অন্তরালের প্রণয়িনী

পর্ব - ১০

🟢

সুবহা অফিসে এসেছে মাত্র সাব্বির এসে জানালো এক্ষুনি তাকে মিটিং জয়েন করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে তখনই মিটিং জয়েন করলো সুবহা। ফিরে এসেই দেখা পেলো কিয়ানের। অফিসের এতো কাজে বিরক্ত প্রায় সুবহা, এখন ভালো ভাবেই বুঝতে পারছে তার বাবা আর চাচার কষ্ট কিভাবে এসব সামলাতেন! সুবহা তো এই কয়দিনেই নাজেহাল অবস্থা। চেয়ার টেনে বসে কিয়ানকে জিজ্ঞেস করলো সুবহা—

— ‘ আজকে সূর্য কোনদিকে উঠেছে, ভাইয়া? ’

— ‘ প্রতিদিন যেদিকে উঠে!’

_ ‘ আমি ভাবলাম, আজকে সূ্র্য ভুল করে পশ্চিম দিকে উঠেছে।’

—‘ আপনার এহেন ভাবনার কারণ কি, রানী ভিক্টোরিয়া?’

— ‘ রাজকুমারের পায়ের ধুলো অফিসে পড়লো যে!’

— ‘ তোর জন্য খাবার নিয়ে এসেছি। বাহিরের ভুলবাল খাবার খেয়ে শরীর খারাপ করলে অফিস সামলাতে হবে এই বলে তোর বাপ চাচা দুইজন আমার পিছে পড়বেন। আমি এসব, পারবোনা ভাই। খেয়ে-দেয়ে সুস্থ থাক পারলে নিয়ম করে তিনবেলা রাগিনিকে ভাইয়ার হয়ে বুঝাবি।’

কিয়ান কথাটা বলে শেষ করেছে কিনা তখনই রিং বেজে উঠেছে সুবহার ফোনে। সুবহা ফোনটা হাতে নিতেই কেড়ে নিয়েছে কিয়ান। ফোনটা ধরবে কি ধরবেনা এটা ভাবতে ভাবতে কলটা কেটে গেল। কিয়ান অপেক্ষা করছে, আবারও কিরণ ফোন দিবে আর সে ধরবে। কিন্তু কল না দিয়ে মেসেজ পাঠালো কিরণ। সুবহার ফোন লক করা নেই তাই দেখতে অসুবিধা হয়নি কিয়ানের। উৎসুক হয়ে মেসেজটা পড়লো সে। মুহূর্তেই চোখ মুখের ভাব ভঙ্গি পরিবর্তন হয়ে গেল তার। কপাল কুঁচকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ফোনের স্ক্রিনের দিকে। রাগে কিয়ানের ফর্সা চেহারাতে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে এসেছে। সহসাই চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে তার। সুবহা দেখতে পাচ্ছে সবটাই, হঠাৎ কিয়ানের এমন আচরণের মানে বুঝলোনা সে।

প্রচন্ড রাগে হাতে থাকা ফোনটা দেয়ালে ছুড়ে মারতে চাইলে সুবহা চিৎকার দিয়ে বলে উঠেছে—

— ‘ ভাইয়া, একদম না! ওটা আমার নতুন ফোন! ভাঙলে এমন অভিশাপ দেব এই জীবনে আর বউ পাবেনা।’

কিয়ানের হাত থেমে গেল। ফোনটা রেখে দিলো টেবিলে। চেয়ার টেনে বসলো সে। কিয়ানের চোখে মুখে রাগ স্পষ্ট, নিজের মাথার চুল দুই হাত দিয়ে খামছে ধরেছে সে। চিন্তিত হয়ে ভাইয়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো সুবহা।

— ‘ কি হয়েছে,ভাইয়া? মাইগ্রেনের ব্যাথা বেড়েছে আবারো?’

