প্রকাশকালঃ আগস্ট ১৯, ২০২৬
একটা মেয়ে হয়ে অন্য একটা মেয়ের সংসার ভাঙতে তোমার বিবেকে বাধঁছে না ,,
এমন কথা শুনে থমকে গেলো নওরীন,,
কপাল কুচকে নিলো ,,
তার সামনে দারিয়ে আছে তারই ক্লাসমেট তিশা তবে মেয়েটাকে সে ঠিকভাবে চেনেনা কলেজে তো কতোই মেয়ে পড়াশোনা করে সবাইকে তো আমরা চিনে রাখি না।
নওরিন এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের সাইন্স এর স্টুডেন্ট বর্তমানে সে তার ইংলিশ প্রাইভেট টিচারের কক্ষে অবস্থান করছে
কিছুক্ষণ আগে ,,
নয়না প্রচন্ড শান্ত গম্ভীর একটা মেয়ে ,, তবে সবার সাথে না সে তার প্রিয় মানুষ গুলোর কাছে প্রচন্ড চঞ্চল স্বভাবের। তার জীবনে বন্ধুর সংখ্যা খুবই কম কলেজ লাইফে তার একটাই ফ্রেন্ড তার নাম ওমি।তাছাড়াও একজন বান্ধবী আছে তবে সে আলাদা শহরে পড়াশোনা করে।
প্রাইভেট শেষ হলে দুই বান্ধবী বেরিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ তারই এক ক্লাসমেট ডেকে উঠলো --
"আব তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো?
নওরিন কপাল কুচকে তাকালো। সামনের মেয়েটির পড়নে কালো বোরখা কালো হিজাব দারা সম্পুর্ন মুখ ঢাকা শুধু চোখ টাই দৃশ্যমান।
" হুম বলো?
"একা বলবো একটু সাইডে আসবে?
নওরিন ওমির দিকে তাকালো ,,
" তুই বাহিরে দ্বারা আমি শুনে আসছি?
ওমি সায় জানালো।
ওমি চলে গেলে তারা দুজনে একটা রুমে এসে দারালো --
"একটা মেয়ের সংসার ভাঙতে তোমার বিবেকে বাধছে না নওরিন!
নওরিন বিস্ফোরিত চোখে তাকালো -
এসব কি বলছে মেয়েটি!
" কি বলছো এসব তুমি?কার সংসার ভাঙছি আমি পাগল হয়ে গেছো তাছাড়া কে তুমি আমি তোমায় ঠিকমতো চিনিও না।
"তোমার সাথে ইফতেখার এর রিলেশন আছে তাইনা?
নওরিন একটু হোঁচট খেলো।তার যে ইফতেখার এর সাথে সম্পর্ক আছে এটা তো তেমন কেউ জানেনা।
" তুমি জানো ইফতেখার বিবাহিত! আমাদের ই এক ক্লাসমেট ইভা র সাথে তার বিয়ে হয়েছে!
ইভা হ্যা মেয়েটির কথা শুনেছে সে ইফতেখার এর মুখে। তবে ইফতেখার তাকে বলেছিলো মেয়েটি তার এক্স আর মেয়েটির ক্যারেক্টার নাকি অনেক বাজে।
নওরিন নিজেও একবার মেয়োটিকে নেশা করতে দেখেছে সিগারেট সহ আরও অনেক কিছু।তাই ইফতেখার এর কথাটা সহজেই বিশ্বাস করে নিয়েছিলো।
"ইভার সাথে যদি ইফতেখার এর বিয়ে হয়ে থাকে তাহলে সে নিজে কেন আমার কাছে আসেনি আর তুমি কেন এসব বলছো?
