প্রণয় প্রত্যাবর্তন

পর্ব - ১১

🟢

রাত ক্রমে ঘন হয়ে আসছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর দূর থেকে ভেসে আসা শেয়ালের হুক্কাহুয়া ছাড়া পুরো গ্রাম নিথর স্তব্ধতায় ডুবে আছে। মৃন্ময়ী এখনো বাড়ি ফেরেনি। শোয়া থেকে উঠে বসার মতো শারীরিক শক্তি রওশন আরার ছিল না, কিন্ত আশঙ্কায় তিনি অনেক কষ্টে দেয়াল ধরে ধরে উঠে বসলেন। বুকের ভেতরটা কু ডাকছে। তিনি ক্ষীণ স্বরে ডাকলেন, “মৃন্ময়ী? ও মৃন্ময়ী... কই গেলি মা?”

কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই। শেয়ালের একটানা ডাক আর অন্ধকার উঠোনটা যেন তাকে ভেঙচি কাটছে। রওশন আরা টলমলে পায়ে উঠে উঠোনের আলোটা জ্বালালেন। চারিদিকের অন্ধকার কাটলেও মনের অন্ধকার কাটল না। বাড়ির আশেপাশে, রান্নাঘরে, এমনকি ঝোপঝাড়ের ধারেও মেয়েটাকে খুঁজলেন। মৃন্ময়ী তো বলে গেল শিশিরের সাথে যাচ্ছে, একটু পরই ফিরে আসবে। তবে এত দেরি হচ্ছে কেন? গ্রামে তো এখন যমদূত ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিজের ভয়কে জয় করে তিনি পাড়ার রহিমন বিবির ঘরের দরজায় গিয়ে কড়া নাড়লেন। রওশন আরার উষ্কখুষ্ক চুল আর আতঙ্কিত মুখ দেখে রহিমন বিবি অবাক হয়ে বললেন, “কি হইছে ও মিনুয়ের মা? এই রাইতে আইলা যে?”

রওশন আরা হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, “আমার মৃন্ময়ীরে দেখছেন? শিশিরের লগে বাইর হইছিল সন্ধ্যার আগে। অহনও ফিরে নাই।”

রহিমন বিবি কপালে হাত দিয়ে আঁতকে উঠলেন, “সর্বনাশ! তুমি জানো না গ্রামে কী চলতাছে? ১৪৪ ধারা জারি হইছে। পুলিশ ছাড়া রাস্তায় কেউ নাই। মানুষজন ওত পাইতা আছে। এই অবস্থায় মাইয়াডারে বাইরে পাঠাইলা কেন?”

রওশন আরার মাথাটা ঘুরে উঠল। তিনি পাশের একটি খুঁটি ধরে নিজেকে সামলালেন। পাড়ার আরও দু-এক বাড়িতে খোঁজ নিলেন, কেউ কোনো সুসংবাদ দিতে পারল না। বরং সবার চোখেমুখে এক বিষণ্ণ ভয়। কেউ মুখ ফুটে কিছু বলছে না। তিনি বুকভরা হাহাকার নিয়ে তিনি অন্ধকারের মধ্যেই চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে ছুটলেন। চেয়ারম্যান বাড়ির সদর দরজায় গিয়ে রওশন আরা পাগলের মতো করাঘাত করতে লাগলেন। পাহারাদার দরজা খুলতেই তিনি ভেতরে ঢুকে পড়লেন। হট্টগোল শুনে চেয়ারম্যান সাহেব লুঙ্গি ঠিক করতে করতে বৈঠকখানায় বেরিয়ে এলেন। রওশন আরা আর্তনাদ করে উঠলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব! মৃন্ময়ী আর আপনের শিশির বাজান কই? ওরা তো এখনো ফিরে নাই। সন্ধ্যার আগে দুইজনে একলগে বাইর হইছিল, অহনও তাগো কোনো হদিস নাই!”

