অন্তরালের প্রণয়িনী

পর্ব - ৩৩

🟢

সুবহা সকাল থেকেই কিচেনে। আজকে ওর বাবার বাড়ির সবাই আসবে, সাথে আনহা, সাব্বিরও। আদ্রীশ আর মিহির বিয়ে কিছুদিন পরেই, ওদেরকে বলেছে আসতে, তবে আসবে না বলেই জানিয়েছে। অরণ্যের আম্মুও আজকে কাজে ব্যস্ত, আরভীন আর অদ্রিজাকে সময় দিতে পারেননি তিনি। দুজনেই বারবার কিচেনে এসে গাল ফুলিয়ে চলে যাচ্ছে। সকাল থেকে এই দুইজনের পিছনে ঘুরছেন অরণ্যের আব্বু। গুনে গুনে রুম আর কিচেনে ১০০ চক্কর দিয়েছেন মনে হয়। আর পারছেন না ভদ্রলোক গরমে এক তো ঘাম ছুটছে, অন্যদিকে নাতি-নাতনির পিছনে ঘুরে ঘুরে অবস্থা খারাপ ওনার। অরণ্যের আব্বু এসেছেন কিচেনে, স্ত্রীকে জানিয়েছেন নাতি-নাতনির পিছনে আর ছুটতে পারবেন না তিনি। অরণ্যের আম্মু কোমরে কাপড় গুঁজে বেরিয়ে গেছেন কিচেন থেকে, স্বামীর সাথে ঝগড়া লেগেছেন। বলছেন একটা দিন কেন ওদেরকে দেখে রাখতে পারবেন না?

সুবহা রান্না রেখে শ্বশুর-শাশুড়ির ঝগড়া থামিয়েছে এসে। ওনাকে কিচেন সামলাতে বলে, নিজে চলে গেছে রুমে।

দরজার সামনে আসতেই পায়ের কাছে কিছু একটা গড়িয়ে পড়ল সুবহার। নিচে তাকাতেই নিজের ফোনটার করুন অবস্থা চোখে পড়ল। সুবহার ফোনটা তুলে হাতে নিতেই দেখল ফোনের স্ক্রিন ফেটে গেছে অনেকটা, পানি লেগে আছে ফোনটাতে।

আস্তে আস্তে হেঁটে রুমে এসেছে সুবহা। পুরোটা রুম এলোমেলো হয়ে আছে। সকাল থেকে ৪ বার ঘর গুছিয়েছে সে, এখন এই অবস্থা দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে।

পুরো রুমের কোথাও নেই বিচ্চু দুইটা। চোখ গেল সুবহার দরজার দিকে ছোট ছোট চারটি পা দেখা যাচ্ছে দুজনের। সুবহা আস্তে আস্তে দরজার কাছে গিয়েছে, ধরা পড়ে গেছে বুঝতে পেরে আরভীন আর অদ্রিজা দাঁড়িয়েছে এসে মায়ের সামনে। এক হাত কোমরে চেপে, অন্য হাতে থাকা ফোনটা দুজনকে দেখিয়ে বলছে সুবহা।

' এসব কি? '

আরভীন হাতটা বোনের দিকে দেখিয়ে বলছে মাকে।

' অদ্রি করেছে মাম্মাম। '

আরভীনের থেকে চোখ সরিয়ে অদ্রিজার দিকে তাকাল সুবহা নিচের দিকে তাকিয়েই বলল অদ্রিজা।

' ফোনতা গলম হয়ে গেছিলো মাম্মাম আমি গোসল করিয়ে দিয়েছি। '

এই কাহিনী নতুন নয় এর আগেও অদ্রিজা এমন করেছে তাই খুব একটা অবাক হয়নি সুবহা। গম্ভীর কন্ঠে বলেছে মেয়েকে।

' ফোনের স্ক্রিন ফাটিয়েছে কে? '

' ভাইয়া। '

আরভীনের দিকে তাকিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল সুবহা।

' তুমি নিজের পাপ্পার মতো ডাক্তার হবে তাই না? '

আরভীন মাথা নাড়াল উপর নিচ সুবহা বলল আবারও।

' মানুষ রেখে ফোনের অপারেশন করা কী তোমার পাপ্পার থেকে শিখেছ? '

দাঁত দিয়ে নিজের জিভ কেটে ধরেছে আরভীন মায়ের রাগী চেহারা দেখে ঠোঁট ভেঙে কান্না করে দিবে এমন অবস্থা। ছেলের উত্তর না পেয়ে ধমক দিয়ে বলেছে সুবহা।

' উত্তর দিচ্ছ না কেন আরভীন? '

আরভীন কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলছে মাকে।

' রোদে শুকাতে দিচ্ছিলাম মাম্মাম হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেছে। '

