She is my Obsession

পর্ব - ২০

🟢

সূর্যের উষ্ণ আলো ইসরাহর চোখে - মুখে পড়তেই ঘুম ভেঙে গেলো তার। বিছানা হাতড়ে ফারিসের ফোন টা পেলো সে।

স্ক্রিনে টাচ করতেই জ্বলজ্বল করে উঠলো ফারিসের ঘোড়ার পিঠে বসা একটা ছবি। বলিষ্ঠ দেহের ফারিসের বক্ষবিভাজনের পুরোটাই ছবিটাতে উন্মুক্ত। চুল গুলো এলো মেলো হয়ে জুড়িয়ে আছে কপালে। দু'হাতে ধরা ঘোড়ার লাগাম। ছবিটাতে যেনো থেকে থেকে ঠিকরে প্রকাশ করছে ফারিসের বীরেত্বর। তার গাম্ভীর্য আর নিখুঁত সৌন্দর্যের।

ইসরাহ ঘুম ঘুম চোখে ছবিটা দেখলো। আচানক তার মুখ থেকে বেরিয়ে এলো " মাশাল্লাহ "। একটা মানুষ এতোটা সৌন্দর্য নিয়ে ও জন্মাতে পারে?

--" পাশে থাকার পর ও ছবি দেখছো কেন? লুক এট মি লিটল গার্ল!"

ফারিসের ঘুম ঘুম কন্ঠ শুনে; ইসরাহ হাত থেকে মেঝের কার্পেটের উপর পড়ে গেলো ফোনটা। ধরা পড়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে ইসরাহ উঠতে নিতেই ফারিস টেনে ধরলো তার সুগঠিত বাঁকানো কোমর। মূহুর্তেই ইসরাহ কে বেডের সাথে চিপকে ধরে ফারিস সুধালো;-

--" ছবি টা তো এতক্ষণ ঠিকিই মনোযোগ দিয়ে দেখছিলে। তাহলে সরাসরি দেখতে এতো অনীহা কেন? হাজবেন্ড হই তোমার, যেভাবে ইচ্ছে দেখতে পারো। আই'ম ইউর প্রোপার্টি লিটল লাইফ।"

ফারিসের ঘুমন্ত স্বর, আর ডার্ক মেরুন অধর জোড়া দেখে শুষ্ক ঢোক গিললো ইসরাহ।

--" ছবি টা সুন্দর।"

--" তার মানে, আমি সামনা সামনি দেখতে সুন্দর না?"

--" না না, তা কেন হবে!"

ইসরাহর অগোছালো কথায়, ভ্রু দ্বয় কুঁচকে নিলো ফারিস। সে আরেকটু ঝুঁকে দূরত্ব গোছালো নিজেদের। থেমে থেমে ডার্ক মেরুন অধর যুগল নাড়িয়ে; হাস্কিং স্বরে বললো ফারিস;-

--" তাহলে কি?"

--" আ..পনি অনে.ক সুন্দর।"

--" চোখের দিকে তাকিয়ে বলো?"

ইসরাহ ফারিসের চোখে তাকিয়ে ফের চোখ নামিয়ে নিলো। চোখ নামাতেই তার চোখ পড়লো ফারিসের শুভ্র বুকে। প্রশস্ত ফর্সা বক্ষের মাঝে দুটো কালো কয়লা। খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো ইসরাহ।

হুট করেই মাথা উঠিয়ে; ইসরাহ কামড় বসালো ফারিসের চেস্ট মাশলে। ব্যথা পেলে ও চুপ চাপ ইসরাহ কামড় টা সহ্য করে নিলো ফারিস। পর পর ইসরাহর কোমর আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, ফিচেল কন্ঠে সুধালো সে;-

--" এখন যদি সেইম জায়গায় আমি কামড় দেই? সহ্য করতে পারবে লিটল গার্ল?"

--" নাএএএএ।"

--" ইয়েস, একটা কামড় দেওয়াই যায় লিটল গার্ল। দিলাম তাহলে...!"

কথা শেষ করে ফারিস ঝুঁকতেই ইসরাহ ছটপট শুরু করলো। ফারিসের শক্ত বাঁধন থেকে ছাড়া না পেয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে উঠলো ইসরাহ বদন। ফারিস ঠোঁট কামড়ে হাসলো। অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো;-

--" কাঁদছো কেন, কামড় দিয়েছি?"

--" না।"

--" তবে?"

--" আপনার উপর বিশ্বাস নেই।"

--" রিয়েলি?"

--" উঠবো ফারিস।"

--" কেনো?"

--" ভার্সিটি যাবো।"

ফারিস সরে গেলো; সে সরতেই ইসরাহ উঠে পড়লো। দ্রুত পায়ে নেমে কার্বাড থেকে জামা নিয়ে শাওয়ারে ঢুকলো ইসরাহ। ফারিস ঘুমোতে নিয়ে ও আর ঘুমালো না। থাই গ্লাসের ফাঁক গলিয়ে পড়া রোদের দিকে তিরিক্ষ চোখে তাকিয়ে রইলো সে। ইসরাহ বেরোতেই ফারিস ফোন স্ক্রল করতে করতে; না তাকিয়েই প্রশ্ন করলো তাকে;-

--" তোমার ছেলে ফেন্ড আছে লিটল গার্ল?"

