আঁধারের তারাবাজি

পর্ব - ২১

🟢

নিজের জন্য নির্ধারন করা রুমে এসে উপুর হয়ে বিছানায় পড়লো মোম।,,কান্নারা যেন বাধ ভেঙেছে তার।এতোক্ষণ নিজেকে সামলে রাখলেও এখন আর পারছে না।,,,,মাথা যন্ত্রনা করছে।তবে সেই দিকে আজ আর লক্ষ্য করলো না মোম।৷ কষ্ট হচ্ছে খুব,,,নভের জন্য। নিজের জন্যও।,,কাদতে কাদতেই অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠলো...

"আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি রোমিও,,,সত্যিই চাইনি।,,,ক্ কিন্তু, আমার যে ভাগ্যটাই সঙ্গহীন।সে আমাকে আপনার ভালোবাসাকে প্রত্যাখান করতে বাধ্য করেছে।,,,,,আমি পারবো না, জেনে শুনে আপনাকে কষ্ট দিতে।আমাকে হারানোর কষ্ট যে আপনি সহ্য করতে পারবেন না।,,,তাই,,,,আপনার মনে আমার প্রতি ঘৃণা প্রয়োজন।আমার যে কিছু করার নেই।,,,কিচ্ছু করার নেই,,"

আপন মনে অশ্রু বিসর্জন দিতে লাগলো।,,, হঠাৎ মনে হলো দরজা দিয়ে কেউ প্রবেশ করছে।,,,ভ্রু কুচকে এলো মোমের,,,নভ নয় তো?,,,তড়িৎ গতিতে চোখ মুছে উঠে বসলো মোম।,,,,নাহ,,নভ নয়।তবে এই লোকটা কে?,,আগে তো দেখেনি?,,,,জিজ্ঞেস করেই ফেললো...

"ক্ কে আপনি?,,,এভাবে না বলে রুমে কেন ঢুকছেন?"

হাসলো ছেলেটি,,,এসে দাড়ালো মোমের সামনে।,,,,দৃষ্টি ঘুরিয়ে বাজে ভাবে পরখ করে নিলো মোমকে।,,,,মোম একটু জড়োসড়ো হয়ে বসলো,,,আবার বললো..

"কি হলো?,,,,বলুন,কে আপনি??"

লোকটি ডান হাত এগিয়ে দিলো হাত মেলানোর জন্য...

"আমি লুসিয়ান,,,,,,এই বাড়ির সদস্যই ধরতে পারো,,,তুমিই সেই মোম তাই না?"

মোম ছোট্ট করে উত্তর দিলো...

"হুম"

হাসলো লুসিয়ান,মোমকে দেখতে দেখতে বললো...

"সত্যিই খুব সুন্দর তুমি,,,,যতটা শুনলাম,, তার থেকেও বেশি সুন্দর। "

মোমের কথার ধরন একটুও পছন্দ হলো না।একটু রাগ দেখিয়ে বললো..

"আপনি যেই হন না কেন,,,,এভাবে নক না করে একটা মেয়ের রুমে ঢোকা উচিৎ না,,,সেটা জানেন না আপনি?,"

"তুমি কাঁদছিলে?? "

"সরি,,আপনাকে বলার প্রয়োজনবোধ করছি না।,,,এখন এখান থেকে যান প্লিজ।"..

লুসিয়ান বাকা হাসলো...

" যাবো তো।,,,যাবো।,,,,আগে একটু কথা বলে নিই?"

মোম রাগে ফুসছে...

"কোনো কথা নয়,,,আপনি প্লিজ যান,,এখান থেকে।"

এই বলেই মোম উচু স্বরে রুবিকে ডাকতে লাগলো...

"কাকিয়া,,,কাকিয়া?"

লুসিয়ান আর কথা বাড়ালো না।আরো একবার নিজের বাজে দৃষ্টি মোমের উপর নিক্ষেপ করে হেলতে দুলতে চলে গেলো।,,,,,,

মোমের মষ্তিস্ক বলছে দরজাটা লক করা লাগবে।তবে তা আর পারলো না। সমস্ত শরীরের ভর ছেড়ে দিলো। বসা থেকেই এক পেশে হয়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়লো।চোখ দুটোও বুজে এলো।,,,,

""""" রাত ১০:২৩,,,,""""

এক পা দু পা করে দরজাটা ঠেলে রুমে ঢুকলো নভ।,,মোমের নির্জীব দেহটা পরে আছে বিছানায়,,,রুবিও আছে।বারবার মোমকে ঠেলছে উঠার জন্য। তবে মোমের কোনো হেলদোল নেই।

"ওকে ডেকো না কাকিয়া।"

রুবি পেছন ফিরে তাকালো নভের দিকে

"সময় হলে ও নিজেই উঠবে।,,,থাক"

এগিয়ে এলো নভ।মোমের পাশে বসলো।আলতো করে মোমের কপালে পড়া চুলগুলো সরিয়ে কপালে একটা চুমু খেলো।

রুবি অবাক নয়নে তাকিয়ে রইলো নভের দিকে।।যা নভ খুব সহজেই বুঝলো...

