অল্প বেঈমানী মন

পর্ব - ৪

অল্প বেঈমানী মন বাংলা গল্প - লেখিকা আফরোজা আঁখি

পুরো রুমের জিনিসপত্র ভেঙেচুরে মেঝেতে পড়ে আছে। বিছানার চাদর, বালিশ সব এলোমেলো; তবে তার থেকেও বেশি এলোমেলো লাগছে প্রত্যুষকে। হাত কে টে র ক্ত পড়ছে, কপালেও র ক্ত লেগে আছে। নিজেই নিজেকে আঘাত করেছে বোধহয়। ওর পরনের শার্টের বুকের দিকের বোতামগুলো খোলা থাকায় বুকের বাঁ পাশে থাকা ট্যাটুটা স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে। ওখানে একটা লাভ শেপের ভেতরে ছোঁয়া নামটা লেখা। ছেলেটার প্রতি তীব্র রাগ, ঘৃণা আর অভিমান থাকলেও এই পর্যায়ে এসে ছোঁয়ার ভীষণ কষ্ট হলো। মুখে হাত চেপে ডুকরে কেঁদে উঠল সে।

ওর কান্নার শব্দ প্রত্যুষের কানে যেতেই সে চোখ খুলে তাকাল। দ্রুত উঠে বসল। চোখের সামনে ছোঁয়াকে দেখে প্রথমে মনে হলো স্বপ্ন দেখছে। কাছে গিয়ে ওর গাল স্পর্শ করতেই বুঝল এ কোনো স্বপ্ন নয়, সত্যিই ছোঁয়া এসেছে। প্রত্যুষের মুখখানিতে মুহূর্তেই হাসি ফুটে উঠল।সে ছোঁয়াকে জড়িয়ে ধরল। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,

"এইই... মেয়ে, কাঁদছিস কেন? কাঁদিস না প্লিজ। তুই কাঁদলে আমার কষ্ট হয়। ম রে যেতে ইচ্ছে করে।"

ছোঁয়া শান্ত হলো। সে প্রত্যুষকে নিজের থেকে সরিয়ে দিল। কয়েক হাত দূরে গিয়ে দাঁড়াল সে। প্রত্যুষ ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। ছোঁয়াকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখল। মেয়েটার পরনে শাড়ি, হাতে চুড়ি, নাকে নাকফুল। দেখেই মনে হচ্ছে তার সদ্য বিয়ে হয়েছে। ওর সৌন্দর্য আগের থেকে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আগে কি সে সুন্দর ছিল না? ছিল। কিন্তু প্রত্যুষের চোখে পড়েনি কখনোই, সেভাবে খেয়ালই করেনি। আর যখন সে অন্য কারও হয়ে গেল, তখন ছোঁয়াকে তার কাছে এতটা আকর্ষণীয় লাগছে! উফ! ছোঁয়ার এই সাজ অন্য কারও জন্য ভাবতেই ওর বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে, রাগ হচ্ছে। সব কিছু শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে।প্রত্যুষ ছোঁয়ার কাছে গিয়ে বলল,

"আমাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিস কেন? আগে তো তুই-ই আমার কাছে আসতে চাইতিস। দেখ, আমি বদলে গেছি। আমি ভালো হয়ে গেছি। প্লিজ, এমন করিস না।"

প্রত্যুষের মুখ থেকে মদের উটকো গন্ধ ছোঁয়ার নাকে এসে লাগছে। বমি পাচ্ছে ওর। ছোঁয়া প্রত্যুষের বুকে ধাক্কা দিল। টাল সামলাতে না পেরে প্রত্যুষ গিয়ে সোফায় পড়ল। ঘাড় কাত করে তাকিয়ে রইল ছোঁয়ার পানে।ছোঁয়া ওকে বলল,

"কেন করছিস এই নাটকগুলো? কী চাইছিস তুই?"

"তোকে চাইছি। তুই বুঝতে পারছিস না?"

