আঁধারের তারাবাজি

পর্ব - ২৬

🟢

আবছা আলোয় দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে থাকা এক নারী অবয়বের দেখা মিলছে।,,সারারুম জুড়ে শুধু মোমবাতির আলো,,,বিছানার দিকে তাকাতেই বুকটা হু হু করে উঠলো মোমের,,,এই বিছানাতেই একটু পরে তার বলিদান হবে বুঝি??,,তাকিয়ে থাকতে পারলো না ঐ ফুল দিয়ে সজ্জিত বিছানার দিকে।,,চোখ সরিয়ে ফেললো।,,

মাথাটা যন্ত্রনায় ফেটে যাচ্ছে। চোখ দুটোও বারবার বন্ধ হয়ে আসছে।তবে বেশ জোর করেই নিজেকে কোনোরকম সামলাচ্ছে মোম।,,

সেই যে সন্ধ্যার পর এই রুমে দিয়ে গেলো মোমকে,এরপর আর কেউ আসেনি।,মোমও সেই থেকেই নীরবে বসে নিজের অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে।।

নিজের পরিবারের কথা খুব মনে পড়ছে আজ।,,,ভাইয়া জানলে ঠিক আমাকে বাচাতে আসতো,,,ভাইয়া,তুমি কোথায়? তোমাট বোনি তো আর সইতে পারছে নাহ।মুক্ত করো না এই নরকের থেকে তোমার বোনিকে।,,,,

দরজা খোলার আওয়াজে স্তম্ভিত ফিরলো মোমের।,আবছা একটা পুরুষ অবয়বের দেখা মিললো,,,মোম যানে এই লোকটা আর কেউ নয়,বরং ঐ লম্পট লুসিয়ান।,,

সমস্ত শক্তি ক্ষয়ে গেছে।নিজেকে আজ আর বাচানোর ইচ্ছে নেই।আগামীকাল ভোর যে আর দেখা হবে না তার,এটা মোম প্রায় নিশ্চিত।,,

পুরুষটি ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো তার কাছে।মুখমন্ডল অস্পষ্ট, যতটুকু বোঝা যায়,তাও দেখতে নারাজ মোম।,মুখ ফিরিয়ে নিলো,,

"আ্ আপনি আমাকে জোর করা লাগবে নাহ,,,আমি ন্ নিজেই আসছি।"

বলতে বলতেই দেওয়াল হাতড়িয়ে উঠে দাড়ালো মোম।,,,মাথাটা ছিড়ে যাচ্ছে যেন,,তবুও নিজের যন্ত্রণা বোঝানোর থেকে বিরত থাকছে।শরীর ঢুলছে খুব,,তবুও হেলতে দুলতে এগিয়ে গেলো খাটের দিকে,,সেখানে গিয়েই উপুর হয়ে পড়লো বালিশে।

লোকটি নির্বাক তাকিয়ে রইলো মোমের দিকে।,,,ঐ ভাবেই মিনিট দুয়েক কাটলো।মোমের দিক থেকে কোনো শব্দ উচ্চারিত হলো না,,,

হাসলো লোকটি,,,নীরব হাসি,,।এগিয়ে এলো বিছানার দিকে।মোমের মাথাটা ডান দিকে তাক করা,,লোকটি একটু ঝুঁকে মোমকে পর্যবেক্ষণ করে নিলো।,,সোজা হয়ে দাড়াতেই মোমের কাঠিন্যতায় ভরা ভাঙা কন্ঠ ভেসে এলো...

"জেগে আছি আমি,,ঘুমাই নি।,,আপনি কেন দাড়িয়ে আছেন?আসুন??বাসর না আজ??সেরে ফেলুন বাসর,,,আমি তো রাজিই আছি।"

কথাটা যেন মানলো লোকটি,,,সাথে সাথেই খাটের অপর পাশ দিয়ে উঠে বসলো।,,দু পলক মোমের মায়া ভরা মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে তারপর তার দিকে কাত হয়ে শুয়ে পড়লো।,,,এক হাত বাড়িয়ে রূঢ় কন্ঠে উচ্চারণ করলো..

