আঁধারের তারাবাজি

পর্ব - ১২

🟢

"এই মেয়ে,,দাড়াও।"

ব্যস। থমকে গেলো মোমের পা জোড়া। ঘুরে দাড়ালো পলির দিকে মুখ করে।

"কোন সাহসে তুমি আমার অনুমতি না নিয়ে আমার বাড়িতে থাকতে এসেছো?"

পলির ধমকে হালকা কেপে উঠলো মোম।,,তার দিকে তাকিয়ে নভ বললো..

"বোন,,তুই মোমকে নিয়ে উপরে যা।"

নোভা ঘুরতে নিলে পলি আবারও চেচিয়ে উঠলো...

"নোভা, আমি না করছি,শুনতে পাচ্ছিস না?"

নোভা যেন একটু বিরক্ত হলো।মোমের হাত ধরে টেনে বললো...

"কিউটিপাই।তুমি চলো তো।"

তবে নড়চড় হলো না মোমের।পলির থেকে দৃষ্টি সরিয়ে তাকালো নভের দিকে।নভ আগের মতোই কোমল কন্ঠে বললো...

"ওর সাথে যাও মোম।,,ফ্রেশ হয়ে একটু রেস্ট নাও।আমি একটু পর আসছি।"

মোম শুনলো না।উলটো নিজে বলতে নিলো..

"আন্টি না করে...."

শেষ করতে পারলো না কথাটা।,,নভের কন্ঠের জোর আরেকটু উচু হলো..

"তোমায় যেতে বলেছি মোম।"

মোম সত্যিই ভয় পেয়েছে।কি করবে মাথায় আসছে না,,,তখনই পলি বললো...

"আমি না করেছি ওকে,,,"

নভ তাকালো না পলির দিকে। মোমের দিকে দৃষ্টি রেখেই বললো...

"যাও মোম।"

মোম আরেকটু সাহস সঞ্চয় করে বললে নিলো..

"কিন্তু আন্টি তো..."

ব্যাস,,,ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেলো নভের।চেচিয়ে বললো...

"তুমি আমার সাথে এসেছো এখানে।তাই আমার কথার উপরে আর কারোর কথাই কানে নেবে না।,,,যদি নাও,,তবে আমি এতোদিন যা করিনি,,তা আজ করতে বাধ্য হবো।,,যাও বলছি।"

কেপে উঠলো সকলেই।,,এবাড়ির সকলেই যেমন নভ অন্ত প্রাণ,তেমনি নভের একবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে সকলেই থরথর করে কাপে।,,,

তেমনি নোভাও নিজের ভাইয়ের রাগ সম্পর্কে অবগত।তাই সে বুঝে নিলো,,এই মুহূর্তে এই কিউটিপাইকে এখান থেকে না নিয়ে গেলে,,মেয়েটার আর রক্ষে থাকবে না।,,,,,নিজে একা পারবে না বলে চোখের ইশারায় তিশুর ছোট বোন ইশুকে ডাকলো।ইশুও বুঝলো ব্যপারটা।,,তাই তো এগিয়ে গিয়ে মোমের আরেক হাত আকড়ে ধরে নোভার সাহায্যে টানতে লাগলো।

"চলো মৌচাক,,শুধুশুধু বকা খেও না।।লেটস গোওওও"

বলেই টানতে টানতে নিয়ে গেলো মোমকে।,,,মোমও একবার নভের রক্তলাল চক্ষু গুলোর দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে পারলো না।,,তবে সিড়ি বেয়ে উঠার আগে একবার পলির দিকেও তাকালো।সাথে সাথেই তার ক্ষেপা বাহিনীর ন্যয় দৃষ্টির সাথে চোখাচোখি হয়ে গেলো মোমের।,,,,চোখ নামিয়ে নিলো মোম।,,,নির্জীব সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো নোভা আর ইশুর সাথে।,,

নভ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মোমের যাওয়ার দিকে।,,,যেই না মোমরা নোভার রুমে প্রবেশ করলো,,,তখনই নভ দৃষ্টি সরিয়ে তাকালো পলির দিকে।,,,, মিনিট খানেক পর দৃষ্টি স্থির রেখেই বললো...

"কাকিয়া,, এক গ্লাস পানি দেবে?"