" মেয়েটির গলায় ভিতি স্পষ্ট --
দেখো ইভা ভয় পাচ্ছে তোমার কাছে আসতে তাছাড়া ইফতেখার বলেছে তুমি নাকি এসব জানলে তার ক্ষতি করবে।
আমি নিজেও অনেক সাহস করে তোমাকপ বলছি ইফতেখার জানলে আমাকেও ছারবে না।
নওরিন অবাক হলো সে কি ক্ষতি করবে।
তবে নওরিন বরাবরই খুব ঠান্ডা প্রকৃতির সহজে সে উত্তেজিত হয় না।আর এর আগেও এই কথাটা শুনেছে সে তবে বরাবরই ইফতেখার তাকে নানারকম লজিক দিয়ে কথাটাকে মিথ্যা প্রমান করেছে।
"তোমার কাছে কোনো প্রুফ আছে মানে কাবিন এর ডিটেইলস বা অন্য কিছু? তুমি আমাকে প্রুফ না দিলে এসব কেন বিশ্বাস করবো আমি।
" আমি তোমাকে প্রুফ দিলে তুমি বিশ্বাস করবে তো?আমি তোমায় প্রুফ দিবো। তবে প্লিজ আমি যে তোমায় জানিয়েছি এটা ইফতেখার কে বলোনা সে আমার আর ইভার ক্ষতি করবে।
" একজন বিবাহিত পুরুষের সাথে সম্পর্ক রাখার মতো নোংরা মানসিকতার মেয়ে আমি নই।আর তুমি ইভা কে আমার সাথে কথা বলতে বলবে আমি কোনো ক্ষতি করবো না তার।আর তোমাদের কথা আমি বলবো না ইফতেখার কে।
তাদের কথপোকথন শেষ হলে নওরিন বেড়িয়ে আসলো তার বান্ধবী অমি তখনও দারিয়ে তার জন্য নওরিন এসবের কিছুই অমি কে জানালো না।নওরিন বরাবরই চাপা স্বভাবের কোনোকিছু সিওর না হয়ে সে এসব কিছু শেয়ার করার মতো মেয়ে না।
দুজনে রিক্সা নিয়ে যার যার বাসায় ফিরলো।নওরিন বাসা ভারা নিয়ে থাকে দুই রুমের বাসায় সে একরুমে আর তার পরিচিত দুইজন বড়ো আপু থাকে আরেক রুমে। পড়াশোনার জন্য সে বেশ ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের থেকে আলাদা থাকে তার বাসা গ্রামের ভেতরে।
ইফতেখার এর সাথে তার সম্পর্ক বেশিদিন হয়নি মাস নয় হবে হয়তো। ছেলেটা বরাবরই নওরিনকে চোখে হারায়। ভালেবাসার কমতি কখনো বুঝেনি নওরিন।
তবে নওরিন রিলেশন এ থাকলেও কখনো সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি তার কাছে মনে হয় যে থাকার সে এমনি থাকবে।
ছেলেটা পড়াশোনার পাশাপাশি একটা কোম্পানিতে জব করে।
রুমে এসে সে মেয়েটির কথাগুলো ভাবলো এর আগেও নওরিন শুনেছে ইফতেখার এর রিলেশন আছে তবে ইফতেখার এর লজিকের সাথে সে বরাবরই হেরে গেছে। সারাটা দিন এভাবেই কেটে গেলো নওরিন এর একটা স্বভাব সে কখনো ইফতেখার কে নিজে থেকে ফোন করে না শুধু ইফতেখার এর ক্ষেত্রে এমন তা নয় সে কাউকেই ফোন করেনা নিজে থেকে।
সন্ধায় ইফতেখার এর কল আসলে নওরিন ধরলো বেশ দীর্ঘ সময় তাদের কথপোকথন চলার এক পর্যায়ে নওরিন বলে উঠলো --
" শুনলাম তুই নাকি বিবাহিত?
কথাটা শুনেই ইফতেখার উচ্চস্বরে হেসে উঠলো যেনো নওরিন তাকে কোনো জোক্স বলেছে।
"তার হাসি দেখে নওরিন ও হাসলো!বলে উঠলো --
হাসছিস যে তুই বিয়ে করলি আময় বললিও না আমি তোর গার্লফ্রেন্ড আমাকে দাওয়াত দিতি একবার।
এ পর্যায়ে ইফতেখার বেশ সিরিয়াস হয়ে উঠলো --
" কে বলেছে তোকে এসব?
ইভা নিশ্চয়ই?
"তুই কী পাগল হলি ইভা কেন বলবে।শুনলাম একজনের থেকে।আর কে বলেছে এটা বড়ো বিষয় না। তুই বিবাহিত এটা বড়ো বিষয়।
" তাহলে নিশ্চয়ই তিশা বলেছে!
