আমি মোবাইল কানের কাছে নেওয়া মাত্রই অপর প্রান্ত থেকে বললোঃ- চিনতে পারছেন সজীব সাহেব?
- আমি বললাম, ইন্সপেক্টর তামিম হাসান।
- বাহহ দারুণ চমৎকার, আপনার বুদ্ধির প্রশংসা না করে পারছি না সজীব সাহেব। মাত্র অল্পকিছু দিনে আপনি আমার সন্ধান বের করে ফেলেছেন, আমার যদি ক্ষমতা থাকতো তাহলে আপনাকে পেশাদার গোয়েন্দা বানিয়ে দিতাম।
- আমার বিষয় আপনাকে চিন্তা করতে হবে না মিঃ তামিম হাসান, আপনি আপনার লোভ আর পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।
- হাহাহা হাহাহা, পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবো না বলে তো আপনার ব্যবস্থা করলাম। এতদিনের তৈরি করা প্ল্যান এত সহজে কীভাবে বিফলে যেতে দেই বলেন?
- আমি মরে গেলেও কোন সমস্যা নেই, যতদুর তথ্য সংগ্রহ করেছি সেগুলো সব একজনের কাছে জমা দিয়ে এসেছি। আমার অনুপস্থিতির শূন্যস্থান সেই তো পূরণ করবে তাই প্রস্তুত থাকবেন সবসময়।
- আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই সজীব সাহেব।
- জানিনা জবাব দেবো কিনা কারণ শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। আমার ইচ্ছে ছিল সবার সামনে সবকিছু উন্মুক্ত করবো, কিন্তু সামিহার মত আমাকেও চলে যেতে হচ্ছে।
- হ্যাপি জার্নি সজীব সাহেব।
- আপনিও তৈরি থাকেন, শুধু সামিহা নয় তার মা বাবার খুনের শাস্তিও পেতে হবে আপনাকে।
- ওমা তাও আপনি জেনে গেছেন?
- হ্যাঁ জানি আমি। তামিম সাহেব, সামিহার বাবার সাথে আপনার মোটামুটি ভালো পরিচয় ছিল। সেই সুবাদে আপনার সাথে সামিহার পরিচয়, সামিহার বাবার অনেক গুলো টাকা আপনি একটা এনজিওর মধ্যে রাখার পরামর্শ দেন। বেশি লাভের আগ্রহে তিনি রাজি হয়ে যায়, আপনি তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে তার নমিনি হয়ে যান। তিনিও আপনাকে বিশ্বাস করে এবং টাকা গচ্ছিত রাখে। আপনি সামিহার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন আর তলে তলে তার মা-বাবা কে হত্যার পরিকল্পনা করেন। অবশেষে আপনি সফল হলেন, কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে আপনাদের সম্পর্কের কথা কেউ জানলো না কেন?
- বাহহ সজীব সাহেব আপনি এতকিছু বের করে ফেলেছেন? সত্যিই জিনিয়াস ম্যান।
- এমন কি দরকার হলো যে সামিহাকে হত্যা করা দরকার পরলো?
- টুট টুট টুট।
মোবাইল কেটে গেল, আমি সেভাবেই শুয়ে আছি। লোকটা আমার হাত থেকে মোবাইল নিয়ে আবার কল দিয়ে নিজেই হু হা করে কথা বললো। ততক্ষণে তার কাছে আরো দুটি মানুষ দেখতে পাচ্ছি, তারা তিনজনই মনে হয় একসাথে। আমি এই মুহূর্তে একটা সাহায্যের হাত অনুসন্ধান করছি কিন্তু দেখতে পাচ্ছি না কোন যায়গা। চারিদিকে দু একজন হাটাহাটি করে যাচ্ছে কিন্তু তারা কিছু বুঝতে পারছে না। ওরা আমাকে ধর দাঁড় করিয়ে সাইডে নিয়ে গেল। তারপর একজন বললোঃ- " হাত পা বাঁধার দরকার নেই কারণ এ এমন দুর্বল হয়ে গেছে যে পানি থেকে আর উঠতে পারবে না। শুধু শুধু রিস্ক নিয়ে বাঁধার দরকার নেই। "
- আরেকজন তার সাথে একমত হয়ে চারিদিকে তাকিয়ে বললো, " এখনই ফেলে দাও কেউ এদিকে তাকিয়ে নেই, তাড়াতাড়ি করো। "
আমি অস্ফুটে চিৎকার চেচামেচি করলেও কেউ শুনতে পাচ্ছে না। কি এমন খাওয়ালো সেটাই বুঝতে পারছি না আমি, এখন শুধু অপেক্ষা।
ওরা আমার শরীর উঁচু করে আরেকবার এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখল, তারপর সব শেষ। আমি অনুভব করলাম আমার চতুর্পাশে পানি, পানিতে পরার সাথে সাথে পেটের মধ্যে কিছুটা পানি ঢুকে গেল। চলন্ত লঞ্চ মোহনা, আন্টি আর ফাহিমসহ সকল যাত্রী নিয়ে ছাঁদের উপর কালো ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে এগিয়ে যাচ্ছে।