আদরের দিক থেকে নজর সরিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকা মেয়েটার দিকে তাকায় ছোঁয়া। মনে মনে সে নিজেকে কথা দিয়েছে যাই হয়ে যাক, আমিরাকে সে আগলে রাখবে, ভালোবাসবে। আদর রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে,
"যাচ্ছি। কিছু লাগলে সার্ভেন্টদের বলবে।"
"কোথায় যাচ্ছেন?"
নিজের মধ্যকার গম্ভীর ভাব বজায় রেখেই সে বলল,
"তা জেনে তোমার লাভ নেই!"
কথাটা বসেই রুম থেকে বেরিয়ে গেল আদর। তার মনটা অশান্ত হয়ে আছে। যেদিকেই তাকাচ্ছে, অভিকাকে দেখতে পাচ্ছে। আদর সেই রুমটিতে এল, যে রুমে অভিকার সমস্ত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। একটা চেয়ারে বসে দেওয়ালে টাঙানো ওদের বিয়ের বড় ছবিটার দিকে তাকাল আদর।উফ! বুকের বাঁ পাশটায় অসহ্য যন্ত্রণা হলো। সেই ছবিতে থাকা অভিকা মাঝেমধ্যেই ওর সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে, ওর সাথে কথা বলছে, পুরোনো স্মৃতি মনে করাচ্ছে। বলছে—আদর এই বিয়েটা কেন করল?মেয়ের কথা শুনতে বলেছে ঠিকই,তবে ওর জায়গাটা তো অন্য কাউকে দিতে বলেনি!আদর কী করে পারল অভিকার জায়গায় অন্য কাউকে বসাতে?তার কি বুক কাঁপল না?
আদর নিতে পারছে না কথাগুলো।সে অভিকাকে বলল,
"তু... তুমি আমাকে ভুল বুঝছ অভিকা। আমি তোমার জায়গায় কাউকে বসাইনি। কখনোই বসাতে পারব না। আমি কেবল মেয়ের আবদার রেখেছি,তার কথা শুনেছি।"
"মিথ্যে, সব মিথ্যে!"
"না, সব সত্যি।আমি তোমাকে ভালোবাসি। খুউউব ভালোবাসি। তুমি বিশ্বাস করছ না, তাই না? কী করব বলো?আমি কী করলে তুমি বিশ্বাস করবে যে আমি কেবল তোমাকেই ভালোবাসি?"
অভিকা হেসে উঠল। আদর নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে রইল সেই মনভোলানো হাসির দিকে। খেয়াল করল, ওর চোখের কোণে পানি জমেছে। হাত দিয়ে তা মুছে নিল সে।অভিকাকে আবারও বলল,
"ভালোবাসি।"
ফের হাসল মেয়েটি। প্রমাণ চাইল আদরের থেকে।আদর কী করে প্রমাণ করবে, বুঝতে পারছে না। ভাবতে ভাবতে অস্থির আদর একটা ছু রি হাতে নিল। সেই ধারালো ছু রি দিয়ে আঘাত করল নিজেরই হাতে। ওখান থেকে র ক্ত পড়ছে। মদ খেয়ে মাতাল হয়ে আছে সে। চুলগুলো ঘামে কপালের সাথে লেপ্টে আছে।শার্টের উপরের দিকের কয়েকটা বোতাম খোলা থাকায় স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে বক্ষদেশ! আদরের এমন রূপ দেখে চিৎকার দিয়ে উঠল ছোঁয়া,
"মি. আহসান, কী হয়েছে আপনার?"
আদর রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায় মেয়েটার দিকে।ততক্ষণে ছোঁয়া ওই রুমে ঢুকে পড়েছে।আদরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে সে। র;ক্তমাখা হাতটা ধরে বলছে,
"অনেকটা কে টে গেছে তো! আ... আপনি এখানেই থাকুন, আমি ঔষুধ নিয়ে আসছি।"
ছোঁয়া উঠতে চাইলেই আদর শক্ত করে ওর হাতের কবজি ধরে। ওকে বলে,
"তুমি কার পারমিশন নিয়ে এই রুমে ঢুকেছ?"
ছোঁয়া চুপ করে রইল। তার কপালে কিঞ্চিৎ ভাঁজ পড়ল। লোকটার কর্কশ কণ্ঠস্বর আর ওমন ভয়ংকর চাহনি দেখে একটু হলেও ভয় পেল সে।কিছু বলতে চাইলেই আদর ফের চিৎকার দিয়ে বলল,
"অ্যানসার মি! কার পারমিশন নিয়ে তুমি এই রুমে ঢুকেছ?"
"আপনাকে দেখে অস্বাভাবিক লাগল, তাই..."
"তাই? তাই চলে আসলে? নোংরা মেয়েদের মতো গায়ে ঢলে পড়তে!"