"ওমা তিশা আবার কে?আর তুই মুল কথায় আয় এসব কেন বলছিস।
এবার নওরিন ও বেশ রেগে গেলো
" নওরিন জান আমার তুই তো জানিস যে ইভা আমার এক্স সে চায় না তোর আর আমার সম্পর্ক টা থাকুক তাই তোকে ভুলভাল বুঝাচ্ছে।
"তুই আবারও আমাকে উল্টো পাল্টা বুঝাচ্ছিস কু/ত্তার বাচ্চা। তোর সাথে আমার সম্পর্ক এখানেই শেষ।
নওরিন কল কেটে দিলো।
--------------------------------
নওরিনের মাঝে মাঝে ভীষণ আফসোস হয়। প্রেম, ভালোবাসা কিংবা বিয়ে— কোনোকিছুতেই তার কখনো বিশ্বাস ছিল না। বরাবরই এসব অনুভূতি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিল। তার ধারণা ছিল, এগুলো শুধু মানুষের জীবনকে জটিল করে তোলে।তাছাড়া নিজের বাবা মাকেও সে কখনো সুখী দেখেনি।
কিন্তু মানুষ তো সব সময় নিজের ইচ্ছেমতো জীবন পায় না। কথায় আছে, জীবনে যে জিনিসটা মানুষ সবচেয়ে বেশি এড়িয়ে চলতে চায়, অনেক সময় সেটাই হঠাৎ তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়।
ঠিক তেমনই, কোনোদিন প্রেম বা বিয়ে করতে না চাওয়া নওরিনও একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ল। সে জানে না, ইফতেখারকে সে সত্যিই ভালোবাসে কি না। তবে এটুকু বুঝতে পারে— ইফতেখারকে হারানোর কথা ভাবলে, কিংবা তার দূরত্ব অনুভব করলে, বুকের ভেতর কোথাও যেন অদ্ভুত এক শূন্যতা আর হালকা ব্যথা অনুভব হয়।
তবে নওরিন সেসবে পাত্তা দেয় না।
এভাবে প্রায় সপ্তাহ চলে গেলো ইফতেখার তাকে ফোন দিলে মাঝে মাঝে ধরে আবার কখনো কখনো এড়িয়ে চলে।এর মাঝে সেই মেয়েটিও আর নওরিন কে কিছু জানায়নি।
তবে কি মেয়েটি সত্যি মিথ্যা বলেছে নওরিন আর ইফতেখার এর সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য।
এরপর আবারও নওরিন আর ইফতেখারের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে উঠল। নওরিন ভীষণ রাগী স্বভাবের মেয়ে। ছোটখাটো বিষয়েও অভিমান করত, রেগে যেত। অথচ ইফতেখার ছিল ঠিক তার উল্টো। সে ধৈর্য ধরে নওরিনকে সামলে নিত, কখনো তার রাগের জবাবে রাগ দেখাত না। বরং প্রতিবারই শান্ত গলায় সবকিছু ঠিক করার চেষ্টা করত।
নওরিন যদি কিছুতেই না মানতো তাহলে ইফতখার দেখা করতে বলতো তবে নওরিন দেখা করতে চাইতো না।সে এসব ক্ষেত্রে বরাবরই নিস্ক্রিয়। তার আচরন ছিলো এমন যে সম্পর্ক থাকলেও কিছুনা না থাকলেও কিছু না।
নওরিনের বান্ধবীরা, এমনকি তাদের সম্পর্কের কথা জানত এমন সবাই ইফতেখারের ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ হয়ে যেত। তারা প্রায়ই বলত,
"এমন একজন মানুষ সবাই পায় না।
কিন্তু নওরিন ছিল বরাবরই নির্লিপ্ত। সে ইফতেখারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলত, সময় কাটাত, সম্পর্কটাও আগের মতোই চলছিল। তবু তার মনের ভেতর অদৃশ্য এক অশান্তি বাসা বেঁধেছিল। যেন সবকিছু ঠিক থাকার পরও কোথাও একটা অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে।
আসলে মানুষের মনে একবার সন্দেহের বীজ জন্ম নিলে, সেটাকে উপড়ে ফেলা খুব সহজ নয়। আর নওরিন তো সে দিক থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে। সে সহজে কিছু ভুলতে পারত না। কেউ তাকে কষ্ট দিলে বা কোনো ঘটনা তার মনে দাগ কাটলে, বাইরে থেকে স্বাভাবিক থাকলেও ভেতরে ভেতরে সবটুকু জমিয়ে রাখত। সেই জমে থাকা অনুভূতিগুলোই ধীরে ধীরে তার মনের শান্তিটুকু কেড়ে নিচ্ছিল।
এভাবেই তাদের সম্পর্ক আরও মাস দের এর মতো গেলো।একদিন কোনো এক বিষয় নিয়ে বেশ ঝামেলা হলো নওরিন এর স্বভাবিক ভাবে নওরিন কখনো ইফতেখার এর রাগ ভাঙায় না এবারও তার ব্যাতিক্রম হবে না ইফতেখার তাকে একটা ম্যাসেজ করে জানালো সে বাসায় যাচ্ছে আজ কল করতে পারবে না আগামীকাল নওরিন এর সাথে দেখা করতে যাবে সে।নওরিন কোনো উত্তর করলো না।
নওরিন ফ্যামেলিতে কিছু ব্যাক্তিগত সমস্যা থাকায় সে ডিপ্রেশন এ ভুগত এর জন্য সে মেডিসিন নিতো সেদিনও খারাপ লাগায় নওরিন ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পরে।
সন্ধ্যা নাগাদ তার ফোনে কল আসে ঘুমের মাঝেই সে কলটা রিসিভ করে --
"তোমার বয়ফ্রেন্ড এখন কার কাছে আছে খোঁজ নিয়ে দেখো?
