ্জা কোথায় গেলো? নির্লজ্জ ছেলে।"

আসফা বেগম গমগমে স্বরের কথায় প্রসন্ন হাসলো ফারিস। ফারিসের হাসিতে গায়ে জ্বালা ধরলো আসফা বেগমের। যতো ছেলেটাকে ভালোবাসতে চাইছেন। ততো ছেলেটা ওনার পেছনে লাগছে। এখন নির্লজ্জের মতো দাঁত কেলিয়ে হাসছে।

--" আমার লজ্জা বেছে দিয়েছি পেন্টিংয়ের সাথে। তাই আপাতত আমার লজ্জা লাগছে না। আর লজ্জা পেতে যাবো কেন? অপরাধ তো করিনি। নিজের বিবাহিত ওয়াইফ কে প্রেগন্যান্ট করেছি। এতে বরঞ্চ আপনার গর্ব করা উচিত। যে, আমি বিয়ে একমাস না পেরোতেই আপনাকে নানু ডাক শোনানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছি।"

--" অসভ্য ছেলে। কল কাটো নির্লজ্জ।"

আসফা বেগম কল টা কেটে দিলেন। ফারিস হাসতে হাসতে টেবিলের উপর শুয়ে পড়লো। পর পর মনে পড়লো তার বউটার কথা। তাই টেবিল থেকে উঠে নিজের রুমের দিকে গেলো ফারিস।

-------------

কম্পোটার মুড়িয়ে শুয়ে আছে ইসরাহ।

পরের বার মায়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলবে কি ভাবে সেই কথাই ভাবছে সে। ফারিস এসে শুয়ে পড়লো ইসরাহর পাশে। কম্পোটারের ফাঁক গলিয়ে শীতল হাতে জড়িয়ে ধরলো ইসরাহর কোমর।

--" লিটল গার্ল!"

--" অসভ্য লোক। একটু তো লজ্জা করুন।"

বউয়ের ঝাঁঝালো কন্ঠের কথায় ফের ফিচেল হাসলো ফারিস। কম্পোটার সরিয়ে সে ও কম্পোটারের ভেতরে ঢুকে পড়লো।

--" আপনি এতো নির্লজ্জ কেনো ফারিস?"

--" আমার সব লজ্জা বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপ দিয়েছে লিটল গার্ল। বাকি আছি শুধু আমিই।"

ফারিস রসিকতায় ইসরাহ কামড় বসালো তার বাহুতে।

--" লজ্জা গুলো আমি চুম্বক দিয়ে হলেও কুড়িয়ে আনবো।"

ইসরাহর কথায় নিজের সাথে তাকে আষ্ঠে পৃষ্ঠে জড়িয়ে নিলো ফারিস। হাস্কি স্বরে আওড়ালো সে;-

--" চুম্বক দিয়ে আমার লজ্জা কুড়িয়ে না আনতে পারলে ও। চুমু দিয়ে আমার মুড ঠিক ই চেন্জ করতে পারবেন মিসেস জাওয়ান।"

She is my Obsession গল্পটি নবনীতা চৌধুরী-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাসপেন্স-এ মাতানো রোমান্টিক থ্রিলার