মাথা নাড়িয়ে না সূচক উত্তর দিলো কিয়ান। এবার সুবহার আরো বেশি ভয় হচ্ছে এমন কি হলো কিয়ানের হঠাৎ করে এমন পাগলের মতো আচরণ কেন করছে সে? আবারও কিয়ানকে জিজ্ঞেস করতে গেলে সে নিজেই বলে উঠেছে —

— ‘রাগিনির বিয়ে হলে আমি মরে যাবো, সুবহা।’

ভাইয়ের মুখে এমব বাপ্পারাজ মার্কা কথা শুনে হাসি পেলো সুবহার। শত চেষ্টা করেও হাসি আটকাতে ব্যর্থ হলো সে। এদিকে চিন্তার মধ্যে থাকা কিয়ানের, সুবহার এমন হাসি পছন্দ হলো না। রেগে তাকিয়ে বলল,

— ‘সমস্যা কী, সুবহা? আমি চিন্তায় মরছি, আর তুই হাসছিস?’

— ‘ইয়ে মানে... আর হাসব না! একটা কথা বলো, তুমি কবে থেকে কিরণের জন্য এমন পাগল হলে?’

সুবহার প্রশ্নে কিয়ানের সোজাসাপ্টা উত্তর—

— ‘আমার রাগিনি যখন ললিপপ হাতে নিয়ে ঘুরতো, তখন থেকে।’

— ‘কিরণ জানে এটা?’

— ‘ও হলো টিউবলাইট! কতবার কথা দিয়ে বুঝিয়েছি, কিন্তু ওনি বুঝবেন না। এত কথা না বলে আমাকে পারলে সাহায্য কর।’

— ‘ বলুন, জাহাপনা, কিভাবে সাহায্য করতে পারি আমি আপনাকে?’

কিয়ান হুট করেই উঠে দাঁড়িয়ে, সুবহার হাত দুটো ধরে বসলো । ইনোসেন্ট ফেস করে বলল, —--

— ‘তুই গিয়ে আম্মু-আব্বুকে বুঝাবি, যেন আজই আমাকে বিয়ে করিয়ে বউ এনে দেয়। বউ হবে রাগিনি।’

আবারও কিয়ানের বাচ্চাদের মতো কথা শুনে হাসি পেলো সুবহার। সিরিয়াস মুহূর্তে হাসলে কিয়ান আবার রাগ করবে। বহু কষ্টে নিজের হাসি আটকে রেখে বললো সুবহা।

— ‘তারপর কী হবে? ছোট আম্মু আর চাচ্চু ঝাঁটা হাতে নিয়ে দৌড়াবে আমাকে!’

কিয়ানের মনে হলো সুবহাকে তাকে ইনডাইরেক্টলি বলেছে সাহায্য করবেনা। মেজাজ দেখিয়ে হাতে থাকা নিজের ফোনটাই ছুড়ে মেরেছে দেয়ালে। সাথে সাথে কাচ ভাঙার শব্দ হলো তাকিয়ে দেখলো সুবহা দেয়ালে ঝুলানো তার আব্বু আর চাচ্চুর ছবিটার কাচের ফ্রেম ভেঙে নিচে পড়ে আছে। কিয়ানের এমন কাজ ভালো লাগলোনা সুবহার নিজেরও মেজাজ ভালো নেই রাগ দেখিয়েই চলে যেতে বলেছে কিয়ানকে।

কিয়ানের চোখে মুখে রাগ ফুটে উঠেছে গটগট করে হেটে সুবহার কেবিন থেকে বেরিয়ে গেছে সে স্টাফরা সব তাকিয়ে আছে কিয়ানের যাওয়ার দিকে কি হলো কেউই বুঝতে পারলোনা। কিয়ান মাত্রই অফিস থেকে বেড়িয়েছে, তখনই এসেছে আনহা। অসাবধানতায় ধাক্কা লাগে দুজনের। কিয়ানের মুখ দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে কোনো কারণে রেগে আছে সে আগুনে ঘি ডালার মতো কাজ করে বসলো আনহা।

—‘ প্রিয় বোনের সাথে ঝগড়া হয়েছে বুঝি?’

