হৃদয়ের সবকথা নীরবতা

পর্ব - ৭

🟢

খানিকটা কষ্টের জন্য হয়তো সজীব এর চোখের কোনে পানি জমা হয়ে গেল। রাত্রি সেই পানি দেখে অবাক হয়ে গেল কিন্তু মাত্র একদিন আগে যার সাথে পরিচয় তাকে কীভাবে সান্তনা দিতে হবে সে জানে না। কিন্তু সেই চোখের পানি জমা হবার কি কারণ সেটাই তো জানে না। ম্যানেজার স্যার কল দিয়ে নিশ্চয়ই এমন কিছু বলেছেন যেটা স্যার সহ্য করতে পারে নাই তাই হয়তো কেঁদে ফেলেছে। খুব ইচ্ছে করছে স্যার কি বলেছে সেটা জানার জন্য কিন্তু কীভাবে জিজ্ঞেস করবে রাত্রি?

রাত্রির ভাবনার অবসান ঘটিয়ে সজীব বললো,

- তুমি কি বাসায় যাবে? এখন আর অফিসে গিয়ে কি করবে? বাসায় চলো, আগামীকাল সকালে না হয় আবার শুরু করবে।

- ঠিক আছে স্যার।

- কথায় কথায় শুধু স্যার বলবে না রাত্রি, এমনটা শুনতে ভালো লাগে না।

- ঠিক আছে। (রাত্রির জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে যে তাহলে কি বলে ডাকবো? কিন্তু সে সেটা কেন যেন জিজ্ঞেস করতে পারলো না।)

সিএনজির মধ্যে বসে দুজনেই পাশাপাশি এগিয়ে যাচ্ছে, রাত্রির মনের মধ্যে শুধু অস্তিত্ব হচ্ছে স্যার কেন চোখ দিয়ে পানি বের করলেন? হঠাৎ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে সজীব বললোঃ-

- বাসায় তোমার কোন কাজ আছে? মানে তুমি যদি ঘন্টা দেড়েক পরে বাসায় যাও তাহলে কি কোন সমস্যা হবে?

- না স্যার সমস্যা নেই, বলবো স্যারের সঙ্গে কাজে ছিলাম তাছাড়া একটা মানুষ আহত হয়েছে তাই সারাদিন কাজ বন্ধ ছিল। সেজন্য পরে দিনের সামান্য কিছু সামলে আসতে দেরি হয়ে গেছে।

সজীব তখন ড্রাইভারকে বলল, গাড়ি যেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যায় (সী-বিচ)। রাত্রি খানিকটা অবাক হয়ে গেছে ঠিকই কিন্তু কিছু বললো না। সে জানে তার পাশে বসে থাকা মানুষটার মন খারাপ, হয়তো তিনি সেজন্য ঘুরতে যেতে চাইছেন। কিন্তু এখন তো সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত ঘিরে আসছে আর এমন সময় সে তার সঙ্গে কেন যাবে? সিয়াম যদি জানতে পারে তাহলে তো খুব রাগ করবে, আর সে সিয়াম কে না বলে থাকতে পারবে না। যেভাবেই হোক সে কেন যেন এগুলো সব সিয়ামকে বলে দেয়, কিন্তু ঝগড়া হতে পারে সেটা বিবেচনা করে না সে।

যেহেতু শীতের রাত তাই ঠান্ডা বেশ জমেছে, রাত্রি সিএনজির মধ্যেই কেমন জবুথবু হয়ে গেছে। তারা দুজন যখন সিএনজি থেকে নামলো তখন হালকা বাতাস বইছে, দুজনের সাথেই শীতের পোশাক আছে। বেশিরভাগ মানুষ ফিরে যাচ্ছে আর কিছু মানুষ শুধু এখন আসছেন। এরা হয়তো রাতের আধারে বঙ্গোপসাগরের মুখোমুখি হয়ে ঢেউগুলো উপভোগ করতে চায়।

তারা দুজন হাঁটতে হাঁটতে সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে, সজীব প্রায় চার বছর পরে এখানে এসেছে কিন্তু তাতেই সম্পুর্ন ভিন্ন একটা জগৎ। এত সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে যেগুলো আগে কিছুই ছিল না। তবে যেগুলো এখনো আগের মতোই আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছবি তোলার ঘটনা। অনেক মানুষ হাতে ক্যামেরা নিয়ে পর্যটকদের ছবি তুলে দিতে চায়। প্রযুক্তির এই যুগে সবাই স্মার্ট মোবাইল ব্যবহার করে তাই ছবি হয়তো সবাই তুলতে চায় না। তবুও এরা দিনের পর দিন এখানে তাদের জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

- সমুদ্রের পাড়ে জুতা খুলে হাঁটবে?

