"আজ তুমি যা করলে,তার জন্য সারাজীবন আমি চির ঋণি থাকবো তোমার কাছে।"
আখির নিম্ম কন্ঠে বাধা দিলো মোম..
"এসব কি বলছেন ভাবি?,,এটা আমার উচিৎ বলেই করেছি।,,অন্য কেউ হলেও তাই করতো।"
আখি সরাসরি তাকালো মোমের ক্লান্ততা মিশ্রিত মায়া ভরা মুখের দিকে।,,কন্ঠে নমনীয়তা এনে বললো..
"সবাই এমনটা করবে না বোন।, আর তুমি নিজেও তো অসুস্থ ছিলে।,,,দেখছিলাম না?হাত পা নাড়ানোরও শক্তি ছিলো না তোমার।,,,সেখানে তুমি এতোটা করলে..."
"জানি না ভাবি,,,,তখন কি যে হয়েছিলো আমার,,,মনে হচ্ছিলো যে কোনো ভাবেই নীল সোনাকে বাচাতে হবে,, নিজের কথাটা মাথাতেই আসেনি,,,"
একটু থামলো মোম।তারপর হঠাৎ মুচকি হেসে বললো..
"এসব নিয়ে আর কিছু বলো না তো,,,যা করেছে সব উপরওয়ালার ইচ্ছায় হয়েছে আমরা বান্দা তো শুধু তার যন্ত্র মাত্র।"
হাসলো আখিও।,,,মুহুর্তে হাসি থামিয়ে মোমের এক হাত নিজের হাতে নিলো।,,মুষ্টি বদ্ধ করে বললো..
"আমায় ক্ষমা করো বোন।,,, আমি এতোদিন তোমার সাথে যা করেছি....আমি জানি,, বুঝিও এটা অন্যায়।তবুও করেছি।,,আমার হিংসে হতো তোমাকে দেখলে..."
মোম ভ্রু কুচকে তাকালো,,,,তা দেখে আখি বললো..
"মানে,,,,নিঃসন্দেহে তুমি আমার থেকে অধিক সুন্দরী।,,শুধু আমি কেন,,,নোভা,ইশু,তিশু, লিজা কেউই তোমাকে ঠেকাতে পারবে না রুপের দিক দিয়ে।,,তা ছাড়াও,,আমার তো মনে হয় না এই পাড়ায় আর কোনো মেয়ে এমন পরীমুখ নিয়ে জন্মেছে।,,,,,,,ভেবেছিলাম,তোমার রূপের অহংকার থাকবে।তাই তোমাকে হিংসে হতো,,,এ কারনেই বাজে ব্যবহার করতাম তোমার সাথে।,,, কিন্তু আমার ধারনা ভুল,,,তুমি মোটেও তেমন নও। আজ যা করলে আমার জন্য... "
আখি মাথা নোয়ালে,,,,
"এটা সত্যিই আপনার ভুল ধারণা ছিলো ভাবি,,,,পৃথিবীর প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুন্দর।,,,সবাই তো আর সর্বধারী হয় না,,,,কোনো না কোনো খুত থাকবেই।,,তবে সেসবের মাঝেও তার সৌন্দর্য অবগাহন করে,,, যেমন ধরো কারো গায়ের রং সুন্দর, কারোর চেহারার গঠন সুন্দর,কারো ধরুন গায়ের রং কুচকুচে কালো,তবে তার এমন দুটি চোখ থাকবে,যেই চোখের দিকে তাকিয়ে অনায়াসে যে কেউ অতল গভীরে ডুবে মরতে পারবে।,,আবার দেখবে কারো কন্ঠ স্বর সুন্দর,,,,।তাই খুতটাকে গুরুত্ব না দিয়ে বাকি সৌন্দর্য উন্মোচন করা উচিৎ।বাহ্যিক সৌন্দর্য তো নিমিত্ত মাত্র। এটা কদিন পরেই মিলিয়ে যাবে।"
আখি অনিমেষ তাকিয়ে রইলো মোমের দিকে।কতটা গুছিয়ে কথা বলে মেয়েটা,,আর কি সচ্ছ উত্তর,,।।হাসলো আখি,,
"তবে তোমার কিন্তু কোনো খুত রাখেনি আল্লাহ।বুঝলে??"
