সিলিং এর দিকে তাকিয়ে নিজের ফেলে আসা স্মৃতি আওরাচ্ছে মোম।রাত গভীর,, তবে আজ যেন ঘুম ধরাই দিচ্ছে না।,,,ঔষধ খাওয়ার ঘন্টা খানেকের মধ্যেই ঘুম চলে আসার কথা।তবে তা আজ যেন মিথ্যা প্রমান হলো।,,,,পাশেই নীল,,আর বিছানার অপর প্রান্তে আখি,,নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।,,,,
মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে রুমে আসার পর আখির বলা কথা গুলো..
,,,দেখো মেয়ে,,,তুমি রুপে একদম হুর হতে পারো,,,তবে এই বাড়িতে ঘাটি বাধতে যেও না যেন।এখানে থাকার অধিকার যার তার নেই।,,,শুধু নভ ভাইয়া এনেছে বলে।নাহলে তোমার এই রুপকে কেউ পাত্তাও দিতো না।,, আজীবন থাকার চিন্তাও করোনা যেন।,,,,
মোমের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়লো নোনা পানি,,,মনে পড়লো,তারও একটা পরিবার ছিলো।সুন্দর ছিলো,,,আম্মি,আব্বু, ভাইয়া,,,,।কতগুলো দিন দেখে না তাদের?,,,,তারা থাকলে হয়তো এক্ষুনি বুকে আগলে বলতো,,:মন খারাপ করে না মোম।সবার কথা গায়ে মাখতে নেই।,:,,,তবপ আজ তারা নেই।যথেষ্ট দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এই ক দিনে।,,
ভাবনার মাঝেই হঠাৎ পাশ থেকে কেদে উঠলো নীল,,,,আখি ঘুমের ঘোরে বিরক্ত হয়ে ফিরলো তার দিকে।,,থামানোর চেষ্টা করছে,,তবে লাভ হচ্ছে না।,,,মোম আমতা আমতা করে বললো..
"আমি একটু কোলে নিই ভাবি?হয়তো থেমে যাবে?"
আখি তীক্ষ্ণ চাহনি নিক্ষেপ করলো মোমের দিকে।,, কিছুক্ষণ চেয়ে এগিয়ে দিলো নীলকে। মোমও হেসে কোলে নিলো নীলকে,,, সত্যি সত্যিই একটু পর থেমে গেলো নীল।মোমের সাথে কিটকিটিয়ে হাসতে লাগলো।,,,আখিকে বসে বসে ঢুলতে দেখে মোম বললো..
"আপনি ঘুমান ভাবি,,,নীল সোনাকে আমি ঘুম পারিয়ে দিবো।"..
এমনিতেই চোখ ভারি হয়ে আসছিলো আখির।তাই আর মোমের সাথে তর্কে জড়ালো না।,সায় জানিয়ে শুয়ে পড়লো।সাথে সাথেই চোখ জোড়া ঘুমের দেশে তলিয়ে গেলো তার।
______________
সকাল বেলায় ঘুম ভাঙতেই অবাক হয়ে গেলো আখির।,,,,পাশেই নীল খিলখিলিয়ে হাসছে,,সাথে মোমও।,,,উঠে বসলো আখি।,,,অবাক কন্ঠে মোমকে জিজ্ঞেস করলো..
" সারারাত ঘুমায় নি ও?"
মোম হেসে বললো..
"ঘুমিয়েছে তো,,, পরে আবার জেগেছে। "
"আমায় ডাকতে পারতে?"
মোম নীলের সাথে খেলতে খেলতেই বললো..
"কাল সারাদিন অনেক কাজ করছিলেন আপনি,,,তাই আর ঘুমে বিরক্ত করিনি।"
আখি মনে মনে ভাবলো..
"এই মেয়ে, না ঘুমিয়ে নীল কে সামলেছে?,,,"
তবে মুখে বললো...
"এসব সিমপ্যাথি আমায় দেখিয়ে লাভ নেই।"
বলেই উঠে চলে গেলো ওয়াশরুমে।মোম এক নজর তার দিকে তাকিয়ে আবার নীলে মনোযোগ দিলো।
()()()()
১১টা প্রায়।,,,,এহসান বাড়ির মাঝারো সাইজের ড্রয়িং রুমের সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে নভ।,,, সামনেই দাড়িয়ে মোমের গোটা পরিবার।,,,,,নভের দৃষ্টি নিবন্ধ সামনে দাড়িয়ে থাকা মোয়ানের দিকে।,,,,
নিস্তব্ধতা ভেঙে জয়নাল এহসানের বড় ভাই উৎসুক হয়ে বললো...
