"অদ্ভুত সুন্দর তার চোখ দুটি!"
মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দুই জোড়া কালো আঁখি নজরে পড়ে গেল অনয়ের। বেশ কিছুক্ষণ ধরে একধ্যানে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল সে। ছাদে থাকা মেয়েটি হয়ত অনয়কে খেয়াল করে নাই। কিন্তু, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনয়ের চাচাতো ভাই সাদাব ঠিকই খেয়াল করল।
সে লোক চক্ষুর আড়ালে অনয়ের কনুইয়ে গুঁতো মেরে বলল, "কিরে, ওইভাবে তাকিয়ে আছিস কেন মেয়েটার দিকে?"
"মেয়েটার চোখ দুটো দেখেছিস ভাইয়া? কী সুন্দর! একদম হরিণের মতো টানা টানা!" তন্ময় হয়ে বলল অনয়।
সাদাব উত্তরে কিছু বলার আগেই অনয়ের মা রাবেয়া তাড়া দিয়ে বললেন, "তাড়াতাড়ি ভেতরে যা বাবা, গল্প পরে কর।"
তারা মূল ফটক পেরিয়ে অন্দরে পা বাড়াল। অনয় খুব সন্তপর্নে আরেকবার পরখ করে নিল মেয়েটার চক্ষুজোড়া।
খন্দকার বাড়িতে তাদের আসার মূল উদ্দেশ্য এই বাড়ির বড় মেয়েকে দেখা, অনয়ের চাচাতো ভাই সাদাবের জন্য। মেয়ে দেখতে এসেই অনয় ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অচেনা মেয়ের চোখের মায়ায় ডুব দিয়েছে। সে ব্যাকুলগ্রস্ত হয়ে এক মনে প্রার্থনা করছে, "আল্লাহ ঐ মেয়েটা যেন ভাইয়ার জন্য দেখতে আসা মেয়ে না হয়।"
আগত অতিথিদের আপ্যায়ন করার মুহূর্তেই পাত্রীকে নিয়ে আসা হয়। নাহ, এই সেই মেয়ে না। ভারমুক্ত হলো অনয়।
কিছুক্ষণের মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো ওই মেয়েটির চোখের চোখ আটকে গেল তার। তখন তো আধো আলোতে শুধুমাত্র চক্ষুজোড়া দেখতে পেয়েছিল, এইবার পূর্ণ আলোতে একবার চোখ ভরে দর্শন করে নিল কাজলকে।
গোলগাল মুখ, ঠোঁটে হাসি, গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, আর চোখ দুটি খুব গভীর; অজস্র মায়া যেন লুকায়িত রয়েছে!
কাজলকে দেখা মাত্রই যেন অনয়ের ভেতরকার অনুভূতিগুলো এলোমেলো হয়ে গেল। কতশত পরিকল্পনা করে এসেছিল হবু ভাবিকে নিয়ে। ভাবনার মাঝেই হঠাৎ অনয়ের মা পাশ থেকে অনয়কে বলল, "দেখতো ওই মেয়েটাকে, সুন্দর না?"
অনয় মায়ের দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকাল। তার মাও কাজলকে ইঙ্গিত করে কথাটা বলেছে। এতক্ষণ সে নিজেও অচেনা অজানা মেয়েটায় মত্ত ছিল। মায়ের কথা শুনে মনে হলো, সে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে। অনয়ের মধ্যে প্রচন্ড উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও, সে চুপচাপ বসেছিল।
সাদাবের জন্য যাকে দেখতে আসা হয়েছে, সে কাজলের চাচাতো বোন জয়ীতা। জয়ীতাকে ওই বাড়ির সকলেরই বেশ পছন্দ হয়েছে। বিয়ে ঠিকঠাক হওয়ার আগে জয়ীতা আর সাদাবকে আলাদা ঘরে পাঠানো হয়েছে কথা বলার জন্য।
বড়রা বিয়ের কথাবার্তা ফাইনাল করছেন। এমন সময় অনয়ের মা কাজলের মায়ের উদ্দেশ্যে বললেন, "আপনার সাথে আমি আলাদা কিছু কথা বলতে চাই?"