ছোঁয়া এবার রেগে গেল। উঠে দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"সমস্যাটা কী আপনার? সাহায্যই করতে এসেছিলাম, অন্য কিছু নয়। অকৃতজ্ঞের মতো ব্যবহার করছেন কেন?"
"এইই, আমি চেয়েছি তোমার সাহায্য? শোনো, আমি আদর আহসান নিজেই নিজেকে সামলাতে পারি, কারোর প্রয়োজন পড়ে না। প্রথমবার না জেনে ভুল করেছ, তাই ক্ষমা করলাম। দ্বিতীয়বার একই ভুল করলে মে রে ফেলব। যাও এখান থেকে।"
ছোঁয়া ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। ছোঁয়া বুঝতে পারল, আদরকে যতটা ভালো ভেবেছিল, সে আসলে তার থেকেও কয়েক গুণ বেশি খারাপ। এমন একটা মানুষকে বিয়ে করেছে ভাবলেই কেমন রাগ লাগছে। আদরের রাগ বাড়ছে দ্রুত গতিতে। সে বোধহয় এবার ছোঁয়ার গায়ে হাত তুলে দেবে। কিন্তু এমন অঘটন ঘটতে দিলেন না আদরের মা-বাবা আর বাড়ির মানুষজন। উনারা দরজার সামনে দাঁড়িয়েই ছোঁয়াকে বললেন,
"ছোঁয়া... দয়া করে বেরিয়ে এসো। আমাদের কথা শোনো।"
ছোঁয়া বেরিয়ে এল। আদর ওখানেই পড়ে রইল। দরজা আটকে অভিকার ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল, কথা বলল, হাত দিয়ে ছুঁয়ে দিল ছবিতে থাকা অভিকাকে। ইশ! ওকে ভালোবাসার মানে শেখানো মেয়েটা ওকেই ছেড়ে চলে গেল। কেন গেল? কেন পুড়ালো এভাবে? গত চারটা বছর ধরে পুড়ে যাচ্ছে সে। ম রার মতো বেঁচে আছে কেবল মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে!
.
ছোঁয়া জানতে পারল, ওই রুমে কাউকেই অ্যালাউ করে না আদর।সেখানে তার প্রথম স্ত্রী অভিকার সমস্ত স্মৃতি আছে।তার জামাকাপড়, ছবি, ব্যবহারের বিভিন্ন জিনিসপত্র। আদর বেশিরভাগ সময় ওই রুমেই কাটায়। ছোঁয়ার কেমন যেন লাগল। স্ত্রীর প্রতি এতই ভালোবাসা, তাহলে তাকে বিয়ে করল কেন? উত্তরটা পেয়েও গেল। আমিরার জন্য, কেবল আমিরার জন্যই ছোঁয়াকে বিয়ে করেছে আদর! ওর জায়গায় অন্য কেউ হলে কী করতো?হয়তো রেগে যেত,আমিরার উপর রাগ হতো,বালিশে মুখ গুঁজে কান্নাকাটিও করত। সেদিক থেকে ছোঁয়া শান্তই আছে। ও নিজেও তো স্বার্থের জন্যই আদরকে বিয়ে করেছে! এর থেকে ভালো ব্যবহার আশা করাটাই বোকামি।
.
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গেছে ছোঁয়া। বাড়ির সবাই উঠে গেছে। আহির আর ছায়াকে কেউ বিরক্ত করবে না এমনিতেই। আদর কোথায়, তা কেউ জানে না। ছোঁয়া একটা বই নিয়ে সোফায় বসল। খেয়াল করল, তার কোলে এসে ছোট তুলতুলে এক পরী বসেছে। মেয়েটার গায়ে গোলাপি রঙের জামা। ছোঁয়ার গায়েও একই রঙের একটা জামা। মেয়েটা ছোঁয়ার মুখে হাত দিয়ে আঁকিবুঁকি করছে।ওকে বলছে,
"মাম্মি, তুমি হাসো না কেন? হাসলে তোমাকে দারুণ লাগে।" "তাই?"
"হুম,তাই।"
ছোঁয়া আমিরার দুই গালে চুমু দিয়ে বলল,
"ঠিক আছে, এবার থেকে হাসব। আমাকে একটা কথা বলো তো, তুমি ঘুম থেকে উঠলে কখন?"
"এক্ষুনি। তুমি আমাকে ছেড়ে আসলে কেন? আমি খুউউব ভয় পেয়েছি।"
"ভয় পায় না আমিরা। আমি আছি তো। আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।"
নিজের হাত বাড়িয়ে দিল আমিরা। ইশারায় ছোঁয়াকে সেই হাত ধরে প্রমিজ করতে বলল। ছোঁয়া বলল,
"প্রমিজ। আমি তোমার সাথে থাকব। তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।"
"আই লাভ ইউ মাম্মি,আই লাভ ইউউ..."
