স্যার সিড়ি বেয়ে নেমে গেল আর আমি গভীর চিন্তা নিয়ে রাতের জোনাকিপোকা কিংবা হলুদ রঙের ল্যাম্পপোস্টের ঘোলাটে বাতি দেখে অবাক হচ্ছি। মানুষের জীবন ব্যতীত অন্যান্য সকল কিছু কতটা সুন্দর নিয়মে চলে প্রতিনিয়ত। শুধু মানুষের বেলায় সব ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু কেন?
আমার মনে হচ্ছে মোহনার কথা তার বাবার কাছে কিছুটা বলেছে নাহলে এভাবে উদাহরণ দিয়ে তিনি বারবার নতুন কাউকে জড়াতে বললেন। ঠিক তার মতো করেই তো আমার জীবন টা এগিয়ে যাচ্ছে, স্যার কি তাহলে চাচ্ছেন যে তার মেয়েকে আমি বিয়ে করি? যদি তাই না হবে তাহলে মোহনার মাঝে মাঝে অনেক কিছু তিনি দেখেও না দেখার ভান করেন। এটা কি মৌন সম্মতি নাকি কোন কিছু মনে না করা বা ফ্রী মানসিকতার পরিচয়?
সত্যি সত্যি যদি সেরকম কিছু হয়ে থাকে তাহলে তো অফিসের সকলের ধারণা সঠিক হয়ে যাবে। সবাই তখন বলাবলি করবে যে তাদের ধারণা শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। বিষয় টা গভীর চিন্তা আর ভাবুক করে তুলে যাচ্ছে আমাকে, এদিকে মোহনা নাকি রাতে কথা বলতে আসবে। চাকরি করতে এসে এ কোন সমস্যার মধ্যে পরলাম? নাকি আস্তে আস্তে আমার অন্ধকার জীবনটা আলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?
বিছানা গুছিয়ে বাতি বন্ধ করে শুয়ে পরলাম, রকির কাছে কল দিতে ইচ্ছে করে। অনেকদিন তার সাথে কথা হচ্ছে না, রকি চাকরি করে গাজীপুরে। একবার দেখা হয়েছিল হাউজবিল্ডিং মাস্কাট প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে চা খেয়েছিলাম। তারপর আর দেখা করতে পারি নাই, ওর চাকরির ব্যস্ততা বেশি তাই সময় করে উঠতে পারে না। ওর একটা সিভি এনে রেখে দিয়েছি নিজের কাছে, সুযোগ পেলে আমাদের অফিসে যদি একটা ব্যবস্থা করতে পারি! নাম্বার বের করে কল দিলাম, রিসিভ করতে দেরি হয়েছে, মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে।
- হ্যাঁ সজীব বল।
- কিরে ঘুমাচ্ছিস?
- নারে রান্না করতেছি তাই দেরি হলো, ব্যাচেলর জীবন বন্ধু তাই রান্না করতে হয়। তোমার মতো তো ভাগ্য নেই তাই অফিসের বসের মেয়ের হাতের রান্না কপালে জোটে না।
- সেই হাতের রান্না খেয়ে কতটা যন্ত্রণার মধ্যে আছি সেটা একমাত্র আমি জানি।
- কেন কি হইছে? সে কি তোকে এভাবেই সারাটা জীবন ধরে রান্না করে খাওয়াতে চায়? তোর সামনে ভবিষ্যতের রান্না ঘরের দায়িত্ব চায় নাকি?