চেয়ারম্যান আকাশ থেকে পড়লেন। তার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল, কিন্তু পরক্ষণেই সেটা প্রচণ্ড রাগে রূপান্তরিত হলো। তিনি গর্জিয়ে উঠলেন, “কী বললা তুমি? শিশির তোমার মাইয়ার সাথে বের হইছে? আর এখনো ফিরে নাই? এই রাইত-বিরাইতে এইগুলা কী অলুক্ষণে কথা শোনাইতেছ!”

শিশির যে ঘরে নেই, এই খবরই তিনি জানতেন না। তড়িঘড়ি করে শিশিরের ঘরে গিয়ে দেখলেন বিছানা শূন্য। মুহূর্তের মধ্যে চেয়ারম্যান বাড়ির পরিবেশ বদলে গেল। মোস্তাক আহমেদ চিল চিৎকার শুরু করলেন, “ওরে কে কোথায় আছিস? জলদি আয়! আমার পোলা কই গেল? গ্রামে এত পুলিশ, এত পাহারা তার মধ্যে আমার পোলা নিখোঁজ হয় কেমনে?’ তিনি বাড়ির চাকরবাকর আর অনুসারীদের ওপর চড়াও হলে, “সবগুলান অকর্মণ্য! আমার পোলার যদি কিছু হয়, তবে তোদের জ্যান্ত পুইড়া মারুম। খবর দে থানায়!”

সবাই চুপচাপ মাথা নিচু করে রইল। কয়েকজন মশাল জ্বালিয়ে ওদের খুঁজতে বের হলো। শিশিরকে ফোন করা হলো কয়েকবার, কিন্তু ফোন অফ। বারবার কেটে যাচ্ছে। চেয়ারম্যানের হৈ-হুল্লোড়ে পুরো এলাকা জেগে উঠল। তিনি রওশন আরার দিকে তাকিয়ে আরও কঠোর গলায় বললেন, “তোমার ওই আপদ মাইয়াটার লগে আমার পোলার কী কাম ছিল? কেন ওরে নিয়া বের হইছে? যদি আমার শিশিরের একটা আঁচড় লাগে, তবে তোমার নিস্তার নাই।” রওশন আরা কোনো উত্তর দিতে পারলেন না, শুধু ডুকরে কেঁদে উঠলেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে এই দুশ্চিন্তা নিতে পারছেন না।

চেয়ারম্যান দেরি করলেন না। সরাসরি থানায় ফোন করলেন। খবরটা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল। গ্রামের প্রভাবশালী মহলে কানাকানি শুরু হতেই তা জমিদার মকবুল রহমানের কানে পৌঁছাতেও বেশি সময় লাগল না। খবরটা শুনেই তার বুকটা ধক করে উঠল। তিনি খুব ভালো করেই জানেন তার ছেলে তাওহীদ কতটা বেপরোয়া হতে পারে।। মকবুল রহমান তৎক্ষণাৎ তাওহীদকে ডেকে পাঠালেন। তাওহীদ ঘরে ছিল না, কিছুক্ষণ পর সে ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়াল। মকবুল রহমান ছেলেকে দেখেই গর্জে উঠলেন, “তাওহীদ! চেয়ারম্যানের পোলা আর জহির মোল্লার মাইয়া নিয়া গ্রামে হুলস্থুল শুরু হইছে। তুই কি এর মধ্যে আছোস?”

তাওহীদ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে সোফায় বসল। পকেট থেকে লাইটার বের করে আগুন জ্বালিয়ে নির্বিকার গলায় বলল, “আব্বা, আপনে এসবের মধ্যে না গেলেই ভালো হয়।”

মকবুল রহমান টেবিলের ওপর সজোরে থাপ্পড় মেরে বললেন, “ফাজলামি করোস? জহির মোল্লার মাইয়ারে ধরে আনছোস কেন? তুই জানোস না চেয়ারম্যানের পোলা ওর লগে ছিল? একসাথে দুইটারে গায়েব কইরা দিলে পুলিশ এবার ছাড়ব না। অনিন্দিতা রায় এমনিতেই আমাগো ওপর ক্ষেইপা আছে!”

