সুবহা উঠে চলে গেছে, পিছু পিছু গিয়েছে সাব্বিরও। রাইয়ান ছেলেটা তাকিয়ে আছে সুবহার যাওয়ার পানে। সুবহার ফোন আর রাইয়ানের ফোন দুটোই রাখা ছিল টেবিলে। হঠাৎই রাইয়ান খেয়াল করল, সুবহা ভুলবশত নিজের ফোনটা রেখে ওনার ফোন নিয়ে গেছে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওনার অ্যাসিস্ট্যান্টকে পাঠাতে চাইলো সুবহাদের ডাকতে, পরে আবার মনে হলো— নিজেই যাবে। উঠে চলে গেলো লোকটি। বাইরে আসতেই দেখতে পেল, সুবহার গাড়িটা এখনো রেস্টুরেন্টের পার্কিং এরিয়াতেই রয়েছে। তার মানে, আশেপাশেই আছে! খুঁজতে খুঁজতে পেয়েও গেলো সুবহাকে। রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে কারও সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছে সে। রাইয়ান অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে। মনে মনে বলল— ‘ হাসলে মেয়েদের এতো সুন্দর লাগে?’
প্রথম দেখাতেই রাইয়ান এই ম্যাচিউরড, সুন্দর মেয়েটার প্রেমে পড়েছে— পড়েছে তার সুন্দর কথার প্রেমে! কিন্তু প্রথম দিনই কাউকে নিয়ে এত কল্পনা-জল্পনা করা কি ভালো দেখায়? রাইয়ান আর কিছুই ভাবল না। ফোনটা নিয়ে এগিয়ে গেলো সুবহার দিকে।
সুবহা একটু বিরক্তই হলো। প্রথম দেখাতেই লোকটার এমন গায়ে পড়া ভাব তার ভালো লাগছে না। পরে যখন দেখল, ও তার ফোন নিয়ে এসেছে, মনে মনে আবার খারাপ লাগল নিজের ভুলভাল ভাবনায়।
কথা বলে ফোনটা সুবহাকে দিয়ে রাইয়ান চলে যেতে নিচ্ছিল। রোডের মাঝখানে আসতেই হঠাৎ কোথা থেকে একটা গাড়ি দ্রুত এসে খুব কাছ ঘেঁষে চলে গেলো! আঘাত লেগেছে রাইয়ানের। ছিটকে গিয়ে কিছুটা দূরে পড়ে গেলো সে। পাকা রাস্তায় পড়ে হাত-পা ছিলে গেছে, মাথা খানিকটা ফেটে গেছে ছেলেটার।চোখের সামনে এমন ঘটনা দেখে স্তব্ধ সুবহা। চিৎকার দিয়ে উঠল সে। সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের মানুষ জড়ো হয়ে গেলো সেখানে।
গাড়ির ড্রাইভিং দিটে বসে থাকা অরণ্যের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে আদ্রীশ। পিছনে তাকিয়ে আবার অরণ্যের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলে ভয়ে ভয়ে বলল—
— ‘ কি..কি করলি ভাই তুই এটা? '
আদ্রীশের প্রশ্নে অরণ্য সোজাসাপ্টা উত্তর দিলো —
—‘ আমার পোষা পাখিটার দিকে নজর দিয়েছে ওই শালার চোখ দুটো উ'গড়ে নেইনি এই অনেক। ’
— ‘ তাই বলে একটা ভালো, সুস্থ-সবল মানুষকে আধমরা বানিয়ে রেখে আসবি? লোকটার খারাপ কিছু হয়ে গেলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবি তুই?’
