মন বসে না শহরে

লেখিকাঃ মৌরিন আহমেদ

প্রকাশকালঃ মে ২৮, ২০২৬

আগের গল্প ইনডেক্স পাতা পরের গল্প

দ্বীপের উপর নামতেই লাফিয়ে উঠলো মৌরি। সবাইকে ছেড়ে দৌঁড়ে চলে গেল দ্বীপের ভেতরে। ও নামতেই পেছন পেছন ছুটতে শুরু করলো তুয়া আর নিশু। ঝড়ের বেগে দৌঁড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ওকে ধরে ফেললো। তারপর তিনজনে মিলে একসঙ্গে লাফাচ্ছে, চিৎকার করছে!

মৌরির কাণ্ড দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেললো সূর্য। তার দু' হাত ধরে আছে তার দুই বাচ্চা। মুগ্ধ আর মাধুর্য। জমজ বলে দুজনার চেহারাও একজাতের। মাধুর্য বরাবরই গম্ভীর, বাবার মতন। সেও ভ্রু কুঁচকে তাকালো। সূর্যের দিকে তাকিয়ে বললো,

-- "মাম্মাম এমন পাগলের মতো হাসছে কেন, পাপা?"

মৌরিন আহমেদ এর লেখা অনুগল্প মন বসে না শহরে এর ইমেজ

-- "বোধ হয় মাথার তার ছিঁড়ে গেছে!"

-- "কীভাবে ছিঁড়ল?"

ছেলের প্রশ্ন শুনে সূর্য বিপাকে পড়লো। মৌরির মাথার তার কি করে ছিঁড়ল সেটা কি সে জানে? বিব্রত হয়ে বললো,

--"না.. মানে.. সারাদিন তিড়িং বিড়িং করে বেড়ায় তো। ওই ভাবেই আর কি.."

-- "তুমি তাহলে মিথ্যে বলছো, পাপা। মাম্মামের কিছুই হয় নি। তুমি এমনই বানিয়ে বললে.."

মাধুর্যের জ্ঞানী কথা শুনে দারুণ বিব্রত হলো। অস্বস্তির পুরু আস্তরণে ছেয়ে গেল মন। মনে মনে বিড়বিড় করলো, 'বাচ্চাগুলোও হয়েছে মহাবিচ্ছু! উফ্!' কিন্তু মুখে বললো, (দাঁতে দাঁত পিষে)

-- "না, বানিয়ে বলি নি। কিন্তু তোর মা যেরকম লাফাচ্ছে তাতে তার ছিঁড়তে দেরি হবে না। অতি শীঘ্রই ওকে আমরা পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে আসবো।"

-- "তখন কি আমরাও যাবো, পাপা? পাবনা শহর ঘুরে দেখবো?"

মুগ্ধের উচ্ছাস দেখে বড়ই দুঃখ পেল সে। এদের কি মায়ামমতা নেই? একজন মানুষকে পাগলাগারদে রেখে আসা হবে আর ওরা? সব ছেড়ে শহর ঘোরা নিয়ে আনন্দিত? ব্যথিত হৃদয়ে বললো,

-- "হ্যাঁ, পাপা। আমরা তখন শহর ঘুরে দেখবো!"

-- "ইয়ে!"

মুগ্ধকে ভীষণ আনন্দিত মনে হলো। মাধুর্য্য কিন্তু কোনো ভাব প্রকাশ করলো না। সে বাবার হাত ধরে চারপাশ দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। সারি সারি নারকেল গাছগুলো দেখতে লাগলো নির্নিমেষ দৃষ্টিতে। একসময় বাবাকে জিজ্ঞেস করলো,

-- "ওই গাছগুলো কিসের গাছ? পাতা গুলো তো সুন্দর!"

-- "ওগুলো নারকেল গাছ, মামণি।"

মেয়ে তিতলিকে নিয়ে ওদের পাশে দাড়ালো আসিফ। তখনই জবাবটা দিলো। কাঙ্ক্ষিত উত্তর পেয়ে আর কিছু বললো না মাধুর্য্য। চুপচাপ পরিবেশ দেখায় মগ্ন হলো। সূর্য আসিফের দিকে তাকিয়ে হাসলো। আসিফ তার দুরন্ত বৌয়ের লাফ-ঝাঁপ দেখতে দেখতে মুখ কুঁচকে ফেলেছে! এই বয়সে এসে কেউ এমন লাফায়? কি আজব মেয়েরা! সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা নেই সূর্যের। তার জনও ওই একই কিসিমের! তাই ওর মেয়ে তিতলির গাল টেনে বললো,

-- "মামনি, বাবার কোলে চড়েছ যে? নীচে নামবে না?"