"কাম মৌচাক"

মোম মানলো,,,একটু এগিয়ে এলো লোকটির কাছে,,,এ যেন নির্বাক প্রাণী,, আজ আর নিজেকে বাচানোর প্রচেষ্টা চালালো নাহ,

লোকটিও মোমকে টেনে নিলো নিজের বাহুডোরে।শক্ত করে বুকে চেপে ধরলো তাকে।,,,শত জনমের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে যেন,,,,বেশ কিছুক্ষণ ওভাবেই কাটলো,,তারপর লোকটি তার বাম হাত উচিয়ে মোমের চুল গুলো আলতো টেনে দিতে লাগলো,,,

বেশ আরাম অনুভব করলো মোম,,,যন্ত্রণা যুক্ত মাথায় এটা যেন মহৌষধি।,,,

ভ্রু কুচকে এলো মোমের।,, এমন টা তো হওয়ার কথা নাহ??তাহলে??লোকটি তার মাথায় হাত বোলাচ্ছে কেন??

"মাথা ব্যাথা করছে,ইশু বা নোভা কে তো ডাকতেই পারতে?,,আমায় না হয় ডাকলে না,ওরা কি দোষ করেছে?"

কোমল কন্ঠের উৎস খুজতে তড়িৎ গতিতে চোখ খুললো মোম,,,কে লোকটা???লুসিয়ান তো নয়??

একটু উচু হলো মোম,,,তবুও স্পষ্ট হলো না লোকটির মুখ,,,বিরক্ত হয়ে মোম লোকটির বাম কাধ হালকা ধাক্কা দিয়ে তাকে সোজা করলো,,এইবার স্পষ্ট হলো লোকটির মুখ,,,, কিহ!!!নভ??এটা নভ???মোম কি মাথার যন্ত্রণায় ভুলভাল দেখছে???

শ্বাস ঘন হচ্ছে মোমের।আনমনেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো, চোখেও অশ্রুর ঝিলিক দেখা দিলো,,,বেসামাল হয়ে বলে উঠলো...

"স্ সত্যিই আপনি???র্ রোমিও??আ্ আমি কি ভুল দেখছি??"

হাসির রেখা দেখা দিলো নভের মুখেও,,,কিউটসি কন্ঠে বললো..

"না গো আমার জুলিয়েট,,,এটা তোমারই রোমিও,,অন্য কেউ নাহ,,"

বলতে বলতেই মোমকে বুকে চেপে ধরলো,,, অশ্রুর বাধ ভাঙলো যেন মোমের।শরীর কাপিয়ে কেদে উঠলো,,, অপ্রত্যাশিত কিছু কি সত্যিই পেয়ে গেলো মোম??,,,

নভ ব্যস্ত হলো মোমকে থামাতে,,,মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো..

"ওউহ মোম,,,এখন প্লিজ কান্না করে নাহ,,এমনিতেই তোমার মাইগ্রেনে ব্যথা হচ্ছে। কাদলে আরো বাড়বে যে।,, প্লিজ কান্না থামাও,,"

মোম যেন কিছুই শুনলো নাহ,,,নিজের মতোই কাদতে লাগলো...

"মোম,,আমি এবার কিন্তু চলেই যাবো,,লুসিয়ান কে পাঠাবো,,, দেখি সরো,,আমি যাই।"

মোম ভয় পেলো,,শক্ত করে চেপে ধরলো নভকে।মাথা নাড়িয়ে বুঝিয়ে দিলো যে সে নভকে যেতে দিবে নাহ,,

"তাহলে কান্না থামাও?? প্লিজ,,, "

কিছুটা থামলো মোম,,,কান্না থামলেও হিচকি থামলো নাহ,,,ওভাবেই জড়িয়ে রাখলো নভকে।,,নভের বুকে মাথা গুজা অবস্থায়ই বললো..

"এমন কেন করলেন আপনি???আমায় মেরে ফেলতে চান??"

"হুশশশ,,,এটা বলে নাহ মোম,,,আমার অন্তরে লাগে।"

"কেন করলেন এমনটা??"

হাসলো নভ,,,

"তোমার শাস্তি ছিলো এটা,,,"

"কি দোষ করেছি আমি??"

নভ একটু জোর দিয়ে বললো...

"কিছু করোনি.??সত্যিই কোনো দোষ করোনি??,,,,তুমি এই অবয়ব রায়ানিশের প্রপোজাল রিজেক্ট করেছো,,মনে নেই???"

