অল্প বেঈমানী মন

পর্ব - ২

অল্প বেঈমানী মন বাংলা গল্প - লেখিকা আফরোজা আঁখি

শুধুমাত্র মেয়ের জেদ বজায় রাখতে আদরকে এতো ছলচাতুরির আশ্রয় নিতে হচ্ছে। নয়তো একটা নিরীহ মেয়েকে এভাবে ভয় দেখানো তার স্বভাববিরুদ্ধ। মেয়ের চেয়ে বড় আদরের কাছে আর কিছুই নেই; যাই হয়ে যাক, সে মেয়ের আবদার রাখবে। ছোঁয়াকে সে তার মেয়ের জন্য নিয়ে যাবেই—দরকার পড়লে টাকা দিয়ে কিনে নেবে!

ছোঁয়া বিরক্ত হলো। সে রাগত্ব কণ্ঠে বলল,

"আপনি আমাকে টাকার গরম দেখাচ্ছেন? যা করার করুন, আমি এ বিয়ে করব না!"

ছোঁয়া সেখান থেকে চলে গেলো। আদর তার চলে যাওয়ার পানে তাকিয়ে বাঁকা হাসলো। মেয়েটা এখন রাগ দেখালেও, আদর তার মনের মধ্যে যে ভয়ের বীজ বুনে দিয়েছে, তাতে সে বিয়েটা করতে বাধ্য! আদর কাউকে কল দিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলল। তারপর সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলো সে। কাউকে কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলো।

.

আহির আর ছায়া তখন স্টেজে বসে আছে। আহির ছায়াকে ফিসফিস করে বলছে,

"তোমার বোন এমন করছে কেন বলো তো? ভাইয়া যা জেদি আর ত্যাড়া, ও যদি তোমার বোনকে না পায়,তবে আমাদের বিয়েটাও ঠিকঠাকভাবে হতে দেবে না।"

ছায়া রেগে গিয়ে আহিরকে বলল,

"শোনো, তোমার মতো মেরুদণ্ডহীন ব্যক্তিকে বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। আমি এখনো এখানে কেন বসে আছি জানো? শুধু লোকলজ্জার ভয়ে আর আমার আব্বুর সম্মানের কথা ভেবে!"

"ছায়া, তুমি আমাকে ভুল বুঝছো। তখন ওসব বলেছি ভাইয়া আর আমিরার মুখের দিকে তাকিয়ে। তবে যাই হয়ে যাক, আমি তোমাকে ছাড়ব না।"

ছায়া আর কিছু বলল না। এমনিতেই তার মন ভালো নেই। তার জন্যই তার নিরপরাধ বোনটাকে এতো ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। তার ওপর আব্বু অসুস্থ, কখন কী হয়ে যায় বলা যায় না।এসব ভেবেই মেয়েটা অস্থির হয়ে পড়ছে।

.

রাত পোহালের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন শুরু হবে। বড় মেয়ের বিয়েতে জামশেদ সাহেব অনেক মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন। আত্মীয়স্বজনরা তো এসেই গেছেন। এই মুহূর্তে বিয়ে ভেঙে গেলে কেউ কথা শোনাতে ছাড়বেন না। সবটা সামলাতে না পেরে জামশেদ সাহেব হয়তো আরও অসুস্থ হয়ে পড়বেন। জমানো যা টাকা-পয়সা ছিল, সব তার চিকিৎসা আর ছোঁয়ার পড়াশোনার পেছনেই খরচ হয়ে গেছে। ছায়ার বিয়েটা দিচ্ছেন শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে। এই বিয়ে ভেঙে গেলে সব তছনছ হয়ে যাবে। ছোঁয়া তার বাবাকে হারাতে চায় না, তার অসম্মান হোক তা-ও চায় না।

এদিকে সকালেই কয়েকজন লোক এসে হুমকি দিয়ে গেছে—টাকার বিনিময়ে এ বাড়ি বিক্রি না করলে তারা জোরপূর্বক দখল করবে। রাস্তার পাশে জমি বলে সবার নজর আগে থেকেই। তারা এখানে রেস্টুরেন্ট করতে চায়। এসব বিপদ থেকে পরিবারকে বাঁচাতে হলেও ছোঁয়াকে এই বিয়েতে রাজি হতে হবে।

.

