অন্তরালের প্রণয়িনী

পর্ব - ৩

🟢

একটা ক্যাফেতে মুখোমুখি বসে আছে কিয়ান আর কিরণ। কিরণের ঠিক পাশেই বসেছে সুবহা একবার তাকাচ্ছে ভাইয়ের দিকেতো আরেকবার তাকাচ্ছে বান্ধবীর দিকে চোখে চোখে যুদ্ধ হচ্ছে দুজনের মধ্যে। সুবহা মাথায় হাত ঠেকিয়ে বলছে।

_“ তোমারদের চোখে চোখে ঝগড়া শেষ হলে আমাকে বলো কিছু অর্ডার দেই।”

_“ তোর ভাই আমার আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে টমেটো সস দিয়ে মাখিয়ে কাঁচা গিলে খাবে।”

_“ এই সুবহা এই চাইনিজ কোম্পানির নষ্ট প্রর্ডাক্টকে চুপ করতে বল।”

রাগ হলো কিরণের উঠে দাঁড়িয়ে টাস হাতে থাকা গ্লাসটা শব্দ করে টেবিলের উপর রেখেছে রেগেমেগে বলছে কিয়ানকে।

_“ কি!আমি চাইনিজ কোম্পানির নষ্ট প্রডাক্ট? ”

_“ তাছাড়া কি?”

এতো সময় ধরে দেখে যাচ্ছে সুবহা সেই যে পার্কে ঝগড়া শুরু হয়েছিলো এখনো চলছে,চলবে এমন অবস্থা।

_“ আল্লাহ থামবে তোমরা।”

_“ আমাকে বলছিস কেন তোর ভাই মানে এই ভাঙা রেডিওকে থামতে বল।”

_“ আমাকে বলবে কেন সুবহা এই মাথামোটা মেয়েটাকে চুপ থাকতে বল।”

সুবহা মাথায় হাত দিয়ে একবার তাকালো ভাইয়ের দিকে আরেকবার তাকালো কিরণের দিকে।

_“ দুজনকেই বলছি বাচ্চাদের মতো ঝগড়া করার স্বভাবটা তোমাদের আর গেলোনা।”

সুবহার বড়সড় ধমক খেয়ে চুপ করে গেছে কিয়ান। কিয়ান হার মেনেছে দেখে মজা পাচ্ছে কিরণ। কিরণের কিছু খেতে ইচ্ছে করছেনা কিন্তু সুবহা তাকে না খাইয়ে ছাড়বেওনা সেজন্য না পেরেই কফি খাবে বলেছে কিরণ। সুবহাও অর্ডার দিয়েছে সাথে সাথে। কথা বলছে সুবহা আর কিরণ কিয়ান ফোন ঘাটছে মাঝেমধ্যে আবার তাকাচ্ছে কিরণের দিকে।এই মেয়েটাকে পছন্দ করে সে কিন্তু বার বার কিভাবে যে ঝগড়া লেগে যায় বুঝতেই পারেনা। কিরণের সাথে সুবহার ফ্রেন্ডশিপ সেই স্কুল লাইফ থেকে একই স্কুল কলেজে পড়েছে দুইজন। পাশাপাশি বাসা ছিলো আগে তার উপর অরন্যের আব্বু আর সুবহার আব্বু ছোট বেলার বন্ধু।সেইজন্য দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কও ছিলো ভালো তবে দুই বছর আগে যখন সুবহা নিজের বিয়ে ভেঙে দিলো সেই থেকে এক বাড়ির মানুষের অন্য বাড়িতে আসা যাওয়া কমে গেছে বলা চলে। অরন্যের সাথেও কিয়ানের সম্পর্ক ছিলো ভালো যদিও কিয়ান অনেক ছোট অরন্যের থেকে তবুও বন্ধুসুলভ আচরণ করতো দেখা হলেই।কিছু কারণে এখন আর তেমন কথা হয়না ভালো লাগেনা অরন্যকে অরন্যকের কাজে তার প্রতি ভালো লাগা কম খারাপ লাগাটাই বেশি কাজ করে কিয়ানের মনে।