সুবহার মাথায় হাত ছেলে মেয়ের কথা শুনে। একজন ফোনকে গোসল করিয়েছে আরেকজন শুকাতে দিয়েছে। সুবহা রেগে বলতে যাচ্ছিলো কিছু দুজনেই একসাথে বলে উঠেছে তখন।

' আমার পাপ্পা আরেকটা কিনে দিবে। '

অরণ্য দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে বাবাকে দেখে সাহস পেয়েছে দুজনেই দৌড়ে গিয়ে জাপ্টে ধরেছে অরণ্যকে। অরণ্যও বাচ্চাদের কোলে নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছে তাদের সাথে। সারাদিন কি কি কান্ড ঘটিয়েছে বুক ফুলিয়ে বলছে বাবাকে। অরণ্যও তাদের কথার উত্তরে বলছে বার বার — ' এই না হলো আমার ছানাপোনা। ' ছেলে মেয়ে দুজনেই হেসে গলা জড়িয়ে ধরেছে বাবার।

————

অরণ্য সুবহাকে নিচে যেতে বলেছে। অরণ্যের কলিগরা নাকি দেখা করতে এসেছে ওর সাথে। সুবহা ভেবেছিল যাবেনা, পরে কি যেন ভেবে নিচে আসল সে। এক ভদ্রমহিলা এসেছেন বয়সে ওর শাশুড়ীর থেকে খুব একটা ছোট হবেন না। তার পাশেই অরণ্যের বয়সী এক যুবক দাঁড়িয়ে আছে। দুজনেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে কথা বলছে। আরভীন আর অদ্রিজা বসে আছে ওনাদের সামনে। ভদ্রমহিলা জিজ্ঞেস করেছেন দুজনকে।

'তোমাদের নাম কী সোনারা?'

দুজনেই হাসতে হাসতে অরণ্যের দিকে একবার তাকিয়ে উত্তর দিল ওনার কথায়।

'পাপ্পার সন্টু মন্টু।'

অরণ্য মাথায় হাত ঠেকিয়ে তাকিয়ে আছে ছেলে-মেয়েদের দিকে। মনে মনে হাসছে ওদের উত্তর শুনে। দুজনকেই নিজেদের নাম বলতে বলেছে সুন্দর করে। আরভীন ঠিকঠাক ভাবেই বলেছে ওর নাম "শেহতাজ আরভীন।" অদ্রিজা কিচ্ছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে ভাবল, তারপর বলল ওনাকে।

'আমার নাম অদলিজা।'

ভদ্রমহিলা বুঝলেন না কিছুই, তবে বয়সের তুলনায় আরভীনের কথাবার্তা স্পষ্ট, সুন্দর করেই পটাপট উত্তর দেয় সে। অদ্রিজার এই অস্পষ্ট কথাগুলো শুনতে অনেক ভালো লাগছে ওনার। নাম না বুঝে বললেন ওনি।

'কি নাম বললে সোনা, অদলিজা?'

অদ্রিজার রাগ হলো নিজের নামের ভুল উচ্চারণ করায়। বাবার কোল থেকে নেমে কোমরে দুই হাত চেপে বলল।

'হয়নি।'

আরভীনও নেমেছে অরণ্যের কোল থেকে, অদ্রিজার মাথায় ধাক্কা দিয়ে বলছে ওকে।

'তুইই তো নিজেই ভুল বলেছিস পাকুনি।'

কথাটা বলেই ভদ্রমহিলার দিকে তাকিয়ে বলল আরভীন।

'ওর নাম অদ্রিজা তাসনিম,আন্টি।'

অরণ্য কেবল হাসছে বাচ্চাদের পাকামো দেখে।

———

সুবহা আর অরণ্যের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। সকাল থেকেই কেউ কারও সাথে কথা বলছে না। মন খারাপ করে তখন থেকেই বসে আছে সুবহা। অরণ্য হসপিটালে ছিল এতক্ষণ, কিরণ কিছুদিন হলো এখানেই আছে। সুবহাকে ফোন না দিয়ে ওর ফোনেই ভিডিও কল দিয়ে দেখেছে বাচ্চাদের। অরণ্যকে না দেখে কান্না করছিল বাচ্চারাও, বাবার কথা শুনে শান্ত হয়েছে দুজনেই। সুবহা সেই সকাল থেকে সামলাচ্ছে দুজনকে। বাচ্চা সামলাতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা ওর, নিজের খেয়াল রাখা হয় না এখন আর। অরণ্যের সাথে কথা বলার পর থেকেই চুপচাপ খেলা করছে ওরা। এ দেখে বাচ্চাদের দিকে রেগে তাকিয়ে আছে, মনে মনে বলছে সুবহা—'বজ্জাত বাপের বজ্জাত ছেলে মেয়ে হয়েছে।'

অরণ্য মাত্রই আসল। সুবহার দিকে তাকাতেই ও মুখ ঘুরিয়ে নিল অন্যদিকে। অরণ্য ভ্রু কুঁচকে তাকাল একবার সুবহার দিকে, চোখ গেল বিছানায় বসে থাকা আরভীন আর অদ্রিজার দিকে। হাসি ফুটে উঠলো অরণ্যের মুখে। বাচ্চাদের কাছে এসে কথা বলছে তাদের সাথে। ছেলে মেয়ে দুজনেই উঠে দাঁড়িয়েছে, এলোমেলো পায়ে হেঁটে এসে গলা জড়িয়ে ধরেছে বাবার। অরণ্য কিছু একটা ভেবে বাচ্চাদের বলল।

'তোমাদের নতুন আম্মু লাগবে তাই না, সোনারা?'