- রাত্রি চমকে গেল, " আপনি যদি যেতে চান তবে আমিও যেতে পারি সমস্যা নেই। "

- না থাক, আচ্ছা চলো ঝালমুড়ি খাই।

- স্যার একটা কথা বলতে চাই কিছু মনে করবেন না তো?

- কি কথা?

- ম্যানেজার স্যার আপনাকে কি বলেছে?

- তেমন কিছু না, আচ্ছা তুমি বেশি ঝাল খেতে পারো তো?

রাত্রি বুঝতে পারছে তার স্যার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে চায় তাই অন্য কিছু জিজ্ঞেস করছে।

- হ্যাঁ পারি।

- ঠিক আছে।

ঝালমুড়ি খাওয়া শেষ করেই সজীব বললো, রাত্রি চলো আমরা চলে যাই।

- কেন স্যার?

- বাতাস বইছে, তুমি তো ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে গেছ মনে হচ্ছে। তাছাড়া কেমন যেন ভালো লাগছে না তাই চলে যাওয়া ভালো হবে।

- ঠিক আছে চলুন।

সিএনজি থেকে নেমে ফ্রি পোর্ট মোড়ে বে-শপিং সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে সজীব বললোঃ- ভালো থেকো সবসময়, তোমার সাথে হয়তো আর কভু দেখা হবে না। মাত্র দুদিনের মধ্যে একসাথে চাকরি করা ফুরিয়ে গেছে, কাল থেকে হয়তো নতুন কেউ আসবে তুমি তার সাথে কাজ করবে।

- রাত্রি হঠাৎ অবাক হয়ে গেল, সে বললো কিন্তু স্যার আপনি কোথায় যাবেন?

- আমাকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে, তাই আর চাকরি করা হবে না।

- মানে কি? কিন্তু কেন?

- আমি একটু অদ্ভুত ধরনের মানুষ, ম্যানেজারের সঙ্গে এর আগে ৩/৪ বার ঝামেলা হয়েছে। টাকা পয়সার বিষয় নিয়ে ঝামেলা তাই সে অনেকদিক থেকে আমাকে রাখতে চায় না। কিন্তু মানুষটা যে এত সুন্দর করে ব্যবহার করে সবার সামনে তখন কিছু বোঝা যায় না। সবসময় নিজে টাকাপয়সার গরমিল করে ব্যাঙ্কের তহবিল ভারি করে। কিন্তু তোমার আমার মতো বা আমাদের নিচু স্তরের সব মানুষকে ঠকিয়ে দেয়।

- মালিকপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয় না?

- মালিক বছরের বেশিরভাগ সময় বিদেশে থাকে তাই এটা তার নজরে আসে না। ম্যানেজার সাহেব বছর শেষে যা হিসেব করে দেয় সেটাই তার কাছে অনেক কিছু মনে হয়।

- আশ্চর্য হলাম স্যার, এমন করে চলে কীভাবে?

- পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবন আলাদা করে চলমান, সেগুলো খুবই অদ্ভুত।

- আপনি সত্যি সত্যি চলে যাবেন? ম্যানেজার হয়তো রাগ করে বলেছেন কিন্তু আপনি তার কথা মনে কিছু নিবেন না।

- না, যেখানে নিজের স্বাধীনতা মোতাবেক কাজ করা যায় না সেখানে কাজ করে শান্তি নেই। আমি অনেকদিন ধরে নতুন চাকরি নেবার চেষ্টা করছি কিন্তু ভেবেছিলাম নতুন পেলে তখন ছেড়ে দেবো। তবে এখন তার আগেই ছেড়ে দিচ্ছি, আমি কালই বাড়ি চলে যাবো। তারপর সেখানে কিছুদিন থেকে নতুন চাকরির চেষ্টা করবো, অভিজ্ঞতা যেহেতু আছে তাই সমস্যা হবে না আশা করি।

- দিলেন তো আমার মনটা খারাপ করে।

- কেন কি হইছে? আমার চাকরি চলে গেছে তবে তোমার টা তো আছে। তুমি মন খারাপ করে লাভ কি বলো? মন দিয়ে ডিউটি করবা।

- ঠিক আছে স্যার।

- তোমার বয়ফ্রেন্ড কেমন আছে?