সাথে সাথেই রুবি ডায়নিং টেবিলের দিকে ছুটলো,,,

"দিচ্ছি নভ বাবা।"

পানি এনে দাড়াতেই নভ গ্লাসটা নিতে চাইলো। তবে সরিয়ে ফেললো রুবি।

"আগে বস,,তারপর দিচ্ছি। "

নভ জানে,,তার এই মা তুল্য কাকিয়াটা তাকে দাড়িয়ে পানি খেতে দেয় না।,,তাই সে আর না করলো না।গিয়ে বসলো সোফায়।,,রুবি পানির গ্লাসটা হাতে দিলো তার।,,

"ঐ মেয়েটাকে আমাদের বাড়িতে কেন নিয়ে এসেছিস?"

মুখের সামনে তুলে ধরা পানিটা থেমে গেলো পলির কথায়।,,,রুবি তাকালো নিজের বড় জায়ের দিকে।আবার চোখ ফিরিয়ে কোমল কন্ঠে নভকে বললো...

"পানিটা খেয়ে নে বাবা,,,তারপর কথা বলিস।"

নভ শুনলো।ঢকঢক করে পানিটা শেষ করলো। গ্লাসটা সামনে থাকা টেবিলের উপর রেখে সেই টেবিলেই পায়ের উপর পা তুলে বসলো।,,দৃষ্টি দিলো পলির দিকে।,,,পলি জ্বলে উঠে আবারও বলে উঠলো..

"নিজে তো ঠিক মতো বাড়িতে ফিরিস না।এখন আসলি তো আসলি সাথে কোন একটা রাস্তার মেয়েকে তুলে আন..."

আর বলতে পারলো না পলি।সাথে সাথেই টেবিলে থাকা কাচের গ্লাসটা ছুড়ে ফেললো নভ।,,,,উঠে দাড়িয়ে গজগজ করতে করতে চেচিয়ে বললো...

"ও রাস্তার মেয়ে নয়,,,,বুঝেছো?ও রাস্তার মেয়ে নয়।,,,ওরও একটা ফ্যামেলি আছে।একটা স্ট্যাটাস আছে,,, পরের বার থেকে ওকে রাস্তার মেয়ে বলার আগে কমপক্ষে হাজার বার ভেবে নিবে তুমি।,,,"

বলেই নিচের দিকে তাকিয়ে বড়বড় নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো নভ।,,,,কিছু সময় পর পকেট থেকে ফোন বের করে ফোন লাগালো তার বাবা অবন রায়ানিশকে।

"ড্যাড,,,?"

"হ্যা,,নভ?,,বল,, কি খবর তোর,,,বাড়ি আসবি কবে?"

"ড্যাড,,আমি যদি একটা মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসি তাহলে কি তুমি তাকে থাকতে দিবে?"

"হঠাৎ এমন কথা?"

"আন্সার মি ড্যাড।"

"বাড়িটায় আমার পরে তোরও অধিকার আছে।তুই যাকে ইচ্ছে আনতে পারিস।এতে আমি না করার কি আছে?"

"এই বাড়িটা কার ড্যাড?"

"নভ,,,,এই বাড়িতে প্রত্যেকেরই সমান অধিকার আছে।"

"ওকেয় ড্যাড,,,,আমি আমার অধিকারের আওতায় পরে একটি মেয়েকে আমার গেস্ট হিসেবে বাড়িতে নিয়ে এসেছি।,,,আমি যতদিন এই বাড়িতে থাকবো,,সেও ততদিন থাকবে।,,,,,এখন তুমি তোমার ওয়াইফকে ফোন করে বলে দাও,, যাতে নেক্সটাইম আমার গেস্টের এই বাড়িতে থাকা নিয়ে আর একটাও সিঙ্গেল ওয়ার্ড উচ্চারণ না করে।,,,না হলে কিন্তু আমি আমার গেস্টকে নিয়ে এই বাড়ি ছারবো।এন্ড ইউ নোট ইট,,,,ইট উইল ফর পরেভার।,,"

কেটে দিলো সব।,,,ওদিকে অবন খুশি হয়ে বলতে নিচ্ছিলো..

"তুই বাড়ি ফিরেছিস?"

তবে সে কথা আর শোনা হলো না নভের।,,

নভ এবার সবার উদ্দেশ্যে বললো...