মলিন হাসলো মোম,,আনমনা হলো..
"কে বলেছে রাখে নি??আল্লাহ আমারও একটা বড় সর খুত রেখেছে।যা অন্তর্নিহীত।চাইলেও যা মুছে ফেলার মতো নয়।"
আখি বুঝলো না মোমের গভীর কথা গুলো।তবে বেশি ঘাটলোও না।সে যে এখন মোমের কাছে তার কৃতকর্মের ক্ষমা চাইতে এসেছে।,,,,
"হাতটা দাও তো মোম।,,"
আখি হাত বাড়িয়েছে।বুঝলো না মোম,,ভ্রু কুচকে তাকিয়ে রইলো,,,, তা দেখে আখি নিজেই মোমের বাম হাত টেনে কনুইয়ের নিচের দিকে দেখিয়ে বললো..
"সবাইকে তো বললে কিছু হয়নি তোমার।,,কিন্তু আগুনের আচ যে এখানটায় লেগে পুড়ে গেছে,,তা তো আমি দেখে নিয়েছি।"
বুঝলো মোম,,,
"ওহ,,এটা?.,,এটা তো অল্প একটু,,,কিছু হবে না,,ছেড়ে দিন।"
আখি শুনলো না।,,,মলম লাগাতে লাগলো মোমের পোড়া স্থানে।,,
"আমায় তুমি করেই বলো।,,আর এটা বুঝি অল্প??,,কতটা পুড়ে গেছে।,,ইশশ।"
মোম আর কিছু বললো না,,দেখতে লাগলো আখির কর্ম।,,আখি নিজের কাজ শেষ করে তাকালো মোমের মুখশ্রীর দিকে।,,আরো একবার মোমের সৌন্দর্যের অতলে হারালো সে।,,বলেও ফেললো..
"জানো মোম,,,ছেলেরা যখন কোনো একটা মেয়েকে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করে,তখন সবার প্রথমেই দৃষ্টি যায় ঐ মেয়েটির চোখ আর ঠোঁটের দিকে।,,,যার চোখে বেশি মায়া জড়ানো থাকে,,তার মায়াতেই ঐ ছেলেটা বেশি আটকায়।আর যার ঠোঁটে যতটা কাছে ডাকার আকুতি থাকে।তার প্রতিই ঐ ছেলেটা বেশি ব্যাকুলতা অনুভব করে।ঐ মেয়ের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ছেলেটা নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করে,,তবে সে নিশ্চিত হেরে যায়।আর হেরে গেলেই বোঝা যায় তার ব্যাকুলতার পরিমান কতটা গভীর।,,,তোমার চোখ ঠোঁট দুটোই মাশাল্লাহ। আমি মেয়ে হয়েও ইচ্ছে করছে ছিড়ে ফেলি ঐ ঠোঁটজোড়া।,,,ছেলেরা যে কি করে সামলাবে নিজেদের??আল্লাগ মালুম।"
লজ্জা পেলো মোম..
"কি যে বলো না ভাবি,,,এটাও সম্ভব নাকি,,"
"সম্ভব বোন,,আমার তো ভালোবাসার পরিনতি হিসেবেই বিয়ে হয়েছে।তাই অভিজ্ঞতা তোমার থেকে একটু বেশি।"
হাসলো মোম,,আখি উঠে দাড়ালো।নিজের চোখের নিচ থেকে একটু কাজল নিয়ে মোমের কানের পেছনে নজরটিকা দিয়ে বললো.
