অভাগীনির সুখ

পর্ব - ৩

অভাগীনির সুখ বাংলা গল্প - লেখক নিলয় মাহমুদ রাকিব

আজাদ তার বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে ১ম এ এই ঘটনাটি বলে। একদম কোনো সংকোচ ছাড়া।

আজাদ এর বাবা আজদকে বলে,

- বাবা তুমি আগে যাও দেশের বাহিরে পড়ালেখা শেষ করে তারপর না হয় শারমিন এর বিষয় টা ভাবা যাবে।

কিন্তুু আজাদ বলে,

-বাবা আমি শারমিন কে বিয়ে করে রেখে যেতে চাই তোমাদের কাছে। আজাদ তার বাবার পায়ে ধরে বলে বাবা তুমি আমার এই চাওয়াটার মূল্য দাও শুধু। আমি মাকে ও বলিনি বিষয় টা তোমাকে বলছি। বাবা আমার চাওয়া টা তুমি মূল্যায়ণ করো।

আজাদ এর বাবা বলে,

- দেখো বাবা ও যদি অন্য মেয়ে হতো কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তুু তোমার মায়ের ভাইয়ের মানে তোমার মামার ছেলের বউ ছিলো। এতে আমাদের পারিবারিক ভাবে অনেকটা অপমানিত হতে হবে।

আজাদ বলে,

- বাবা আমি আমি আমার নানাবাড়ির সাথে কোনো সম্পর্ক রাখবোনা। তাছাড়া ওদের সাথে আমাদের তো এতটাও ভালো সম্পর্কও নাই।

আজাদের বাবা বলে,

-আচ্ছা বাবা আজাদ আমি তোমার মায়ের সাথে কথা বলে দেখি।

আজাদ এর বাবা যখন তার মা কে এই কথা জানায় তখন তিনি রেগেমেগে আগুন।

আজাদকে চিৎকার করে করে বলে “তুই আর দুনিয়াতে মেয়ে দেখোস নাই।”

আজাদ তার মায়ের পায়ে পড়ে যায়।

-আর বলে তোমরা আমাকে শারমিন কে এনে দাও আর আজকের মধ্যেই। না হলে আমি বিদেশেও জাবোনা আর আমার জীবন দিয়ে ফেলবো।

ছেলের জেদ এর কাছে হার মেনে অবশেষে শারমিন এর সাথে দেখা করে সেই রাতেই আজাদের পরিবার।

কোনো রকম একটা শাড়ি আর একটা নাকফুল দিয়ে শারমিন কে বিয়ে টা করে। বিয়ে টা আজাদের ঘরেই পড়ানো হয়। শারমিন এর মামা কে শারমিন খবর পাঠিয়ে আনিয়েছে বিয়ে পড়ানোর সময়। বিয়ের পরপরই আজাদ শারমিনকে তার বাবার হাতে তুলে দিয়ে বলে,

বিজ্ঞাপন

“বাবা আজ থেকে ও তোমার মেয়ে। তোমার মেয়ের ভালো তুমিই বুঝবা।

শারমিন এর শাশুড়ী ওর সাথে কথা বলে না। তারপরও শারমিন উনাকে জড়িয়ে ধরে। শারমিন এর শাশুড়ী তেমন খারাপ মানুষ না শুধু একটু রেগে আছে এই আর কি। শারমিন এর মামা চলে যায়। আর শারমিন এর শাশুড়ি ও নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়।

আজাদ শারমিন কে শান্তনা দিয়ে বলে, “আল্লাহ ভরসা, এতো চিন্তা করিও না কোনো কিছু নিয়ে।”

আজাদ শারমিন কে নিয়ে রুমে যায়। রুমে গিয়েই তাকে জড়িয়ে ধরে বলে

-অনেক কষ্ট আর সব কিছুর উর্ধে গিয়ে তোমাকে পেয়েছি। কখনও আমাকে কষ্ট দিও না শারমিন। তোমায় সত্যি ভালোবাসি।

লম্বা সময় শারমিন কে জড়িয়ে ধরে রাখে। কারণ আজাদ তার ভালোবাসাকে পেয়েছে এটাই আজাদের বড় প্রাপ্তি।

অতঃপর আজাদ বলে,

- শারমিন আসো রান্না ঘরে রান্না করবো একসাথে। আম্মা রাগ করছে তাই রান্না ঘরে যাবে না। না হলে সবাইকে উপোস থাকতে হবে।

রান্না ঘরে গিয়ে দেখে শারমিন এর শশুর ফ্রীজ থেকে মুরগির মাংস পানিতে রেখেছে বরফের চাপা ছাড়ানোর জন্য। আলু আর বাকি মশলা পাতি বের করে শারমিন কে দিলো। সবাই মিলে এক সাথে তরকারি কাটাকুটি করলো।

শারমিন নিজেই রান্না করলো। আর শারমিন কে ওর শশুর দেখিয়ে দিচ্ছে কোথায় কি আছে না আছে মশলাপাতি, হাঁড়িপাতিল। ঘরের সব জিনিসপত্র বুঝিয়ে এবং দেখিয়ে দিচ্ছেন। রান্না বান্না শেষে সবাই খেতে বসলো। শারমিন এর শশুর গিয়ে উনার বউয়ের রাগ ভাঙিয়ে খাওয়ার জন্য নিয়ে এসে বসালো। উনি খেয়ে উঠে গেলেন কোনো ধরনের কথা বার্তা কিছু বললেন না কারো সাথে। শারমিন এর শশুর সব গুছিয়ে বলল

“আমি ঘুমাতে গেলাম তোমরা ঘরের সব লাইট অফ করে রুমে চলে যাইও।”

আজাদ বিদেশে চলে যাবে, তাই সব বন্ধুদের সাথে কথাবার্তা বললো এবং হুটহাট বিয়ে হয়ে গেছে এসব বিষয়ে কথা বললো।

শারমিন আর আজাদ মিলে একটা লিষ্ট বানালো কালকে শপিং করতে জাবে, কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা কাটা করতে হবে তার।

অতঃপর, শারমিন এর পাশে শুয়ে বলল

-শারমিন আমার পড়ালেখা শেষ করতে প্রায় ৫ বছর লাগবে। আমি ছুটিতে আসবো মাঝেমধ্যে। তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করবে তো। কষ্ট হলে ও মানিয়ে নিও।

শারমিন বলল

-আপনার জন্য শুধু ৫ বছর কেনো অনন্ত কাল অপেক্ষা করতেও রাজি।

বিজ্ঞাপন