-- "নীচে ম-য়-লা।"

বলেই বাবার গলা আঁকড়ে ধরলো সে। সীমান্ত তখন ধীরে ধীরে নামছে। তার হাতে লাগেজ। দূরে মৌরি, তুয়া আর নিশাতকে উদ্দেশ্যে করে বললো,

-- "ওই মাইয়ারা? তোগো লাগেজ নিবি না? সব থুইয়া বান্দরের মতন লাফাইতেছস ক্যা? লাগেজ কি আমি উবামু?"

--"দাও, আমাকে দাও।"

সূর্য এগিয়ে এলো। আসিফও একহাতে লাগেজের ভার তুলে নিলো। সীমান্ত কিন্তু তখনো বিড়বিড় করছে,

'এই দজ্জাল মাইয়া গো জইন্যে আইজ পুরুষজাতির করুণ অবস্থা! এদের জইন্যে দুনিয়ার কোনো জায়গায় গিয়া নাই শান্তি। খালি ব্যাগ আর লাগেজ উবাও! কী জ্বালা!'

আস্তে বললেও সবাই সেটা শুনতে পেল। প্রজ্ঞা তো হেসেই ফেললো। সে হাসি দেখে গা জ্বলে উঠলো ওর। কটমট করে তাকালো,

-- "তুমি আর হাইসো না। তুমিও খুব ভালা মানুষ না!"

-- "আচ্ছা, যাও। আর হাসবো না।"

বললো ঠিকই কিন্তু হাসি কি থামলো? না, বরং আঁচলে মুখ চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করলো বড়জোর। তবুও হাসি থামলো না। আদি কাছে এসে সমবেদনা জানালো,

-- "মাইয়া জাতির জন্যে দুনিয়া শ্যাষ রে সৌম্য! দুঃখ করিস না। দে একটা লাগেজ দে। আমার বৌয়েরটা আমি নিচ্ছি।"

সীমান্ত নিঃশব্দে দিয়ে দিলো। তারপর পেছনে তাকিয়ে জাহাজে থাকা তুবা আর নাঈমের দিকে তাকিয়ে হাঁক ছাড়লো,

--"এই যে প্রেমিক যুগল, নাইম্যা আহেন। জাহাজ ছাইড়া দিবো এক্ষণি।.."

ডেকের উপর পাশাপাশি দাড়িয়ে কি কি যেন বলছিল তুবা-নাঈম। সীমান্তের ডাক শুনেই দমে গেল। মুখ বন্ধ হলো দু' জনের। হঠাৎ লাল রাঙা হয়ে উঠলো তুবার নরম মুখশ্রী। লজ্জায় আনত হয়ে নীচে নামতে লাগলো।

'দুনিয়ার কোনো জায়গায় গিয়া শান্তি নাই। সব জায়গায় খালি প্রেম, আর প্রেম!'-- বিড়বিড় করতে করতেই লাগেজ হাতে গটগট করে হেঁটে যেতে লাগলো সীমান্ত। প্রজ্ঞা চাপা হেসে পিছু পিছু ছুট লাগালো। আজ তার সাহেব বড্ডো ক্ষেপেছেন! কেবিনে ছেলের জন্য রোম্যান্স করতে পারেন নি কী না! তাই! ভাবতেই আবারো হাসি পেল ওর। কিন্তু এখন তো হাসা যাবে না। এখন হাসা মানেই বাবু সাহেবকে আরও বেশি ক্ষেপিয়ে দেয়া। আর পাগলা ক্ষেপলে তারই দুঃখ আছে কপালে!

_____________

ওরা সবাই রিসোর্টে এসে উঠলো। যে যার রুমে চলে গেল ফ্রেশ হতে। একটুপর বেরোবে সবাই। আদিব খুব তাড়াতাড়িই তৈরি হয়ে নিলো। রিসেপশনে এসে দাড়িয়ে থাকলো দীর্ঘক্ষণ। কিন্তু ওর অলস সহচররা কি আর এত জলদিই বেরোয়? অপেক্ষা করতে করতে একসময় অতিষ্ট হয়ে উঠলো। মুখটা কথা বলার জন্য খুচখুচ করছে। কি করা যায়? ম্যানেজারের কাছে যাবে? তার সঙ্গে কথা বলে ভাব জমাবে নাকি?

ভেবে এগিয়ে এলো সে। রিসেপশনে তেমন কোনো লোকজন নেই। ম্যানেজার সাহেবের কাজও নেই। চুপ করে বসে আছেন। ও এগিয়ে এলো। সামনের গোল টেবিলের একপ্রান্তে কনুই ঠেকালো। আলাপ জমানো সুরে বললো,

-- "বদ্দারে দেহিয়েরে মনে অদ্দে, এডিয়্যার।.. বাসা কডে অনের্?"

