ইয়াশ আর কাশফিয়ার মধ্যে কোনো কিছু নিয়ে তুমুল ঝগড়াঝাটি হয়েছে। ঝামেলার সূত্রপাত কাশফিয়ার দিক থেকেই নিজের ভুল বুঝে সে ক্ষমাও চেয়েছে ইয়াশের কাছে। কিন্তু ইয়াশ তখনও রেগে ছিল। এই ইয়াশ এমনিতে ঠান্ডা মেজাজের, রাগে না তেমন। কিন্তু যখন রাগ করে, তখন আর এ রাগ সহজে ভাঙে না।
ইয়াশ রুমে আসছিল, কিন্তু কথা বলছিল না কাশফিয়ার সাথে। মেয়ের সাথেই ওর যত গল্পগুজব! কাশফিয়াকে পাত্তা দিচ্ছিল না। কাশফিয়ার অভিমান হলো। ইয়াশের পথ আটকে বলল,
"আমাকে এখন আর ভালো লাগেনা তাই না? আমি অসুন্দর হয়ে গেছি? এখন আর উপমার সৌন্দর্য মুগ্ধ করেনা আপনাকে? অন্য কাউকে ভালো লাগে বুঝি? আমার জায়গাটা অন্য কাউকে দিয়ে ফেলেছেন?"
ভ্রু কুঁচকাল ইয়াশ। বড়সড় ধমক দিল কাশফিয়াকে। ইরা ঘুমিয়ে ছিল, বাবার এমন ধমকে কেঁপে উঠেছে সে, কান্না করে উঠে বসেছে বিছানায়। কাশফিয়ার অভিমান আরও বাড়ল। ও যা ভাবে, তাই কি তবে সত্যি? ইয়াশ এখন আর আগের মতো ভালোবাসে না ওকে! ইয়াশ অফিস যেতেই মেয়েকে নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে চলে এসেছে কাশফিয়া।
ইয়াশ বাসায় এসে যখন খুঁজে পেল না ইরা আর ওর উপমাকে, পাগল পাগল লাগছিল তখন নিজেকে। ইনায়াকে ফোন দিলে জানতে পারল, কাশফিয়া ওদের বাড়িতেই গেছে। নিশ্চিত হলো ইয়াশ, দেরি না করে সেও বেরিয়ে পড়ল কৌশিকদের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে।
___________________
কাশফিয়া ওয়াশরুমে ছিল। ইরা, ইনায়ার ছোট্ট বাচ্চাটার সাথে খেলছে। ভেজা তোয়ালে হাত থেকে রাখতেই কাশফিয়ার চোখ আটকাল বিছানায় রাখা বেশ কয়েকটা গোলাপ ফুল, ৪-৫টা শাড়ি আর কয়েক ডজন রঙবেরঙের চুড়ির দিকে। সাথে একটা সুন্দর দেখতে চিরকুট। কাশফিয়া হাতে নিল হলুদ রঙের চিরকুটটা। গুটি গুটি অক্ষরে লেখা চিরকুটে,
মায়াবতী উপমা...
✦ রাইটার'স নোট ✦
এই ছোট্ট লেখাটার নাম দিলাম "ইয়াশের উপমা"
কেন লিখেছি জানিনা। হুট করেই ইচ্ছে হলো ওদের নিয়ে কিছু একটা লিখি। বেশি কিছু না ভেবে লিখে ফেললাম। আপনারাও পড়ে মন্তব্য করতে ভুলবেন না।
আমার প্রিয়তমা স্ত্রী, আমার ছোট্ট রাজকন্যার আম্মু, আমি তোমাকে ভালোবাসি। ঘটা করে বারবার ভালোবাসি না বললেও ভালোবাসি! তুমি কি ভাবলে, তোমার সৌন্দর্য আমার ভালোবাসার কারণ? না উপমা, তোমার মুখে ব্রণ বেরিয়ে সুন্দর রঙ মলিন হয়ে গেলেও আমি তোমাকে ভালোবাসব। তোমার সৌন্দর্যের অন্যতম কারণ ঐ ঘন কালো কেশগুচ্ছ না থাকলেও আমি তোমাকে ভালোবাসব। তোমার সৌন্দর্য আমাকে টানেনি কোনো কালেই, টেনেছে তো বাচ্চাসুলভ আচরণ আর নিষ্পাপ মনটা! আমি তোমাকে ভালোবাসি উপমা। রবি ঠাকুরের কবিতার মতো ভালোবেসে বলতে চাই,
"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার,
জনমে জনমে, যুগে যুগে, অনিবার।"
তুমি হেসেছ তাই না? মন গলেছে তোমার! আর রাগ করে থেকো না লক্ষীটি। রাগলে তোমায় ভালো দেখায় না,আমার উপমাকে প্রাণোজ্জ্বল মুখে, সুন্দর হাসিতেই বেশি ভালো লাগে! এই একশো একটা লাল গোলাপ আর রঙবেরঙের প্রত্যেকটা শাড়ি-চুড়ি আমার উপমার রাগ ভাঙানোর উপহার।
ইতি
ইরার পাপ্পা।
কাশফিয়ার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল মুহূর্তেই। মন খারাপ উড়ে গেল কোথায় যেন। মেয়েরা তো এমনই হয়, মোমের মতো নরম, কেউ একটু ভালোবাসা দিলেই গলে যায় তারা। কাশফিয়াও আলাদা নয়। ইয়াশ যেমন তাকে ভালোবাসে, তেমন শাসনও করে মানে এটা। কিন্তু মাঝে মাঝে অবুঝের মতো ভুল করে বসে সে নিজেই। রাগ-অভিমান দূরে ঠেলে দিল কাশফিয়া। বেছে বেছে সুন্দর একটা শাড়ি, তার সাথে মিলিয়ে চুড়ি পরে নিল সে। খোপায় গাঁথলো তরতাজা সুন্দর একটা লাল গোলাপ। ইয়াশ তখন দাঁড়িয়ে ছিল দরজার সাথে হেলান দিয়ে। আয়নায় ইয়াশের প্রতিচ্ছবি দেখতেই মাথাটা নুইয়ে নিল কাশফিয়া। ইয়াশ এগিয়ে এল কাশফিয়ার কাছে। জড়িয়ে ধরে বলল,
"ভালোবাসি ইরার মাম্মা।"
কাশফিয়া ঘুরে তাকাল, ইয়াশের মাথার ঘন চুলগুলো হাত দিয়ে এলোমেলো করে দিয়ে বলল মিষ্টি হেসে,
"ভালোবাসি ইরার পাপ্পা।"
ভালোবাসা ও দোয়া নিবেন।🌷