বৈরীতা ও অনুরক্তি

পর্ব - ৭

🟢

নিঝুম রাত্রি। সন্ধ্যার হৈ-হল্লা কমে গেছে সম্পূর্ণ। এখন কেবল একটানা ঝিঁঝিপোকার ডাক ভেসে আসছে। সাথে দমকা বাতাসে গাছের পাতা নড়ার শব্দ।

অয়নদের বাড়ির উঠোনের বাতিও বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়ির সদস্যগণ নিজেদের ঘরে গিয়ে ঘুমের বন্দোবস্ত করছে।

অয়ন ঘরে আসলো তখন। এসে দেখলো, নূপুর ভদ্রমেয়ের মতো মাথায় ঘোমটা দিয়ে খাটের মাঝ বরাবর চুপচাপ বসে আছে। ঘোমটার আড়ালে থাকা অস্পষ্ট চেহারাটা দেখেও আন্দাজ করা যাচ্ছে, নূপুর মাথা ঝুঁকিয়ে রেখেছে।

বিষয়টা সন্দেহজনক লাগলো অয়নের কাছে। কারণ, নূপুর এভাবে চুপচাপ বসে থাকার মেয়েই নয়। বিয়ে করতে না করতেই রাতারাতি ভদ্র হয়ে যাবে, তা অবিশ্বাস্য।

অয়ন গলা খ্যাঁকাড়ি দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়ার চেষ্টা করলো। নূপুর সে-বেলাও মুখ তুলে তাকানো না।

অয়ন দরজা আটকে বিছানায় এসে বসলো। এরপর হাত বাড়িয়ে নূপুরের ঘোমটা তুলল। জ্বিভে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,

-"আমারে মা*রতে এসে কেস খেয়ে আমার বউ হওয়ার পর কেমন লাগছে, নেত্রী ম্যাডাম?"

তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলো নূপুর। কিছু বলতে গিয়েও কি ভেবে শান্ত করলো নিজেকে। ঠান্ডা মাথায় বলল,

-"বিরক্ত লাগছে।"

অয়ন প্রলম্বিত শ্বাস নিয়ে বলল,

-"বিরক্ত লাগলেও কিছু করার নেই। সংসার করতে হবে।"

নূপুর চোখ তুলল। কটমটে দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো অয়নের দিকে। অয়ন সবে সবে একটু কাছ ঘিঁষে বসার জন্য এগিয়ে এসেছে, অমনিই বালিশের নিচ থেকে ছু*রি বের ওর সামনে ধরলো নূপুর। রূক্ষ স্বরে বলল,

-"খবরদার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না। নাহয় এই ছু*রি আমি আপনার পেটে ঢুকাবো।"

অয়ন কয়েক মুহুর্ত তাকিয়ে রইলো ছু*রিটার দিকে। বিশেষ বিচলিত মনে হলো না তাকে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে শান্ত স্বরে বলল,

-"ছু*রিটা খুঁজে পেয়েই গেলে তুমি।"

নূপুর ফুঁসে উঠে বলল,

-"হ্যাঁ। আমার বিরুদ্ধে যে প্রমাণ রেখেছিলেন, ওটা সরিয়ে দিয়েছি। এবার কি করবেন?"

অয়ন প্রতিত্তোরে বলল,

-"খুঁজে পেয়ে লাভই কি হলো? বিয়ে তো হয়েই গেছে। তুমি অলরেডি ফেঁসে গেছো। এখন প্রমাণ সরিয়ে লাভ কি?"

নূপুর ভেবে দেখলো, কথা সত্য। অয়নের কাজ হাসিল হয়ে গেছে। এখন ছুরি সরিয়েও কোনো ফায়দা নেই।

নূপুরের নিশ্চুপতার সুযোগ নিয়ে আগানোর চেষ্টা করলো অয়ন। ওমনিই সতর্ক হলো নূপুর। ঝাঁঝালো স্বরে বলল,

-"খবরদার!! একবার না করেছি না? আবার আগাচ্ছেন কোন সাহসে?"

