হৃদয়ের সবকথা নীরবতা

পর্ব - ৮

🟢

শাড়ির আঁচল এক হাতে নিয়ে অবাক হয়ে সজীব এর দিকে তাকিয়ে আছে জুথি। এভাবে হঠাৎ করে সামনে এসে হাজির হবে সেটা কল্পনার বাইরে, সে খানিকটা বিব্রত হয়ে বললোঃ-

- সূর্য আজকে কোনদিক থেকে উঠলো?

- সজীব বললো, আমার মনে হচ্ছে সূর্য এখনো উঠতে পারে নাই।

- কেমন আছেন?

- চলছে আলহামদুলিল্লাহ, তুমি?

- হ্যাঁ ভালোই, ভিতরে আসুন বাবা সামনের ঘরে বসে আছে। আপনি এভাবে চলে আসবেন সেট কিন্তু ভাবতে পারিনি, আর বাবা যে কতটা খুশি হবে সেটা নিজের চোখে দেখতে পারবেন।

- আর তার মেয়ে?

- মানে?

- স্যার খুশি হবে বুঝতে পারছি কিন্তু স্যারের মেয়ে খুশি হবে নাকি রাগ করবে?

- সেটাও তো দেখতে পারছেন।

- স্কুলে যাওনি আজকে? হ্যাঁ গেছিলাম, সেখান থেকে এসেই গোসল করলাম।

- এত তাড়াতাড়ি স্কুল ছুটি হয়ে গেছে?

- না ছুটি হয়নি, কিন্তু আমি এসেছি একটু কাজ ছিল তাই।

- সজীব বললো, বাহহ খুব সুন্দর।

- জুথি বললো, মানে?

- ও-ই যে গান বাজছে, সেটা খুব ভালো লাগছে।

- মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেছে, মন চায় থাপ্পড় দিয়ে কানের নিচ গরম করে দেই।

- মানে কি?

- ও-ই যে যারা গান বাজাচ্ছে তাদের কথা বলছি, এত সাউন্ড দিয়ে বাজাচ্ছে যে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।

সজীব তার হাতের ফলমূলের ব্যাগটা জুথির হাতে দিয়ে নিজে ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। আর জুথি তাদের ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো।

জুথির বাবা আশরাফুল মাস্টার পুরনো কাঠের চেয়ারে বসে আছেন। সজীব দরজার সামনে মুখ বের করে তাকিয়ে বললোঃ-

- আসসালামু আলাইকুম।

- চমকে গেলেন আশরাফুল মাস্টার, দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সজীবকে দেখে অবাক হয়ে গেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, আরে এ তো সজীব। ওয়া আলাইকুম আসসালাম, এসো এসো কেমন আছো বাবা?

- স্যার আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো আছি, ক্ষমা করবেন আগেরবার এসে আপনার সাথে দেখা করতে পারি নাই। এতটাই ব্যস্ততা ছিল যে সময় করতে পারিনি, তবে এটা তো অজুহাত মাত্র কারণ ইচ্ছে থাকলেই দেখা করা যায়। করতে পারি নাই বলে লজ্জিত স্যার।

- তুমি কিন্তু বেশি বেশি বলছো, আমি কি কোন অভিযোগ করেছি? আমি জানি কোম্পানির জব করতে অনেক পরিশ্রম আর ব্যস্ততার মধ্যে থাকা লাগে।

- জ্বি স্যার।

- কিন্তু জুথি তো বললো তুমি চট্টগ্রামে না কোথায় যেন চলে গেছ, তাহলে কি ও ভুল জানে?

- না স্যার, তার কথা সত্যি। আমি চট্টগ্রাম থেকে আজকে সকালে আবার আসলাম, চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। নতুন করে চাকরি নেবো, অবশ্য চাকরি চলে গেছে বলা যেতে পারে।

- কিন্তু কেন? তোমার মতো মানুষের চাকরি চলে যাবে কেন?

- সে অনেক কথা স্যার, তারপর আপনার শরীরের খবর কি? শুনলাম নানান ধরনের রোগ জন্মেছে।

- হ্যাঁ, বয়স তো কম হলো না। তাছাড়া অনিয়ম করে করে শরীর দুর্বল হয়ে গেছে, এখন বৃদ্ধ হয়ে বুঝতে পারছি শরীরের মূল্য।

- ঔষধ ঠিক মতো চলছে তো?

- হ্যাঁ ঠিকমতো চলে।

এমন সময় রুমের মধ্যে জুথি প্রবেশ করলো, তার হাতে ট্রে তে সদ্য সজীব এর আনা আপেল কাটা, কমলালেবু, আঙুর সাজানো। সে সেগুলো টেবিলে রাখতে রাখতে বললোঃ-.

- ছাত্রের সঙ্গে কেন মিথ্যা বলছো বাবা? তুমি তো ঠিকমত ঔষধ খাও না। আর খুব সুন্দর করে সেটা অস্বীকার করছো তাই না?

আশরাফুল মাস্টার অস্বস্তিতে পরলেন, তিনি চট করে বললেন,

- মাঝে মাঝে দু একবেলা মনে থাকে না, নাহলে তো প্রায় সবসময়ই খাই।

- সজীব বললো, স্যার আপনার ঘরে স্কুলের এক শিক্ষিকা থাকতে আপনি কেন ভুলে যাবেন? সে তো নিয়মিত নিজের দায়িত্বে খাইয়ে দিতে পারে, সেটা না করে বড় বড় কথা বলে।

- জুথি বললো, ও হ্যালো মিস্টার সজীব? আমি যদি খাইয়ে না দিতাম তাহলে পনের দিনের ঔষধ দিয়ে তিনমাস পার হয়ে যেত। এখন পন্ডিতি না করে খাওয়া শুরু করেন, ঘরের মধ্যে চানাচুর ছাড়া আর কিছু নেই। তাই আপনার নিয়ে আসা ফলমূল কেটে খেতে দিলাম।

- মাস্টার বললেন, তাহলে চানাচুর একটা প্লেটে করে দিলি না কেন?

- বাবা তোমার ছাত্রের গ্যাস্টিকের সমস্যা আছে তাই অনেক আগে থেকে সে চানাচুর খায় না।

- সজীব বললো, আমাকে নিয়ে এতো ব্যস্ত হতে হবে না স্যার। আমি কেবলমাত্র ভাত খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি, এখন পেটে কোন ক্ষুধা নেই।

- জুথি বললো, দুপুরের রান্না করতে অনেক দেরি হবে তাই আপাতত ফলগুলো খেয়ে নেন।

হৃদয়ের সবকথা নীরবতা পর্ব ৮ গল্পের ছবি