অন্তরালের প্রণয়িনী

পর্ব - ১৬

🟢

অরণ্য সুবহাদের বাসার গেটের সামনে এসে তার গাড়িটা থামিয়েছে। গাড়ি থেকে নামতে গেলে সুবহা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাকে। অরণ্য বুঝল, সুবহা বাসায় যেতে চাইছে না। তবুও চুলে বিলি কেটে জিজ্ঞেস করল তাকে —--

— 'তোমার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। ভেতরে যাবে না?'

— 'উঁহু।'

— 'কোথায় যাবে?'

— 'আপনার বাসায়।'

— 'নেশা কেটে গেলে আমাকে ভুল বুঝবে যে!'

সুবহা মৃদু হাসে। অরণ্যের মুখপানে তাকিয়ে উত্তর দেয় তাকে—--

— 'আপনার নেশা কাটবে না এই জীবনে।'

মুহূর্তেই অরণ্যের ঠোঁটের কোণে হাসি খেলে গেল। সুবহা বসে আছে সেভাবেই। গাড়িটা আবারও স্টার্ট দিল অরণ্য। সময় প্রায় একটা হবে, রাস্তা-ঘাটে জনমানবের উপস্থিতি নেই। দোকানপাটও বন্ধ করে দিয়েছে এত রাতে। অরণ্য ড্রাইভ করছে, মাঝেমধ্যে আবার তার কোলে বিড়ালছানাদের মতো ঘাপটি মেরে বসে থাকা সুবহাকে দেখছে। ফোনের রিংটোন কানে এলো তার। পাশের সিটে পড়ে থাকা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখতে পায়, আনহা কল দিয়েছে তাকে। অরণ্য সেদিকে তেমন খেয়াল করল না।

———

লম্বা একটা জার্নির পর নিজেদের গন্তব্যে এসে পৌঁছেছে অরণ্য আর সুবহা। গাড়ি থামিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছে অরণ্য। তার বুকে মাথা রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সুবহা, তাই তাকে ডাকেনি আর। কোলে করেই নিয়ে ঢুকেছে নিজের ফ্ল্যাটে।

অরণ্যের এই ফ্ল্যাটটা তার হাসপাতাল থেকে কিছুটা দূরে। এখানে অরণ্য ছাড়াও আরেকজন থাকে, সে হলো আদ্রীশ। ফ্ল্যাটটা তাদের দুজনেরই। এখানে আদ্রীশই বেশিরভাগ সময় থাকে, মাঝেমধ্যে অরণ্যও আসে। দরজা খোলাই ছিল, বাড়ির হেল্পিং হ্যান্ডকে আগেই বলে রেখেছিল অরণ্য —সে কাউকে নিয়ে আসবে। তাই তিনি অপেক্ষা করছিলেন তাদের জন্য।

সুবহাকে নিয়ে নিজের রুমে চলে গেল সে। ধবধবে সাদা চাদর বিছানো বিছানায় আলগোছে শুইয়ে দিল সুবহাকে। ফোন বের করে কাউকে কল দিল অরণ্য। তাকে জানতে হবে, সুবহার এই অবস্থা হলো কীভাবে! রাইয়ান কিছু করেছে নাকি আনহা? কিন্তু আনহা তো সুবহাকে দেখেইনি। তাহলে কি রাইয়ান খাবারের সঙ্গে অ্যালকোহল মিশিয়ে সুবহার সঙ্গে খারাপ কিছু করার চিন্তা করেছিল? কথাটা মাথায় আসতেই রাগে চোখ-মুখের ভাবভঙ্গি বদলে গেল অরণ্যের।

কিছু একটা ভেবে রেগে উঠে যেতে চাইলে মনে হলো, কেউ তার হাত ধরে রেখেছে। বিছানার দিকে তাকাতেই নজরে এলো সুবহার মায়াবী মুখশ্রী। নিমিষেই চোখ-মুখের রাগ সরে গিয়ে ভিড় জমালো একরাশ মুগ্ধতা।

