প্রণয় প্রত্যাবর্তন

পর্ব - ২

🟢

রওশান আরা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। তিনি প্রথমে বুঝতেই পারেননি। ত্রস্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, “কই পাওয়া গেছে?”

যে খবর নিয়ে এসেছিল তিনি বলল, “জমিদার বাড়ির পেছনে, আমগাছের সাথে…”

আর কিছু বলা লাগল না। তীব্র মানসিক আঘাতে বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে গেল। মর্মভেদী যন্ত্রণায় দুই হাতে বুক চেপে ধরে চিৎকার করে উঠল, “আল্লাহ! আমার ময়ূরী, আমার মাইয়াডা।”

সে আওয়াজ অশ্রুঝরা রোদন নয়, মাতৃবক্ষ ছিন্ন করে আসা তীব্র আর্তনাদ। তার শরীর ঢলে পড়ল। মৃন্ময়ী দৌড়ে এসে মাকে ধরে ফেলল। কোনোরকম বলল, “মা মা, এমন কইরো না।” বলতে গিয়েই ওর নিজের গলাও ভেঙে গেল। মাকে আগলে ধরতে চাইছে, কিন্তু নিজের শরীরটাই কাঁপছে অনবরত। আচ্ছন্ন দৃষ্টিতে সবকিছু অস্পষ্ট লাগছে। প্রতীয়মান হচ্ছে, সমগ্র অস্তিত্ব যেন যুগপৎ ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। রওশান আরা তখনও বারবার একটাই কথা বলছিলেন, “আমার মাইয়াডা কী দোষ করছিল আল্লাহ…” মৃন্ময়ী মাকে শক্ত করে ধরে রাখল। ঝাপসা দৃষ্টিতে আশেপাশে তাকিয়ে বাবাকে খোঁজার চেষ্টা করল। বাবা কোথায়? সে কি শুনেছে? তার আদরের মেয়েটা...

জহির মোল্লার এক হাতে দোকানের খাতা আরেকটা হাত মাথায় ঠেকিয়ে বসেছিল। খবরটা যখন কানে এলো তখন হতদ্যোম হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কোন ময়ূরী?”

যখন পুরো কথাটা বলল লোকটা, জহির মোল্লা ক্ষণমাত্রও কালক্ষেপণ করলেন না। খাতাটা হাত থেকে পড়ে গেল। বাকহীনভাবে সে দ্রুতগতিতে ছুটে চলল। না, দৌড় না। নিজের শরীরটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অপরিজ্ঞাত শঙ্কার অভিমুখে। চেনা রাস্তা, চেনা বাঁক কিন্তু আজ সবকিছু অচেনা লাগছে। পা দুটো মাটিতে ঠিকমতো পড়ছে না। মাথার ভেতর একটাই শব্দ ঘুরছে, “হইতে পারে না। হইতে পারে না।”

জমিদার বাড়ির পেছনের দিকটা চোখে পড়তেই জহির মোল্লার পায়ের গতি কমে গেল। দূর থেকেই লোকজনের ভিড় দেখা যাচ্ছে। আমগাছটা চোখে পড়ল। তার বুকের ভেতর বাতাস আটকে গেল। সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। হাঁটু ভেঙে মাটিতে বসে পড়ল। লাল হয়ে যাওয়া চোখে তাকিয়ে রইল গাছটার দিকে, ঝুলে থাকা নিথর দেহটার দিকে। জীর্ণ কণ্ঠ থেকে ভাঙা আওয়াজ বেরিয়ে এলো, “ময়ূরী, মা আমার মা...” লোকজন ভিড়ে ঠেলে এগিয়ে এসে তাকে দাঁড় করাল।

