অন্তরালের প্রণয়িনী

পর্ব - ৬

🟢

গটগট করে হেটে সিড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে গেছে সুবহা। উপস্থিত সবাই তাকিয়ে আছে তার যাওয়ার দিকে জাহিদ হোসেন মনে মনে হেসে বলছেন।“ আমি জানি প্রিন্সেস এই বিয়ে তুমি করবেনা।”

পাশে থাকা ওনার স্ত্রী কাধে হালকা ধাক্কা দিয়ে জিজ্ঞেস করছেন।

—“ কিছু কি বললে?”

—“ কই নাতো কিছুই বলিনি ভুল শুনেছো তুমি।”

—“ আমি স্পষ্ট শুনলাম কিছু বলছো। ”

—“ বয়সের সাথে মাথাটাও যাচ্ছে তোমার।”

জাহিদ হোসেন কথাটা বলেই সবার থেকে বিদায় নিয়ে জায়গা ছেড়েছেন।বাকিরা বসে কথা বলছে এখনো রিফাতরা আজকে থাকবেন এখানেই।

___

রুমে ঢুকেই শব্দ করে দরজাটা বন্ধ করে দিয়েছে সুবহা। এতোজুড়ে দরজা আটকানোর শব্দে সবাই তাকিয়েছে সেদিকে। কিয়ানের খাওয়া শেষ তবুও বসে আছে কি কথা হচ্ছে শুনার জন্য। সুবহা যে রেগে গেছে বুঝতে বাকি নেই রাগবেই না কেন ছোট বেলা থেকে ভাইয়া ডেকে এসেছে রিফাতকে তার সাথে নাকি আবার বিয়ে!সুবহার জন্য রিফাতকে মোটেও পছন্দ নয় কিয়ানের সবাই রাজি হলেও সুবহা যে এই বিয়ে করবেনা এটা তার জানা আর কিয়ান আছে কি করতে সমস্যা একটা লাগাবাই লাগাবে। রিফাত উঠে যেতে চাইছিলো সুবহার রুমের দিকে কিয়ান এসে আটকেছে সবাইকেই বলেছে সুবহাকে এখন আর বিরক্ত না করতে।

___

অন্ধকার রুমে হাত পা ছড়িয়ে বিছানায় পড়ে আছে অরণ্য।কিরণ এসে ডেকে গেছে রাতের খাবার খেতে অরণ্যের প্রতিউত্তর পায়নি।বিরক্ত না করে চলে গেছে নিজেও।কিরণ যেতেই বিছানায় থাকা ফোনটা হাতে তুলে নিয়েছে সে হসপিটালের জুনিয়র ডক্টর আর অরণ্যের ফ্রেন্ড আদ্রীশ তাকে বলেছিলো কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের ছবি পাঠাতে। সেটা দেখবে বলেই ফোনের গ্যালারিতে ঢুকেছিলো চোখ যায় হলুদ শাড়ি পরিহিত এক সুন্দরী মেয়ের ছবির দিকে। ছবিটা তার গায়ে হলুদের গলায় কানে মাথায় কাঁচা ফুলের গহনা দিয়ে সেজেছে। হলুদ শাড়ি কাঁচা ফুলের গহনা ঠিক যেন সূর্যমূখী ফুলের মতো লাগছে তাকে মুখে ঘায়েল করা মিষ্টি হাসি;এই হাসিতেই পাগল হয়েছিলো অরণ্য। মেয়েটার কথা বলার ভঙ্গি চালচলচন নজর খেড়েছিলো তার।ছবিটা প্রায় দুবছর আগের তখনকার সুবহার সাথে আজকের সুবহার কতো ব্যাবধান। আগে যে মেয়ে কারণে অকারণে হাসতো সে এখন প্রয়োজন ছাড়া কারোর সাথে কথা পর্যন্ত বলেনা সে। এতো পরিবর্তন কেন?এই পরিবর্তনের কারণটাই বা কি?সবটাই অজানা অরণ্যের কাছে। অরণ্য উঠে যাচ্ছিলো খিদেয় পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে তার না খেলে হবেনা। ফোন এসেছে আনহার নাম্বার থেকে দেখেও রিসিভ করেনি অরণ্য খেয়েদেয়ে আগে চাঙ্গা হবে তারপর বাকিসব।কিন্তু বার বার ফোন দিচ্ছে আনহা দরকারী কিছু বলবে হয়তো এই ভেবে রিসিভ করতে নিচ্ছিলো কিন্তু রিসিভ করার আগেই কলটা কেটে গেছে। আনহা ছবি পাঠিয়েছে কিছুর অরণ্য ছবিগুলো দেখল।দেখা মাত্রই পায়ের রাগ মাথায় উঠে গেছে তার ফোনটাকে এতো জুড়ে ছুড়ে ফেলেছে যে দেয়ালে থাকা কাচের ফ্রেমের ছবিটা ভেঙে মেঝেতে পড়েছে। দামী ফোনটার গ্লাস ভেঙে গিয়েছে মাটিতে পড়ে আছে সেটা। রাগ হচ্ছে অরণ্যের বেড সাইড টেবিলের উপরে থাকা পানির জগ গ্লাস সব জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলেছে সাথে সাথে।কিরণ যাচ্ছিলো অরণ্যের রুমের পাশ দিয়ে না চাইতেও চোখে পড়েছে ভাইয়ের উগ্র মেজাজ। এরকম কেন করছে অরণ্য? খুব বেশি রাগ না করলেতো এরকম করেনা।