'"কাকিয়া?"

"হ্যা নভ বাবা?"

"আমি না?,,এই পরিটাকে ভালোবেসে ফেলেছি। ভীষন,,। "

রুবি আলতো হাসলো..

"ও জানে?"

"একটু আগেই জানিয়েছি।,,,তবে আমার মোম,চায়না আমাদের এই সম্পর্কটা।,,"

মুখটা বেজার হয়ে গেলো রুবির।,,

"মানে?"

"জানো তো কাকিয়া,,,আমার মোম না?লাস্ট এক বছর ধরে নিজের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। খুব কষ্টকর সেই যুদ্ধ। "

"কি বলছিস এসব?"

নভ নড়েচড়ে বসলো।

"কিছু না,,,,তুমি পারলে ওর খাবারটা এখানে দিয়ে যেও।উঠলে পরে খেয়ে নিবে।,, নোভাকে বলো আজ ওর সাথে এই ঘরেই থাকতে।ও উঠলে যেন ওকে খাইয়ে দিয়ে মেডিসিন খাইয়ে দেয়।"

"আচ্ছা,, বলবো নোভাকে।"

"এখন তুমি যাও কাকিয়া।,,নিচে সবাই তোমার জন্য ওয়েট করছে।"

রুবি আর কথা বাড়ালো না।চলে গেলো।,নভ বেশ অনেকক্ষন ছিলো মোমের কাছে।নোভা আসতেই চলে গেলো।

()()()()()()

পরদিন সকাল ৮ টা।ব্রেকফাস্ট টেবিলে বাড়ির প্রায় সবাই উপস্থিত নভ ছাড়া।মোমের খুব খারাপ লাগছে।কারন প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠার একটু পরই নভ যায় তার রুমে। গুড মর্নিং উইশ করে।তারপর দুজন একসাথে নিচে আসে ব্রেকফাস্ট করতে।,৷ কিন্তু আজ তা হয়নি।,,,সকাল থেকে নভকে একবারও দেখেনি মোম।,,,মনটা ঠিকই বুঝলো এমনটা হওয়ারই কথা। কাল রাতে যা হয়েছে,৷

ফর্মাল গেট আপে রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো নভ।আড়চোখে একবার মোমের দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হলেই দুজনের। সাথে সাথেই চোখ ফিরিয়ে নিলো নভ।,,,রুবি ডাকলো নভকে...

"বস নভ বাবা।আমি তোর ব্রেকফাস্ট দিচ্ছি। '

সাথে সাথেই নভের দিক থেকে উত্তর এলো...

" আমি এখন খাবো না কাকিয়া।বের হচ্ছি।"

রুবি তাড়া দিয়ে বললো....

"ওমা সেকি,,,,একটু কিছু খেয়ে যা।"

"নো,,,তাড়া আছে আমার।"

অবন বললো...

"আগে তো এতো তাড়াতাড়ি অফিস যেতি না নভ।তাহলে আজ?..."

নভ তাকালো মোমের দিকে। শক্ত কন্ঠে বললো...

"আগে যেন ছিলাম, সবসময় যে তেমনই থাকতে হবে এরতো কোনো মানে নেই আব্বু।"

পলি খেতে খেতে বলে উঠলো....

"কাজকে প্রায়োরিটি দিতে গিয়ে শরীর খারাপ করিস না নভ।"

নভ শক্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো পলির দিকে...

"নিজের শরীর খারাপ করছি।,,,তোমার মতো তো সন্তানের প্রতি দায়ীত্ব ভুলে যাচ্ছি না।"

আর কিছু বলার সাহস পেলো না পলি।উপস্থিত সবাই -ই বুঝলো।কোনো না কোনো কারনে নভের মেজাজ বিগড়ে আছে।, এদিকে মোম মাথা নিচু করে বসে আছে,,,আর একটু হলেই চোখের পানি টপ করে ঝরে পরবে।,,

নভ সরাসরি রুবির দিকে তাকিয়ে বললো...

"আমি এবার থেকে রিসোর্টেই থাকবো কাকিয়া।,,"

ভ্রু কুচকে এলো রুবির...

