চারিদিকে সুন্দর আবহাওয়া, বাতাসের বেগ বেড়েছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গাছপালাগুলো দুলছে। সুবহা আর অরণ্য পাশাপাশি হাঁটছে। সামনেই নদী, এই সুন্দর পরিবেশে নদীর পাড়ে হাঁটতে ভালোই লাগছে সুবহার। আশেপাশে কয়েক জোড়া কাপল দেখতে পাচ্ছে সে, বারবার না চাইতেও চোখ চলে যাচ্ছে তাদের দিকে। আচমকাই অরণ্যের গম্ভীর কণ্ঠে থমকে গেল সুবহা। তাকালো তার পানে। চোখ-মুখ কুঁচকে অরণ্য বলল —--
—‘ পাশে টসটসে সুস্বাদু পাকা আম থাকতে কাঠালের বিচি গুলোর দিকে বারবার তাকাচ্ছো কেন লাভবার্ড?’
—‘ এ্যা!’
— ‘ এ্যা নয়, হ্যাঁ। আমার দিকে চোখ পড়ে না কেন তোমার? আমি কত সুন্দর, স্ট্রবেরির মতো কিউট দেখতে, তরতাজা অবিবাহিত একটা যুবক! ’
কিছুক্ষণ হাবাগোবার মতো তাকিয়ে থাকার পর বুঝলো সুবহা— “ টসটসে পাকা আম আর স্টবেরি। ” বলতে অরণ্য আসলে নিজেকেই বুঝিয়েছে। কিছুক্ষণের জন্য সুবহা সব মান-অভিমান ভুলে গেলো,মাথা থেকে সরে গেল অতীতের কথা। তাই তো অরণ্যের কথা শুনে এখন হাসছে সে। কেউ একজন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সুবহার দিকে, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তাকে। এই মেয়েটার ঘায়েল করা হাসিতে অনেক আগেই ফেঁসে গেছে অরণ্য। এই হাসিতে কি জাদু আছে? মুহূর্তেই তার মন ভালো করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা রাখে সুবহার মায়াবী মুখের মিষ্টি হাসি। অরণ্য মুগ্ধ হয়ে দেখছে সুবহাকে। বিষয়টা চোখে পড়লো তার। এখন কেমন অস্বস্তি হচ্ছে সুবহার। সে হাসি থামিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। ঠিক কত দিন পর সুবহা মন খুলে হাসল, জানা নেই এটা! সুবহা সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে শুরু করল। অরণ্য পথ আটকাল তার। সুবহার দিকে আঙুল উঁচিয়ে হেসে বলল—
—‘ লাভবার্ড তুমি হেসেছো?’
মাথা নাড়িয়ে জবাব দিলো সুবহা —--
—‘ কই না তো! হাসিনি আমি।’
অরণ্য সুবহার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো তার সাথে তাল মিলিয়ে হাটছে আর বলছে।
—‘ উহু, তুমি হেসেছ।’
সুবহা ভ্রু কুঁচখে তাকাল অরণ্যের পানে। অরণ্যের কথা শুনে তার এমন মনে হচ্ছে হেসে বিশাল ভুল করে ফেলেছে সে। গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করল অরণ্যকে।
—‘ হেসেছি তো কি হয়েছে? ’
—‘ হাসলে মানেই তো তুমি আমার প্রেমে ফাঁসলে। ’
অরণ্যের আজাইরা লজিক শুনে কি বলতে চেয়েছিল, সেটাও ভুলে গেছে সুবহা। চুপচাপ রইল সে, আর কিছু বলল না।ছোট-বড় সাদা পাথর ছড়িয়ে আছে নিচে, তার ওপর দিয়ে হাঁটছে সুবহা আর অরণ্য। পায়ে থাকা হিলটা বড়ই বিরক্ত করছে সুবহাকে। উঁচু-নিচু জায়গা আর নিচে পড়ে থাকা পাথরের জন্য হোঁচট খেয়ে প্রায় পড়েই যাচ্ছিল সে, অরণ্য তখনই ধরে ফেলল তাকে। সুবহার হাতদুটো আপনা আপনি চলে গেল অরণ্যের বুকে। নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে অরণ্যের দিকে। অরণ্য দ্রুত এগিয়ে এলো সুবহার কাছে।