অয়ন 'চ' সূচক শব্দ করে বলল,

-"বিয়ে করেছি কি দূরে থাকার জন্য? আশ্চর্য!"

নূপুরের চোখ জোড়া ছোট ছোট হয়ে এলো। বলল,

-"আপনার সাথে আমার অনেক বোঝাপড়া বাকি আছে।"

-"শুরু করো তাহলে।"

গল্পের বাহার এর গল্প (বৈরিতা ও অনুরক্তি) লেখিকা তিয়াশা চৌধুরী

নূপুর এখনো ছু*রিটা হাতে শক্ত করে ধরে গেছে। আজ সে কোনোভাবেই ভুল করবে না, এই পণ নিয়েছে। অয়ন শান্ত আচরণও নূপুরের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারছে না। কর্কশ গলায় বলল,

-"আমাকে বিয়ে করেছেন কেন?"

অয়নের সোজা-সরল উত্তর,

-"মানুষ বিয়ে যে কারণে করে, আমিও সেই কারণেই করেছি।"

-"কেন? আপনার শহুরে প্রেমিকা আপনাকে ছেড়ে গেছে বুঝি?"

অয়ন ভ্রু কুঁচকে ফেলল। বিস্মিত হয়ে বলল,

-"শহুরে প্রেমিকা? আমার আবার প্রেমিকা কোত্থেকে এলো?"

বিপরীতে নূপুর ঝা*ড়ি মারলো,

-"খবরদার কথা ঘুরাবেন না! আমি প্রশ্ন করেছি, প্রশ্নের উত্তর দিবেন। বিনিময়ে পাল্টা প্রশ্ন করতে বলি নি।"

অয়ন হতাশ শ্বাস ফেলে বলল,

-"আমার কোনো প্রেমিকা নেই, নূপুর। একটা মাত্র বউ আছে আমার। আর সে বাসরঘরে স্বামীর সামনে ছু*রি ধরে বসে আছে।"

নূপুর তাতেও গলল না। ভারী বিরক্ত হয়ে বলল,

-"সস্তা রসিকতা।"

-"এটাকে ভালোবাসা বলে। যাদের মধ্যে রস-কষ নেই, তারাই রসিকতা মনে করে।"

নূপুর গর্জে উঠলো,

-"ঘুরে-ফিরে দোষ আমার উপর চাপাবেন না, চেয়ারম্যান সাহেব। আর একটু পরপর বউ বউ করে আমার গায়ে জ্বালা ধরাবেন না। আপনাকে আমি স্বামী হিসেবে মানি না।"

অয়ন একবিন্দুও বিচলিত নয়। চোখে-মুখে বিরক্তির ভাব ফুটিয়ে রাখলেও, মনে মনে বেশ মজা পাচ্ছে। বলল,

-"বিয়ে করেছো, কবুল বলেছো, আবার বাংলা সিনেমার সস্তা ডায়লগও দিচ্ছো? সমস্যা কি তোমার?"

-"আপনি জোর করে, হুমকি দিয়ে বিয়ে করেছেন আমাকে। বাধ্য করেছেন আমাকে। যেখানে আমার মতামতের গুরুত্বই দেয়া হয়নি, সেখানে বিয়েটা কেন মানবো আমি?"

-"তুমি না মানলে নেই। আমি তো মেনে নিয়েছি।"

-"কি কারণে? যাকে দশবছর আগে বিয়ে করতে চাননি, তাকে দশবছর পর এসে বিয়ে করার কি কারণ?"

কয়েকপ্রস্থ তর্কাতর্কি শেষে আসল কথাটা প্রকাশ করলো নূপুর। অয়ন বিস্মিত নজরে তাকালো তৎক্ষনাৎ। প্রশ্ন করলো,

-"আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাইনি?"