ক্যাফের কাচের দরজাটা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করেছে কেউ। না চাইতেও সুবহার চোখ যায় সেদিকে।কালো শার্ট কালো প্যান্ট হাতে কালো বেল্টের ঘড়ি পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরোটাই যেন কালো দিয়ে ঢেকে রেখেছে।উজ্জ্বল শ্যামলা মুখশ্রী ব্যাক ব্রাশ করা চুল কতো সুদর্শন লাগছে তাকে।এই শ্যাম বর্ণের সুদর্শন যুবকের প্রেমে পড়েছিলো অষ্টাদশী সুবহা। তার দিক থেকে সাড়া পায়নি এমন নয় সবসময় মনে হতো মানুষটা ভালোবাসে থাকে।কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষের পছন্দেও যে মরিচা পড়ে এই মানুষটাকে না দেখলে জানতোনা সুবহা। নিজেই নিজেকে জিজ্ঞেস করছে,কেন এই মানুষটাকে দেখে মনে এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছে! মুহুর্তের মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো সুবহার অরন্যের ঠিক পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আনহা। সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়েছে সুবহা টেবিলের উপরে রাখা নিজের পার্সটা হাতে নিয়ে বলছে ভাইকে।

_“ এখান থেকে চলো ভাইয়া ভালো লাগছেনা আমার।”

_“ কি হলো হঠাৎ করে খাবারটা শেষ করে নেই দাঁড়া।”

কিরণ কফির কাপটা রেখে উঠে দাঁড়িয়ে কিয়ানকে বলছে।

_“ আজকে রেস্টুরেন্টের সব খাবার এই রাক্ষসের পেটেই গিয়েছে।”

_“ টাকা কি তোমার ভাই দিয়েছে আমার টাকায় আমি খেয়েছি। এতো কথা কিসের মাথামোটা মহিলা কোথাকার।”

_“ সব কথায় আমার ভাইয়াকে টানা বন্ধ করুন।”

কিয়ান আর কিরণের কাজে বিরক্ত সুবহা এতো বড় ছেলে মেয়ে দুজন ঝগড়া করছে কিভাবে বাচ্চাদের মতো পাশের টেবিলে বসে থাকা লোকজন তাকিয়ে দেখছে আর হাসছে।

_“ থাকো তোমরা ঝগড়ার কম্পিটিশন শেষ করেই নাহয় যেও। আমি গেলাম।”

সুবহা চলে যাচ্ছিলো কিয়ান আর কিরণ পিছু নিয়েছে তার। কিছুদুর যেতেই থেমে যায় সুবহার পা অরন্য এসে পথ আটকে দাঁড়িয়েছে তার।

_“ লাভবার্ড চলে যাচ্ছো কেন?তোমার জন্যইতো ইমাজেন্সি রোগী রেখে আসলাম আমি।”

_“ আমি আসতে বলেছি আপনাকে?”

_“ মুখে না বললেও তোমার মন আমাকে ডাকছিলো। বলছিলো! বুক চিন চিন করছে হায় মন তোমায় কাছে চায়।”

দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কিরণ মিটিমিটি হাসছে ভাইয়ের কথায়।সুবহা ভ্রু কুচখে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়েছে অরন্যের দিকে।

_“ সামনে থেকে সরুন। ”

_“ লাভবার্ড রাগ করছো কেন? আমার মন বলছিলো তুমি আমার কথা ভাবছো। দেখা না দিলেতো কষ্ট পেতে তাই চলে এসেছি।এমনিতেই মানুষের কষ্ট আমার সহ্য হয়না আর তুমিতো আমার ভবিষ্যৎ বাচ্চাদের আম্মু কষ্ট দেই কি করে বলো!”

কিয়ান আর কিরণ দূরে দাঁড়িয়ে আছে তবে শুনতে পাচ্ছে সবটাই কিরণই বলেছে অরন্যকে মেসেজ করে সে সুবহার সাথে আছে শুনা মাত্রই চলে এসেছে অরন্য।কিয়ানের রাগ হচ্ছে অরন্যের কাজে কিন্তু কিছু বলছেনা সুবহা বিরক্ত হচ্ছে বুঝতে পারলেই মাত্রই অরন্যকে দেখে নিবে সে ভেবেছে এটাই।এদিকে রাগে মাথা খারাপ আনহার দাঁত কিড়মিড় করে তাকিয়ে আছে সুবহার দিকে। আহনার রাগ দেখে হাসি পাচ্ছে সুবহার। আনহার কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলছে।

_“ দেখলিতো আপু বলেছিলামনা তোর হবু বরকে সামলে রাখতে! ”

আনহা আরো রেগে গেছে সুবহার কথা শুনে ভ্রু কুচখে তাকিয়েছে সুবহার দিকে পারলে গায়ে হাত তুলতেও দেরি করতোনা। এখানে লোকজন বেশি তাই চুপ আছে কিছু না বলে।

