অভাগীনির সুখ

পর্ব - ৪

অভাগীনির সুখ বাংলা গল্প - লেখক নিলয় মাহমুদ রাকিব

আজাদ বলল “হুটহাট বিয়ে হয়ে যাওয়াতে তোমাকে কিছু উপহার দিতে পারলাম না। কাল একজোড়া সোনার কানের দুল কিনে দিব।”

শারমিন বলল, “এখন লাগবে না আপনি বিদেশ যাচ্ছেন কত খরচ আছে তার কোনো হিসাব নেই। পরে কিনে দিলেও চলবে।”

আজাদ বলল “তোমায় একটু জড়িয়ে ধরি।”

শারমিন কাছে আসলো জড়িয়ে। অতঃপর আজাদ শারমিন পবিত্র ভালোবাসায় মগ্ন হলো। সকালে আগে উঠে শারমিন রুটি বানালো। ওর শাশুড়ী চা বানালো কিন্তুু ওর সাথে কোনো কথা বলল না। আজাদ আর ওর বাবা একটু দেরি করে ওঠে। এই কারণে শারমিন এর শাশুড়ী মোমেনা বেগম আগেই চা খেয়ে ফেলে। সে ২ কাপ চা বানায়। ১ কাপ চা টেবিলে রেখে বাকি ১ কাপ চা সে রুটি দিয়ে খেলো, কিন্তুু মুখে কোনো কথা বলল না। শারমিন খুশি হয়ে সে চা রুটি দিয়ে খেলো। শারমিন কে ঘরের পড়ার জন্য তার থেকে ১ জোড়া জুতা দেয়। কিন্তুু কিছু বলে না। শারমিন এর পায়ের কাছে এনে রেখে চলে যায়। কিছু সময় পর শশুর আর আজাদ উঠলে তাদের নাস্তা দেয়। নাস্তা খেয়ে আজাদের বাবা রাশেদ সাহেব বলল,

-মোমেনা বাজারের ব্যাগ দাও তো। আজকে ১১ জন হুজুরকে দাওয়াত করেছি দুপুরে ভাত খাবে আর কোরআন খতম দিয়ে দোযা করবে।

আজাদ নাস্তা খেয়ে শারমিন আর তার মাকে বলে

“একটু দরকারি কাজে বের হলাম।”

কারণ কালকে তাকে চলে যেতে হবে রাতের ফ্লাইটে।

বিজ্ঞাপন

রাশেদ সাহেব বাজার করে বাড়ি ফিরলো। শারমিন দৌড় গিয়ে বাজারের ব্যাগ তার হাতে নিলো আর শশুর কে পানি দিলো। বাজারের ব্যাগ নিয়ে রান্না ঘরে চলে গেলো। গিয়ে বাজার সব নামিয়ে মুরগি কাটতে বসলো। ওর শাশুড়ীও শারমিনের কাজে সব সাহায্য করে দিচ্ছে, কিন্তুু ওর সাথে কোনো কথা বলছে না। শারমিন শুধু মা মা করছে। তাকে জিজ্ঞেস করছে মা মুরগি কোন সাইজের পিচ করবো।

এই সাইজ ঠিক আছে কিনা দেখেন। তিনি শুধু মাথা নাড়লো। সব কুটে বেছে নিলো রান্না করার সময় শারমিন বলল মা আমি রান্না করবো। তিনি শুধু মাথা নাড়ালেন মানে করতে বললেন। রান্না শেষে শারমিন বলল,

“মা একটু লবণ টেস্ট করে দেখেন সব ঠিক আছে কিনা হুজুররা খাবে তাই খাবারের চেষ্ট ভালো হতে হবে।”

মোমেনা সব টেস্ট করে দেখলেন সব রান্না ঠিক আছে। শারমিন সব গুছিয়ে গোসলে চলে গেলো। গোসল করে এসে তার আগের সেলোয়ার-কামিজ পড়লো কারণ তার কোনো শাড়ি ছিলো না কিংবা সে কোনো কাপড়চোপড় আনে নাই সাথে। গোসল করে ছাদে গেলো কাপড় শুকাতে দিতে। মোমেনা বেগম এটা দেখে কোনো শব্দ ছাড়া নিজের একটা শাড়ি, ব্লাউজ দিয়ে গেলেন শারমিন এর রুমে শারমিনের থেকে মোমেনা বেগম একটু স্বাস্থ্যবান ছিলেন। ওমনি শারমিন পড়ে নিলেন।

হুজুররা আসলো ১২ টার সময়৷ তারপর কোরআন খতম করলেন। কোরআন খতম দিতে দিতে আড়াইটা বেজে গেলো তখন দোয়া করে খেতে বসে গেলেন।

তারপর সবার জন্য শারমিন আর মোমেনা বেগম ভাত বাড়লেন। আজাদ আর তার বাবা হুজুরদের কাছে ভাত, মাংস এগিয়ে দিলেন এবং খাবার পরিবেশন করলেন।

খাবার দাবার খেয়ে সব গুছিয়ে নিতে নিতে বিকেল গড়িয়ে মাগরিব এর আযান হয়ে গেলো। আজাদ শারমিন কে রুমে ডেকে বলল,

“রেডি হয়ে নাও একটু মার্কেট যাবো।”

শারমিন রেডি হয়ে নিলো। আজাদ তার মাকে জানালো মার্কেটে যাচ্ছে তারা। তখন মোমেনা বেগম ২০ হাজার টাকা দেয় শারমিন কে কিছু কিনে দেওয়ার জন্য। মার্কেটে গিয়ে শারমিন এর জন্য আজাদ এক জোড়া সোনার দুল আর একটি হাতের আংটি নিলো ১৭ হাজার টাকা দিয়ে। বাকি ৩ হাজার টাকা দিয়ে সুতির ৩ টি শাড়ি এবং নরমাল ৩ জোড়া সেলোয়ার-কামিজ কিনে দিলো।

বিজ্ঞাপন