তার মুখের গরম শ্বাস পড়ছে সুবহার চোখ-মুখে। অস্বস্তিতে পড়ে সুবহা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলো অরণ্যকে। কিন্তু অরণ্য এখনো সেই আগের মতোই নেশালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রেয়সীর মায়াবী মুখ পানে। সুবহার পরনে থাকা অরণ্যের দেওয়া শাড়িটা মানিয়েছে তাকে খুব। বাতাসে সুবহার মাথার চুলগুলো চোখে মুখে এসে পড়ে বিরক্ত করছে তাকে। সুবহার চোখে মুখে আসা চুলগুলো অরণ্য ফু দিয়ে সরিয়ে দিলো; বিড়বিড় করে মনে মনে আওড়ালো —‘ আমার ব্ল্যাকরোজ।’ পরক্ষণেই ঠোঁটের কোণে জমে থাকা এক চিলতে হাসি নিয়ে অরণ্য বলল —--
—‘ ডু ইউ নো লাভবার্ড? তোমাকে সদ্য ফোটা ফুলের মতোই স্নিগ্ধ আর সুন্দর লাগছে। ’
অরণ্যের কথাটা শুনে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল সুবহা তার দিকে। অরণ্যের প্রশংসা শুনে মনটা খুশি হয়ে গেছে মুহূর্তেই। পরক্ষণেই আবার মনে হচ্ছে সে ভুল করছে। অরণ্যের প্রশংসা পেয়ে সে এতো খুশি হচ্ছে কেন? কথাটা ভাবতেই মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো সুবহার। এদিকে অরণ্যের ঠোঁটে দুষ্টুমিতে ভরা হাসি। কিচ্ছুক্ষণ থেমে আবারও বললো অরণ্য —-- ‘ ইচ্ছে করছে এক্ষুনি খেয়ে দেই। ’
সুবহা ভ্রু কুঁচখে রেগে তাকিয়েছে অরণ্যের দিকে। অরণ্যের বুকে হাত দিয়ে ঘুষি মেরে বলছে রেগেমেগে।
—‘ কিহ! কি বললেন এক্ষুনি আপনি?’
—‘ আরে রেগে যাচ্ছ কেন? আমি তো চুমু খাওয়ার কথা বলেছি।কিসিং ইজ নট ব্যাড।’
অরণ্যের বলা কথাটা পছন্দ হলোনা সুবহার এবার রেগে গেছে আরো। আশপাশের সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। ভ্রু জোড়া কুঁচকে অরণ্যের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল সুবহা, —--
—‘ ছাড়বেন না কেলানি খাবেন? আমি কিন্তু মারধর করতে এক্সপার্ট। ’
—‘ ভালো করে দেখো, নিজেই তো ছাড়তে চাইছোনা আমাকে।’
অরণ্যের কথা শুনার পর লক্ষ্য করলো সুবহা সত্যিই তো! অরণ্য আগেই ছেড়ে দিয়েছে তাকে কিন্তু সুবহা আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে এখনো তার বুকে হাত দিয়ে। বুঝা মাত্রই সুবহা তাড়াতাড়ি সরে গেলো অরণ্যের থেকে। সুবহা কিছু বলতে গেছে অরণ্য তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে —--
— ‘ লাভবার্ড তোমার ঠোঁটের লিপস্টিকের কালারটা অনেক সুন্দর তখন থেকেই আমার টেস্ট করতে ইচ্ছে করছে।করবো? ’
অরণ্যের মুখের নির্লজ্জ কথাগুলো শুনে তার প্রতি রাগ তিরতির করে বেড়ে গেল সুবহার। আবার নিজের বোকামিতেও লজ্জা লাগছে তার। কথা না বলে দাঁত কটমট করে দাঁড়িয়ে রইল সুবহা সেখানেই। অরণ্য হয়তো বুঝতে পেরেছে সুবহার লজ্জা পাওয়ার কারণ। তার বলা কথাগুলো শুনে যে সুবহা রেগে গেছে, এটাও জানে ভালো করে। সুবহার আর এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগছে না। যে কাজে এসেছিল, সেটা হবে না—এটা বুঝে গেছে। অরণ্য তাকে ডেকেছে শুধু এসব কথা শোনানোর জন্যই। সুবহা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই অরণ্য তার হাত ধরে ফেলল। ইনোসেন্ট মুখ করে বলল, আর এমন কথা বলবে না। সুবহা তো অবাক! অরণ্য ভুল করেছে বলে ক্ষমা চেয়ে বলছে, আর এমনটা হবে না! এটা শুনে যে কেউ অবাক হবে। অরণ্যের কথা শুনে সুবহার মনে হলো, যেন ভূতের মুখে রাম রাম শুনছে সে!
পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা পাচ্ছে সুবহা এরকন জায়গায় উঁচু হিল পড়ে আসাটাই উচিত হয়নি তার। চোখ মুখ কুঁচখে তাকাচ্ছে বার বার পায়ের দিকে পা টা কেমন লালচে বর্ণ ধারণ করেছে তার। সুবহাকে দাঁড়াতে বলে অরণ্য হাটু গেড়ে বসেছে নিচে। কিচ্ছুক্ষণ পরেই সুবহা খেয়াল করলো অরণ্য তার পায়ে হাত দিয়েছে। আচমকা এমন হওয়ায় বেশ চমকালো সে।
—‘ কি করছেন এসব! পায়ে হাত দিয়েছেন কেন? ’
অরণ্য মুখ তুলে তাকালো সুবহার দিকে, ঠোঁটে আঙুল চেপে তাকে ইশারা করল চুপ থাকতে। বাধ্য মেয়ের মতো চুপ করে গেল সুবহা। অরণ্য সুন্দরভাবে সুবহার পায়ের হিল খুলে হাতে নিলো। উঠে দাঁড়িয়ে সুবহার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো। কি যেন ভেবে সুবহা অরণ্যের হাতটা ধরে নিলো। কিছুদূর যেতেই মনে হলো, সে ভুল করছে। নিজের বোনের হবু বরের প্রতি এত টান কিসের তার? এমন বশীভূত মন্ত্রের ন্যায় অরণ্যের বলা প্রতিটি কথা শুনে যাচ্ছে কেন সে? নিজের উপরেই নিজের রাগ হলো সুবহার। এসেছে তো ভাইয়ের সমস্যার সমাধান করতে! আবারও ভুল করছে সুবহা। আজকে এমন হচ্ছে কেন? কেনই বা সে অরণ্যের প্রতি এতোটা দূর্বল হয়ে পড়ছে? মাথায় কাজ করছে না সুবহার। পুরো মন-মস্তিষ্ক জুড়ে অরণ্যের নামই ঘুরছে তার। কেন হচ্ছে এমন? সুবহাকে চলে যেতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
———
মুক্ত বাতাস, খোলামেলা আকাশের নিচে নৌকায় বসে আছে সুবহা আর অরণ্য। আজকে সুবহার খুব ভালো লাগছে। কতদিন পরে সে নিজের দেশে ফিরেছে। কাছের মানুষ আর পরিচিত জায়গাগুলোকে মিস করেছে এতদিন।অরণ্য এতক্ষণ ধরে তাকিয়ে আছে সুবহার দিকে, এটা খেয়াল করেছে সুবহা। মনে হলো এবার কথা বলা দরকার তাকে যে চলে যেতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। কিন্তু কি বলে কথা শুরু করবে এটাই বুঝতে পারছে না সে। অরণ্যও তেমন এখনো পর্যন্ত জিজ্ঞেস করলোনা সুবহা কি বলতে এসেছে এখানে। না,তাকেই আগে কথা শুরু করতে হবে। এই ভেবে নিজেকে স্বাভাবিক করে অরণ্যের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে সুবহা —--
—‘ কি বলতে ডেকেছেন? ’
—‘ কি বলতে এসেছো তুমি? ’
কোনোরূপ বনিতা না করে সোজাসাপ্টা উত্তর দিলো সুবহা।
—‘ ভাইয়া কিরণকে পছন্দ করে। ’
— ‘ তো? ’
—‘ শুনলাম আপনি ওর বিয়ে ঠিক করেছেন অন্য কোথাও। ’
—‘ হ্যাঁ, ছেলে আমার পছন্দের কিরণের সাথে মানাবে ভালো। ’
—‘ ভাইয়ার পাশেও কিরণকে মানাবে ভালো। যদি বলি কিরণের বিয়েটা ভেঙে দিয়ে আমার ভাইয়ার হাতে তাকে তুলে দিতে,দিবেন? ’
অন্যদিকে তাকিয়ে হাসলো অরণ্য, বিড়বিড় করে বলল — ‘এইটাই তো চাইছি এতো সময় ধরে।’ —-- সুবহার কাছে গেলো অরণ্য; কানের কাছে গিয়ে ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে ফিসফিস করে বলল তাকে।
—‘ আমার পাশেও তোমাকে ভালো মানায়।আমাকে বিয়ে করবে লাভবার্ড?’