বাচ্চারা কী যেন বুঝল, বাবার কথায় খিলখিল করে হেসে উপর নিচ মাথা নাড়ল। সবটাই চুপচাপ বসে দেখছে সুবহা। অরণ্য হাসছে বাচ্চাদের কাজে, বিছানায় শুয়ে দিয়ে চুমু দিচ্ছে দুজনের গালে। অরণ্যকে পেলে আরভীন অদ্রিজার আর কিছুই লাগেনা। বাবার প্রতি ওদের ভালোবাসা একটু বেশিই। আরভীন, অদ্রিজা যখন ছোট ছিল আরও, সারা রাত জেগে ওদের সাথে খেলা করত অরণ্য। যতক্ষণ না ঘুমিয়েছে, সেও সজাগ থাকত। সুবহাকে বিরক্ত করত না খুব একটা। এখনও যতক্ষণ বাড়িতে থাকে, আরভীন আর অদ্রিজা পুরোটা সময় বাবার পিছু পিছু ঘোরে।

কিছুদিন ধরেই অরণ্য আর সুবহার মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। যেকোনো বিষয়েই দুজনের মধ্যে মতের অমিল হচ্ছে। ভেতরে ভেতরে কষ্ট হচ্ছে সুবহার। আসতে দেরি হচ্ছিল দেখে অরণ্যের আম্মু বারবার খোঁজ করছিলেন ছেলের, মেজাজ দেখিয়ে প্রথম কল দেয়নি সুবহা। সব রাগ অভিমান দূরে সরিয়ে যখন ফোন দিল,অরণ্য ওকে লাইনে রেখেই অন্যদের সাথে কথা বলছিল। বিরক্ত হয়ে পুরো কথাটা না শুনেই কল কেটে ব্লক করে দিয়েছে অরণ্যের নাম্বারটা। তখন থেকেই বার বার মাথায় আসছে এটা অরণ্য কি এখন আর আগের মতো ভালোবাসেনা তাকে? এসব ভাবতে ভাবতেই হাঁটুতে মুখ গুঁজে ডুকরে কেঁদে উঠেছে সুবহা। অরণ্যের কানে আসল ওর কান্নার শব্দ। বাচ্চাদের রেখে কাছে গেল বউয়ের, চিন্তিত হয়ে মাথায় গালে হাত দিয়ে দেখল জ্বর এসেছে কিনা। উদ্ভিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল সুবহাকে।

' লাভবার্ড কি হয়েছে তোমার? শরীর খারাপ করেছে? কোথায় কষ্ট হচ্ছে আমাকে বলো। '

সুবহা এক ঝটকায় নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিল অরণ্যের থেকে নাক মুখ ফুলিয়ে বলল ওকে।

' দূরে সরুন, আমার সাথে কথা বলতে হবে না আপনাকে। বাচ্চাদের জন্য নতুন মা নিয়ে আসুন। আমি তো এখন দেখতে খারাপ হয়ে গেছি, ভালো লাগবে কীভাবে?'

অরণ্য মুখ টিপে হাসল সুবহার কথায়। কান্নার কারণটা বুঝল এখন। বেবি হওয়ার পর থেকে কেমন পরিবর্তন হয়ে গেছে সুবহা, অরণ্যের প্রতি ওর ভালোবাসা বেড়েছে আগের থেকে অনেক। মাঝেমধ্যে অবাক হয় অরণ্য। আগের সুবহার সাথে এই সুবহার কোনো মিল খুঁজে পায় না সে। এই সুবহা তাকে ভালোবাসে নিজের থেকেও বেশি। অরণ্যের জন্য নিজের সখ, ইচ্ছে, কাজ সব কিছু ছাড়তে দুইবার ভাবেনি সে। সুবহা কী বুঝে না? অরণ্যও তাকে ভালোবাসে নিজের সবটা দিয়ে। অরণ্য কী যেন ভেবে হাঁটু গেড়ে মেঝেতে বসল। সুবহার দুই হাত ধরে চুমু দিয়ে বলল ওকে।

' রাগ করেছ লাভবার্ড?'

