সকাল এগারো টা বাজে। শীতের কুয়াশা ছাপিয়ে কড়া রোদ ছড়েছে প্রকৃতিতে। রওনাফের গাড়িটা এসে থামলো সিকদার ভিলার সামনে। একপাশে গাড়িটা পার্ক করে, কুঁচকানো শার্ট পরিহিত রওনাফ নামলো সাদা গাড়িটা থেকে। এক রাতেই রওনাফের সুন্দর মুখশ্রী জুড়ে ডার্ক সার্কেলের অস্তিত্ব বিদ্যমান। চোখ দুটো টকটকে লাল বর্ণ ধারণ করেছে।
এলো মেলো পায়ে সিঁড়ি মাড়িয়ে দরজায় দাঁড়ালো সে। কলিং বেল টা দু'বার বাজাতেই আসফা বেগমের কন্ঠ ভেসে এলো ভেতর থেকে। দ্রুত পায়ে এসে দরজা খুলতেই রওনাফ কে দেখে আঁতকে উঠলো আসফা বেগম। রওনাফ ঝাপসা চোখে সামনে তাকিয়ে সালাম দিলো ওনাকে;-
--" আসসালামু অলাইকুম আ..আন্টি।"
--" ওয়ালাইকুম সালাম বাবা। তুমি?"
--" এখানে দাঁড় করিয়ে রাখবেন আন্টি? বাড়ির জামাই হইনি বলে কি; বাড়ির ভেতরে ও যেতে পারবো না?"
রওনাফের শীতল কন্ঠে কেঁপে উঠলেন আসফা। দরজা থেকে সরে রওনাফ কে ভেতরে আসবার সুযোগ দিলেন।
--" না না, কি বলো বাবা। এসো ভেতরে এসো।"
আসফা বেগমের পিছন পিছন বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো রওনাফ। প্রতিটা পদক্ষেপ ফেলার সাথে সাথে উপর থেকে নীচ তলার চারপাশে চেয়ে; চাতক চোখে তাকিয়ে ইসরাহ কে খুঁজলো রওনাফ। কিন্তু না, তার রুদ্ররাগীনি নেই।
দোতলার লাল - নীল বাতি আর গাঁদা ফুলের সাজানো পাশটাতে, চোখ জোড়া থেমে গেলো রওনাফের। বাড়ির ভেতরটাতে এখনো ফুলের সমারোহে সজ্জিত কিন্তু তার সব শেষ। নিজেকে সামলে আসফা বেগমের উদ্দেশ্যে বললো সে;-
--" ইসরাহ কে একটু ডেকে দিবেন আন্টি?"
--" ডাকছি, বসো তুমি।"
সোফায় গিয়ে বসলো রওনাফ।
----------
বেডে ঘুমিয়ে আছে ফারিস। সারারাত জেগে থাকায়, তার মধ্যে আমেরিকা আর বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্যের জন্য এই কদিন ফারিসের ঠিক মতো ঘুম হয়নি। তাই নাশতা সেরে উপরে এসেই ঘুমিয়ে পড়েছিলো সে। ইসরাহ ঘুমোয়নি; ফারিসের আনা পোশাক গুলো কার্বাডে, সাজিয়ে নিলো শপিং থেকে বের করে।
তারপর বাসি ফুল গুলো মেঝে থেকে ঝাড় দিয়ে ঝুড়িতে নিয়ে নিলো সে। ঝুড়িটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বেরোতেই আসফা বেগমের মুখোমুখি হলো ইসরাহ। মায়ের সাথে কথা না বাড়িয়ে পাশ কাটিয়ে যেতে নিতেই আসফা বেগম ডাকলেন তাকে;-
--" রওনাফ তোমার জন্য নিচে অপেক্ষা করছে।"
মায়ের এমন কথার মানে বুঝলো না ইসরাহ। এই দুপুর বেলায় রওনাফ এলো কোথা থেকে? আর ফারিস জানলে কি হবে? ভয় মিশ্রিত কন্ঠে ইসরাহ সুধালো;-
--" মানে?"
