সন্ধ্যা সাতটা বাজে।
ফারিসের রুমে বিছানার একপাশে হাঁটুতে মুখ গুঁজে বসে আছে ইসরাহ। তার পরণে এখনো ফারহানা সিকদারের শাড়ি টা। গহনা গুলো ফারিস স্টেজেই খুলে দিয়ে দিয়েছিলো রওনাফ কে। বর্তমানে ফারিস রুমে নেই। সেই বিকেলে ইসরাহ কে এই রুমে বসিয়ে সে বেরিয়ে ছিলো। এখন সন্ধ্যা শেষ হবার পথে। ইসরাহ উঠে দাঁড়ালো। বসে থাকতে থাকতে কোমরে ধরে গেছে। আর একা এই রুমে বসতে ও তার ভয় করছে।
দু'হাতে শাড়িটা ধরে ফারিসের রুম থেকে বেরিয়ে ব্যালকনিতে আসতেই আসফা বেগম টেনে ধরলো ইসরাহর হাত। ক্ষণ বিলম্ব না করে ইসরাহ কে নিজের দিকে ফিরিয়ে বাম গালে থাপ্পড় বসালেন তিনি। র*ক্ত চক্ষু নিয়ে রাগী কন্ঠে সুধালেন আসফা বেগম।
--" লজ্জা হচ্ছে না তোমার? নিজের সৎ ভাই কে বিয়ে করতে?"
নিজের গালে হাত রেখে মায়ের দিকে অবাক চোখে তাকালো ইসরাহ। মূহুর্তেই পানিতে টইটম্বুর হয়ে উঠলো, তার কাজল কালো আঁখি জোড়া। ধরা গলায় ইসরাহ আসফা বেগম কে ডাকলো;
--" আম্মু?"
--" যেই বেহায়া মুখে সৎ ভাইয়ের নামে কবুল বলেছো। ওই মুখে আমাকে একদম মা ডাকবে না, ছিঃ।"
--" ওনার সাথে আমার আগেই বিয়ে হয়ে ছিলো আম্মু। তুমি অস্বীকার করলে ও, আমি করতে পারবো না।"
--" মুখে খুব কথা ফুটেছে না। সৎ ভাইয়ের সাথে এক বিছানায় শুতে তোমার লজ্জা করবে না ইসরাহ? আমার তো ভাবতেই গা ঘৃণ ঘৃণা করছে।
--" ছিঃ আম্মু, আমি তোমার মেয়ে হই।"
--" কাল তোমার বাবা কে উকিল ডাকতে বলবো। তুমি ডির্ভোস দিবে ফারিস কে। না হলে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো।"
নিজের মতামত জানিয়ে গটগট পায়ে চলে গেলেন আসফা। ইসরাহ মুখ থেকে আর কোনো কথা শোনার ইচ্ছে নেই ওনার। ঝাপসা চোখে ফুঁপিয়ে উঠলো ইসরাহ। ফের ধীর পায়ে নিজের ঘরে এসে, দরজা ভেজিয়ে বিছানায় বসে পড়লো সে। মনের দোটানায় মাথা ব্যথা করছে তার। একবার মনে হচ্ছে ফারিসের সাথে তার বিয়ে হওয়া টা স্বাভাবিক।
তো পরক্ষণেই মাথায় হানা দিচ্ছে সমাজের চিন্তার কথা। সমাজ কি বলবে? তার মা ই তো কটাক্ষ করছে। কি করবে ইসরাহ?
----------
সিকদার ভিলার দরজায় এসে থামলো ফারিসের কালো গাড়ি টা।
গাড়ি থেকে বেরিয়ে ডিকি থেকে একটা বস্তা বের করলো সে। বস্তা টা পাশে রেখে পেছনের সিট থেকে শপিং ব্যাগ গুলো নিয়ে; বস্তা আর শপিং ব্যাগ দুটো দুই হাতে নিয়ে ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করলো ফারিস।
ড্রয়িং রুমের সোফায় মাথা নিচু করে বসে আছেন আরহাম সিকদার। তিনি মূলত ফারিসের ফেরার অপেক্ষা করছিলেন। ফারিস কে আসতে দেখে গম্ভীর কন্ঠে তাকে ডাক দিলেন আরহাম সিকদার;-
--" দাঁড়াও ফারিস।"
বাবার ডাকে থামলো ফারিস। ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো আরহাম সিকদারের দিকে। ফারিস কে থামতে দেখে, সোফা ছেড়ে ফারিসের সামনে এসে দাঁড়ালেন আরহাম। আরহাম সিকদার কে নিজের সামনে দাঁড়াতে দেখে ফারিস জিজ্ঞেস করলো;-
--" কিছু বলবে?"
--" হ্যাঁ।"
--" তাহলে পরে শুনবো আপাতত আমার অনেক কাজ আছে।"
--" দেশে আসবে যে বলোনি কেনো?"
--" বললে কি আমার জন্য হানিমুন সুইট বুক করে রাখতে নাকি ?"