গেস্টের মুখে নিজের আঞ্চলিক ভাষা শুনে কি একটু চমকালেন উনি? বোধ হয়। তবে সেভাব প্রকাশে আনলেন না। হেসে হেসে বললেন,

-- "আর্ বাসা এডে ন।.. চিটাংঅর হালিশরত্।"

--"এডেহ্ কত্ততুন আছন্?"

-- "পাঁচ বছর ওয়য়ান।.. গুরাত্তুন দইজ্জার কুলত্ থাহি। য়িতাল্লাই শরত্ মন ন টিগে। রিসোর্টর চোওরি লই এডেই থাহি। বুঝন্না বদ্দা দইজ্জার টান বর্ দরো! যিতারা দইজ্জার কুলত্ থাহে য়িতারারে এই দইজ্জা ডাগ্ দে।।মায়ার ডাগ্। হেই ডাগ্ রে পাত্তা ন্ দনর্ বল আত্তে নাই!"

-- "দইজ্জা তইলে অনরে তাবিস্ গইরগে্?"

আদি ভাই হাসলো। লোকটাও হাসলো বিনিময়ে। জবাব দিলো,

-- "অহ্ য়িতাল্লাই.. দইজ্জার রূফ এদ্দে মায়াত্ যিতা একবার পইজ্জে য়িতা আর বাইরৈত ন পারে। যিতারা বাইরোয় য়িতারা পাষাণ! আই ত্ বদ্দা পাষাণ ন্.."

-- "মা, মা! দেখো, বাবা ওই লোকটার সঙ্গে গুট গুট করে কিসব বলছে যেন! কী বলছে ওরা?"

ছেলের কথা শুনে নিশাত তাকালো। রিসেপশনে দাড়িয়ে আদিব আর ম্যানেজার কথা বলছে। কিন্তু ভাষাটা স্বাভাবিক লাগছে না। কোনো একটা অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা মনে হচ্ছে। তেমন টান দিয়ে দিয়ে কথা বলছে। কিন্তু কোন এলাকার? চট্টগ্রামের? নিশাত ঠিক জানে না।

-- "মা? বাবা কি বলছে?"

-- "জানি না আমি! তোর বাপরে গিয়া জিগা.."

নিশাত বিড়বিড় করে উত্তর দিলো। ওর ছেলে নাফিস সেটা শুনলো কি না কে জানে। তবে পুনরায় প্রশ্ন করলো না। চুপ করে রইলো। একটু পর লবিতে আসতে দেখা গেল প্রজ্ঞা আর সৌম্য কে। ছেলে সিদ্ধার্থের হাত ধরে এগিয়ে আসছে প্রজ্ঞা। পেছনে পেছনে ছোট একটা ব্যাগ ঘাড়ে নিয়ে আসছে সৌম্য। বড়ই ক্লান্ত পরিশ্রান্ত দেখাচ্ছে ওকে! মাঝে মাঝে কি যেন বিড়বিড়ও করছে। নিশ্চয় মেয়ে জাতিকে নিয়ে কটাক্ষ করছে! এ ছাড়া আর কিই বা করবে সে?

-- "কি রে দাড়ায় আছো যে?"

নিশাতকে উদ্দেশ্য করে বললো প্রজ্ঞা। উত্তরে ও হাসলো। কিছু বললো না। ওরা চুপচাপ দাড়িয়ে থাকলো। এর প্রায় কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে এসে হাজির হলো তুয়া-আসিফ, তুবা-নাঈম। এদের সামনে সামনে আসছে এদের বাচ্চারা তিতির-তিতলি। গুটি গুটি পায়ে হেঁটে। সবার শেষে আসলো মৌরি। মুগ্ধ আর মাধুর্যের সঙ্গে কি নিয়ে যেন কথা কাটাকাটি করছে সে। সূর্য বেশ ধৈর্যের সঙ্গেই পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। এরা মা'য়ে আর ছা'য়ে যা বুঝছে তাই নিয়ে চিৎকার করছে। ঝামেলা বেশি করছে মৌরি আর মুগ্ধ। এরা দু'জন একই কিসিমের মানুষ। একই রকম জেদি। সুতরাং ঝামেলা এদেরই বেশি হয়! মাধুর্য অবশ্য তেমন কিছু বলছে না সে চুপ থেকে মাঝে মাঝে দু' একটা কথা বলছে।

-- "এই তোদের কি হইছে রে? মায়ে-ছা'য়ে মিল্লা চিক্কুর দিতাছস ক্যা? হোটেল খান কি মাথায় তুইল্যা নিতে চাইতেছস?"

সীমান্তের কথা শুনে মুখ ভেংচালো মৌরি। মুখ বেঁকিয়ে বললো,

--"মোটেই চিল্লাছি না। একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি.."