"মোমকে যেন এমন কোনো প্রশ্ন না করা হয় যাতে ওর উপর প্রেশার ক্রিয়েট হয়।,,এটা সকলেই মাথায় ঢুকিয়ে নাও।,,,,আর যার ইচ্ছে হবে,,পারলে ওর সাথে একটু ফ্রী ভাবে মিশতে চেষ্টা করো।,,অনেকদিন একা একা বন্ধি হয়ে ছিলো,, সঙ্গ পেলে হয়তো বেটার ফিল করবে ও।,,,আর ইচ্ছে না হলেও প্রবলেম নেই।,,আমি একাই যথেষ্ট ওর জন্য। "

বলেই গটগট পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলো নিজের নির্ধারিত রুমে।,,,পলিও রাগে ফুসতে ফুসতে রুমে চলে গেলো।

()()()

"আপু,,,রোমিওটা কি খুব ক্ষেপেছে?"

মোমের এমন কন্ঠে ভ্রু কুচকালো নোভা আর ইশু।,,,

"কে রোমিও?"

"ঐ যে আমাকে যে নিয়ে এলো?"

ইশু নোভা একে অপরের দিকে তাকালো..

"ভাইয়ার কথা বলছো?"

"হুম,,,দেখলে না?কেমন ধমকালো তখন।"

হেসে দিলো ইশু আর নোভা।,,,মুখোমুখি হয়ে বসলো তিনজন খাটের উপরে।,,,ইশু উৎসাহ নিয়ে বললো..

"আচ্ছা,,,এখন ওসব ছাড়ো তো। আগে আমরা পরিচিত তো হই?"

নোভা বললো..

"হ্যা হ্যা,,,তো কিউটিপাই,,,বলো?"

ইশু বললো..

"তোমার নাম মৌচাক তাই না?,,,খুব ইউনিক নেইম।আই লাইক দিস। "

মোম হেসে দিলো।

"হ্যা,,,আমার নাম মৌচাক।তবে সবাই ছোট করে মোম বলে ডাকে।চাইলে আপনারাও ডাকতে পারেন।"

নোভা বললো..

"তবে আমি তোমায় কিউটিপাই বলেই ডাকবো। নাহলে মিল খুজে পাবো না তো।,,"

হাসলো মোম...

"আপনাদের নাম কি?"

"আমি অভয়া রায়ানিশ৷ ছোট নাম নোভা।ঐযে ভাইয়ার সাথে মিলিয়ে।"

"আর আমি ইয়াশিয়া রায়ানিশ,,, সবাই ডাকে ইশু বলে।"

হাবিজাবি অনেক কথা হলো তিন জনের মাঝে। এরই মাঝে যোগ হলো আরো অনেকেই।৷ ইশুর বড় বোন তিশু।তাদের দুজনের বড় ভাই নিশান।কোলে তার ৬-৭ মাসের বাচ্চা মেয়ে নীলাশা।,,ওহ,,আরো একজন আছে।নভদের সবার একমাত্র ফুফাতো ভাই নোয়ান।

এদের মধ্যে নিশান ন্যাশনাল ব্যাংকে ম্যানেজিং পোস্টে আছে।তিশুর মাস্টার্স শেস।আপাতত সে একটা ব্রাক অফিসে জব করে,,।দুদিন পর তারই বিয়ে।।।এরপর ইশু,,,যে সবে মাত্র অনার্স ফাস্ট ইয়ার।,,নোভা অনার্স থার্ড ইয়ার,,,,,নোয়ান ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং পড়ছে।,,,,সবার বর্ননা শুনে মোম মুখ বেজার করে বললো.

"যাহ,,,আমি তাহলে সবার ছোট?"

মোমের কথায় সবাই হেসে দিলো।,,,মোম সবে সবে এইস এস সি দিয়েছে।এখনো রেজাল্ট দেয়নি।,,,

নিশান হেসে বললো...