অরণ্য বিছানায় বসেছে চোখ বন্ধ করে রাগ নিবারনের চেষ্টা চালাচ্ছে।দরজা খুলা থাকায় রুমে ঢুকতে সমস্যা হয়নি কিরণের রুমে এসে লাইট জ্বালিয়েছে সে।হঠাৎ ঘরে আলো জ্বেলে উঠায় চোখ মুখ কুচখে বন্ধ করে নিয়েছে অরণ্য ধমক দিয়ে উঠেছে কিরণকে।

—“ লাইট অন করেছিস কেন?তোকে কে বলেছে এখানে এসে পাকনামো করতে নিজের রুমে যা।”

এতো জুড়ে ধমক দেওয়ায় কেঁপে উঠেছে কিরণ এগিয়ে এসেছিলো অরণ্যের দিকে ভয়ে কয়েকপা পিছিয়ে গিয়েছে আবার। তবে ভয় পেলে চলবেনা কাহিনী কি জেনেই ছাড়বে আজকে।কিরণ এসে দপ করে ভাইয়ের পাশে বসেছে কপালে হাত ছুঁয়ে বলছে।

—“ জ্বর টরতো হয়নি এমন করছো কেন?”

অরণ্য ভ্রু কুচখে বোনের দিকে তাকিয়ে বলছে।

—“ যাবি তুই?”

—“ যাবোনা কি করবে?”

—“ কিরণ জ্বালাসনা আমাকে যা এখান থেকে।”

কিরণ মুখ ভেংচি কেটে উঠে দাঁড়িয়েছে যেতে যেতে বলছে।

—“ ঠিক আছে যাচ্ছি, সুবহার বিয়ের খবরটা জানাতে এসেছিলাম তুমি শুনবেনা যখন আর কি করার।”

অরণ্য উঠে এসে দ্রুত কিরণের সামনে দাঁড়িয়েছে অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করছে।

—“ কি..কার বিয়ে?কার সাথে বিয়ে?কি বললি এক্ষুনি আবার বল?”

—“ বলবোনা ঘুম পেয়েছে আমার যাচ্ছি।”

কিরণ হাই তুলে চলে যাচ্ছিলো অরণ্যের পাশ কাটিয়ে। রাগে নিজের মাথার চুল খামচে ধরেছে অরণ্য কিরণের হাত ধরে নিজের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে ধমকের স্বরে বলেছে কিরণকে।

—“ কিরণ রাগাবিনা আমাকে কি বললি স্পষ্ট করে বল।”

চোখের সামনে অরণ্যের এমন রাগী রূপ দেখে ভয় গেছে এবার কিরণ। মজা করেই বলেছিলো সে অরণ্য যে সিরিয়াস হয়ে যাবে জানা ছিলোনা এটা তার।কিরণ ভয়ে ভয়ে উত্তর দিয়েছে ভাইয়ের কথার।

—“ ব..বলছি। ”

অরণ্য তার লাল লাল চোখ নিয়ে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়েছে কিরণের দিকে কটমট কন্ঠে বলছে।

বিজ্ঞাপন

—“ কিরণ..