তাওহীদ সোজা হয়ে বসল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “আব্বা, মৃন্ময়ীর সাথে আমার পুরনো হিসাব আছে। ও আমারে অপমান করছে, আমার ইগোতে লাগছে। আর ওই শিশির? মাঝখান দিয়া পণ্ডিতি করতে আইছিল। তাই দুইটারে একলগে সাইজ করার সুযোগ ছাড়ি নাই।”

মকবুল রহমান আতঙ্কিত গলায় বললেন, “কী করছোস ওদের?”

তাওহীদ নিষ্ঠুর হাসল, “এখনো তো কিছুই করি নাই আব্বা। কেবল তো খেলা শুরু। ইটভাটায় আটকায়া রাখছি। মাইয়ার ওই তেজ আর অহংকার আমি মাটির সাথে মিশায়া দিমু। আর শুনেন আব্বা, যদি চেয়ারম্যান বা পুলিশ আপনেরে কিছু জিগাইতে আসে, তবে সোজা এক কথা বইলা দিবেন। বইবেন যে ওরা নিশ্চয়ই প্রেম-পিরিতি করতেছে, এইজন্যই এলাকা ছাইড়া পালাইছে। জহির মোল্লার মাইয়া তো এমনিতেই ড্যামকেয়ার, আর চেয়ারম্যানের পোলা হইলো সহজ-সরল মানুষ। সুযোগ পাইয়া ভাগাইয়া নিয়া গেছে। এইসব কথা একবার রটাইয়া দিতে পারলে পুলিশও আর আমাগো পিছে ঘুইরা লাভ পাইব না।”

মকবুল রহমান ছেলের চতুরতা দেখে একটু আশ্বস্ত হলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর মনের ভেতর অজানা এক আতঙ্ক দলা পাকিয়ে রইল। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, “কিন্তু অনিন্দিতা রায়রে চিনোস না তুই। সে সহজে এইসব কথা বিশ্বাস করার লোক না।”

তাওহীদ দাঁড়িয়ে আড়মোড়া ভেঙে পৈশাচিক হাসল, “বিশ্বাস করানোর দায়িত্ব আমার।” বলেই তাওহীদ আবার অন্ধকারের দিকে পা বাড়াল। তার গন্তব্য এখন সেই পরিত্যক্ত ইটভাটা, যেখানে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে দুটো নিষ্পাপ প্রাণ।

তাহমিদ দরজার ওপাশে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়েছিল। তাওহীদের প্রতিটি কথা তার কানে বিষের মতো বিঁধছিল। নিজের ভাইয়ের এমন পৈশাচিক রূপ দেখে শরীর রি রি করে উঠল। সে আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। পা টিপে টিপে বাবার শয়নকক্ষে ঢুকল। মকবুল রহমানের ড্রয়ারে সবসময় একটা লোডেড রিভলভার থাকে। কাঁপা হাতে ড্রয়ার খুলে অস্ত্রটা তুলে নিল সে। কোমরের পেছনে লুকিয়ে রেখে দ্রুত পায়ে বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে এল।

রাস্তার অন্ধকার আর পাহারাদারদের চোখ এড়িয়ে তাহমিদ মেঠো পথ ধরে ছুটতে শুরু করল। যদি আজ ভাইয়ের রক্ত ভাইরে নিতে হয়, তাও সে আপত্তি করবে না।

.