"এতদিন চেয়েছিলি? চাসনি তো। একবারও ফিরে তাকাসনি আমার দিকে। আমার মন ভেঙেছিস তুই। এখন আর আমাকে চেয়ে লাভ নেই। তুই চাইলেও আমি আর তোর হব না।"

প্রত্যুষ হেসে উঠল। হাসতে হাসতে বলল,

"হুম, আমি জানি তুই আর ফিরবি না। বড়লোক বর পেয়েছিস, এত এত টাকা পেয়েছিস,ফিরবি-ই বা কেন! আচ্ছা, ওই লোকটা তোকে কত টাকা দিয়েছে? আমার না অবাক লাগছে! অধিক আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা ছোঁয়া টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেল!"

ছোঁয়ার চোখ ছলছল করছে। ছেলেটার চোখের চাহনিতে উগ্রতা ফুটে উঠছে। কেমন বিচ্ছিরি স্পর্শ ওর হাতের! না, না, ছোঁয়া এখানে এসে ভুল করেছে।ছোঁয়া চোখের জলটুকু মুছে নিয়ে প্রত্যুষকে বলল,

"তুই না... কখনোই ভালো হবি না। কখনোই শুধরাবি না।আমারই ভুল হয়েছে এখানে আসা। আজকের পর থেকে আমি ভুলে যাব তুই আমার বন্ধু!"

ছোঁয়া পা বাড়ায় চলে যাওয়ার জন্য। তখনই কর্ণকুহরে আসে প্রত্যুষের বলা কথাটা,

"আমি তোর শুধুই বন্ধু ছিলাম ছোঁয়া? শুধুই বন্ধুত্বের খাতিরে তুই এত রাতে এখানে এসেছিস?তুই আমাকে ভালোবাসতিস না?"

ছোঁয়া ঘুরে তাকিয়ে ওকে বলল,

"ভালোবাসতাম। তোকে আমি ভালোবাসতাম প্রত্যুষ, কিন্তু সে ভালোবাসা অনেক আগেই ম রে গেছে। তুই আমাকে ঠকিয়েছিস। আমাকে ভালোবাসার বদলে অবহেলা করেছিস। তুই তো জানতিস প্রত্যুষ, আমি সব নিতে পারলেও অবহেলা নিতে পারি না। তাহলে কেন করতিস এতো অবহেলা? আমার মনটা পাথর হয়ে গেছে। তুই-ই পাথর বানিয়েছিস। আবার আশা করছিস আমি তোকে ভালোবাসব?"

চলে গেলো ছোঁয়া।রমণীর যাওয়ার পানে তাকিয়ে প্রত্যুষ হাসল। হাসতে হাসতে গান ধরল,

তোকে নিয়ে বেঁচে আছি আমি

দুনিয়াটা বলে যায় পাগলামি

চিনতে পারলি না রে মন

চিনতে পারলি না...

.

প্রকৃতির নিয়মে অতিবাহিত হলো আরও সাতটি দিন। আহসান মঞ্জিলে আজ মেহমানদের আনাগোনা। নতুন বউকে দেখতে এসেছেন সবাই। অভিকার বাপের বাড়ির লোকেরাও এসেছে আদরের বিয়ের খবর শুনে। আর আসার পর থেকেই একের পর এক কথা শোনাচ্ছে ছোঁয়াকে, রীতিমতো ঝামেলা করছে। আমিরা নাকি ছোঁয়ার কাছে নিরাপদ নয়।এমন সব কথাবার্তাও বলছে তারা। আদর তখন সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল। অভিকার বাড়ির লোকেদের কথা শুনেও চুপ করে রইল সে। অভিকা নেই তো কী হয়েছে? ওর ফ্যামিলির মানুষকে আদর কোনোভাবেই অসম্মান করতে পারবে না। কিন্তু এখানে তো ছোঁয়ারও কোনো দোষ নেই, সে-ই বা এত কথা কেন শুনবে?