-- "হইছে!.. আপনারা তো দেশের প্রেসিডেন্ট, দুনিয়ার সব আলোচনাই তো আপনাদের জন্য!.. এখন চুপ করেন!"

সীমান্তের জবাব শুনে মুখ কালো করলো মুগ্ধ। মাধুর্য তার বাবার হাত ধরে নরম গলায় বললো,

-- "পাপা? মামা কি মাম্মামকে বকছে?"

-- "না, ময়না বকবো কেন? এইতো আদর করছি!"

উত্তরটা দিয়েই মৌরির চুল ধরে টানলো সৌম্য। 'আহ্' শব্দ করে মাথায় হাত ছোঁয়ালো সে। ওর পিঠে দুম করে কিল বসাতে গেলেই ভুলবশত মার লেগে গেল তুয়ার বাহুতে। সে দাঁত কটমট করে বললো,

-- "তুই মারলি ক্যান?"

-- "সৌম্যরে মারতে গিয়া লাগছে!.. আমার দোষ নাই!"

-- "সৌম্যর বাচ্চা!.."

অতপর দুই ঝামেলাদার রমনী মিলিয়া-ঝিলিয়া উত্তম-মধ্যম দেয়া শুরু করলো ওকে। সৌম্যও কম না। ধুমধাম মার চললো। এদের এরকম বাচ্চামো কাণ্ড দেখে এদের বাচ্চারাই আহাম্মক বনে গেল! আর তাদের মধ্যে দাড়িয়ে দুই প্রফেসর সাহেব গম্ভির হয়ে থাকলেন। সূর্য আসিফের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললো,

-- "বিয়ে করে মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছি!.."

-- "বিয়ে হলো দিল্লি কা লাড্ডু, যো খায়েগা ওও পস্তায়েগা যো নেহি খায়েগা ওও ভি পাস্তায়েগা!.."

-- "কথা সত্যি! সেজন্যই পস্তাচ্ছি!.."

বিজ্ঞাপন

হোটেল থেকে বেরিয়ে বিচের দিকে যাত্রা শুরু করলো ওরা। নাফিস এগিয়ে এসে আদিবকে বললো,

-- "বাবা! বাবা!"

-- "হ্যাঁ, বাবা বলো।" সমান আহ্লাদী সুর।

--"তুমি তখন ওই আঙ্কেলটাকে কি বলছিলে?"

--"কখন?" আদিব অবাক হয়ে জানতে চাইল।

-- "ওই যে হোটেলের গেটে। একটা আঙ্কেলের সঙ্গে দাড়িয়ে বলছিলে যে.. ওটা কি চাইনিজ ভাষা?"

আদিবের এবারে মনে পড়লো। সে হেসে উঠে বললো,

-- "না। বাবা। ওটা হলো চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা।"

নাফিস যখন 'আঞ্চলিক ভাষা' কি এটা জানতে চাইবে তার আগেই পেছন থেকে তুবার প্রশ্ন শোনা গেল। সে বিস্ময়ে বলছে,

-- "তুমি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাও পারো, আদি ভাই?"

-- "তো? না পারার কি আছে?"

আদিব খুব ভাব নিলো। একহাতে শার্টের কলার উঁচিয়ে ঝাড়া মারলো। পাশ থেকে নিশাত ফোড়ন কাটলো,

-- "আমি তো ভেবেছিলাম সে শুধু ঝগড়া আর ওই ইয়ে করতেই পারে.. এখন তো দেখছি, নাহ্ আরও কিছু পারে! হুহ.."

'ইয়ে করতে' বলতে কী বোঝানো হলো সেটা বেশ বুঝলো আদিব। চোখ রাঙালো সবার অলক্ষ্যে। প্রত্যুত্তরে নিশাতও ভেংচি কাটলো। প্রজ্ঞা তখন জিজ্ঞেস করলো,

-- "আদি ভাই তুমি চিটাগাংয়ের ভাষা শিখলে কই?"

-- "ঐদিকে ছিলাম দুই বছর।"

সীমান্ত তখন ব্যাগ উবানো ছেড়ে ফোন হাতে নিয়েছে। সেলফি স্টিকে ফোনটা আটকে সে ভিডিও কল দিচ্ছে হৃদয়কে। ওদের এই পিকনিকে হৃদরা আসতে পারে নি। দুদিন ধরে হৃদির ভীষন জ্বর! তাই আর রিস্ক নিয়ে আসতে চায় নি ওরা!

দু' বার কল হতেই রিসিভ করলো হৃদ। খোলা প্রকৃতির মাঝে বসে আছে হৃদ। ঠিক কোথায় সেটা বোঝা যাচ্ছে না। সীমান্ত সে নিয়ে মাথাও ঘামালো না। সে উচ্ছাস নিয়ে বললো,

-- "দোস্তওও!.. চলে এসেছি!.. এই দেখ, আমরা সবাই একসাথে!"