সুবহার কেমন কান্না পাচ্ছে, ছলছল চোখে অরণ্যের মুখপানে তাকিয়ে বলছে সে,

' আগের মতো ভালোবাসেন না কেন আমাকে?'

সুবহার নরম হাতটা নিজের গালে ঘষে বলল অরণ্য,

' তোমাকে আমি সেই প্রথম দিনের মতোই ভালোবাসি। আমার খুশির একমাত্র কারণ আমার বাচ্চারা, তাদের আম্মু তুমি। তোমাকে ভালো না বেসে পারি আমি?'

কথাটা বলেই উঠে দাঁড়িয়েছে অরণ্য। সুবহা ওভাবে বসেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে ওকে। আরভীন আর অদ্রিজা বুকে দুই হাত ভাঁজ করে মনোযোগ দিয়ে দেখছে মা বাবাকে। অরণ্যের চোখ পড়ল বাচ্চাদের দিকে, ইশারায় ওদের চোখ বন্ধ করতে বলল। বাচ্চা দুটো একসাথে চিৎকার করে বলে উঠল "ওকে পাপ্পা।" দুজনেই দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকেছে নিজেদের। অরণ্য এই সুযোগে তাকিয়েছে সুবহার দিকে। সুবহা ওর দিকে মুখ তুলে তাকাতেই অরণ্য কিছুটা ঝুঁকে চুমু দিয়েছে সুবহার লালছে ঠোঁটে। সুবহা খামচে ধরেছে অরণ্যের শার্ট বুকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরতে বলছে ওকে। অরণ্য শুনছেনা সুবহার কথা। বাচ্চাদের কথা কানে আসতেই দূরে সরে গেছে সুবহার থেকে। আরভীন আর অদ্রিজা ওভাবে শুয়ে থেকেই বলছে অরণ্যকে।

' চোখ খুলব পাপ্পা? '

অরণ্য দাঁত দিয়ে জিভ কেটে ধরেছে নিজের। মনে মনে নিজেই নিজেকে বকুনি দিয়ে বলছে—" কি ভুল করছিল বাচ্চাদের সামনে?"

————

আজকে আদ্রীশ আর মিহির বিয়ে। অরণ্যদের আসতে বলেছিল আগেই, কিন্তু কাজের চাপে আসা হয়নি কারোরই। মিহি সেজেছে আজকে বউয়ের সাজে লাল বেনারসি শাড়ি পড়েছে সে, মাথায় সুন্দর করে ঘোমটা টানা। স্টেজে বসে আছে আদ্রীশ, তাকেও আজকে কম সুন্দর লাগছে না। দুজনকে পাশাপাশি মানিয়েছে ভালো। বিয়েতে সুবহা, অরণ্য ছাড়াও আনহা আর সাব্বির এসেছে। আরভীন আর অদ্রিজা খালামনিকে দেখে মা বাবাকে রেখে ছুটে গেছে তার কাছে। আনহাও সুন্দর করে কথা বলছে তাদের সাথে, অদ্রিজাকে কোলে তুলে চুমু দিয়েছে দুই গালে। আরভীনের রাগ হয়েছে এ দেখে, চলে যাবে তখন সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে আনহা। ছেলের পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখেছে ভালো করে এ তো পুরোই অরণ্যের ডুপ্লিকেট, রাগটাও হয়েছে ওরই মতো। অদ্রিজাকে রেখে এবার আরভীনকে কোলে নিয়েছে আনহা, গাল টেনে বলছে ওকে।

' কি হয়েছে জুনিয়র, রাগ করলে যে?'

' খালামনি সবসময় অদ্রিকেই পাপ্পি দেয় কেন?'

হাসল আনহা। আরভীনের দুই গালে বেশ কয়েকটা চুমু দিলো। আরভীনও হেসে জড়িয়ে ধরল তার খালামুনির গলা। এই বাচ্চা দুটোকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে আনহা। ছোটবেলা থেকেই আনহার কাছে বেশি সময় থেকেছে দুজন। অরণ্য হসপিটালে গেলে বাড়িতে একাই থাকতো সুবহা, প্রতিদিন গিয়ে আনহা দেখে আসত ওদেরকে, কখনও আবার সাথে করে বাড়িতে নিয়েও আসত। সুবহাও নিশ্চিত থাকে বাচ্চারা আনহার কাছে থাকলে।

বিজ্ঞাপন

————

সাব্বিরের হাত ধরে স্টেজে বসে থাকা আদ্রীশ আর মিহির দিকে তাকিয়ে আছে আনহা। বর কনের সাজে দুজনকেই অপরূপ সুন্দর লাগছে। আনহার দিকে চোখ পড়ল আদ্রীশের। আনহার চোখ মুখ আর ঠোঁটের কোণে জমে থাকা হাসিই বলে দিচ্ছে ও কতটা সুখে আছে। আদ্রীশেরও ভালো লাগল, আনহা ভালো আছে দেখে। সবসময় তো এটাই চেয়ে এসেছে আদ্রীশ তার সাথে না হোক, অন্য কারো সঙ্গে ভালো থাকুক আনহা। কিছুক্ষণ আগে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা অরণ্য সুবহার দিকে তাকিয়ে একই ভাবনা মাথায় এসেছিলো আনহার।