অরণ্যের কথা কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই তড়িৎ ঘতিতে তার দিকে তাকালো সুবহা। নজরে আসলো অরণ্যের মুখের সেই পাগল করা সুন্দর হাসি। যে হাসির প্রেমে পড়তে বাধ্য সবাই। নিজেকে সামলে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো সুবহা।
—‘ মানে! কি বলতে চাইছেন আপনি? ’
—‘ বিয়ে করবো আমরা। ভালোবাসা দিবো তোমাকে। তারপর আর কি! আমার সন্টু মন্টু সোনারা ডাউনলোড হবে। ’
কথাটা বলা শেষ করেই সুবহার কানের কাছে গিয়ে আবার বলেছে অরণ্য। ‘ রাজি থাকলে হ্যাঁ বলো আজকেই কাজী ডেকে বিয়ে করে নিব। ’
অরণ্যের এমন ফাজলামো ভালো লাগছেনা সুবহার, রাগান্বিত কন্ঠে বলল —--
—‘ এই জন্মে আমি আপনাকে বিয়ে করছিনা। ’
ততসময়ে নৌকা পাড়ে চলে এসেছে, সুবহা কোনো মতে নেমে গিয়েছে। কেন যেন হুট করেই রাগ চড়ে গিয়েছে মাথায়। অরণ্য সুবহার থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছে।
—‘ ঠিক আছে তাহলে! তোমার অকর্মা ভাইয়ের সাথেও আমার সোনার টুকরো বোনের বিয়ে দিবনা এই জন্মে।’
সুবহা ঘুরে তাকাল, অরণ্যের কাছে গিয়ে রেগেমেগে বলল —--
—‘ আমিও দেখে নিব আপনি কিভাবে আমাকে আটকান। আমি তো ওদের বিয়ে দিয়েই ছাড়ব।’
—‘ পারবেনা লাভবার্ড, তুমি বরং আমার কথা শুনে আমার সাথে বিয়েটা করে নাও বাচ্চার মুখে আব্বু ডাক শুনার জন্যই বেঁচে আছি আমি। তুমি আমার সাথে বিয়ে করতে রাজি হলেই আমার বোনকে তোমার ভাইয়ের হাতে তুলে দিব।’
—‘ এটা হয়'না। ’
—‘ কেন হয়'না? ’
—‘ ওরা একে অন্যকে পছন্দ করে। ’
—‘ আমিও তোমাকে পছন্দ করি। ’
—‘ আমি করিনা। ’
—‘ বিয়ে করে নাও। জাস্ট দুইদিন তারপর আমার ভালোবাসায় পাগল হয়ে যেদিকে তাকাবে শুধু আমাকেই দেখবে।’
—‘ কাকে কি বলছেন আপনি? লাগাম ছাড়া ঘোড়া! মুখে লাগাম টানুন।
সুবহা চলে যেতে চাইলে তার হাত ধরে নেয় অরণ্য একটানে নিজের কাছে নিয়ে আসে তাকে। রেগে কিছু বলতে গেলে নিজের আঙুল দিয়ে সুবহার ঠোঁট চেপে ধরে বলে —--
—‘ তুমি দিন দিন বুড়িদের মতো কিটকিটে মেজাজের হয়ে যাচ্ছো। কেন জানো? আমার আদরের অভাবে। একবার আমার কাছে এসে দেখো, আমার আদর হোমিওপ্যাথিক ডোজের মতো কাজ করবে। তখন খালি মিষ্টি মিষ্টি কথা আসবে মুখ দিয়ে।’
রাগে সুবহা দাঁত কটমট করে তাকিয়েছে অরণ্যের দিকে। হঠাৎই কানে আসলো পরিচিত কন্ঠ। সুবহা তাকালো সেদিকে; অরণ্যের সব মনোযোগ সুবহার দিকে এখন যদি ভুমিকম্পও হয়ে যায় সে টের পাবেনা এই অবস্থা। কিরণ আর কিয়ান দাঁড়িয়ে আছে সুবহাদের ঠিক সামনে। কিরণ হাঁ করে তাকিয়ে আছে ভাই আর বান্ধবীর দিকে। এখনো আগের অবস্থাতেই আছে দুজনে সুবহা ছুটতে চাইলেও শক্ত করে তাকে ধরে রেখেছে অরণ্য রাগে রাগমিশ্রিত কন্ঠে বলেছে সুবহা —--
—‘ নির্লজ্জ লোক, ছাড়ুন আমাকে।’
—‘ আগে বলো আমার সন্টু মন্টু সোনাদের আম্মু হবে?’