মোম ভ্রু কুচকে মাথা তুলে তাকালো নভের মুখের দিকে...

"এই টুকুর জন্য??"

নভ ধমক দিলো..

"এই টুকু??তোমার কাছে এই টুকু??,,শোও,লজ্জা করে না আবার মাথা তুলে তাকাতে??"

ধমকের ধরণ দেখে কান্নার মাঝেও ফিক করে হেসে ফেললো মোম,,,মোম মাথাটা রাখলো নভের বুকে,,নভও আবেশে আগলে ধরলো মোমকে।আর এক হাত দিয়ে অনবরত মাথার চুলে বিলি কাটতে লাগলো,,

"তুমি ভাবলে কি করে? আমি এতো সহজে আমার জুলিয়েটকে অন্যের হাতে তুলে দেবো??,,আমার মনের মোমের আলোয় আমি ছাড়া অন্যকেউ আলোকিত হবে বুঝি??"

মোম শুনলো নভের মোহময় কথা গুলো।তবে উত্তর দিলো না।,,নভ শীতল কন্ঠে বলতে লাগলো...

"আমার ভালোবাসা মিথ্যা নয় মোম,,যে রাগ করে প্রতিশোধ নিয়ে অন্যের হাতে তুলে দেবো।,আমি জানি তুমি কেন আমায় রিজেক্ট করেছো,,সবটা জানি।সেই আগে থেকেই।,,তবে খুব পোড়ায় জানো তো??যেদিন তুমি আমায় রিজেক্ট করেছো,সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম,তোমায় আমার ভালোবাসার গভীরতা বোঝাবো,দুরে গিয়ে,ইগ্নোর করে।চেয়েছিলাম বোঝাতে, যে তোমার অসুস্থতা আমাদের ভালোবাসায় কখনোই বাধা হয়ে দাড়াতে পারে নাহ।,,"

মোমের হৃদয়ে এক অজানা ভয় হানা দিতে দিলো,,

"আপনি জানেন?আমি যে আর বেশি দিন বাচ..."

সাথে সাথেই নভ মোমের মুখ চেপে ধরলো..

"চুপ ফাজিল মেয়ে,,,এই কথা আর মুখেও আনবে না তুমি,,,তুমি বাচবে, সাধারন মানুষদের মতোই তোমার আয়ু ও আরো দীর্ঘ হবে।,, কিচ্ছু হবে না তোমার।"

মলিন হাসলো মোম...

"বললেই কি সব সত্যি হয়ে যায়??"

"জানি না মোম,,আমি এই কথাটার উত্তর সত্যিই দিতে পারবো নাহ।তবে আমার শেষটা অবদি চেষ্টা করবো।এটুকুই জেনে রাখো তুমি।,"

বেশ কিছুক্ষণ নীরবতায় কাটলো,,হঠাৎ মোমের মনে পড়লো,তার বিয়ে তো লুসিয়ানের সাথে হয়েছে..সাথে সাথেই প্রশ্ন করলো নভকে..

"আমার বিয়ে তো ঐ লোকটার সাথে হয়েছে??"

হাসলো নভ..

"পাগলি,,আমি বুঝি তোমাকে অন্যের বউ হতে দিবো??তোমাকে নিয়ে যাওয়ার আগে আমি সবার সামনে তিন কবুল বলে তোমায় স্ত্রীর অধিকার দিয়েছি।,,"

"তাহলে যে বললেন?যার সাথে রাত কাটাই,তার সাথেই বিয়ে দিবেন??"

"ভুল বললাম নাকি??"

"তা নয় তো কি??"

"কেন তুমি জানো না??আমি যে প্রতি রাতেই তোমার কাছে থাকি??"

বেশ অবাক হলো মোম..

"মানে??"

"হুম??"

"কখন,,,কিভাবে??কবে থেকে???আল্লাহ,,আমি জানিই না??"

"কত গুলো প্রশ্ন... বাট, আমি এখন একটারও উত্তর দেবো নাহ,,,এবার তুমি কবুল বলে আমায় মন থেকে গ্রহন করো তো জুলিয়েট?"

"তখন বললাম না??"

"বলেছো,,মন থেকে নয়,,জোর করে,তাও আবার ঐ বাস্টার্ডকে স্মরণ করে,,,, তা হয়নি,,এইবার বলো,,,কুইক।,,"

হেসে দিলো মোম,, নভের দিকে মায়া ভরা চোখে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো...