— ‘ মাথা খারাপ করবিনা নিজের কাজে যা।’

— ‘ আমি সত্যি কথা বলে দিই তো তাই এতো গায়ে লাগে। এ্যানিওয়ে, শুনলাম কিরণকে আজকে পাত্র পক্ষ দেখতে এসেছে জানিস তুই? সুবহা বলেছে এটা?’

এমনিতেই কিয়ান বিরক্ত, তার মধ্যে আনহার এমন খোঁচা মারা কথা সহ্য হলো না তার। আনহা ভালো করেই জানে, কিয়ান ছোটবেলা থেকেই কিরণকে পছন্দ করে। ইচ্ছে করেই কিয়ানকে রাগানোর জন্য সে এভাবে বলছে।

বিজ্ঞাপন

—‘ ফ্রিতে একটা অ্যাডভাইস দিই, শুন। সময় থাকতে ভালো হয়ে যা। ভালো হতে টাকা লাগে না।’

কিয়ান চলে গেলো তখনই কিয়ানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসছে আনহা মনে মনে বলছে— ‘ ভালো তো হতেই চাই কিন্তু তোমরা সেটা হতে দিলে কোথায়?’

———

মাথায় হাত দিয়ে চেয়ারে বসে আছে সুবহা। একটু আগেই ওভাবে কিয়ানকে চলে যেতে বলেছিল, এখন নিজেরই খারাপ লাগছে। ফোনটা হাতে নিয়েছে কল দেবে বলে, তখনই মনে পড়লো— কিয়ানের ফোনটা ভেঙে পড়ে আছে তার চোখের সামনেই। তখন ওভাবে হেয়ালিপনা করলেও সুবহা ভালো ভাবেই জানে কিয়ান কতোটা পাগল কিরণের জন্য। কিয়ান তার ভাই কম ফ্রেন্ড বেশি কিরণের প্রতি ভাইয়ের ভালো লাগার বিষয়টি বুঝতে সমস্যা হয়নি তার।

দরজার ঠকঠক আওয়াজে ধ্যান ভাঙে সুবহার। সাব্বির কতগুলো ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। এই ছেলেটার আচরণে বারবার মুগ্ধ হয় সুবহা। সুবহার আব্বু-চাচ্চুর মতো তাকেও খুব মানে সাব্বির।

সুবহা মুখে হাসি টেনে সাব্বিরকে ভেতরে আসতে বলল। ফাইলগুলো সুবহাকে বুঝিয়ে দিয়ে চলে যেতে চাইল সাব্বির। তখনই মনে পড়ল আজকের বিজনেস ডিলের কথা। সুবহার চাচ্চুর আজকে অন্য একটা কোম্পানির সিইওর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা। কিন্তু অফিসে আসা তো দূরের কথা, উনি তো বাড়িতেই নেই।

সুবহার যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই এই মুহূর্তে। সাব্বিরকে ‘ আসছি ’ বলে পাঠিয়ে দিয়েছে সুবহা। বাড়িতে এসেছে পর বাবার মুখে শুনেছিলো আগে নাকি আহনা অফিসের সবটাই সামলাত। কিন্তু সুবহা আসার পর থেকে তার কোনো পাত্তাই পাওয়া যাচ্ছে না। বিরক্ত লাগলেও এখন সুবহাকে যেতে হবে।