কাজলের মা সুলতানা তাকে নিজের ঘরে নিয়ে এলেন। ঘরে ঢুকেই রাবেয়া কোনরূপ ভনিতা ছাড়া অনুরোধের সুরে বললেন, "আপনার মেয়েকে আমার ছেলের জন্য দিবেন?"
সুলতানা বেগম অবাক হলেন। বললেন, "আমার মেয়ে দিব? মানে?"
তিনি হেসে বললেন, "ছেলের বউ করতাম।"
সুলতানা হতভম্ব গলায় বললেন, "কিন্তু আপা আমার মেয়ে এখনো পড়াশোনা করে।"
"করুক না, তাতে সমস্যা কি? বিয়ের পরও পড়াশোনা করবে।"
"বিয়ে? আচ্ছা আমি মেয়ের বাবার সাথে কথা বলে জানাব আপনাকে।" কিছুটা ভেবে উত্তর দিলেন সুলতানা।
"দয়া করে না করবেন না। আমার ছেলে কিন্তু খারাপ না, যদিও একটু বেশি চঞ্চল টাইপের। পড়াশোনা প্রায় শেষ, নিজের বাবার ব্যবসা সামলাচ্ছে।"
উত্তরে সুলতানা মুচকি হাসলেন।
অনয়ের বারবার আড়চোখে তাকানোর ব্যাপারটা দৃষ্টিগোচর হলো না কাজলের। সে ঠিকই ধরে ফেলল।
এতক্ষণ খেয়াল না করলেও এখন হাড়ে হাড়ে খেয়াল করছে, আর ক্ষণে ক্ষণে বিরক্তিতে তার চোয়াল শক্ত হয়ে আসছে। এ আবার কী রকম গায়ে পড়া ছেলেরে বাবা?
মনে মনে আওড়াচ্ছে, "অসভ্য, বাঁদর ছেলে একটা!"
বিয়ের সম্পর্কিত আলোচনা শেষে অতিথি বিদায় নিল। যাওয়ার আগেও রাবেয়া বারবার করে সুলতানা বেগমকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন তার বলা কথাটা।
সুলতানা স্বামী শাহাদাত সাহেবের সাথে কথা বললেন, রাবেয়ার বলা কথাটা নিয়ে।
সব শুনে শাহাদাত সাহেব চিন্তিত মুখে বললেন, "সবই বুঝলাম। কিন্তু কাজলের পড়াশোনা?"
"উনি বললেন, বিয়ের পর পড়াশোনাও করবে।"
শাহাদাত সাহেব হেসে জবাব দিলেন, "মেয়ে মানুষের আর বিয়ের পর আর পড়াশোনা কই হয়?"
"কেন হবে না? অবশ্যই হবে। তাছাড়া আরেকটা পজিটিভ দিক হচ্ছে, জয়ী ওই বাড়ির বউ হচ্ছে। সমস্যা কোন জায়গায়? মেয়ে এখন বড় হচ্ছে বিয়ে তো দিতেই হবে তাইনা? তাছাড়া তোমায় তো আরেকটা কথা বলা হয়নি, আমাদের পাড়ার প্রতীক নামে যে ছেলেটা আছে ও জয়াকে খুব বিরক্ত করে।"
"কোন প্রতীক? ওই যে মকবুলের দোকানে বসে যে সারাদিন সিগারেট খায়?"