"লাভ ইউ টু, প্রিন্সেস।"
সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে মেয়ে আর ছোঁয়াকে দেখছিল আদর। মেয়েটার খুশি দেখে তার আনন্দ হচ্ছে। আচ্ছা, ছোঁয়া কি সারাজীবন এমন থাকবে?এভাবেই ভালোবাসবে আমিরাকে? হয়তো বাসবে!আবার নাও ভাবসে পারে,
.
একটা অন্ধকার রুমে পাতানো চেয়ারে বসে আছে প্রত্যুষ। সামনের টেবিলে রাখা মদের বোতল থেকে মদ ঢেলে খেয়ে যাচ্ছে সমানে। ছোঁয়াকে এতদিন সামান্যতম গুরুত্ব দেয়নি সে। ভেবেছে—যাই করুক, মা রুক, কা টুক, ছোঁয়া ওরই থাকবে, ওকেই ভালোবাসবে। কিন্তু প্রত্যুষের ভাবনা যে ভুল! ওর ছোঁয়া আর ওর নেই, অন্য কারোর হয়ে গেছে। অন্য কারোর ঘরণী হয়েছে সে, অন্য কেউ তাকে স্পর্শ করেছে। উফ! ভাবলেই মাথায় আগুন জ্বলছে। আচ্ছা, ছোঁয়াকে ফিরতে বললে কি সে ফিরবে? প্রত্যুষের ভাবনায় ছেদ পড়ে। ওর বন্ধুরা দরজা খুলে ভেতরে আসে। প্রত্যুষকে বলে,
"ছোঁয়ার হাজব্যান্ডের নাম আদর আহসান। উনার বিশাল কোম্পানি আছে। বাড়ি, গাড়ি, টাকা কোনো কিছুরই অভাব নেই। খোঁজ নিলাম।"
"তো? আমি কী করব?এসব আমাকে শোনাচ্ছিস কেন?"
"শোনাচ্ছি কারণ আমরা এটাই বোঝাতে চাইছি, তুই যা চাইছিস তা হবে না। আর ছোঁয়া কেনই বা তোর কাছে ফিরবে বল তো? তুই ওকে কী দিয়েছিস? সুখ, শান্তি, ভালোবাসা কিছুই তো দিসনি!"
প্রত্যুষ রেগে গেল। বন্ধুকে বলল,
"চুপ, চুপ, চুপ! একদম চুপ! কা টা গায়ে নুনের ছিটে দিচ্ছিস না? তোদেরকে কে আসতে বলেছে? তোরা চলে যা এখান থেকে।"
চলে গেল ওরা। প্রত্যুষের পাগলামি বাড়ল।মদের বোতল, গ্লাস আর প্রিয় গিটারটা ভেঙে ফেলল সে।ছোঁয়াকে তার বড্ড মনে পড়ছে। মনটাও পুড়ছে, দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে ভেতরে। ফোনটা খুঁজে ছোঁয়ার নাম্বারে কল দিল সে। ছোঁয়া তখন ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছে। আমিরা ওর জামায় কফি ফেলে দিয়েছিল, সেই জামা পাল্টাতে গিয়ে মনে হলো গোসল করে নেবে, তাই করল সে। মাথার ভেজা চুলগুলো মুছতে মুছতে রুমে এল ছোঁয়া। আদর সোফায় বসে ল্যাপটপ ঘাটছে।আমিরা তার নতুন চাচির কাছে আছে।ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে ছোঁয়ার দিকে তাকাল আদর। ওকে বলল,
"কালকের ঘটনার জন্য... স্যরি।"
ছোঁয়া প্রত্যুত্তরে কিছুই বলে না। আদরের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ সরায় অন্যদিকে। আদর উঠে আসে।ছোঁয়ার হাত টেনে ওকে নিজের দিকে তাক করায়।ফের বলে,
"স্যরি ছোঁয়া। তুমি আমাকে যেমন ভাবছ, আমি তেমন নই।আমি মেয়েদের অসম্মান করি না।"
"জানি।"
"কী জানো?"
