রাত্রি তার মোবাইলের কল কেটে দিয়ে সাইলেন্ট করে রেখে দিল। পাশে বসে থাকা স্যারের দিকে আড় চোখে তাকিয়ে দেখে তিনি ঘুমের রাজ্যের বাসিন্দা হবার জন্য প্রস্তুত। সারাদিন এতটা ক্লান্তি নিয়ে কাজের সাইডে হাটাহাটি করেছে তবুও সে কিছু বলে নাই। কাস্টমস মোড়ে এসেই জ্যামের মধ্যে আটকে গেল সিএনজি, সল্টগোলা রেল ক্রসিংয়ের ওখান থেকে বন্দরের অনেক পণ্যবাহী ট্রাক চলে তাই সমস্যা হয়। রাস্তা এতটাই পরিপূর্ন হয়ে গেছে যে সিএনজিও পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারবে না।
রাত্রির অস্বস্তি হচ্ছে, স্যার যেহেতু ঘুমে জড়িয়ে যাচ্ছে তাই যেকোনো সময় যদি তার ঘাড়ে মাথা রেখে ফেলে? তখন সে কি করবে? আজকেই মাত্র তার সাথে পরিচয়, আর একদিনের মধ্যে মানুষটা কেমন চেনা চেনা লাগে। রসকষহীন হলেও কিছুটা রহস্যময় মনে হচ্ছে তাকে, মাঝে মাঝে মুখের ভাব দেখে মনে হয় একটা চাপা কষ্ট লুকিয়ে আছে।
আরো কিছুদিন পরে যদি ফ্রী হতে পারে তাহলে জিজ্ঞেস করে জানতে চাইবে।
সিএনজি থেকে যখন নামলো তখন সজীব এর শরীরে হালকা জ্বর এসেছে। সে সিএনজি ভাড়া দিয়ে রাত্রিকে বললোঃ- ঠিক আছে ভালো থেকো, বেঁচে থাকলে আগামীকাল দেখা হবে।
---
দুপুরের পর থেকে একটা হাঁস খুঁজে পাচ্ছেন না সজীব মা, তাই বিকেলটা তিনি হাঁসের খোঁজার জন্য ব্যয় করলেন কিন্তু ফলাফল শূন্য। ধবধবে সাদা রঙের হাঁসটা পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ সজীব বাড়িতে থাকতে এই হাঁসটা খেতে চেয়েছিল। কিন্তু হাঁসটা নিয়মিত ডিম পারে আর দেখতে খুব ভালো লাগে তাই তিনি একমাত্র ছেলের কথা রাখেন নাই। আজকে সেই হাঁসটা হারিয়ে গেছে, মনে হয় বনবিড়াল নিয়ে গেছে নাহলে এতক্ষণে পাওয়া যেত নিশ্চিত। তুলিদের একটা মুরগী নিয়ে গেল গতকাল দুপুরে তুলির সামনে থেকে। তুলি তখন পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিল আর অমনি একটা ঝুপ করে শব্দ হলো। আর দেখতে পেল মুরগী মুখে করে বনবিড়াল পালিয়ে যাচ্ছে। ধরার চেষ্টা করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু খুব কমসংখ্যক মানুষ এ বিষয় সফল হতে পারে। তাই তারাও পারে নাই।
- সজীব এর বাবা পিছনের দিকে এসে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললো, আর কত খোঁজাখুঁজি করবে? সে আর পাওয়া যাবে না তাই যেগুলো আছে সেই গুলো যত্ন করে রেখো। এখন তাড়াতাড়ি ঘরের ভিতর আসো, একটা মেয়ে এসেছে আমাদের বাসায়। সজীব এর সেই স্কুল শিক্ষক আশরাফুল ভাইয়ের মেয়ে, বসে আছে তাই তুমি আসো।
- আগে বলবে না? চলো তাড়াতাড়ি।
সামনে বসার ঘরে খাটের ওপর বসে ছিল জুথি, টেবিলের উপর তিনটি বই রাখা আছে। বিছানা বেশ পরিপাটি, মনে হচ্ছে বাসার মধ্যে যারা থাকে তারা এটা ব্যবহার করে কম। কিংবা সবসময় এটা গুছিয়ে রাখা হয়েছে।
সজীব মা সামনের রুমে প্রবেশ করলো আর জুথি দাঁড়িয়ে তাকে বললোঃ-
- আন্টি আসসালামু আলাইকুম।
- ওয়া আলাইকুম আসসালাম, কেমন আছো তুমি?
- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ আপনি কেমন আছেন?