কিরণকে ডেকে নিয়ে ড্রাইভার দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে অরন্য। সুবহাকে নিয়ে চলে যাচ্ছিলো কিয়ান। গাড়ি স্টার্ট দিবে তখন চোখ যায় অপর পাশে। দেখতে পায় কিরণকে পাশে বসে আছে অরন্যের বন্ধু আদ্রীশ।কিরণ হেসে হেসে কথা বলছে তার সাথে।কিয়ানের মাথায় দপাদপ আগুন জ্বলে উঠলো রাগে গাড়ির স্ট্রেয়ারিং চেপে ধরেছে শক্ত করে। সুবহা ভাইয়ের দিকে তাকালো তার দৃষ্টি অনুসরণ করে আবার সেদিকে তাকিয়ে দেখলো কিরণকে। রাগের কারণ বুঝলো এখন কিয়ানের কাধে হাত রেখে বলছে সুবহা।

_“ দেখা হলে ঝগড়া আবার অন্য কারো সাথে কথা বললে এতো জেলাস কাহিনীটা কি? আমি যা ভাবছি তাই!”

_“ ঢং করছিস!জানিসনা তুই?”

সুবহা হেসে উত্তর দেয় ভাইয়ের কথার।

_“ হ্যাঁ জানি তোমার মুখ থেকে শুনতে চাইলাম আবার।চিন্তা নেই কিরণের কোনো পছন্দ নেই আমার ভাইয়ার বউ হবে বলে কারোর ডাকে সাড়া দেয়নি সে।”

বোনের কথায় চিন্তামুক্ত হলো কিয়ান চোখ মুখের সব রাগ সরে গিয়েছে মুহুর্তেই।

বিজ্ঞাপন

_“ এটা হলেই ভালো। ”

গাড়ি স্টার্ট দিয়েছে কিয়ান আজকে সুবহার অফিস জয়েন করার কথা। কিরণের ভার্সিটির রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলো তারা। কিয়ান বড় হলেও কাজ কর্ম সব তার বাচ্চাদের মতো গাড়ি থামিয়ে সুবহাকে বলছিলো তখন। “কতোদিন আমরা ঘুরিনা চল ঘুরে আসি আজকে”। সুবহাও না করেনি কিন্তু যখন দেখলো তাকে নিয়ে বাচ্চাদের পার্কে ঘুরতে এসেছে তখন কি বলবে, রাগ করবে না খুশি হবে বুঝতে পারছিলোনা কিছুই।তবে সেখানে গিয়ে যে কিরণের দেখা পাবে এটাও ভাবেনি।

____

অরন্য আর আনহা গিয়েছে একটা গহনার দোকানে সাথে আবার অরন্যের ড্রাইভারও আছে।অরন্যের ছোটই হবে সবসময় সাথে সাথে থাকে তার। ওনার ঘর আলো করে এসেছে এক ছেলে সন্তান বেশিদিন হয়নি। অরন্যের হুট করেই মনে পড়লো কথাটা। আক্কাসের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো তাকে।

_“ তোমার না ছেলে হয়েছে।“

ভয়ে ভয়ে উত্তর দিলো আক্কাস।

_“ আ..আমার বউয়ের স্যার। ”

অরন্য মাথা ঘুরিয়ে চোখ গরম করে তাকিয়েছে আক্কাসের দিকে।এই আক্কাসকে কিছু জিজ্ঞেস করলে এমন উত্তর দেয় নিজে উল্টো প্রশ্ন করে না উত্তর দেয় বুঝা মুশকিল।

_“ বলদ!ওটাই বলেছি। ”

অরন্যের ধমকে ভয় পেয়ে গেছে আক্কাস কিছুটা দূরে সরে গিয়ে আবারো ভয়ে ভয়ে বলছে।

_“ হ্যাঁ স্যার কেন?”

অরন্য মুখে হাসি টেনে বলে।

_“ ওর নাম কি রেখেছো ঝাক্কাস?”

আক্কাস বেচারা হা করে তাকিয়ে আছে অরন্যের দিকে।অরন্যের হাসি পেলো আক্কাসের মুখের ভঙ্গি দেখে আনহার হাতে দুই তিনটা শপিং ব্যাগ ছিলো আনিয়েছে অরন্যই বাচ্চাদের জামাকাপড়ের ব্যাপারে ধারণা নেই তার তাই ডেকে এনেছে আনহাকে।শপিং ব্যাগগুলো নিয়ে আক্কাসের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। কিছু বলতে গেলে আবার চোখের ইশারা দিয়ে বলেছে কথা না বলে গাড়িতে গিয়ে বসতে।

