হৃদয়ের সবকথা নীরবতা

পর্ব - ১৭

🟢

সজীব কেঁপে উঠল, সত্যি সত্যি কি বৃষ্টি তার সঙ্গে মেসেজ করেছে নাকি মনের ভুল? যে মানুষটির সঙ্গে এ জীবনে আর কখনো দেখা হবার সম্ভবনা ছিল না সে কি ফিরে এসেছে?

ছোট্ট মেয়ে স্নিগ্ধা মেহজাবিন অদূরে চলে গেছে, সজীব মেসেজ রিপ্লাই না করে সরাসরি কল দিয়ে রিসিভের অপেক্ষা করলো।

- বৃষ্টি রিসিভ করে শান্ত গলায় বললো আসসালামু আলাইকুম সজীব সাহেব।

- ওয়া আলাইকুম আসসালাম, কেমন আছো?

- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি, তা আপনি কেমন আছেন সজীব সাহেব?

- চলছে খারাপ না।

- এটা কিন্তু ঠিক না, ভালো থাকার জন্য আপনি তো সবকিছু করতে পারেন তাহলে কেন আপনার এমন জবাব?

- জীবনের কিছু মুহূর্ত যখন অবহেলায় পেরিয়ে যায় তখন বহু পরে আবার তার জন্য মাঝে মাঝে কষ্ট অনুভুত হয়। আচ্ছা তুমি এখন কোন যায়গা দাঁড়িয়ে কথা বলছো? নিশ্চয়ই আমার আশেপাশে আছো নাহলে তো আমাকে দেখতে পাবার কথা নয়, তাই না?

- হ্যাঁ ছিলাম, আপনার সঙ্গে কিন্তু ওই চটপটির দোকান থেকে বহুদিন চটপটি খেয়েছি। বলতে হয় যে বেশিরভাগ সময় ওখানেই খেতাম কিন্তু আমরা দুজন মিলে।

- হুম মনে আছে।

- মেয়েকে নিয়ে বাসায় যাচ্ছি, আশা করি বাসার ঠিকানা এখনো মনে আছে। যদি সময় করতে পারেন তাহলে বাসায় যাবার দাওয়াত রইল, যদি না পারেন তবে অন্যদিন দেখা হবে।

কথাবার্তা এতটুকুই রইল, সজীব এর কাছে মনে হচ্ছে বৃষ্টি কতটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগের সে ভাবভঙ্গি প্রকাশ পায়না কথার মাঝে, নাকি প্রকাশ পায় ঠিকই কিন্তু সজীব ভুলে গেছে? বৃষ্টিদেে বাসা কোহিনূর মোড়ের একটু আগেই বাম হাতে। সজীব সেখানে যাবে কি যাবে না সেটা ভাবতে আরো দু একদিন পার হয়ে গেল। খুলনা আসার ছয়দিন পর সজীব এর নতুন চাকরি হলো, আর সেদিনই সে রাত্রির কাছে জানিয়ে দিল।

★★★

সজীব এর মা ঘরে ছিলেন না, যুথি এসে কিছুক্ষণ বাহিরে দাঁড়িয়ে রইল। দরজা খোলা আছে কিন্তু অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে মনের মধ্যে সাহস বা সায় পাচ্ছে না। এমন সময় ছোট্ট একটা মেয়ে তার পিছনে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছিল। যুথি তার কাছে সজীব এর মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলো, মেয়েটা মাথা নেড়ে দৌড় দিল। একটু পরেই পাশের বাড়ি থেকে সজীব এর মা বের হয়ে এলেন।

- কেমন আছো মা?

- জ্বি আন্টি আলহামদুলিল্লাহ, আপনারা সবাই ভালো আছেন?

- হ্যাঁ আছি আলহামদুলিল্লাহ, তোমার মা-বাবা সবাই ভালো আছে তো মা?

- জ্বি, আন্টি সজীব ভাই কি চলে গেছে? (যদিও যুথি নিশ্চিত ছিল তবুও প্রসঙ্গ নিয়ে বললো!)

- হ্যাঁ, হুট করে একদিন খুলনা থেকে নাকি কল এসেছে আর অমনি সবকিছু গুছিয়ে গেল। দুদিন আগে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছে, বললো তো মোটামুটি ভালোই চলছে।

- আচ্ছা।

- তোমার বাবা কি আগের চেয়ে সুস্থ হয়েছেন? তুমি একবার বলছিলে তিনি অসুস্থ খুব।

- আগের মতোই আছে, তবে কমবেশি।

সজীব এর মা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,

- এখন তো তাও তুমি আছো, কিন্তু তোমার যদি বিয়ে হয়ে যায় তাহলে তাদের কি গতি হবে সেটাই বড় চিন্তার বিষয়।

- আমি তাহলে আজ চলি আন্টি?

