সুবহার অ্যাসিস্টেন্ট সাব্বির দাঁড়িয়ে আছে তার পাশে। সামনের চেয়ারটাতে বসে আছে কিয়ান। বাবা চাচা যতোসময় ছিলেন বাধ্য ছেলের মতো শুনে গেছে তাদের কথা সুবহাতো অবাক কিয়ানের এতো পরিবর্তন দেখে কিন্তু তারা গিয়েছেন মিনিট পাঁচেক দেরি হয়নি শুরু হয়ে গেছে কিয়ানের কথা বলা।সেই তখন থেকে বসে বসে মনোযোগ সহকারে ফোন ঘাটছে আর এটা সেটা বলে সুবহাকে বিরক্ত করছে।
সুবহাকে অফিসের সবটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে সাব্বির।তখনই গটমট করে হেটে সুবহার অফিস রুমে প্রবেশ করেছে আনহা।সাব্বির গিয়েছে সুবহা আর কিয়ানের জন্য কফি আনতে সাথে কিছু দরকারী কাগজপত্র।আনহা রেগেমেগে দাঁড়িয়েছে এসে সুবহার পাশে চেয়ারটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে হুট করেই সুবহার হাতের ফাইলটা কেড়ে নিয়েছে।আনহার কাজ পছন্দ হলোনা সুবহার কিয়ান রেগে কিছু বলতে যাবে সুবহা থামিয়ে দেয় তাকে।
—“ সমস্যাটা কি তোর সুবহা?”
সুবহার ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা খেলে গেলো।আনহা যেভাবে ফাইলটা কেড়ে নিয়েছিলো ঠিক সেভাবেই আনহার হাত থেকে ফাইলটা এনে রেখেছে টেবিলের উপরে পায়ের উপরে পা তুলে বসেছে।কথার উত্তর না দিয়ে এমন করায় আনহার অপমানিতবোধ হচ্ছে রেগে আবারো বলতে যাচ্ছিলো কিছু তার আগে সুবহাই বলে উঠেছে।
—“ যদি বলি আমার সমস্যা তুই। ”
—“ কি!আমি তোর সমস্যা? ”
—“ এক কথা দুই বার বলতে পারবোনা।”
কফির কাপ হাতে তখনই আগমন ঘটেছে সাব্বিরের।সুবহা সাব্বিরের দিকে তাকিয়ে বলছে।
—“ কাজের সময় যেন বাহিরের কেউ এসে আমাকে বিরক্ত না করে। ”
আনহা বুঝলো সুবহা তাকে উদ্দেশ্য করেই কথাটা বলেছে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেখানেই।এই সুবহার সাথে দুই বছর আগে দেখা সুবহার কোনো মিল নেই।সুবহার এতো পরিবর্তন দেখে অবাক হলো আনহা।আগের সুবহাকে আঘাত দিয়ে কিছু বললে কান্না করে ভাসিয়ে দিতো মিথ্যা বলে ভুল বুঝানো যেতো কিন্তু এই সুবহা!তাকে শত চেষ্টা করেও ভাঙতে পারবেনা কেউ।
—“ কি ভাবছিস আপু?”
সুবহার কথায় ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে আনহা নিজেকে স্বাভাবিক করে প্রশ্ন করে সুবহাকে।
—“ এতো পরিবর্তন হলি কিভাবে তুই সুবহা?”
সুবহা ঘাড় কাত করে তাকিয়েছে আনহার দিকে সোজাসাপ্টা জবাব দিয়েছে।
—“যেভাবে পরিবর্তন হয়েছিস তুই। "
দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো আনহা হ্যাঁ সে নিজেও পরিবর্তন হয়েছে ভালোবাসাকে নিজের করে পেতে বোনের সাথে মিথ্যাচার করেছে তাকে ভুল বুঝিয়েছে, কষ্ট দিয়েছে জেনেশুনে।কিন্তু অনুসূচনা হচ্চেনা তার যাকে ভালোবাসে তাকে পাওয়ার জন্য এইটুকু স্বার্থপর হলে কি খুব ক্ষতি?