অরণ্য ঘাড় কাত করে আদ্রীশের দিকে তাকিয়ে বলল—
— ‘ হাঁসের মতো পকপক না করে চুপ থাক। বেশি কথা বললে প্রাইভেট পার্টে লাথি মেরে ছেলের মুখে আব্বা ডাক শুনার শখ গুছিয়ে দিবো। ’
আদ্রীশ কথা বললোনা আর চুপচাপ বসে রইল সে মনে মনে ভাবছে —‘ এই ছেলেটাই কি একটু আগে তার পেসেন্টের পরিবারকে বুঝালো ডাক্তার হিসেবে তার সব অসুস্থ মানুষের পাশে থাকা উচিত। ’ এদিকে একটা সুস্থ মানুষকে মুহূর্তেই আধমরা বানিয়ে রেখে আসলো! অরণ্যের কথায় আর রিয়েক্যাশনে তখনই বুঝেছিল আদ্রীশ খারাপ কিছু হবে কিন্তু অরণ্য এমন একটা কাজ করবে কল্পনাতেও ছিলোনা তার।
———
ভিড় ঠেলে সুবহা এক্সিডেন্টের জায়গাটায় গেল। চোখের সামনে এমন রক্তের বন্যা দেখে মাথা ঘুরছে তার। কিছুক্ষণ আগেই যে সুস্থ-সবল মানুষটার সঙ্গে কথা বলল, তার এখন এই অবস্থা?
রাস্তায় পড়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছে মানুষটা। মনে মনে গভীর অনুশোচনা হলো সুবহার— তার জন্যেই তো রাইয়ান এখানে এসেছিল! কিছুটা হলেও এই এক্সিডেন্টের জন্য সে দায়ী।
আশেপাশে একটাই ভালো হাসপাতাল আছে। সুবহা ভাবল, রাইয়ানকে সেখানেই নিয়ে যাবে। সাব্বির আর রাইয়ানের অ্যাসিস্ট্যান্টের সাহায্যে গাড়িতে তুলল তাকে।
কিছু দূরেই ‘ইভার কেয়ার হসপিটাল’ নামে বড় একটি হসপিটাল আছে। সেখানেই নিয়ে এসেছে রাইয়ানকে। কিন্তু এখানে এসে আরেক ঝামেলা— ডাক্তারদের অনেকেই লাঞ্চে! রাইয়ানের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে, জুনিয়র ডাক্তাররা ট্রিটমেন্ট করতেও ভয় পাচ্ছে। বিরক্ত হয়েই সুবহা সিনিয়র ডাক্তারদের ফোন দিতে বলল। অনেকক্ষণ হয়ে গেছে, সবাই অপেক্ষা করছে।
বিরক্ত হলো সুবহা রেগে বলল—
—‘ এতো বড় হসপিটালে কি ডাক্তারের অভাব পড়েছে? আমার পেসেন্টের কিছু হলে আপনাদের ছেড়ে দিবোনা কিন্তু। ’
—‘ ম্যাম আরেকটু অপেক্ষা করুন স্যার আসছেন।’
ছেলেটার এমন কথা পছন্দ হলোনা সুবহার সাব্বিরের দিকে তাকিয়ে বললো —--
—‘ সাব্বির ভাইয়া, ওনাকে নিয়ে চলো! এভাবে অসুস্থ পেশেন্টকে ফেলে রাখা চলবে না। আর আপনাদের হাসপাতাল অথরিটির কাছেও আমি কমপ্লেইন করছি— এতো বড় একটা হাসপাতালের ডাক্তাররা এতোটা দায়িত্বজ্ঞানহীন কীভাবে হতে পারে?’