ইয়াসিফ কিছুই বলছিল না, বলতে পারছিল না। ময়ূরীর ঝুলন্ত দেহটা চোখের সামনে ভাসছিল বারবার। যেন কেউ জোর করে তার চোখের ভেতর সেই দৃশ্যটা গেঁথে দিয়েছে। একটা মানুষ, যার আজ নতুন জীবনে পা রাখার কথা ছিল সে কীভাবে এই অবস্থায় পৌঁছাল? মাথার ভেতর একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, ময়ূরী আত্মহত্যা করবে কেন? অসম্ভব। ময়ূরী এমন না। চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও অন্তরাত্মায় অবিচল থাকার তেজ ওর ছিল। ভয় পেত, কিন্তু হার মানত না। আজ সকালেই তো কেঁদেছিল তার বুকে মুখ লুকিয়ে। সেই রোদনে অন্তিম পরিণতির সংকল্প ছিল না। ছিল কেবল শঙ্কা, দ্বিধা আর অনুতাপের ভার। তাহলে কী হলো? কী এমন বোঝা ও একা বয়ে বেড়াচ্ছিল? ইয়াসিফের বুক ধুকপুক করে উঠল। মনে পড়ল; ময়ূরীর এড়িয়ে যাওয়া দৃষ্টি, অল্প কথায় থেমে যাওয়া, অকারণ ভয় পেয়ে চমকে ওঠা।

তাওহীদ! নামটা চিত্তে প্রবেশ করতেই দাবানল সৃষ্টি করল। ইয়াসিফ কিছুতেই দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে পারছিল না কারণ সে ঘটনার একাংশও পুরোপুরি জানেনা। তবে এইটুকু বুঝতে পারল, জমিদার বাড়ির পেছনে লাশটা কাকতালীয় হতে পারে না। তার শোক রূপ নিচ্ছিল প্রশ্নে আর প্রশ্নগুলো জমে জমে ঘৃণায় পরিণত হচ্ছিল। নিজেকে ভীষণ ভঙ্গুর মনে হচ্ছিল। এতদিনের ভালোবাসা, স্বপ্ন, প্রতিজ্ঞা একটা দমকা হাওয়া এসে সব উড়িয়ে নিয়ে গেছে। আজ ওদের একসাথে থাকার কথা ছিল। আজ সে তার স্ত্রীকে বাড়ি তুলত। অথচ এখন? নিয়তি যেন নিষ্ঠুর হাসি হেসে বলছে, “তুমি দেরি করে ফেলেছ।” ইয়াসিফ চোখ বন্ধ করল। বুকের ভেতরটা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সত্যিটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। সব দুঃস্বপ্নের মত আঘাত হানছে।

.

পুলিশ আসতে বেশি দেরি হলো না। সাইরেনের শব্দটা গ্রামের নিস্তব্ধতাকে চিরে গেল। কয়েকজন কনস্টেবল ভিড় ঠেলে সামনে এলো। আমগাছটার নিচে শাড়ির আঁচলে আবৃত নিথর দেহটা এখনও ঝুলে আছে। একজন পুলিশ অফিসার গম্ভীর গলায় নির্দেশ দিল, “লাশ নামাতে হবে। পোস্টমর্টেমের জন্য নিতে হবে।”

দু’জন কনস্টেবল এগিয়ে গিয়ে সাবধানে দড়ির গিঁট খুলল। ময়ূরীর দেহটা মাটিতে নামানো হলো। জহির মোল্লা সামনে এসে দাঁড়াল। পুলিশ বলল, “আমরা লাস্টে নিয়ে যাব।”

“কোথায় নিয়ে যাবেন?”

অফিসার উত্তর দিল, “থানায়। পোস্টমর্টেম করতে হবে।”

এই কথাটা শোনামাত্র জহির মোল্লার মুখের রক্ত শুকিয়ে পাংশুবর্ণ হয়ে গেল। তিনি কিছুতেই মেয়েটাকে কাটাছেঁড়া করতে দিবেন না। এক কথায় বলল, “না,”

অফিসার ভ্রু কুঁচকে তাকাল, “ঝামেলা করবেন না প্লিজ। এটা আইনগত প্রক্রিয়া।”