মিহি ধাক্কা দিল আদ্রীশের কাঁধে, ধ্যান ভাঙল ওর। মাথা ঘুরিয়ে তাকাল মিহির সুন্দর মুখটির দিকে। আজকে মিহিকে একেবারে লাল পরী লাগছে, চোখ সরানো যাচ্ছে না ওর থেকে। কাজী সাহেব এসে বসেছেন মিহিদের সামনে। মিহির হাসি দেখে অরণ্য এসে বলছে ওকে।

'একটু তো লজ্জা পাওয়ার নাটক কর, সব কলিগরা এসেছে, মান সম্মান আর রাখলি না, নির্লজ্জ তুই।'

' বুঝে নে তাহলে, আমি তোর আগের জন্মের স্টুডেন্ট ছিলাম।'

' হুহ্, বললেই হলো! অরণ্য যেমন যেমন মেয়ে ছেলেকে নিজের স্টুডেন্ট বানায় না।'

' এভাবে বলে তুই অপমান করছিস আমাকে?'

' অপমান আবার কী জিনিস, খায় না মাথায় দেয়?'

মিহি রেগে মেগে তাকিয়েছে অরণ্যের দিকে। অরণ্য সফল হয়েছে তার কাজে। মিহিকে রাগাবে বলেই বলছিল এত কথা।

যাক জমকপূর্ন ভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে মিহি আর আদ্রীশের। কনে বিদায়ের সাথে সাথে অরণ্য, সুবহা আর বাকিরাও চলে এসেছে নিজেদের বাড়িতে।

————

বাড়িতে আসতে আসতে রাত হয়ে গেছে প্রায়। দিনের আলো কেটে গিয়ে অন্ধকার নেমেছে চারিদিকে। সুবহা অরণ্যের কাঁধে মাথা রেখে শুয়ে আছে গাড়িতেই, বাচ্চা দুটো জ্বালিয়ে মারছে অরণ্যকে। একজন চুল ধরে টানছে তো আরেকজন মুখ এদিক সেদিক ঘুরাচ্ছে। বিরক্ত হয়েই সুবহাকে ডেকে বলেছে অরণ্য।

' আমার বাচ্চাদের না সামলিয়ে ঘুমাচ্ছো তুমি?'

কানের কাছে এত জোরে ধমক দিয়ে ওঠায় দ্রুত চোখ খুলে তাকিয়েছে সুবহা। অরণ্যের কথাটা কানে গেছে ওর, এমনিতেই চোখ বন্ধ করে ছিল, ঘুম আসেনি তেমন। অরণ্যের নাজেহাল অবস্থা দেখে ভালোই লাগছে সুবহার। বাচ্চাদের এমন দুষ্টুমি তো আর অরণ্য দেখে না সারাদিন, ওদেরকে বকাবকি করলে বাড়ি ফিরেই ঝগড়া বাধায় ওর সাথে। সুবহা কী যেন ভেবে বলল অরণ্যকে।

' ওরা আপনার মতো বিচ্ছু হয়েছে, সামলাব কীভাবে আমি?'

অরণ্য সুবহার কানের কাছে গিয়ে বলল তখন।

' আমাকে সামলেছ যেভাবে।'

বলার মতো আর কথা রইল না সুবহার। চুপটি করেই রইল সে। আরভীন আর অদ্রিজাও ঘুমিয়ে পড়েছে এতোক্ষণে। ড্রাইভার গাড়ি থামিয়েছে গেইটের সামনে। আক্কাসের দরকারি কাজ আছে, এক্ষুনি যেতে হবে বিধায় বাড়ির ভিতরে গাড়ি নিয়ে ঢোকেনি। পড়নে থাকা শাড়ির কুচিটা ধরে খুব সাবধানে গাড়ি থেকে নেমেছে সুবহা।