তারপর পিছনে ফিরে সবাইকে দেখে ডাকলো,

-- "এটেনশান প্লিয। গাইজ, এইদিকে তাকাও! হৃদপিন্ডরে সবাই নিজের চাঁদ বদন দেখাও!"

--"হ্যালো, হৃদ! কী অবস্থা?"

সূর্য হাত নাড়লো। হৃদ হাসলো। মাথা নাড়িয়ে বললো,

-- "ভালো জিজু! আপনাদের?"

-- "এইতো চলছে.."

-- "হৃদির কি অবস্থা? জ্বর কমছে?" তুবা জানতে চাইলো।

-- " একটু কমেছে!"

-- "পিংকি কই? দেখি ওদের.." তুয়া তাড়া দিলো।

পিংকি মেয়েকে কোলে নিয়ে ছিল। হৃদ ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেখালো ওদের। সবাই 'হায় হ্যালো' করতে ব্যস্ত হলো। একটু পর নিশাত বেশ আফসোস করেই বললো,

-- "তোরা আসলে খুব ভালো হতো! এখন আমরা কতো মজা করবো.."

-- "তুই মিস করলি!"

মৌরি ওর কথাটা শেষ করে দিলো। অতপর সবার চেহারাতেই যেন একটা কালো ছায়া আসতে চাইলো। কিন্তু সীমান্ত তা হতে দিলো না। সে দুষ্টুমির সুর তুললো। ফট করে বললো,

-- "আমরা কতো কিছু করবো, মাম্মা! তুমি সব মিস করলা!.."

-- "আমরা এখন সমুদ্রে নামবো, গোসল সারবো। হৈ হুল্লোড় করবো। রাতে গান-বাজনা করবো। মিস হয়ে গেল তোর!" দুষ্টু হাসলো আদিব।

-- "সবই মিস!" হতাশার সুর তুবারও।

হৃদ যে প্রত্যুত্তরে কিছু বলবে তার আগেই লাফিয়ে উঠলো তিতলি-তিতির। উল্লাসে চেঁচিয়ে উঠলো,

--"হৃদি!"

প্রথমে ওরা ভাবলো স্ক্রিনের পর্দায় হৃদিকে দেখা যাচ্ছে বলেই হয় তো বাচ্চাদের এ সোল্লাস! কিন্তু ওদেরকে ভুল প্রমাণ করে সিদ্ধার্থ তার মায়ের হাত চেপে বিচের দিকে তাকিয়ে বললো,

-- "আম্মু, আম্মু! দেখ। ওই যে হৃদি! পিংকি আন্টির কোলে!.."

ছেলের কথা শুনে ভ্রূ কুঁচকে তাকালো প্রজ্ঞা। সিদ্ধার্থ ক্রমাগত ওর হাত ঝাঁকাচ্ছে। আর ওই দিকে দেখাচ্ছে। ওরা সবাই অবাক হয়ে তাকালো।

-- "কই রে?"

মৌরির বিস্মিত কন্ঠস্বর। উত্তরের অপেক্ষা না করেই সেদিকে তাকিয়ে দৌড় শুরু করলো মুগ্ধ আর তিতির। পেছন পেছন নাফিস আর তিতলি। পিছন থেকে তখন বিস্ময়ে হতবাক বাকিরা। বাচ্চাগুলো ছুটছে কোথায়? নিশাত চিৎকার করে পিছনে পিছনে দৌড়ালো, 'এই তোরা কোথায় যাচ্ছিস? এই!' ওদের এই অবস্থা দেখে সিদ্ধার্থও তার মায়ের হাত ছাড়িয়ে দৌড় ধরলো। একমাত্র মাধুর্যই তার বাবার হাত ধরে গম্ভির গলায় বললো,

-- "ওরা দৌড়াচ্ছে কেন পাপা?"

-- "বুঝতে পারছি না।" সেদিক তাকিয়ে থেকেই কন্যার প্রশ্নের জবাব দিলো সূর্য। মাধুর্য একপলক বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আবারও বললো,

-- "আমিও কি দৌড়াবো?"

-- "ইচ্ছে হলে যেতে পারো। তবে দলছুট হয়ে যেও না.."

-- "ঠিক আছে!"

মাধুর্যও ছুটতে শুরু করলো। বাকীরা একটু অবাক, একটু বিস্ময় নিয়ে ধীরে ধীরেই এগোতে শুরু করলো।

এদিকে এসে ওরা সবগুলোই চমকে গেল। বিচের কাছে পেতে রাখা ছাতার নিচে চেয়ারে বসে আছে হৃদ। পাশে মেয়েকে কোলে নিয়ে পিংকি। হৃদয়ের চোখে একটা কালো রোদ চশমা। একটা বড় ব্যাগ সঙ্গে রাখা। বাচ্চারা ছুটে এসে ঠিক ওদের কাছেই আসলো!