- এখনই যাবে? আরেকটু বসো।

- না আন্টি আবার আসবো আমি, আপনার সঙ্গে এসে কথা বলতে খুব ভালো লাগে।

- ঠিক আছে আবার চলে এসো।

সজীবদের বাড়ি থেকে বের হবার সময় সজীবের মা হঠাৎ যুথিকে বললো "একটা কথা জানতে খুব ইচ্ছে করছে, কিন্তু কীভাবে জিজ্ঞেস করি? "

" আমি আপনার মেয়ের মতো, আমার সঙ্গে কথা বলতে যদি সঙ্কোচ করেন তাহলে কিন্তু আমি আর আসবো না আন্টি। "

" আচ্ছা আচ্ছা, কিছু মনে করো না মা। তুমি কি সজীবকে পছন্দ করো? "

প্রশ্নটা করে সজীব এর মা হা করে তাকিয়ে আছে যুথির দিকে। আর যুথি হঠাৎ করে এমন অপ্রস্তুত হয়ে গেল যে কি বলবে তার কিছু বুঝতে পারছে না সে।

" যুথি বললো, হঠাৎ এমন কথা জিজ্ঞেস করলেন কেন আন্টি? আমি কি এসে ভুল করলাম? "

" এই দেখ, রাগ করলে? সেজন্য জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছিলাম না। "

" না না রাগ করিনি, তবে আপনার প্রশ্নের উত্তর আমি চাইলে দিতে পারি। কিন্তু আমি উত্তরটা না দিয়ে সজীব ভাইর জন্য রেখে যাচ্ছি, আপনি তার কাছে একটু জিজ্ঞেস করবেন। "

কথাগুলো বলে কেমন একটা লজ্জায় পরে গেল যুথি, তার কেবল মনে হচ্ছে এখানে আসা উচিৎ ছিল না। সজীবের মা মনে মনে কি বলবে? আবার তিনি তার সন্তান কে জিজ্ঞেস করলে সজীব কি ভাববে? যুথি তার মায়ের কাছে এসে ভালবাসার জন্য আবদার করে যাচ্ছে? এটা ভাববে সজীব?

" ঠিক আছে মা, তুমি কিছু মনে করো না, তোমার সবকিছু আমার ভালো লাগে। আবার এসো কিন্তু, তখন আরও বেশি সময় নিয়ে আসবে। "

★★★

রাত্রি খুলনা এসেছে গতকাল, তার বাবার একটা দুর আত্মীয়ের বাসায় উঠেছে। চট্টগ্রাম শহর হচ্ছে অনেক দুরে ঠিকই কিন্তু সেখানে নিজের আপন আত্মীয় ছিল। কিন্তু খুলনা শহর বাগেরহাট জেলা থেকে কত কাছেই কিন্তু এখানে রক্তের কোন খুব নিকটাত্মীয় নেই। তবে সজীব বলেছে তাদের যেই কাজের সাইড সেখানেই নাকি থাকার খুব ভালো ব্যবস্থা আছে।

কোম্পানির পক্ষ থেকে কতগুলো সেমিপাকা ঘর নির্মান করা হয়েছে সেখানে অনেক শ্রমিক থাকে। তবে সজীব নাকি সাইডের পাশেই একটা বাড়ির মধ্যে ঘর ভাড়া করবে। আে রাত্রি চাইলে তাকে সেখানেই আশেপাশের কোথাও এক রুমের ব্যবস্থা করতে পারে।

কাজের সাইডে এসে মুগ্ধ হয়ে গেল রাত্রি, সম্পুর্ণ এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ মনে হচ্ছে। রূপসা সেতু পার হয়েই বামদিকে মাত্র আধা কিলোমিটারের মধ্যে তাদের কাজ। কাজের সাইড থেকে ব্রীজের সবকিছু দেখা যায়, সামনে নদী, নদীর উপর সেতু যেন এক অদ্ভুত পরিবেশ।

সেতুর টোল প্লাজার কাছেই তাদের সাইড, তবে আশেপাশে এখনও গ্রামের মতো পাতলা পাতলা ঘরবাড়ি। সজীব মনে হয় এর মধ্যেই কোথাও রুম ভাড়া করেছে, আবার তার জন্যও একটা ব্যবস্থা করতে চেয়েছে।