জহির মোল্লা এবার একটু সামনে এগিয়ে এল, “মাইয়াডারে আমি আর কাটতে দিমু না। কত কষ্ট পাইয়া মরছে দেখছেন না? জীবনে যা পাইছে, তা গেছে। মরার পরও শরীর কাইট্যা দেখব এইটা আমি মানি না।”

চারপাশে আবার ফিসফিস শুরু হলো। রওশান আরা দূর থেকে কাঁদছিল। মৃন্ময়ী বাবার হাত আঁকড়ে ধরল। অফিসার কিছুটা কঠোর হয়ে বলল, “আপনার মেয়ের মৃত্যুটা স্বাভাবিক না-ও হতে পারে। পোস্টমর্টেম না করলে সত্য বের হবে কীভাবে?”

জহির মোল্লা হঠাৎ গর্জে উঠল, “সত্য? আমার মাইয়া বাইচ্চা থাকতে আপনারা কোন সত্য উদঘাটন করছেন? তখন সত্য কই আছিল? মাইয়া মরার পরেই সত্য লাগে?”

অফিসার ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে রইলেন। তার কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছেন না। তৎকালে তার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল ক্ষোভ, অসহায়ত্ব ও অভিমানের নিবিড় সংমিশ্রণ। ফের বললেন, “আমি বাবা...” তিনি কথাটা বলেই থেমে গেলেন এক মুহূর্তের জন্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠল আরেকটা মুখ, ছোট মেয়েটার। ভয়ে চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেছে। তারপর ভেসে উঠল জমিদার সাহেবের ভয়ঙ্কর কণ্ঠ, “মুখ খুইলো না জহির। এক মাইয়া তো গেলই। আরেকটা আছে, না?”

তার গলা শুকিয়ে এলো। গর্জনটা আর ধরে রাখতে পারল না সে। ভীষণ ক্লান্ত স্বরে বলল, “আমার মাইয়াডা অনেক কষ্ট পাইছে। মরার পর অন্তত শান্তিতে থাকুক।” মৃন্ময়ী বাবার হাতটা আরও শক্ত করে চেপে ধরল। ও কিছু বুঝতে পারছিল না, কিন্তু বাবার হাত স্পর্শ করে ভাঙনটা ঠিকই বুঝে যাচ্ছিল।

পুলিশ অফিসার চুপ করে রইলেন। তার দৃষ্টি সন্দিগ্ধ। সহকারীকে পাশে ডেকে নিচু স্বরে কিছু বলল। শেষমেশ তিনি বললেন, “ঠিক আছে। আপনি লিখিতভাবে জানাবেন যে পোস্টমর্টেমে আপত্তি আছে।”

জহির মোল্লা মাথা নাড়ল। কি আর করতেন তিনি? তার এত ক্ষমতা নেই। সে তো বাবা... এক সত্তার অধিকার হরণ করে আরেক সত্তার আয়ু টিকিয়ে রাখছেন। তাকে যে এক অবলার যন্ত্রণার ওপর ভিত্তি করে অন্য প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে!

এতক্ষণে ভিড় ঠেলে ইয়াসিফ সামনে এগিয়ে এলো। এতক্ষণ সে চুপ করে ছিল। চুপচাপ সব দেখছিল। ভেতরে জমে থাকা শোক আর সন্দেহ মিলেমিশে অসম্ভব দৃঢ়তা তৈরি করেছে। ইয়াসিফ বলল, “না, পোস্টমর্টেম হবে।”

বিজ্ঞাপন

হঠাৎ সবাই তার দিকে তাকাল। জহির মোল্লা বিস্মিত হলো, “তুমি কী কও বাবা?”

