অন্তরালের প্রণয়িনী

পর্ব - ৯

🟢

চিন্তিত চেহারা নিয়ে খাবারের টেবিলে বসে আছে সুবহা। সেলিনা বেগম খাবার দিয়েছেন মেয়েকে অনেক সময়ই হলো সুবহা খেয়াল করেনি এখনো। কি যেন ভেবে চলেছে সে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন সেলিনা বেগম।

— ‘ কি হয়েছে সুবহা মা?’

সুবহা তখনকার ঘটনাটা নিয়ে ভাবছিল কালো ফুলের বুকে রক্ত মাখা পুতুলটা কে রাখলো ওখানে?এই একটা জিনিস বার বার মাথায় ঘুরছে তার।এমন সময় মায়ের ডাক কানে আসাতে কেঁপে উঠেছে সে নিজেকে স্বাভাবিক করে উত্তর দিয়েছে।

—‘ কিছু হয়নি তো,আম্মু! আমার আবার কি হবে?’

— ‘ বললি খিদে পেয়েছে, তাই তাড়াহুড়ো করে খাবার বানালাম। এখন না খেয়ে প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছিস যে?’

সুবহা আর তার আম্মুর কথা বলার মাঝখানেই সুবহার ফুফু এসে পড়লেন সেখানে। নিজের ছেলের বিষয়ে এটা-সেটা বলছেন সুবহাকে, কিন্তু এই মুহূর্তে এসব কথা শুনতে ভালো লাগল না সুবহার। খাবারের প্লেটটা হাতে নিয়ে মাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে নিজের রুমে চলে গেল সে।

———

দিনের আলো ফুরিয়ে চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে এসেছে। ঘড়ির কাঁটা জানান দিচ্ছে, এখন সময় ১২টার কাছাকাছি। অফিসের প্রচুর কাজ সুবহার। শত চেষ্টা করেও অফিসের কোনো কাজে কিয়ানের সাহায্য সে পাচ্ছেনা। সারাদিন বাড়িতে থাকবে ঠিকই কিন্তু সুবহা এসব বিষয়ে কিছু বললেই তাকে আর পাওয়া যাবেনা।

এদিকে সুবহার আব্বু অসুস্থ। অফিসের ব্যাপারটা নিজের মেয়ে আর ভাইয়ের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। সুবহাকে পেয়ে তার চাচ্চুও নিশ্চিত হয়েছেন। একা একা এত কিছু সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। সুবহার ওপর দায়িত্ব দিয়ে বুড়ো বয়সে নিজে ঘুরতে চলে গেছেন শ্বশুরবাড়ি।

সুবহার মাথায় হাত। এত কিছু সে একা একা সামলাবে কীভাবে? এদিকে ভাইটাও কাজের না।

সুবহার মনে হলো, দরজার সামনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। তাকাতেই রিফাতকে দেখতে পেল। চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে আছে সে। দরজায় ঠকঠক শব্দ করে ভেতরে আসার অনুমতি চাইছে সুবহার কাছ থেকে।

মুখের ওপর না করে দিতে পারেনি সুবহা, তবে ভেতরে আসতেও বলেনি। রিফাত নিজেই রুমে ঢুকেছে, চায়ের কাপটা টেবিলের ওপর রেখে বসেছে সুবহার মুখোমুখি। সুবহা বিরক্ত হয়ে মুখ খুলে কিছু বলতে যাবে, তখনই রিফাত কথা বলে উঠল।

—‘ তুমি কি এখনো দুই বছর আগের ঘটনাতেই পড়ে আছো সুবহা?’

—‘ মানে? ’

— ‘ তুমি না চাইলে বিয়েটা আমি ভেঙে দেব। কিন্তু একটা কথা মনে রেখো—অরণ্য আনহার হবু বর। নিজের বোনের সাথে যার বিয়ে ঠিক, তার প্রতি এখনো এত টান তোমার? আমাকে ভালোবাসা যায় না!’

এমনিতেই মাথা খারাপ তার ওপর অরণ্যকে নিয়ে এতো কথা বিরক্ত হচ্ছে সুবহা নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যার্থ সে।

—‘ অদ্ভুত তো, কে পাঠিয়েছে আপনাকে এখানে? আমি এসব কথা শুনতে চেয়েছি একবারও? ’

—‘ তুই শুনতে না চাইলেও আমরা বলবো সুবহা। রিফাত ভাইয়াকে বিয়ে করতে চাইছিসনা কেন?এটাতো স্পষ্ট অরণ্যের প্রতি তোর পুরনো প্রেমটা জেগে উঠেছে আবার!’

