অভাগীনির সুখ

পর্ব - ১

অভাগীনির সুখ বাংলা গল্প - লেখক নিলয় মাহমুদ রাকিব

চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ির উঠোনে সালিশ বসেছে। কারণ প্রবাসী স্বামীর গৃহবধূ শারমিন এর রুমে তার ননদ আর শাশুড়ী বিষাক্ত কালাচ সাপ ছেড়ে দিয়েছে। যেন শারমিন কে ছোবল মারে। গভীর রাতে গৃহবধূকে বিষাক্ত কালাচ সাপ কামড়ে দিয়েছে। শারমিন এর কপাল ভালো তাই সে এই নীরবঘাতক সাপ এর কামড় এর ব্যাথা বুঝে ওঠার সাথে সাথে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে এবং মোবাইলের আলো দিয়ে দেখে সাপ কামড়িয়েছে। সে হাতের কাছে কোনো কিছু না পেয়ে উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে নিজের পড়োনের সালোয়ার এর ফিতা খুলে তার পা বাঁধে।

তারপর তার শাশুড়ী আর ননদকে ডাকে তাকে একটু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তুু তারা বলে,

“এত রাতে পারবো না কাল সকালে নিয়ে যাবো।” আশেপাশে তাদের প্রতিবেশীকে ডাকলে ও তারা দরজা খোলে না। তখন শারমিন বাধ্য হয়ে গভীর রাতে নিজেই খোড়াতে খোড়াতে হাসপাতালে যায়।

আর সকাল হতেই তার শাশুড়ী আর ননদ পাড়ায় রটায়, “ঘরের বধূ ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে পরপুরুষ এর সাথে গভীর রাতে পালিয়ে গেছে।”

তখন প্রতিবেশীরা বলে “রাতে তোমাদের বউ আমাদের ডেকে ছিলো সাপে কেটেছে বলে।”

তখন শাশুড়ী উওর “দেয় ও তো নাটকবাজ। তোমাদের সাথে নাটক করেছে। ও যা ছলছাতুরী জানে তা আমার চৌদ্দ গুষ্টি ও জানে না।”

প্রতিবেশীদের সাথে ওদের সম্পর্ক ভালো না হওয়াতে প্রতিবেশীরাও আর কথা বাড়ায় না। তার শাশুড়ী তার ছেলের কাছে কল করে বউয়ের নামে উল্টো পাল্টা বোঝায় এবং ছেলে তা বিশ্বাস করে।।

দীর্ঘ ৪ দিন মেডিকেল এ ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাপের বাড়িতে ফিরে। কারণ কালাচ ভীষণ বিষাক্ত এবং নীরব ঘাতক। এক কামড়েই চিকিৎসার অভাবে মানুষ ছবি হয়ে যায়। এই ৪ দিন শারমিন এর বাপের বাড়ির লোকজন তার প্রবাসী স্বামীর সাথে যোগাযোগ করতে অনেক চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। হাজার বার কল দেওয়ার পরেও কল রিসিভ করে না। শারমিন বাড়ি আসার পরে শশুর বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা তাকে অপবাদ দেয় যে

বিজ্ঞাপন

“সে ঘরের বউ হয়ে গভীর রাতে কেন বের হবে।” উল্টো তারা শারমিন এর পরিবার এর সাথে ঝগড়া ঝামেলা করে। শারমিনের পরিবার চলে আসে। এভাবে কয়েকদিন যাওয়ার পরে শারমিন খবর পায় তার শাশুড়ীর ভাতিজা কালাচ সাপ ধরে এনে ওর শাশুড়ী কে দেয়। শারমিন এর শাশুড়ী এই সাপ টাকার বিনিময়ে ভাতিজাকে দিয়ে সংগ্রহ করে এবং রাতে শারমিন এর ঘরে ছেড়ে দেয়। পরে শারমিন এর পরিবার চেয়ারম্যান এর কাছে বিচার দিয়ে সালিশ বসাই।

সালিশ পর পর ২ দিন বসে। ১ম দিন সালিশ বসানোর পরে রাতের দিকে ওর স্বামী শারমিন কে ফোন করে বলে

“এ সালিশ যেন বন্ধ করে। এ সালিশ যদি চলে তাহলে শারমিন কে ছেড়ে দিবে।”

শারমিন বলে, “এত দিন পর কিসের জন্য ফোন দিয়েছেন।

স্বামী হয়ে কি এমন কাজ করছেন, যা হওয়ার সালিশে হবে।”

পরের দিন সালিশ হয় এবং সালিশে ওর শাশুড়ীর দোষ প্রমাণিত হয়। তখন সালিশের মধ্যে ওর স্বামী ফোন করে বলে, “এসব বন্ধ করতে না হলে শারমিন কে তালাক দিবে।”

শারমিন বিচার চাই চেয়ারম্যান এর কাছে। আর ওই সালিশেই মোবাইলে তালাক দেয় ওর প্রবাসী স্বামী। তখন শারমিন ওর পরিবার এর সহায়তা নিয়ে থানায় মামলা করে দেয় ওর শাশুড়ী, স্বামী আর ননদ এর নামে।

শারমিন রাগী একটা মেয়ে। তার বাবা মা তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে এই ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছিলো। বিয়ের পর সব মেনে নিয়ে সংসারে মন দেয়। কিন্তুু ওর শাশুড়ী কথায় কথায় ওর দোষ ধরতো এবং গায়ে হাতও তুলতো। আর ওর প্রবাসী স্বামী কখনও এসবে প্রতিবাদ করতো না। সবসময় ওর মা বোনের কথায় চলতো।

থানায় মামলা করার পর ওর শাশুড়ী কে গ্রেপ্তার এর জন্য আবেদন করে। কিন্তুু ওর শাশুড়ী বিষয়টা জানার পর দীর্ঘ দিন পলাতক থাকে। পরে চেয়ারম্যান মীমাংসা করে দেয়। ৩ লাখ টাকা দেয় ওর স্বামী আর শাশুড়ী মিলে কাবিন বাবদ আর যেন মামলা তুলে নেয়। শারমিনরাও মামলা তুলে নেয়।

বিজ্ঞাপন