"এতোক্ষণ তোমার সৌন্দর্যের প্রতি নজর দিয়েছি।তাই নজর টিকা লাগিয়ে দিলাম।,,,আল্লাহর কাছে দোয়া করি,,,তোমার রূপ লাবণ্য যাতে দিনে দিনে বাড়তে থাকে।"
হাত টেনে ধরলো মোম,,,আখি তাকালো তার দিকে।
'"উহুম,,,আমার লাবন্য চাই না ভাবি।,,,পারলে দোয়া করো,,,আমার আয়ুকালটা যাতে আরেকটু দীর্ঘ হয়।"
কতটা যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি থেকে কথাটা বললো মোম,,,তবে সেই অনুভূতি বোঝার সাধ্য যে আখির অজানা মনের নেই।সে শুধু হাসলো,,,মুখে বললো..
"তাও দোয়া করলাম।"
চলে যেতে নিলেই আখি খেয়াল করলো নভ দরজায় হেলান দিয়ে বুকে হাত গুজে দাড়িয়ে আছে,,, দৃষ্টি তার মোমের উপর নিবন্ধ।আখি তাকে দেখে আলতো হেসে জিজ্ঞেস করলো..
"ভেতরে আসতেন ভাইয়া,,,আমরা তেমব কোনো কথা বলছিলাম না।"
নভ দৃষ্টি নাড়ালো না।তবে শান্ত কন্ঠে বললো..
"সমস্যা নেই।মাত্রই এসেছি আমি।,,"
"ওহ,,আচ্ছা।আমি যাই এখন"
বলেই প্রস্থান করলো আখি।মোম তাকালো নভের দিকে।
"কি ব্যপার,,ওখানেই দাড়িয়ে থাকবেন?"
উত্তর দিলো না নভ।,,,শুধু ধীর পায়ে এগিয়ে এসে বসলো মোমের পাশে।মোম তাকিয়ে রইলো নভের দিকে।,, লোকটা আজ কতগুলো দিন তার সাথে কথা বলে না।,,,এখনো কেমন গুমোট ধরে আছে,,ঐ দিন কথা গুলো বলা কি ঠিক হয়েছে মোমের?বুঝিয়েও তো বলতে পারতো।নভ কি বুঝতো না??হয়তো বুঝতো।,,,,
"হাত পুড়েছে আমাকেই বলতে পারতে,,,এতোটুকু করতেই পারতাম।সেজন্য তো আর তোমার মতো রুপবানের কাছে দ্বিতীয় বার প্রেম প্রস্তাব নিয়ে আসতাম না।,,,"
কথাটা যেন অন্তরে বিধলো মোমের।,,,লোকটা এতো নিষ্ঠুর কেন?মানলান একটু না হয় কষ্ট দিয়েছি।তাই বলে এতো কঠিন কথা শোনাবে??,,,হাত পুরেছে তো একটু খানি।,,এখন যে উনি উনার কথার দ্বারা সম্পুর্ন হৃদয়টাই পুড়ে ছাই করে দিচ্ছে?? সেখানটায় কি পারবে,মলম লাগিয়ে আবার আগের রূপ দিতে?"
মুখে কিছুই বললো না মোম,,,কেমন যেন গলা ধরে আসছে তার।চক্ষু কোঠর ভেদ করে টলমল করে উঠলো কিছু পরিমান নোনতা জল।,যা নিমেষেই ধরা পড়লো নভের চোখে।,
মোম লুকানোর চেষ্টায় দৃষ্টি সরিয়ে ফেললো। থাক না কিছু কষ্ট লুকায়িত।সেসব নাই বা হলো কারো নতুন সুখের কারন।,,
নভের হৃদয় গলতে লাগলো,,,সহ্য হলো না মোমের চোখের অশ্রু কণা।,,,তবে প্রশ্রয় দিলো না নিজের অন্তরের নরম সত্তাকে।,,উঠে দাড়িয়ে ধপধপ পায়ে চলে যেতে লাগলো।সাথে ব্যাপ্ত করতে না পারা কথা গুলো নিজের মনেই আওড়ালো..