একটা ছেলের কন্ঠ আশ্চর্য হলো নওরিন সাথে বিরক্ত সে রাগি গলায় বলে উঠলো --
" আমার কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই।
ফোনটা কেটে দিয়ে আবারও ঘুমিয়ে পরলো সে। কিন্তু ফোনের ওপর পাশের ছেলেটি যেনো নাছোড়বান্দা আবারও ফোন বেজে উঠল --
"কি সমস্যা বার বার কেন কল দিচ্ছেন?
বিরক্ত হয়ে বললো নওরিন
" আপনার বয়ফ্রেন্ড এখন ইভার সাথে তার রুমে আছে বিশ্বাস না হলে ফোন করে দেখুন।বলে ছেলেটি কল কেটে দিলো।
নওরিন এবার ঘুম ছুটে গেলো।উঠে বসলো সে হঠাৎ করে তার শরীর খারাপ করতে লাগলো আগে থেকেই ডিপ্রেশন এ ভুগার দরুন অল্প টেনশনে সে অনেক বেশি প্যানিক করে এই বিষয় টা কেউ জানেনা তার বাসায় বন্ধুবান্ধব কেউ না।
বেশ বুকে ব্যাথা করছে তার বার কয়েক ফোন লাগায় ইফতেখার এর নাম্বারে,হোয়াটসঅ্যাপ,ম্যাসেন্জার,ইমো,এমনকি ইন্সট্রাগ্রাম এর পর্যন্ত তবে ফলাফল শূন্য। বেশ সময় গেলেও নিজেকে সামলাতে না পেরে আরও একটা ঔষধ খায় সে তারপর পাশের রুমে চলে যায় যেনো গল্প করে কিছুক্ষণ ভুলে থাকতে পারে এতে করে সে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও স্বাভাবিক থাকবে।
রাত বারোটা নাগাদ সে আবারও কল দিলে প্রথম বার কেটে দেয়।কিন্তু পরের বার কল রিসিভ হলে ওপাশ থেকে একটি মেয়ের আওয়াজ পায় সাথে সাথে সবটা পরিষ্কার হয় নওরিন এর কাছে --
"হ্যালো কে বলছেন?
" আমি ইভা!
"ফোনটা ইফতেখার কে দেওয়া যাবে?
নওরিন এর ভেতরটায় ঝড় হলেও ওপরে সে নিজেকে স্বাভাবিক রাখে।
" তুমি আমাকে বলো ইফতেখার ঘুমোচ্ছে!
"নওরিন দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।
ইভা তোমার সাথে ইফতেখার এর কি সম্পর্ক?
" আমি তোমায় পাঁচ মিনিট পর কল দিচ্ছি সবটা বলবো আর সন্ধ্যায় যে কলটা পেয়েছিলে তুমি ওটা আমারি এক ফ্রেন্ড করেছিলো।
নওরিন কল কেটে দিলো। তার বেশ কান্না পেলো তবে নিজেকে স্বাভাবিক রাখলো সে কাদলো না। একটা চরিত্রহীন ছেলের জন্য সে কখনোই কাদবে না এতোটা নরম সে নয়।এসব ভাবলেও তার বুকটা জ্বলছে।
তার মিনিট দশেক পর আবারও কল আসলো --
"বলো কি বলতে চাও?
" নওরিন ইফতেখার এর সাথে আমার এক বছর আগে বিয়ে হয়েছে তবে এটা পারিবারিক ভাবে না।বলতে পারো একটা বাজে সিচুয়েশনে পরে আমাদের বিয়ে হয়েছিলো তার আগে এক মাস আমাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। আর আমি আর ইফতেখার একসাথে বাসা ভারা থাকি। মাঝে কিছু দিন আমরা আলাদা ছিলাম।
নওরিন বলার মতো কিছু খুজে পেলো না।
"তুমি এসব আগে কেন জানাওনি আমায় তুমি তো চিনতে আমায় তোমার সাথে আমার দেখাও হয়েছিলো বেশ কয়েকবার।
" আসলে ইফতেখার আমায় ব্ল্যাকমেইল করতো..
"ব্ল্যাকমেইল!
" ও বলতো আমি যদি তোমায় কিছু বলি তাহলে ও আমার আর ওর ইন্টি/মেট হওয়া ভিডিও পাবলিক করে দিবে।আর তুমিও নাকি আমার ক্ষতি করবে।
আর আমার বাবা নেই ভাই আছে আমার বাসায় এসব জানতে পারলে আমাকে মেরে ফেলবে।
আমি আশ্চর্য না হয়ে পারলাম না।নিছকই চুপচাপ শান্ত স্বভাবের মেয়ে আমি হয়তো রাগ বেশি কিন্তু কারো ক্ষতি করার মতো মেয়ে নই।
"তোমাদের বিয়ের কাবিনের কাগজ নেই?