অরণ্যের মনে হলো, সুবহা কিছু বলছে তাকে। বিড়বিড় করে কী বলছে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে না সে। সুবহা কি বলছে শোনার জন্য তার দিকে কিছুটা ঝুঁকল সে। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকালো ওর মুখের দিকে। তখনই সুবহা জড়িয়ে ধরল অরণ্যকে। নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে আছে সে অরণ্যের মুখপানে। অরণ্যের গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। কখনো হাসছে, তো কখনো কান্না করছে সে।

অরণ্য বারবার দূরে সরে যেতে চাইছে, কিন্তু প্রতিবারই সুবহা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে তাকে।

প্রেয়সীর এমন গভীর আলিঙ্গনে নিজেকে তার কাছ থেকে সামলানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না অরণ্যের। ঘামছে সে!সুবহা বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বলল অরণ্যকে —--

— ‘এমন করছেন কেন? আপনি আমার কাছে থাকলে কী হবে?’

— ‘লাভবার্ড, পাগল করছো কেন আমাকে? পরে কিন্তু কান্না করবে তুমি!’

কোনো ভাবে সুবহাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে অরণ্য উঠে চলে যেতে চাইলে, সুবহাও উঠে বসে। অরণ্য চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে জাপ্টে ধরল তাকে। মাথা রাখল তার বুকে। শত চেষ্টা করেও সুবহাকে নিজের থেকে দূরে সরাতে পারছে না অরণ্য। বসে রইল চুপচাপ, সেও।

সুবহা হুঁশে নেই বিধায় এমন করছে। যদি ঠিকঠাক থাকত, তাহলে অরণ্যকে এক ধাক্কায় দশ হাত দূরে সরিয়ে দিত— এটা ভালো করেই জানে অরণ্য। সুবহার মাথা ঠিক নেই, তাই এমন অবুঝের মতো কাজ করে যাচ্ছে তখন থেকে। ভালো হয়ে গেলে অরণ্যকে সে ভুল বুঝবে।

সুবহার মাথার ক্লিপটা বারবার হাতে লাগছে। বিরক্ত হয়ে সুবহার মাথা থেকে ক্লিপটা খুলে দিল অরণ্য। বিলি কেটে দিচ্ছে তার চুলে। মেয়েটা এখন শান্ত্ব হয়েছে চুপটি করে বসে আছে তার বুকে মাথা রেখে।

সুবহার এই রূপটা চেনে অরণ্য। কয়েক বছর আগেও মেয়েটা এমনই ছিল চঞ্চল আর হাসিখুশি। কতদিন পর পুরোনো সুবহাকে দেখতে পেল অরণ্য!

সুবহা মুখ তুলে তাকাল অরণ্যের দিকে। কিছু বলতে যাবে, তখনই অরণ্য তার আঙুল দিয়ে সুবহার ঠোঁট চেপে ধরল। শান্ত দৃষ্টিতে সুবহার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল —--

— ‘চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ো।’

— ‘আমার বন্ধ করা চোখের পাতায় ডাক্তারবাবু কি চুমু দিবে?’

সুবহার এমন বাচ্চামি আবদার শুনে হাসলো অরণ্য, কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল —--

— ‘লাভবার্ড চাইলে, ডাক্তারবাবু হাজারটা চুমু দেবে।’

অরণ্যের রুমে আলো জ্বলছে দেখে আদ্রীশ উঁকি মেরেছিল, অরণ্য এসেছে কিনা দেখার জন্য। সুবহা আর অরণ্যকে এত কাছাকাছি দেখে তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। হাঁ করে তাকিয়ে রইল দুজনের দিকে।

অরণ্যের মনে হলো, কেউ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সেদিকে তাকাতেই দেখতে পেলো, হাবাগোবার মতো দাঁড়িয়ে থাকা আদ্রীশকে। অরণ্য ভ্রু কুঁচকে তাকালো তার দিকে। কিন্তু আদ্রীশ বেচারা এত বড় শক খেয়ে অন্যদিকে খেয়ালই করছে না।

আদ্রীশ যাচ্ছেনা দেখে অরণ্য হুংকার ছেড়ে বলল আদ্রীশকে—--

— ‘কি দেখছিস হতচ্ছাড়া? যাবি এখান থেকে!’