"জয়নাল এখনো টাকাটা শোধ করতে পারেনি তাই না?,,,,"
বলেই জয়নালের দিকে তাকালো..
"ছি জয়নাল,,,ঐ মেয়ের জন্য তোর এতো অবনতি?,,মেয়ে তো গেলো,,,,এবার তো বাকি তোর এই লাফাঙ্গা ছেলে।,,,,,তা ঐ রোগা মেয়ে এখনো বেচে আছে?"
কথাটা বলতে দেরি হলেও মোয়ানের চেচাতে দেরি হলো না।
"যাস্ট স্যাট ইউর মাউথ চাচ্চু।আমার বোনিকে নিয়ে আর কথাও বলবে না তোমরা।"
জয়নাল থামালো মোয়ানকে।,,,আবার সব শীতল।,,,কিছুক্ষণ পর নভ বললো..
"আগামী ৫ দিনের মধ্যে তুমি আমার কম্পানিতে একাউন্টটিং ম্যানেজার পদে যোগ দেবে মোয়ান।তোমার সিবি এপ্রুভ হয়েছে।,,পার মান্থ স্যালারি ৫৮ হাজার।চলবে?"
কথাটায় যেন বাজ পড়লো সবার মাথায়।বিশেষ করে জয়নালের ভাইয়ের।,,,এর তো টাকা আদায় করার কথা,,,তা না করে এ মোয়ানকে চাকরি কেন দিচ্ছে?, তাও আবার এতো বড় মাইনে?,,,
"সাথে আপাতত একটা ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট আর পাজারো গাড়ি।কাজ ভালো হলে ভবিষ্যতে আরো অফার পেতে পারো।"
নভের এই কথাটা যেন আরো বড় বাজ ফেললো সবার মাঝে।
সবার রিয়েকশন দেখে নভ বললো..
"আমি আপনাদের সাথে কিছু পার্সোনাল কথা বলতে চাই জয়নাল সাহেব।,,,আপনি আর মোয়ান।,,,,বাকিরা আপাতত যেতে পারেন
সাথে সাথেই মোয়ানের বড় চাচি বলে উঠলো..
"কেন?,, এটা আমাদেরও ড্রয়িং রুম।আমরা এখানেই থাকবো "
নভ শান্ত ভাবে তীর্যক দৃষ্টিতে তাকালো মোয়ানের চাচির দিকে।,,,,তারপর দৃষ্টি নামিয়ে কোমড়ের কাছ থেকে নিজের পিস্তলটা বের করে সামনল টেবিলে রাখলো ধীরে সুস্থে।,, তা দেখেই বড় সড় ঢোক গিললো সবাই,,
"ঐ দিনের মতো সাথে গার্ড নিয়ে আসিনি,,তার মানে এটা নয় যে আমি এটা চালাতে পারি না।,,,,গুনে গুনে ছয়টা বুললট ভরা আছে এতে।৷ সেটা দিয়েই চলবে এখন।,,মিস হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা,,,অবয়ব রায়ানিশ কখনো লক্ষভ্রষ্ঠ হয় না।"
ব্যস এতটুকুই যথেষ্ট ছিলো সবার জন্য। আর কোনো কথা না বাড়িয়েই শুরশুর করে নিজেদের রুমে চলে গেলো মোয়ানের চাচা,চাচি,আর চাচাতো ভাই বোনেরা।,,, আতিয়া এহসান দাড়িয়ে আছে দেখে নভ তাকালো তার দিকে...
চোখ দুটো প্রায় খাদে চলে গেছে তার।চলন বলনও বলে দিচ্ছে কতটা যন্ত্রণায় কাটছে তার দিন,, নভ বুঝলো,,এই যন্ত্রণা মোমের জন্যই।,,,এক মুহুর্তের জন্য নভের মন প্রশ্ন করলো....'আচ্ছা,, আমার আম্মু কি কখনো আমার জন্য এতো উদ্দীগ্ন হয়েছে?,,,
আর ভাবলো না নভ।ভাবতে গেলে যে তার নিরব অতীত বারবার খোটা দিবে তাকে।,,,,,নরম গলায় আতিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো..