নূপুরের কথায় রাখ-ঢাক নেই। সে নিজের ভাবনাই উগলে গেলো অনর্গল,

-"না, চাননি৷ দশবছর আগে বিয়ের কথা হয়েছিলো আমাদের। তখন কি করেছিলেন আপনি? মানা করে দিয়েছিলেন। এক কথায়- রিজেক্ট করেছিলেন। আমি তো আপনার যোগ্য ছিলাম না। এজন্যই হয়তো আমাকে বিয়ে করতে চাননি। তাহলে দশবছর পর এসে কেন সিদ্ধান্ত বদলালেন? কেন বিয়ে করলেন আমাকে?"

তীব্র অভিমানে নিজেকে সামলাতে পারলো না নূপুর। রূক্ষ ও কর্কশ কন্ঠস্বর বদলে নরম হলো একটু। অয়নের বিস্ময়ের তোয়াক্কা না করেই মুখ ফিরিয়ে নিলো। অভিযোগ জানালো,

-"বিয়ে ও সংসারের স্বপ্ন তখন সাজিয়েছিলাম আমি। কিন্তু আপনি এক নিমিষে সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছেন। এরপরও আপনার সাথে সংসার করার স্বপ্ন দেখবো আমি?

উহু। আমাদের বিয়ে হয়েছে সম্পূর্ণ আমার অনিচ্ছাতে। তাই আমার দিক থেকে কোনো আশা রাখবেন না।"

নূপুরের নজর অন্যদিকে। সুযোগটা হাতছাড়া করলো না অয়ন। এক ঝটকায় ছু*রিটা কেড়ে নিলো। নূপুর তখুনি ঘুরে চাইল। আঁখিদ্বয় বড়বড় করে বলল,

-"কি করলেন এটা? ছু*রি দিন আমাকে।"

অয়ন সরিয়ে দিলো ছু*রি। বলল,

-"কি কারণে দিবো? তোমাকে অপেক্ষা করানোর অপরাধে আমাকে টুকরো টুকরো করে কা*টার জন্য?"

বিজ্ঞাপন

নূপুর ছু*রি নিতে চাইলেও অয়ন দিলো না। ছু*রিটা পেছনদিকে তোষকের নিচে গুজে অয়ন নূপুরের দু-বাহু আঁকড়ে ধরলো শক্ত করে। মূহুর্তের মাঝে ছটফটিয়ে উঠলো নূপুর। উসখুস করে বলল,

-"ছাড়ুন আমাকে।"

অয়ন শান্ত স্বরে বলল,

-"আগে আমার পুরো কথা শুনো, নূপুর। তোমার মাথা গরম হয়ে আছে৷ মাথাটা ঠান্ডা করো প্লিজ। নাহয় কিছুই বুঝবে না।"

নূপুর তিক্ত স্বরে বলল,

-"সাফাই দিবেন নিজের পক্ষে? কিন্তু আমি আপনার কোনো সাফাই শুনবো না। আর মিথ্যা কথা তো ভুলেও শুনবো না।"

-"আমি কোনো সাফাই দিবো না, নূপুর। আমি শুধু সত্যটা জানাবো। তুমি বিশ্বাস না করলেও সমস্যা নেই। কালকে না হয় মা-বাবাকে জিজ্ঞেস করো।"

নূপুর শান্ত হলো খানিক। অয়নের থেকে একটু দূরে গিয়ে বসলো। তবে তাকালো না একবারও। সোজা বিছানার দিক দৃষ্টি মেলে প্রস্তুত হলো সাফাই শোনার। সত্য-মিথ্যা যাচাই করার।

অয়ন বলতে শুরু করলো,

-"আমি তখন একবারও বলিনি, আমি তোমাকে বিয়ে করবো না। আমি একটু সময় চেয়েছিলাম। দু'বছর সময় চেয়েছিলাম শুধু তোমার কথা ভেবে। কারণ তুমি ছোট ছিলে। বলেছিলাম, তোমার আঠারো বছর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। কিন্তু এর বিনিময়ে যে তুমি আমাকেই বুড়ো বানিয়ে ফেলবে, তা আমি কি জানতাম?"