বাড়ির গেইটের সামনে ভাইকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয়নি খুব একটা। কিরণ রাগ করে কৃত্তিকাকে নিয়ে চলে এসেছে এখানে। সেই থেকে বাড়ির সবাই ফোন দিয়ে যাচ্ছেন সুবহাকে। কিরণকে বুঝিয়েও লাভ হয়নি, কিয়ান নিতে না আসলে নাকি সে যাবেনা। এদিকে এই পাঁচ দিনের মধ্যে কিয়ান ওকে দুইবার নিতে এসেছে, প্রতিবারই বাড়ির গেইটের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখেছে বেচারাকে। সুবহা হেঁটে গেল ভাইয়ের কাছে। বাচ্চা দুটোকে কোলে নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছে অরণ্য। সুবহা এসে সামনে দাঁড়িয়েছে, বোঝা মাত্রই ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ওর দিকে তাকিয়েছে কিয়ান। চলে যেতে চাইলে জোরাজুরি করে সুবহা ওকে বাড়িতে নিয়ে গেছে। কিরণ ড্রইংরুমেই ছিল, কৃত্তিকা সোফায় বসে খেলা করছে ওর ফোনটা নিয়ে। কিয়ান এসে দাঁড়িয়েছে মা মেয়ের সামনে। কিরণ লক্ষ্য না করলে কৃত্তিকা লক্ষ্য করেছে বাবাকে। কিয়ানকে দেখে হেসে হাত বাড়িয়েছে ওর কোলে যাবে বলে। মেয়ের হাসিমাখা মুখটা দেখে কিয়ানের দেহে প্রাণ ফিরে এসেছে মনে হলো।

কিরণের সাথে ঝামেলা হয়েছে তার, কিরণের থেকে কিয়ানের ইগোও কম নয় ভেবেই নিয়েছিল, নিজে থেকে না গেলে আর নিতে আসবে না কিরণকে। কিন্তু মেয়ের মুখটা বারবার ভাসছিল চোখের সামনে, কোনো কাজেই মন বসাতে পারছিল না সে। বাড়িতে যত সময় থাকে, বারবার বাবা, চাচা আর মায়ের একই কথা শুনতে হয়—"কেন সে কৃত্তিকাকে নিয়ে আসছে না বাড়িতে?"

কিয়ানেরও যে কম কষ্ট হচ্ছিল না, কৃত্তিকাকে না দেখে থাকতে। এই যে এখন মেয়েকে কাছে পেল, মন খারাপ চলে গেছে কিয়ানের। কৃত্তিকা বাবার গলা জড়িয়ে ধরেছে, দুই গালে চুমু দিচ্ছে ওর। কিরণ মুখ তুলে তাকিয়েছে কিয়ানের দিকে, উঠে দাঁড়িয়েছে চলে যাবে বলে। গম্ভীর কণ্ঠে তখন বলে উঠেছে কিয়ান।

' কোথায় যাচ্ছেন?'

' বাবা! তুমি থেকে আপনি? ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট মেয়েটার সাথে সম্পর্ক এত দূর গড়িয়ে গেছে?'

' বাজে বকবে না।'

কিরণের রাগ হলো কিয়ানের কথায়। ওর কোলে থাকা কৃত্তিকাকে নিতে চেয়ে বলল।

' মেয়েকে দিন।'

' আমি ওকে নিতে এসেছি, তুমি পড়ে থাকো এখানে।'

' কি খাইয়ে রাখবেন?'

' মেয়ের জন্য নতুন...'

এইটুকু বলতেই কিরণ থামিয়ে দিলো ওকে। কিয়ানের মাথার চুল টেনে ধরে রাগ মিশ্রিত কণ্ঠে বলছে সে।

' মেয়ের জন্য নতুন মা নিয়ে আসবেন, তাই না? বিয়ে করার এত শখ আপনার!'

' আরেহ রাগিনী, ছাড়ো বলছি।'

' ছাড়ব না, চুলগুলো সব তুলে টাকলা বানাব আজকে। অন্য কোনো মেয়ে যেন বিয়ে করতে না আসে আপনাকে।'

' আর ইউ জেলাস?'

কিরণ ছাড়ল কিয়ানকে, বুকে হাত দুটো ভাঁজ করে তাকালো অন্যদিকে। কিরণের কেমন কান্না পাচ্ছে এখন, রাগ করেছে বলে এমন কথা কীভাবে বলল কিয়ান?

কিয়ান কিরণের সামনে গিয়ে বলল ওকে।

' আমি তো মেয়েকে দেখাশোনার জন্য নতুন কেয়ারটেকার আনার কথা বলছিলাম।'

কিরণের চোখ মুখের রাগ সরে গেল মুহূর্তেই। কটমট করে বলে উঠল কিয়ানকে।

' আবার চুল টেনে ধরি? পুরো কথা বলেন না কেন কখনোই?'

কিয়ান হাসল, কথা না বলে মাথাটা বাড়িয়ে দিলো কিরণের দিকে। মায়ের বদলে এবার মেয়ে চুল টেনে ধরল ওর। কিয়ান আর কিরণ দুজনেই হেসে দিলো কৃত্তিকার কাজ দেখে। দুজনের মধ্যে থাকা রাগ অভিমান উড়ে চলে গেছে সেই কবেই।

সুবহা এসেছিল কিয়ানের জন্য কফি নিয়ে। ট্রেটা রেখে চলে যাচ্ছিল সে, আবারও ফিরে তাকিয়েছে কিয়ান-কিরণ আর কৃত্তিকার দিকে। ওদের সুখে ভরা সুন্দর সংসারটা দেখে ভালো লাগছে ওর।