-- "চাচ্চু! তোমরা কখন আসলে?"

চেয়ারে বসতে বসতে বললো সিদ্ধার্থ। হৃদ ওর কপাল চাপড়ে দিয়ে বললো,

-- "এইতো এক্ষুনি। তোর বাবা-মা কই?"

--"মামা!"

বাকি পুচকিরাও হাজির হয়ে গেল। সবাই এসে চেয়ারে বসলো। হৃদিকে নিয়ে টানা হ্যাঁচড়া শুরু করে দিলো মুহুর্তেই। 'মামনি, ওকে কোল থেকে নামিয়ে দাও। খেলবো' জেদ দেখে হৃদিকে নামিয়ে দিলো পিংকি। ওরা বালুচরে ছুটতে থাকলো। হৈ হুল্লোড় করতে লাগলো। ইতি মধ্যেই সেখানে চলে এলো দলের বাকী সদস্যরা। হৃদদের দেখে ওরা সবাই চমকালো! ও এখানে এলো কি করে? পরশু ওরা যখন কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে বাসে চড়লো তখন থেকেই তো জ্বর হৃদির! তারপরো এত করে আবদার করা হলো, বায়না হলো, তবুও ওরা আসতে চাইলো না। আর আজকে? একেবারে সোজা সেন্ট মার্টিন এসে হাজির?

-- "কি রে? তোরা এখানে? ক্যামনে আইলি?"

হাঁপাতে হাঁপাতে বললো তুয়া। হাতের ব্যাগটা বেশ শব্দ করেই চেয়ারের উপর রাখলো সীমান্ত। তারপর প্রশ্নাত্বক চোখে তাকালো। হৃদ হেসে বললো,

-- "ক্যামনে আর আসবো? বাসে টেকনাফ। তারপর স্পিডবোটে সেন্ট মার্টিন!"

বলেই হাসলো। ওরা আরও বেশি অবাক হয়ে গেল। স্পিডবোটে করে সেন্ট মার্টিন? বলি, এরা কি পাগল? ছোট বাচ্চা নিয়ে স্পিডবোটে কেউ এতদূর আসে? আসিফ বিস্ময়ে বললো,

-- "স্পিড বোটে? এই জ্বরের বাচ্চা নিয়ে?"

-- "হুম তো?"

-- "তো মানে? এটা কত রিস্ক হয়ে গেছে বুঝিস তুই?"

ধমক দিলো আদিব। হৃদ মুখ বেঁকালো। তুবা একটু রয়ে সয়েই জানতে চাইলো,

-- "হৃদি ভয় পেল না? এমনিতেই তো অসুস্থ্য ও! আর পিংকি?.."

-- "ভাবিআপা তোমার ভয় লাগলো না? এই পাগলের কথায় রাজী হলে কেন তুমি?"

মৌরি জিজ্ঞেস করলো। পিংকি কী বলবে ভেবে পেল না। সত্যি বলতে তার এখানে আসার কোনো ইচ্ছেই ছিল না। একদিকে নিজের বাচ্চা অসুস্থ্য। জ্বরে কাহিল অবস্থা! তারমধ্যে কোন মা চাইবে, সমুদ্রপাড়ে এসে হুল্লোড় করতে? তাও আবার কত দূরের জার্নি! হৃদও সে কথায় সায় দিয়েছিল। প্রথমেই না করে দিয়েছিল।

আগে থেকে সব প্ল্যান করার পর শেষ মুহূর্তে যখন হৃদি অসুস্থ্য হয়ে গেল তখন সবাই বেশ আশাহত হলো। মন খারাপ করলো। একবার তো বললো, প্ল্যানই ক্যানসেল! কোত্থাও যাবে না। কিন্তু পরক্ষণে বাচ্চাদের কথা ভেবে রাজী হলো ওরা। কথা হলো এবার ওরা সবাই যাবে, ঘুরবে, নেক্সট বার হৃদরাও যাবে। সেবার যাই হয়ে যাক হৃদরা সঙ্গে থাকবেই। অনেক কথা, অনেক কিছুর পর পরশু দিন সকালে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে বাসে উঠিয়ে দেয়া হলো ওদের। হৃদ, পিংকি ওরাই এসে বাসে তুলে দিয়ে গেল। সব ঠিক ছিল। খুব আনন্দ-হর্ষেই ওরা যাত্রা আরম্ভ করলো। কিন্তু বাড়ি ফিরে আসতে আসতেই হৃদের মুখ ভার হলো। ওর সব বন্ধুরা তাদের পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছে, আর ও সেখানে যেতে পারবে না? এটা কেমন কথা? মন খারাপ তবুও পিংকিকে কিছু বললো না। পরদিন কক্সবাজারে নেমে ওরা গ্রুপে আপডেট স্ট্যাটাস দিলো, বিচে ঘোরার সময় নানান ঢংয়ে ছবি তুলে পাঠালো, বাচ্চাদের নিয়ে সমুদ্রে গোসল করছে, বালুচরে হাঁটছে, ছুটে বেড়াচ্ছে-- এইসবের ছবি। সেগুলো দেখে আরও মন খারাপ হলো হৃদের। যদিও ওকে বললো না, তবুও সবটাই বুঝলো পিংকি। তারও খারাপ লাগলো। কিন্তু কিছু করার নেই!