"আপনি রুমে যান আন্টি।,,"
আতিয়া একবার জয়নালের দিকে তাকালো,,তিনি চোখের ইশারায় যেতে বললো..,,
তবে সামনে রাখা পিস্তল দেখে,ভয়ে আতিয়ার স্বামী আর ছেলেকে ফেলে যেতে ইচ্ছে করছে না।,,,তিনি দাড়িয়ে রইলেন।তার ভয় মিশ্রিত দৃষ্টি পিস্তলে নিবদ্ধ দেখে নভ হেসে ফেললো।বললো..
"ভয় পাবেন না,,,আমি অকারনে কাউকে মারি না।,,,আর এখানে যদি জয়নাল সাহেবকে মারারই হতো,তাহলে এতোক্ষন ওয়েট করতাম না।,প্রথমেই মেরে দিতাম।আপনি যান এখন"
আতিয়া কিছুটা স্বস্তি পেলো,,ধীরে ধীরে পা ফেলে চলে গেলো রুমে।,,,,,
"বসুন"
নভের শক্ত কন্ঠে কোনো প্রতিত্তর করলো না দুজনেই।নভের সামনা সামনি সোফায় বসলো।,,,,নভ শান্ত দৃষ্টি দিলো মোয়ানের দিকে।
"মোমের অসুস্থতা নিয়ে কাউকে জানাও না কেন? "
মোয়ান, জয়নাল দুজনই চমকালো।নভ কি করে জানলো এটা?,,তবুও মোয়ান নিজেকে ঠিক রাখা ভান করে বললো..
"ত্ তেমন কিছু নাহ,, ঐ আর কি একটু..."
বলতে দিলো না নভ..
"সিরিয়াস ব্রেইন ক্যান্সার,,ওন লাস্ট স্টেইজ।,,,সি হ্যাজ জাস্ট ফিউ মান্থ ফর লিভ।,,,,,'
বিস্ময়ে নিজেদের মধ্যে চাওয়া চাওয়ি করলো মোয়ান আর জয়নাল।
" আমার মোম গত দের মাস ধরে আমার কাছে আছে।,,এর মধ্যে এটা জানাটা অস্বাভাবিক কিছু নাহ।,,"
নোয়ান মাথা ঝুকালো,জয়নালের চোখেও পানি ভিড় করলো।
"আপনার একটা মেয়ে আছে।মৌচাক এহসান,,,তার জন্য আপনি কিছুদিন পর পরই টাকা নিতেন।ব্যাংক থেকে লোন,,,এর থেকে টাকা,ওর থেকে টাকা।আমার থেকে নিতে নিতে ১৬ লক্ষ টাকা নিলেন।,অফিসের স্টাফ বলে জেরা করা হয়নি।,,,জানতে চাইলে বলতেন আপনার মেয়ের জন্য লাগবে।,,,কিন্তু কখনো একজ্যাক্ট কারনটা কি বলেছেন কাউকে?,,,আমি টাকা ফেরত চাওয়ার সময়ও তো বলতে পারতেন মোমের ব্যপারে।,,এরকম বোকামিটা আপনার থেকে আশা করিনি জয়নাল সাহেব।"
নভের কথায় এবার হু হু করে কেদে উঠলেন জয়নাল।,,নভ বিরক্ত হলো...
"এখন কেন কাদছেন?শুরু থেকে যদি সবার সাথে পরামর্শ করতেন,তাহলে ঠিকই কোনো না কোনো উপায় পেতেন।এতোদুর বিষয়টা গড়াতোই না।"
জয়নাল যেন চরম ভাবে আত্মতৃপ্তি করছেন কাদতে কাদতে,,,
"আমি বুঝতে পারিনি স্যার,,,চরম ভুল হয়ে গেছে আমার।তখন যদি মোমমার ছেলে মানুষি গুলো না শুনে কিছু করতাম তাহলে আজ আর এই দিন দেখতে হতো না আমার,,,দেখতে হতো না।"
কিছুক্ষন নিরবতা।কন্ঠ খাদে নামিয়ে মোয়ান বললো...