"তোমার আয়ুকাল দীর্ঘ হবে মোম।,,আমি ভগ্ন হৃদয় নিয়েও ভেঙে পড়ি নি শুধু মাত্র তোমায় দীর্ঘায়ু দেওয়ার আপ্রান চেষ্টায়।সবটুকু দিয়ে আমি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো আমি মোম।,যদি তোমার আয়ু দীর্ঘ করতে না পারি,তাহলে কথা দিলাম মোম,আল্লাহর থেকে পাওনা, আমার আয়ুকালও কমিয়ে ফেলবো।,,এরপর নাহয় একসাথেই পৌছাবো উপরওয়ালার কাছে।"
()()()()
"তোর রত্ন অন্যকেউ আত্মসাৎ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে ভাইয়া।"
নোভার কথায় ভ্রু কুচকে এলো নভের।মাথাটা উচু করে তাকালো নোভার দিকে। তা দেখে নোভা বললো..
"লুসিয়ান ভাইয়া বারবার মোমের দিকে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করছে।,,তবে মোম পাত্তা দিচ্ছে না,তাই এখনো সে সুযোগ করে উঠতে পারে নি ঠিক।তবে হালও ছাড়ছে না।তুই যদি এভাবে মোমকে এখানে ইনািকিউর রেখে বাড়ি থেকে চলে যাস,তাহলে লুসিয়ান ভাই খুব সহজেই নিজের কাজে সফল হবে "
কপালের রগ গুলো ফুলে উঠছে নভের।চোখ দুটোও কেমন আগুন রং ধারন করছে।,,,
"আমি জানতাম এমন কিছুই হবে।,,,ঐ লুসিয়ানকে চলে যেতে বল।যতদিন মোম এখানে থাকবে, ততদিনের জন্য। "
"এটা সম্ভব নয়।আম্মুর সাথে এটা নিয়ে একদফা কথা কাটাকাটি হয়েছে আমার আর কাকিয়ার।,,আব্বুদের এখনো জানাইনি ব্যপারটা।,,,আম্মু নিজের জেদ দেখিয়ে সাফ বলে দিয়েছি লুসিয়ান ভাইয়া এখানেই থাকবে।সমস্যা হলে মোমকে চলে যেতে।"
"আমার মোম জানে এসব?"
"প্রথমে জানতো না,,তবে আম্মু ওকে অনেক বাজে কথা বলেছে।মোম সবটা শুনেছে।এরপর এখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য আব্বু,কাকিয়া সবার কাছেই অনুমতি চেয়েছে।তবে পায়নি আমরা বলে দিয়েছি,তুই না করেছিস।,,,,তবে আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় বলছে,,লুসিয়ান ভাইয়া যদি ওর সাথে মাত্রাতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে মোম যেভাবেই হোক এখান থেকে চলে যাবে।"
চিন্তায় পরে গেলো নভ।,,,সত্যিই কি মোমকে ইনসিকিউর রাখছে সে??,,না না,,,সে তো প্রতিটি রাতেই মোমের ঘরে থাকে।তাহলে??,,,যাই হোক,,,আর রিস্ক নেওয়া যাবে না।এবার থেকে যা করার বাড়িতে থেকেই করতে হবে।
()()()()
সময় চলছে তার নিজ গতিতে।,,ঐ দিনের পর কেটে গেলো আরো কয়েকটা দিন।,,মোমের হাতের ক্ষতটাও প্রায় শুকিয়েছে।,,আখি এখন মোমের সাথে ভালো ব্যবহারই করে,,।সব ঠিকই আছে।নভও এখন বাড়িতে থাকে।থাকে বলতে,,,সকাল ৯ টার দিকে বেরিয়ে যায়,,আর রাতে ১১ টা কি ১২টা করে ফিরে আসে।,,কখনো কখনো দুপুরে এসে খেয়ে একটু জিরিয়ে নেয়,,,আবার কখনো বা আসেই না।,,,
