জানালার কার্নিশে ভর দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে কিরণ। আজ কেন যেন কিয়ানের কথা খুব মনে পড়ছে তার। কেন হচ্ছে এমন? এমন অদ্ভুত টান অনুভব করছে কেন কিয়ানের প্রতি? বারবার ফোনে বলা কিয়ানের কথাগুলো কানে বাজছে তার।
অরণ্যকে ফোন দেওয়ার আগে কিরণের ফোনে একটি অজানা নাম্বর থেকে কল এসেছিল। প্রথমে ধরেনি সে, কিন্তু বারবার কল আসায় মনে হলো, পরিচিত কেউ হবে। কলটি রিসিভ করে কানে নিতেই পরিচিত এক কণ্ঠস্বর শুনতে পেল। থমকে গেল সে, বোঝার চেষ্টা করল—সে যা ভাবছে, তা-ই কি না। কিয়ান অধৈর্য হয়ে ডাকল কিরণকে—
— ‘ রাগীনি, কথা বলো।’
এই নামটা শুনে কিরণের বুঝতে সমস্যা হয়নি যে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা মানুষটা কিয়ানই । নিজেকে স্বাভাবিক করে কিয়ানের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো সে।
—‘ আপনি কি কিয়ান ভাইয়া বলছেন?’
—‘ হঠাৎ করে ভাইয়া ডেকে এতো সম্মান দিচ্ছো যে? আগে তো কখনো এসব নামে ডাকোনি আমাকে।’
—‘ আগে ডাকিনি এখন থেকে ডাকবো। আপনি সুবহার ভাইয়া, আর আনহা আপুর ছোট ভাই, তাহলে তো আমার ভাইয়াই হলেন।’
প্রেয়সীর মুখে ভাইয়া ডাক শুনে রাগ হলো কিয়ানের, মেজাজ দেখিয়ে বললো কিরণকে।
—‘ এতোদিন যখন ডাকোনি এখনও ডাকবেনা।’
কিরণের মন এমনিতেই খারাপ ছিল, কিন্তু এখন কিয়ানের সঙ্গে কথা বলে মনটা ভালো হয়ে গেছে তার। ঝগড়া করার একটা বাহানা পেয়েছে সে। কিরণ তো জন্মগতভাবেই ঘাড় ত্যাড়া—এতো তাড়াতাড়ি কিয়ানের হ্যাঁতে হ্যাঁ মিলাবে না! কিয়ানকে রাগাতে আবারও বলল কিরণ —--
—‘ এতোদিন ডাকিনি তাকে কি? এখন ডাকবো।’
—‘ না ডাকবেনা। ’
—‘ হ্যাঁ ডাকব, কেমন আছেন কিয়ান ভাইয়া?’
—‘ ভবিষ্যৎ বাচ্চার আব্বুকে ভাইয়া ডাকলে আল্লাহ পাপ দিবেন রাগিনি। '
—‘ দিলে দিবেন বাচ্চার বাপকে ভাইয়া ডাকার অনেক শখ আমার।’
—‘ তুমি মানছো তাহলে আমি তোমার বাচ্চার বাবা হব?’