"কবুল,,,কবুল,,,কবুল,,,আমি তিন কবুল বলে আমার এই রোমিও টাকে গ্রহন করলাম।"

"আমি হাজারো মেয়ের রোমিও হতে পারি,,বাট আমার জুলিয়েট একটাই,,,মিসেস মৌচাক এহসান রায়ানিশ,,"

দুজনই এক প্রকার মায়াময় বন্ধনে আবদ্ধ হলো যেন,,,বেশ কিছুক্ষণ কাটলো ওভাবেই,,,মোমেরও চোখে ঘুমঘুম ভাব জমলো,,,নভ বললো..

"আজ আমার সংস্পর্শে তোমার অস্বস্তি লাগছে না??"

মোম ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো..

"আজ শুধু প্রশান্তি অনুভূত হচ্ছে।,, আমরা যে এক হালাল বন্ধনে আবদ্ধ। "

ব্যাস,,,এই কথাতেই যেন অন্তর জুড়িয়ে গেলো নভের।আর কিছু বললো না,,মন থেকে কবুল করলো তার স্ত্রীকে,,আল্লাহর কাছে দোয়া চাইলো তার স্ত্রীর জন্য।

()()()()

সকালবেলায় ঘুম ভাঙতেই নভ আবিষ্কার করলো মোম রুমে নেই,,,বিছানা ছেড়ে উঠে বাইরের করিডোরে আসতেই দেখলো মোম ড্রয়িংরুমেই আছে।সাথে ইশু,নোভা,আখিও আছে।তিনজন মিলে মোমকে পচাচ্ছে কালকের ঘটনা নিয়ে।,আর মোমও খনে খনে লজ্জা পাচ্ছে।,,,

হাসলো নভ,, মাথা চুলকে রুমে ঢুকলো ফ্রেশ হতে।,,,ফ্রেশ হয়ে ব্ল্যাক কালার টাউজার আর হোয়াইট কালারের টি শার্ট পড়ে নিচে নেমে এলো,,,ড্রয়িং এ এখন ইশু,নোভা,লিজা,নিশান,তেজ উপস্থিত। সাথে অবন আর জহিরও আছে।সবার মাঝেই একপ্রকার আমেজ বিদ্যমান।,,,নভকে দেখেই অবন হেসে বললো...

"গুড মর্নিং মাই সান,,"

নভও স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দিলো..

"গুড মর্নিং"

তেজ এক চোখ মেরে বললো..

"কি ধুস্ত??আইজ্জা লাগেজন এক্কানা বেশিই ঘুম গেছস??এতো দেরি তো ওয় না তোর??"

নভ চোখ পাকালো,,,তবে তাতে খুব একটা কাজ হলো বলে মনে হলো নাহ,, তেজ আবারো বলে উঠলো..

"আবে শালা,সরম হাচের কা???কইহালা,বাসর কেইন্না কইরলি??"

নভ এবার বেশ তেড়েই এলো তেজের দিকে..

"চুপ যা শয়তান,,,পরিবেশ বুঝিস নাহ??"

তেজ তাকালো অবন আর জহিরের দিকে,,,ক্যাবলার মতো করে বললো..

"এম্মা?আআর হোউর গো কথা নি কওছের??,,,এরে হাগল??হেতারা কি জানে না নি???হেতারা তো আঙ্গোতাই ও ওভার এক্টিভ,,নাইলে তুই কোত্তাই আইলি??আআর বউ কোত্তাই আইলো??আর আআআর হালা হালিরাই বা কোত্তাই আইলো??"

তেজের লাগাম ছাড়া কথা শুনে অবনের কাশি উঠে গেলো,,,,

কি বিচ্ছিরি এ পরিবেশ সৃষ্টি করে দিলো তেজ,,তাকে থামাতে পাশ থেকে ইশু ঠাসস করে তেজের পিঠে কিল বসিয়ে দিলো,,,

"কু***,,,, তোর মুখে লাগাম নাই কেলা??কথা এরাম কেলা তোর???থুহ"

বলতে বলতেই ইশু এক দলা থুথু মেরে দিলো তেজের হাতায়,,,তেজ লাফিয়ে উঠে গিয়ে দাড়ালো জহিরের পিছনে..