তবে এসবের মাঝেও ভালো নেই মোম।শরীরটাও আজ কাল আর ভালো ঠেকছে নাহ।এছাড়াও ভালো না লাগার আরেকটা কারন হলো নভ।যতক্ষণ বাড়িতে থাকে মোমকে ইগ্নোর করে।আর কথা হলেও নভ সবসময়ই হৃদয় জ্বালানো কথা বলে।।,,,,
,,,,,,,,রাত প্রায় ১২টা,,,ক্লান্ত শরীর নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে নভ।উদ্দেশ্য বাড়ি।,,,শরীর ক্লান্ত হলেও মনে তার খুশি।একটু খানি আশার আলো দেখেছে যে।,,,আজ ৮ম বারের মতো ডা. কনফারেন্স করেছে নভ।,,টপ নিউরোলোজিস্টদের এখন রিচার্জের মুল বিষয় হচ্ছে মোম।কিভাবে লাস্ট স্টেজের ব্রেইন ক্যান্সারের রোগী কে বাচানো যায়।,,,,,এতোদিন পর সবাই এতটুকু জানিয়েছে যে,,বছর খানেক আগে আমেরিকার একজন নিউরোলজিস্ট তার আবিষ্কার পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই পর্যন্ত তিনজন লাস্ট স্টেজের ব্রেইন ক্যান্সারের রোগীর অপারেশন করেছে,, তবে এর মধ্যে একজন রোগী সুস্থ হয়ে উঠলেও বাকি দুজন অপারেশন থ্রিয়েটারেই মারা যায়।,,,তাই লাইফ গ্যারান্টি কেউই দিতে পারছে না।,,,, তবে নভ যেন এতেই খুশি।,,সে একটা পথ খুজছিলো,,যার একটা চিহ্ন হলেও পেয়েছে যে।,,,সে শুধু মাত্র বেচে যাওয়া লোকটির কথাই শুনছে।বাকি দুজনের ক্ষেত্রে যে অপারেশনটা অসফল হয়েছে, তা যেন সে কানেই নিতে পারছে না।,,,,তার দৃঢ় বিশ্বাস, তার মোম এটার মাধ্যমেই সুস্থ হয়ে উঠবে মুক্তি পাবে ব্রেইন ক্যান্সার নামক বিষাক্ত যন্ত্রণার থেকে।পৃথিবীতে নিজের অস্তিত্ব আরো কয়েকটা বছর বেশি টিকিয়ে রাখতে পারবে।,,,তাই সে খুশি,,,, খুব খুশি,,,কথায় আছে না??'Something is batter than nothing '..........
ভাবনার মাঝেই মনে হলে গাড়ির পাশ দিয়ে কেউ যেন গেলো,।,,,বিষয়টা তা নয়৷ এরকম হাজার মানুষই পাশ কেটে যায়।,, তবে মানুষটাকে যেন খুব চেনা ঠেকলো নভের কাছে।,,,কে ছিলো এটা??সত্যিই কি নভের চেনা কেউ??,,,
গাড়ির স্পিড কমিয়ে বাইরের লুকিং গ্লাসে তাকাতেই আত্মা কেপে উঠলো নভের।,,,,
মোম!!!,,,এতো রাতে মোম এই রাস্তায় কেন? তাও একা??এভাবে দৌড়াচ্ছে কেন??,,
দ্রুত ব্রেক কষলো নভ,,,,গাড়ি থেকে নেমে দৌড় লাগালো সামনে দৌড়াতে থাকা মোমের দিকে।,,,,বাতাসের গতিতে মোমের কোমর সমান কালো সিল্কি চুল গুলোও দুলছে।,,পায়ে থাকা নুপুর জোড়াও ঝুমঝুম আওয়াজ তুলছে।,সাদা গোলাপি মিক্সিং সেলোয়ার কামিজের ওড়নাটাও দুলছে,,,
একটা সময় ক্লান্ত হয়ে হাপাতে লাগলো মোম,,,গতি একটু কমে এলো,,,নভ একদম কাছে এসে থামলো মোমের।,,,,
রাশ ভারী কন্ঠে পেছন থেকে বলে উঠলো...
"এই অবয়ব রায়ানিশের হাত থেকে পালানো এতোটা সহজ বুঝি?"