অভাগীনির সুখ

পর্ব - ৫

অভাগীনির সুখ বাংলা গল্প - লেখক নিলয় মাহমুদ রাকিব

শারমিন বাসায় যাওয়ার সময় শাশুড়ীর জন্য বাদামবুট কিনে নিলো। বাসায় ঢুকেই শাশুড়ী কে সব দেখালো এবং নিজের ৩ টি সুতি শাড়ি থেকে তার শাশুড়ীকে একটি দিয়ে দিলো। শাশুড়ী কিছু না বললে চুপচাপ নিলো এবং তার জন্য আনা বাদাম বুট দিলো। তিনি নিয়ে খেতে শুরু করে দিলেন। রাতে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো সবাই কারণ পরের দিন বিকেলে ফ্লাইট আজাদ এর। সবাই সকাল সকালই উঠে গেলো। আজাদ এর মা সকাল থেকে শুধু কাঁদছে তার ছেলে চলে যাচ্ছে তাই। দীর্ঘ দিন নিঃসন্তান থাকার পর আজাদ হয়। আজাদ তাদের এক মাত্র সন্তান। শারমিনও কাঁদছে কারণ তার জীবনটা হয়তো অনিশ্চিত হয়ে যাবে আবার। যদি আগের ঘটনা আবার জীবনে ঘটে একারণে। মোমেনা বেগম শারমিন কে কোনো কাজ করতে দিলেন না। দিনটা এভাবেই কান্নাকাটির মাঝখান দিয়ে গেলো।

অতঃপর মাগরিব এর সময় আজাদ বের হয়ে যাবে। শারমিন কে ইচ্ছে মতো মনের তৃপ্তি মিটিয়ে আদর করার পর বললেন,

“বাবা মার খেয়াল রেখো শারমিন। আজাদ শারমিনের হাতে ৩ হাজার টাকা দিয়ে বললো খরচ করিও কিছু লাগলে।” আর আজাদ তার মার হাতে শারমিন কে দিয়ে,

বলল, “মা এখন থেকে শারমিন তোমারই মেয়ে দেখে রাখিও।”

আজাদ সবাইকে বিদায় জানিয়ে বের হয়ে চলে যায়। ওর বাবা আর কয়েকজন বন্ধুরা এয়ারপোর্টে এগিয়ে দিয়ে আসে। শারমিন এর খুব খারাপ লাগে আজাদ চলে যাওয়াতে। নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে দোয়া করে -যেন সবকিছু ঠিক হয়ে যায় এবং আজাদ ঠিকঠাক ভাবে যেনো পৌঁছে যায়। সব ঠিকঠাক রেকে আল্লাহ যেন এবার শারমিন কে সুখ দান করে।

সে রাতে আর ঘুম হলো না শারমিনের, ফজরের পর পর চোখ টা লেগে আসে। ঘুম থেকে উঠে দেখে ১২ টা বেজে গেছে। কিন্তুু শারমিন কে কেউ ডাকে নাই। শারমিন রুমের বাহিরে গিয়ে দেখে ওর শাশুড়ী টিভি দেখছে। শারমিন কে দেখে চা বানিয়ে টেবিলে দিয়ে যায়।

শারমিন বলে “মা আপনি করতে গেলেন কেন আমি করতাম।”

উনি চুপচাপ টিভি দেখলেন কিছু বললেন না। সব কাজ করা আছে। শারমিন নাস্তা খেয়ে বসে বলল

“আমাকে ডাকলেন না কেন মা।”

উনি কিছু বললেন না।

শারমিন বলল মা “আপনার ছেলে কি ফোন করছেছিলো পৌঁছেছে?”

উনি মাথা নাড়িয়ে বলল “না।”

বিজ্ঞাপন

শারমিন বলল “মা আপনার মাথা আঁচড়িয়ে দি।”

উনি মাথার ঘোমটা নিচে ফেলে চুলের খোপা খুলে দিলেন।

শারমিন পরম যত্নে মাথায় তেল দিয়ে চিরুনি করে দিলো।

সারাদিন খেয়ে বসে নামাজ কালাম পড়েই কাটলো শারমিন এর। রাত ১১ টার দিকে ওর রুমের দরজা নক করে ওর শাশুড়ী ওকে মোবাইল ধরিয়ে দিলো।

আজাদ ফোন করেছে বলল “আমি ভালোভাবে পৌঁছেছি

আজাদ জিজ্ঞেস করলো তোমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো?”