"বোনির তখন ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের একটা টার্মিনাল এক্সাম চলছিলো।,,চারটা পরিক্ষা শেষ,,,পরদিন কেমিস্ট্রি পরিক্ষার হলেই প্রথম ও সেন্সলেস হয়ে পরে যায়।,,,কলেজ থেকে ফোন করায় দ্রুত গিয়েছিলাম সেখানে।তখনও বোনি সেন্সলেস ছিলো।হসপিটাল নিয়েছিলাম ঐদিন প্রথম।,এর আগে বোনিকে নিয়ে তেমন হসপিটাল মুখো হওয়া লাগেনি।,,ঐ টুকটাক প্রবলেম ছাড়া।,,,,,সেন্স ফিরার পর নিজেকে হসপিটালে পেয়ে বোনি হেসেছিলো।প্রথম কথাটা ছিলো ওর৷ " জানো ভাইয়া?,,,হসপিটালের ফিনাইলের গন্ধটা খুব ভালো লাগছে।,,,আমি এবার থেকে মাঝে মাঝেই হসপিটাল আসবো।",,,তখন হেসে উরিয়ে দিয়েছিলাম।,,তবে ওর কথাটা যে সত্যি প্রমানিত হতে যাচ্ছে তা জানলাম তিনদিন পর রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর।,,, জানলাম আমার ছোট্ট বোনির মধ্যে বিস্তার করছে এক বিশাল রোগ।,,ততদিনে সেকেন্ড স্টেজ চলছিলো,,,,,।আম্মি জানলো আব্বু জানলো,,,বাড়ির সবাই-ই জানলো।সতর্ক করেছিলাম বোনিকে কিছু না জানাতে।,,,কিছুদিন চলছিলো ঐ ভাবেই।বোনিকে অনেক হাবিজাবি বুঝিয়ে ঔষধ খাওয়াতাম।ততদিনে আরো একবার সেন্সলেস হয়েছিলো ও।ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরিক্ষার সময় রাত জেগে প্রেসার দিয়ে পড়তে গিয়ে।,,,,,ডক্টরের সাথে আলোচনা করার পর তিনি বললেন,অপারেশন পর্যন্ত পড়ালেখা বন্ধ রাখতে ওর।,,,,অনেক চেষ্টা করেও পারিনি বোনিকে রাজি করাতে,,তবে জোর করে সাইন্স থেকে আর্টসে নিয়ে গেলাম।,,,প্রচুর কেদেছিলো ঐ দিন।,,,চিৎকার করে বলেছিলো,, 'ভাইয়া তুমি আমায় আট মেডিকেল পড়তে দিলে না।,,,আমায় গলায় আর স্থেথোস্কোপ ঝুলাতে দিলে না।',,,,,,ঐ দিন আমি আমার বোনির থেকে ওর স্বপ্ন,, ওর অর্ধেক প্রানই কেড়ে নিয়েছিলাম।,,,,,,এর মাঝে আবার বাড়ির বাকিরাও ওকে কেমন আলাদা চোখে দেখতে শুরু করলো।,, যেই বড় চাচি সারাক্ষন বলতো,তুই আমার বৌ মা হবি।আমার আবিদের বউ হবি,,,সেই চাচিই ওকে দেখলে নাক ছিটকাতে শুরু করলো।,,আবিদ ভাইয়াও সারাক্ষন মোম বলতে পাগল ছিলো,,,বোনি কাদলেই বললো,,,কাদছিস কেন,বিয়ের পর অন্য কোথাও নিবো না তো।এই বাড়িতেই থাকবি।,,"সেই আবিদ ভাইয়ের কাছে বোনি ঘুরতে যাওয়ার আবদার করলেই বলতো, পারবো না।",,,,,,,"
একটু থামলো মোয়ান।মনোযোগ দিয়ে নভ শুনতে লাগলো মোয়ানের কথা গুলো।,,,,সময় দিলো মোয়ানকে।মোয়ান আবার বলতে শুরু করলো..