ছোঁয়া তার প্রিয় বন্ধু প্রত্যুষকে কল দিল। তাকে সব জানানো দরকার। প্রত্যুষ কেবল ছোঁয়ার বেস্ট ফ্রেন্ডই নয়!ওদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক আছে।যে সম্পর্কের শুরু আর শেষ দুটোই প্রত্যুষের দিক থেকে হয়েছে।প্রত্যুষ ছোঁয়াকে তার প্রতি দূর্বল করেছে।বাধ্য করেছে ভালোবাসতে আর যখন ছোঁয়া তার প্রতি দূর্বল হলো তখনই প্রত্যুষ কেমন বদলে গেলো।ওকে গুরুত্ব দেওয়াও কমিয়ে দিলো।ছোঁয়ার জীবনের সব থেকে বড় ভুল বোধহয় ওই বখাটেটাকে ভালোবাসা!তবে এই মুহূর্তে এসে একবারের জন্য হলেও ছোঁয়ার মনে পড়ছে প্রত্যুষের কথা।হঠাৎ বিয়ের খবর শুনে ছেলেটা যদি তাকে ভুল বোঝে!যদি উল্টো পালটা কিছু করে ওকে লজ্জায় ফেলে!ছোঁয়ার দিক থেকে ওদের ভালোবাসার সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছে বহু আগেই।তবে বন্ধুত্বটা রয়ে গেছে।ওদের সুন্দর বন্ধুত্বটা নষ্ট হোক তা ছোঁয়া চায় না। তাই সে প্রত্যুষকে দ্রুত আসতে বলল। কিন্তু প্রত্যুষের খুব জরুরি কাজ থাকায় সে আসতে পারল না।

অবশেষে অনেক ভেবে আদরকে কল দিল ছোঁয়া। কল রিসিভ হতেই সে সরাসরি বলল,

"শুনুন... আমি এ বিয়েতে রাজি।"

ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এলো একটি বাচ্চা মেয়ের কণ্ঠস্বর। সে আধো-আধো গলায় বলল,

"মাম্মি... কেমন আচো?"

সেই আদুরে কণ্ঠ শুনে অজান্তেই ছোঁয়ার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল। মেয়েটির কথা অস্পষ্ট হলেও তা বুঝতে ছোঁয়ার এক মুহূর্তও সময় লাগেনি। এর আগেও সে আমিরার সাথে মিশেছে, তাই ওর কথা বুঝতে পারে। উত্তরে বলল,

"ভালো আছি মামুণি। তুমি কেমন আছো?"

"ভালু নেই..."

আমিরাহ্ আর কিছু বলতে পারল না, আদর তার কাছ থেকে ফোনটা কেড়ে নিল। আমিরা গাল ফোলাতেই আদর তার তুলতুলে গালে চুমু দিয়ে বলল,

"আই লাভ ইউ সোনা।"

আমিরা খিলখিল করে হেসে উঠল। বাবা তাকে খেলনা আর চকোলেট দিয়ে ভুলিয়ে দিল। আদর ফোনটা কানে নিতেই শুনতে পেল আমিরা বলছে,

"পাপ্পা... মাম্মিকে এনে দাউউউ।এক্ষুণি।"

আদর মেয়ের দিকে তাকাল। মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বলল,

"এনে দেব।"

"প্রমিজ?"

"পাক্কা প্রমিজ।"

বাবার গলা জড়িয়ে ধরল আমিরা। সে ভীষণ খুশি। মেয়ের হাসিমাখা মুখ দেখে আদরের চোখ জুড়িয়ে গেল। এই হাসিটুকু যেন চিরকাল থাকে। সে ফোনে ওপর প্রান্তে থাকা রমণীকে গম্ভীর গলায় বলল,

"কী চাই?"

"আ... আসলে, আমি রাজি।"

"বিয়েতে?"

"হ্যাঁ।"

আদর বাঁকা হাসলো। মেয়েটা তবে জব্দ হয়েছে! সে ছোঁয়াকে বলল,

"ভেবে বলছো তো?"

"ভেবেই বলছি।আমি এই বিয়েতে রাজি।"

"ঠিক আছে,আমি আসছি।"

কাউকে কল দিলো আদর।ছোঁয়ার জন্য কিছু জিনিস পাঠিয়ে দিতে বলল সে।সাথে বাড়ির লোকেদেরও জানালো বিষয়টা।আদর মেয়েকে নিয়ে একটি বিশেষ রুমে গেল। এই রুমে সে কাউকেই ঢুকতে দেয় না। কেউ কক্ষনো এখানে ঢোকার সাহসও দেখায়নি। এখানে এমন কী আছে? আদর দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। দেয়ালে টাঙানো একটি বড় ছবি; একপাশে রাখা আলমারিতে কতগুলো শাড়ি আর জামা।টেবিল আর ড্রেসিং টেবিলে সাজানো মেয়েদের ব্যবহারের সব সামগ্রী। আমিরা চারদিকে চোখ বুলিয়ে বাবাকে প্রশ্ন করল,

"পাপ্পা, এসব কার?"