- আমরা সবাই ভালো আছি, তোমার বাবা কেমন আছেন? কতদিন হয়ে গেল তার সাথে দেখা হয়না আমাদের, আগে তো মাঝে মাঝে আসতো কিন্তু এখন আর দেখিনা। ভালো আছে তো?
- আছে মোটামুটি, ডায়াবেটিসের জন্য অকালেই শেষ হয়ে যাচ্ছেন। ৭/৮ মাস ধরে বাড়ি থেকে বের হননা প্রায়, খুব বেশি হলে বাড়ির সামনে রাস্তায় হাঁটতে যায়।
- আহারে, খুব ভালো মানুষ তোমার বাবা। তোমার বাবার কাছে আমরা এবং আমাদের একমাত্র সন্তান চিরকৃতজ্ঞ। সজীব যখন স্কুলে পড়তো সেই সময় তোমার বাবা ওকে দেখতো। আমরা মা-বাবা তখন ছিলাম একদম বেপাত্তা, তোমার বাবা নিজ হাতে ওকে মানুষ করেছে। কখন কীভাবে কোন বই পড়তে হবে সবকিছু তিনি খবর রাখতেন। সে একদিন সজীব এর বাবাকে ডেকে বলেছিলেন যে সজীব একদিন অনেক বড় হবে। তাকে যেন তার ইচ্ছে মতো পড়াশোনা করার সুযোগ দেই।
- সজীব এর কথা উঠতেই জুথি মাথা নিচু করে রইল, তারপর আবার মুখ তুলে সজীব এর মায়ের দিকে তাকিয়ে শুনতে লাগলো।
- সজীবের মা বললো, সজীব যখন এসএসসি পরীক্ষা দেবে তখন তোমার বাবা প্রতিদিন সকাল বিকাল আমাদের বাসায় আসতেন। সকাল বেলা তিনি স্কুলে যাবার সময় দেখা করে যেতো আর বিকেলে এসে পরীক্ষার বিষয় জানতে চাইত। অনেক ভালো মানুষ তোমার বাবা, এই যাহ আমি শুধু বকবক করে যাচ্ছি। তোমার জন্য চা নাস্তার ব্যবস্থা করতে ভুলে গেছি, কি সর্বনাশ।
- আন্টি আপনি ব্যস্ত হবেন না আমি কিছু খাবো না, একটা কাজে এসেছি।
- কাজে এসেছ সমস্যা নেই কাজ করবে, কিন্তু নাস্তা করতে সমস্যা কি? চুপচাপ বসো তারপর নাস্তা করে কাজের কথা বলবে।
- আন্টি মাগরিবের আযান দিয়ে দেবে একটু পরেই, আমাকে ফিরতে হবে নাহলে মা-বাবা দুজন মিলে টেনশনে থাকবে।
- নাস্তা করতে বেশি সময় লাগবে না, তোমার বাবা যদি জানতে পারে তুমি আমাদের বাসায় এসেছ কিন্তু আমি নাস্তা করাই নাই। তাহলে তিনি মনে মনে কষ্ট পাবে, আর চিন্তা করিও না তোমার দেরি হয়ে গেলে তোমার আঙ্কেল বাইকে করে পৌঁছে দিয়ে আসবে।
জুথি আর আপত্তি করতে পারলো না, চুপচাপ বসে রইল, আর মনে মনে বাড়ির কথা চিন্তা করে যাচ্ছে জুথি। একটু পরেই বিস্কুট চানাচুর নিয়ে প্রবেশ করলো সজীব এর মা।
- একটা বিস্কুটে কামড় দিয়ে জুথি বললো, আন্টি আমি সজীব ভাইয়ের কাছে এসেছিলাম। বাবার শরীর দুর্বল তাতো আগেই বলেছি, বাবা অনেক দিন থেকে সজীব ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করেন। গতকাল একজনের কাছে শুনলাম সে নাকি তাকে বাজারে দেখেছে দুতিনদিন আগে। তাই আমি এসেছি সজীব ভাইকে খবরটা জানাতে, যদি সে একটু সময় করে বাবার সঙ্গে দেখা করতে যায় তাহলে বাবা খুশি হবে।
- কিন্তু মা, সজীব তো চলে গেছে গতকাল।
- জুথি অবাক হয়ে বললো, কখন গেছে?