--" আছে।"

--" কি নাম?"

ফারিসের জানা স্বত্তে ও ইসরাহ মুখ থেকে শুনতে চাইলো সে। ইসরাহ চুল থেকে টাওয়াল ছাড়াতে ছাড়াতে বললো;-

--" রবিন, বিয়েতে এসেছিলো তো, দেখেননি?"

--" উমম.. জানি না।"

বারান্দার দরজা টা খুলে; ইসরাহ এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসলো। হেয়ার ড্রায়ার টা নিয়ে চুল শুকানোতে মনোনিবেশ করলো সে।

চুল শুকানো শেষে ওড়না টা হিজাবের মতো পেঁচিয়ে উঠে পড়লো ইসরাহ।

---------

ভার্সিটির জন্য এক সাথে রেডি হয়ে নামলো ইসরাহ। তখন আরহাম সিকদার টেবিলে বসে চা পান করছেন। আসফা বেগম কিচেনে।

ইসরাহ ডাইনিং টেবিলে এসে বসলো। উচ্চস্বরেই ডাকলো আসফা বেগম কে।

--" আম্মু নাশতা দাও। দেরি হয়ে যাচ্ছে।"

ইসরাহ ডাকে নাশতা নিয়ে এলেন আসফা। রুটির প্লেট টা ইসরাহ সামনে রেখে; প্লেট সাজানোর ফাঁকে শান্ত কন্ঠে বললেন তিনি:-

--" নাফি আসছে।"

ইসরাহ নাশতা প্লেট টা নিয়ে; ফু দিয়ে গরম রুটি ছিঁড়ে ভাজি নিয়ে মুখে দিলো। ফের চিবুতে চিবুতে, হাত ঘড়িতে সময় টা দেখে নিলো একবার। আট টা পঞ্চাশ। এখনো যথেষ্ট সময় আছে।

--" আন্টি আসবে আম্মু?"

মুখ কালো করে নিলেন আসফা। চিন্তিত মুখে ইসরাহ পাশের চেয়ার টা টেনে বসলেন উনি।

--" আপা অসুস্থ, তাই নাফি তোকে নিতে আসবে।"

--" কিন্তু আমি এখন যাবো কিভাবে আম্মু?"

--" তুই ছাড়া তোর আন্টির আর কে আছে বল? এই বিপদের সময় তুই না গেলে কিভাবে হবে বল মা?"

--" ফারিস যাবে? ওনাকে বলে আসি?"

মনে মনে বিরক্ত হলে ও মুখে কিছু বললেন না আসফা। সব খানে শুধু ফারিস ফারিস। ফারিসের জয় গান। ঠোঁটে হাসির রেশ টেনেই তিনি সুধালেন;-

--" আপাতত ও কে বলিস না। ছেলে টা ভাববে আমি তোর ক্ষতি চাই। পরে জানিয়ে দিলেই চলবে।"

--" আচ্ছা, আমি যাই তাহলে। বাড়ি ফিরে ব্যাগ গুছিয়ে নিবো।"

--" প্রয়োজন নেই; আমি তোর ব্যাগ পাঠিয়ে দিবো নাফির কাছে। তুই ভার্সিটি থেকেই বাস ধরে নিস। না হয় যেতে যেতে রাত হয়ে যাবে।"

মায়ের দিকে তাকিয়ে, মলিন কন্ঠে ইসরাহ সুধালো;-

--" কি আর করার? আন্টির অসুখ তাই যেতে তো হবেই।"

ব্যাগ কাঁধে নিয়ে দাঁড়াতেই আসফা বেগম জড়িয়ে ধরলেন ইসরাহ কে। মাথা মুছে , মমতাময়ী কন্ঠে বললেন তিনি;-

--" দোয়া করি ভালো থাক। খুব ভালো থাক। আমার জীবনের সব অপূর্ণতা তোর জীবনে পূর্ণতা হয়ে ধরা দিক। এই বিচ্ছিরি দোটানা থেকে মুক্তি পা তুই।"

ইসরাহ মিষ্টি হাসলো। মায়ের কোমর জড়িয়ে আহ্লাদি স্বরে জবাব দিলো সে;-

--" এমন করে বলছো; যেনো তোমার থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছি।"

--" সিলেট, দূর ই বটে।"

--" আচ্ছা বেরোই।"

--" লিটল গার্ল স্টপ!"