"ওও শশুর আব্বা গো??দেহেন ছাই,,আন্নের এই মাইয়া ইগা কিওরের??জামাইরে কেউ ছেপ মারে নি??কনছাই??"

জহির সবে মাত্র ইশুকে একটু শাসন করতে যাবে,,,কিন্তু তার আগেই থেমে গেলো তেজের আরেকটা বোম মার্কা কথা শুনে..

"ইচ ইচ ইচ গো শশুর আব্বা,,,,আন্নে কেন্নে কিচ্ছেন???এক্কানা সাবধানে কাজ চালাইতেন হারেন ন??তাইলে তো আর এইচ্ছা খেচ্ছর মাইয়া ইগা জম্মাইতো নাহ,,,আআর কোয়ালেও এইগ্গা ভালা মাইয়া জুইটতো।"

এই কথা শুনেই জহির চোখ বড়বড় করে তাকালো তেজের দিকে,,,তেতে উঠে বললো..

"কি বললি তুই??,,আমার মেয়ে খচ্ছর??তুই বিয়ে করবি না ওকে??,,,শয়তান, তুই কি বিয়ে করবি আমার মেয়েকে??আমি নিজেই আমার মেয়ে দেবো না তোর মতো উগান্ডার প্রানীর হাতে,,,,এই ইশু মা??এই শয়তানটাকে তালাক দে তো,,এক্ষুনি তালাক দে"

ইশু পড়লো মহা ফ্যাসাদে,,এই অবস্থায় হাসবে নাকি কাদবে বুঝতেও পারছে না,,মুখ গোমড়া করে বললো..

"আব্বু?,,বিয়েই তো হয়নি এখনো,,তালাক কেমনে দিবো?"

এদের অবস্থা দেখে হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা উঠে গেলো নোভা, লিজা, নিশানের।নোভা উঠে দাড়িয়ে লিজাকেও টেনে দাড় করালো,,, বললো...

"লিজু বেবি,,,ক্যামেরা উইমেন,, জলদি ফোকাস কারো,,"

নোভার কথা বুঝতে পেরে লিজাও দুহাত দিয়ে এমন ভাব করলো যেন হাতে ক্যামেরা ধরেছে,,,নোভাও হাতে মাইক্রোফোন নেওয়ার ভান করে মুখের সামনে ধরে সাংবাদিকদের মতো বলতে শুরু করলো...

"আজকের জমজমাট ব্রেকিং নিউজ,,অবিবাহিত স্বামীকেই বিয়ের আগে তালাক দেবে ইয়াশিয়া রায়ানিশ। আর তাদের এই বৃহৎ সিদ্ধান্তটা নিতে সাহায্য করেছে মি.তেজর্শ বেহরান এর একমাত্র না হওয়া শশুর আব্বা মি.জহির রায়ানিশ।,,এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সাথে থাকুন আমাদের অতি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল লাউ কদু চ্যানেল,,"

নিশান হাসতে হাসতে পেটে হাত চেপে সোফায় হেলে পড়লো,,বলতে লাগলো..

"লাউ কদু চ্যানেল??সিরিয়াসলি?? আমি আর নিতে পারছি না৷, হাসতে হাসতে আমার...''

এতটুকু বলতেই তেজ তাড়া দিয়ে বললো..

" এই, এই, সম্মন্ধি,,,তোয়ার হাসতে হাসতে হাগু পেয়ে গেলো??,,এই,এখানে হাগু কইরো নাহ,,,তোমার হাগুতে জোস গন্ধ,, "

এই কথা শেষ হতে না হতেই ভেষে এলো নোভার কন্ঠ,,, সে সদর দরজার দিকে দৃষ্টি দিয়েই আগের মতো মিথ্যা মাইক্রোফোন ধরে বললো...

"লাউ কদু চ্যানেলের দ্বিতীয় জমজমাট খবর,,,রায়ানিশ বাড়ির সদর দরজায় এক অজ্ঞাত পুরুষকে দেখে টাশকি খেলো লাউ কদু চ্যানেলেরই বিখ্যাত সাংবাদিক জনাবা অভয়া রায়ানিশ নোভা,,,"

আঁধারের তারাবাজি পর্ব ২৬ গল্পের ছবি