- গতকাল বিকেলের গাড়িতে চলে গেছে, আরও কিছুদিন থাকার কথা ছিল কিন্তু ম্যানেজার কল দিয়ে পাগল করে দিচ্ছেন। বাধ্য হয়ে ছেলেটা চলে গেছে চট্টগ্রামে নতুন কাজের স্থানে, আর আজকে গিয়েই ডিউটি করে।
- ওহহ আচ্ছা, জানতাম না আমি।
- রাতে কল দিলে আমি তোমার বাবার কথা বলে দেবো ওকে, যদি সুযোগ বের করতে পারে।
- সমস্যা নেই আন্টি, বেশি তাড়াহুড়ো করতে হবে না, ভেবেছিলাম বাড়িতে আছে তাই এলাম।
- এ মা, এটা কেমন কথা? মাঝে মাঝে যদি আসো তাহলে কি ক্ষতি হবে নাকি? তুমি এক কাজ করো, সজীব এর নাম্বারে কল দিয়ে তোমার বাবার সঙ্গে কথা বলিয়ে দিও। নাম্বার আছে?
- বাবার কাছে ছিল আগে, কিন্তু বাবার পুরাতন সিমকার্ড নষ্ট হয়ে গেছে তাই নাম্বার চলে গেছে। যদি বাবার সেই পুরাতন সিমকার্ড নষ্ট না হতো তবে সজীব ভাই নিশ্চয়ই কল দিতেন। যদিও তিনি খুব ব্যস্ত সময় পার করে তবুও তিনি কল দিতেন।
- তাহলে ওর নাম্বার বের করে দেই তুমি নিয়ে যাও আর কল দিয়ে কথা বলিয়ে দিও।
- আচ্ছা ঠিক আছে আন্টি।
সজীব এর মা ছেলের নাম্বার বের করে জুথির কাছে দিল আর জুথি সেই নাম্বার ডায়াল করে নিচ্ছে। সবগুলো নাম্বার ওঠানোর পরে সেভ করার আগেই ভেসে উঠলো "সজীব"।
জুথি একটু ঠোঁট বাঁকা করে হাসলো, সে আগেই জানতো সজীব এর নাম্বার তার কাছে আছে। শুধু মোবাইলে নয়, জুথি সজীব এর নাম্বার মুখস্থ করে রেখেছে আরো ৬/৭ বছর আগে। এসএসসি পাস করে সজীব যখন খুলনা শহরে গিয়ে কলেজে ভর্তি হয়ে গেল তখন তার বাবা মোবাইল কিনে দিয়েছেন। ছেলে শহরে থাকবে তাই সবসময় কথা বলার জন্য ছেলের মোবাইল দরকার ছিল। আর তাছাড়া সজীবের বাজে অভ্যাস ছিল কম তাই বিশ্বাস করা যায় ছেলেকে।
সজীব সবকিছু গুছিয়ে শহরে যাবার আগের দিন বিকেলে জুথির বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেল। স্যারের সঙ্গে কথা বলে নিজের নাম্বার সেভ করে দিয়ে এসেছিল সেই বিকেলে। জুথি সেই বিকেলে চা দিতে গিয়ে সজীবের পায়ের উপর ফেলে দিয়েছিল। হিহিহি।
সেদিন রাতেই সজীব এর নাম্বার নিজের ডায়েরির পাতায় স্থান দিয়েছিল জুথি। সজীবের সেই নাম্বার আজও সজীব ব্যবহার করে ঠিকই কিন্তু জুথির কল দিয়ে কথা বলা হয় না।
- সজীব এর মা বললো, তুমি কি করো? আচ্ছা এতক্ষণ ধরে কথা বলে যাচ্ছি তোমার নামটাই জিজ্ঞেস করা হয় নাই। নাম কি তোমার?
- মরিয়ম আক্তার জুথি, আমি বছর খানিক ধরে তিন গ্রাম পরের যে মাঝিপাড়া গ্রাম আছে সেই গ্রামের একটা প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করি। সজীব ভাই যখন স্কুলে পড়তেন তখন আমি তার চেয়ে এক ক্লাস নিচে পড়তাম।
- বাহহ, সরকারি চাকরি করো জেনে খুব ভালো লাগলো। তোমার বাবা ছিলেন শিক্ষক তাই তুমিও তোমার বাবার মতো শিক্ষিকা হয়েছো। তা বিয়ে হয়েছে? শশুর বাড়ি কোন গ্রামে?
- জুথি মাথা নিচু করে বললো, না আন্টি বিয়ে হয়নি এখনো।
- কি বলছো? সত্যি বিয়ে হয়নাই? অবশ্য তোমার বাবা যেহেতু শিক্ষক তাই সেটাই স্বাভাবিক কারণ শিক্ষিত মানুষেরা ছেলে মেয়ে উভয়ই সম্পুর্ণ পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিতে চায় না। এখন যেমন তুমি ভালো একটা প্রতিষ্ঠিত মেয়ে তাই বিয়ে দিতে খুব সহজ হবে।
- জুথি মোটামুটি লজ্জা পেয়ে বললো, আন্টি রাত হয়ে যাচ্ছে আমি বরং যাই?