— ‘এসব কি হচ্ছে ভাই? ’

— ‘আমার সন্টু-মন্টু আনার প্রসেস চলছে। বিরক্ত না করে, যা এখান থেকে। ’

— ‘বিয়ের আগেই বাচ্চা?’

— ‘অরণ্য সব কিছুতেই ফাস্ট, জানিস না তুই?’

আদ্রীশ হাততালি দিয়ে বলল —--

— ‘বাহ! কি দারুণ দৃশ্য। ’

—‘ পরে কী কী হতে যাচ্ছে দেখে যা।’

—‘ এইটুকু দেখেই অবলা আমার কোমায় যাওয়ার অবস্থা হয়েছে বাকি প্রসেসিং দেখলে আমাকে খুঁজে পাবিনা। ’

আদ্রীশ চলে যাবে বলে পা বাড়িয়েছিলো আবারও ঘুরে অরণ্য আর সুবহার দিকে তাকিয়ে বলল —--

বিজ্ঞাপন

—‘ অল দ্যা বেস্ট রোমান্স বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। ’

অরণ্য পারলে উঠে গিয়ে দরজাটাই বন্ধ করে দেয়, কিন্তু সুবহা যে তার কোলে বসে আছে! উঠবে কিভাবে? আদ্রীশ দরজা আটকে চলে গেল বেচারা টাইপ মুখ বানিয়ে। তখনই সুবহা অরণ্যের গালে হাত রেখে তাকে ঘুরিয়ে নিল নিজের দিকে। নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে আছে অরণ্যের মুখের দিকে। শরীরে শক্তি নেই তার, মনে হচ্ছে এই বুঝি লুটিয়ে পড়বে বিছানায়।

সুবহাকে এতটা কাছে পেয়ে কেমন পাগল পাগল লাগছে অরণ্যের, ঘামছে সে। না চাইতেও বারবার চোখ চলে যাচ্ছে সুবহার গোলাপি অধরের দিকে। শত চেষ্টা করেও নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ হচ্ছে অরণ্য। কিন্তু এমন অঘটন কিছুতেই ঘটাবে না সে। সুবহা আর অরণ্যের ঠোঁটদ্বয়ের মধ্যে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরত্ব। অরণ্যের মুখের গরম শ্বাস পড়ছে সুবহার চোখ-মুখে। অরণ্য নেশালো কণ্ঠে বলল সুবহাকে —--

— ‘লাভবার্ড, বিয়ে করবে আমাকে? বউ হবে আমার? ’

সুবহা হেসে উপর-নিচ মাথা নাড়াল। অরণ্য স্বস্তি পেল। কিন্তু এই মুহূর্তে এখানে থাকলেই অঘটন ঘটিয়ে ফেলবে সে। কিছু না বলে সুবহাকে শুইয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছিল অরণ্য। সুবহা চোখ বন্ধ করা অবস্থাতেই অস্পষ্ট স্বরে বলল তাকে —--

—‘ যাবেন না ডাক্তারবাবু ভয় করছে আমার।’

অরণ্য হাসলো আলতু করে হাত ছুঁয়ালো সুবহার গালে বলল তাকে —--

—‘ যাচ্ছিনা লাভবার্ড, ঘুমিয়ে পড়ো তুমি চোখ খুললেই আমাকে দেখতে পাবে।’

সুবহা নিজের হাত বাড়িয়ে বলল অরণ্যকে —--

—‘ কথা দিন।’

অরণ্য ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে সুবহার বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল তাকে —--

—‘ কথা দিলাম। ’

সুবহা ছাড়লো তাকে। অরণ্যের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো সে।