সব ঠিক থাকলেও গতকাল রাতের দিকে খুব আপসেট ছিল হৃদ। প্রিয় মানুষের মুখ অন্ধকার দেখে বুক ফেটে যাচ্ছিল পিংকির। সে নিজেই জেদ ধরলো সেন্ট মার্টিন যাবে! হৃদ অনেক বুঝালো কিন্তু সে মানলো না। অবশেষে ওরা বাসে চড়লো। ওরা যখন টেকনাফে এসে পৌঁছল মৌরিরা তখন জাহাজে। ওরাও সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যেই আসছে। হাতে সময় কম! ওদের কাছে দ্রুত এসে চমকে দেয়ার চিন্তা ছিল হৃদ-পিংকির! তাই রিস্ক নিয়েই স্পিড বোটে করে সমূদ্র পারি দিলো ওরা! পথে ভয় ছিল, বোটের ছোঁয়ায় যখন সমুদ্রের পানি গুলো ছিটকে ছিটকে সরে যাচ্ছিল তখন হৃদি কেন পিংকি নিজেই ভীষন ভয় পাচ্ছিল। যদিও জানে বোট উল্টাবে না, সম্ভবনা কম, তবুও ভ য়ে তার বুক কাঁপছিল! যদি কিছু হয়ে যায়? কতো আতঙ্ক নিয়ে শেষমেষ এসে হাজির হলো এখানে! বারবার মনে হচ্ছিল না এলেই বোধ হয় হতো। হৃদ তো অতো জেদ করে নি। বরং মানাই করেছে! কিন্তু ওর দুঃখী দুঃখী মুখটা? দেখেই কান্না পাচ্ছিল পিংকির।

একটু আগেও তার ভয় লাগছিল, আতঙ্কের শিহরন খেলে যাচ্ছিল সারা শরীরে! কিন্তু এখন আর সেটা নেই। ভয়াবহ সময় সে পেরিয়ে এসেছে।শত হোক, প্রিয় মানুষের মুখের হাসি দেখতে পারছে সে! এই যে এরা, প্রিয় পাঁচ জুটি সামনে দাড়িয়ে আছে। হৃদের বন্ধুরা, এরা কি ওর কাছে কম? এদের সঙ্গে থাকার জন্য, এদের কি খুশি করার জন্য হৃদ কি কম ব্যাকুল? এটা কি জানে না পিংকি? তাহলে সবাই যেখানে খুশি থাকবে, আনন্দ করবে সেখানে থেকে ওকে কি করে আলাদা করে দেয় সে? তা কি সম্ভব?

কথায় কথায় প্রসঙ্গ বদলালো। কিছুক্ষণ আলাপন করে ওরা সকলেই ছুটে গেল বালুচরে। বাচ্চাদের সঙ্গে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠলো!

___________

রাত নেমেছে ধরণীতে। শো শো বাতাস বইছে। ঠাণ্ডা একটা পরিবেশ চারিদিকে। এমন সময়ে চুপিচুপি পায়ে হোটেলের লবিতে এসে ভীড় জমালো পাণ্ডবরা। ছয় জুটি এসে দাড়ালো। সঙ্গে বাচ্চারা নেই। ওদের ঘুম পাড়িয়ে রেখে বাইরে যাচ্ছে ওরা। সমুদ্রবিলাস করতে। সীমান্তের কাঁধে গিটার। সে গুনগুন করতে করতে সবার আগে যাওয়া শুরু করলো। পেছন পেছন প্রত্যেক জুটি। সবাই নিজেদের মধ্যে খুনসুটিতে ব্যস্ত। তুবা-নাঈম গুজুর গুজুর করছে। নিশাত-আদিব করছে ঝগড়া। তুয়া আবার একধাপ এগিয়ে, ঝগড়া শেষে এখন চলছে মান-অভিমান। আসিফের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আসিফও পাত্তা দিচ্ছে না। চুপ করে আছে। আর মৌরি-সূর্য? এনারা ঝগড়া করেন না। করেন মারামারি। এখনও তাই করছে। একটু পর পর কনুই দিয়ে সূর্যের পেটে গুঁতো দিচ্ছে মৌরি। সূর্য রাগ করছে, চোখ রাঙাচ্ছে। মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমনও করছে। তাতে আরো রেগে মারামারি করছে মৌরি! এমন করতে করতেই বিচে এসে পৌঁছল ওরা!