"হ্যাঁ ওই ছেলেটাই।"
"আগে জানাওনি কেন আমায়?" চিন্তিত মুখে বললেন তিনি।
"জানতাম না তো আমি। তোমার মেয়ে দুইদিন আগেই আমাকে বলল।"
"আচ্ছা দেখো তোমরা যা ভালো বোঝো। কাজলের আপত্তি না থাকলে আমারও কোন আপত্তি নেই।"
"আচ্ছা। আমি তাহলে কথা বলি তাদের সাথে।"
"বল। তবে আগে দেখো মেয়ের মত আছে কিনা। ওর বিয়ে শাদীর ব্যাপার ওর মত ছাড়া কিন্তু কিছু করবে না। ও যদি বলে এখন বিয়ে করবে, তাহলে হ্যাঁ। আর না বললে, না।"
"আচ্ছা।"
মুখে তিনি আচ্ছা বললেও কাজলের কাছ থেকে তার মতামত জানতে চাইলেন না। ওই পরিবারটাকে তার বেশ পছন্দ হয়েছে। বাড়ির দুই মেয়ে যদি একসাথে বউ হয়ে যায় তাহলে সমস্যা কোথায়?
সুলতানা রাবেয়ার সাথে কথা বললেন। জানালেন, জয়ার বাবার সাথে কথা হয়েছে। তাদের দিক থেকে কোন সমস্যা নেই।
অনয়ের মা খুশি হলেন। সিদ্ধান্ত হলো, আরেকদিন অনয় আর কাজলকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন।
কাজল রুমের দরজা ভিজিয়ে খাটে শুয়ে বালিশে উপুর দিয়ে পড়াশুনা করছিল। এমন সময় সুলতানা এলেন। কাজলের পাশে বসে বললেন, "হ্যাঁরে, ওই প্রতীক কি তোকে এখনো ডিস্টার্ব করে?"
"করে, মাঝে মাঝে।" মুখ তুলে উত্তর দিল কাজল।
"চিন্তার বিষয়।" তারপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বেশ সাহস সঞ্চয় করে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুই বিয়ে করবি না মা?"
কাজল মায়ের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, "বিয়ে করব না এই কথা কখনো বলেছি আমি? করব তো। তোমরা পাত্র ঠিক করো আগে।"
সুলতানার চোখ মুখ খুশিতে চকচক করে উঠল, "সত্যি তুই বিয়ে করবি?"
"হ্যাঁ করব। না করার তো কোনো কারণ দেখছি না। তুমি যদি এখন বল, তাও আমি রাজি আছি।" পাশে রাখা বালিশটায় থাবা দিয়ে বলল কাজল।
"তাই? তোর জন্য একটা সমন্ধ এসেছে।"
কাজল অবাক হল। ভাবতে লাগল মা এত তাড়াতাড়ি কী করে সম্বন্ধ নিয়ে এলো?
সে ক্ষীণ স্বরে বলল, "বিয়ের কথা উঠতে না উঠতে সমন্ধ এসে গেল। তো কে সে?
সুলতানা স্বাগতিক্ত করল "জয়ীতার হবু জামাই সাদাবের চাচাতো ভাই অনয়।"
মায়ের মুখে অনয়ের কথা শুনে বিস্মিত হল জয়া। সে তখনই বুঝেছিল ছেলের মধ্যে গন্ডগোল আছে। নয়তো কেউ ওই ভাবে হ্যাবলাকান্তের মতো একটা মেয়ের দিকে চেয়ে থাকে নাকি?
কাজল দাঁতে দাঁত চেপে বলল বলল, "বিয়ের প্রস্তাব কে পাঠাইছে তোমাদের?"
"জয়ীকে দেখতে এল, তখনই অনয়ের মা তোর কথা বলছিল।"
"তুমি তো আগে জানাওনি।" পাল্টা প্রশ্ন করল কাজল।
"তোর বাবার সাথে কথা বললাম।"
বাবার কথা উঠাতে কাজল যেন আশার আলো দেখতে পেল। উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল, " বাবা কি বলল?"
"বলল তোর মতামত নিতে।"
"ওহ।" দপ করে নিভে গেল কাজল।
"তাহলে তুই কি বলিস? রাজি তো?"