আদর ডাইনিংয়ে বসেছিল। ছোঁয়া কাছে যেতেই সে বলল,

"তুমি শিক্ষিত, ম্যাচিউর একটা মেয়ে। কেউ অপমান করলে তার জবাব কীভাবে দিতে হয় জানো না? আমি শিখিয়ে দেব?"

আহির আর ছায়া অন্যদিকের চেয়ার দুটোতে বসে আছে। ছোঁয়াকে বলা কথাগুলো শুনে ছায়ারই রাগ হচ্ছিল। অথচ ওর রাগী বোনটা আজ কেমন নরম হয়ে গেল! কাউকে কিছু বলা তো দূর, টু শব্দটিও করল না। আদরের প্লেটে ভাত বাড়তে বাড়তে ছোঁয়া বলল,

"আমার ঝামেলা পছন্দ না। তাছাড়া উনারা একদিনের জন্যই এসেছেন, চলেই তো যাবেন।"

আদর আর কিছু বলল না। আমিরা ততক্ষণে ছোঁয়ার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। ওর শাড়ির আঁচল টেনে বলছে,

"মাম্মি, আমাকেও খাইয়ে দাউউ।আমিরা মাম্মির হাতে খেতে চায়।"

মেয়ের মুখের দিকে তাকাল ছোঁয়া। নিষ্পাপ মুখখানা দেখে তাকে আদর না করে পারল না। ঝুঁকে আমিরার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল সে। ওকে কোলে তুলে চেয়ারে বসাল। নিজ হাতে খাইয়েও দিল। কিন্তু একি! হঠাৎ করেই আমিরা কেমন যেন করতে লাগল। পুরো মুখে র‍্যাশ বেরিয়েছে, চুলকাচ্ছে প্রচুর। ছোঁয়া আদরকে বলল,

"দেখুন না, ও এমন করছে কেন?"

আদর ফোনে কথা বলছিল। সে দ্রুত আমিরার দিকে তাকায়। ছায়া আর আহিরও চেয়ার থেকে উঠে আমিরার কাছে আসে। মেয়েটা কেমন যেন করছে, পুরো মুখ আর হাত লাল হয়ে গেছে। চুলকানি সহ্য করতে না পেরে কাঁদছে সে। আদর আমিরাকে বলল,

"মামুনি, কী হয়েছে তোমার? কোথায় কষ্ট হচ্ছে বলো।"

"পাপ্পা..."

আর কিছুই বলল না আমিরা,সে কান্নায় ভেঙে পড়ল। প্লেটের দিকে তাকিয়ে চিংড়ি মাছ দেখতে পেল আদর। এই চিংড়িতে আমিরার অ্যালার্জি আছে। আর ছোঁয়া কিনা নিজ হাতে চিংড়ি দিয়ে বানানো তরকারি ওকে খাওয়াল! আদর রেগে তাকাল ছোঁয়ার দিকে, ওকে বলল,

"তুমি... তুমি কী করেছ কোনো আইডিয়া আছে?ষ্টুপিড কোথাকার! আমার মেয়ের যদি কিছু হয়, তোমাকে আমি মে রেই ফেলব।"

ছোঁয়া হতবিহ্বল চোখে তাকিয়ে রইল। সে কী করল বুঝতে পারছে না। বাড়িতে আসা সব মেহমান আর আদরের বাড়ির লোকজন সবাই ওখানে জড়ো হয়েছেন। সবার কথা থেকেই ছোঁয়া বুঝল আমিরার চিংড়িতে অ্যালার্জি আছে। কিন্তু সে তো এসব জানত না! আদর রাগে মাছের বাটিটা মেঝেতে ফেলে দিয়ে চিৎকার করে বলল,

"কে এনেছে এই মাছ? আমার বাড়িতে এই মাছ আনা নিষিদ্ধ, তোমরা জানো না?"