ইয়াসিফ এক পা সামনে এগিয়ে এল। গলায় যন্ত্রণা চাপা দিয়ে বলল, “আমি জানি, এই জিনিসটা আমাদের জন্য মেনে নেওয়া অনেক কঠিন। আপনাদের কাছে আরো বেশি কঠিন। কিন্তু আপনি তো আপনার মেয়েকে চেনেন তাই না? আমিও ময়ূরীকে চিনি। সে এমন মেয়ে না যে হঠাৎ করে সব ছেড়ে চলে যাবে।”

সে থামল। শ্বাস নিল গভীরভাবে, “গতকাল ওর কথাবার্তা, আচরণ সন্দেহজনক ছিল। ভয় পেয়েছিল কোনো কারণে। আমার চোখের দিকে তাকাতে পারত না। স্যার, আমি জানতে চাই এটা আত্মহত্যা নাকি অন্যকিছু? অথবা এমন কি কোনো কারণ যাতে ওকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে?”

এই কথাটুকু বলেই ইয়াসিফ জহির মোল্লার দিকে ঘুরল। নিজেকে সামলে বলল, “চাচা, আপনি বাবা। আমি আপনার কষ্ট বুঝতে না পারলেও খানিকটা অনুমান করতে পারছি। কিন্তু যদি আজ সত্যটা চাপা পড়ে যায়? তাহলে ময়ূরীর সাথে সাথে সত্যটাও নিঃশেষ হয়ে যাবে। আপনি কি তা চান? ন্যায় চান না?”

জহির মোল্লার চোখে জল টলমল করল। সে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু মুখ দিয়ে শব্দ বের হলো না। ইয়াসিফ শেষ কথাটা বলল, “ময়ূরীর চলে যাওয়ার কথা ছিল না। আমরা ওকে বাঁচাতে পারিনি। কিন্তু এখন অন্তত জানতে চাই, কেন ও আত্মহত্যা করল।”

ইয়াসিফের কথায় জহির মোল্লার চোখে আগুন জ্বলে উঠল। বেদনার শিখা নয়, এ যে আতঙ্কের দহন। তিনি শক্ত গলায় বললেন, “না।” উনার সাথে ইয়াসিফের ছোটখাটো একটা দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেল। শেষমেষ পুলিশ অফিসারের সিদ্ধান্তের কাছে তিনি অটল থাকতে পারলেন না। এটা যেহেতু আত্মহত্যা, আইন অনুযায়ী সন্দেহজনক মৃত্যু; তাই তদন্ত হবেই। লাশ নিয়ে যাওয়া হলো। স্ট্রেচারে যখন ময়ূরীকে তোলা হচ্ছিল, রওশান আরা চিৎকার করে উঠলেন। মৃন্ময়ী মাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়েছিল। ওর চোখেও আগুন দাউ দাউ করছে। রক্তবর্ণ চোখ নিয়ে ও আশেপাশে তাকাল। এতক্ষণে ভিড় কমেনি উল্টো আরো বেড়েছে। মানুষজন ফিসফাস করছে। চারিপাশে রহস্যের গন্ধ ছড়িয়ে গেছে।

মৃন্ময়ী আর ময়ূরী, দুজনেই জমজ। চেহারায় একেবারে এক। একই চোখ, একই নাক, একই মুখের গড়ন। সহজে ওদের আলাদা করা যেত না। কিন্তু স্বভাব? আকাশ-পাতাল পার্থক্য। ময়ূরী ছিল চুপচাপ। সব সহ্য করত, মানিয়ে নিত। কথাবার্তা কম বলত। আর মৃন্ময়ী? ও সর্বদা আগুনের স্ফুলিঙ্গ। একটুতেই শিখা ফোঁস করে জ্বলে ওঠে। ও চুপ থাকতে পারে না, অন্যায় দেখলে মুখ খোলে। আজ বাবার কথাগুলো ঠিকঠাক মনে হলো না। নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে। কিন্তু কি সেটা?

.