— ‘ হ্যাঁ। ’
কথাটা অর্ধেক বলেই থেমে গেল কিরণ। ফোনটা দ্রুত কান থেকে সরিয়ে নিয়েছে। জিভ কেটে ভাবছে—বলদির মতো এতক্ষণ কি না কি বলে ফেলেছে! লজ্জায় এক মিনিটও দেরি না করে সে ফোনের লাইন কেটে দিয়েছে। মিনিট কয়েক পরে কিয়ান আবার ফোন দিয়েছে, কিন্তু এবার ইচ্ছে করেই রিসিভ করেনি কিরণ। বারবার রিংটোন বেজে ফোন কেটে যাওয়ায় কিয়ান মেসেজ দিয়েছে তাকে। এবার কিরণ আস্তে আস্তে ফোনটা হাতে নিয়ে মেসেজ অপশনে ঢুকল। কিয়ান মেসেজ পাঠিয়েছে
কিয়ানকে —--
“ আমার দেওয়া বার্থডে গিফটটা খুলে দেখোনি নিশ্চয়ই? তোমার কাছে একটা প্রশ্নের উত্তর চেয়েছিলাম, সেই উত্তরের অপেক্ষায় বসে আছি এখনো। ” —--
পুরো মেসেজটা না পড়েই কিরণ উঠে গিয়ে কাবাড থেকে কিয়ানের দেওয়া গিফটটা বের করল—একটা সুন্দর দামি ড্রেস আর একটা চকলেট বক্সের ভিতরে বেশ কয়েকটা চকলেট। ড্রেসের রং আর চকলেটগুলো কিরণের পছন্দের।
সবসময় ঝগড়াঝাটি হলেও, আগে যখনই কিয়ানদের বাসায় যেত, কিয়ান তার জন্য পছন্দের চকলেটগুলো নিয়ে আসত। চকলেটের বক্সটা খুলতেই সেখানে বেশ কয়েকটা কাগজের টুকরো দেখতে পেল কিরণ, যেগুলো লাভ আকৃতিতে কাটা হয়েছে। তার মধ্যে একটা হলুদ চিরকুট।
কিরণ আগে কাগজের টুকরোগুলোই হাত দিয়ে দেখল। অবাক হলো—সবগুলো কাগজের টুকরোতে একই কথা লেখা, —-- ‘ ভালোবাসি রাগিনি।’
মনে প্রশ্ন জাগল কিরণের—তবে কি কিয়ান সত্যিই তাকে ভালোবাসে? তার সাথে দেখা হলেই ঝগড়া করা ছেলেটা তাকে ভালোবাসে! ভাবতেই পারছে না কিরণ। নাকি কিয়ান মজা করে এসব বলেছে? সুবহার সাথে অরণ্যের বিয়ে ভাঙার কারণটা কারোরই অজানা নয়। সুবহা যাওয়ার পর কিয়ানের সাথে অরণ্যের ঝামেলা হয়েছে কয়েকবার। সেই রাগে অরণ্যকে শান্তি দিতে তো কিরণের সাথে নাটক করতেই পারে কিয়ান! কিন্তু কিরণের কেন যেন বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে কিয়ানকে সেও যে ভালোবাসে তাকে।
হলুদ চিরকুটটা মেলে চোখের সামনে ধরতেই সেখানে একটা জায়গার নাম দেখতে পেল কিরণ। কিয়ান তাকে সেখানে যেতে বলেছে।
মন খারাপ হয়ে গেল কিরণের। ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল। মনে মনে ভাবছে—এই গিফটটা সে আগে কেন খুলে দেখল না? কিয়ানকে কিরণ পছন্দ করে, এটা অস্বীকার করবে না সে। কিন্তু কিয়ানের কথা যদি সত্যি হয়, যদি সে সত্যিই কিরণকে ভালোবাসে—তাহলেও যে অনেক দেরি হয়ে গেছে!
কেন হলো এমন? আজকেই তাকে দেখতে এসে বিয়ের তারিখ ঠিক করে গেল পাত্রপক্ষ! আর আজকেই কিয়ান ভালো লাগার কথাটা জানান দিলো তাকে। কিরণ ভেবেছিল আজ যাবে কিয়ানের দেওয়া ঠিকানায়। তার সাথে দেখা করতে। কিন্তু মন খারাপেরা ঘিরে ধরেছিল তাকে, যাওয়া হয়নি আজও। সেই যে কিয়ান ফোন দিয়েছিল, এরপর তো একটা ছোট্ট এসএমএসও দেয়নি! তাহলে কি কিরণ ধরে নেবে, সে ভুল ভাবছিল? কিয়ান তাকে ভালোবাসে না?
ভাবনায় ছেদ পড়ল কিরণের। হঠাৎ মনে হলো দরজার সামনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। মাথা ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখল, খাবারের প্লেট হাতে অরণ্য দাঁড়িয়ে আছে।
অরণ্য এসে ট্রি-টেবিলে খাবারের প্লেট রাখল, কিরণের কাছে গিয়ে খাওয়ার জন্য ডাকল তাকে। শুনেও না শোনার ভান করল কিরণ।
অভিমান জমেছে তার মনে। নিজের জীবনের এত বড় একটা ব্যাপার—সেখানে তাকে কেউই কিছু জানাল না! ভাইয়ের কাছ থেকে এটা আশা করেনি সে। অরণ্য বুঝল, বোনের অভিমান হয়েছে। উঠে গিয়ে হাত ধরে টেনে নিয়ে এল কিরণকে।
—‘ খাবারটা শেষ কর।’
—‘ খাবোনা আমি, নিয়ে যাও এসব। ’
অরণ্য কিরণের গালে হাত দিয়ে ঘুরালো তাকে নিজের দিকে আদুরে গলায় বলল —--
—‘ আমার সেনোরিটা রাগ করেছে?'