"সেকি,,,আবার?,,মোমকেও নিয়ে যাবি?"

নভ তাকালো আবার মোমের দিকে। মোম উৎসুক দৃষ্টিতে তাকালো নভের দিকে।,,,তবে তার মনকে নিরাশ করে নভ বললো..

"আমি একাই যাচ্ছি।,, "

কথাটায় মোম যতটা না কষ্ট পেয়েছে,,,তার থেকে দ্বিগুন খুশি হয়েছে উপস্থিত লুসিয়ান।,,,এ যেন মেঘ না চাইতেই জল।,,,সে তো কাল রাত থেকে এটাই চিন্তা করছিলো,,মোমের থেকে কোনো ভাবে নভকে দুরে রাখতে হবে,,,তাহলেই তার কাজটা সহজ হয়ে যাবে।,,,বাকা হাসলো লুসিয়ান।,,

নভ দাড়ালো না,,,ত্যাগ করলো বাড়ি।,,,সে যাওয়ার পরপরই মোম উঠে দাড়িয়ে দৌড়ে উপরে চলে গেলো।পেছন থেকে রুবি,ইশু, নোভা,লিজা, সাথে অবনরাও অনেকবার ডাকলো৷, তবে কোনো লাভ হলো না।,,,

()()()()

দুপুর প্রায় দুটো,,,একটু আগেই খাওয়ার জন্য ডেকে গেলো রুবি।,,নোভা উঠে যেতেই হঠাৎ পেছন থেকে তার ফোনটা বেজে উঠলো,,, নোভা এগিয়ে গেলো ফোনের কাছে।নভ ফোন করেছে,,,দ্রুত রিসিভ করলো ফোনটি।

"হ্যালো ভাইয়া?"

"হুম,,, কি করছিস?"

"এই তো ভাইয়া,,,লাঞ্চের জন্য যাচ্ছিলাম মাত্র। "

"মোম কোথায়?"

"রুমেই আছে।,,,তুই যাওয়ার পর যে ঢুকলো, আর বের হয়নি।,,আমরা একটু আগে গিয়েছিলাম।কথাও বলেছি অনেক, তবে তার মুড অফ।,,,তোদের মধ্যে কি হয়েছে বলতো?,,"

নভ একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো,,, আস্তে করে বললো...

"তেমন কিছু নাহ।,,,,,"

নোভা যেন এই উত্তরটা একদমই আশা করেনি।,,

"শোন,,,আমার মোমের খেয়াল রাখবি।,,,,ও মেডিসিন নিতে চায় না।।,,,তাই প্রেসক্রিপশন ওয়াইজ তিন বেলায় ওকে জোর করে মেডিসিন দিবি।টেনশন ফ্রী রাখার চেষ্টা করবি।,,,,আর হ্যা,,,ওর ডোর অফ করার অভ্যাস নেই।,,তাই প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ওকে চেক করবি।দরজা লাগিয়ে ঘুমাতে বলবি,, ওকেয়?,,,আর প্রত্যেক ঘন্টায় ওর খবর দিবি আমায়।বুঝেছিস?"

নোভার কন্ঠ একটু খাদে নামলো...

"ভাইয়া,,,,তুই সত্যিই ওকে ছেড়ে থাকবি?,,পারবি তো তুই?"

গলা শুকিয়ে গেলো নভের।সত্যিই সে এক মুহুর্ত ও থাকতে পারবে না তার মোমকে না দেখে।এই যে এখন?,,বারবার মোমের সকালের মলিন মুখটা ভেসে উঠছে চোখের সামনে।ইচ্ছে করছে এক্ষুনি গিয়ে ঝাপটে ধরে মোমকে,,,সব মলিনতা সরিয়ে হাসি ফুটিয়ে তুলুক ঐ মায়াভরা পরী চেহারায়,,,ঐ মুখটাতে তো তাই-ই মানায়।,,,,কিন্তু তা করবে না নভ,,তাহলে যে মোমের উপলব্ধি হবে না নভের ভালোবাসার প্রগাঢ়তা।

কথা বারালো না নভ,,,,

"যা বলেছি,,তা করিস।আমার অবর্তমানে আমার জুলিয়েটের দায়িত্ব তোর কাছে।,,,তুই ম্যাচিউরড,,তাই আশা করছি যা বলছি তা খুব ভালো করেই করবি। দেখে রাখবি আমার মোমকে।ওর জ্বলন্ত অগ্নিশিখা যেন নিভে না যায়।তা হলে যে আমার আঁধার জীবনে আর তারাবাজি জ্বলবে না। রাখছি"

কেটে গেলো ফোনটা।,,,নোভাও একটা লম্বা শ্বাস ফেললো। এতটুকু তো বুঝতেই পারছে এদের মধ্যে কিছু একটা হয়েছে তবে কি?,,,,,ফ্রী হলে ইশুর সাথে একবার কথা বলতে হবে।,,,,হয়তো তেজ ভাইয়া কিছু জানবে।,,,,আফটারঅল বেস্টফ্রেন্ড কিনা?,,.