- আজকে থেকে যাও তাহলে? তোমার বাড়িতে কল দিয়ে বলে দাও তুমি যাবে না আজকে।
- না আন্টি, বাবা অসুস্থ আর মা ও তেমন একটা শক্ত নয় তাই আমি ছাড়া তাদের চলে না।
- ঠিক আছে যেতে দিচ্ছি কিন্তু কথা দাও তুমি আবার একদিন সকাল বেলা আসবে আর আমার হাতের রান্না খেয়ে বিকেলে যাবে।
- ঠিক আছে আন্টি চেষ্টা করবো।
মাগরিবের আজানের সময় হয়ে গেছে, জুথি খুব জোরে হাঁটতে শুরু করলো। রাস্তায় গিয়ে গাড়িতে উঠতে পারলে ভালো হবে নাহলে রাত হয়ে যাচ্ছে আর সে একা।
সজীবের মা মনে মনে বললো, মেয়েটা কত সুন্দর তাই না? খুব সুন্দর করে শাড়ি পরে এসেছে, কত সুন্দর গুছিয়ে কথা বলে আর মুখে কত মায়া। এই মেয়েটাকে যদি আমার সজীব এর বউ করে নিয়ে আসতে পারি তাহলে কেমন হবে?
---
জুথির বাবা ঘরের সামনে কাঠের চেয়ারে বসে ছিলেন, চেয়ারের একটা খুঁটি ভাঙ্গা কিন্তু সেটাকে পেরেক ঠুকে মোটামুটি বসার উপযুক্ত করে দিয়ে ছিল জুথি। জুথি বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে জুথির বাবা বললোঃ-
- জুথি মা ফিরলি?
- হ্যাঁ বাবা, কিন্তু তুমি এখনো বাইরে বসে আছো কেন? কত মশা চারিদিকে আর তাছাড়া শীতের পোশাক নেই তোমার শরীরে।
- তোর জন্য বসে আছি, দেরি হলো যে?
- তোমার ছাত্রের বাসায় গেলাম তাই ফিরতে দেরি হয়ে গেছে বাবা।
- কার কাছে? সজীব এর কাছে নাকি?
- হ্যাঁ, কিন্তু সজীব ভাই গতকাল রাতে চলে গেছে চট্টগ্রাম শহরে। তোমার গুনধর ছাত্র বাড়িতে এসে তোমার সঙ্গে দেখা করতে আসে নাই।
- মনে হয় ব্যস্ততার মধ্যে গেছে নাহলে ঠিকই সে আসতো, তোকে নাম্বার আনতে বলেছিলাম তুমি কি এনেছিস?
- হ্যাঁ বাবা এনেছি, আগে কাপড় পরিবর্তন করি তারপর তোমার জন্য চা নিয়ে আসি।
- ঠিক আছে যা তাহলে।
জুথির বাবা গতকাল যখন সজীব এর সাথে কথা বলতে চাইল তখন জুথি নিজের কাছে নাম্বার থাকা স্বত্বেও কল দেয় নাই। মিথ্যা করে বলেছিল বাবা আমার কাছে তো নাম্বার নেই, তুমি আজকে অপেক্ষা করো আগামীকাল আমি তাদের বাড়ি গিয়ে তাকে বলে আসবো।
বাবার জন্য চা বানিয়ে বাবার কাছে বসে বসে জুথি সজীব এর নাম্বারে কল দিল। কিন্তু সজীব রিসিভ করে নাই, একটানা চারবার কল দেবার পরে জুথির বাবা বললোঃ- মনে হয় এখনো অফিসে কাজ করে, পরে ফ্রী হয়ে ঠিকই কল দেবে তুই আর কল দিসনা মা।
জুথি অবশ্য কিছু মনে করে নাই, তার মনে হচ্ছে যে সজীব ইচ্ছে করে রিসিভ করে নাই কারণ তার এই নাম্বার সজীব এর কাছে কোন এক সময় ছিল।
এদিকে,
সজীব যে জ্বর নিয়ে ঘুমিয়ে আছে সেই কথা তো আমি আর পাঠক পাঠিকা জানেন। তাই জুথির কাছে সেটা জানার কথা নয়, বরং আমরা শুধু অপেক্ষা করতে পারি কি হচ্ছে?