সব থেকে সুন্দর আর দামী আংটিটা হাতে তুলে নিয়েছে অরন্য। চোখ বন্ধ করে ইমাজিন করছে ‘ বাড়ি ভর্তি মেহমান সিড়ি দিয়ে নিছে নেমে আসছে সুবহা পরনে তার হালকা গোলাপি রঙের লেহেঙ্গা। অরন্য গিয়ে হাত ধরে নিয়ে এসেছে তাকে সবার সামনে হাটু গেড়ে বসে প্রপোজ করেছে। সুবহা বেশি সময় নেয়নি উত্তর দিতে।অরন্য তার হাতের আঙ্গুলে পরিয়ে দিয়েছে সাদা পাথরের ডায়মন্ডের সুন্দর আংটিটা।অরন্যের লাভবার্ডকে মানিয়েছে ভালো।’

আনহার মুখে হাসি ভাবলো আংটিটা কিনেছে অরন্য তার জন্যই। কিন্তু এতো সময় হলো দিচ্ছেনা কেন তাকে! আনহা নিজেই হাত দিয়ে নিতে চাইলো অরন্য সরিয়ে নিয়েছে সেটা।

ক্রেডিট কার্ড আনহার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলছে।

_“ যা লাগে নিয়ে নে গাড়িতে ওয়েট করছি আমি।হসপিটাল যেতে হবে তাড়াতাড়ি আয়।”

চলে গেলো অরন্য তার যাওয়ার দিকে অসহায়ের ন্যায় তাকিয়ে আছে আনহা।এই ছেলেটাকে ভালোবাসে সেই কলেজ লাইফ থেকে এতোকিছু করেও নিজের ভালোবাসা বুঝাতে কি ব্যার্থ হলো সে!কেন বুঝেনা অরন্য আনহা তাকে পাগলের মতো ভালোবাসে।নিজের করে চায় সবসময়।

___

আজকে আর অফিসে যাওয়া হয়নি সুবহার। বাড়িতে এসে বাবা চাচার বকাঝকা শুনেছে কিয়ান আর সুবহা দুজনে।তবে বেশি কথা শুনতে হয়েছে কিয়ানকেই সুবহার খারাপ লাগলো আবার হাসিও পেলো যাই করুক না কেন সব দোষ গিয়ে পড়ে কিয়ান বেচারার কাধে। এখন সময় রাত ৮ টার মতো ছাদে দাঁড়িয়ে আছে সুবহা। রুমে বসে ছিলো এতো সময় ভালো লাগছেনা তাই চলে আসলো বাহিরের মুক্ত বাতাসে একটু হাটাহাটি করতে। আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছে সুবহা। আচমকা টান পড়ে তার হাতের কব্জিতে তাকিয়ে দেখতে পায় আনহাকে। চোখে মুখে রাগ নিয়ে তাকিয়ে আছে সুবহার দিকে।আনহাকে রেগে তাকিয়ে থাকতে দেখে প্রশ্ন করে সুবহা।

_“ কি হয়েছে?”

_“ কি হয়েছে জানিস না তুই?কেন এসেছিস তুই সুবহা চলেইতো গিয়েছিলি আসলি কেন আবার?”

মনে মনে কষ্ট পেলো সুবহা আনহা যে তার আসাতে একেবারেই অখুশি ভালো করেই বুঝতে পারছে সুবহা এটা। কিন্তু এতো রাগ সুবহার প্রতি তার বোনের!আগে কতো মিষ্টি করে কাছে টেনে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো।স্নেহ করে কপালে চুমু এঁকে দিতো বছর তিনেক আগের আনহা আর আজকেই আনহার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ হয়ে গেছে।

_“ আমার আসাতে তোদের খুব ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে কি!”

_“ তা নয়তো কি!অরন্যকে আমি ভালোবাসি সেই কবে থেকে জানিসনা তুই এটা আবারো তুই আমাদের মধ্যে আসলি কেন?”

_“ তোর অরন্যের প্রতি আমার কোনো কালেই কোনো ইন্টারেস্ট ছিলোনা আপু, এখনো নেই।অরন্য তোমাকে ভালোবাসলে এতো ভয় কেন তোমার? ”

সুবহার কথায় কেমন যেন ঘাবড়ে গেলো আনহা। সুবহাকে সবসময় এটা বললেও আনহাতো জানে অরন্য তাকে ভালোবাসেনি একদিনের জন্যেও।সবসময় বন্ধুত্বের দোহায় দিয়ে দূরে সরিয়ে দিয়েছে তাকে।

_“ শুনে রাখ সুবহা অরন্য আমার ওকে তুই আমার থেকে কেড়ে নিতে পারবিনা কখনো। ”

বোনের চোখে মুখে ভয় দেখে হাসলো সুবহা।

_“ চ্যালেঞ্জ করছিস?”