আদর উত্তর না দিয়ে আমিরার মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরল। শান্ত স্বরে বলল,

"চুপচাপ শুয়ে থাকো।"

আমিরা তাই করল। আদরের চোখের সামনে ভেসে উঠল চার বছর আগের স্মৃতি। আদরের স্ত্রীর নাম ছিল অভিকা। তাদের বিয়েটা পারিবারিক পছন্দে হলেও বিয়ের পর তাদের সম্পর্কটা ছিল গভীর। গম্ভীর প্রকৃতির আদর অভিকার ভালোবাসায় পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। তাদের সুখে ভরা সংসারে কোনো অশান্তি ছিল না। কিন্তু হুট করেই সব ওলটপালট হয়ে গেল। আমিরার জন্মের সময় মা রা গেল অভিকা।শেষ মুহূর্তে আদরের হাত ধরে সে বলেছিল,

"তুমি আমাকে কথা দাও আদর,আমাদের মেয়েকে তুমি আগলে রাখবে।ও যখন যা চাইবে,তাই এনে দেবে।দুঃখ যেন ওকে ছুঁতে না পারে।"

স্ত্রীর স্পর্শ অনুভব করে সেদিন আদর কথা দিয়েছিল মেয়েটিকে সে রাজকন্যার মতো রাখবে। পুরোনো স্মৃতি মনে পড়তেই আদরের চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এলো। সে তার মেয়ে আমিরার সব কথা রাখবে; যা চাইবে তা-ই এনে দেবে, তা কোনো বস্তু হোক কিংবা মানুষ!মেয়ের খুশির জন্য আদর সব করতে পারে।দরকার পড়লে নিজের জানও দিতে পারে।

.

আজ আহসান মঞ্জিলে দুজন নতুন বউ এসেছে। একজন আহিরের স্ত্রী, অন্যজন আদরের।শেষ মুহূর্তে ছোঁয়ার সম্মতির কথা শুনে সবাই অবাক হয়েছিল।জামশেদ সাহেবের বিশ্বাস হচ্ছিল না,তবে মেয়ের মঙ্গলের কথা ভেবেই তিনি শান্ত হলেন। আদরের পরিবার যথেষ্ট মার্জিত।আদর সম্পর্কে যা শুনেছেন তা-ও ভালো।সমস্যা একটাই সে বিবাহিত আর তার একটি সন্তান আছে।কিন্তু মানুষের জীবনে দ্বিতীয় সূচনাও হয়।নতুন করে অনেকেই জীবন শুরু করে।এতে দোষের কিছু নেই ভেবেই তিনি মেয়েদের তুলে দিলেন আহসান পরিবারের ছেলেদের হাতে।

.

পরনের ভারী বিয়ের শাড়িটা পাল্টে পাতলা একটি শাড়ি পরে নিয়েছে ছোঁয়া। আমিরা তার সাথেই আছে। কিছুক্ষণ গল্প করে ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে সে।মেয়েটাকে দেখলেই ছোঁয়ার এক অদ্ভুত অনুভূতি হয়; মা না হয়েও যেন মাতৃত্বের টান অনুভব করে। এই একরত্তি বাচ্চাটার তাকে ঘিরে কত স্বপ্ন, কত আবদার! এখানে আসার পর ছোঁয়ার সব রাগ আর অভিমান জল হয়ে গেছে। আমিরা তাকে মায়ের আসনে বসিয়েছে। ছোঁয়ার মনের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রশান্তি কাজ করছে।বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা আমিরার কপালে আলতো করে চুমু দিল ছোঁয়া। ওর ছোট্ট হাতটা ধরে বিড়বিড়িয়ে বলল,

"আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসব সোনা।তোমাকে কখনোই তোমার মা থাকার অভাব বুঝতে দেব না।আমি তোমার মা হব।তোমাকে সবসময় আগলে রাখব।এই দেখো... তোমার হাত ছুঁয়ে প্রমিজ করলাম।"

আমিরা জেগে থাকলে হয়তো খিলখিল করে হেসে উঠত।ছোঁয়াকে জড়িয়ে ধরে শখানে চুমু খেতো ওর পুরো মুখে।তা ভেবে হাসে ছোঁয়া।তখন বিছানায় পড়ে থাকা স্মার্টফোনটি বেজে উঠল। স্ক্রিনে 'প্রত্যুষ' নামটা দেখেই ছোঁয়ার অভিমান আরও বাড়ল।খুব কষ্টও হলো।সে কলটা রিসিভ করল না।বারবার রিং হওয়ার পর সে বাধ্য হয়ে কলটা ধরল।ওপাশ থেকে উচ্চস্বরে প্রত্যুষ বলে উঠল,

"ডিড ইউ গেট ম্যারিড?"