———

অরণ্য তার কেবিনে বসে আছে এইমাত্র আসলো সেই সকালে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকেছিলো বেরিয়েছে এখন। সকালে যখন হসপিটালে আসছিল তখন এক বাচ্চা মেয়ের সাথে দেখা হলো তার এই মেয়েটাকে সে আগেও দেখেছে।চেনে ভালো করেই! অরণ্যের একবার হাতে খুব ব্যাথা লেগেছিলো বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলো সেদিন ছোটখাটো একটা এক্সিডেন্ট হয়েছিল তার। ছোট্ট মেয়েটা তখন সাহায্য করেছিলো অরণ্যকে। কিছু দিতে চাইলে মেয়েটা বলেছিল — ‘ আজকে সে সাহায্য করেছে অন্য একদিন তার বিপদে অরণ্যের থেকে সাহায্য চেয়ে নিবে।’ আজকে সকালে হসপিটালে আসার পথে দেখতে পায় অরণ্য মেয়েটাকে। কান্নারত অবস্থায় সবার থেকে সাহায্য চাইছে। বাচ্চা মেয়েটার চোখের পানি আর এমন অসহায়ত্ব দেখে খুব কষ্ট হলো তার। গাড়ি থেকে নেমে মেয়েটার কাছে গেলো। মেয়েটা ভরসার আলো দেখতে পেলো অরণ্যকে দেখে।

পরিচিত মুখ দেখে কান্নার বেগ বাড়লো তার। সবকিছু শুনে অরণ্যের মনে হলো আজকে মেয়েটাকে সাহায্য করার সময় এসেছে তার। মেয়েটার বাবা হার্ট অ্যাটাক করেছেন ঘরে তার মা কান্নাকাটি করছে হাতে তাদের টাকা নেই হসপিটালে নিয়ে গেলে সেখানে রাখেনি বলেছে বড় কোনো হসপিটালে নিয়ে গিয়ে ভালো হার্টের ডাক্তারকে দেখাতে। তখন থেকেই নিজের আত্মীয় চেনাজানা সবার হাতে পায়ে ধরে সাহায্য চাইছে মেয়েটা কিন্তু কেউই সাহায্য করতে রাজি নয় তাদের। কি করবে কোথায় যাবে কিছুই বুঝতে না পেরে সেখানেই বসে পাগলের মতো কান্না শুরু করে দিয়েছে মেয়েটা। অরণ্য তার বাড়িতে গেলো চেক করে বুঝতে পারলো অবস্থা গুরুতর তবে বেশি দেরি হয়নি। আদ্রীশকে ফোন দিয়ে জানালো ইমার্জেন্সি পেসেন্ট নিয়ে আসছে দ্রুত ওটি রেডি করতে। ড্রাইভার আক্কাসের সাহায্যে হসপিটাল পর্যন্ত নিয়ে এসেছে ওনাকে। সকাল বেলা থেকে এই ঝামেলায় পড়ে গেছে অরণ্য। আজকে যে বাড়িতে মেহমানদের আসার কথা মাথাতেই নেই তার। কিরণের ফোন আসছে বার বার আজকে তাকে দেখতে আসার কথা এটা কিরণ ছাড়া বাড়ির বাকিরা সবাই জানে। ভাইয়ের সাথে তার বন্ধুর মতো সম্পর্ক, সে কিছুই জানালো না দেখে রেগে আছে কিরণ। না পেরেই কলটা রিসিভ করেছে অরণ্য ফোনের ওপরপাশ থেকে কেউ রেগেমেগে বলে উঠেছে।

—‘ সমস্যাটা কি ভাইয়া তোমার?’

—‘তোকে বিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বিদায় করে আমি বিয়ে করব! তুই যা দজ্জাল, আমার ভোলাভালা নাদান বউয়ের সঙ্গে সারাদিন ঝগড়া করবি—সমস্যা এটাই।’

—‘ এইজন্যই তোমার ভোলাভালা নাদান বউ পাত্তা দেয়না তোমাকে। ’

—‘ খোঁচা মারবিনা পেত্নী, এখন পাত্তা দেয় না। পরে দেখবি আমার কোল থেকে নামতে চাইবেনা তোর বাল্টুপি ললিতা। কি বলতে ফোন দিয়েছিস, বল। ’

—‘ তাড়াতাড়ি বাসায় এসো। ’