"কিছুদিন পর কলেজ থেকে ফিরার পথে আবিদ ভাইকে দেখেছিলো বোনি।,,তবে সে একা ছিলো না।সাথে আরেকটা মেয়েও ছিলো।বোনিটা ছোট হলেও খুব দ্রুতই বুঝে ফেললো এরা সাধারন নয়।,,বাড়ি আসার পর কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলো বোনি টা।,,,অপেক্ষা করছিলো।তবে আমাদের কাউকেই জানায় নি।,,রাতে যখন আবিদ ভাই ফিরলো,তখনই বোনির জমিয়ে রাখা সব রাগ ঝারতে শুরু করলো।,,,চাচিকেও বিচার দিলো।তবে খুব একটা লাভ হলো না।,,,বাড়ির প্রত্যেকেই জানতো আবিদ ভাইয়ের জন্য আমার বোনি কিছুটা দূর্বল।,,তবে আবিদ ভাই যে মুহুর্তে পরিবর্তন হয়ে যাবে,,তা কল্পনাতীত ছিলো আমাদের।,,সেই দিনই চাচি মুখের উপর বলেছিলো বোনিকে.." তুই একটা অপয়া,,নিজে তো ব্রেইন ক্যান্সারে মরবি মরবি,,আমার ছেলেকে বিয়ে করে কি ওকেও মারতে চাস নাকি,,,",,,,নিজের অসুস্থতার ব্যপারে ঐ দিনই প্রথম জেনেছিলো বোনি।,,,,,আবিদ ভাইও ঐ দিন বোনিকে দুরে ঠেলে দিয়েছিলো।ছোট বেলা থেকে তার দেখানো ভালোবাসা মুহুর্তেই উবে গেলো।,,,,,,,আমরা চেয়েও কিছু করতে পারিনি।,,আমার বোনিটা ঐদিন দরজা লাগিয়ে কেদেছিলো।ব্যপারটা মোটেও সুবিধার ছিলো না।বোনি কখনোই প্রয়োজন ছাড়া দরজার খিল দিতো না।,,বাড়িতে তেমন প্রবলেম ছিলো না,,,বাবা চাচা,,আমি ওর নিজের ভাই।আমাদের নিয়ে তেমন প্রবলেম নেই।আর ছিলো আবিদ ভাই।যেহেতু ভবিষ্যতে তার সাথে সংসার করার কথা ছিলো,তাই বোনিও তাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিতো।আর আবিদ ভাই ও স্বাভাবিক ছিলো।,,,,,,পরদিন দরজা ভেঙে বোনিকে সেন্সলেস অবস্থায় পেয়েছিলাম।ঐ দিনই প্রথম ওর মষ্তিস্ক থেকে রক্ত ক্ষরণ হয়।,,,হসপিটালে সেন্স আসার পর থেকেই আমার দুরন্ত, সব সময় লাফাতে থাকা বোনটা শান্ত হয়ে গেলো।সেই থেকেই আজ পর্যন্ত ওর আড়াল হওয়া রূপটা আর দেখা গেলো না।ঐ দিন বোনি,আমার আম্মির আর আব্বুর হাত নিজের মাথায় নিয়ে দিব্বি দিয়েছিলো,ওর অসুস্থতার ব্যপারে যেন আর কেউ না জানে।,ও চায়না আর কেউ ওকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করুন।ওকে দেখে নাক ছিটকাক।,, বলেছিলো ও,,,"আর যেই কটা দিন বাচবো,সবার সাথে সাধারন মানুষের মতো বাচতে চাই।',,,,দু মাসের মাথায় অপারেশন করা হয়েছে ওর।,আমি সেবাট মাত্র মার্স্টার্স কমপ্লিট করলাম।চাকরি খুজছিলাম।এক কথায় আমি তখন বেকার।সেবারই আব্বু প্রথম ধার নেওয়া শুরু করেছে।ভেবেছিলো বোনির অপারেশনের পর শোধ করে দিবে।,,,,,তবে অপারেশন হলেও সাকসেসফুল হয়নি।,,আরো খারাপ হতে লাগলো বোনির অবস্থা।থার্ড স্টেজে পড়লো।সেই থেকেই শুরু হলো থেরাপি প্রত্যেক মাসে।,,,,এখনো ওভাবেই চলছে।"
থামলো মোয়ান।দু হাতে মুখ ঢেকে কান্না আটকানোর চেষ্টা করলো।,,,,নভ একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো।,,,কিছু একটা ভেবে হঠাৎ জিঞ্জেস করলো..
''জিয়ানের সাথে বিয়ের ব্যপারটা কি ছিলো?"
জয়নাল এবার মুখ খুললো....
"আবিদের করা ব্যবহারের পর, মোমমা অনেকটাই ভেঙে পরেছিলো।আবিদকেও ভুলে যেতে চেষ্টা করলো।তবে নিজে পন করেছিলে,আর কখনোই কারোর মায়ায় আটকাবে না,,তেমন সময়টাও নেই।,,,,তবুও প্রতিদিন আবিদের করা ব্যবহার,ওর ব্যঙ্গ করে কথা বলা,এসব অনেক কষ্টে সহ্য করতো আমার মোমমা।, জিয়ান মোমকে পছন্দ করেছিলো,,কয়েকবার মোমমাকেও জানানোর চেষ্টা করেছে।তবে মোমমা পাত্তা দেয়নি এসবে।,,,এরপর জিয়ান আমার সাথে কথা বলে।,, তার বাড়াবাড়ি দেখে মোমমা নিজের সত্যিটা বলে জিয়ানকে।,,সব শুনেও জিয়ান রাজি ছিলো।তাই আমি মোমমাকে নিজের দিব্বি দিয়ে ঐ বিয়েতে রাজি করিয়েছি।,,,তবে শেষ মুহুর্তে এসে জিয়ান কেন এমনটা করলো,তা আমাদের কারোর জানা নেই।,,"
নভ শুনলো মনোযোগ দিয়ে।কিছুক্ষন নীরবতায় কাটলো।, এরপর নভ বললো..