আনহার কথা শুনে হাসি পেলো সুবহার। হাসতে হাসতে বলছে।

—‘ এক ছিলো ঘসেটি বেগম তার সাথে মিলেছে আরেক মীরজাফর। দুইজন মিলে কি চায়ের সাথে বিষ মিশিয়ে আমাকে মারতে এসেছো?’

আনহা রেগে গেছে সুবহার কথায় ভ্রু কুঁচখে তাকিয়েছে তার দিকে কিছু বলতে গেলে রিফাত চোখ দিয়ে ইশারা করেছে কথা না বলতে। রিফাত ভালো মানুষের ভান ধরে শান্ত কন্ঠে বললো সুবহাকে।

—‘ তোমার আমাকে এমন মনে হলো সুবহা? আনহা এখানে আসবে আমি জানতাম না রুমে যেতে গিয়ে দেখলাম তোমাকে ডিস্টার্ব লাগছে তাই চা নিয়ে আসলাম।’

—‘ রিফাত ভাইয়া, আপনাকে একটা কথা বলে রাখি—আমি কেমন, সেটা বাড়ির সবাই জানে। আপনাকে নিজের ভাই ব্যতীত অন্য কিছু কখনোই ভাবিনি। এত এক্সট্রা কেয়ার দেখানোর কোনো দরকার নেই।’

সুবহার কথা শেষ হয়েছে কিনা আনহা বলে উঠেছে তাকে।

—‘ তুই এই বিয়ে করবিনা আমি জানি সুবহা। কিন্তু অরণ্যের দিকে ভুলে নিজের খারাপ নজর দিবিনা।’

—‘ এতো ভয় কিসের আপু? তোর মধ্যে থাকা এই ভয় বার বার বুঝিয়ে দেয় তোদের দুজনের মধ্যে কিছুই নেই যা আছে সব লোক দেখানো। ’

আনহার চোখ মুখের অবস্থা দেখে হাসছে সুবহা। আনহার বিরক্ত লাগছে সুবহার এই হাসি হাতের কবজিতে টান দিয়ে বলছে।

—‘ তুই কি ভেবেছিস, হুট করে কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে অরণ্যকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিবি? এটা কখনোই হবে না!’

সুবহা এক ঝটকায় নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিল।

—‘ চ্যালেঞ্জ করছিস তুই? পরে কিন্তু কান্না করে কুল পাবিনা!’

আনহা আবারো কিছু বলতে যাবে তখনই কটমট কন্ঠে রিফাত আর আনহাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠেছে সুবহা। —--

—‘ ২য় বার পারমিশন ছাড়া আমার রুমে আসার সাহস দেখাবেন না। এই মুহুর্তে চলে গেলে ভালো হয়। ’

মুখের ওপরে এমন কথা বলে দেওয়ায় অপমানবোধ হলো রিফাতের কথা না বাড়িয়ে চলে গেল সুবহার রুম থেকে। কিয়ান এসেছে এই মাত্র, এখন ভাই বোন দুজন মিলে অপমান করবে আনহাকে সুবহার দিকে রাগী দৃষ্টিতে একবার তাকিয়ে সেও চলে গেছে রুম থেকে।

কিয়ান চিপস খাচ্ছিলো সুবহার দিকে চিপসের প্যাকেটটা বাড়িয়ে দিয়ে বলে।

—‘ চিপস খেয়ে মাথা ঠান্ডা কর।’

মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে সুবহার মাথায় হাত চেপেই কিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো।

—‘ চিপস খেলে মাথা ঠান্ডা হয়?’

—’ হ্যাঁ! এই স্পেশাল চিপসটা আমি বানিয়েছি খেয়ে দেখ মাথা ঠান্ডা না হলে বকুনি দিয়ে দিস।’

—‘ যাওতো ভাইয়া বিরক্ত করোনা।’

—‘ হুহ ভালো মানুষের দাম নাই এই জগতে। যাইহোক এখন বল শকুন দুইটা কেন এসেছিল?’

—‘ ওদের কথা ছাড়ো তুমি আমাকে বলো। তুমি কি আমার সাথে প্রতিদিন অফিসে যাবে? আমাকে কাজে সাহায্য করবে?’