--" ছেলে টা তোমার সাথে কিছু কথা বলতে এসেছে। দয়া করে না করো না।"
--" কিন্তু আম্মু ফারিস এই কথা জানলে কি হবে; তুমি জানো?"
তেতে উঠলেন আসফা। অসন্তোষ কন্ঠে তিনি বললেন;-
--" না জানি না, জানতে চাই ও না। ওই ছেলে পাঁচ মিনিটে উঠে যাবে না।"
--" আচ্ছা, যাচ্ছি।"
ঝুড়িটা দরজার সামনে রেখে মাথায় ওড়না টেনে সিঁড়ির দিকে গেলো ইসরাহ। দীর্ঘ শ্বাস বের হয়ে আসে আসফা বেগমের বুক ছিঁড়ে।
--" ভেবেছিলাম তোমাকে রওনাফের সাথে বিয়ে দিলে, স্বাভাবিক জীবনে বাঁচবে। সুন্দর একটা জীবন হবে। কিন্তু নিজের কপাল নিজে পোড়ালে বোকা মেয়ে।"
--------
রওনাফ বসে আছে ড্রয়িং রুমের সোফায়। ইসরাহ তার সামনের সোফাতেই এসে বসেছে। ইসরাহ কে বসতে দেখে; দিকে একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলো রওনাফ। নিজেকে সামলে সে বললো:-
--" আমাকে কেনো বিয়ে করলে না রুদ্ররাগিনী?"
রওনাফের প্রশ্নে একটুও থমকালো না ইসরাহ। যন্ত্রের পুতুলের ন্যায় সে জবাব দিলো;-
--" আমার ছোটো বেলাতেই ফারিসের সাথে বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো। তাহলে আপনাকে কিভাবে বিয়ে করতাম?"
ইসরাহর এমন নির্লিপ্তত জবাবে ঠোঁট এলিয়ে হাসলো রওনাফ। মেঝের দিকে তাকিয়েই সে সুধালো;-
--" তাহলে, আগে কেনো এসব বলোনি কেনো? ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখিয়ে তা মাড়িয়ে চলে গেলে? বিয়ের স্বপ্ন ভাঙা টা না হয় আমি বাদ দিলাম। কিন্তু একটা সংসারের স্বপ্ন ভাঙার কষ্ট তুমি বুঝো রাগিনী??"
কেঁপে উঠলো রওনাফের গলা। বোঝা যাচ্ছে বহু কষ্টে কান্না আটকে রেখেছে। ইসরাহর ততো কিছু বোঝার সময় গুনলো না।
--" আম্মুর কারণে এই বিয়ে তে রাজি হয়েছিলাম। আমি নিজে এই বিয়েতে রাজি ছিলাম না।"
--" তোমাদের দ্বন্দ্বের মাঝে আমাকে কেন বলি দিলে রাগিনী? কি দোষ ছিলো আমার??আমি তো কিছুই জানতাম না এসব সম্পর্কে!""