ভাবতে ভাবতেই নোভা এগিয়ে গেলো মোমের রুমে,,,উদ্দেশ্য একসাথে নিচে নামবে লাঞ্চ করার জন্য।,,, দরজার সামনে আসতেই থেমে গেলো নোভা।কারন ভেতরে লুসিয়ানও আছে।,,,নোভা একটু বোঝার চেষ্টা করলো কি হচ্ছে।,,, মোম এককোনে দাড়িয়ে। লুসিয়ান আয়েশি ভঙ্গিতে খাটে বসে।,,,কানে ভেসে এলো লুসিয়ান আর মোমের কথোপকথন...

"তুমি এতো ভয় পাচ্ছো কেন?,,আমিই তো...একই বাড়িতে থাকছি৷ ফ্রেন্ডই তো আমরা।প্লিজ মোম,, তুমি আমার সাথে ফ্রী হও।"

মোম কর্কশ কন্ঠে উত্তর দিলো...

"দেখুন,,,,আমি বারবার বলছি এখন এখান থেকে যেতে,,এই মুহুর্তে আমার কথা বলতে ইচ্ছে করছে না,,প্লিজ যান,,"

হাসলো লুসিয়ান। উঠে দাড়িয়ে মোমের দিকে এক পা এক পা করে এগোতে এগোতে বলল...

"তুমি আমায় জান ডাকলে?"

বিরক্তিতে মুখ কুচকালো মোম,,,

"বাজে কথা বলবেন না একদম,,,আমি কিন্তু নভকে ডাকবো।আর এগোচ্ছেন কেন আপনি?,,যান এখান থেকে"

লুসিয়ান মুখ দিয়ে চ চ চ উচ্চারণ করলো,,তারপর ভান করে বললো..

"নভকে ডাকবে?,,ওওউ, আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম।,,,,কিন্তু,,,,কোথায় তোমার নভ?সে কি আছে এখানে?"

মোম ভয় পাচ্ছে,,,,, অবস্থা বেগাতিক দেখে নোভা হুড়মুড়িয়ে রুমে ঢুকলো।,,, মুখে মিথ্যা হাসি ঝুলিয়ে বললো...

"আরেহ,,লুসিয়ান ভাইয়া যে।তুমি খেতে গেলে না??এখানে কেন?"

এরপর মোমের দিকে তাকিয়ে বললো..

"ওওও,,কিউটিপাই এর সাথে গল্প করছিলে বুঝি??বেশ বেশ।,, তোওও,,এখন যাও,,,নিচে?কাকিয়া সবাইকে ডাকছে তো,,ল্ লাঞ্চ করতে?হ্যা?"

লুসিয়ান সরে এলো,,,,বাকা হেসে আড়চোখে মোমের দিকে তাকিয়ে বললো...

"তাই-ই।,,,তোদের কিউটিপাই এর সাথে গল্পই করতে এসেছিলাম।,,,,বাট হলো না৷ তুই ভুল টাইমে এন্ট্রি নিলি,,,,কি আর করার,,, হাহ"

এবার মোমের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বললো..

"তো মোম?,,,,বাকি গল্পটা না হশ পরেই করা যাবে হ্যা?কি বলো?,,, তখন আর কলউ ডিসট্রাভ করবে না।,,,,হুম।গেলাম তাহলে,,,"

এরপর বের হতে হতে বললো..

"নোভা,,,গেলাম।তোরাও আয় তারাতাড়ি। "

পাশ কাটিয়ে চলে যেতেই নোভা তাকালো মোমের দিকে।,,,, মোম দ্রুত এসে ঝাপটে ধরলো নোভাকে।নিঃশ্বাস দ্রুত উঠানামা করছে মোমের।,,নোভা বেশ বুঝতে পারছে,,ভয় পেয়েছে মেয়েটা।নোভাও আলতো হাত রাখলো মোমের পিঠে...

"কিচ্ছু হয়নি কিউটিপাই,,,, কিচ্ছু হয়নি,, সব ঠিক আছে।"

"লোকটাকে আমার একটুও ভালো লাগেনি আপু,,,কেমন করে যেন তাকায়,,আর একটু আগে,,,ক্ কেমন করে এগোচ্ছিলো,,,"

নোভা মোমকে শান্ত করার চেষ্টা করলো..