আনহা কথা বললোনা।জানে ভালো করেই সুবহাকে এখন যদি এটা বলে ‘ হ্যাঁ চ্যালেঞ্জ করেছি ’ তাহলে অরন্যকে নিজের করে ছাড়বেই সুবহা।

সুবহা চলে যাচ্ছে ছাদ থেকে যেতে যেতে আনহাকে বলছে।

_“ সুবহা কারোর জন্য পাগল নয় রে আপু অন্য কেউ আমাকে চাইলে আমার কি করার আছে।সামলে রাখ নিজের হবু বরকে।”

আনহার ঘাবড়ে যাওয়া ভিতু মুখশ্রী দেখে হাসি পাচ্ছে সুবহার ইচ্ছে করেই বলেছে এভাবে।

রুমে এসে বিছানায় দপ করে পড়েছে সুবহা।ফোনটা হাতে নিয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড রিয়াদ আর মারিয়াকে কল দিয়েছে।কিয়ানের পর এই দুইটা মানুষ সুবহার ভালো থাকার কারণ। তিন বন্ধুর মেসেঞ্জার গ্রুপ আছে একজন অন্যজনের থেকে দূরে গেলেই ফোন দিয়ে সারাদিন কথা হয় তাদের। রিংটোন বাজার সাথে সাথে তুলে নিয়েছে দুজনেই। ঘুমানোর আগে পর্যন্ত দুজনের সাথে আড্ডা দিবে সুবহা। ফোনে কথা বলছে আর বার বার মেসেজ অপশনে গিয়ে অরন্যের দেওয়া মেসেজ গুলো পড়ে দেখছে। কিছুক্ষণ আগেই একটা মেসেজ এসেছে।সুবহা সেটা পড়ে দেখল।

_“ লাভবার্ড তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে,চোখের নিচে ডার্কসার্কেল হলে আমার সুন্দরী বউকে দেখতে পেত্নীর মতো লাগবে।”

না চাইতেও হাসছে সুবহা। পরক্ষনেই আবার বকাবকি করছে নিজেকে এই লোকটার কথায় মনে এমন ভালো লাগা কাজ করে কেন?কেন নিজেকে আটকাতে পারেনা সুবহা। ফ্রেন্ডদের বিদায় জানিয়ে ফোনটাকে বেড সাইড টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দিয়েছে আর ভাববেনা কাউকে নিয়ে।

___

অফিসের কাচের দরজাটা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করেছে সুবহা। ভিতরে আসতে আসতে উপরে তাকিয়ে দেখেছে সুন্দর করে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ‘ ASK ইন্ডাস্ট্রিজ ’ নামটা তারা তিন ভাই বোনের নামেই দেওয়া হয়েছে। ঠিক কতোদিন পর নিজেদের অফিসে পা রাখলো জানা নেই সুবহার। ভিতরে আসতেই দেখা মিললো সুবহার আব্বুর পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব্বিরের। ছেলেটা বয়সে কিয়ানের বড় হবে আগে সুবহার আব্বুর সাথে সাথে থাকতো সবসময় এখন তার কাজ সুবহাকে দেখে রাখা।

অফিসের সব স্টাফরা এসে ফুলের বুকে দিয়ে ওয়েলকাম করেছে সুবহাকে।মেয়েগুলো বার বার সুবহার দিকে তাকাচ্ছে। পরনে তার কালো রঙের প্যান্টস্যুট স্ট্রেট করা চুল মুখে হালকা প্রসাধনীর ছোঁয়া অপরূপ সুন্দর লাগছে সুবহাকে। সুবহাকে নিয়ে শুনেছিলো সবাই আজকে সামনে থেকে দেখলোও।ভয়ে কেউই কথা বলছিলোনা প্রথমে ভেবেছে হয়তো সুবহা খুব রাগী। কিন্তু সুবহার সুন্দর ব্যাবহার সবার সাথে সুন্দর করে হেসে হেসে কথা বলা সব কিছুই মন কেড়েছে সুবহার। সবাই একটাই কথা বলছে বার বার, আনহাকে এতোদিনে এভাবে মিশতে দেখেনি কারোর সাথেই অথচ প্রথম দিন এসেই সবাইকে আপন করে নিয়েছে সুবহা।

আনহা এই মাত্র এসেছিলো সবার কথা কানে এসেছে তার। এবার যে সুবহার প্রতি রাগটা আরো বেড়ে গিয়েছে।বাড়ি, অফিস, অরন্য সবকিছুই কি সুবহা কেড়ে নিতে চাইছে তার থেকে।

বিজ্ঞাপন
অন্তরালের প্রণয়িনী গল্পটি আফরোজা আঁখি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক গল্প