পুরো কথা শেষ করার আগেই কাঁদো কাঁদো মুখ করে কিরণ বেচারি বলতে শুরু করেছে।

—“ বলছিতো আমাকে সময় দাও একটু।”

স্থির হয়েছে অরণ্য মন দিয়ে শুনছে কিরণের বলা প্রতিটি কথা। একেকটা কথা শুনে চোখ মুখে রাগ ফুটে উঠেছে আগুনের লাভার ন্যায় লাল হয়ে গেছে অরণ্যের চোখ দুটো।রাগে মুষ্টিবদ্ধ করা হাতটা দিয়ে ঘুষি মেরেছে দেয়ালে। সাদা রঙের দেয়াল গড়িয়ে অরণ্যের হাতের রক্ত পড়ছে। কিরণ দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরেছে ভাইয়ের অবস্থা দেখে আঁতকে উঠেছে সে।কথা না বলে কিরণ চলে যাবে রুম থেকে তখন তাকিয়েছে অরণ্যের দিকে আবারও। ভাইয়ের এমন ভয়ংকর রূপ দেখেছে সে আগেও৷ কারণটা ছিলো সুবহাই আজকে আবারো একই কারণে নিজেকে আঘাত করলো অরণ্য। কিরণের মাথাতেও আসেনি তখন অরণ্য এতোটা রেগে যাবে। অরণ্য বুঝলো কিরণ ভয় পেয়েছে তার ব্যাবহারে নিজেকে শান্ত করেছে বলেছে কিরণকে।

—“ যা গিয়ে ঘুমিয়ে পড়। কালকে বাড়িতে মেহমান আসবে ভার্সিটি যাওয়ার দরকার নেই বাড়িতেই থাকবি।”

কিরণ কোনো কথা বলেনি হাবাগোবার মতো মাথা নাড়িয়ে সায় দিয়েছে অরণ্যের কথায় চুপচাপ চলে গেছে রুম থেকে বেরিয়ে। বাহিরে এসেই শান্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো সে মনে হচ্ছিলো এতো সময় বাঘের গুহায় আটকা পড়েছিলো বেচারি।

অরণ্য কি যেন ভাবছে বিছানায় দপ করে পড়ে ঘাড় কাত করে মেঝেতে পড়ে থাকা ভাঙা ফোনটার দিকে তাকিয়ে হাসছে বিরবির করে বলছে।

—“ তোমাকে আমার কাছেই আসতে হবে লাভবার্ড।“

___

রাত প্রায় ১ টা বাজতে চললো ঘুম নেই সুবহার চোখে সেই যে রুমে এসে দরজা আটকেছিলো বাকিরা এসে ডাকাডাকি করেছে তবুও খুলেনি। এতো সময় ধরে এক জায়গায় বসে থাকতেও দম বন্ধ লাগছে তার। ভাবলো ছাদে গিয়ে হেটে আসবে কিছুসময় কিন্তু এতো রাতে একা একা ছাদে যাওয়ারও সাহস পাচ্ছেনা।

চোখ যায় জানালার দিকে হেটে গিয়ে পর্দা সরিয়ে খুলে দেয় জানালাটা। বাহিরে বাতাস বইছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে গাছের পাতাগুলো দুলছে। দমকা বাতাস এসে ছুঁয়ে দিয়েছে সুবহার মুখ। চুলগুলো উড়ে এসে পড়েছে চোখে মুখে হাতের সাহায্যে চোখে মুখে এসে পড়া এলোমেলো চুল গুলো গুজে দিয়েছে কানের পাশে। মনটা ভালো লাগছে এখন বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলো সুবহা সেখানে।এবার তার ঘুমানো দরকার। সুবহা ছাড়া বাড়ির কেউই হয়তো জেগে নেই এই সময়ে। জানালাটা বন্ধ করে দিয়ে চলে যেতে চাইছিলো মনে হলো নিচে কারোর গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। সুবহার রুমের জানালা দিয়ে পুরোপুরি দেখা যায় গেইটের সামনে কিছু হলে তাই নজর এড়ায়নি তার। ভালো করে দেখলে বুঝতে পারলো সুবহা। একটা কালো রঙের কার দাঁড়িয়ে আছে সুবহাদের বাড়ির গেইটের সামনে কিন্তু এতো রাতে এখানে কে আসবে?ভিতরে কেউ বসে আছে গাড়ির স্টেয়ারিংয়ে মাথা রেখে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সুবহার দিকে। মানুষটা কে বুঝতে অসুবিধে হয়নি সুবহার। মনে মনে ভাবছে এতো রাতে অরণ্য কি করছে এখানে?কোনো এক অজানা কারণে না চাইতেও পা দুটো আটকে গেছে সুবহার চেয়েও জায়গা ছাড়তে পারছেনা সে।