———

টাওয়ালের সাহায্যে মাথার ভেজা চুল মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছে অরণ্য। বিছানার দিকে তাকাতেই বুকটা ধক করে উঠল তার। কপালে ভাঁজ পড়ল অরণ্যের। চিন্তিত চেহারা নিয়ে মনে মনে ভাবছে সে ‘লাভবার্ড তো এখানেই ছিল! এই অল্প সময়ে কোথায় গেলো সে?’ তখনই কানে আসল কোনো কিছু ভাঙার শব্দ। অরণ্য দাঁড়াল না আর, তোয়ালেটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে ছুটে চলে গেল নিচে।

ড্রয়িং রুমে এসে এদিক-সেদিক তাকিয়ে সুবহাকে খোঁজার চেষ্টা করল অরণ্য। কাউচের দিকে তাকাতেই চোখজোড়া বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল তার।

সুবহার পরনের টপসটা খুলে, অরণ্যের গা থেকে খুলে রাখা শার্টটা পরে আছে সে। শার্টের বোতামগুলো এলোমেলোভাবে লাগানো। সুবহার এই অবস্থা দেখে মাথায় হাত অরণ্য। চোখ গেল সুবহার হাতে থাকা কাঁচের বোতলটার দিকে। ভালো করে দেখলে বুঝতে পারল এটা ওয়াইনের বোতল! ভাবলো অরণ্য , এটা এখানে আসল কিভাবে? পরক্ষণেই মনে পড়ল, বেশিরভাগ সময় এই ফ্ল্যাটে থাকে আদ্রীশই। আনহাকে না পাওয়ার দুঃখে হয়তো মাঝেমধ্যে এসব ছাই-পাঁশ গিলে নিজেকে শান্ত রাখে বেচারা।

আদ্রীশকে পরে দেখে নেবে অরণ্য। এখন তাকে সুবহাকে সামলাতে হবে। এমনিতেই মাতাল ছিলো এখন আরেক কাজ করে বসেছে। এই মেয়ের কান্ডে অরণ্যের নাজেহাল অবস্থা আজকে। সুবহা হাত ইশারা করে অরণ্যকে ডাকছে। অরণ্য সেই আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে দেখে চিৎকার দিয়ে বলল —--

— ‘ডাক্তারবাবু, এদিকে আসুন!’

অরণ্য এক পা, দু’পা করে এগিয়ে গেল তার কাছে। ভ্রু কুঁচকে রেগে তাকিয়ে আছে সুবহার দিকে। সুবহা এবার বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে কিছু বলতে যাবে, তখনই অরণ্য সুবহার হাতে থাকা ওয়াইনের বোতলটা একটানে কেড়ে নিল। রেগেমেগে হুংকার ছেড়ে বলে উঠল—--

— ‘এসব কি, লাভবার্ড?’

সুবহা উঠে দাঁড়িয়ে অরণ্যের দিকে কিছুটা এগিয়ে গেল। রেগে কিছু বলতে যাবে, তখনই নজরে পড়ল অরণ্যের উন্নুক্ত ফর্সা বক্ষ। ঠোঁটের কোণে হাসি খেলে গেল তার। ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারছে না সে এখনো, পড়ে যেতে নিলে অরণ্য ধরে নিল তাকে।

সুবহার হাত চলে গেল অরণ্যের বুকে। ঠোঁট কামড়ে হেসে অস্পষ্ট স্বরে বলল সুবহা—--

— ‘ইউ'র লুকিং লাইক আ বিউটিফুল রেড স্ট্রবেরি।’

— ‘খাবে তুমি?’

— ‘কি?’

— ‘স্ট্রবেরি!’

সুবহা পটাপট মাথা নাড়িয়ে না সূচক উত্তর দিলো, পরক্ষণেই আবার অরণ্যের হাতে থাকা ওয়াইনের বোতলটার দিকে হাত বাড়িয়ে বলল —--

— ‘আমি ওয়াইন খাবো, কেড়ে নিলেন কেন ওটা? দিন এক্ষুণি।’

অরণ্য সরিয়ে নিল তার হাত, সুবহার কোমর চেপে ধরে কাছে নিয়ে এলো তাকে। নেশালো দৃষ্টিতে তাকালো প্রেয়সীর মুখপানে। অরণ্য সুবহার দিকে কিছুটা এগিয়ে গেল, ফু দিয়ে তার চোখে-মুখে এসে পড়া চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে বলল —--