সুবহার বলতে দেরি কিয়ানের রুম থেকে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে দেরি হয়নি। সুবহা কিয়ানকে আটকেছে কিয়ান না পেরে বসলো বেডে এটা সেটা বলে যাচ্ছে সুবহা। কিয়ান পাত্তা দিচ্ছেনা সে চিপস খেতে ব্যাস্ত।

বিজ্ঞাপন

———

সুবহাদের বাড়ির গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা কালো রঙের কার। গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ফোনে ঘাটছে অরণ্য। পাশেই তার আদ্রীশ বেচারাকে ফোন দিয়ে ডেকে এনেছে ভয়ে খাবার খেয়ে হাতটা পর্যন্ত ধুয়ে আসেনি। অরণ্যের কথা শুনে মনে হয়েছে কি না কি হয়ে গেলো। হসপিটালের এক সিরিয়াস পেসেন্টের দায়িত্ব ছিলো আদ্রীশের উপরে ওনার আবার যায় যায় অবস্থা এক নাগাড়ে এতো সময় হসপিটালে পড়ে থাকতেও ভালো লাগছিল না তাই এসেছিলো নিজের বাসায়। গোসলটা করে খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে বসেছে কিনা অরণ্য তাকে ফোন দিয়ে বলছে—

—‘ কি করেছিস তুই বজ্জাত? তাড়াতাড়ি এসে দেখে যা।’

—‘ কি..কি করেছি ভাই?’

—‘ করেছিস তো, বিশাল এক কাহিনী না আসলেই মিস। রাখলাম জানতে হলে চলে আসো আমার দেওয়া ঠিকানায়।’

সেইযে আসলো এখনও দাঁড়িয়ে আছে সুবহাদের গেইটের সামনে। আদ্রীশ ভালোই বুঝতে পারছে অরণ্যের মতলব। অরণ্যের কাজে সে কি চাইছে বুঝা মুশকিল এই দেখা যায় সুবহার প্রতি আকাশ সমান ঘৃণা এই আবার তার প্রতি ভালোবাসা। তবে অরণ্য যে কি পরিমাণ অবসেসড সুবহার প্রতি এটা এই দুই তিন বছরে ভালো ভাবেই জানা হয়ে গেছে আদ্রীশের। নইলে কি আর তাকে দেখার জন্য এতো রাতে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে! আদ্রীশের নিজের প্রতি মাঝেমধ্যেই রাগ হয় কেন সেদিন আনহার কথা ওমন বোকামি করতে গেলো। কতোবার বলতে চেয়েও ফিরে এসেছে সে শুধু বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে বলে।আদ্রীশ অরণ্যের কাঁধে হাত রাখলো জিজ্ঞেস করলো তাকে।

— ‘ তুই ঠিক কি চাইছিস অরণ্য?’

ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আদ্রীশের পানে তাকালো অরণ্য। চোখ মুখের রাগী ভাব সরিয়ে মুখে হাসি টেনে বললো—

—‘ আমি চাইছি খুব তাড়াতাড়ি আমার সন্টু-মন্টু সোনাদের পৃথিবীতে আনতে। এর জন্য আগে তাদের আম্মুকে পটাতে হবে, তারপর বিয়ে। দিনে তিনবার বাসর—এই কাজগুলো সারলেই না, মিশন সফল হবে।’

— ‘ মজা করছিস? তুই এখনো সুবহাকে আগের মতোই পছন্দ করিস এটা আমাকে বুঝাতে আসবিনা।’

অরণ্য প্রতিউত্তর করলোনা, রাগতো আছেই তার আপাতত দূরে সরিয়েই রেখেছে। সুবহাদের বাড়ির ভিতরে যেতে যেতে হাতের ফোনটা আদ্রীশের দিকে উড়িয়ে দিয়েছে সাথে সাথে লুফে নিয়েছে আদ্রীশ।

—‘ থাক এখানে, আমার লাভবার্ডের সাথে অর্ধেক বাসর করে আসছি। আমার বউয়ের চুল পাকনা ভাই বিরক্ত করতে আসলে পাছায় লাথি মেরে গাড়ির ডিকিতে ভরে দিবি।’

— ‘ এতো রাতে বাড়ির ভিতরে ঢুকবি কিভাবে তুই?’