"ইয়েস!"

"এসবের মানে কী ছোঁয়া?"

"আ... আমার কথা শোন।রাগ করিস না প্লিজ।"

"রাগ করব না? সিরিয়াসলি? জানিস? আমার প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে। তোকে মে রে ফেলতে ইচ্ছে করছে!"

"প্রত্যুষ!"

"চেঁচাবি না একদম!"

ছোঁয়া স্পষ্ট বুঝতে পারছে প্রত্যুষ কাঁদছে। প্রত্যুষের মতো কঠিন মনের ছেলে কাঁদছে? কেন এই কান্না? ভালোবাসা হারানোর কষ্টে? প্রত্যুষ কি আদৌ তাকে ভালোবাসত? তবে কেন বারবার তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল? কেন বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেনি? এই মুহূর্তে প্রত্যুষের প্রতি প্রচণ্ড রাগ হলো ছোঁয়ার। সে বলল,

"রাখছি।"

"কেন রে? বর ডাকছে? বাসরটা কি এখনই শুরু করবি? অন্য পুরুষের স্পর্শ পেতে খুব ভালো লাগবে,তাই না?"

"অন্য পুরুষ? উনি আমার স্বামী। আমাকে স্পর্শ করার সম্পূর্ণ অধিকার উনার আছে। আর এই মুহূর্তে তুই আমার কাছে পরপুরুষ। তোর সাথে কোনো সম্পর্ক রেখে আমি উনাকে ঠকাতে চাই না। রাখলাম।"

ছোঁয়া কলটা কেটে দিল। বালিশে মুখ গুঁজে কিছুক্ষণ নিঃশব্দে কাঁদল সে। প্রত্যুষের সাথে তার পরিচয় স্কুলজীবন থেকে। ছেলেটা একটু বখাটে টাইপের।মা রপিট করে,নেশা করে। এসব কারণেই ছোঁয়ার বাবা ওকে একদম পছন্দ করতেন না। তবু ছোঁয়ার মনে হতো, সে বললে বাবা হয়তো রাজি হতেন।এই বখাটে ছেলেটাকেই যে কেন ছোঁয়া ভালোবেসে ফেলল,তা সে নিজেও জানে না।ওদের গানের একটা ব্যান্ড ছিল, যেটা অনলাইনে বেশ জনপ্রিয় ছিল।কিন্তু ছোঁয়া নিজের ক্যারিয়ারের খাতিরে সেই জগত থেকে দূরে সরে এসেছে। তার এই বিয়ের খবর বন্ধুদের কাউকে সে জানায়নি।

হঠাৎ ছোঁয়ার কানে ভেসে এলো এক গম্ভীর পুরুষালি কণ্ঠস্বর। দরজার দিকে তাকাতেই দেখল আদর দাঁড়িয়ে।সে ঠান্ডা গলায় বলল,

"বয়ফ্রেন্ড কল দিয়েছিল বুঝি?"

ছোঁয়া অস্বস্তি বোধ করল। মাথা নিচু করে বলল,

"না... না, তেমন কিছু নয়।"

আদর রুমে প্রবেশ করতে করতে বলল,

"তুমি কেমন মেয়ে, কী করতে বা না করতে, কাদের সাথে মিশতে—এককথায় তোমার অতীত আর বর্তমান সব জেনেশুনেই আমি তোমাকে বিয়ে করেছি ছোঁয়া।তাই আমার থেকে কিক্সহু লুকানোর বৃথা চেষ্টা করো না।"

ছোঁয়ার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। সে কি ভয় পেল? কিন্তু ভয় পাওয়ার তো কিছু নেই; তারা দুজনেই জানে এই বিয়ের নেপথ্যে কী কারণ আছে!ছোঁয়ার ভয়ার্ত মুখ দেখে আদর আবারও বলল,

"ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তোমার অতীত নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।আমি তোমাকে বিয়ে করেছি আমার মেয়ের জন্য। ওর যত্নে যেন কোনো ত্রুটি না থাকে সেটাই আমার একমাত্র চাওয়া।"

বিজ্ঞাপন