কিরণ তাকালো ভাইয়ের দিকে। অনেক দিন পর এই আদুরে নামটা আবারও শুনলো অরণ্যের মুখে ছোট বেলায় এই নামেই ডাকতো অরণ্য কিরণকে। হ্যাঁ, রাগ হচ্ছে কিরণের কিন্তু ভাইয়ের সামনে প্রকাশ করবেনা সে। মাথা নাড়িয়ে না সূচক উত্তর দিলো কিরণ। হাসলো অরণ্য হাত ধরে সোফায় বসিয়ে খাবারটা শেষ করতে বলে চলে গেলো। কিরণ আর কথা বাড়ায়নি চুপচাপ খেতে শুরু করেছে কিন্তু কয়েক লুকমা মুখে দিয়েই আর গলা দিয়ে খাবার নামেনি তার।
———
পায়ের সামনে এসে একটা কাচের গ্লাস পড়েছে সুবহার আরেকটুর জন্যই আঘাত লাগতো তার। বাসায় এসেছে অনেক আগেই নিজের রুমেই বসে ছিলো কিয়ান রাগ করেছে সুবহার বিহেভিয়ারে এটা বুঝেও ভাইয়ের রাগ ভাঙাতে আসেনি সুবহা। মাথা ঠিক নেই তার খুব ক্লান্ত লাগছে নিজেকে। কিছু একটা নিয়ে ভাবছে খুব। প্রায় অনেক্ষন সুবহাকে বুঝিয়ে নিয়ে এসেছে তার আম্মু আর চাচি কাহিনী কি হয়ে কেন কিয়ান এমন করছে সবটাই বুঝিয়ে বলেছে সুবহা তার আম্মু চাচিকে। তারা গিয়েছেন সুবহার আব্বুর আর চাচার সাথে এই নিয়ে কথা বলতে। ছিলো সেখানে সুবহাও। সবকিছু শুনে কিয়ানের আব্বু অবাক ছেলের এমন কান্ডের জন্য কি বলা বা করা উচিত বুঝতে পারছিলেন না তিনি। সুবহা বুঝিয়ে বলল কিরণের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে কিয়ানের আব্বুকে। পুরোটা সময় চুপচাপ বসে ছিলেন জাহিদ হোসেন ওনার ঠোঁটের কোণে হাসি। কিছু একটা ভেবে হাসছেন মনে মনে। সুবহা লক্ষ্য করেছে এটা তবে এই সময় বাবার হাস্যার মানে বুঝলোনা সে। সুবহার আব্বু আর চাচ্চু সাফ সাফ বলে দিয়েছেন কিয়ানকে বিজনেসের হাল ধরতে হবে সুবহার পাশাপাশি তাকেও সবটা সামলাতে হবে সুবহার বিয়ের বয়স হয়েছে আর কতদিন এসবের জন্য সেক্রিফাইজ করে যাবে সে? সুবহা মন দিয়ে শুনেছে তার আব্বু চাচ্চুর কথা তাকে দিয়েছেন কিয়ানকে এখন গিয়ে এই কথাগুলো স্পষ্ট করে বলে দিতে হবে। কিন্তু সুবহা তো জানে কিয়ান লুকিয়ে লুকিয়ে ইতিমধ্যেই সব কথা শুনে নিয়েছে। কথা শেষ করে সুবহা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠছিলো, সুবহা আসছে টের পেয়ে কিয়ান দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেছে।
যেইনা কিয়ান দেখেছে সুবহা তার দরজার সামনে এসেছে তখনই কাচের গ্লাসটা ছুড়ে মেরেছে সুবহাকে বুঝাতে সে কিছুই শুনেনি তার উপর রাগ করে রুমেই বসে ছিলো।
———
আজকে আর অফিস যায়নি সুবহা। সবটা সাব্বিরের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে আজকের মতো। বাড়িতে আপাতত কেউই নেই। কিয়ান একটু আগেই বেরিয়ে গেছে—কোথায় গেছে, জানতে চায়নি সুবহা, কিয়ানও নিজে থেকে বলেনি। মনে মনে খুশি হয়েছে সুবহা। সে আজ কোথায় গিয়েছে জানলে কিয়ান হয়তো ঝামেলা করত! ভালোই হয়েছে, সুবহার আগে বেরিয়ে গেছে সে।
