ইরার ছোট্ট পা দুটোতে আলতা লাগিয়ে দিচ্ছে কাশফিয়া। সুন্দর একটা লাল, সাদা রঙের শাড়ি পড়িয়েছে ওকে, সাথে ম্যাচিং ব্লাউজ। লাল পাড়ের সাদা শাড়িটা ইরার শরীরে মানিয়েছে ভালো। ঠিক যেন পুতুলের মতো লাগছে ওকে। কাশফিয়া নিজেও একই রকম ডিজাইন আর রঙের শাড়ি পড়েছে, লম্বা চুলগুলো সব খুলে রাখা ওর। মায়ের সাথে নিজের সাজপোশাক সব মিলেছে দেখে ভীষণ খুশি ইরা, কিন্তু ওর চুলগুলো যে ছোট! মেঝেতে পড়ে থাকা মায়ের লম্বা চুলগুলো বারবার সে নিজের মাথায় এনে লাগাচ্ছে, আয়নার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলছে কাশফিয়াকে,
"মাম্মা, দেকোতো ইরাকে চুন্দর লাগছেনা?"
মেয়ের আদুরে কথাগুলো শুনলে সবসময়ই হাসি পায় কাশফিয়ার, এখনও তার ব্যতিক্রম হয়নি ওর এমন কাণ্ড দেখে হেসে উঠেছে সে। ইরার হাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে এসে দুই গালে দুটো চুমু ফিয়ে বলছে,
"ইরাকে আজ পরীদের মতো সুন্দর লাগছে।"
ইরা হেসে উঠলো মায়ের কথায়, গলা জড়িয়ে ধরে নিজের ছোট্ট পাতলা ঠোঁট দুটো দিয়ে চুমু দিল কাশফিয়ার পুরো মুখে।
ইয়াশ মাত্রই রুমে ঢুকল। মেঝেতে বসে থাকা ইরা আর কাশফিয়াকে দেখল সে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,
"কি হচ্ছে মা মেয়ের মধ্যে?"
ইরা তো নিজের কাজে ব্যাস্ত, কাশফিয়ার চুল গুলো নিয়ে খেলা করছে সে। কাশফিয়া তাকাল ইয়াশের দিকে বলল ওকে,
"দেখছেন না কি হচ্ছে? ইরা ওর পাপ্পার জানকে আদর দিচ্ছে।"
ইরার মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো, মায়ের কথা বুঝতে না পেরে তাকিয়ে রইলো ফ্যালফ্যাল করে। মেয়ের এমন চাহনি আর কাশফিয়ার কথায় বলল ইয়াশ,
"তোমার কি আর বুদ্ধি হবেনা?মেয়ের সামনে কি কথা এসব?"
"হুহ্, আমি বললেই দোষ! মেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে কে যেন আমাকে জড়িয়ে ধরতে বলে? আদর দিতে বলে!"
ইয়াশ মাথায় হাত ঠেকালো,কাবার্ড থেকে কাপড় বের করে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
"এই উপমাকে নিয়ে বিপদে আছি আমি।"
ইয়াশের কথা কানে আসল না কাশফিয়ার। জিজ্ঞেস করল ইরাকে,
"ইরা, তোর বাপ বিড়বিড় করে কি বলছে রে?"
ইরা হাত দুটো দুইদিকে নিয়ে মুখ ভেংচি কেটে বলল,
"কি জানি বাবা।"
কাশফিয়ার বোধ হয় রাগ হলো কোনো কারণে। ইয়াশের কথা না শুনলেও মুখের ভাবভঙ্গি দেখে বুঝল ভালো কিছু বলেনি ওকে। কাশফিয়া তাকাচ্ছে বার বার ওয়াশরুমের দিকে, অপেক্ষা করছে ইয়াশ কখন বেরুবে। ইরা নিজের মতো খেলা করছে। গোলাপ ফুল ছিঁড়ে তার পাপড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলেছে মেঝেতে। অপেক্ষার অবসান হলো কাশফিয়ার। ইয়াশ চলে যেতে চাইলে পথ আটকালো কাশফিয়া। ইয়াশ বার বার পথ ছাড়তে বললেও কাশফিয়া শুনল না তার কথা। এসব দেখে ইরা ভ্রু কুঁচকে একবার তাকাচ্ছে ওর মায়ের দিকে, তো আরেকবার তাকাচ্ছে বাবার দিকে। কাহিনী কি, কিছুই ইরার ছোট্ট মাথায় ঢুকল না। দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন সুফিয়া বেগম। ইরাকে ডাক দিতেই ও দৌড়ে চলে গেলো উনার কাছে। ইরা দাদীর কোলে উঠে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালো বাবা-মাকে, চলে গেলো সুফিয়া বেগমের সাথে। কাশফিয়ার বাচ্চামিতে বিরক্ত হয়ে ইয়াশ গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো ওকে,
"পথ ছাড়ো উপমা। কাজ আছে আমার।"
"কি কাজ শুনি!"