এ পর্যায়ে মেয়েটি থেমে গেল অনেকটা কান্না মাখা গলায় বললো ওই কাগজটা আমার কাছে নেই। আমি জানিনা ও কাগজটা কোথায় রেখেছে। আমি চাইলেও কিছু করতে পারি না। কিছু করলেও আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে।আমি ওকে ছাড়তে চাই কিন্তু ও আমাকে এটাও করতে দেয় না।ওর তোমার সাথে ছাড়াও আরও মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে।
তুমি আমার সাথে দেখা করো আর শোনো তুমি ইফতেখার কে বলো না তোমার সাথে আমার কথা হয়েছে।
আমি কল কেটে দিলাম।
ফোনটা বিছানার পাশে রেখে অনেকক্ষণ নিশ্চুপ বসে রইলাম। নিজের অনুভূতিগুলোকে যেন আর চিনতে পারছিলাম না। এতদিন নিজেকে বুঝিয়েছি— আমি ইফতেখারকে ভালোবাসি না। ও চলে গেলে আমার কিছুই হবে না। অথচ আজ সত্যিটা জানার পর মনে হচ্ছে বুকের ভেতর কেউ আগুন জ্বেলে দিয়েছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, গলা শুকিয়ে আসছে।
কাঁদতে চাইছিলাম না। একটা প্রতারকের জন্য চোখের জল ফেলব— এতটা দুর্বল আমি নই। কিন্তু তবুও বুকের ভেতরের ব্যথাটা কিছুতেই কমছিল না।
শেষ পর্যন্ত আরেকটা ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়লাম। ওষুধের ঘোরে কখন যে চোখ বন্ধ হয়ে এসেছিল, বুঝতেই পারিনি।
২
ফোনের তীব্র শব্দে ঘুম ভেঙে গেল নওরিনের। মাথাটা অসহ্য ব্যথা করছিল। ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখল রাত দেড়টা। কলটি এসেছে ইফতেখারের ইনস্টাগ্রাম আইডি থেকে।
কোনো কিছু না ভেবেই কলটি রিসিভ করে কানে তুলতেই ওপাশে ভেসে এলো -- ইফতেখার আর ইভার কথোপকথন।
"ইফতেখার, তুই বল... তোর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে?
"হুম, হয়েছে। এতে প্রশ্ন করার কী আছে?
"তাহলে আমাদের কাবিনের কাগজ কোথায়? কী করেছিস সেটা?
"আছে। এসব প্রশ্নের কোনো মানে হয় এখন?
"আমি তোকে প্রশ্ন করছি। তুই উত্তর দে।
কয়েক সেকেন্ডের নীরবতার পর ইভার কণ্ঠ আবার শোনা গেল।
"নওরিনের সঙ্গে তোর কী সম্পর্ক?
ইফতেখার এক মুহূর্তও দেরি না করে উত্তর দিল,
"নওরিনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। কিছুদিন শুধু কথা হয়েছিল। মেয়েটা অতিরিক্ত ছ্যাঁচড়া। মাঝেমধ্যে আমাকে কল করে, আমি ইগনোর করি।
"তুই সত্যি বলছিস?