কথাটা বলেই কলটা কেটে দিয়েছে কিরণ। অরণ্য জানে, কিরণ এই বিয়ে করতে চায় না। সেদিন শপিংমলে কিয়ানকে দেখে সে বুঝেছিল, কিয়ান অরণ্যকে পছন্দ না করলেও তার বোনকে অনেক পছন্দ করে কিয়ানের চোখে মুখে কিরণের প্রতি তার ভালোবাসা দেখেছিলো অরণ্য। যেমনটা অরণ্য সুবহাকে করে। তাকে পাওয়ার জন্য এইটুকু করতেই হবে অরণ্যকে। ঠোঁটের কোণে রহস্যেভরা হাসি অরণ্যের, তার মাথার মধ্যে কী চলছে, সে ছাড়া আর কেউই জানে না।

অরণ্য মেয়েটার সাথে দেখা করতে এসেছে পিছু পিছু আবার আদ্রীশও এসেছে। মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছে মেয়েটাকে চিন্তা না করতে অপারেশন হয়েছে এখন ওর আব্বু আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবেন। অরণ্য চলে যেতে চাইলে পাশে থাকা মেয়েটার আম্মু বলে উঠেছেন।

—‘ আপনাকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা আমি স্যার। বিপদের সময়ে দেবদূতের মতো এসে সাহায্য করলেন আমাদের।এই ঋণ কিভাবে শোধ করবো আমরা।’

—‘ এভাবে বলবেন না। আপনার এই ছোট্ট মেয়েটার কাছেও আমি ঋণী ছিলাম। আপনাদের জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও আমি এটাই করতাম ডাক্তার হিসেবে একজন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য। ’

হসপিটালের পাশেই একটা বড় রেস্টুরেন্ট ইদানীং এই রেস্টুরেন্টের খাবারের মায়ায় পড়ে গেছে অরণ্য। এইযে এখনো যাচ্ছে সেখানে। পিছনে তাকিয়ে দেখলো আদ্রীশ তার সাথে সাথে হাটছে। ভ্রু কুঁচখে আদ্রীশের পানে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো অরণ্য—

—‘ কি চাই বাবা পাদেন্দ্রনাথ, তুমি আমার পিছু নিয়েছো কেন?’

অরণ্যের মুখে নিজের এমন নাম শুনে হা করে তাকিয়ে রইল বেচারা আদ্রীশ। পরিচয় হয়েছে পর থেকে এই অরণ্য বেচারার নামের এমন ভাবে পিন্ডি চটকায় কষ্টে তার কচু গাছের সাথে সাথে ফাঁসি লাগিয়ে মরতে ইচ্ছে করে।

—‘ আন্টি ফোন দিয়ে বলেছেন তোকে চোখে চোখে রাখতে কোনো ভাবেই যেন সুবহার খপ্পরে না পরিস।’

—‘ কিহহ! আম্মু বলেছে এসব? আম্মু সিসি ক্যামেরা আর তুই গোয়েন্দা হলি কবে থেকে আগে তো ছিলি চুর ভাগ্য করে এই জন্মে হাতুড়ে ডাক্তার হয়েছিস।’

—‘ এসব আজগুবি কথা বলে আর কতো লজ্জা দিবি আমাকে? ’

—‘ জানিস যখন আজগুবি কথা তাহলে আবার লজ্জা পাস কেন? ঢং না করলে পেটের ভাত হজম হয়না তোর,মিনমিনে বজ্জাত। ’

—‘ তুই চোখ মুখ শক্ত করে এমন ভাবে কথা বলিস মন হয় সত্যি সত্যি কি না কি করে বসেছি। তোর জ্বালায় একদিন হার্ট অ্যাটাক করে আমার মৃত্যু হবে ভাই।’

—‘ রাখ তো! আমার কথা শুন, শাশুড়ীদের এই এক সমস্যা বুঝলি ছেলের বউকে তারা টাইট দিয়ে রাখতে চায় সবসময়। কিন্তু আম্মু তো আধুনিকা এসব কূটনামি মাথায় আসে কিভাবে? তুই আবার ভুলবাল কিছু বুঝিয়েছিস নাকি?