সজীবকে সারাদিন অনেক ব্যস্ত মনে হচ্ছে, রাত্রির সঙ্গে শুধু একবার কথা হয়েছে। তাও সেই সকাল বেলা আসার পরে সজীব বলেছিল " সবকিছু ঠিক মতো দেখে বুঝে নাও ড্রইং, কাগজপত্র, ডিজাইন এসব ভালো করে দেখ। "

এতটুকু বলে সে অদৃশ্য হয়ে গেছে, মাঝে মাঝে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে রাত্রির খুব কাছে আসলেও কথা বলে নাই। তবে রাত্রির সঙ্গে বেশ আলাপ হয়েছে সুমন নামের একটা ছেলের। ছেলেটা কন্টাক্টটরের লোক তবে কথাবার্তা শুনে শিক্ষিত মনে হচ্ছে।

দুপুরের পরে রাত্রি আর সময় পার করতে পারছে না, মোবাইল বের করে সিয়ামের সঙ্গে কথা হয়ে গেছে দুইবার। নতুন এসে বারবার মোবাইল বের করা তার কাছে ভালো লাগে না। সবাই যদি মনে করে যে সে হয়তো সারাদিন মোবাইল নিয়ে পরে থাকে তাহলে সমস্যা বা অস্বস্তি।

মাঝখানে চা পাওয়া গেল, তখন সে অফিস-রুমে বসে ডিজাইন গুলো দেখছিল। চা খেতে খেতে সে যখন চোখের সামনে ডিজাইন নিয়ে পাতা উল্টে যাচ্ছে তখনই সজীব এলো।

" কি ব্যাপার রাত্রি? কি করো? "

" এইতো স্যার, ডিজাইন দেখছিলাম। "

" আগামীকাল থেকে তোমাকে আলাদা কিছু কাজ করতে হবে। কালকে সকল থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত আমি তোমাকে সবকিছু বুঝিয়ে দেবো। আর আশা করি তুমি এটুকু সময়ের মধ্যে সবকিছু বুঝে নিতে পারবে। "

রাত্রি খুশি হলো, স্যারের সঙ্গে কালকে থেকে কাজ করা যাবে। তাকে আলাদা করে কাজ বুঝিয়ে দেবে তাতেও সমস্যা নেই, কোন সমস্যা হলেই সে স্যারের সঙ্গে জিজ্ঞেস করবে। সজীব স্যারের সঙ্গে প্রথম পরিচয় খুব তিক্ততা ছিল কিন্তু এখন কেন যেন মানুষটাকে বন্ধু মনে হচ্ছে। প্রথম পরিচয়ের সেই কথা মনে করে রাত্রির হানি পেল, সে নিজে সংযত হয়ে বসলো।

" সে বললো, সমস্যা হলে আপনি তো আছেনই, কিছু দরকার হলেই আপনাকে জিজ্ঞেস করবো। "

" ভেরি গুড, আচ্ছা এবার তোমার থাকার ব্যবস্থা কি করবো বলো? তোমার আগের কথা শুনে মনে হচ্ছে তুমি যেখানে আছো সেখানে থাকা সম্ভব না। তাই ভাবছি তোমার জন্য আপাতত একটা ব্যবস্থা করতে হবে! "

" আপনার কষ্ট করতে হবে না, আমি কয়েকদিন একটু কষ্ট করে খুঁজে বের করবো। "

" আরে পাগল নাকি? শোন তুমি এক কাজ করো, আমি এখানকার একটা ছেলে আছে তাকে বলে দিচ্ছি। সে তোমার সঙ্গে গিয়ে তোমার জিনিসপত্র যা আছে সবকিছু আজকেই নিয়ে আসবে। আমি আপাতত এখানে একটা রুমের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি সেখানে থাকো। তোমার পাশের রুম গুলোতে আরও কয়েকজন মহিলা আছে, তারাও কিন্তু কাজ করে। "

" জ্বি স্যার, কতগুলো মহিলাকে কাজ করতে দেখেছি আমি। "

" হুম তারা বাস্তবতার সঙ্গে পরাজিত হয়ে পুরুষের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করছে। তবে তুমি রুমের মধ্যে একাই থাকবে এটাই শুধ কথা, আর এদিকে রুম পাওয়া যায় কিনা চেষ্টা করছি। "

" ঠিক আছে স্যার। "

" তাহলে বেরিয়ে পরো তুমি, কেমন? "

" জ্বি। "

অফিস-রুম থেকে বেরিয়ে সজীব আবার ফিরে এসে দরজার সামনে দাঁড়াল।

" একটা কথা জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি। "

রাত্রি চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে বললো, " জ্বি স্যার বলেন। "