"আমি রাজি কেন হবো মা? তাছাড়া ওনাকে আমার একদম পছন্দ না।" নাক ছিটকে বলল কাজল।
"অপছন্দের কি আছে? ছেলেটা ভালই তো, দেখতে সুন্দর।"
"ছেলেটা ভালো তুমি বুঝলে কি করে?"
"আজেবাজে কথা বাদ দে। তোর বয়স আরো বহু বছর আগেই আমি পার করে আসছি। ভালো মন্দ বুঝি আমি।"
সুলতানা বেগম ঘর থেকে বের হলেন।
কাজল উঠে বসে গালে হাত দিয়ে ভাবতে লাগল, "ওই নচ্ছাড় ছেলেটা বিয়ে অবদি চলে গেল। আজব ব্যাপার! যাইহোক আমার সরাসরি কথা বলতে হবে উনার সাথে।
সে আর সাত পাঁচ না ভেবে জয়ীতার কাছে চলে গেল। খুব করে অনুরোধ করল তার হবু দেবরের ফোন নাম্বারটা যাতে ম্যানেজ করে দেয়।
জয়ীতা বলল, "আমার সাথে তো কখনো ওর কথা হয় নাই। কিভাবে পাব ওর ফোন নাম্বার?"
"ভাইয়ার কাছে আছে নিশ্চয়ই। প্লিজ আপু একটু ম্যানেজ করে দাও আমায়।"
"আচ্ছা দেখছি আমি।"
সন্ধ্যার মধ্যে জয়ীতা অনয়ের ফোন নাম্বার এনে কাজলকে দিল। কাজল খুশিতে বোনকে ১০১ টা চুমু খেলো।
জয়ীতা চলে গেলে সে আর দেরি না করে তৎক্ষণাৎ ফোন করল অনয়কে।
ওপাশ থেকে ফোন ধরেই অনয় জিজ্ঞেস করল, "কে বলছেন?"
"আমি কাজল, চিনতে পেরেছেন? সম্পর্কে সাদাব ভাইয়ার হবু শালী।"
অনয় তখন পানি খাচ্ছিল। কাজল নামটা শোনা মাত্রই বিষম খেল। ব্যাপারটা ধরতে তার পাক্কা দুই মিনিট লাগল। থতমত খেয়ে জিজ্ঞাসা করল, "কাজল?"
"জি।" দাঁত কিড়মিড় করে জবাব দিল কাজল।
অনয় কিঞ্চিত হেসে বলল, "আপনি হঠাৎ? তো কেমন আছেন?"
"ভালোই তো ছিলাম এতদিন। আপনি আর ভাল থাকতে দিচ্ছেন কই?"
ব্যাপক অবাক হলো অনয়। সে ভালো থাকতে দিচ্ছে না মানে কী? কোনভাবে আবার ব্যাপারটা এমন নয় তো, সে যেমন সারাক্ষণ কাজলের কথা ভাবে, ঠিক সেরকম কাজলও সারাক্ষণ অনয়ের কথা ভাবে? তাকে মিস করে?
ভাবতেই ঠোঁট জোড়া প্রসারিত করে হাসল অনয়।
হাসি হাসি মুখ করে বলল, "মানে বুঝলাম না?"
"তা কেন বুঝবেন? আপনি তো আস্ত গর্ধভ, হাঁদারাম।"
"কিভাবে?" বোকার মত প্রশ্ন করল অনয়।
কাজল এই মুহূর্তে ভেবে নিল, অনয়কে যা বলার সামনাসামনি বলতে হবে। এভাবে ফোনে বুঝিয়ে সব কথা বলা যায় না। আর অনয়ও ছেলে মানুষী করছে কথায় কথায়।
তাই সে অনয়কে বলল, "আপনার সময় হলে আগামীকাল দেখা করতে পারবেন?"