"তুমি ছোট কোথায় মোম?,, তোমার থেকেও ছোট আছে তো?,,,এই যে আমার নীল সোনা।"

তার কথা শুনে মোম কিটকিটিয়ে হেসে দিলো।,,, অনেকক্ষণ কথা বলার কারনে মোম সবার সাথেই ফ্রী হয়ে গেলো নিমেসে।,,মুহুর্তে নভের কথা ভুলেই গেলো প্রায়।,,,মশগুল হলো আড্ডায়।,,

বেশ অনেকক্ষন পর রুমে ঢুকলো রুবি।মুখে মুচকি হাসি,,আর হাতে ট্রে ভরতি নাস্তা।,,এসেই বসলো মোমের কাছে।,,,এতক্ষণে নীল নিশান থেকে মোমের কোলে ট্রান্সফার হয়ে গেছে।,,,কোলে বসে হূত নাড়াচ্ছে,,পা নাড়াচ্ছে। আবার কখনো কখনো খিল খিল করে হেসেও উঠছে।,,,,

মোম তাকালো রুবির দিকে,,,

"কিরে মেয়ে?এমন কি দেখছিস?,,,এখন থেকে তো রোজ দেখবি।এবার খেয়ে নে দেখিনি,,,কতটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছিস কে জানে?"

পরক্ষণেই তার খেয়াল হলো নীল মোমের কোলে।হেসে বললো...

"আরে,,,নীল মনি যে নতুন বন্ধু পেয়ে গেলো।,,কোলেও চরে গেলো।এখন এই বন্ধু খাবে কি করে??,,,,আচ্ছা আমিই খাইয়ে দিচ্ছি না হয়।"

বলতে বলতেই চামচে নুডলস তুলে মোমের মুখের সামনে ধরলো।মোম হাসলো।মুখে তুলে নিলো খাবারটুকু।,,রুবিও খুশি হলেন।একটু খানি বুঝেও নিলেন,এই মেয়ে সহজেই মিশতে পারে।,, মনে মনে খুশিই হলেন।যাক নভ কোনো গোমড়ামুখো নিয়ে আসে নি।,,,

হালকা চিবোতেই মোমের মুখের ভঙ্গি পরিবর্তন হয়ে গেলো।,,,তা দেখে রুবি বললো...

"কিরে মেয়ে,,,খাবারটা ভালো হয়নি?"

মোম চোখ বড়বড় করে বললো..

"কি যে বলো না কাকিয়া,,,,খুব ভালো হয়েছে।এতোদিন তো ঐ রিসোর্টের নুন ছাড়া, ঝাল ছাড়া সাদা সাদা খাবারগুলো খেতে খেতে জ্বীভটাই ক্ষয়ে যাচ্ছিলো আমার।,,অনেকদিন পর এমন মসলাদার খাবার খেলাম বুঝলে? "

মোমের কথা শুনে হেসে দিলো সবাই।,,,রুবিও তাকে খাইয়ে দিতে দিতে বললো...

"তা মেয়ে,,এতোদিন বুঝি নভের রিসোর্টে ছিলি?"

মোমের সাবলীল উত্তর..

"হুম তো,,তোমাদের আদরের নভ,,প্রায় এক মাস আগে আমায় তুলে এনে যে ঐ রিসোর্টে রাখলো,,আর তো কোথাও যেতেও দেয়নি।"

"কিহ?ভাইয়া তোকে তুলে এনেছে?"

নোভার চোখ বড়বড় করা প্রশ্নে ততটাও অবাক হলো না মোম,,,

"হুম তো।তোমরা জানো না?তোমাদের ভাই যেই একটা লেভেলের রোমিও,,,কি বলবো।উপহ।"

মোমের কথা বলার ধরন দেখে ফিক করে হেসে দিলো সবাই।তিশু বললো...

"তবে যাই বলো।ভাইয়া কিন্তু জাবারদাস্ত একটা পিস তুলে এনেছে।একদম হুর।,,,"

ইশুর উৎসাহ বাড়লো,,,

"এই মোম,,,ভাইয়া তোকে কেন তুললো রে?তোরা কি লাভার?"

মুখ কুচকে এলো মোমের,,,

"ধুরর,,এসব কিচ্ছু না বুঝলে?,,আমার আব্বুর সাথে দেনা পাওনা নিয়ে ঝামেলা চলছে।,,তাই প্রতিশোধ নিতে আমায় তুলে আনলো তোমার ভাইয়া।,,"

মুখ কালো হয়ে গেলো প্রায় সবার।এই উত্তরটা যেন একদমই আশা করে নি।,,,নোয়ান বিরক্ত হয়ে বললো...

"ধুরর,,আমরা তো ভাবলাম কি না কি কেমিস্ট্রি।,,"

রুবি বললো...