নূপুর চোখ তুলে চাইল, সন্দিহান নজরে। কথাগুলো এখনো তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। নূপুর এতদিন ভেবে নিয়েছিলো, অয়ন বিয়েতে অসম্মতি দিয়েছে। বিয়ে করবে না বলেই সেদিন গ্রামেও আসেনি। অয়নের মা-বাবাই দু'বছরের কথা বলে মিথ্যা স্বান্ত্বনা দিতে চাইছিলো।

নূপুর চুপ করে আছে দেখে অয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বলল,

-"বিশ্বাস করো নি, তাই না? দেখো, প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও কেমন আমার উপর রাগ-অভিমান করে বসে আছো। আর বাচ্চা-বাচ্চা মেয়েদের তো অভিমান বেশি হয়। তখন যদি তোমায় বিয়ে করতাম, আর তুমি কথায় কথায় রাগ করে বসে থাকতে, তো কি হতো? এই বয়সে এসে মাথায় যতটুক চুল আছে, ততটুকও থাকতো না। কবেই তোমার বর টাক হয়ে যেত!"

রাগ, অভিমান, মন খারাপ সবকিছু ভুলে হুট করে হেসে ফেলল নূপুর। অয়নের বলার ভঙ্গিতে কোনোভাবেই হাসি চেপে রাখতে পারেনি সে। থামলো অয়নের মুগ্ধ দৃষ্টির সামনে থতমত খেয়ে। ইতস্তত করে বলল,

-"অমন হা করে তাকিয়ে আছেন কেন?"

-"দেখছি। কোনো একজনকে অভিমানে গাল ফুলিয়ে রাখলেও সুন্দর লাগে, আবার হাসলেও সুন্দর লাগে।"

নূপুর লজ্জা পাওয়ার বদলে কপাল কুঁচকে ফেলল। বলল,

-"চেয়ারম্যান সাহেব, আপনি কি মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে আমাকে পটাতে চাইছেন? এসব চিন্তাভাবনা বাদ দেন। কয়েকটা মিষ্টি মিষ্টি কথায় আমায় ভুলাতে পারবেন না।"

-"মিষ্টি মিষ্টি কথায় তুমি না-ই পটতে পারো। তবে আমি পটে যাবো। বিশ্বাস না হলে চেষ্টা করে দেখতে পারো।"

নূপুর মুখ বাঁকালো,

-"এসেছে! আমার বয়েই গেছে আপনাকে পটাতে!"

নূপুরের সহজ আচরণ দেখে অয়ন আবারও আগানোর চেষ্টা করলো। অমনিই বদলে গেলো নূপুরের ভাব-ভঙ্গি। খ্যাঁকিয়ে উঠলো তৎক্ষনাৎ,

-"আপনার কথায় হেসেছি বলে মনে করবেন না আমি সব ভুলে গেছি। এত সহজে বিশ্বাস করছি না।

আচ্ছা, এক কাজ করুন। পাটি নিন, কাঁথা নিন, বালিশ নিন আর নিচে গিয়ে ঘুমান।"

অয়ন চূড়ান্ত হতভম্ব হয়ে বলল,

-"হ্যাঁ? আমার ঘরে আমিই নিচে ঘুমাবো? মাথা ঠিক আছে তোমার?"

-"অবশ্যই ঠিক আছে। এজন্যই বলছি নিচে যেতে। এক বিছানায় ঘুমাবো নাকি? অসম্ভব ব্যাপার।"

বলেই একটা বালিশ তুলে অয়নের দিকে ছুড়ে মারলো নূপুর। অয়ন সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলল সেটা। জবাব দিলো,

-"আমার ঘরে আমার খাট রেখে আমি নিচে গিয়ে ঘুমাবো, এটাও অসম্ভব ব্যাপার। প্রয়োজনে তুমি নিচে যাও।"

-"পারবো না। আপনি নিজেই সমাদর করে বি*পদ ঘরে ডেকেছেন। যেহেতু এনেই নিয়েছেন আমায়, এবার সহ্য করুন।"

-"কে যেন একবার বলেছিলো! বিবাহের পূর্ণরূপ- বিপদ বাড়ানো হলো। যে বলেছে সঠিক কথা বলেছে।"

নূপুর ক্ষে*পে গিয়ে বলল,

-"আপনাকে বিপদ বাড়াতে বলেছিলো কে?"