"তা না হলে আর কী! মেয়েটার আরও অনেক ছেলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক আছে। আমার দুই-তিনজন বন্ধুর সঙ্গেও রুম ডেট করেছে। এমনকি আমার গ্রামের দুইটা ছেলের সঙ্গেও এখনো নিয়মিত যোগাযোগ রাখে।
এরপরও তাদের মধ্যে আরও অনেক সাংসারিক আলোচনা চলতে থাকে। কিন্তু নওরিনের আর কিছু শোনার মতো মানসিক শক্তি অবশিষ্ট ছিল না।
তার মনে হচ্ছিল, এতক্ষণ যা শুনেছে—সবই যেন একটা দুঃস্বপ্ন। নিজের অনুভূতিগুলোও যেন সে আর বুঝে উঠতে পারছিল না।
নওরিন ছিল ভীষণ আত্মসম্মানবোধ আর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একটি মেয়ে। নিজের সম্পর্কে এমন জঘন্য, ভিত্তিহীন আর অপমানজনক কথা সেটাও এমন একজন মানুষের মুখে, যাকে সে একসময় নিজের হৃদয়ে জায়গা দিয়েছিল এই সত্যটা মেনে নেওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠছিল।
চোখ বেয়ে অনবরত অশ্রু ঝরে পড়ছিল। বুকের ভেতরটা যেন ধীরে ধীরে ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল।
সেই রাতটা আর তার ঘুমিয়ে কাটেনি। চোখে একফোঁটা ঘুম ছিল না শুধু নীরব কান্না, বিশ্বাসভাঙার যন্ত্রণা আর নিঃশব্দে ভেঙে পড়ার সাক্ষী হয়ে ছিল দীর্ঘ, অন্ধকার রাতটি।
তীব্র মাথাব্যথা আর নির্ঘুম রাতের ক্লান্তি নিয়ে সকাল আটটার দিকে ফোনের কর্কশ রিংটোনে ঘুম ভাঙল নওরিনের। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখল কল করেছে তার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী অমি।
আগের দিনই নওরিন অমিকে বলে রেখেছিল, সকাল নয়টায় তার প্রাইভেট আছে। প্রায়ই সময়মতো ঘুম থেকে উঠতে পারে না বলে অমিই প্রতিদিন ফোন করে তাকে জাগিয়ে দেয় কখনো কখনো সেও তাকে ডেকে দেয়।অমি র বাসা এখান থেকে কিছুটা দুরে।
ফোন রিসিভ করতেই অমি উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
"কিরে, ঘুম থেকে উঠেছিস?
নওরিন নিজের ভেতরের ঝড়টা লুকিয়ে শুধু বলল, "মাথাটা খুব ব্যথা করছে। হয়তো ঠিকমতো ঘুম হয়নি।তাই আজ প্রাইভেট এ যাবো না তুই বরং যা।
এর বেশি কিছু আর বলল না। রাতের সেই ভয়ংকর সত্যটা এখনো কাউকে জানানোর মতো শক্তি তার ছিল না।
সকাল গড়িয়ে ঠিক দশটার দিকে আবার ফোন বেজে উঠল। এবার কল করেছে ইভা।
ফোন রিসিভ করতেই ইভা বলল,
"নওরিন, তোমার সঙ্গে আমার জরুরি কিছু কথা আছে। আজ কি একটু দেখা করা যাবে?
কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে নওরিন শান্ত গলায় উত্তর দিল,
"আজ বিকেল চারটায় ওই রাস্তায় আমার একটা প্রাইভেট আছে। পাচঁটার দিকে শেষ হবে। তুমি চাইলে তখন দেখা করতে পারো।
সাইন্সের ছাত্রী হওয়ায় নওরিনকে সারাদিনই একের পর এক প্রাইভেট ক্লাসে ছুটে বেড়াতে হতো।
"আচ্ছা, তাহলে ছয়টায়ই দেখা হবে।
কলটা কেটে যেতেই নওরিন কিছুক্ষণ ফোনের নিভে যাওয়া স্ক্রিনের দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। যেন স্ক্রিনের ওপারেই আটকে আছে না-বলা হাজারো কথা।
সারাটা দিন সে নিজেকেই বুঝিয়ে চলত সবকিছু স্বাভাবিক। এটাই হওয়ার ছিল। এসব নিয়ে কষ্ট পাওয়ার কোনো মানে নেই। কিন্তু মন কি আর যুক্তির কথা শোনে? যতবারই নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেছে, ততবারই অজান্তে চোখ দুটো ভিজে উঠেছে। বুকের ভেতর জমে থাকা না-বলা কষ্টগুলো যেন নীরবে অশ্রু হয়ে গাল বেয়ে নেমে এসেছে।
বিকেল হতেই ইভার সঙ্গে দেখা করল নওরিন।
ইভা খুব একটা লম্বা নয়। শ্যামলা গায়ের রঙ, তবে মুখজুড়ে এক অদ্ভুত মায়া। সেই মায়াময় মুখটাতেও আজ স্পষ্ট ক্লান্তি আর হতাশার ছাপ।
"বলো, কী বলতে চাও? শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল নওরিন।
ইভা কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল, "তুমি তিশাকে বলেছিলে, তুমি প্রমাণ চাও। গতকাল রাতে আমি তোমাকে সবচেয়ে বড় প্রমাণটাই দেখিয়েছি। তারপরও যদি তোমার সন্দেহ থাকে, তাহলে আরও দেখাতে পারি।
নওরিনের আর কিছু বোঝার বাকি ছিল না। তবুও সে ইভাকে থামাল না। সে ইতোমধ্যেই মেনে নিয়েছে ইফতেখার একজন প্রতারক। এতদিন যে ভালোবাসার কথা বলেছে, যত্ন দেখিয়েছে, সবটাই ছিল অভিনয়।
এমন একজন মানুষের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখার প্রশ্নই ওঠে না। আর যেখানে সে বিবাহিত, সেখানে এই সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তবে মানুষকে পুরোপুরি ঘৃণা করতে হলে তার আসল রূপটা দেখা দরকার। তাই ইভাকে বাধা দিল না নওরিন।
ইভা ফোন বের করে কয়েকটি কল রেকর্ডিং শোনাল। সেখানে শুধু ইভার সঙ্গে সম্পর্কের কথাই নয়, আরও দুজন মেয়ের সঙ্গেও ইফতেখারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ ছিল।
সবকিছু শুনে নওরিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মনে হলো, চারপাশের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে গেছে। বুক ভরে শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। নিজেকে কোনো রকমে সামলে নিয়ে বলল,
"তুমি চিন্তা কোরো না, ইভা। আজকের পর থেকে ইফতেখারের সঙ্গে আমার সব সম্পর্ক এখানেই শেষ।
ইভা মাথা নাড়ল।
"কিন্তু আমি সেটা চাই না।
ভ্রু কুঁচকে তাকাল নওরিন।
"মানে?