—‘ হবোনা, কি করবেন? ’
—‘ বিয়ের জন্য অপেক্ষা না করে,বাসর করে ফেলব আজকেই।’
চোখ বন্ধ করে বড় বড় শ্বাস ফেলছে সুবহা রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে সে। অরণ্যের কথাগুলো শুনে গালে টাস টাস করে দুইটা চড় বসাতে ইচ্ছে করছে তার। কিন্তু আটকা পড়ে গেছে এখন একদিকে অরণ্য ওভাবে ধরে রেখেছে; অন্য দিকে সামনেই তার ভাই দাঁড়িয়ে। এবার চিৎকার দিয়েই বলল সুবহা —--
—‘ ছাড়বেন আমাকে? ’
সুবহার রাগ বাড়ছে দেখে অরণ্য দ্রুত তাকে ছেড়ে দিলো। আড়চোখ সুবহার দিকে তাকিয়ে বলছে—-- ‘ আজকে কিছু না করেই ছেড়ে দিলাম পরে যখন ধরবো কাঁদিয়ে ছাড়বো।’
যদিও সুবহার রাগ হচ্ছে কিন্তু ভাই আর ফ্রেন্ডের সামনে আর ঝামেলা পাকাবেনা সে। কিয়ান ভ্রু কুঁচখে তাকিয়ে আছে সুবহার দিকে একই অবস্থা অরণ্যেরও। কিরণ যে তার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে এইমাত্র খেয়াল করলো অরণ্য। কিরণের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কিয়ানকে দেখে রাগে মাথা ফেটে পড়ছে তার। কিরণকে যেমন অরণ্য এখানে আশা করেনি কিয়ানও ভাবেনি সুবহা এখানে আসবে তাও আবার অরণ্যের সাথে! কিয়ান আর অরণ্য দুজনেই তাদের বোনেদের কাছে গিয়ে জুড়ে হুংকার ছেড়ে
বলছে —--
— ‘ তুই এখানে কি করছিস? ’
সুবহার সাথে কিয়ানের বন্ধুর মতো সম্পর্ক মাঝেমধ্যে মনেই থাকেনা কিয়ান তার থেকে বয়সে অনেকটা বড়। সেজন্য সুবহা ভয় পেলোনা তেমন, কিয়ানকে যা ইচ্ছা বলে বুঝিয়ে নিবে সে। কিন্তু কিরণের অবস্থা খারাপ অরণ্যকে সে ভয় পায় বাঘের মত। অরণ্য যেমন কিরণকে অনেক স্নেহ করে তেমনই ভুল দেখলেও ছেড়ে দেয়না। ভাইয়ের এমন ধমকে কান্না চলে আসবে এমন অবস্থা হয়েছে তার। অরণ্যের চোখ মুখে ফুটে ওঠা রাগই বলে দিচ্ছে কিয়ানের সাথে কিরণকে দেখে রেগে গেছে সে। এদিকে কিরণও করেছে বোকার মত কাজ। না বুঝেই ডেকে বসেছে তখন সুবহাকে,অরণ্য দেখলে ঝামেলা হতে পারে এতো কিছু মাথাতেই ছিলোনা তার।