অরণ্য বিরক্ত হলো বার বার তাকে ডাকায় মাথা ঘুরিয়ে আদ্রীশের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলো—--

—‘ অরণ্য দ্যা গ্রেট বয়, সব পারে। বলতে লজ্জা লাগলেও তোকে বলছি—শুন, আগের জন্মে আমি নামকরা ডাকাত ছিলাম। তুই ছিলি আমার একমাত্র চ্যালা, কালো মানিক। এসব দরজা-জানালা ভাঙা আমার কাছে ২ মিনিটের ব্যাপার। আমার ভক্ত হয়ে তুই আবার জিজ্ঞেস করছিস?’

— ‘ ক্ষমা করে দে ভাই যা তুই অর্ধেক বাসর সেড়ে আয় আমি পাহাড়া দিচ্ছি।’

—‘ এইতো ভালো ছেলে সুন্দর বউ পাবি দোয়া করে দিলাম।’

———

রাত প্রায় ১টা বাজে। কাগজপত্র, ফাইল সব টেবিলে, বিছানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে কাউচের উপর শুয়ে আছে সুবহা। অরণ্য রুমে ঢুকেই এদিকে-সেদিকে তাকিয়ে দেখলো। অরণ্যকে এখান পর্যন্ত আসতে কম কষ্ট করতে হয়নি। অনেক চেষ্টা করে তবেই এই অবধি এসেছে। এতো রাতে কেউ দেখে নিলে সত্যি সত্যিই তাকে ডাকাত বানিয়ে দিতে ২ মিনিট সময় নেবে না।

অরণ্যের চোখ আটকে গেল কাউচে শুয়ে থাকা সুবহার দিকে। ফর্সা মুখটাতে মাথার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পড়েছে। পরনে থাকা কালো রঙের টি-শার্টটা একটু বেশিই উপরে উঠে গিয়েছে, এতে করে সুবহার মসৃণ সুন্দর উদর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

অরণ্য এগিয়ে এসেছে সুবহার কাছে, হাঁটু গেড়ে বসেছে মেঝেতে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে দেখলো সুবহাকে। কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে তার; অরণ্য নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ হচ্ছে বারবার। ঘুমন্ত সুবহাকে কোলে তুলে নিয়েছে অরণ্য, বেডে শুইয়ে দিয়ে সুবহার ঠিক পাশটায় শুয়েছে সে। আঙুল দিয়ে সুবহার গোলাপি ঠোঁটে স্লাইড করে বলছে।

—‘ লাভবার্ড,ভেরি সুন আই উইল মেক ইউ ক্রাই উইথ দ্যা পেইন অফ মাই লাভ।’

মিনিট কয়েক কেটে গেছে, সুবহার মনে হচ্ছে কেউ তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে নিজের ঠোঁটের স্পর্শ এঁকে দিচ্ছে পুরো মুখ জুড়ে কিন্তু চোখ খুলে তাকানোর শক্তিটুকুও পাচ্ছেনা।

———

ভোর হতেই ঘুম ভেঙে গেছে সুবহার। আজকে তাড়াতাড়ি অফিসে যেতে হবে তাকে, কারোর সাথে দেখা করার আছে।সেই সকাল থেকে ফোন দিয়ে যাচ্ছে সাব্বির। তাড়াহুড়ো করে জামাকাপড় হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়েছে সুবহা। বেরিয়ে আসতেই টেবিলে রাখা একটা সুন্দর বক্স চোখে পড়লো তার বাহির থেকে দেখতে বক্সটা এতোটাই আকর্ষণীয় যে কারোর চোখে পড়লে ভিতরে কি আছে খুলে দেখতে চাইবে সুবহারও ইচ্ছে হলো দেখবে। টেবিলের কাছে গিয়ে বক্সটা খুলতেই চোখে পড়ে একটা সুন্দর ডায়মন্ড রিং। কিন্তু এটা এখানে আসলো কি করে? যতদুর মনে আছে সুবহা তো এটা কিনেনি নিজের জন্য। সুবহা ভাবছিল রিংটা তার রুমে আসলো কি করে, কিয়ান কি রেখে গেলো কালকে! ঠিক তখনই রুমে এসেছেন সুবহার আম্মু সুবহাকে ব্রেকফাস্টের জন্য ডেকে চলে গেলেন তিনি। সময় নেই এই রিংটা কোথা থেকে এসেছে পড়ে ভাববে সুবহা এখন তাকে যেতে হবে অফিসে।