- রাত্রি চমকে গেল, কারণ তার বয়ফ্রেন্ড আছে সে কথা তো সজীবের কাছে বলে নাই। তাহলে স্যার জানলো কীভাবে? সে বললো, স্যার আমার যে বয়ফ্রেন্ড আছে আপনি জানেন?

- সজীব এবার আবারও বিপদে পরে গেল, তার মনে পরলো যে তার কাছে বলে নাই কিন্তু নাম্বারে মেসেজ দিয়ে বলেছিল রাত্রি। সজীব বললো, এটা কঠিন কিছু নাকি? তোমাকে কথা বলতে দেখেছি তাই অনুমান করে নিলাম, অবশ্য আমার অনুমান সত্যি নাও হতে পারে।

- আপনার অনুমান সত্যি, কিন্তু জানি না কতদিন সে সম্পর্ক টিকবে।

- কেন কি হইছে?

- থাক এসব কথা, বাদ দেন স্যার।

- ঠিক আছে, ভালো থেকো।

- স্যার আমি মাঝে মাঝে আপনার কাছে কল দিয়ে কথা বলতে চাইলে আপনি রাগ করবেন?

- আচ্ছা কল দিও।

- মেলা মেলা ধন্যবাদ স্যার।

---

সারাদিন ব্যস্ততার জন্য মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারে নাই সজীব, গতকাল রাতে কল দিয়েছে মা কিন্তু দিনের বেলা কথা হয়নি। বাসায় এসে সজীব তার মায়ের কাছে কল দিল। সজীব এর মা মাত্র এশার নামাজ পড়ে জায়নামাজ থেকে উঠেছেন ঠিক তখনই সজীব এর কল।

- হ্যাঁলো, বাবা সজীব?

- জ্বি মা, কেমন আছো তুমি?

- আলহামদুলিল্লাহ তুই কেমন আছিস?

- আছি ভালোই, কি করো?

- নামাজ পড়ে উঠলাম, কিন্তু তোর কণ্ঠ এভাবে বিষন্ন মনে হচ্ছে কেন? শরীর ভালো তো?

- হ্যাঁ মা ভালো, আমি আগামীকাল বাড়িতে চলে আসতেছি চাকরি ছেড়ে।

- কেন হঠাৎ করে?

- বাড়ি ফিরে সবকিছু বলবো মা।

- আচ্ছা ঠিক আছে বাড়িতে আয় তাহলে, আমার মনে হয় ভালোই হবে। তোর শিক্ষক আশরাফুল ভাই খুব অসুস্থ মনে হয়, গতকাল তার মেয়ে এসে তোকে খুঁজছিল। কিন্তু তুই চলে গেছিস তাই মন খারাপ করে চলে গেছে, বাড়িতে এসে তো স্যারের সঙ্গে দেখা করা দরকার।

- ঠিক আছে মা তাই হবে, বাবা কেমন আছে? তার শরীর ভালো তো?

- হ্যাঁ ভালো আছে।

- রাখলাম তাহলে?

- আচ্ছা ঠিক আছে।

-----

চট্টগ্রাম থেকে ইদানীং বাস গুলো বাগেরহাট এসে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে যায় মাঝে মাঝে। কারণ নদীর মধ্যে রাত দশটার পর ঘন কুয়াশার জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দিনের বেলা যখন নদী পরিষ্কার হয় তখন আবার চলতে আরম্ভ করে। তবে কিছু কিছু গাড়ি আগে থেকে রওনা দিয়ে রাত দশটার আগেই ঘাটে আসে। জ্যাম কম থাকলে তারা নদী পার হয়ে রাত একটার মধ্যে বাগেরহাট হয়ে মোড়েলগঞ্জ পৌঁছে যায়। সজীব যখন পৌঁছে গেল তখন রাত আড়াইটা বাজে, সজীব এর বাবা নিজে বাইক নিয়ে নিতে এসেছে। বাড়িতে ফিরেই সজীব মায়ের হাতের রান্না খেয়ে নিজ রুমের মধ্যে ঘুমিয়ে গেল।

সজীব ঘুম থেকে উঠেছে সকাল দশটার দিকে। উঠেই আগে গোসল করে নিল, সারারাত ভ্রমণ করার জন্য শরীর কেমন হয়ে গেছে। টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে বালতি ভর্তি করে গোসল, আহ কি ঠান্ডা। নাস্তা করেই এগারোটার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে গেল, উদ্দেশ্য স্যারের বাড়ি। তার বাবার বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেল, পাশের গ্রামে স্যারের বাসা।