"আমি দেখেছি কিউটিপাই,,,আর এমন হবে না,,,রিলাক্স,,,, "

একটু পর মোম ছাড়লো নোভাকে,,,, নোভা মুচকি হাসলো..

"এবার চল,,,লাঞ্চ করে নিবি আয়,,"

"ভ্ ভয় করছে..."

"ধুর পাগলি,,,ওখানে সবাই আছে,,, কিচ্ছু হবে না।আয় তো"

নোভা টেনে মোমকে নিয়ে গেলো ডায়নিংয়ে। নিজের পাশে বসালো,,,,লুসিয়ানের চোখে চোখ পড়তেই ক্যাবলা মার্কা হাসি দিলো,,,আর মনে মনে বললো..'''''ব্যপারটা ভাইয়াকে জানাতেই হবে৷,, তোমার ব্যবস্থা সেই করবে।""""

((()))

রাত ১ টা ৩৩ মিনিট,,,

মেইন ডোরের বেল বাজার শব্দ পেয়ে ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুললো রমা চাচা।,,,নভ দাড়িয়ে আছে,, দরজা খুলতেই ভেতরে প্রবেশ করলো৷, চুলগুলো এলোমেলো,,,কালো রঙের শার্টটাও কুচকানো,, বুকের দিকের দুটো বোতাম খোলা।চোখ দুটো টকটকে লাল হয়ে আছে।রমা চাচা অবাক হয়ে বললো..

"সাহেব,, আফনের এই অবস্থা কেনে?"

নভ এক বিষাদময় হাসি দিয়ে বললো..

"সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে চাচা?"

"হ সাহেভ,,,হক্কলে ঘুমায়,,,বহুত রাইত হইছে কিনা,,"

"তুমিও যাও,, ঘুমিয়ে পড়ো গিয়ে।"

"আপনি খাইবেন না সাহেব?,,,আমি খাবার বাড়তাছি,'

" আমি খেয়ে এসেছি,, তুমি যাও।ঘুমাও"

রমা চাচা আর কথা বাড়ায় না।দরজা লাগিয়ে চলে যায়।নভও সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে দাড়ালো মোমের রুমের সামনে।দরজাটা একটু ঠেলে দেখলো বন্ধ করেছে কিনা,,,হ্যা,,ভেতর থেকে বন্ধ।,,, পকেট থেকে ডুপ্লিকেট চাবিটা বের করে আস্তে করে দরজা খুললো নভ,,,চাবিটা আবার পকেটে ঢোকানোর সময় মনে হলো কেউ একজন তাকে পার করে গেছে,,ছায়া দেখেছে সে।,,,,ভ্রু কুচকে এলো নভের।এতো রাতে কে জেগে আছে এখনো?,,,

একপা ঘুরলো নভ,,,আবার থেমেও গেলো,,,এটা পরে দেখা যাবে।আগে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা লাল রঙা হৃদপিণ্ডটাকে শীতল করতে হবে।,,,

রুমে ঢুকে ভেতর থেকে লক করলো দরজা।,,,,,ড্রীম লাইটের নীলছে আলোয় বিছানায় লুটিয়ে থাকা মোমের এলোমেলো অবয়ব সুস্পষ্ট হলো।,,,,এগিয়ে গেলো নভ।,,,মোমের মাথাটা বিছানার প্রায় একটা কিনারায় এসে ঠেকেছে।,,,একটা হাত বিছানা ছাড়িয়ে বাইরে ঝুলছে।

নভ মোমের মাথার কাছে ফ্লোরে বসলো হাটু ভাজ করে,,,।ফ্লোরে লুটোপুটি খাওয়া মোমের অবাধ্য চুলগুলোকে আলতো মুঠোবন্দি করলো,,,,কোনোরকম পেচিয়ে হালকা একটা খোপা করলো,,,,এরপর বাইরে ঝুলতে থাকা হাতটা নিজের দু হাতের মুঠোয় পুড়ে নিলো,,,উলটো পিঠে চুমু খেলো একটা,,,,

,,,,এই তো,,,আর হৃদপিণ্ডে অগ্নি দহন হচ্ছে না,।কেমন যেন শীত শীত আভাস পাচ্ছে। শীতল হচ্ছে ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ডটা।,,,

"আমার হৃদয় পোড়ানোর অসীম ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছো তুমি মোম,,,"

আঁধারের তারাবাজি পর্ব ২১ গল্পের ছবি