————

আজকে কৃত্তিকার ১ বছর পূর্ণ হলো এই খুশিতে বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে আজকে। অরণ্যদের বাড়ির সবাই ওবাড়িতে যাবে আজ। আরভীন অদ্রিজাকে নিয়ে ওদের দাদা-দাদি চলে গেছেন আগেই সুবহা অপেক্ষা করছে অরণ্য কখন আসবে।

কিছুদিন আগেই সুবহাকে একটা সুন্দর শাড়ি এনে দিয়েছে অরণ্য। পাতলা একটা ডায়মন্ডের জুয়েলারি সেটও গিফট করেছে তাকে। সুবহা আজকে সেজেছে ওগুলো পড়েই। বেবি পিংক কালারের সুন্দর শাড়িটার সাথে স্লিভলেস ব্লাউজ পড়েছে। সুবহা সাজে না খুব একটা, মাঝেমধ্যে যাই একটু অরণ্যের কথায় সাজে, সেই সাজ এলোমেলো হতে সময় লাগে না বেশি। কথাটা ভাবনায় আসতেই লাজে রাঙা হলো ওর মুখ। আচমকা পেটে কারো হাতের স্পর্শ পেতেই মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়েছে সুবহা। অরণ্য ওর কোমরে দুই হাত চেপে তুলেছে ড্রেসিং টেবিলের উপরে। অরণ্য ঘাড় কাত করে তাকিয়ে আছে সুবহার দিকে, কী যেন ভাবছে মনে মনে। অরণ্যের মতিগতি ভালো ঠেকছে না সুবহার, ওদিকে কিরণ ফোন দিচ্ছে বারবার, যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে তাদের। অরণ্য এগিয়ে যাচ্ছে সুবহার দিকে, অরণ্যের শ্বাস পড়ছে ওর চোখ-মুখে। সুবহা ওর মুখ চেপে ধরে বলল।

' কি হলো?'

অরণ্য নিজের মুখের উপর থেকে সরিয়ে নিল সুবহার হাতটা। ওর কানের কাছে গিয়ে বলছে।

' আরেকটা বাবু লাগবে আমার, প্রসেস শুরু করি চলো।'

সুবহা ধাক্কা দিয়েছে অরণ্যের বুকে, কিছুটা দূরে সরে গেছে। সুবহা চলে যাচ্ছে দেখে হাত ধরে আটকেছে অরণ্য ওকে, কিছু বলার আগেই ঠোঁট মিলিয়েছে ওর ঠোঁটের সাথে। সুবহা প্রথমে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছে অরণ্যের থেকে, পরমুহূর্তেই আবার কী যেন হলো ওর। গলা জড়িয়ে ধরেছে অরণ্যের। চুলগুলো সব এলোমেলো হয়ে গেছে সুবহার। শাড়িটা কবেই খুলে পড়েছে মেঝেতে। ঠোঁটের লিপস্টিক, মুখের সাজসজ্জা নষ্ট হয়ে গেছে ওর। অরণ্য পুরোপুরি ডুবে গেছে সুবহার মাঝে। নিজের সবটুকু ভালোবাসা উজার করে দিচ্ছে ওকে। নিস্তব্ধ কক্ষটিতে দুই মানব মানবীর ঘন শ্বাস প্রশ্বাস ছাড়া শুনা যাচ্ছেনা কিছুই।

বাহিরে তখন তুমুল বর্ষন শুরু হয়েছে। কিরণরা সবাই ভেবেই নিয়েছে বৃষ্টির কারণে আটকা পড়ে গেছে অরণ্যরা। গেস্টরা এসেছেন বহু সময় আগেই মেয়ের মামা-মামীর জন্যই অপেক্ষা করছিলো কিরণ। অরণ্যকে আবারও কল দিবে বলে ফোনটা হাতে তুলেছিল সে, দেখল অরণ্যের মেসেজ৷ অরণ্য বলেছে আসতে ওদের রাত হবে অপেক্ষা না করতে।