"মানে তুমি কি ভাবছ, তুমি গিয়ে বলবে 'তুমি বিবাহিত, তাই তোমার সঙ্গে আমার সম্পর্ক শেষ' আর ইফতেখার সেটা মেনে নেবে? তুমি ওকে চেনো না, নওরিন। সে এত সহজে তোমার পিছু ছাড়বে না।সে তোমার ফ্যামেলির টাকা পয়সা চায়।
" কেঁপে উঠল নওরিন।তার বাবা মায়ের বড়ো মেয়ে সে তার একটা ছোট বোন আছে। নওরিন এর বাবা মায়ের তাদের গ্রামে ভালো নামডাক আর টাকা পয়সা আছে।
নওরিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
"তাহলে কী করতে হবে?
ইভা দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
"আমি কাল ইফতেখারকে ডেকেছি। তুমিও এসো। সবার সামনে মুখোমুখি বসে সব প্রমাণ তুলে ধরা হবে। তারপর সে অস্বীকার করার সুযোগ পাবে না।
কয়েক সেকেন্ড ভেবে নওরিন উত্তর দিল,
"ঠিক আছে। আমি আসব।
সেখানেই তাদের কথোপকথনের ইতি হলো।
নওরিনের সেদিন আরও একটি প্রাইভেট ক্লাস ছিল। সেখানে যাওয়ার পথে সে সিদ্ধান্ত নিল, আগামীকাল একা যাবে না। তাই নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু "অমি" কে সব খুলে বলল।
প্রথমে "অমি" কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। কারণ সে জানত, ইফতেখার নওরিনকে কতটা ভালোবাসে অন্তত বাইরে থেকে সেটাই মনে হতো।
কিন্তু কিছু মানুষের অভিনয় এতটাই নিখুঁত হয় যে, সত্যিটা সামনে না আসা পর্যন্ত তাদের মুখোশ ভাঙে না।
নওরিন সব প্রমাণের কথা বিস্তারিতভাবে বোঝানোর পর অবশেষে "অমি" তার কথা বিশ্বাস করল। এক মুহূর্তও দেরি না করে সে বলল,
"তুই একা যাবি না। কাল আমি তোর সঙ্গে যাব।
বন্ধুর কথায় নওরিনের বুকের ভেতর জমে থাকা ভয়টা যেন খানিকটা হলেও কমে এলো।
অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে সবাই উপস্থিত হলো। তবে সেখানে শুধু নওরিন, ইভা আর ইফতেখারই নয়; উপস্থিত ছিলেন ইফতেখারের দূরসম্পর্কের কাকা ও চাচিও যারা ইফতেখার এর এসব কর্মের সঙ্গী ছিলো।
সেখানে নওরিনকে দেখে ইফতেখার স্পষ্টই চমকে উঠল। মুহূর্তের জন্য তার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল, চোখেমুখে ভয়ের ছাপ ফুটে উঠল। নওরিন সেটা পরিষ্কার বুঝতে পারল। তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে নিজেকে সামলে নিল, যেন কিছুই ঘটেনি।
নওরিনের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
"তুই এখানে কেন?
নওরিন উত্তর দেওয়ার আগেই ইভা বলে উঠল,
"আমি ডেকেছি ওকে।
"কেন ডেকেছিস?
তারপর নওরিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
"তুই লেকের পাশে গিয়ে বস। আমি আসছি।
নওরিন যেন আরও অবাক হয়ে গেল। এমন একটা পরিস্থিতিতেও মানুষ এতটা স্বাভাবিক থাকার অভিনয় কীভাবে করতে পারে? তার ভেতরে কি একটুও লজ্জা কিংবা ভয় কাজ করছে না?
শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে নওরিন বলল,
"আমি কোথাও যাব না। আগে আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দে আমি চলে যাবো।
ইফতেখারের কণ্ঠ আরও কঠোর হয়ে উঠল।
"আমি এভাবে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেব না। তোকে যেতে বলেছি, তুই যা।
কিন্তু নওরিন কোনোদিনই তাকে ভয় পায়নি। আজও পেল না।
"তুই কাকে ধমক দিচ্ছিস? আমি তোকে ভয় পাই।
দিগুণ তেজ নিয়ে বললো নওরিন।
সত্যি করে বল, তুই কি ইভাকে বিয়ে করেছিস?
প্রশ্নটা শুনে ইফতেখার হেসে উঠল।
"আমি কবে ইভাকে বিয়ে করলাম? আমি কোনোদিনই ওকে বিয়ে করিনি।
নওরিন ইভার দিকে তাকাতেই দেখল, মেয়েটার চোখ কান্নায় ভরে গেছে।
ইভা কাঁপা গলায় বলল,
"যদি আমাদের বিয়েই না হয়ে থাকে, তাহলে তুই এখানে কেন? এতদিন তুই আমার বাসায় কী করেছিস?
ইফতেখার কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো বলল,
"প্রমাণ দেখা। কাবিননামা কোথায়?
ইভা হতভম্ব হয়ে বলল,
"কাবিনের কাগজ তো তোর কাছেই ছিল।
ইফতেখার এর কলার টেনে ধরলো সে।
ইফতেখার ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
"মিথ্যা বলছিস। দেখেছিস, নওরিন? ওর কাছে কোনো প্রমাণই নেই যে আমার সঙ্গে ওর বিয়ে হয়েছে।
এক মুহূর্তের জন্য নওরিন নির্বাক হয়ে গেল। ইভা শুধু কেঁদেই চলেছে।
কিছুক্ষণ পর নওরিন আবার বলল,
"তাহলে ওই কল রেকর্ডগুলো? দুই দিন আগে রাতে তুই ইভার বাসায় ছিলি। আমি নিজের কানে সব শুনেছি। সেগুলোও কি মিথ্যা?
"হ্যাঁ, সব মিথ্যা।
এতটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে একজন মানুষ যে নির্লজ্জভাবে মিথ্যা বলতে পারে, তা সেদিন নিজের চোখে দেখেছিল নওরিন। প্রমাণ সামনে থাকার পরও ইফতেখারের বিন্দুমাত্র অনুশোচনা ছিল না।
সেদিনই নওরিন চিরতরে ইফতেখারের সঙ্গে সব সম্পর্কের ইতি টেনে দেয়।
কিন্তু ইফতেখার এত সহজে হাল ছাড়েনি। দিনের পর দিন সে নওরিনের পিছু নিয়েছে, ফোন করেছে, দেখা করার চেষ্টা করেছে, নানাভাবে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে ইভাও নিজের ভাঙা জীবনের কষ্ট নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে।
সবকিছুর মাঝখানে নওরিনও অনেক মাস ধরে নীরবে বিষণ্নতায় ভুগেছে। তবে সে কখনো নিজের কষ্ট কাউকে বুঝতে দেয়নি।
এই কঠিন সময়ে তার একমাত্র ভরসা ছিল তার প্রিয় বন্ধু—"অমি"। প্রতিটি মুহূর্তে অমিই তাকে সাহস দিয়েছে, ভেঙে পড়তে দেয়নি।তাকে হাসিয়েছে,মন প্রফুল্ল রেখেছে।
নওরিনের কষ্টটা প্রতারণায় নয়। মানুষ ঠকতেই পারে।
তার কষ্ট ছিল—জীবনের প্রথম ভালোবাসায় সে এমন একজন মানুষকে বিশ্বাস করেছিল, যে ভালোবাসার নামে শুধু অভিনয়ই করে গেছে।তাকে বোকা বানিয়ে গেছে শুধু। নওরিন নিজের মায়ের সাথে ও তর্কে জারিয়েছে এই ছেলের জন্য।
কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসে সারাজীবনের সঙ্গী হতে নয়; আসে শিক্ষা দিয়ে চলে যেতে। আর সেই শিক্ষার মূল্য কখনো কখনো একটি ভাঙা হৃদয়। এরপর মাস পেরিয়েছে,বছর পেরিয়েছে,কিন্তু নওরিন নতুন করে কাউকে বিশ্বাস করে উঠতে পারেনি।
লেখিকার নোটঃ
গল্পের ৯৮% অংশ সত্য বাকিটা আমার নিজের তৈরি তাই হয়তো এন্ডিং সবার পছন্দ নাও হতে পারে।