"আন্টিকে ডাকো মোয়ান,"
আতিয়া আসলো।,,,নভ এবার সবার উদ্দেশ্যে বললো...
"ভেবেছিলাম কথাটা আরো পরে জানাবো।তবে সব শুনে মনে হলো আজই জানিয়ে রাখি আপনাদের।,,,,,,"
একটু থেমে নভ আতিয়ার দিকে তাকালো..
"আমি আপনার মেয়েকে ভালোবাসি আন্টি।,,আমি ওকে বিয়ে করতে চাই।"
কথাটায় যেন বাজ পড়লো সবার মাথায়,,,আতিয়া তরিঘরি করে কিছু বলতে যাবে তার আগেই নভ হাতের ইশারায় থামতে বলে বললো...
"উহুম,,,মতামত চাইনি।যাস্ট জানিয়ে রাখলাম আপনাদের।কারন এই মুহুর্তে ধুমধাম করে বিয়ে করাটা সম্ভব নয়।আর আপনারাও ভালো করে জানেন যে,মোম এতো সহজে রাজি হবে না বিয়েতে।তাই আমি আমার সময় বুঝে করে নেবো বিয়ে টা।,,,আর হ্যা আন্টি,,,এতো কান্না কাটি এবার বন্ধ করুন।মোম এখনো ঠিক আছে,,ইভেন থাকবেও।"
মোয়ান বললো..
"না স্যার,,,ডক্টর বললো,,আর মাত্র কয়েকটা মাস.."
"তা আমি মানি না।,,,আমি যথেষ্ঠ খারাপ একটা ছেলে।আল্লাহর প্রতি তেমন একটা মনোযোগ নেই,,,তবে বিশ্বাস আছে।সেই বিশ্বাস থেকেই বলছি,আমার মোমের জন্য কোনো না কোনো পথ ঠিকই আল্লাহ রেখে গিয়েছেন।,,আমাদের শুধু কষ্ট করে সেই পথটা খুজে দেখা বাকি।,,,,,,তাই এভাবে ভেঙে না পরে আমার মোমকে সুস্থ করে তুলতে আমাকে সাহায্য করুন।,,,"
সবাই কেন যেন একটু আলোর আশা খুজে পেলো,,আতিয়া উৎসুক হয়ে বললো..
"সত্যিই আমার মোম ভালো হয়ে যাবে?,,আল্লাহ ওকে সুস্থ করে তুলবে?"
নভ মৃদু হাসলো,,,সে নিজেও তো শিওর নয়,,তবে নিজেকে হার মানাবে না,আর এদেরও এখন ঠিক রাখতে হবে।তাই আস্তে করে বললো...
"ইনশাল্লাহ"
বলেই তাকালো জয়নাল আর মোয়ানের দিকে,,,,তা দেখে তারাও বললো..
"ইনশাল্লাহ।"
নভ বললো...
"মোমের এই পর্যন্ত সকল রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশন,, সব আমার চাই।,,,, আর মোয়ান,,,আগামীকাল শাহবাগের মেডিকেয়ার হসপিটালে আমার সাথে যাবে তুমি।দেশের নামকরা কয়েকজন নিউরোলজিস্টের সাথে মিটিং ফিক্সড করেছি আমি।মোমের ব্যপারে কথা হবে।তাই তোমার যাওয়া উচিৎ।,,,আর আমি এখন একটু মোমের ঘরে যেতে চাই।"
মোয়ান রাজি হলো,,,নভকে সাথে করে নিয়ে গেলো মোমের জন্য নির্ধারিত রুমে।দরজা খুলে ভেতরে পা রাখতেই কিছু একটা বলে উঠলো..
"ওয়েলকাম,ওয়েলকাম"
আর সামনাসামনি নভের চোখে পড়লো,,জ্বলজ্বল করে প্যাচানো হাতের কারুকাজ যুক্ত লেখা..
"মৌচাকের মধূময় রাজ্যে আপনাকে স্বাগতম।"