জমিদার মকবুল রহমান ঘর থেকে বের হলেন। তিনি শোকাতুর পিতা আর হিতৈষী প্রতিবেশীর ভেক ধরলেন। সরাসরি চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে রওনা হলেন। সেখানে পৌঁছাতেই দেখলেন চেয়ারম্যান রাগে-দুঃখে অস্থির হয়ে উঠোনে পায়চারি করছেন। মকবুল রহমান দ্রুত গিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে আলোচ্য ঘটনা নিয়ে আলাপ করলেন। জানতে চাইলেন, কিভাবে কি হলো? তার গলায় ঝরঝর করে ঝরছে মেকি মায়া। ভেজা গলায় বললেন, “শান্ত হন। খবরটা শুইনা আমার কলিজাটা ধক কইরা উঠছে। শিশির তো আমার নিজের পোলার মতো। কিন্তু ভাই, একটা কথা না কইয়া পারতাছি না। এই বিপদের দিনে কথাগুলা তিতা লাগব, তাও শুনেন।”

বিজ্ঞাপন

চেয়ারম্যান কপাল কুঁচকে তাকালেন, “কী কইতে চান?”

মকবুল রহমান গলার স্বর আরও নিচু করলেন, “আমি অনেকদিন ধইরা শুনতেছি, ওই জহির মোল্লার মাইয়া মৃন্ময়ী আপনার শিশিররে নানাভাবে ফুঁসলাইতেছিল। আসলে মাস্টার মানুষ তো, দুনিয়াদারি বুঝে না। ওই মাইয়া তারে প্রেমের জালে আটকাইছে। আমার তো মনে হয় ভাই, এইটা কোনো নিখোঁজ না। মাইয়া আপনার পোলারে ফুসলাইয়া এলাকা থিকা ভাগাইছে। না হইলে দুইজনে একলগে গায়েব হয় কেমনে?”

চেয়ারম্যানের চোখের মণি স্থির হয়ে গেল। মকবুল রহমান আগুনের ওপর ঘি ঢেলে দিলেন, “মাইয়ার স্বভাব-চরিত্র তো আগে থাইকাই সুবিধাজনক না। ওই মাইয়ার জন্যই আপনার পোলার সম্মান ধুলায় মিশতাছে ভাই!”

চেয়ারম্যানের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। তিনি দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, “ওই মাইয়া যদি আমার পোলারে বিপথে নিয়া থাকে, তবে আমি ওরে আস্ত রাখুম না! আমার পোলার মান-সম্মান নিয়া খেলা?” মকবুল রহমান মনে মনে হাসলেন। তার কাজ হয়ে গেছে। এখন চেয়ারম্যান পুলিশের ওপর চাপ দেওয়ার বদলে মৃন্ময়ী আর ওর পরিবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।

.

তাহমিদ বুকভরা সাহস নিয়ে এগোতে চেয়েছিল, কিন্তু অনভিজ্ঞ হাত আর পৈশাচিক শক্তির সামনে সে বড় অসহায়। ইটভাটার পোড়া ইটের স্তূপ আর ভাঙা দেওয়ালের আড়াল নিয়ে সে যখন তাওহীদের একদম কাছাকাছি পৌঁছাল, তখন একটা শুকনো ডাল তার পায়ের নিচে পড়ে মড়মড় করে ভেঙে গেল। সেই সামান্য শব্দটাই কাল হয়ে দাঁড়াল।

তাহমিদ রিভলভার উঁচিয়ে ধরার আগেই পেছন থেকে তাওহীদের এক লোক বাঘের মতো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাহমিদের হাতের অস্ত্রটা ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ল। ধস্তাধস্তির আওয়াজে তাওহীদ এগিয়ে এল। তাওহীদ তাহমিদের কলার ধরে হ্যাঁচকা টানে তাকে আলোর নিচে নিয়ে এল। সে অবাক হওয়ার ভান করে বলল, “আরে! এ তো দেখি আমার বড় ভাইজান। তা হাতে খেলনা নিয়ে এখানে কী মনে করে? তুমিও কি এই কালনাগিনী মৃন্ময়ীর রূপের মায়ায় পড়ছো নাকি?”