বাড়ির কয়েকজন হেল্পিং হ্যান্ড, আনহা আর সুবহা ছাড়া কেউই বাড়িতে নেই। বাকিরা সবাই অরণ্যদের বাড়িতে গিয়েছে আজ। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এসেছে সুবহা। আজ সে অরণ্যের দেওয়া সেই কালো শাড়িটা পরেছে। বাড়িতে এসেই শাড়িটা বের করে কিছুক্ষণ দেখেছে, মনে মনে অরণ্যের পছন্দের তারিফ করেছে।
সুবহার গলায় একটা ছোট্ট ডায়মন্ড পেন্ডেন্ট, হাতে কালো পাথরের ব্রেসলেট, মুখে হালকা প্রসাধনীর ছোঁয়া। সব মিলিয়ে তাকে সদ্য ফোটা স্নিগ্ধ একটা ফুলের মতোই লাগছে। আনহা বসে ছিল ড্রয়িং রুমে, ফোনে কিছু করছিল। তখন তার চোখ পড়ল সুবহার দিকে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে দেখল। মাঝেমধ্যে সুবহার এই সৌন্দর্য দেখলে হিংসা হয় আনহার। সবকিছু কেন সুবহাকেই পেতে হবে? সুন্দর, ফর্সা গায়ের রঙ, পড়াশোনায় সবসময় সবার থেকে এগিয়ে, বিজনেস সামলানো—সবকিছুতেই সেরা! সবার কত আদরের সে! কিন্তু আনহা? তাকে কেন এত অবহেলা করা হয়? কেন কেউ সুবহার মতো ভালোবাসে না? কিয়ানের সঙ্গে আনহা নিজের কোনো মিলই খুঁজে পায় না, অথচ তারা এক মায়ের পেটের ভাই-বোন! মাঝেমধ্যে তো সন্দেহ হয় আনহার—তাকে হয়তো কুড়িয়ে পেয়েছেন এই বাড়ির কর্তারা, নইলে এমন কেন? আনহা ঘৃণা ভরা চোখে তাকিয়ে আছে সুবহার দিকে। সুবহারও তখন চোখ ফেলল সোফায় বসে থাকা আনহার দিকে।
খারাপ লাগল সুবহার। আনহা তো এমন ছিল না! একসময় খুব ভালোবাসত তাকে। সেই যে সুবহার বিয়ে ঠিক হয়েছিল, তারপর থেকে ওর প্রতি আনহার মনে রাগ আর ঘৃণা জমিয়ে পাহাড় বানিয়ে ফেলেছে! সেই আনহার মধ্যে নিজের হারিয়ে যাওয়া বোনকে দেখতে পায় না সুবহা। মাঝেমধ্যে ভাবে, ভালোবাসা পাওয়ার জন্য মানুষ এতটা ডেস্পারেট হতে পারে? পরক্ষণেই আবার ভাবে—হ্যাঁ, পারে। সেটা আনহাকে দেখলেই বোঝা যায়।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেখান থেকে চলে গেল সুবহা।
কিয়ান গিয়েছে বাইক নিয়ে। বাড়ির গাড়ি নিয়ে তার আব্বু-আম্মু সবাই বেরিয়েছেন। অফিসের গাড়িটা রয়ে গেছে বাড়িতে, কিন্তু ড্রাইভার নেই। নিজেকেই ড্রাইভ করতে হবে—এই ভেবে ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসে পড়ল সুবহা। গন্তব্য তার সেই চেনা-পরিচিত জায়গাটা, যেখানে একদিন অরণ্য নিয়ে গিয়েছিল তাকে। তখন তাদের মধ্যে কোনো ভালোবাসা বা তিক্ততার সম্পর্ক ছিল না, ছিল একটা সুন্দর, মিষ্টি সম্পর্ক। দেখা হলেই হাসির উত্তরে হাসি দেওয়া ছাড়া আর কোনো কথা হতো না তাদের মধ্যে। একদিন কিরণ, কিয়ান আনহা সবাইকে নিয়ে এই জায়গাটাতে এসেছিল অরণ্য মনে আছে এখনো সুবহার। ফেলে আসা সেই দিনগুলোর কথা ভেবে মনে মনে হাসছে সুবহা।