"আপনি মেয়েদের অসম্মান করেন না,আমি তার প্রমাণ পেয়েছি কাল।"
"তখন আমি রেগে ছিলাম। আমার হোশ-জ্ঞান ছিল না, তাই ওভাবে বলে ফেলেছি। তার জন্য আমি স্যরি।"
"হুম... ইটস ওকে।"
ছোঁয়া আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আদর তাকিয়ে থাকে মেয়েটার দিকে। ছোঁয়ার ফোনটা সাইলেন্ট মোডে আছে, তাই প্রত্যুষ যে কল দিয়েছে তা ছোঁয়া দেখেনি। একবার, দুইবার, তিনবার... তারপর আরও কয়েকবার ছোঁয়ার নাম্বারে কল এল। প্রতিবার রিংটোন বেজে কেটে গেল, কিন্তু কেউ রিসিভ করল না। প্রত্যুষ রাগে ফোনটাই ভেঙে ফেলল। মাথার চুলগুলো খামচে ধরে বিড়বিড় করে বলল,
"না ছোঁয়া... এ হতে পারে না। আমাকে পুড়িয়ে তুই সুখে থাকতে পারিস না। আমি তোকে সুখে থাকতে দেব না। কখনোই না! তুই আমার না হলে তোকে আমি অন্য কারোর হতে দেব না।"
প্রত্যুষ পাগলামি করছে। ওর সার্ভেন্ট এসেছে রুমে, ওকে সামলাতে পারছে না লোকটা। বাধ্য হয়েই সে ছোঁয়ার নাম্বারে কল দিল। ছোঁয়া রিসিভ করতেই বলল,
"আপামণি, তাড়াতাড়ি আসেন।ভাইজানরে সামলানো যাইতেছে না।"
প্রত্যুষের মা নেই,বাবার অন্য সংসার আছে; আর এইজন্যই ওর প্রতি ছোঁয়ার এত মায়া।ছেলেটা বিগড়ে গেছে তা ছোঁয়া জানে। ভেবেছিল ওর ভালোবাসা দিয়ে ওকে শুধরাবে, কিন্তু তা হয়নি। প্রত্যুষ ওকে টেকেন ফর গ্রান্টেড ভেবে নিয়েছিল। থাকতে দাম দেয়নি, আর এখন এমন পাগলামি করছে।প্রত্যুষের প্রতি রাগ থাকলেও এই মুহূর্তে চিন্তা হলো,আর সেই চিন্তা থেকেই বলল,
"মানে? কী হয়েছে?"
"ভাইজান পাগলামি করতেছে।ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করছে, এখন নিজের ক্ষতি করতেছে।উনার হাত কা ইট্টা র ক্ত ঝড়তাছে। আপনি তাড়াতাড়ি আসেন আপামণি, কিছু একটা হইয়া যাইব।"
ছোঁয়া কী বলবে বুঝতে পারল না। ওর যাওয়াটা কি ঠিক দেখাবে? এ বাড়ির লোকজন বা আদর জানলে কী বলবে? ওর চরিত্র নিয়েও কথা উঠতে পারে।কিন্তু ছোঁয়া যে নিজেকে আটকাতে পারছে না। বন্ধুত্বের খাতিরে হলেও একবার যাওয়া উচিত বলে মনে হচ্ছে।ছোঁয়া আদরকে বলল,
"আ... আমি আসছি।বাইরে যাব, একটু দরকার আছে।"
"দেওয়ালে টাঙানো ঘড়ির দিকে তাকাও।"
ছোঁয়া প্রশ্ন করে,
"কেন?"
"তাকাতে বলেছি, তাকাও।"
ছোঁয়া ঘড়ির দিকে তাকায়। আদর প্রশ্ন করে,
"কয়টা বাজে?"
"আটটা চল্লিশ!"
"এই সময় তুমি বাইরে যাবে? কেন যাবে? বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে? দেখো, তুমি যার সাথেই দেখা করো না কেন আমার কোনো সমস্যা নেই।তবে তোমার কাজের জন্য আমার মেয়ে বা পরিবারের উপর যেন কোনো খারাপ ইফেক্ট না পড়ে!"
"মি. আহসান, আপনার পার্সোনাল বিষয়ে আমি নাক গলাচ্ছি না, গলাবও না। আপনি আমাকে আপনার মেয়ের কথা ভেবে বিয়ে করেছেন তা আমি জানি।আমি কথা দিচ্ছি.... ওর প্রতি আমার ভালোবাসায় আর যত্নে কোনো ত্রুটি থাকবে না। আপনিও আপনার কথা রাখুন।আশা করব,আমার পার্সোনাল বিষয়ে নাক গলানো থেকে বিরত থাকবেন।"
আদর উত্তর দিল না। দেওয়ার প্রয়োজনও বোধ করল না।ছোঁয়া এর মধ্যে রেডি হয়ে নিচে নামল। সবার চোখের আড়ালে বেরিয়েও গেল।
.
প্রত্যুষের ফ্ল্যাটের সামনে আসতেই ওর বুকের ধুকপুকানি কয়েক গুণ বেড়ে গেল। মনে হলো ভুল করছে, আবার মনে হলো সে বন্ধুত্বের দায়িত্ব পালন করছে মাত্র!ছোঁয়া বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল।এদিকে গাড়িতে বসে থাকা এক গম্ভীর মানব ঘাড় কাত করে বাঁকা হেসে তাকিয়ে রইল মেয়েটার যাওয়ার পানে। তার মনে কী চলছে,তা বোঝা মুশকিল!