"বললে করে দিবে তুমি?"
"দিতেও পারি!"
"উঁহু, পারবে না তাই বলছিও না।"
ইয়াশ আবারও পা বাড়াল চলে যাবে বলে, কাশফিয়া ডেকে উঠলো ওকে,
"শুনুন!"
ইয়াশ মাথাটা ঘুরিয়ে তাকাল কাশফিয়ার দিকে। এতো সময়ে লক্ষ্য করল ওকে। আজ ইয়াশের উপমা শাড়ি পড়েছে লাল পাড়ের সাদা রঙের শাড়ি, কোমর পেরিয়ে যাওয়া লম্বা চুলগুলো সব খুলে রেখেছে, মুখটা কতো মায়াবী লাগছে ওর। সাদা রঙের সুন্দর শাড়িতে কাশফিয়াকে সদ্য ফোটা স্নিগ্ধ সাদা গোলাপের মতোই সুন্দর লাগছে। ইয়াশের যে চোখ সরছে না ওর থেকে। মনে মনে বাইরে যাওয়ার প্ল্যান ক্যান্সেল করে দিল ইয়াশ।উজ্জ্বলকে মেসেজ করে জানিয়ে দিল সে যাবেনা।ইয়াশ একটু একটু করে কাশফিয়ার কাছে এগিয়ে এসে বলল ওকে,
"বলুন ম্যাডাম।"
কাশফিয়ার রাগ গলে গেলো মুহূর্তেই। হেঁটে গিয়ে আগের মতোই মেঝেতে বসল সে, পা দুটো বের করে তাকাল ইয়াশের দিকে। ইয়াশ হয়তো বুঝল কাশফিয়ার চাহনির মানে! হেঁটে গিয়ে কাশফিয়ার ঠিক সামনে বসল সে। গোলাপের পাপড়িগুলোর পাশে ফেলে রাখা আলতার বোতল হাতে তুলে নিল, কাশফিয়ার পা টেনে নিজের কাছে নিয়ে এসে সুন্দর মতো লাগিয়ে দিল আলতা। কাশফিয়া তাকিয়ে রইলো ইয়াশের মুখের দিকে। এই মানুষটা কাশফিয়ার ভালো থাকার কারণ।এই একটা মানুষের কাছেই নিজের শান্তি খুঁজে পায় সে। কাশফিয়ার কোনো ইচ্ছেই অপূর্ণ রাখেনি ইয়াশ,না চাইতেও বুঝে নিয়েছে সব ভালোলাগা খারাপলাগা। নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে ওকে ভালো রাখার। ইয়াশ এখনো সেই প্রথম দিনের মতোই আছে ভালোবাসে আগলে রেখেছে কাশফিয়াকে। সত্যিই কাশফিয়া ভাগ্যবতী! এই খন্দকারের মঞ্জিলের সবার ভালোবাসা পেয়েছে সে। ছোট্ট ইরা এসেছে ওর কোল আলো করে! সবশেষে ইয়াশের ভালোবাসা পেয়েছে কাশফিয়া। হুম কাশফিয়া তো ভাগ্যবতীই ইয়াশের উপমা সে! কথাগুলো ভেবে আনমনে হাসল কাশফিয়া।ইয়াশ তখনই তাকাল কাশফিয়ার হাসিমাখা মুখটার দিকে ঘাড় কাত করে এক ধ্যানে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। ইয়াশের চোখের সামনে হাত নেড়ে বলল কাশফিয়া,
"কি দেখছেন?"
"আমার উপমাকে।তুমি এতো সময় কি দেখলে শুনি?"
মুচকি হেসে বলল কাশফিয়া,
"আমার চাঁদকে। আমার বর্তমান আর ভবিষ্যৎকে।"
"দিনের বেলায় চাঁদ উঠে বুঝি?"