শারমিন বলল ‘না।’

সামান্য কিছু সময় কথা বলে আজাদ ফোন রেখে দিলো কারণ সে ক্লান্ত। শারমিন ড্রয়িং রুমের মধ্যে মোবাইল রেখে এসে নিজেও ঘুমিয়ে গেলো। পরেরদিন সকালে ওর শশুর শারমিন কে একটা নতুন মোবাইল এবং নতুন সিম কিনে দিলো। কারণ উনার ছেলে বিদেশ থেকে ফোন করবেন তাই। বিদেশে গিয়ে আজাদ খুব ব্যাস্ত পড়ালেখা নিয়ে। আর অন্য দেশ থেকে যাওয়াতে মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছিলো। কেটে গেলো ৫ মাসের মতো। শারমিন কিছু খেতে পারেনা। শুধু বমি করে। ওর শাশুড়ী বিষয়টা খেয়াল করে নিজে বাজারে গিয়ে প্রেগ্ন্যাসি টেস্ট নিয়ে এসে শারমিন কে দেয়। পরের দিন টেস্ট করে জানতে পারে শারমিন গর্ভবতী। উনাদের খুশি আর ধরে রাখে কে!

আজাদের মা নিজের গলার থেকে চেইন খুলে শারমিন এর গলায় পড়িয়ে দেয় এবং বলে এখন থেকে নিজের যত্ন নিতে। আজাদের মা নিজেই আজাদকে খবরটা জানাই, কারণ শারমিন লজ্জা পাচ্ছিলো। আজাদ তো বেজায় খুশি এবং কিছুক্ষণ শারমিনের সাথে ফোনে কথা বলে নিজের সাথে সাথে বাচ্চারও যত্ন নিতে বলে। আজাদের মা শারমিনের কথা তার বাপের বাড়ির কাউকে বলেনও নাই যে আজাদ বিয়ে করছে। কারণ তিনি চান যে তার বাপের বাড়ির কেউ না জানুক। তার বাপের বাড়ির কেউ আসলে শারমিন কে বলতেন রুমের দরজা বন্ধ করে রাখতে।

আর তিনি যত তাড়াতাড়ি পারতেন বাপের বাড়ির লোকদের বিদায় করে দিতেন। আজাদ ১ দিন বা ২ দিন পর পর কল দিতো। এমনি এসএমএস দিয়ে রাখতো। খোঁজ খবর নিতো। সে ছাত্র হওয়াতে কোনো টাকা পয়সা পাঠাতে পারতো না। উল্টো তার বাবা তাকে প্রতি মাসে টাকা পাঠাতো। তবে শারমিন এর যা লাগে সব ওর শশুর এনে দিতো। দেখতে দেখতে ১ বছর কেটে যায়। শারমিন একটি পুত্র সন্তান এর জন্ম দেয় নরমালে। তার শশুর শাশুড়ী অনেক খুশি নাতি পেয়ে। পুত্র হওয়ার সংবাদ শুনে শারমিন এর বাবা মা ও আসেন দেখতে এবং তাদের নাতীকে প্রাণ ভরে দোয়া করে যাই। আজাদদের ঘরের সময়টা এখন নাতিকে নিয়েই কাটে। শারমিন সুখেই সংসার করছে। নাতি হওয়ার পর থেকে শারমিনের শাশুড়ী তার দেখভাল করে এখন আর রাগ অভিমান নেই।

শারমিন এর ছেলের নাম রাখে আহাদ বয়স বর্তমানে সাড়ে ৩ বছর। আজাদ এখনও একবার দেশে আসতে নাই। তবে দূর থেকে আজাদ তাদের ভালোবাসার কোনো কমতি রাখে নাই। শারমিন এর শাশুড়ী এখন পর্যন্তও তার বাপের বাড়ির কাউকে শারমিন এর বিষয়টা জানতে দেয় নি। ৫ বছর পর আজাদ দেশে ফিরে তার স্ত্রী সন্তান কে কাছে পেয়ে তো খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়।

আর শারমিন এর অতীত স্বামীটা আবার বিয়ে করেছে। তেমন সুখে নাই সারাদিন তাদের ঘরে ঝগড়াঝাঁটি হয়।

শারমিন, আজাদ আর তাদের ছোট্ট ছেলে আহাদকে নিয়ে সুখে সংসার করতে থাকে।

বিজ্ঞাপন