তাহমিদ রক্তচক্ষু নিয়ে চিৎকার করে উঠল, “মৃন্ময়ীরে ছাইড়া দে তাওহীদ! তুই যা করতেছস তার ফল ভালো হইব না।”

“তোরা সব বোকা আর মূর্খ। এই বাঁধ বাঁধ, এইটারেও বাঁধ।”

তাহমিদকে ধাক্কা দিয়ে শিশিরের পাশে ফেলে দেওয়া হলো। তাহমিদ দেখল শিশির রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে আর মৃন্ময়ী এখনো অচেতন। নিজের অসহায়ত্বে তাহমিদের চোখ ফেটে জল এল। বেঁধে রাখা অবস্থাতেই তাওহীদ ইশারা করল তার লোকজনকে। দুজন শক্তপোক্ত লোক অচেতন মৃন্ময়ীকে তুলে নিয়ে পাশের একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠের দিকে রওনা হলো। মৃন্ময়ীর পা দুটো মাটির ওপর দিয়ে ঘষটে যাচ্ছিল। তাহমিদ পাগলের মতো চিৎকার করে উঠল, “কুলাঙ্গার! মৃন্ময়ীরে ছাইড়া দে! অরে ছোঁয়ার সাহস করিস না। আমি তোরে খুন করব, আমি তোরে ছাইড়া দিমু না!”

সেই মুহূর্তে শিশিরেরও জ্ঞান ফিরল। মাথার পেছনে প্রচণ্ড যন্ত্রণা আর ঝাপসা দৃষ্টি নিয়ে সে তাকিয়ে দেখল, মৃন্ময়ীকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝতে সমস্যা হলো না। সে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠেও সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠল, “তাওহীদ, খবরদার! তুই বাঁচতে পারবি না তাওহীদ।”

তাওহীদ বিরক্ত হয়ে কপালে ভাঁজ ফেলল। সে শিশির আর তাহমিদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। চোখে জিঘাংসার আগুন। রাগত স্বরে তার লোকদের বলল, “এই দুইটার চিল্লাইনিতে আমার কান ঝালাপালা হইয়া যাইতেছে। মুখ বন্ধ কর এদের!”

মুহূর্তের মধ্যে লোকগুলো নোংরা কাপড়ের টুকরো দিয়ে শিশির আর তাহমিদের মুখ শক্ত করে বেঁধে ফেলল। তাওহীদ পৈশাচিক তৃপ্তিতে বলল, “চেঁচায়া লাভ নাই। এই ইটভাটায় তোদের চিৎকার শোনার মতো কেউ নাই। শিশির সাহেব, আপনে শিক্ষিত মানুষ। বইয়ে তো অনেক বীরত্বের গল্প পড়ছেন, আজ স্বচক্ষে পরাজয়টা দ্যাখেন।”

শিশির শিকল ছেঁড়ার আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল, কিন্তু লোহার বাঁধন তার রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারল না।

তাওহীদ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তার সাঙ্গোপাঙ্গদের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে কর্কশ গলায় নির্দেশ দিল, “তোরা মাইয়ার চোখে-মুখে পানির ঝাপটা দে। যেভাবেই হোক ওর জ্ঞান ফেরানোর ব্যবস্থা কর। আমি একটু পর আসতেছি।”

কথাটা বলেই তাওহীদ একটা কুৎসিত হাসি দিয়ে পকেট থেকে সিগারেট বের করল।

এই নৃশংসতার মধ্যেও ঘটে গেল আরেকটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী ঘটনা। আরেকটা খুন হলো। এই ছেলেটার নাম শফিক। সে তাওহীদের ফোন পেয়ে এইদিকেই আসছিল। পথিমধ্যে আক্রমণ করা হয়। আততায়ী তার লাশের পাশেও একটা চিরকুট রেখে গেল-

“হারাধনের একটি ছেলে

কাঁদে ভেউ ভেউ,

মনের দুঃখে চলে গেল

রইল না আর কেউ।”

বিজ্ঞাপন
প্রণয় প্রত্যাবর্তন গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক থ্রিলার গল্প