" সিয়াম সাহেবের খবর কি? নদীর ওপারে আমার পরিচিত আরেকটা বন্ধু চাকরি করে। সেখানেও তাদের লোক দরকার, আমি অবশ্য এখানে কিছু সুবিধা ভালো পেলাম বলে এখানে জব নিলাম। সিয়াম সাহেব যদি ঢাকা থেকে এসে এখানে জব নিতেন তাহলে ভালো হতো মনে হচ্ছে। তাহলে সে আর তুমি দুজনেই এখানে বাসা ভাড়া করে থাকার ব্যবস্থা হয়ে যেত। "

" যুথি আমতা-আমতা করে বললো, আপাতত সে না আসুক। আমি নিজের মতো করে থাকতে চাই স্যার, পরে নাহয় এসব নিয়ে কথা বলবো? "

" ওকে ওকে, তোমার যেমন ইচ্ছে। "

মালপত্র নিয়ে এসে কোম্পানির নির্মিত রুমের মধ্যে গুছিয়ে নিতে রাত্রির প্রতি গভীর রাত্রি হয়ে গেল। ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁই ছুঁই করছে, বাহিরে সবগুলো রুমের মধ্যে সবাই ঘুমিয়ে গেছে। আজ সারাদিন যেখানে কাজের শব্দে মাথা ভনভন করে দিচ্ছিল সেখানে এখন নিস্তব্ধ। বড় বড় বাতি জ্বলে যাচ্ছে, আর দুজন দারোয়ান চেয়ার পেতে দুদিকে বসে আছে। তাদের হয়তো মশারা খুব বিরক্ত করে সারাক্ষণ, তাদেরকেও বিরক্ত মনে হচ্ছে।

এমন সময় সজীবের আগমন ঘটলো, তার সঙ্গে একজন দারোয়ান আছে। সজীব তাকে বুদ্ধি করে নিয়ে এসেছে যাতে কেউ কিছু না বলে।

" দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সজীব বললো, তোমার কোন সমস্যা নেই তো? "

" রাত্রি বিব্রত হয়ে বললো, না না স্যার সবকিছু ঠিক আছে। "

" তাহলে কল দিলাম রিসিভ করলে না কেন? "

রাত্রি বিপদে পরলো, কারণ সে ইচ্ছে করেই তার মোবাইল সাইলেন্ট করে টেবিলে রেখে দিয়ে সব গুছচ্ছিল, কারণ সিয়াম রাত নয়টার দিকে কল দিয়ে রাগারাগি করছিল।

" স্যার মোবাইল সাইলেন্ট করা ছিল, সরি। "

" আচ্ছা ঠিক আছে। শুয়ে পরো, সকালে কাজ আছে অনেক! "

★★

সজীব যে রুমে ভাড়া নিয়েছে সেখানে এসে সে আবার রাত্রির কাছে কল দিল। রাত্রি তখন ফোন হাতে নিয়ে ছিল তাই রিসিভ করতে দেরি হলো না।

" রাত্রি কি করো? "

" তেমন কিছু না, স্যার। "

" তোমার সঙ্গে একটা বিষয় পরামর্শ চাচ্ছি। "

" কি পরামর্শ? স্যার! "

" কালকে আমার খুব কাছের একজনের জন্মদিন তাই আমি তাকে নিয়ে একটু আলাদা পরিকল্পনা করতে চাই। কি করা যায়? "

" খুব কাছের? "

" না, একসময় দুজনেই রেললাইনের মতো একই সমান্তরালে চলছিলাম, কিন্তু হঠাৎ করে রাস্তার মোড় পেরিয়ে দুজন দু'দিকে চলে গেলাম। তার সঙ্গে ছয়বছর দেখা হয়নি, কিন্তু সে দেশে আছে এবং আমি চাই তাকে এবারের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে। "

রাত্রি হঠাৎ করে কিছু বলতে পারলো না, তার মনে একটা প্রশ্ন অনেকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছিল। সে জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছে সজীব কেন তার ছবি তুলে রেখেছিল? তারপর আবার কেন লুকিয়ে গেল?

সজীব হয়তো জানেনা যে, রাত্রির ছবি লুকিয়ে তুলেছে ঠিকই কিন্তু সেটা রাত্রি জানে।

রাত্রি ভাবছে, সে যদি জিজ্ঞেস করে, " স্যার আপনি কেন আমার ছবি তুলেছেন? " তাহলে সে তখন কি বলবে? খুব লজ্জা পাবে?

কিন্তু আমিসহ সকল পাঠক পাঠিকার প্রশ্ন হচ্ছে রাত্রি কীভাবে জানলো?

হৃদয়ের সবকথা নীরবতা পর্ব ১৭ গল্পের ছবি