গাড়িতে বসে থাকা অরণ্যের ঠোঁটের কোণে রহস্যেভরা হাসি ওভাবে বসে থেকেই বলছে অরণ্য।

—“ আমাকে কাছে পাওয়ার আশায় একদিন তুমিও ছাতক পাখির মতো ডানা ঝাপটাবে লাভবার্ড, কিন্তু পাবেনা।”

কি যেন ভেবে হাসছে অরণ্য সুবহা এখনো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে তাকে। অরণ্য দেরি করেনি মুহুর্তেই গাড়িটা ফুল স্পিডে ছেড়ে চলে গেছে সুবহার চোখের সামনে থেকে।

___

অরণ্যের চলে যাওয়া গাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে সুবহা। মনে হলো প্রচন্ড রাগে করেছে এমনটা। সুবহা চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। এসব কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে তাকে ঘুমানো প্রয়োজন।

বিছানায়য় পড়ে চটপট করছে সুবহা ঘুম নেই তার দুচোখের পাতায়। চোখটা বন্ধ করলেই কেন সেই চেনা পুরুষের হাসিমাখা মুখটা ভেসে উঠছে বার বার!নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছে সুবহা।আজকে কেন এমন আফসোস হচ্ছে দোষতো তার ছিলোনা।কেন মনে হচ্ছে সেদিন বোকামো করে বিয়েটা ভেঙে না দিলে আজকে আনহার জায়গায় অরণ্যের পাশে সুবহাই থাকতো। সুবহার আজকে খুব করে মনে পড়ছে সেদিনের কথা।

___

সুবহার সাথে অরণ্যের বিয়ে ঠিক ছিলো সেই ছোট বেলা থেকেই গম্ভীর স্বভাবের অরণ্যকে খুব ভয় পেতো সুবহা। সবসময় যাতায়াত ছিলো দুই বাড়ির মানুষের। অরণ্যের আব্বুর সাথে সুবহার আব্বুর বন্ধুত্বের সম্পর্ক। সেই সম্পর্ককে আত্মীয়তার সম্পর্কে নিয়ে আসতে চাইছিলেন দুজনেই সেজন্যই দুই বন্ধু একজনের একমাত্র ছেলের সাথে আরেকজনের একমাত্র মেয়ের বিয়ে ঠিক করে রেখেছিলেন। অরণ্য তখন মেডিকেলের স্টুডেন্ট সুবহা তাকে লক্ষ্য করতো সবসময় অরণ্যের কথাবার্তা সবকিছুই খুব করে টানতো তাকে। দুই একবার কথা হয়েছে সেই কথা থেকেই ভালোলাগা। দেখতে দেখতে কিভাবে যে ভালোলাগাটা ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে বুঝতেও পারেনি সে।সুবহা বড় হলো অরণ্যও পড়াশোনা গুছিয়ে ডাক্তার হলো দেখা হতো তাদের মাঝেমধ্যে,তবে সুবহা কথা বলতো কম। আনহা আবার অরণ্যের বেস্ট ফ্রেন্ড একসাথে পড়াশোনা করেছে দুইজন আনহা অকারণেও অরণ্যদের বাসাতে গিয়ে পড়ে থাকতো। বোনের মুখে সারাক্ষণ প্রিয় মানুষটার প্রশংসা শুনতো সুবহা কিন্তু তারও যে অরণ্যকে ভালো লাগতো বুঝেনি এটা।