সজীবের ঘুম ভেঙ্গেছে সাড়ে দশটার দিকে, ফ্রেশ হয়ে বিছানায় এসে যখন মোবাইল হাতে তুলে নিল তখন দেখলো তিনটা আলাদা নাম্বার থেকে কল।
(১) বাড়ি থেকে তার মা।
(২) সকাল বেলা রাত্রির দেওয়া সেই নাম্বার।
(৩) চেনা চেনা লাগে তবু অচেনা।
সজীবের মা-বাবা দশটার মধ্যে ঘুমিয়ে যায় বলে আর কল দিল না। রাত্রির কাছে কল দিল কিন্তু নাম্বার বিজি, কার সাথে যেন কথা বলছে। সজীব এর মনে পররো রাত্রির বয়ফ্রেন্ড আছে, তাই মনে হয় সেখানে কথা হচ্ছে।
সজীব এবার চেনা চেনা লাগে তবু অচেনা সেই নাম্বারে কল দিল। রিং হচ্ছে।
জুথি সবে মাত্র বাতি বন্ধ করে বিছানায় শুয়েছে তবে তার বাবা অনেক আগেই ঘুমিয়ে গেছে। সে যখন দেখলো সজীব এর নাম্বার থেকে কল এসে পড়েছে তখন চিন্তা করতে লাগলো রিসিভ করবে কি করবে না?
- অবশেষে রিসিভ করে বললো, আসসালামু আলাইকুম।
- ওয়া আলাইকুম আসসালাম, কে আপনি?
- জুথি মনে মনে ভাবলো "এ কেমন অপমান?" সত্যি সত্যি চিনতে পারছে না নাকি ফাজলামো করে তার সঙ্গে?
- কি হলো কথা বলেন না কেন?
- জ্বি আমার নাম জুথি, আপনার স্কুল জীবনের শিক্ষক আশরাফুল মাস্টারের মেয়ে।
- সজীব অবাক হয়ে গেল, তারপর বললোঃ- ওহ আচ্ছা তুমি স্যারের মেয়ে জুথি? কেমন আছো?
- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ, আপনি কেমন আছেন সজীব ভাই?
- আছি আলহামদুলিল্লাহ, স্যার কেমন আছে?
- বাবার শরীর বেশি ভালো না তাই আপনার সাথে কথা বলতে চায়। আপনি তো বাড়িতে এসে চলে গেলেন কিন্তু বাবার কাছে আসলেন না।
- আসলে জুথি, সত্যি বলতে আমি খুব টেনশনে ছিলাম বাড়িতে গিয়ে। তাছাড়া আমার ছুটি ছিল আরো বেশ কিছুদিন কিন্তু হঠাৎ করে আবার চলে আসতে হলো।
- এত বাহানা কেন সজীব ভাই?
- মানে কি?
- সরাসরি বললেই পারতেন যে আমার জন্য আর আসেননা।
- কিরকম?
- কেউ যদি বুঝেও না বোঝার অভিনয় করে তবে তাকে বোঝানো সম্ভব না সজীব ভাই। যাইহোক, একটা কথা জানিয়ে দিচ্ছি, আমি আর সেই ছোট্ট জুথি নেই। এখন আর সেই আবেগের টান অনুভব করতে পারি না, আপনি পরবর্তীতে বাড়িতে এলে আমাদের বাড়ি আসবেন সমস্যা নেই। আমি কিছু বলবো না আপনাকে, নিশ্চিত থাকতে পারেন।
- অবাক হচ্ছি জুথি।
- দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে আমিও অবাক হয়েছিলাম সজীব ভাই।
- কিন্তু তুমি আমাকে নিয়ে কখন ভাবতে?
- বাদ দেন সজীব ভাই।
- না বলো।
- আপনি একসময় আমাদের বাড়িতে প্রচুর যাওয়া আসা করতেন মনে আছে?
- হ্যাঁ, স্যারের কাছে যেতাম।
- কিন্তু আমি তখন ভেবেছিলাম আপনি আমার জন্য আমাদের বাড়িতে আসতেন। সবসময় শুধু ভুল ধারণা করে গেছি আমি, ক্লাস এইটে পড়ার সময় থেকে মনের মধ্যে একটা ভুল ধারণার জন্ম হয়েছিল। আর সেই ভুল ভাঙলো আমি যখন ইন্টারমিডিয়েট পাশ করি তখন। আপনি কলেজ থেকে ছুটি হলে গ্রামের বাড়ি এলে নিজের বাড়িতে ব্যাগ রেখে বাবার কাছে আসতেন। তখনও ভাবতাম আপনি আমার জন্য এসেছেন, কত বোকা তাই না সজীব ভাই?
- তোমার সেই ভুল ভাঙলো কীভাবে?
- যেদিন জানতে পারলাম আপনার জীবনে বৃষ্টি নামের একটা মেয়ের আবির্ভাব হয়েছে।