সাব্বির আসতেই তার কানে গিয়েছে সুবহার আদেশ বুঝেছে সুবহা কেন বলেছে কথাটা।আনহাকে বলতে যাচ্ছিলো চলে যেতে এখান থেকে তার আগে আনহাই বেরিয়ে গেছে।
___
পরের দিন আবার কিরণকে নিয়ে অরন্য এসেছে শপিংমলে কিরণের জন্মদিন ছিলো একদিন আগেই বোনকে কিছু দেওয়া হয়নি তাই নিয়ে এসেছে আজকে।কেনাকাটা প্রায় শেষ অরন্য একটা কালো রঙের সুন্দর জরজেট শাড়ি হাতে তুলে নিয়েছে ইমাজিন করছে সুবহাকে এই শাড়িটা পড়লে কেমন লাগবে!পরক্ষনেই আবার ভাবছে ‘আমার লাভবার্ডতো সুন্দর তাকে সবকিছুতেই মানায়।’
কিরণ তখন থেকেই দেখে যাচ্ছে এসব অরন্য কার জন্য নিয়েছে শাড়িটা বুঝতে বাকি নেই তার।
এদিকে অফিস শেষে কিয়ান আর সুবহাও এসেছে।আজকে অফিসে ২য় দিন ছিলো তার কিয়ানকে এনেছে ধরেবেধে। অন্য বিষয়ে খেয়াল থাকলেও কাজের প্রতি পুরোপুরি উদাসিন তার ভাই।
সুবহা এটা সেটা পছন্দ করে কিনছে কিয়ানের জন্যও অনেক কিছু নিয়েছে কিয়ান শুধু দেখে যাচ্ছে বোনের কাজ তার দুই হাতে কয়টা ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে পুরো শপিংমল ঘুরে বেড়াচ্ছে সুবহা এতো সময় হলো এখনো তার কেনাকাটা শেষ হয়নি।কিয়ান সুযোগ বুঝে সাব্বিরকে ডেকে এনে নিজের হাতের শপিং ব্যাগ সব সাব্বিরের কাছে গছিয়ে দিয়েছে।কাজ আছে বলে সুবহাকে রেখে গেছে শপিংমলে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছে বোনকে।সুবহার এমনিতেও অনেক সময় লাগবে তাই আটকায়নি কিয়ানকে।
অরন্য ফোনে কথা বলতে বলতে এসেছিলো অন্য দিকে তখনই দেখতে পায় সুবহাকে।সুবহার পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে পর্যবেক্ষন করলো অরন্য। সবই ঠিক আছে কিন্তু সুবহার ড্রেসআপ ভালো লাগলোনা অরন্যের।মেয়ে মানুষ মেয়েদের মতো থাকবে অরন্যের লাভবার্ডকে এসবে মানায়না। সুবহা গিয়েছে চেঞ্জিং রুমে দরজা না আটকেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখছে জামাটায় তাকে মানাবে কিনা।ঠিক সেই সময় চেঞ্জিং রুমে ঢুকেছে অরন্য।দরজাটা আটকে হেলান দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে কথা না বলে। পিছনে থাকা অরন্যকে আয়নায় দেখতে পেয়েছে সুবহা তড়িৎ গতিতে মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়েছে তার দিকে।সুবহা এক প্রকার চিৎকার দিয়েই বলে উঠেছে।
—“ আপনি এখানে কি করছেন?”
অরন্য দ্রুত এগিয়ে এসে সুবহার মুখ চেপে ধরেছে।
—“ আরে, এতো জুড়ে চিৎকার দিয়ে উঠেছো কেন আমি এখানেই আস্তে বললেও শুনতে পারব। ”
সুবহা ভ্রু কুচখে তাকিয়েছে অরন্যের দিকে। অরন্য বুঝলো সুবহা রেগে গেছে তাই ছেড়ে দিয়েছে।
—“ লজ্জা নেই আপনার?”
—“না আমার লজ্জা সরম সব বাজারে বিক্রি করে এসেছি জানোনা তুমি?”
—“ এখান থেকে বেরিয়ে যাবেন না চিৎকার দিয়ে লোক ডেকে আনবো।”
—“লোক ডেকে লাভ নেই বেইব কেউ আমার কিছুই করতে পারবেনা বুঝলে তুমি!”
