
পর্ব ১
শূন্যতার শহরে বৃষ্টি

পর্ব ২
অপেক্ষার নীল খাম

পর্ব ৩
অভিমানের দেয়াল

পর্ব ৪
বৃষ্টিভেজা এপিটাফ
কিছু উপস্থিতি এতোটাই অভ্যাসে মিশে থাকে যে, তাদের নিঃশব্দ প্রস্থান পুরো পৃথিবীকে এক নিমেষে খাঁ খাঁ শূন্যতায় ঢেকে দেয়। যখন হারানোর তীব্র হাহাকারে উপলব্ধির সূর্য ওঠে, তখন ক্ষমা চাওয়ার সমস্ত দরজায় কেবল চিরবিদায়ের ভারী তালা ঝুলতে দেখা যায়।
এই গল্পটি লেখক আবরারুল হক মনির-এর অনুমতিক্রমে ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গল্পের বাহারে প্রকাশিত হয়েছে।

শূন্যতার শহরে বৃষ্টি

অপেক্ষার নীল খাম

অভিমানের দেয়াল

বৃষ্টিভেজা এপিটাফ
মানুষের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, সে উপস্থিতির মূল্য না দিয়ে কেবল অনুপস্থিতির শূন্যতাকেই অনুভব করতে জানে। ভালোবাসাকে যখন আমরা অহংকারবশত নিত্যদিনের পাওনা ভেবে অবহেলা করি, তখন সম্পর্কের ভিত নিঃশব্দে ধসে পড়তে থাকে। আপন মানুষটি পাশে থাকতে যে কথাগুলো আমরা ব্যস্ততার অজুহাতে এড়িয়ে যাই, সেই কথাগুলোই একদিন সারা জীবনের তপ্ত দীর্ঘশ্বাস হয়ে বুকে বিঁধতে থাকে। ক্যারিয়ার, মোহ আর নিজস্ব স্বাধীনতার মোহে অন্ধ হয়ে আমরা সেই বিশ্বস্ত হাতটাই অনায়াসে আলগা করে দিই, যা বিনা শর্তে আমাদের আঁকড়ে রেখেছিল। সময় চলে যাওয়ার পর দেরিতে ঘটা সেই অনুশোচনার কান্না আর মৃত অতীতে জীবন ফেরাতে পারে না। যে মানুষ নীরবে সব অবহেলা সয়ে নেয়, তার একটি চূড়ান্ত বিদায়ে পুরো অস্তিত্ব চিরতরে নিঃস্ব হয়ে যায়। তখন অর্জিত সমস্ত সাফল্য আর বৈভব তুচ্ছ মনে হয়, কেবল সেই হারিয়ে যাওয়া ছায়ার খোঁজে মন প্রতিনিয়ত কাঙাল হয়ে ফেরে। অনুভূতির অপচয় আর ভুল সময়ের উপলব্ধির এই মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত পাঠকহৃদয়কে গভীরভাবে আলোড়িত করে। গল্পটি আমাদের শেখায় প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে জড়িয়ে থাকা ভালোবাসাকে সময়ের সীমানাতেই সযত্নে আগলে রাখা প্রয়োজন। কারণ সময় ফুরিয়ে গেলে এক বুক শূন্যতা আর অন্তহীন অনুশোচনা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।