রওনাফের কথাগুলো বিরক্ত লাগলো ইসরাহ শুনতে, উঠে গেলো সে। ইসরাহ উঠে যেতেই রওনাফ বড় কদমে এগিয়ে এসে চেপে ধরলো ইসরাহর কব্জি। রওনাফ কিছু বলার জন্য মুখ খোলার আগেই; দোতলা থেকে চেঁচিয়ে উঠলো ফারিস;-
--" এইইই, এইইই তুই আমার বউ কে ছুলি কেন? ছাড় লিটল গার্লের হাত। আমি নিচে আসলে শেষ করে দিবো তোকে।"
কথা শেষ করে দ্রুত পায়ে নেমে এলো ফারিস। ততক্ষণে রওনাফ ইসরাহ হাত ছেড়ে দিয়েছে। রওনাফের দিকে অগ্নি চক্ষু নিক্ষেপ করে, ফারিস ইসরাহ হাত টেনে জড়িয়ে নিলো নিজের বাহুডোরে।
--" আমার ওয়াইফের দিকে ভুলেও তাকাবে না। চোখ তুলে মার্বেল খেলবো, মাইন্ড ইট।"
ইসরাহ ফারিসের বাহু খামছে ধরলো। আলতো হাতে বাহুতে হাত বুলিয়ে সে আওড়ায়;-
--" কিছু হয়নি ফারিস। থামুন প্লিজ।"
--" তোমার কথায় ওকে ছেড়ে দিলাম লিটল গার্ল।"
ফারিস আর ইসরাহর সুন্দর সেই দৃশ্য দেখে ক্ষীণ ব্যথার উৎপত্তি হলো রওনাফের হ্দপিন্ডে। ছলছল চোখে সে তাকিয়ে রইলো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দম্পতির দিকে।কত অধিকার ফারিসের কন্ঠ জুড়ে। অথচ সে! তার তো কোনো অধিকার ই নেই। কোনো কিছুই নেই। আসলেই, অন্যের স্ত্রী কে অযাচিত ছোঁয়ার অধিকার তার নেই । দীর্ঘ শ্বাস বের হয়ে আসে তার। আসফা বেগম ট্রে হাতে আসতেই ওনার দিকে তাকিয়ে রওনাফ বললো;-
--" আমাকে এভাবে না ভাঙলে ও পারতেন আন্টি।"
রওনাফের এই কথার প্রতিউত্তর কি দিবেন আসফা ভেবে ফেলেন না। ট্রে টা টেবিলে রেখে দিলেন তিনি।
--" দেখো রওনাফ.....।"
রওনাফ হাত উঠিয়ে থামিয়ে দিলো আসফা বেগম কে।
--" থাকুক না আন্টি, অন্যর স্ত্রীকে ভালোবাসার অপরাধে আমার আজীবন দহন দন্ডে দন্ডিত করা হোক।"
দাঁড়ালো না রওনাফ। মাথা নামিয়ে বেরিয়ে গেলো সে। রওনাফ যেতে ইসরাহ ও চলে গেলো। আসফা বেগম ব্যথিত চোখে তাকিয়ে রইলেন সদর দরজার দিকে।
--" ভবিষ্যতে এমন ভুল করার আগে দশবার ভাববেন। আমার থেকে ভুলে ও লিটল গার্ল কে আলাদা করার কথাও কল্পনা করবেন না। ওর কানে বিষ ঢালা তো দূর। তাহলে এই ফারিস জাওয়ান থেকে খারাপ দ্বিতীয় কেউ হবে না।"
নিজের কানের কাছে ফারিসের গম্ভীর কন্ঠ শুনে পেছনে ফিরে তাকালেন আসফা। তাচ্ছিল্যে কন্ঠে তিনি ফিরতি জবাব দিলেন;-
--" থ্রেট দিচ্ছো? আসফা কে? তোমার এই সস্তা থ্রেটে আমি ভয় পাই না ফারিস জাওয়ান!"
--" চ্যালেঞ্জ করলেন নাকি শাশুড়ি মা?"