—“থাকুন তাহলে আপনি এখানে, যাচ্ছি আমি।”
সুবহা যেতে চাইলে অরন্য তার হাত ধরে নেয় বিরক্ত হয় সুবহা কিছু বলতে চাইলে অরন্য সুযোগ না দিয়ে একটানে মিশিয়ে নেয় সুবহাকে তার বুকের সাথে।এতোজুড়ে অরন্যের শক্ত বুকের সাথে ধাক্কা খেয়ে নাকটা চ্যাপা হয়ে যাওয়ার অবস্থা তার। অরন্যের দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে বলছে সুবহা।
—“ হচ্ছেটা কি এসব।”
—“ প্রেম,ভালোবাসা হচ্ছে তুমি চাইলে আদর দিতেও রাজি।দিবো তোমার ঠোঁটের সাথে আমার ঠোঁট ছুঁয়ে?”
সুবহার ইচ্ছে করছে অরন্যকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে চেষ্টা করলেও ব্যার্থ হচ্ছে বার বার অরন্যের শক্তির কাছে সে তো কিছুই না।অরন্য হাসছে ঠোঁট কামড়ে এগিয়ে যাচ্ছে সুবহার দিকে।অরন্যের থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলোনা আর সুবহা। লক্ষ্য করলো সে, নিজের সাথে অরন্যের ঠোঁটের ইঞ্চি দুয়েক দুরত্ব আছে মাত্র অরন্যকে কিভাবে আটকাবে সুবহা কোনো ভাবেই যে নিজের থেকে দূরে সরাতে পারছেনা অরন্যকে।অরন্য আরো কিছুটা এগিয়ে আসতেই সুবহা চোখ বন্ধ করে নিয়েছে সাথে সাথে। অরন্য হাসলো সুবহার অবস্থা দেখে কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস বললো।
—“ ভয় নেই লাভবার্ড তোমাকে নিজের বউ বানানোর আগে ঠোঁটের স্পর্শ দিচ্ছিনা আমি।”
অরন্যের কথা কানে যেতেই চোখ মেলে তাকিয়েছে সুবহা।অরন্যের দিকে তাকাতেই দৃশ্যমান হয় তার হাসিমাখা ফর্সা মুখটা। এই পাগল করা হাসির অধিকারী ছেলেটাকে ভালোবাসতো সে। সুবহার ধ্যান ভাঙে আবারো কানে আসে অরন্যের কথা। দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দুই হাত বুকে বাজ করে বলছে অরন্য।
—“ তোমার জন্যই আমার বাচ্চারা পৃথিবীতে আসতে এতো সময় নিচ্ছে।”
সুবহা হা করে তাকিয়ে আছে অরন্য কি বললো কিছুই বোধগম্য হলোনা তার। বিয়ে শাদির নাম নেই বাচ্চার চিন্তা!এসব একমাত্র অরন্যকেই মানায়।
—“ মানে কি এসবের? ”
—“ তুমি রাজি হলে আজকেই কাজী ডেকে বিয়ে করে নিতাম তারপর আর কি পরিশ্রম করলেই ফল পেতাম।কিন্তু তুমিতো রাজী হবেনা।
অরন্য চলে যাচ্ছিলো কথাটা বলেই দরজাটা খুলে বেরিয়ে যেতেই সুবহাও বেরুতে যায় তখনই আবার সামনে এসে দাঁড়ায় অরন্য। সুবহার কাছে এসে হাত দিয়ে তার গালের পাশে পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে বলে।
“ চিন্তা নেই লাভবার্ড আমি পরে বাচ্চাদের গালে পাপ্পি দিয়ে বলে দিবো তোমাদের মায়ের সুবুদ্ধি একটু দেরিতেই হয়েছে তাইতো তোমাদের পৃথিবীতে আসতে এতো সময় লাগলো।”
সুবহা দাঁত কিড়মিড় করে হাতের ব্যাগটা তুলে মারতে যাচ্ছিলো অরন্যকে অঘটন ঘটবে বুঝতে পেরে দ্রুত সরে গিয়েছে অরন্য। অরন্যকে খুঁজতে খুঁজতে তার ড্রাইভার আক্কাস এসেছিলো সেদিকে অরন্য সরে যাওয়ায় আক্কাস বেচারার কাধে গিয়ে লেগেছে ব্যাগটা।নিজের কাজে সফল হওয়ায় সুবহা প্রথমে খুশি হয়েছিলো পরে যখন দেখলো আঘাত প্রাপ্ত ব্যাক্তি অন্য কেউ লজ্জায় নিজের জিভ কেটে ধরেছে সুবহা। কাকে মারতে গিয়ে কাকে মেরে দিয়েছে বুঝতেই পারেনি তখন।
আক্কাস কাধে হাত ঘষে একবার তাকাচ্ছে সুবহার দিকেতো আরেকবার তাকাচ্ছে অরন্যের দিকে।আক্কাসের এমন ড্যাবড্যাব করা চাহনি দেখে হাসি পেলো অরন্যের। কাছে এসে কাধে হাত ছুঁয়ে বলছে।
—“ আহারে বাচ্চাটা লেগেছে? ”
আক্কাস ব্যাথা পেয়েছে ঠিকই কিন্তু অরন্যের বলার ধরনে মনে হলো মজা করছে তার সাথে।
—“ স্যার..