আজকের বাজারটা আহির করেছে। সে মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আদর তা স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছে। সে আহিরকে বকাবকি করছিল। তখন ছোঁয়া বলল,

"ভাইয়ার কোনো দোষ নেই।আমি যা আনতে বলেছি, উনি সেটাই এনেছেন। আর আমি জানতাম না আমিরার চিংড়িতে অ্যালার্জি আছে। জেনে-শুনে আমি কেন এমন করব বলুন?"

আমিরার নানাবাড়ি থেকে আসা ওর মামী বললেন,

"তুমি ওর নিজের মা নও, সৎ মা। আর কোন সৎ মা তার সৎ মেয়েকে ভালোবাসে বলো তো?হয়তো ইচ্ছে করেই করেছো!"

ভদ্রমহিলার বলা কথাটা ছোঁয়ার কানে বাজছে বারবার। না না, জেনেবুঝে সে এমন করেনি, ভুল করে হয়ে গেছে। আমিরাকে নিয়ে অস্থির হলেন সকলে। আদর ওকে দ্রুত হসপিটালে নিয়ে গেল। বাড়িতে রয়ে গেল ছোঁয়া আর ছায়া। মেয়েটার কথা ভেবে কাঁদছে ছোঁয়া। আপাকে জড়িয়ে ধরে বলছে,

"আমি ইচ্ছে করে এমন করিনি আপা। তুমি তো জানো, বলো?"

"আমি জানি ছোঁয়া, তুই এমন করতেই পারিস না।"

"তাহলে ওরা কেন বিশ্বাস করল না?"

"ওরা তো তোকে চেনে না। আমি চিনি। আমি জানি আমার বোন এমন করতে পারে না। তুই শান্ত হ।"

ছোঁয়া শান্ত হলো। সে আর কোনো কথা বলল না। ছোঁয়ার কাছে তখন একটা কল এলো। ওর আব্বুকে চিকিৎসার জন্য বড় হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছিল,ডক্টর জানিয়েছেন উনি অতি শীঘ্রই ভালো হয়ে যাবেন। ওদের বাড়ির উপর থেকে শকুনের নজরও সরে গেছে, নিশ্চিন্তে বসবাস করছেন উনারা।এসব সম্ভব হয়েছে আদরের জন্যই। আদর তার কথা রেখেছে, অথচ ছোঁয়া তার কথা রাখতে পারল না! আমিরাকে সে দেখে রাখতে পারল না।

.

বিকেলের দিকে আমিরাকে দেখতে হসপিটালে গেল ছোঁয়া। ও তখন খানিকটা সুস্থ হয়েছে।বাড়ির সবাই ফিরে গিয়েছেন,রয়েছে কেবল আদর। ছোঁয়া কেবিন রুমের দরজার সামনে যেতেই আমিরা ডেকে উঠল,

"মাম্মি! কাছে আসো। আমিরা মিসড ইউ!"

ছোঁয়া ভেতরে ঢুকবে কি ঢুকবে না, এই ভাবনায় জড়িয়ে যাচ্ছে। আদর তখন ইশারায় ওকে ভেতরে আসতে বলল। সে নার্সের সাথে কথা বলে ওষুধগুলো বুঝে নিচ্ছিল। ছোঁয়া তখন আমিরার পাশে গিয়ে বসে। ওর ছোট্ট হাতটা ধরে চুমু খায়। ওকে বলে,

"আমিও তোমাকে মিস করেছি আমিরা সোনা। তুমি এখন ঠিক আছো তো?"

আমিরা ওপর-নিচ মাথা নাড়ায়। ওর ভেজার মুখটাতে হাসি ফোটায় ছোঁয়া। আমিরাকে সে রূপকথার গল্প শোনায়। আমিরা মনে মনে ভাবে,মাম্মির বলা গল্পের রাজকুমারী সে, আর রাজা-রানি আমিরার মাম্মি আর পাপ্পা। আমিরা হেসে ওঠে, মাকে জড়িয়ে ধরে সে। আদর সবটাই দেখেছে এবং বুঝতেও পেরেছে যে ছোঁয়া ভুল করেই ওমনটা করেছিল।ছোঁয়ার কাছে ওর মেয়ে নিরাপদ! তখন রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে যাচ্ছেতাই বলে ফেলেছিল সে। এখন তা ভাবনায় আসতেই নিজের ওপর রাগ হচ্ছে তার।

.