--" তোমার ওই মুখে আমাকে একদম মা ডাকবে না। আমি তোমাকে মেয়ের জামাই হিসেবে কোনো কালেই মানিনি।"
--" আপনার একসেপ্ট করা না করায় কিছুই এসে যায় না। যে একসেপ্ট করার সে করলেই হলো।"
----------
উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কেঁপে উঠলো ইসরাহ। টাওয়াল টা নিয়ে ফারিসের রুমের বারান্দার দরজা টা বন্ধ করে দিলো সে। মাগরিবের আজান পড়ে গেছে। ওড়না বিছানায় রেখে ওযু করতে ওয়াশরুমে ঢুকলো ইসরাহ।
ওযু শেষে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে দাঁড়ালো সে। ইসরাহ নামাজে দাঁড়াতেই ফারিস রুমে ফিরলো। এক হাতে ড্রয়িং বোর্ড অপর হাতে রঙ, আর্ট পেপার, ব্রাশ সহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় সব। রুমে ফিরেই উত্তরের বড় জানালাটার পাশে সব রাখলো সে।
এখান থেকে সামনের পুকুর আর বাগান সুন্দর ভাবে দেখা যায়। আর্ট করার সময় এমন দৃশ্য ফারিসের অসম্ভব ভালো লাগে।
সাদা শার্ট টা শরীর থেকে খুলে নিলো ফারিস। দু'হাতে চুলে গুলো ব্যাকব্রাশ করে, ড্রয়িং বোর্ড আর রঙ গুলো সাজিয়ে রাখায় হাত লাগালো সে। মাঝারি সেন্টর টেবিল টা ড্রয়িং বোর্ডের পাশে রেখে; উপরের তাকে ব্রাশ আর প্যালেট গুলো রাখলো। বাকি রঙ গুলো নীচের তাক আর জানলার ফাঁকা জায়গায় সাজিয়ে রাখলো।
শীতের মাঝে ও ফারিসের কপালের চারপাশে ঘামের ফোঁটা ফোঁটা অস্তিত্ব। বিরক্তি নিয়ে, কাজ শেষ হতেই ফ্রেশ হয়ে এলো ফারিস। ইসরাহ তখন মোনাজাত ধরেছে। ফারিস এগিয়ে এসে ধড়মড়িয়ে শুয়ে পড়লো, ইসরাহর কোলে। মোনাজাত শেষ করে ফারিসের দিকে তাকালো ইসরাহ। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো সে;-
--" এখানে শুলেন যে?"
ইসরাহ কে ভ্রু কুঁচকাতে দেখে ফারিস ও বিশেষ কায়দায় এক ভ্রু উঁচু করে সুধালো;-
--" তুমি এখানে, তোমার কোল এখানে। তাহলে আমি শুবো কোথায়?"
খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো ইসরাহ। ঠান্ডা দু'হাতে ছুঁয়ে দিলো ফারিসের গাল। ফের ইসরাহ বললো;-
--" আমি আপনার বালিশ নাকি, হুমম?"
--" সন্দেহ আছে?"
--" আলবাত আছে!"
--" ওকে বেডে আসো সব সন্দেহ দূর করে দেই!"
--" মানে? ছিঃ অসভ্য লোক। কথায় কথায়, বেড বেড করেন।"
ইসরাহর কথায় ডান হাত মাথার নীচে দিয়ে কাত হয়ে শুলো ফারিস। অবাক কন্ঠে সুধালো সে;-
--" ওহ রিয়েলি? বউ কে ভালোবাসা অসভ্যতামি নাকি? কোন বইয়ে এই আইন উল্লেখ করা আছে?"
--" আপনার সাথে কথায় পারবো না। উঠবো আমি উঠুন।"
সোজা হয়ে বসলো ফারিস। ইসরাহ জায়নামাজ টা উঠিয়ে ভাঁজ করে রেখে দিলো জায়গা মতো। কাজ শেষ করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো ইসরাহ।
ইসরাহ বেরিয়ে যেতেই ফারিস ফোনটা নিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। সন্ধ্যার ঠান্ডা বাতাস ছুঁয়ে দিলো ফারিসের উন্মুক্ত দেহ। ডায়াল লিস্ট থেকে নাম্বার বের করে কাউকে কল দিলো ফারিস। রিসিভ হতেই সে সুধালো;-
--" পার্সপোট, ভিসা সব রেডি?"