আগুন ধরানো হলো বালুচরে। তাকে ঘিরে গোল হয়ে বসে পড়লো সবাই। আড্ডা জমতে শুরু করলো। হাসি-ঠাট্টায় মুখরিত হলো নিস্তব্ধ পরিবেশ। একসময় নাঈম হেসে বললো,

-- "এই সুন্দর পরিবেশে একটা গান কি হবে না?"

--"হ্যাঁ, অবশ্যই। জলফড়িং আছে আর গান হবে না তাই কি হয়?"

পিংকিও সায় দিলো। মৌরি নরম চোখে সূর্যের দিকে তাকালো। সে হেসে প্রস্তাবনায় সায় দিলো। প্রজ্ঞাও আবদার করলো সীমান্তের কাছে। নিশাত তখন আদিবের জনের কাছে ফিসফিস করলো,

-- "পাদি সাহেব বহুত তো হলো পাদাপাদি। এবার একটু গানও গান প্লিজ?"

আদিব হাসলো। পিঙ্কির চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলো হৃদ। তার প্রেয়সীরও কি একই কথা? সবাই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে, অথচ তুয়া-আসিফ চুপচাপ? মান ভাঙলো আসিফ নিজেই। প্রেয়সীর হাত ধরে আহ্লাদ করলো,

-- "এমন পরিবেশে গান হবে না?"

-- "প্লিয, একটা গান ধর না, তোরা?"

তুবা ভীষণ সুন্দর করে বললো। কী কিউট করে! ওরা এই আবদার ফেলতে পারে? সীমান্ত গিটারে সুর তুললো। প্রথমে হৃদ তারপর লয় অনুযায়ী জলফড়িংয়ের সবাই গাইতে শুরু করলো,

-- "আমার মন বসে না শহরে

ইট পাথরের নগরে

তাই তো আইলাম সাগরে,

তাই তো আইলাম সাগরে

মন বসেনা শহরে

ইট পাথরের নগরে

তাইতো আইলাম সাগরে

তাইতো আইলাম সাগরে

এই সাগর পাড়ে আইসা আমার

মাতাল মাতাল লাগে

এই রুপ দেখিয়া মন পিঞ্জরায়

সুখের পক্ষী ডাকে (2x)

পারতাম যদি থাইকা যাইতে

এই সাগরের পাড়ে

ঝিনুক মালা গাইথা কাটায়,

দিতাম জীবনটা রে

আমার মন বসে না শহরে

ইট পাথরের নগরে

তাই তো আইলাম সাগরে,

তাই তো আইলাম সাগরে

মন বসেনা শহরে

ইট পাথরের নগরে

তাইতো আইলাম সাগরে

তাইতো আইলাম সাগরে

এই নীল জলেতে ভাসায় দেবো

মনের দুঃখ যতো

আর জল দিয়া পূরন করিবো

হাজার শুকনো ক্ষত (2x)

পারতাম যদি থাইকা যাইতে

এই সাগরের পাড়ে

ঝিনুক মালা গাইথা কাটায়,

দিতাম জীবনটা রে

আমার মন বসে না শহরে

ইট পাথরের নগরে

তাই তো আইলাম সাগরে,

তাই তো আইলাম সাগরে"

গানের এ পর্যায়ে সকলে একসঙ্গে গলা মিলালো,

-- "মন বসেনা শহরে

ইট পাথরের নগরে

তাইতো আইলাম সাগরে

তাইতো আইলাম সাগরে

তাইতো আইলাম সাগরে

তাইতো আইলাম সাগরে

তাইতো আইলাম সাগরে

তাইতো আইলাম সাগরে।।"

অদূরে সমূদ্র গর্জন তুলেছে। 'বে অব বেঙ্গল!' বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ, মিষ্টি বাতাসে দোল খেয়ে যাওয়া নারকেলের পাতা, সবমিলিয়ে পরিবেশ অন্যরকম আবেশময়! কী মুগ্ধতা চারিপাশে! এই সুন্দর পরিবেশে, বালুচরে বসে গান গাইছে একদল আনন্দিত তরুণ-তরুণী। কী আবেগ তাদের চোখে-মুখে! এই মোহময় নিসর্গের সঙ্গে একদম মিলে-মিশে একাকার হয়ে গেছে যেন। আহা কি সুন্দর দৃশ্য!

(সমাপ্ত)
আগের গল্প ইনডেক্স পাতা পরের গল্প