সুবহার কথাটা শেষ হতেই কেউ বলে উঠেছে।
— ‘ লাভবার্ড তুমি টেনশন করবে আমার জন্য যার তার জন্য টেনশন করে চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল ফেলছো কেন? ’
চিন্তার সময় এমন কথা শুনে বিরক্ত হলো সুবহা পাশ ফিরে তাকালে দেখতে পেলো গায়ে এপ্রোন আর গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলানো অরণ্যকে। অরণ্যকে দেখা মাত্রই সাব্বির সুবহার পাশ থেকে সরে গিয়ে কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়েছে। অরণ্যের ঠোঁটের কোণে হাসি সুবহার দিকে তাকিয়েই পাশে থাকা আদ্রশীকে বলেছে ইমিডিয়েটলি রাইয়ানের ট্রিটমেন্ট শুরু করতে। অরণ্যও চলে যাচ্ছিলো যেতে যেতে আবারো তাকাল সুবহার দিকে।সুবহার চিন্তিত মুখ দেখে মনে মনে বলছে অরণ্য।
—‘ এইটুকু দেখেই ঘাবড়ে গেলে লাভবার্ড? তোমার দিকে যে হাত বাড়াবে, তার হাতটাই কেটে ফেলবো আমি। ‘
অরণ্যের ঠোঁটে হাসি খেলে গেল বিরবির করে বলল —--
’ অন্যের শান্তি দেখে এভাবে ভয় পেয়ে যাচ্ছ? আমাকে ছেড়ে যাওয়ার অপরাধে তোমাকেও যে শাস্তি পেতে হবে। আমাকে যেভাবে পুড়িয়েছ আমিও তোমাকে পুড়াবো সেভাবে। জাস্ট ওয়েট আ ফিউ মোর ডেইস। —--
ঠিক তখনই সুবহা চোখ তুলে তাকায় অরণ্যের দিকে। চোখ-মুখের গম্ভীর ভাব সরিয়ে হাসলো অরণ্য , তারপর সুবহার দিকে একটা ফ্লাই কিস ছুঁড়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
সুবহা হাবাগোবার মতো তাকিয়ে থাকে অরণ্যের যাওয়ার দিকে। এই ছেলের এমন ব্যবহারের কারণ খুঁজে পায় না সে।এই যে কখনো কখনো এমনভাবে সুবহার দিকে তাকায়, মনে হয় তার প্রতি দীর্ঘদিনের জমে থাকা রাগ আর তীব্র ঘৃণা রয়েছে। পরক্ষণেই আবার হাসিমুখে এত ভালোবাসা জড়িয়ে তাকে, ‘লাভবার্ড ’ বলে ডাকে! তখন সুবহারও ইচ্ছে করে নিজের শক্ত খোলস থেকে বেরিয়ে এসে নিজেও অরণ্যকে ভালোবাসি বলতে।
কিন্তু সে আটকা পড়ে যায়— নিজের মনের কাছে, পরিস্থিতির কাছে!
—‘ ম্যাম, আমি এখানে আছি, আপনি বাসায় চলে যান ড্রাইভার নিয়ে। অনেকক্ষণ তো হলো!’
সাব্বিরের ডাকে ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এলো সুবহা। চিন্তার মাঝে সামান্য হাসলো; এই সাব্বির ছেলেটার সঙ্গে কোনোভাবেই গম্ভীর হয়ে কথা বলতে পারে না সুবহা।
—‘ সাব্বির ভাইয়া, আমি বয়েসে আপনার থেকে অনেকটাই ছোট হবো। ছোট বোনের মতো নাম ধরেই ডাকবেন আমাকে যেভাবে কিয়ান ভাইয়া ডাকে।’
সাব্বির হেসে মাথা নাড়ালো। সুবহা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই মনে পড়লো তখনকার ঘটনাটা। মাথায় এলো কিয়ান আর কিরণের ব্যাপারটা। ভাই তো তার খুবই জেদি, হয়তো বাসায় গিয়ে রাগে সব জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছে। সুবহা কিছু একটা ভেবে সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়লো।