———
—‘ কেন ডেকেছেন আমাকে এখানে? ’
কিরণের মতো শান্ত স্বভাবের মেয়ের এমন গম্ভীর কণ্ঠে ভড়কালো কিয়ান। কী হলো কিরণের? কিছু সময় অপেক্ষা করিয়েছে বলে কি এভাবে বলল! কিরণের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে পর্যবেক্ষণ করল কিয়ান। পরনে হালকা গোলাপি ড্রেস, মাথার চুলগুলো খুলে রাখা—বাতাসে তা উড়ে এসে বারবার চোখে-মুখে পড়ছে, এতে খুবই বিরক্ত হচ্ছে কিরণ। ওড়নাটা মাথায় দিয়েছিল বটে, তবে বেশিক্ষণ টেকেনি। কিয়ান কিরণের দিকে একটু এগিয়ে গিয়ে বলল—--
—‘ জামাটায় তোমাকে সুন্দর মানিয়েছে।’
কিরণ হাসি মুখ করে জবাব দিতে যাবে তখনই কিয়ান তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে —-- ‘ কারণ পছন্দটা কিয়ানের। ’
মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলো কিরণ। সে প্রথমে খুশি হয়েছিল, সাথে অবাকও হয়েছিল বটে। কিয়ান তার প্রশংসা করছে? অবাক হওয়ারই কথা এটা। কিন্তু পরক্ষণেই যে কিয়ান এমন কথা বলবে এটাও তার জানা ছিলো। কিরণ হেটে যাচ্ছে সামনের দিকে। নদীর পাশ, সুন্দর আবাহাওয়া গরম বা ঠান্ডা কোনোটাই তেমন নয়। এই পরিবেশে যে কারোর মন ভালো হয়ে যাবে। কিয়ান কিরণের পিছু পিছু হেটে গিয়ে বলছে —--
—‘ রাগীনি কি রাগ করল? ’
— ‘ রাগ করাইতো রাগীনির স্বভাব।’
কিরণ কথাটা মজা করেই বলেছে জানে কিয়ান। কিরণের মুখের মিষ্টি হাসিই বলে দিচ্ছে এটা। এসেছিল কিরণ মন খারাপ করেই তবে কিয়ানের সাথে দেখা হওয়ার পর নিজের অজান্তেই মনের মধ্যে ভালো লাগা কাজ করছে তার।
———
একটা খালি জায়গায় এসে গাড়ি থামিয়েছে সুবহা। এখন থেকে বাকিটা পথ হেটেই যেতে হবে। আশেপাশে অনেক লোকজন দেখতে পাচ্ছে, সবাই-ই এসেছে জোড়ায় জোড়ায়। এতো কাপলের মধ্যে নিজেকে কেমন এতিম এতিম লাগছে সুবহার। পরক্ষণেই আবার ভাবছে ২৩ বছর বয়সী ম্যাচিউরড সুবহাকে কি এসব নিব্বি টাইপ কথা মানায়? হাতে থাকা ব্যাগ থেকে ফোনটা নিয়ে,ব্যাগটা রেখে দিয়েছে গাড়িতে। গাড়ির ডোর লক করে দিয়ে হাঁটতে শুরু করেছে সামনের দিকে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখল কোথাও অরণ্য নেই। ভাবলো ফোন দিবে তাকে। কল লিস্টে গিয়ে গিরগিটি নাম দিয়ে সেইভ করা অরণ্যের নাম্বারটা বের করেছে সুবহা কল দিবে এসন সময় পরিচিত কন্ঠস্বর কানে আসলো তার। দূর থেকে কেউ চিৎকার দিয়ে বলে উঠেছে।
— ‘ লাভবার্ড আমি এখানে। ”
সুবহা তাকালো সেদিকে। দেখা মিলল অরণ্যের। পরনে তার সুবহার সঙ্গে ম্যাচিং করা কালো রঙের শার্ট-প্যান্ট, এলোমেলো চুল, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি আর সুন্দর হাসি। না চাইতেও বার বার এই হাসির প্রেমে পড়ে সুবহা।