বাড়ি ফেরার সময় আমিরা বায়না করল সে আইসক্রিম খাবে। আদরের মেয়ের কথা কী করে ফেলবে তার বাবা?আমিরাকে গাড়িতে বসিয়েই আইসক্রিম আনতে গেল আদর। এদিকে আননোন নাম্বার থেকে ছোঁয়ার ফোনে বারবার কল আসছিল। সে কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে এক পুরুষালি কণ্ঠস্বর বলে উঠল,

"আমার সাথে দেখা কর। এক্ষুণি।"

"পারব না। না মানে না। তুই আর আমাকে কল দিবি না।"

"কেন রে? আগে তো তুই-ই আমাকে একের পর এক কল দিতি। আমি ধরতাম না, তাও দিতিস। উতলা হয়ে আমার বাড়ি অবধি চলে আসতিস। আর আজকে এমন ভান করছিস যেন আমি কল দিয়ে বিরক্ত করছি তোকে! হাজব্যান্ডের সাথে রোমান্স করছিলি বুঝি?"

"যদি বলি হ্যাঁ!"

রাগে হেলমেট ছুড়ে ফেলল প্রত্যুষ।পাশ ফিরে তাকাতেই কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে ছোঁয়াকে দেখতে পেল সে। ছোঁয়া তখন গাড়ি থেকে বেরিয়েছে। আমিরা ওর দিকে তাকিয়ে ছিল, বারবার জানতে চাইছিল কী হয়েছে। তাই ছোঁয়া গাড়ি থেকে বেরিয়েছে। তখনই ও দেখতে পেল প্রত্যুষকে। পেছনে ওদের এক মিউচুয়াল ফ্রেন্ড বসে আছে।ছোঁয়া কিছুটা এগোল।প্রত্যুষ বাইক থেকে নেমে ওকে ভালো করে দেখল,তারপর বলল,

"ছোঁয়া, ফিরে আয় না প্লিজ।আমি আর নিতে পারছি না এসব। আ... আমি তোকে কথা দিচ্ছি আমি ভালো হয়ে যাব,প্লিজ ফিরে আয়।"

ছোঁয়া প্রত্যুত্তরে কিছুই বলে না। এদিকে প্রত্যুষ কত কী বলে যাচ্ছে! ছোঁয়াকে প্রথমে ভালোভাবে বোঝালেও পরে কেমন অদ্ভুত আচরণ শুরু করে দিল; গালমন্দ করছে,নোংরা কথাবার্তা বলছে। বিরক্ত হয়ে ওর গালে চড় বসায় ছোঁয়া।প্রত্যুষ যেন এবার হিংস্র সিংহের ন্যায় গর্জে উঠল।ছোঁয়া আর ওর মধ্যে কথা কা'টাকা'টি হলো। এক পর্যায়ে প্রত্যুষ বলল,

"ছোঁয়া, তুই যদি আমার না হোস, আর কারও হবি না।আমি হতে দিব না। তোর এই সুন্দর মুখের জন্য এত দে'মা'গ, এত অহংকার, তাই না? তোর এই সুন্দর চেহারাটাই আমি নষ্ট করে দেব। আমিও দেখি তুই আমার কাছে না এসে কোথায় যাস!"

প্রত্যুষ রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে এক অঘটন ঘটিয়ে ফেলল। ছোঁয়া আর ওর যে বন্ধু রাশেদ, সে কত কী বলেও প্রত্যুষকে আটকাতে পারল না; নিয়ন্ত্রণে আনতে পারল না ওর রাগ। ছোঁয়া চলে যাচ্ছিল, প্রত্যুষ ওকে ডাকল। ছোঁয়া তাকাতেই এসিড ছুড়ে মারল ওর মুখের উপর.......

বিজ্ঞাপন