ফারিসের ডাকে ওর দিকে তাকালো ইসরাহ আর আসফা বেগম। ফারিসের উপস্থিতে ফোঁটা ফোঁটা ঘামের অস্তিত্ব দেখা দিলো আসফার ললাটে। ছেলে টা এখন আবার কোথায় বেরোবে? ঝামেলা না বাঁধলেই নয়।

ইসরাহ নিনিমের্ষ চোখে তাকালো ফারিসের দিকে। ফর্মাল ড্রেসাপে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছে ফারিস। লাইট গ্রে স্যুটের সাথে কালো শার্ট। বাম হাতের কব্জিতে ব্যান্ডের দামী ঘড়ি। ডান হাতে সব সময়ের পরা; সোনালী রঙের ব্রেসলেট টা। দু'হাত পকেটে গোঁজা। ধীর পায়ে নেমে এলো সে। ফারিসের প্রতিটা পদক্ষেপ যেনো মেপে ফেলে সে।

হাসলো ইসরাহ, সে ঠিক যতোটা অগোছালো। ফারিস তার দ্বিগুণ পরিপাটি। ইসরাহ বাম পাশে এসে দাঁড়ালো ফারিস জাওয়ান। তার ল্যাভেন্ডার পারফিউমের মনোমুগ্ধকর সুভাষে মৌ মৌ করে উঠলো জায়গা টা। বরাবরের মতোই, ইসরাহর নাক টেনে সুভাষ টা গ্রহণ করলো। ফারিস আসফা বেগমের দিকে তাকিয়ে হিসহিসিয়ে সুধালো;-

--" আজ তোমাকে আমি দিয়ে আসবো লিটল গার্ল।"

ফারিসের কথার পৃষ্ঠে ইসরাহ সরল কন্ঠে আওড়ালো;-

--" আমি যেতে পারবো ফারিস। আপনার কষ্ট করে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।"

ফারিস হালকা করে ফু দিলো ইসরাহর মুখে। ব্যাগ টা নিজের হাতে নিতে নিতে বললো সে;-

--" আই নেভার ফিল ব্যাড ফর ইউ লিটল গার্ল। বিকজ ইউ আর মাই ওনলি রিজন টু লিভ।"

ফারিসের কথা গুলো বিষ মন্ত্রের ন্যায় হজম করলেন আসফা। ইসরাহ এঁটো প্লেট টা নিয়ে তিনি গটগট পায়ে প্রস্থান করলেন। ফারিস সেদিকে একবার তাকিয়ে ইসরাহর কোমর জাপ্টে ধরে হাঁটা ধরলো;-

--" যাওয়া যাক প্রিন্সেস।"

----------

বড় বড় গাছের ডাল পালা ছাপিয়ে রোদ এসে পড়ছে ফারিসের কালো গাড়িটার ভেতরে।

খোলা জানলা দিয়ে মুখ বাহির করে প্রকৃতি উপভোগ করছে ইসরাহ। একটু পর পর ঠান্ডা হাওয়া এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে তার মুখশ্রী। ফারিস কয়েক বার সাবধান করলে ও ইসরাহ শুনলো না।

ফারিস ড্রাইভ করার ফাঁকে ইসরাহর দিকে তাকালো। ডান হাতে স্টিয়ারিং হুইল টা ধরে বাম হাতে ইসরাহ হাত চেপে ধরলো সে। ইসরাহ লাজুক হেসে বাইরে থেকে চোখ ঘুরিয়ে ফারিসের দিকে তাকালো। সানগ্লাসের কারণে ফারিসের দৃষ্টি বুঝলো না ইসরাহ।

--" তোমার অনামিকা আঙুল টা ফাঁকা। ঠিক ভালো লাগছে না জান।"

ব্রেক কষলো ফারিস। ব্লেজারের বুক পকেট থেকে বের করলো ছোট্ট লাল বক্স টা। অবাক চোখে সব টা দেখলো ইসরাহ। ফারিস রিং টা বের করে পরিয়ে দিলো ইসরাহ অনামিকা আঙুলে। হিরের রিং টা জ্বলজ্বল করে উঠলো ইসরাহ কোমল হাতে। চোখ ভরে সেই দৃশ্য দৃষ্টিপাত করলো সে।

পরক্ষণেই সানগ্লাস টা খুলে বাম হাতে টান মেরে; ইসরাহ কে নিজের কোলে বসিয়ে নিলো ফারিস। জিরো কার্টের বেয়ার্ড পূর্ণ গাল টা চেপে ধরলো ইসরাহর কোমল মুখে। নিজের মুখটা ইসরাহ গালে ঘষে। বাম হাত টা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ইসরাহর হাতে চুমু এঁকে দিলো ফারিস।

--" মাই লিটল গার্ল! অনলি মাইন। আমার ভালোবাসা।"

রোধ হয়ে আসা কন্ঠে ইসরাহ সুধালো;-

--" আমি ও ভালোবাসি ফারিস। আপনাকে ভালোবাসি ফারিস জাওয়ান!"

কি সুন্দর মূহুর্ত। ফারিসের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মূহুর্ত। তার লিটল গার্ল তার কোলে। এর থেকে শান্তির কিছু আছে নাকি? ফারিসের জানা নেই। ইসরাহ কেবল তার মোহ নয়। তার আসক্তি। যা দিনে দিনে কম বার ভৈই বাড়ে।

She is my Obsession গল্পটি নবনীতা চৌধুরী-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাসপেন্স-এ মাতানো রোমান্টিক থ্রিলার