— ‘উহু, ওয়াইন নয়, লাভবার্ড, তুমি আমার চুমু খাবে।’

অরণ্যের মাথাতেই নেই কিছু, সে ডুবে আছে সুবহাতে। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল সুবহার লালচে ঠোঁটের দিকে। কি হবে বুঝতে পেরে নিজের চোখ জোড়া বন্ধ করে নিল সুবহা। তখনই কানে এলো কারও কন্ঠস্ব —--

— ‘বাহ! অরণ্য, বাহ! তোদেরকে আগামী এক সপ্তাহ কোনো খাবার খেতে হবে না, এই চুমু-টুমু খেয়েই পেট ভরে যাবে দুজনের।’

অরণ্যের ধ্যান ভাঙল আদ্রীশের কথায়। দ্রুত সুবহার থেকে সরে গিয়ে তাকে আড়াল করে দাঁড়াল। সুবহার মাথাটা চেপে ধরল নিজের বুকে। মাথা ঘুরিয়ে আদ্রীশের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল অরণ্য —--

— ‘শালা, তুই মদখোর হলি কবে থেকে?’

আদ্রীশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথাটা কাটানোর জন্য বলল —--

— ‘তোর না হওয়া বউকে এভাবে আড়াল করলি যে, আমি কি হাইজ্যাকার?’

— ‘আমার বউ আমার, আমার সম্পত্তি। কাউকে দেখাব না আমি। এরপর থেকে “ আমার না হওয়া বউ ” না বলে “ ভাবি ” ডাকবি।’

আদ্রীশ ভালো মানুষের মতো মাথা নাড়িয়ে সায় জানাল অরণ্যের কথায়। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে চলে গেল সে। সুবহার প্রতি এতক্ষণ মায়া দেখালেও এখন রাগ হচ্ছে অরণ্যের। এতক্ষণ ধরে সুবহার মাতলামো সহ্য করে এসেছে ঠিকই, কিন্তু কাল যখন এই নেশা কেটে যাবে, তখন সুবহার চিৎকারের আওয়াজে না বাড়ির দেয়াল ধসে পড়ে তার! অরণ্য কিছু ভাবল না আর। পাশে থাকা কাউচে সুবহাকে শুইয়ে দিয়ে ওপরে কাঁথা জড়িয়ে দিয়ে চলে গেল সে।

———

কিয়ান পাগলের মতো কল দিয়ে যাচ্ছে সুবহার ফোনে। কিরণের চিন্তা মাথা থেকে সরে গিয়ে এখন সুবহাকে নিয়েই ভাবছে সে। খিদে পেয়েছিল কিয়ানের, তাই নিচে যাচ্ছিল। সুবহার রুমের দরজা খোলা দেখে চিন্তা হলো। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ডাকল তাকে। সাড়া শব্দ না পেয়ে কোনো কিছু না ভেবেই রুমের ভেতরে চলে এলো। পুরো রুম খুঁজেও কোথাও সুবহাকে না পেয়ে কল দিল তার ফোনে। বারবার রিংটোন বেজে কেটে যাচ্ছিল, তাই চিন্তা আরও বেড়ে গেল কিয়ানের।

এতক্ষণ হলো সুবহার রুমেই বসে আছে কিয়ান। বাইরে গিয়ে গাড়ি দেখতে না পেয়ে বুঝতে পারল, সুবহা কোথাও বেরিয়েছে। কিন্তু ফোন না তুলছে কেন বুঝতে পারছেনা কোনোভাবেই। একটু আগেই দেখেছে, আনহা কোথাও থেকে এসেছে। তাহলে কি আনহা আবারও কিছু করল? সন্দেহ হলো কিয়ানের। রেগে উঠে গেল আনহার রুমের দিকে।

বিজ্ঞাপন
অন্তরালের প্রণয়িনী গল্পটি আফরোজা আঁখি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক গল্প