————

কৃত্তিকা বসে আছে সোফায়, আরভীন এসে ওর দুই গাল টেনে দিয়েছে। ঠোঁট উল্টে কান্না করে দিয়েছে ছোট্ট কৃত্তিকা। অদ্রিজা একটা খেলনা ক্যামেরা হাতে নিয়ে ছবি তুলছে বোনের। কৃত্তিকা দেখতে একেবারে পুতুলের মতো, কিয়ান আর কিরণের মতোই সুন্দর হয়েছে ও। অদ্রিজা প্রথম কৃত্তিকাকে পুতুলই মনে করত, এখনও পুতুল নামেই ডাকে। আরভীনের এমন কাজ দেখে ভালো লাগল না বিষয়টা। ওর পুতুলকে আরভীন মারবে কেন? গাল ফুলিয়ে আরভীনের কাছে এসেছে অদ্রিজা, দাঁত কিড়মিড় করে দুই হাত দিয়ে ভাইয়ের মাথার চুল টেনে এক দৌড়ে গিয়ে লুকিয়ে পড়েছে ফুপ্পির পিছনে। আরভীন রেগে তাকিয়েছে অদ্রিজার দিকে, টেবিলে রাখা গিফটগুলো সব এক এক করে ফেলে দিয়েছে মেঝেতে। কিরণ কেবল দেখে যাচ্ছে সবটা। এই ছেলে যে পুরো ওর ভাইয়ের মতোই রাগী, জানে কিরণ। কিন্তু অদ্রিজাও কম যায় কিসে? সেও কিরণের মতোই ঝগড়ুটে। কথাটা ভেবে হাসছে কিরণ। ওর আম্মু পাশেই দাঁড়িয়ে দেখছেন নাতি নাতনিদের ঝগড়া। কিরণের দিকে তাকিয়ে বলছেন ওনি।

' কি দেখছিস কিরণ?'

কিরণ তাকাল ওনার দিকে, হেসে বলল মাকে।

' আমার আর ভাইয়ার ছোটবেলা দেখছি আম্মু।'

————

সুবহা শুয়ে আছে বিছানায়, অরণ্য আনতে গেছে বাড়ির সবাইকে। ওকে ঘুমের মধ্যে রেখেই চলে গেছিল অরণ্য, তাই বুঝতে পারেনি কিছুই। ফোনটা হাতে নিতেই কিরণের পাঠানো সবগুলো ছবি এক এক করে দেখল সুবহা। দুই বাড়ির সবাই, সাথে আনহা-সাব্বির আর আদ্রীশ-মিহিও এসেছিল আজকে। সবাই মিলে গ্রুপ ফটো তুলেছে, অরণ্যও আছে সেখানে। অরণ্য যাওয়ার পরেই হয়তো তুলেছে ছবিগুলো। সবাইকে একসাথে কতো সুন্দর লাগছে! আফসোস হচ্ছে ওর কেন গেলো না ওখানে? মনে মনে বকুনি দিচ্ছে অরণ্যকে, ওর জন্যই সুবহার আজকে যাওয়া হয়নি ভাইজির জন্মদিনে।

————

রাত প্রায় ১২টার কাছাকাছি, অরণ্য সবাইকে নিয়ে এসেছে বাড়িতে। মাত্রই রুমে এসে দেখল সুবহা ঘুমিয়ে পড়েছে। বিরক্ত করেনি আর, বাচ্চাদের রেখে এসেছে ওদের দাদির কাছে। অরণ্য সুবহার কাছে গিয়ে তাকাল ওর মায়াবী মুখপানে। ঘুমন্ত অবস্থায়ও কতটা সুন্দর লাগছে ওকে। সুবহার পুরো মুখ জুড়ে নিজের ঠোঁটের উষ্ণ স্পর্শ দিলো অরণ্য। অরণ্যের ছোঁয়া পেয়ে পিটপিট করে তাকিয়েছে সুবহা। কী হয়েছে জিজ্ঞেস করলে হেসে বলল অরণ্য।

❝ আমার রংহীন জীবন রাঙিয়ে দিতে বসন্তের ফুলের মতোই এসেছিলে তুমি।

তোমায় বড্ড বেশি ভালোবাসি প্রণয়িনী। ❞

কথাটা মন ছুঁয়ে গেলো সুবহার, উঠে বসে জড়িয়ে ধরল অরণ্যকে। অরণ্যও পরম যত্নে কপালে চুমু দিলো সুবহার। সুবহা যেভাবে জড়িয়ে ধরেছে ওভাবেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ওকে।

✦ রাইটার'স নোট ✦


সবশেষে, অরণ্য আর সুবহা ভালো আছে তাদের সুন্দর সংসার আর বাচ্চাদের নিয়ে। আনহা তার অতীত ভুলে নতুন করে নিজের জীবন সাজিয়েছে। কিয়ান আর কিরণের একটা রাজকন্যা এসেছে তাদের দুষ্টু-মিষ্টি সম্পর্কটা আরও সুন্দর হয়ে উঠেছে কৃত্তিকাকে নিয়ে। আদ্রীশও পেয়েছে তার ভালোবাসা, মিহিকে। তার অন্ধকার জীবন আলোকিত করে একফালি রৌদ্দুর হয়ে এসেছে মিহি।

সবাই তো এরকম এন্ডিংই চেয়েছিল, তাই না?

[তোমাদের কথা রেখেছি। এবার দোয়া করে দিও আমিও তো একটা হ্যান্ডসাম, কেয়ারিং, রাগী অরণ্য ডিজার্ভ করি লাইফে!]

বিজ্ঞাপন
অন্তরালের প্রণয়িনী গল্পটি আফরোজা আঁখি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক রোমান্টিক গল্প