অয়ন ধমকের সুরে বলল,

-"নূপুর, বাসররাতে মানুষ ঝগড়া করে না।"

-"তো কি করে?"

-"মুখে না বলে প্র‍্যাক্টিক্যালি দেখালে ভালো হয়!"

বেখেয়ালবশত প্রশ্নটা করে নূপুর নিজেই দাঁতে জিভ কাটলো। অয়ন তাকে ভুলটা বোঝার সময়ও দিলো না। ফটাফট উত্তর দিয়ে বসেছে।

অমনি অপর বালিশটাও অয়নের মুখ বরাবর ছুড়ে মারলো নূপুর। কটমট করে বলল,

-"অ*সভ্য কোথাকার!"

অয়ন বিরক্তিসমেত বলল,

-"কিছু বললেও দোষ, না বললেও দোষ।"

-"বললেই দোষ। আপনি বরং মুখটা বন্ধই রাখুন। এতদিন প্রচারণায় বেরিয়ে গলা ব্যাথা হয়েছে নিশ্চয়ই?"

অয়ন তোষকের নিচ থেকে ছুরিটা বের করলো। পরপর সেটাকে নিয়ে মাথার পাশের জায়গাটাতে তোষকের নিচে গুজলো। এরপর উপরে বালিশ রাখলো। যেন কোনোভাবেই নূপুরের নাগালে না পৌঁছায়। অতঃপর বালিশে মাথা দিয়ে চোখ বুজে বলল,

-"যাক অন্তত নিজের স্বামীর কষ্ট বুঝতে তো পেরেছো! এবার মাথাটা টিপে দাও, আমি ঘুমাই।"

-"কিন্তু আপনার তো গলা ব্যাথা করছিলো, চেয়ারম্যান সাহেব।"

অয়ন স্মিত হেসে বলল,

-"নেত্রী ম্যাডাম, আপনি যেভাবে ঘোল খাওয়াচ্ছেন, তাতে গলা থেকে বেশি মাথা ব্যাথা হওয়ার কথা না?"

নূপুর নজর ঝুঁকিয়ে ফেলল। কিছু একটা ভাবতে বসলো, অমনিই অয়ন চোখ খুলে তাকালো। নূপুরকে লজ্জায় ফেলতে বলল,

-"লজ্জা পাচ্ছো?

নেত্রী ম্যাডাম, এভাবে লজ্জা পেলে তোমাকে চুমু খেতে ইচ্ছে করে।"

নূপুর গাল ফুলিয়ে বলল,

-"এসব বলতে লজ্জা করে না? যা-তা অবস্থা আপনার চরিত্রের! চেয়ারম্যান সাহেবের চরিত্র, ড্রেনের পানির মতো পবিত্র।"

অয়ন স্তম্ভিত হয়ে বলল,

-"তুমি আমার চরিত্রকে ড্রেনের পানির সাথে তুলনা করলে?"

-"ভালো কিছুর সাথে তুলনা করা উচিত বলে আমার মনে হয় না। এইই, নিচে যান আপনি। বিছানায় আমি ঘুমাবো।"

-"যাবো না নিচে। কি করবে তুমি?"

-"ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবো।"

-"অমন পুটিমাছের মতো শরীর নিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলতে পারলে আমি নিচেই ঘুমাবো যাও।"

বলে-কয়ে অয়ন পাশ ফিরে চোখ বুজলো। নূপুরের আর কিছু বলার সুযোগ রইলো না। অমন পাঠার মতো লোককে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলা তার পক্ষে সম্ভব নয়। ঘুমাতে হবে এভাবেই। দেয়ালে কপাল ফাটালেও এখন আর কোনোকিছু পরিবর্তন হবে না। দু'জনের পাল্টাপাল্টি ঘাড়ত্যাড়ামিতে বাসররাত পার হয়ে গেলো এভাবেই। পরের সকালে কি অপেক্ষা করছে, কে জানে!

বিজ্ঞাপন
Story Cover