জুথিদের বাড়ির সামনে দেখা যাচ্ছে কিছু ছেলে জটলা করে আছে। তাদের কাছে গিয়ে বুঝতে পারলো এখানে ব্যাডমিন্টন খেলা চলে সকাল বিকাল অথবা রাতে। কিন্তু একটা বিষয় নতুন মনে হচ্ছে, তা হলো যে মাইক আনা হয়েছে। কিন্তু সেই মাইক ভালো করে বাজে না, কোৎ কোঁৎ করে শব্দ হচ্ছে। কিছু ছেলে মিলে সেটা চড় মেরে মেরে ঠিক করার চেষ্টা করছে। ছেলেগুলো চিনতে পারছে না সজীব, তাদের মধ্যে ৩/৪ টা মুখ পরিচিত মনে হচ্ছে। সজীব যখন গ্রামের বাড়ি থাকতো এরা হয়তো তখন হাফপ্যান্ট পরে চলতো। তাহলে এতদিন পরে তাদের চিনতে পারা কথা নয় তাই সজীব কিছু না বলে সামনে গেল।

স্যারের বাড়ির চতুর্দিকে এরিয়া ঘেঁষে গাছের সঙ্গে বাঁশ বেধে তার উপর শুপাড়ি গাছের খোল (পাতা) দিয়ে ঘেরাও করা। এই এলাকায় প্রায় মানুষের বাড়িতে এমন করে ঘেরাও করা হয়েছে। এতে করে বাড়ির মধ্যে মহিলারা কাজ করলে তাদেরকে রাস্তা দিয়ে হাঁটা মানুষেরা দেখতে পারে না। মূল দরজা সোজা একটা বড় কাগজের মতো বেড়া, কতগুলো সিমেন্টের বস্তা জোড়া লাগিয়ে সেলাই করে সেটা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। সজীব বাইক দাড় করিয়ে রাস্তার পাশে রাখলো, তারপর শহর থেকে স্যারের জন্য কিনে আনা ফলমূল নিয়ে ভিতরে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জুথি মাত্র গোসল করে এসেছে, শীতের দিনে সে তাড়াতাড়ি গোসল করে নাহলে ঠান্ডা লাগে। জুথি তার ভেজা কাপড় গুলো ঘরের সামনে উঠনে দড়ির মধ্যে শুকাতে দিচ্ছে। গোসল করে বেড়িয়ে চুল বাঁধা হয়নি এখনো, ভেজা চুলের আগা দিয়ে এখনো ফোঁটা ফোঁটা পানি পরছে। কাপড় শুকাতে দিয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল গুলো পানি ঝড়াবে, আর কিছুক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে রবে এটাই প্রত্যাশা।

ঠিক সেই মুহূর্তে সিমেন্টের বস্তা সরিয়ে বাড়ির মধ্যে সজীব প্রবেশ করলো। শব্দ শুনে পিছনে ফিরে তাকিয়ে জুথি অবাক হয়ে গেল, তার সামনে সজীব এগিয়ে আসছে।

জুথির মতো সজীবও অবাক হয়ে গেল, বাড়ির উঠনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। শাড়ী এমন করে পরেছে কেন? তাড়াহুড়ো নাকি? সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে মেয়েটার মাথার খোলা চুল। ভেজা চুলগুলো কোমড় ডিঙিয়ে হাঁটুর প্রায় কাছাকাছি নেমে গেছে।

সজীব আরেকটু সামনে গেল, দুজনের মধ্যে এখন দুরত্ব মাত্র দশ ফিটের মতো। দুজনেই তাকিয়ে আছে, মনে হয় কে আগে কথা বলবে সেটাই কেউ বুঝতে পারছে না।

ব্যাডমিন্টন মাঠের মাইক মনে হয় ঠিক হয়ে গেছে, কারণ সেই মাইকে এখন প্রচুর সাউন্ডে গানের বাজনা বাজছে। একটু পরেই বাজনা ভেদ করে বেবি নাজনীনের গান বেজে উঠলো।

এক নজর না দেখিলে বন্ধু,

দুনিয়া আন্ধার হয়।

পাশে তোমায় না পাইলে বন্ধু,

দম বুঝি মোর যায়।

ও বন্ধু তুমি কোই.. কোই.. রে?

এ প্রাণও বুঝি যায়.. যায়.. রে।

হৃদয়ের সবকথা নীরবতা পর্ব ৭ গল্পের ছবি