--" জ্বি স্যার, যেকোনো সময় আপনারা দেশ ছাড়তে পারবেন। আপনাদের আগের রেজিস্ট্রি পেপার টা থাকায় সহজেই কাজ টা হয়ে গেছে।"
--" ওকে, তোমার পেমেন্ট পাঠিয়ে একাউন্টে দিবো।"
--" ধন্যবাদ স্যার।"
কল টা কেটে দিলো ফারিস। অন্ধকার বাগান থেকে চোখ তুলে, তারা শূন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু প্ল্যান গুছিয়ে নিলো নিজের মস্তিষ্কে।
---------
ফারিস দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আর্ট করছে। ইসরাহ সদ্য শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে। দুপুরে শাওয়ার না নেওয়ায় এতো রাতে শাওয়ার নিয়েছে সে। টাওয়াল টা চুলে বেঁধে আয়নার সামনে দাঁড়ালো ইসরাহ। ফারিস ক্যানভাসে আর্ট করার ফাঁকে ফাঁকে বার কয়েক তাকালো ইসরাহ দিকে। অতঃপর কিছু একটার দিকে তাকিয়ে অনুসন্ধানী কন্ঠে প্রশ্ন করলো ফারিস;-
--" লিটল গার্ল! তুমি রাতে ইনার পরে ঘুমাও?"
--" হ্যাঁ, আপনি কিভাবে জানলেন?"
ফারিস ইশারা করলো ইসরাহর পিঠের দিকে। চুলের পানিতে ভিজে গেছে জামাটা। যার ফলে সাদা জামার ভিতরের কালো ইনার টা দৃশ্যমান। আচানক ধড়মড়িয়ে আয়নার সামনে থেকে সরে গেলো ইসরাহ। ফারিস ফের সুধালো:-
--"দিস ইজ আ ভেরি ব্যাড প্র্যাকটিস, সুইট হার্ট। ইনার টা চেন্জ করে এসো।"
--" মানে?"
--" রাতে ইনার পরে ঘুমালে কতো সমস্যা হয় জানো তুমি? ইট'স ভেরি ডেঞ্জারাস, ব্লক'স ব্লা*ড ফ্লো। দেয়ার মে বি ইচিং অর পেইন অ্যারাউন্ড দ্য ব্রেস্ট।"
--" আপনি এতো কিছু জানেন কিভাবে?"
--" ইট'স জেনারেল নলেজ, লিটল গার্ল।"
--" আমি তো জানি না।"
ব্রাশ টা প্যালেটে রেখে ফারিস উঠে এলো চেয়ার ছেড়ে। ফারিস এগোতেই ইসরাহ পেছালো। পেছাতে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সাথে ধাক্কা লাগলো তার। ইসরাহর ভর্য়াত মুখশ্রী চেয়ে ফিচেল হাসলো ফারিস।
--" আমার আপনাকে ভয় করছে ফারিস। আপনি খুব ব্যথা দেন।"
এগিয়ে এসে ইসরাহর পিঠ নিজের দিকে দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড় করালো তাকে। ফারিসের শক্ত পোক্ত শীতল হাত এনে রাখলো ইসরাহ জামার চেইনে।
--" ফাস্ট টাইম ছিলো তো, তাই ব্যথা পেয়েছো সুইট হার্ট। নেক্সট টাইম থেকে আর লাগবে না।"
আলতো হাতে জামার চেইন টা খুলতেই ফারিসের চোখের সামনে উন্মুক্ত হলো ইসরাহর শুভ্র পিঠের মধ্যে কলঙ্কের মতো লেপ্টে থাকা কালো ইনারের ফিতা টা। ফারিস দু'পাশ থেকে দু'হাতে টেনে ধরলো ইনারের কালো স্টেপ গুলো। চোখ বন্ধ করে নিলো ইসরাহ। পর পর হাত উল্টো ঘুরিয়ে নিজের পিঠের সাথে ফারিসের বাম হাত খানা চেপে ধরলো সে।
ইসরাহ কে এমন কুপকাত হতে দেখে বাঁকা হাসলো ফারিস। দু'দিক থেকে ফিতে টা টেনে ধরে হুক থেকে খুলে দিলো সে। আয়নায় এক ঝলক নিজেকে দেখে নিজেই লজ্জা পেলো ইসরাহ। তড়িঘড়ি করে সে সরতে চাইলে ও ফারিস ছাড়লো না।
একটু ঝুঁকে অধর ছুঁয়ে দিলো ইসরাহ কলারবোনে।