জমিদার হাজী মকবুল রহমান দেখা করে গেছেন। সান্ত্বনা বাক্য আওড়েছেন। গ্রামে সবাই তাকে “হাজী সাহেব” বলেই চেনে। দীর্ঘ দাড়ি, সাদা টুপি, ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবি হাতে সবসময় কাঠের তসবি দ্বারা একেকটা দানা ঘোরান। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, লোকটা খুব ধর্মপরায়ণ। নামাজ পড়েন, দান-খয়রাত করেন, মসজিদের কাজে অংশগ্রহণ থাকেন। কিন্তু এই সাজটা তার ঢাল, পাপ ঢাকার ঢাল। আজ গ্রামে পুলিশ এসেছে। হাজী মকবুল রহমান দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখলেন। মুখে বেদনার প্রলেপ, চোখে অনুশোচনার আভাস। তসবি ঘোরাতে ঘোরাতে বললেন, “আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে…”

তবে অন্দরমহলে ভিন্ন ফন্দি-ফিকির চলছিল। কে কী দেখেছে, কে কী শুনেছে, আর সবচেয়ে বড় কথা; পুলিশকে তদন্তের জন্য উসকে ইয়াসিফ শাহরিয়ার কতদূর যেতে পারে, তা তিনি দেখে নিবেন।

হাজী মকবুল রহমান বাড়ি ফিরে এলেন। বারান্দায় এসে থামলেন। চারপাশ একবার চোখ বুলিয়ে দেখলেন। তারপর গলা নামিয়ে বললেন, “রশিদ।”

ছায়ার মতো একজন লোক এগিয়ে এলো। নিম্ন পানে দৃষ্টি স্থির রেখে বলল, “জ্বি, হাজী সাহেব।”

তিনি তসবি ঘোরাতে ঘোরাতে বললেন, “তাওহীদ কই?”

রশিদের কণ্ঠ একটু থরথর করল, “ছোট সাহেব ঘরের ভেতর। খুব অস্থির দেখতেছি। তারে কালকে যাইতে কইছিলাম, কিন্তু গেল না।”

হাজী সাহেব ঠোঁটের কোণে হালকা একটা হাসি খেলালেন, “অস্থির হইলে চলে না। ওরে শহরে পাঠাও, আজই। দু’দিন গ্রাম চুপচাপ থাকুক।”

রশিদ মাথা নাড়ল। “জ্বি।”

“আর পুলিশ?”

“থানার ওসি সাহেবের সাথে কথা হইছে। আপনার নাম শুনেই নরম হইয়া গেছে।”

হাজী মকবুল রহমান তসবি থামালেন। তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললেন, “খেয়াল রাখবা। হাদিয়াটা যেন সম্মানের হয়। এই কেস যেন এখানেই থামে।”

রশিদ সাহস করে জিজ্ঞেস করল, “আর ময়নাতদন্ত?”

“কাগজে যা লেখা লাগে, তাই লেখা হইব।”

রশিদের গলা শুকিয়ে গেল, “জ্বি, হাজী সাহেব।”

হাজী মকবুল রহমান আবার তসবি ঘোরাতে শুরু করলেন, “আল্লাহ সব দেখেন। কিন্তু এই গ্রামের মানুষ যা দেখবে, তা আমি ঠিক করব।”

রশিদ সরে গেল। হাজী মকবুল রহমান দাঁড়িয়ে রইলেন বারান্দায়। দূরে গ্রাম, দূরে আলো-আঁধারি। ঠিক তখনই পাশ থেকে আরেকটা ছায়া খুব সাবধানে নিঃশ্বাস চেপে সরে গেল। সে কিছু শোনেনি স্পষ্টভাবে। কথাগুলো ভাঙা ভাঙা কানে এসেছে। কিন্তু ওতটুকুই যথেষ্ট ছিল। ছায়াটা বুঝে গেল, অন্তরালে কোনো কালজয়ী রচনা গোপনে আকার নিচ্ছে। নিছক কোনো নির্দোষ ঘটনা নয়, এটা এক বড়সড় জঘন্য কারসাজি। কিন্তু কার বিরুদ্ধে?

বিজ্ঞাপন
প্রণয় প্রত্যাবর্তন গল্পটি আফিয়া আফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক থ্রিলার গল্প