লজ্জায় আমতা আমতা করে উঠলেন আরহাম সিকদার। এতো বড় ছেলের মুখে এসব কথা শুনে কোনো বাবাই সহজ থাকতে পারে না। থম মেরে আরহাম বললেন;-
--" নির্লজ্জের মতো বাবা কে কি সব বলছো?"
--" সরি বাট নট সরি। আমি এভাবেই কথা বলি।"
ফারিস সিঁড়ির দিকে এগোতে নিয়ে ও থামলো। ফের পেছনে ফিরে সে সুধালো;-
--" তোমার সাথে আবার পরে দেখা হচ্ছে বাবা। তোমাকে আমার একটা কিস দেওয়া বাকি। আফটার অল তুমি আমার লিটল গার্লের খবরাখবর আমাকে প্রদান করতে।"
ফারিসের কথায় আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না আরহাম সিকদার। বয়সের ভারে নুয়ে যাওয়া চামড়ার নিজের হাত জোড়া খামছে। শব্দ করেই তিনি " নির্লজ্জ " বলে উঠলেন। ফারিস বাবার কথা শুনে ও না শোনার ভান ধরে উপরে চলে এলো।
---------
নিজের রুমে এসে ইসরাহ কে না দেখে রাগ উঠে গেলো ফারিসের।
বের হওয়ার সময় মেয়েটাকে বসিয়ে গিয়ে ছিলো তার রুমে। যাতে ফিরে এসে ওর চাঁদ মুখ টা দেখতে পারে। কিন্তু প্লেন করেছিলো কি। আর হলো কি! শব্দ করে শ্বাস ছাড়লো ফারিস।
ফুলের বস্তা আর শপিং ব্যাগ গুলো বিছানায় রেখে, শেষ বার ইসরাহ কে ওয়াশরুমে খুঁজলো সে। কিন্তু ইসরাহ নেই, সেখানে ও ইসরাহ কে না দেখে বুঝলো ইসরাহ তার ঘরে। ফের বিছানার পাশে এসে শপিং ব্যাগ হাতড়ে বড় একটা চকলেট বের করলো ফারিস।
পর পর চকলেটার দিকে তাকিয়ে ফিচেল হাসলো সে।
---------
ইসরাহর ভেজিয়ে রাখা দরজা টা ঢেলে রুমে প্রবেশ করলো ফারিস জাওয়ান। রুমে এসে আবার দরজা টা বন্ধ করে দিলো সে।
ছিটকিনির ক্ষীণ শব্দে দরজার দিকে তাকালো ইসরাহ। সাদা শার্ট পরিহিত বলিষ্ঠ দেহের ফারিস সটান দাঁড়িয়ে। সারাদিন একি শার্ট পরে থাকার নিমিত্তে আয়রন ভেঙে গেছে। ইন টা ও খুলে নিয়েছে ফারিস। কুঁচকানো শার্টে ও ফারিস কে অদ্ভুত সুন্দর লাগলো ইসরাহ চোখে। ইসরাহর মনে হলো ফারিস কে দেখার জন্য সে কতো কালের তৃষ্ণার্থ। যেই তৃষ্ণা মেটার নয়। বরং চোখে সামনে থাকলো তা বাড়ে। দ্বিগুণ, তিন গুণ, এই অবসেশন বহু গুণে বাড়ে।
--" কেমন আছো সুইট হার্ট?"
ফারিসের আদুরে কন্ঠে পূর্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো ইসরাহ। অতঃপর জড়ানো গলায় জবাব দিলো সে;-
--" ভা..লো , আপনি?"
--" ফাইন।"
কথার ফাঁকে, হাতের চকলেট টা সেন্টর টেবিলে ছুঁড়ে; নিদ্বির্ধায় ইসরাহ কোলে জায়গা করে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো ফারিস। ইসরাহ কিছু টা ইস্তত বোধ করলো। কোল জুড়ে শুয়ে থাকা ফারিসের দিকে একবার তাকিয়ে আশ পাশে ফিরলো সে। ফারিস ঘুরে দু'হাতে ইসরাহ কোমর জড়িয়ে মুখ ডুবালো তার মেদহীন উদোরে। ফারিসের ছোঁয়ায় কেঁপে কেঁপে উঠলো ইসরাহ। আলতো হাতে সে খামছে ধরলো ফারিসের চুল। প্রসন্ন হেসে নিজের হাতের বাঁধন শক্ত করলো ফারিস। মাথা দিয়ে ইসরাহর পেটের উপর থেকে আচঁল সরিয়ে পেটে ছোটো কামড় বসিয়ে, ফারিস সুধালো;-
--" তোমার শরীরের স্মেল টা খুব সুন্দর লিটল গার্ল। লাইক...!"