রাইয়ানের ট্রিটমেন্ট চলছিল, আর এদিকে সুবহাদের পাশেই চিন্তিত মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল রাইয়ানের অ্যাসিস্ট্যান্ট ছেলেটা। তার সঙ্গে কথা বলে বুঝলো সুবহা, দেশে আপন বলতে কেউ নেই রাইয়ানের। রাইয়ান পরিবারসহ থাকতো কানাডায়। এখানে এসেছে মাস তিনেক হবে। বাংলাদেশে তার বাবার বিজনেস ছিল, অবশ্য সেটা সামলাতেন রাইয়ানের চাচা। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ায় আসতে হলো রাইয়ানকে। সুবহার কেমন মায়া হলো সবটা শুনে। যত যাই হোক, ছেলেটার এই অবস্থার জন্য একটু হলেও দায়ী সে। সাব্বিরকে চলে যেতে বলে থেকে গেল সুবহা। যতক্ষণ না রাইয়ানের জ্ঞান ফিরছে, সে এখানেই থাকবে।
নিজের কেবিনের দরজার আড়াল থেকে কেউ একজন আড়চোখে দেখছে সুবহাকে। কপালে ভাজ পড়েছে তার, হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছে। চোখ-মুখে রাগের ছাপ। এই রাগের কারণ তো অবশ্যই আছে! সুবহা ভাববে অরণ্যকে নিয়ে, স্বপ্ন সাজাবে তাকে ঘিরে, অন্য কারও জন্য এত মায়া থাকবে কেন তার লাভবার্ডের? অরণ্যের ভালো লাগলো না বিষয়টা।
হাসপাতালের করিডোরে পাতানো সোফাটায় বসে আছে সুবহা। অরণ্যের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিল বটে, তবে কথা হয়নি। ডাক্তার মানুষ, ব্যস্ত থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তাই অপেক্ষা করছে সুবহা। বাসা থেকে তার আম্মু আর চাচি বারবার ফোন দিয়ে যাচ্ছেন। ইচ্ছে করেই ফোন ধরেনি সে। ধরলেই হাজারটা প্রশ্ন ছুড়ে দেবেন তারা সুবহার দিকে। এদিকে, রাইয়ানের অ্যাসিস্ট্যান্ট বেচারার খুব খিদে পেয়েছে। আর কতক্ষণ এভাবে থাকবে! সুবহা নিজেই তাকে যেতে বললো ছেলেটা খুশি হলো খুব পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আসছি বলে চলে গেলো।
চারপাশে হালকা শীত পড়েছে। দিনের আলো কেটে গিয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। সুবহা সেখানেই বসে আছে। সারাদিনের ক্লান্তিতে কখন যে চোখ লেগে গেছে বুঝতেই পারেনি সে।
ঘুম ভাঙলে নিজেকে অন্য একটা জায়গাতে আবিষ্কার করে সুবহা আশেপাশে তাকিয়ে বুঝতে পারে এটা কোনো ডাক্তারের কেবিন উঠে গিয়ে টেবিলটার দিকে তাকাতেই পরিচিত ছবি তার নাম দেখতে পায় বুঝতে বাকি নেই এটা অরণ্যের কেবিন। কিন্তু এখানে সে আসলো কিভাবে? যতদূর মনে আছে করিডরে পাতানো সোফাটাতেই বসে ছিলো। ফোনটা হাতে নিলে দেখতে পায় বাড়ির সবার নাম্বার থেকেই কম বেশি অনেকগুলো কল এসেছে। সাব্বির ফোন দিয়েছে অনেকগুলো না পেয়ে মেসেজ করেছে, মেসেজ চেক করে বুঝলো সুবহা। সাব্বির আবারও নিতে এসেছে তাকে দাঁড়িয়ে আছে হসপিটালের বাহিরে। সুবহারও মনে হলো এখন তার যাওয়া উচিত। রাইয়ানের হয়তো এতো সময়ে জ্ঞান ফিরে এসেছে তবে আজকে আর দেখা করবেনা। সুবহা উঠে চলে যেতে নিলেই মনে পড়লো যে কারণে আর যার জন্য এতো সময় অপেক্ষা করলো তারই তো দেখা পেলোনা। আবারও বসে পড়ল সে, হাত দিয়ে ব্যাগটা খুঁজতেই চোখে পড়লো একটা চিরকুট, মেলে ধরলো চোখের সামনে।
—‘আমার দেওয়া কালো শাড়িটা পরে ব্ল্যাক রোজ সেজে নদীর পাশে আসবে। অপেক্ষা করবো আমি। তুমি আসবে,আমি জানি।’
সুবহা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে চিরকুটটার দিকে। অরণ্যের দেওয়া কালো শাড়ি মানে? সেদিন মনে হয়েছিল, একটা শপিং ব্যাগ বাড়তি এসেছে তাদের সাথে। রুমে গিয়ে আবার দেখেও ছিল সুবহা, কিন্তু কোনোভাবেই মনে করতে পারছিল না—শাড়িটা সে কখন কিনেছে! তাহলে কি ওই শাড়িটা অরণ্যই রেখেছিল সুবহার গাড়িতে?