"তোদের ভাবনা চিন্তা রাখ।,,পরে হবে এসব।এখন তো এই হুর টা কিছুদিন আমাদের কাছেই থাকবে।,,তা মোম,, তুই রেস্ট নিবি এখন?"

মোমের এমনিতে ঘুম পাচ্ছে। তবে আড্ডাও ছাড়তে ইচ্ছে করছে না।তাই বললো..

''না না,,এমনিতেই ঠিক আছি।কথা বলি?"

হাসলো রুবি।,,,তখনই রুমে ঢুকলো নভ,,,

"মোম তুমি ফ্রেশ হয়ে...ওহ,,কাকিয়া তুমিও আছো?,,কাউকে দিয়ে ওর জন্য একটু খাবারের ব্যবস্থা করবে প্লিজ?"

রুবি হাসলো।একটু অবাকও হলো।নভকে আগে কখনো কারোর জন্য এতে উতলা হতে দেখেনি তিনি।তবে তার এই পরিবর্তন সবারই ভালো লাগছে আজ।,,,

"বলতে হবে না নভ।,,,আমি খাইয়ে দিয়েছি ওকে।,,"

"ওহ,,,আমি আরো বলতে আসলাম।,,,মোম তোমার সুটকেস কোথায় রাখলে?"

মোম নীলের সাথে খেলতে খেলতেই বললো...

"ঐ যে কাবার্ডের পেছনে আছে,,,।কেন?"

নভ কিছু বললো না।গিয়ে সুটকেস থেকে মেডিসিন বক্সটা বের করে নির্ধারিত ঔষধ খুলে নিলো।তিনটা টেবলেট,,, আর জগ থেকে পানি এনে ধরলো মোমের মুখের সামনে...

"নাও হা করো।,,"

মোম নীলকে কোলে বসিয়ে একহাত এগিয়ে নিলো..

"আমায় দিন,,,,আমি খেয়ে নিচ্ছি।"

"নো,,,হা করে বলছি,,, কুইক।''

মোম আর কথা বাড়ালো না,, নীলও খুব নরাচরা করছে।তাই নভের হাতেই খেয়ে নিলো ঔষধ গুলো।,,,তবে এই সময় এতোগুলো ঔষধ দেখে অবাক হলো বাকিরা।রুবি তো জিজ্ঞেস করেই ফেললো...

" এতোগুলো ঔষধ কিসের নভ?,,ও কেন খায় এগুলো?"

এতোক্ষণ হাসি খুশি থাকলেও এবার চুপসে গেলো মোম।সে তো ভুলেই গেছিলো তার পরিনতির কথা।,,,সে জানে এগুলো কিসের ঔষধ। কিন্তু নভ তো জানে না।,,এখন কি হবে?,,,এতোদিন তো এসব নিয়ে ভাবে নি মোম।হয়তো ভাইয়া নভকে দিয়েছে ঔষধ গুলো।তবে নভ কি কখনোই জানতে চাইবে না এগুলো কিসের ঔষধ? নাহ,,,নভ তো এতো সরল সিধা নয়।,,,,

সেসব নাহয় বাদ।এখন সবাইকে কি উত্তর দিবে মোম?,,আর এখন যদি নভই ওকে জিজ্ঞেস করে যে ঔষধ গুলো কিসের,,তাহলে কি বলবে মোম?,,তার মৃত্যুটা কয়েকদিনের জন্য ঠেকানোর ঔষধ.?,,নাহ,,,এটা তো বলবে না মোম।সে তো চায় না তার এই কঠিন সত্যিটা নিজের লোক ছাড়া অন্যকেউ জানুক।,,,জানলে যে কেউ দয়া দেখাবে।আর কেউ বা হয়তো মোমকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে।কিন্তু তাতো মেনে নিতে চায়না মোম।নিজের জীবনের অন্তিমদশায় সে সবার সামনে একজন সাধারণ মানুষের মতোই থাকতে চায়।,,,,

এসব চিন্তার মাঝেই নভ স্বাভাবিক ভাবে বললো...

"এমনিই,,,দেখছো না কেমন প্যাকাটির মতো শরীর।এই প্যাকাটিকে ঠিক করার জন্যই এতোগুলা মেডিসিন। "

আঁধারের তারাবাজি পর্ব ১২ গল্পের ছবি