ফারিসের অসমাপ্ত কথা শুনতে, আগ্রহ নিয়ে সুধালো ইসরাহ:-
--" কি?"।
কোল থেকে মুখ তুলে সোজা হয়ে বসলো ফারিস। ইসরাহর হাত টা টেনে নাকের সামনে নিয়ে গম্ভীর ভাবে শ্বাস নিলো সে। ফের নেশাক্ত কন্ঠে বললো;-
--" লাইক মিঠাই, লাইক মিঠাই।
লাইক কুলফি, রসমালাই, রিস্তা বারফি।"
ইসরাহ উত্তর দিলো না। কেবল মুচকি হাসলো। ফারিস হাসি থামিয়ে চকলেটার দিকে তাকিয়ে গদগদ কন্ঠে ইসরাহ কে প্রশ্ন করলো;-
--"চকলেট খাবে সুইট হার্ট?"
নির্লিপ্ত চেয়ে ইসরাহ প্রশ্ন করলো;-
--" কি চকলেট এটা ?"
বাঁকা হাসলো ফারিস। বিছানা থেকে নেমে চকলেট টা তুলে প্যাকেট খুলে; এক টুকরো চকলেট ভেঙে নিজের মুখে নিয়ে। বাকি টা ইসরাহর হাতে ধরিয়ে দিয়ে সুধালো সে;-
--" অ্যাফ্রোডিসিয়াক।"
কৌতূহল নিয়ে চকলেটে কামড় বসালো ইসরাহ। স্বাদ ভালো, খেতে খুব একটা মন্দ না। দেখে ফের আরেকটা কামড় খেলো সে। ইসরাহ কে চকলেট খেতে দেখে বাঁকা হাসলো ফারিস। পিছিয়ে গিয়ে সোফায় বসলো সে। ইসরাহ চকলেট টা অর্ধেক টা খেতেই সোফা ছেড়ে উঠতে উঠতে ফারিস বললো;-
--"সো, সি ইউ আফটার ওয়ান আওয়ার, সুইট হার্ট?"
চকলেটে কামড় বসিয়ে অবাক কন্ঠে ইসরাহ জিজ্ঞেস করলো:-
--" এক ঘন্টা পর, কিন্তু কেন?"
ফারিস ঝুঁকে চুমু খেলো ইসরাহ কপালের মাঝ বরাবর।
--" টু টেস্ট সামথিং নিউ। সিইনিং লিটল গার্ল।
রুম থেকে বেরিয়ে গেলো ফারিস। ইসরাহ চকলেটের বাকি অংশ টুকু বেড সাইড টেবিলে রেখে দিলো। বালিশ টা ঠিক করে বেডের হেডর্বোডের সাথে পিঠ এলিয়ে দিলো সে।
-----------
ফুলের বস্তা টা সামনে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফারিস। বস্তার ভেতরে রজনীগন্ধা আর লাল গোলাপ ফুলে ভর্তি। বস্তা বন্দি থেকে ও কাঁচা ফুলের সুভাষে মৌ মৌ করছে রুম টা।
কপাল চুলকে, সম্পূর্ণ ফুল গুলো মেঝেতে ঢেলে নিলো সে। উদ্দেশ্যে রুমটাকে সুন্দর করে সাজিয়ে বাসর ঘরে রুপ দেওয়া।
ছোটো পুঁটলি টা থেকে বড় সুই আর সুতো নিয়ে ফুল গুলো গাঁথতে বসলো ফারিস। একে একে গোলাপ আর রজনীগন্ধা ফুল গুলোর মালা বানিয়ে; নিজের হাতে তা বিছানায় সাজিয়ে নিলো সে। সব কাজ শেষ করতে করতে একঘন্টার মতো সময় লাগলো ফারিসের। কাজ শেষ হতেই টাওয়াল নিয়ে শাওয়ার নিতে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো সে।
নিত্য দিনের তুলনায় আজ তাড়াতাড়িই শাওয়ার শেষ করলো ফারিস জাওয়ান। রুমে এসে টাওয়াল ছেড়ে ট্রাউজার টা পরে নিলো সে। পর পর উদোম শরীরে রুমের দরজা টা মিলিয়ে ইসরাহ রুমের সামনে এসে থামলো ফারিস। দরজার সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নিজেকে স্থির করলো সে। অদ্ভুত অনুভূতির দোলাচলে কম্পমান ফারিসের শরীর।
ধীর হাতে দরজা মেলে রুমে প্রবেশ করলো ফারিস। রুমটাতে ড্রিম লাইট জ্বলছে। ইসরাহ কোনো সাড়া শব্দ নেই। কিঞ্চিত অবাক হলো সে। ফারিস দরজা থেকে সরতেই হঠাৎ কেউ আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো তার গলা। ফারিসের বুঝতে বাকি রইলো না মানুষ টা কে। আলতো হাতে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো ইসরাহ কে।
রহস্যময় কন্ঠে ইসরাহ কে ডাকলো ফারিস;-
--" লিটল গার্ল?"
--" ফা..রিস জাওয়া..ন, আমি পাগল হয়ে যাবো। আমাকে বাঁচান ফারিস!"
--" আর ইউ রেডি সুইট হার্ট? বি'কজ আই'ম সো ব্যাড বয়।"
--" ই....য়েস!"