- হুম তেমনটিই আশা করে আছে এবং আজকে সে সেই পোস্টে নিযুক্ত হবার জন্য দরখাস্ত জমা দিয়েছে অবশ্য আমি গ্রহণ করিনি।
- কেন কেন কেন? রাজত্ব আর রাজকন্যা একসাথে পাবি, আমাদের মতো অবহেলিত চাকরিজীবীদের ভালো ভালো চাকরি দিবি।
- রাজত্ব আর রাজকন্যার এই উপহাসটা সবাই করে রে বন্ধু, তাই তো মন-মানসিকতা বেশি ভালো লাগে না। সবাই এসব নিয়ে সন্দেহ করে আর সত্যি সত্যি যদি হয়ে যায় তাহলে কি হবে ভেবে দেখ। তাছাড়া অর্পিতার কথা তো আমি কোনদিন ভুলতে পারবো না।
- রাগ করিসনে বন্ধু, আচ্ছা তোর বসের মেয়ে কি অর্পিতার বিষয় জানে কিছু? মানে তুই কি তাকে বলেছিস?
- হ্যাঁ সবকিছু জানে।
- তবুও রাজি আছে?
- হ্যাঁ, সে ভাঙ্গা আয়নায় নিজের চেহারা দেখে সাজতে চায়, আরো কত রোমান্টিক রোমান্টিক কথা বলে প্রপোজ করে।
- তাহলে ভালো একটা বুদ্ধি দেবো?
- কি বুদ্ধি?
- তুই বিয়ে করে ফেল বন্ধু, জীবন কারো জন্য কিন্তু থামিয়ে রাখতে নেই। হয়তো হঠাৎ করে একদিন তুই দেখবি অর্পিতা বিয়ে করে সন্তানের জননী হয়ে গেছে। তখন কিন্তু নিজেকে অসহায় মনে হবে, তখন ভাববি যে, কতটা পিছনে তুই শুধু তার জন্য অথচ সে তার জীবন থামিয়ে রাখেনি। সেদিন চাইলে কিন্তু সবকিছু পিছন থেকে শুরু করতে পারবি না।
- তাই বলে বসের মেয়ে?
- আচ্ছা তুই দেখ সজীব, তোর বসের মেয়ে ছাড়া আর কেউ কি তোকে এই মুহূর্তে বিয়ে করতে চায়?
- আমি কি বিজ্ঞাপন দিছি নাকি? তবে বিয়ের ইচ্ছে হলে তখন মেয়ে দেখে বোঝা যাবে কেউ বিয়ে করতে চায় কি না।
- কিন্তু সবকিছু জেনে তবুও হাসিমুখে তোর সাথে থাকতে সবাই হয়তো চাইবে না। আর অপরিচিত কাউকে বিয়ে করতে গিয়ে দেখবি কার না কার গার্লফ্রেন্ড যোগাড় করেছিস। তখন সেই মেয়ে চেষ্টা করবে তোর সাথে মানিয়ে নিতে আর সেই ছেলে পাবে কষ্ট। কি দরকার এসবের? তারচেয়ে বরং যে তোকে পছন্দ করে ভালবেসে নিজে সুখী হতে চায় এবং তোকেও সুখে রাখতে চায় তার সাথে জীবন নামের নদী পার হয়ে যা।
- হঠাৎ করে আমাকে বিয়ে দেবার জন্য এতটা উঠে পরে লাগলি কেন রে? মতলব কি তোর?
- বন্ধু মানুষ এমনই হয়, ভালো বুদ্ধি দিলাম কিন্তু মানতে রাজি হলি না, কপাল।
- আচ্ছা ঠিক আছে ভেবে দেখি।
- ধন্যবাদ বন্ধু, ভেবে দেখো তাতেই আমি খুশি।
- রাখলাম তাহলে?
- আচ্ছা ঠিক আছে।
সত্যি সত্যি দরজা খুলে মোহনার জন্য অপেক্ষা করে ছিলাম কিন্তু সে আসেনি। দরজা খোলা রেখেই কখন ঘুমিয়ে গেছি জানিনা, সকাল বেলা উঠে দেখি দরজা সেভাবেই খোলা আছে। নাস্তা করে বের হবার সময় মোহনার সাথে ড্রইং রুমে দেখা, আমি দরজা খুলে বের হচ্ছিলাম তখন বললোঃ-
- যার সাথে কথা বলতে চাওনা তার জন্য দরজা খুলে অপেক্ষা কেন করো?