———

অরণ্যের বাড়ি থেকে তার হসপিটাল বেশ খানিকটা দুরেই বলা চলে। তার ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে অন্য কোথাও গিয়েছে কোনো কাজে। এদিকে হসপিটাল থেকে অন্য ডক্টররাসহ পেসেন্টের বাড়ির লোক একের পর এক ফোন দিয়ে যাচ্ছে তাকে। অরণ্য খুবই বিরক্ত আক্কাসের কাজে ফোনটা তুলতেই হুংকার ছেড়ে বসে উঠেছে আক্কাসকে।

— ‘ কিরে ঝাক্কাছের বাপ আক্কাস এতো সময় লাগে আসতে?৫ মিনিটের মধ্যে না আসলে নিজ দায়িত্বে তোর বউকে নতুন ড্রাইভার কাশেমের সাথে বিয়ে দিবো।’

আক্কাস কাঁদো কাঁদো কন্ঠে জবাব দিয়েছে অরণ্যের কথার।

—‘ ত্রিশ মিনিটের রাস্তা আমি পাঁচ মিনিটে আসবো কিভাবে স্যার?’

— ‘ কিভাবে হাগু–মুতু করতে হবে এটাও আমাকে শিখিয়ে দিতে বল এখন!’

এই অপমান গায়ে মাখলোনা আক্কাস এমন কথা সে প্রতিদিনই শুনে ভয়ে ভয়ে আবারও বলেছে অরণ্যকে।

— ‘ এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে আসবো বলে দিলে উপকার হতো স্যার।’

—‘ দরকার পড়লে গাড়ির পিঠে পাখা লাগিয়ে বিমান বানাবি। তবুও তাড়াতাড়ি আয় বাপ। ভিজে মুরগীর মতো ভাব ধরিসনা এমন হলে, আমার বিয়ে করে বাচ্চা কাচ্চা হয়ে যাবে তবুও তোর দেখা মিলবেনা।’

অরণ্যের পাশে থাকা আদ্রীশ গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে অরণ্যের দিকে। এই ছেলের এমন কথাবার্তার আর পরিবর্তন হবে না—এই ভেবে মনে মনে হতাশ সে। ফোনটা কান থেকে সরিয়ে অরণ্য দ্রুত তাকিয়েছে আদ্রীশের দিকে। হঠাৎ এমন তাকানোর মানে বুঝল না আদ্রীশ। সে কি কোনো ভুল করলো? জিজ্ঞেস করতে যাবে অরণ্যকে, তখনই নাকটা উঁচু করে বলে উঠল অরণ্য।

— ‘ যেকোনো জায়গায় বায়ু দূষণ করার স্বভাব টা তোর গেল না।’

আদ্রীশের গালে থাকা হাতটা আপনা-আপনি সরে গেল। হা করে তাকিয়ে আছে সে অরণ্যের দিকে। এখন কি উত্তর দিবে অরণ্যের কথার?

—‘ তুই কি জীবনে ভালো হবিনা অরণ্য?’

—‘ আমি খারাপ ছিলাম করে রে?’

কথা বাড়ালোনা আদ্রীশ জানে ভালো করেই কিছু বললে এই অরণ্য পারলে বেচারার প্যান্ট খুলে হাতে ধরিয়ে দিবে।মান ইজ্জত শেষ করবে নিজের মুখের নাউজুবিল্লাহ মার্কা কথা দিয়ে।আদ্রীশ না বলে দুই হাত জোর করে বুঝালো এটা বলায় তার ভুল হয়েছে।

অরণ্য আবারো কাউকে ফোন দিয়েছে কথা বলছিলো তার সাথে তখনও খেয়াল করলো আদ্রীশ কেমন ড্যাব ড্যাব করে তার দিকে তাকিয়ে আছে তার দিকে।ফোনটা কান থেকে সরিয়ে আদ্রীশের কাধে হাত রেখে অরণ্য জিজ্ঞেস করলো তাকে।

—‘ মনে মনে আমাকে বকছিস তাইনা? আমি আগে থেকেই জানি তুই একটা মিনমিনে বজ্জার ছেলে।’

—‘ আমাকে আর কি কি উপাধি দেওয়া বাকি আছে ভাই?দিয়ে আমাকে ধন্য করো। ’

অরণ্য হাসলো আদ্রীশের কথা শুনে তবে বুঝতে দিলোনা এটা।

বিজ্ঞাপন
অন্তরালের প্রণয়িনী গল্পটি আফরোজা আঁখি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক গল্প