এইটুকু বলছে মাত্র,পুরো কথা শেষ করার আগেই অরন্য প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে আক্কাসের দিকে।
—“ তুই কি বলতে চাইছিস আমার ভবিষ্যৎ বাচ্চাদের আম্মু তোকে মার্ডার করতে চেয়েছিলো?
—“ আমিতো কিছুই বলিনি স্যার।”
—“ চুপ কর আহাম্মক যখন তখন যেখানে সেখানে এসে আমার প্রেমের বারোটা না বাজালে তোর হয় না।”
আক্কাস কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা হাবাগোবার মতো দাঁড়িয়ে আছে বেচারা।সুবহা তার কাছে ক্ষমা চাইলে বার বার বলছে এখানে সুবহার কোনো ভুল নেই।আক্কাসের ব্যাবহারে মুগ্ধ হলো সুবহা এরকম একটা খরগোশের সাথে এই ভালো মানুষ বেচারা চলাফেরা করে কিভাবে বুঝে পাচ্ছেনা সে। বার বার ফোন আছে সুবহার ফোনে কিয়ান তাকে খুঁজতে খুঁজতে না পেরে ফোন দিয়েছে,অরন্যের পাশ কেটে চলে গেছে সুবহা সেখান থেকে।
___
এদিকে কিয়ান আর কিরণের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হচ্ছে। কিয়ান সুবহাকে খুঁজছিলো এদিকে কিরণ তার ভাইকে অরন্য যেদিকে গিয়েছে কিরণও সেদিকেই যাচ্ছিলো বেখেয়ালে ধাক্কা লেগেছে দুজনের।সেই যে একজন আরেকজনকে দোষারোপ করা শুরু করেছে এখনো চলছে।
—“ চোখ কি বাসার আলমারিতে রেখে এসেছো নিজে ধাক্কা দিয়ে আবার আমাকে অপমান করছো।”
—“ আসছে আমার সম্মান ওয়ালা ব্যাক্তি।মান সম্মান থাকলেই না আপনাকে অপমান করবো আমি।”
কিরণের কথাটা পছন্দ হলোনা কিয়ানের চেচিয়ে বলে উঠেছে।
—“ কিরণ তুমি আজকাল বেশি পাকনামো করছো।”
কিরণ মুখ ভেংচি কেটে কোমরে দুই হাত চেপে বলছে।
—“ হুলো বিড়াল কোথাকার আপনার চেচামেচিতে কিরণ ভয় পায়না।”
—“ তুমি আবার আমাকে অপমান করলে!”
—“ হ্যাঁ করলাম কি করবেন এখন আপনি এখন?”