"হুম, আপনার উপমার মনের আকাশে উঠে।"
ইয়াশ হেসে উঠলো কাশফিয়ার কথায়৷ কাশফিয়া মাথা রাখল ইয়াশের কাঁধে। দুজন মিলে গল্প করল অনেক্ষন।
______________
সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়েছে। বাড়ির সবাই যার যার রুমে আছেন এখন। কিছু সময় আগেই হৈ হুল্লোড়ে মেতে ছিলো পুরো বাড়ি, এখন একটা মানুষের শব্দও শোনা যাচ্ছে না। এই সময়টাতে এমনই হয়, উজ্জ্বল আর ইয়াশ বাইরে চলে যায় যে যার মতো। পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে এখন আর ভাবতে হয় না আনোয়ার সাহেবকে;তাঁর ছেলে আর মেয়ে জামাই সামলে নেয় সবটা। আফিয়া আর সুফিয়া বেগম সারাদিনের কাজের পর নিজেদের রুমে চলে যান বিশ্রাম নিতে। সিমি তো সারাক্ষণ খেলা করে ইরাকে নিয়ে।
আজ আকাশে মেঘ জমেছে, প্রকৃতি পূর্বাভাস দিচ্ছে যখন তখন বৃষ্টি আসার। কাশফিয়া দাঁড়িয়ে আছে বেলকনিতে, দূরে থাকা কদম ফুলের গাছটার দিকে তাকিয়ে আছে এক ধ্যানে। গাছের সুন্দর হলুদ ফুলগুলো মন কেড়েছে কাশফিয়ার। মনে মনে ভাবল, বৃষ্টি আসলেই ভিজবে সে, একগুচ্ছ কদম ফুল হাতে হাঁটবে বৃষ্টি ভেজা রাস্তার মাঝে! সত্যি হলো কাশফিয়ার ভাবনা, ভাবতে না ভাবতেই মেঘ ডেকে শুরু হলো বৃষ্টি। শান্ত প্রকৃতি অশান্ত হলো মুহূর্তেই, ভিজিয়ে দিল সব গাছপালা। বৃষ্টির পানি এসে ছুঁয়ে দিল কাশফিয়ার মুখ। এই জুম বৃষ্টিতে ভিজবে না সে;বৃষ্টির প্রকোপ আরেকটু কমলেই বের হবে। ইয়াশ রুমে নেই, ইরাকে একটু আগেই সিমি এসে নিয়ে গেলো।
কিছুক্ষণ গেলে বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমল। আস্তে আস্তে নিচে নেমেছে কাশফিয়া, গার্ডেনের দিকটায় কদম ফুলের গাছ, আলতা রাঙা পা ফেলে ওদিকেই হেঁটে গেলো সে। কিন্তু কতো চেষ্টা করেও ছিঁড়তে পারল না একটা ফুলও। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে কেউ একজন দেখে যাচ্ছে কাশফিয়ার চঞ্চলতা। মেয়েটার বয়স বাড়লেও মনটা সেই বাচ্চাদের মতোই এখনও! কাশফিয়াকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করা মানুষটা ইয়াশ ছাড়া আর কেউ নয়। ইয়াশের আজ মনে পড়ছে সেদিনের কথা, যেদিন কাশফিয়াকে প্রথম দেখেছিল সে। এমনই এক বৃষ্টিম্লান দিনে, শাড়ি পরিহিত কিশোরী কাশফিয়া হেঁটে যাচ্ছিলো পাকা রাস্তা দিয়ে। হাতে ছিলো একগুচ্ছ কদম ফুল! মেয়েটার সৌন্দর্য, চাহনি, চালচলন, সবকিছুই নজর কেড়েছিল ওর। কী যেন ভেবে মুচকি হাসল ইয়াশ, নেমে গেলো নিচে।
কাশফিয়া হাঁটছে গার্ডেনের পাশের পাকা রাস্তা দিয়ে। পরনে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি। লম্বা চুলগুলো খুলে রাখা, ওর হাঁটার সাথে চুলগুলো ডেউ খেলে যাচ্ছে বারবার। কাশফিয়ার হাতে আর পায়ে সুন্দর করে আলতা লাগানো লাগিয়ে দিয়েছে ইয়াশই। আজ বাঙালি বঁধূর সাজে সেজেছে কাশফিয়া। এই সুন্দর পরিবেশে বৃষ্টি বিলাস করতে দারুণ লাগছে ওর। কাশফিয়ার মনে হলো, পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। তাকাতেই দেখতে পেলো ইয়াশকে। কয়েক পা পিছিয়ে গেলো সে, গলা শুকিয়ে কাঠ। ইয়াশ নিশ্চয়ই বকাঝকা দেবে এখন। গালে একটা চড় দিলেও অবাক হবে না সে, তারপর টানতে টানতে নিয়ে যাবে রুমে।
মিথ্যে হলো কাশফিয়ার ভাবনা, ইয়াশ তেমন কিছুই করল না। বরং ওর সামনে এনে একগুচ্ছ কদম ফুল ধরল। কাশফিয়া অবাক হলো বটে, আজ মহাশয়ের রাগ গেলো কোথায়? বেশি কিছু না ভেবে কাশফিয়া হাতে নিলো কদম ফুল, ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো ওর।
বৃষ্টি কিছুটা কমেছে এখন। ইয়াশের হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে কাশফিয়া। গার্ডেনের দিকটায় পাতানো একটা বেঞ্চে এসে বসে দুজনেই। কাশফিয়ার মাথায় আসল হুট করেই,ইয়াশ তো সেদিন বলেছিল কাশফিয়ার সাথে ওর প্রথম দেখা স্কুলের প্রোগ্রামে, তাহলে কাশফিয়ার মনে নেই কেন? কীভাবে, কখন দেখা হয়েছিল জিজ্ঞেস করবে কি আবার? কৌতূহলী কাশফিয়া প্রশ্ন করল ইয়াশকে,
"আমাদের প্রথম দেখা আমার স্কুলের প্রোগ্রামে, তাই না?"