———
ড্রয়িং রুমে পাতানো সোফায় আধশোয়া অবস্থায় পড়ে আছে অরণ্য। হাতে থাকা রিমোট দিয়ে বারবার টিভির চ্যানেল বদলাচ্ছে। কিরণ এসে সামনে দাঁড়িয়ে পড়তেই বিরক্ত হলো অরণ্য। ধমক দিয়ে সরে যেতে বললেও কিরণ শুনল না।
ভাইয়ের হাতে থাকা টিভির রিমোটটা কেড়ে নিয়ে টিভি অফ করে দিল কিরণ। সঙ্গে সঙ্গে সোফার কুশন কিরণের দিকে ছুড়ে মেরে অরণ্য বলল —--
—‘ কির করলি এটা? এই জন্যই তোকে বিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বিদেয় করতে চাচ্ছি।’
—‘ আমি থাকলে তোমাদের খুব সমস্যা হয়ে যাচ্ছে তাইনা ভাইয়া? বিদেয় করে দিতে হবেনা আমি নিজেই চলে যাবো।’
বোনের এমন অভিমানী কথায় বুকের ভেতরটায় কেমন কষ্ট হলো অরণ্যের, কিন্তু বুঝতে দিল না কিরণকে। তখনই রান্নাঘর থেকে এলেন অরণ্যের আম্মু, জাহানারা সুলতানা। একই সময়ে নিচে নামলেন অরণ্যের আব্বুও। কিরণ সকাল থেকেই কিছু খায়নি, হয়তো অরণ্যের জন্য অপেক্ষা করছিল। জাহানারা সুলতানা ছেলে-মেয়েকে খাবারের টেবিলে ডাকলেন। সবকিছু গোছগাছ করেই রেখেছেন তিনি, অপেক্ষা করছিলেন ছেলে আর তার বাবার জন্য।
কিন্তু কিরণ রাগ দেখিয়ে খাবে না বলে দ্রুত তার রুমে চলে গেল। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই মেয়ের রাগ টের পেলেন। কথায় আর কাজে বোঝাই যাচ্ছে, সকাল থেকেই সে রাগে আছে সবার ওপর।
জাহানারা সুলতানা ছেলের কাছে এসে কটমট করে তাকিয়ে কঠিন কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন তাকে।
—‘ এখনি কিরণের বিয়ে দেওয়ার কি খুব বেশি দরকার ছিলো অরণ্য। ’
—‘ আম্মু ও আগের ছোট্ট কিরণ নেই এখন। আর বিয়ে তো একদিন হবেই ছেলে সুন্দর,ভালো জব করে ইঞ্জিনিয়ার সে,সবার তাকে দেখে ভালো লেগেছে বলেই আমি আসতে বলেছি।’
—‘ একটু বেশিই তাড়াহুড়ো হয়ে যাচ্ছেনা? নিজের বিয়ে করার নাম নেই বোনকে বিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছিস।’
—‘ নিজের বিয়ের কাজটা এগুতেই তো বোনের বিয়ের আয়োজন করলাম।’
অরণ্যের শেষের কথাটা শুনেননি তার আম্মু এর আগেই তিনি চলে গেছেন সেখান থেকে।
অরণ্যের খাওয়া শেষ হলে প্লেটে খাবার নিয়ে উপরে চলে গেছে। তার বাবা মা দুজনেই তাকিয়ে আছেন ছেলের যাওয়ার দিকে।অরণ্যের আব্বু অলিউর রাহমানের ঠোঁটের কোণে হাসি ছেলের মতলব একটু হলেও আন্দাজ করতে পারছেন তিনি।