—“ বিয়ে করে আমার বাড়িতে নিয়ে যাবো,যাবে? ”
ঝগড়ার মাঝখানে কিয়ানের মুখ থেকে এমন উদ্ভট কথা শুনে কি বলবে বুঝতে না পেরে হা করে তাকিয়ে আছে কিরণ।নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেনা কিয়ান বলছে এই কথা তাকে!যার সাথে দেখা হলেই কারণে অকারণে ঝগড়া হয় সে কিরণকে বিয়ে করবে বলছে!কিরণের বোকা বোকা চাহনি দেখে হাসলো কিয়ান হাতটা ধরে একটা শপিংব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে বলছে তাকে।
—“ শুভ জন্মদিন রাগিনি।”
এবার অবাকের চুড়ান্ত সীমায় পৌঁছালো কিরণ তার জন্মদিনের কথা কিয়ান জানলো কিভাবে।কিছু বলতে গেলে সুযোগ না দিয়ে কিয়ান চলে গেছে সেখান থেকে।
দূরে দাঁড়িয়ে কেউ দেখেছে সবটাই যে কেউ দেখলে বলে দিবে কিয়ানের ভালো লাগা আছে কিরণের প্রতি।
___
গাড়ির দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকবে এমন সময় রিং হয় সুবহার ফোনে চোখের সামনে আনলে ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠে কিরণের নামটা।ফোনটা ধরে কানে নিয়েছে এমন সময় পিছন থেকে ডেকে উঠেছে কিরণ।এই মেয়ের কাজে মাঝেমধ্যে হাসি পায় সুবহার এইযে এখনো এতো কাছাকাছি আছে ডাকলেই শুনতে পাবে তবুও ফোন দিয়েছে অকারণে।কিরণ এসে সুবহার সামনে দাঁড়িয়েছে তার হাত ধরে নিজের জায়গায় সুবহাকে নিয়ে সুবহার জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে সে। সুবহা অপেক্ষা করছে কিরণের কথা শুনার জন্য।
—“ কিসের জন্য ডেকে দাঁড় করালি বলবি কি?”
—“ আমার গিফট কোথায়?”
—“ কিসের গিফট কোনো স্পেশাল ডে আছে নাকি?”
কিরণ গাল ফুলিয়ে মুখটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়েছে।একমাত্র ফ্রেন্ড হয়ে তার জন্মদিনের কথা ভুলে গেলো কিভাবে সুবহা।কিরণের রাগ দেখে মনে মনে হাসলো সুবহা।হাতে থাকা ব্যাগ থেকে একটা সুন্দর বক্স বের করে নিয়েছে বক্সের ভিতরে আছে আছে একটা ডায়মন্ড পেনডেন্ট এটা আসার সময় কিরণের জন্য নিয়ে এসেছিলো সুবহা সেদিন এমনভাবে দেখা হলো দিতে পারেনি তাই ভেবেছিলো আজকেই দিবে। এখানেও যে কিরণের সাথে দেখা হয়ে যাবে ভাবেনি এটা।
—“ এই নাও রাগিনি আপু তোমার গিফট। ”
কথাটা শুনা মাত্রই তাকিয়েছে কিরণ এতো সুন্দর আকর্ষনীয় বক্স ভিতরে না জানি কি আছে এই ভেবে চট করে হাতে নিয়েছে বক্সটা।সুবহাকে জড়িয়ে ধরে গালে চুমু দিয়ে বলছে।
—“ নাটক করলি কেন তাহলে?”
—“ রাগিনিকে রাগাতে। ”
কিরণ ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা কিয়ানের দিকে তাকিয়ে আবার সুবহার দিকে তাকিয়েছে।
—“ তুই ওই ভাঙা রেডিওর মতো আমাকে রাগিনি বকে ডাকছিস ভালো হবেনা কিন্তু সুবহা সময় থাকতে ভালো হয়ে যা। গেলাম আমি।”
কিরণ কথা বলতে বলতে তার হাতে থাকা শাড়ির প্যাকেটটা গাড়ির জানালা দিয়ে ভিতরে রেখে দিয়েছে।এটা দিয়েছিলো অরন্য বলেছে যেভাবেই হোক সুবহাকে দিতে তাহলে যা চাইবে তাই দিবে এতো বড় সুযোগ মিস করে কিভাবে কিরণ এই সুযোগে ভাইয়ের পকেট খালি করবে এই চিন্তা করেছে। কিরণের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হাসছে সুবহা এই মেয়ে বড় হয়েছে কিন্তু আগের বাচ্চামো স্বভাবটা রয়ে গেছে এখনো।