আদ্রীশ দ্রুত তার মাথা এদিক সেদিক নাড়িয়ে উত্তর দিলো সে এসবের কিছুই জানেনা। এদিকে আদ্রীশের এমন ভিতু মুখ দেখে অরণ্য হেসে বলছে — ‘ চুরের মনে পুলিশ পুলিশ কিছু না করলে এমন ভয় পাচ্ছিস কেন?’

ঘাবড়ালো আদ্রীশ অরণ্য কি কোনো ভাবে জেনে গেল সেদিনের কথা! আদ্রীশ ভুল করেছিলো সেদিন আনহার কথায় মিথ্যা বলে ভুল বুঝিয়েছিলো সুবহাকে। অরণ্য আদ্রীশকে ভয় পেতে দেখে হাসলো রেস্টুরেন্টের দিকে হাঁটা লাগিয়ে আদ্রীশকেও তার সাথে আসতে বললো।

———

সুবহা বসে আছে সামনেই অন্য একটা কোম্পানির সিইও সাব্বির আর ওনার অ্যাসিস্ট্যান্ট পাশেই দাঁড়িয়ে। এসেছে প্রায় অনেক্ষন হলো এবার তাদের যাওয়ার পালা যে কাজে আসা সেটাও কমপ্লিট। লোকটার নাম রাইয়ান চৌধুরী বয়স তার খুব একটা বেশি না অরণ্যের থেকে খানিকটা বড়োই হবে অথবা তার বয়সী। লোকটা সেই তখন থেকে তাকিয়ে আছে সুবহার দিকে কাজের কথা কমই হয়েছে ওনার সব অ্যাটেনশন সুবহার দিকে। অস্বস্তি হচ্ছে সুবহার সাব্বিরকে চোখ দিয়ে ইশারা করেছে। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে যেতে হবে তাদের। রাইয়ান টেবিলে থাকা অরেঞ্জ জুসের গ্লাসটা বাড়িয়ে দিলো সুবহার দিকে। ইচ্ছে না থাকলেও ভদ্রতার খাতিরে সুবহা সেটা হাতে নিলো। তখনই লোকটার হাতের স্পর্শ লাগলো তার হাতে রাইয়ান ছেলেটা ইচ্ছে করেই করেছে এমন। সুবহা রেগে তাকালে পরক্ষণেই আবার বলেছে ইচ্ছাকৃত এমনটা করেনি ভুল হয়েছে। ভুল বুঝতে পেরেছে যেহেতু সুবহাও মেনে নিয়েছে ওনার কথা।

———

সুবহার থেকে বেশ খানিকটা দূরে টেবিলে বসে থাকা অরণ্য ভ্রু জোড়া কুঁচকে তাকিয়ে আছে রাইয়ান ছেলেটার দিকে। হাতে থাকা কাচের গ্লাসটা এতো জুড়েই চাপ দিয়েছে যে ভেঙে কাচের টুকরো অরণ্যের হাতে ঢুকে গেছে। আদ্রীশ চিন্তিত হয়ে অরণ্যের হাতটি ধরে নিজের দিকে এনে বললো—--

—‘ পাগল হয়েছিস তুই?’

অরণ্য এক ঝটকায় নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিলো আদ্রীশের থেকে। অরণ্যের তাকানো অনুসরণ করে আদ্রীশও তাকালো সেদিকে বুঝতে বাকি নেই অরণ্যের এমন আচরণের কারণ। পরবর্তীতে কি হতে চলেছে এটাও আন্দাজ করতে পারছে সে ভালো মতোই।

বিজ্ঞাপন
অন্তরালের প্রণয়িনী গল্পটি আফরোজা আঁখি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক গল্প