অনয় বলার মত ভাষা খুজে পাচ্ছে না। কাজলের কথা কর্ণকুহরে পৌঁছানো মাত্র অবিশ্বাস্য লাগছে। মনের ঘন্টি তাহলে বোধহয় বেজে গেছে। ওই দিক থেকে কাজল বোধহয় প্রেমে পাগল হয়ে গেছে! সে নিজেই নিজেকে বাহবা দিল, "ইয়ো অনয় শাহরিয়ার! কংগ্রাচুলেশন, তুমি তো জিতে গেছো।"
অনয়ের দেওয়া এড্রেসে কাজল একটু আগে আগেই চলে এসেছে। মিনিট দশেকের মধ্যে অনয়ও এসে পৌঁছাল।
অনয়কে দেখামাত্রই কাজল কোমরে হাত সাপের মতো হিসফিস করা কন্ঠে বলল, "বিয়ের প্রস্তাব বাসায় কে পাঠিয়েছে?"
অবাক হলো অনয়। শুধু অবাক নয়, বিয়ের কথা শুনে বড়সড় একটা ধাক্কা খেল।
বিষ্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করল, "কিসের বিয়ে?"
"দয়া করে সাধু সাজবেন না। আমার বাসায় আপনার সাথে আমার বিয়ের প্রস্তাব কে পাঠিয়েছে?"
"আপনার সাথে আমার বিয়ে মানে?" অনয় যেন অবাক থেকেও অবাকের পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।
"মানে মানে করতেছেন কেন? আপনি জানেন না কিছু?" ঝাঁঝাল গলায় বলল কাজল।
"সিরিয়াসলি আমি কিছু জানি না।"
জয়া বিরক্তিতে ভুরু কুঁচকাল। ব্যাটা নির্ঘাত মিথ্যা কথা বলতেছে।
কাজলের দিকে তাকিয়ে অনয় করুণ দৃষ্টিতে চেয়ে বলল, "আমার আপনাকে ভালো লেগেছে এটা সত্যি। কিন্তু তাই বলে আমি বিয়ের প্রস্তাব কখনোই পাঠাইনি।"
বিস্ফোরিত কন্ঠে কাজল বলল, "কিসের ভালোলাগা?"
অনয় নির্বিকার ভাবে উত্তর দিল, "আপনাকে ভালোলাগার কথা বলেছি।"
কাজল পাশে থাকা ব্রেঞ্চে বসে বলল, "এই জিনিস গুলো আমার একদমই পছন্দ না। আমার কাউকে ভালো লাগতে প্রচুর সময় লাগে।"
"ঠিকই আছে। কাউকে চিনবেন, জানবেন তারপরই তো পছন্দ হবে। পছন্দ হওয়া কী এতই সোজা?"
"তাহলে আপনি আমায় চেনা জানা ছাড়াই পছন্দ করলেন কিভাবে?"
বেশ মুগ্ধতার সাথে অনয় উত্তর দিল, "চোখ দেখে!"
"কীভাবে?" খানিকটা অবাক হয়ে প্রশ্ন করল কাজল।
"চোখজোড়া ওমন অতল সমুদ্র বানিয়ে রাখলে তো, যে কেউ তো ডুব দেবেই।"
কাজল ভুরু কুঁচকাল।
তারপর বলল, "আর আমি তো একদমই এরকম নয়। আপনাকে বললামই তো, আমার এসব পছন্দ না। আমার খুব সহজে কাউকে ভালো লাগেনা।"
"বুঝলাম। আপনাকে দিয়ে ভালবাসানোটা খুব একটা ইজি হবে না।"
"ভালোলাগা আর ভালোবাসা কিন্তু এক নয়!"
"আগে তো আপনি ভালোলাগা অব্দি পৌঁছান। সেখান থেকে আমি না হয় আপনাকে হাত ধরে ভালোবাসা পর্যন্ত পৌঁছে দেব।"
কথাটা বলে অনয় হাসল। কাজল এই প্রথমবারের মতো লক্ষ্য করল অনয়ের হাসিটা বেশ সুন্দর।
.