সুবহার আম্মুর একমাত্র বোন অর্থাৎ সুবহার খালামনি আমেরিকায় থাকেন সুবহাকেও নিজের কাছে নিতে চাইছিলেন তিনি জাহিদ হোসেনের আপত্তি ছিলো এখানে। তিনি একমাত্র মেয়েকে এতোদূরে পাঠাবেননা।কিন্তু সুবহার অনেক ইচ্ছে সে তার খালামুনিকে দেখবে বাহিরের দেশটা ঘুরে দেখবে। মেয়ের ইচ্ছে ছিলো যাওয়ার তাই নিজের অমত থাকলেও হাসি মুখে মেনে নিয়েছিলেন জাহিদ হোসেন।নিজেই ভিসা পার্সপোর্ট সবকিছু রেডি করেছিলেন। ছেলের হবু বউকে একা ছাড়বেননা জাহানারা সুলতানা সুবহা মেয়েটাকে তিনি ছোটবেলা থেকেই অনেক স্নেহ করেন। তখনই প্রস্তাব দিয়েছিলেন সবাইকে অরণ্যের সাথে তার বিয়েটা হয়ে যাক পরে দুজন মিলে ঘুরতে যাবে এই কথায় আবার সায় জানিয়েছিলেন সবাই।

আনহা বাড়ির বড় মেয়ে হলেও সুবহার সাথে অরণ্যের বিয়েতে দেরি করতে চাননি অরণ্যের আব্বু আম্মু তাইতো এতো ঘটা করে বিয়ের আয়োজন করেছিলেন ছেলের।বউমা ওনার পছন্দের ছেলেরও অমত নেই দেরি কোথায়!তড়িঘড়ি করে তখনই বিয়ের আয়োজন করা হলো। আজ হোক না কাল বিয়েটা হবেই তাই কেউই দেরি চায়নি।

গায়ে হলুদ সেদিন, সুবহা মনে মনে খুশি ছিলো তার যাকে ভালো লাগে বিয়েটা তার সাথেই হতে চলেছে সেজন্য। কিন্তু কল্পনাতেও ছিলোনা মাঝপথে এসে নিজেকেই সবটা এলোমেলো করে দিতে হবে।

হলুদ শাড়িতে সেজেছে সুবহা বাগান থেকে তুলে আনা কাঁচা ফুলের গহনা পড়ানো হয়েছে তাকে পুরো বাড়ি সাজানো হয়েছে সুন্দর করে। ফুলের গন্ধে মো মো করছে চারিপাশ। সুবহা বসে আছে সবার মাঝখানে দূরে দাঁড়িয়ে কেউ দেখছে তাকে। সুবহার হাসিখুশি মুখটা পছন্দ হলোনা তার পাশে সাজানো ফুলগুলো হাত দিয়ে একটা একটা করে ছিঁড়ে মাটিতে ফেলছে। এমনিতেই রেগে ছিলো আনহা তারমধ্যে আবার অরণ্য ফোন দিয়েছে। ভাবলো অরণ্য তাকে মেসেজের উত্তর দিবে রাগ সরিয়ে পটাপট ফোন কলটা রিসিভ করেছে উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করেছে অরণ্যকে।

— “ হ্যাঁ অরণ্য কি বলবি বল। আমার পাঠানো মেসেজটা দেখেছিলি তখন?”

—“ কিসের মেসেজ?ফোনটা এইমাত্র হাতে নিলাম হঠাৎ করেই মনে পড়লো আজকে আমার বউয়ের গায়ে হলুদ কিন্তু আমি বাড়িতেই থাকতে পারিনি ইমার্জেন্সি পেসেন্ট থাকায় হসপিটালে আসতে হলো। ”

অরণ্যের মুখে আবারো সুবহার কথা শুনে নিজেকে স্থির রাখতে পারছেনা আনহা ইচ্ছে করছে সবকিছু ভেঙেচুড়ে শেষ করে দিতে। অরণ্য বার বার ডাকছিলো তাকে নিজেকে স্বাভাবিক করে উত্তর দিয়েছে তখন।

—“ কি বলার জন্য ফোন দিয়েছিস?”

—“ একটা কাজ করে দে তোর জন্য সুন্দর টাকলা পেট মোটা টাইপ জামাইয়ের ব্যবস্থা করে দেবো। ”

—“ কি কাজ?”

—“ তোর বোনের মানে আমার বউয়ের পাশে গিয়ে কয়টা ঝাকানাকা ছবি তুলে আমাকে সেন্ড কর।”

অরণ্যের কথায় আনহার রাগ হচ্ছে খুব কাঁটা গায়ে নুনের ছিটে ফেলার কাজটা ভালো ভাবেই করে দিয়েছে অরণ্য। না পেরেই বলেছে অপেক্ষা করতে সে ছবি পাঠাবে সুবহার।

বিজ্ঞাপন
অন্তরালের প্রণয়িনী গল্পটি আফরোজা আঁখি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক গল্প