ইয়াশ কাশফিয়ার এলো মেলো ভিজে চুল গুলো কানের পাশে গুজে দিয়ে বলল,
"হুম।"
"আমার মনে নেই কেন? আমি কি আপনাকে দেখিনি?"
"হয়তো না, দেখলেও তোমার মনে নেই।"
বেশি কিছু না বলে একটাই কথা জিজ্ঞেস করল কাশফিয়া,
"তারমানে আপনার অতীতেও আমি ছিলাম?"
আবারও ছোট্ট করে উত্তর এল ইয়াশের থেকে,
"হুম।"
"অতীতে ছিলাম, বর্তমানে আছি আর ভবিষ্যতেও থাকব।"
ইয়াশ তাকিয়েছে কাশফিয়ার দিকে, ঠোঁট নাড়িয়েছে কিছু বলবে বলে তখনই কাশফিয়া নিজের আঙুল চেপে ধরল ইয়াশের ঠোঁটে। মিষ্টি হেসে বলল ওকে,
"আমি আপনার ভবিষ্যতেও থাকব, প্রফেসর সাহেব। মাথার চুল পেকে যাওয়া পর্যন্ত সঙ্গ দিব। আমরা একসাথে বৃদ্ধ হব, লাঠি ভর দিয়ে হাঁটব। কখনো আমি হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে নিলে আপনি আগলে নেবেন আর আপনি পড়ে যেতে নিলে আমি আগলে নেব।"
ইয়াশ নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে রইলো কাশফিয়ার মুখটার দিকে। মেয়েটা হাসছে, বৃষ্টির টুপটাপ পানিতে ভিজে গেছে পুরো মুখ। ইয়াশের হিংসা হচ্ছে বৃষ্টির পানির উপর,ওর উপমাকে কেন ছুঁবে বৃষ্টির পানি! ইয়াশ উঠে দাঁড়িয়েছে, কাশফিয়ার হাত ধরে ওকে নিয়ে যেতে চাইছিলো রুমে। বাধা দিল কাশফিয়া, ইয়াশকে আবার বসতে বলল নিজের পাশে। ইয়াশও শুনল ওর উপমার কথা, পাশটায় বসতেই ইয়াশের কাঁধে মাথা রাখল কাশফিয়া। হাতটা শক্ত করে ধরে বলল আদুরে গলায়,
"আমার এতো সুন্দর কথার উত্তরে আপনি রাগ করতে পারলেন?দেখেছেন আমি কতোদূর ভেবে নিয়েছি! আপনাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি প্রফেসর সাহেব। দিন মাস বছর অতিক্রান্ত হোক, আপনার প্রতি আমার এই ভালোবাসা না কমুক।"
ইয়াশ অবাক হচ্ছে কাশফিয়াকে দেখে, ওর অবুঝ চঞ্চল উপমা এখন কতো বুঝদার হয়ে গেছে! নিজের দু'হাতের আঁজলায় কাশফিয়ার ছোট্ট মুখটা নিয়ে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল কপালে। শান্ত কণ্ঠে বলল কাশফিয়াকে,
"আমিও তোমাকে ভালোবাসি উপমা। আমার সবটুকু ভালোবাসা কেবল তোমার জন্য। আমার উপমার জন্য!"
ইয়াশের সুন্দর কথায় ভালো লাগায় ছেয়ে গেলো কাশফিয়ার চোখ মুখ। কিছু না ভেবেই ইয়াশের বুকে মাথা রাখল সে। চোখ দুটো বন্ধ করে নিল। এতক্ষণ ধরে ভেজা কাপড়ে থাকায় জ্বর আসতে পারে ভেবে, ইয়াশ কাশফিয়াকে কোলে তুলে নিল। হাঁটতে শুরু করল বাড়ির দিকে। পড়ে যাওয়ার ভয়ে কাশফিয়াও শক্ত করে আঁকড়ে ধরল ইয়াশের গলা। যদিও জানে ইয়াশ থাকতে কোনো বিপদ ওকে ছুঁতে পারবেনা। কাশফিয়া বিশ্বাস করে এই মানুষটা। যতোটা ভালোবাসে ঠিক ততোটাই বিশ্বাস করে!