- আমি থমকে গিয়ে বললাম, আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি সেটা তোমার ভুল ধারণা।
- তাহলে দরজা খোলা ছিল কেন?
- মনে হয় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ভুল করে দিতে মনে ছিল না তাছাড়া এখানে তো চুরি ডাকাতির ভয় নেই তাই দিতে হবে এমনটা নয়।
- আমি কিন্তু তোমার রুমে গেছিলাম।
- মানে কি?
- হ্যাঁ ঠিকই বলছি, গিয়ে দেখি তুমি গভীর ঘুমে নিমগ্ন তাই ডাকিনী। শুধু....
- সর্বনাশ, শুধু কি?
- হাত দিয়ে কপাল স্পর্শ করে চলে এসেছি।
- এটা কিন্তু অন্যায়।
- কিসের অন্যায়? কিছুদিন পরে তো তোমার পা টিপে দেবো, হাত টিপে দেবো, মাথা টিপে দেবো তাই এখন নাহয় কপাল টিপে দিলাম। হিহিহিহি।
- কি সাংঘাতিক কথা, আচ্ছা হঠাৎ করে আপনি থেকে তুমি হলাম কখন?
- গতকাল প্রপোজ করার পরে।
- আমি তো একসেপ্ট করি নাই।
- তোমার ঘাড়ে করবে? হাত পা মাথা চুল ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ একসেপ্ট করবে।
- এমন বাড়াবাড়ি রকমের কথা বলার মানে কি?
- বাড়াবাড়ির দেখছো কি? আরো কত বাকি আছে সেটা সময় হলে জানবে মিঃ হাইব্রিড।
- ঠান্ডা মাথায় একটা কথা বলবো?
- হ্যাঁ।
- তোমাদের বাসায় থাকি, তোমার বাবার অফিসে চাকরি করি, তাই তোমার কাছে অনুরোধ রইল তুমি এমন কিছু করিও না যাতে চাকরি এবং এই বাড়ি দুটোই ছাড়া লাগে। আমি জানি এই চাকরি গেলে আমার অনেক কষ্ট হবে এমন একটা চাকরি পেতে কিন্তু তবুও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে বাধ্য হবো।
- আপনি আমার উপর খুব বিরক্ত তাই না? আমি আসলে বুঝতে পারিনি, সরি ক্ষমা করবেন।
মোহনার চোখে পানি টলমল করছে, মনে হয় আমি কথার মাধ্যমে বেশি আঘাত দিয়ে ফেলেছি। আমি কি এখন সরি বলবো? নাকি অন্য কোন সান্তনার বিবৃতিতে কথা বলবো? নাকি ঘাড় ফিরিয়ে বেরিয়ে যাবো?
|
|
তিনদিন পর।
অফিসে কাজ করছি, মনটা খারাপ কারণ মোহনার সাথে সেদিন ওভাবে কথা বলার পরে সে পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমার সাথে কথা বলে ঠিকই কিন্তু সেই কথার মধ্যে কোন স্নেহের পরশ নেই। প্রয়োজন ছাড়া তার সাথে কথা বন্ধ হয়ে গেছে, আবার সুযোগ মতো সরি বলার সময় পাচ্ছি না।
হঠাৎ করে আমার মোবাইলে বৃষ্টির নাম্বার থেকে কল এসেছে দেখে অবাক হলাম। মাঝে মাঝে তার সাথে কথা হয় ঠিকই কিন্তু অফিস টাইমে সে কখনো কল করে না তাই অবাক হয়ে গেলাম।
- হ্যাঁ বৃষ্টি বলো।
- কেমন আছেন আপনি?
- আলহামদুলিল্লাহ তুমি?
- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ, কি করেন?
- অফিসে কাজ করছি, তুমি কি করো?
- রান্না করছি, গতকাল ঢাকায় এসেছি আর আপনি কথা দিছিলেন পরবর্তীতে আমি আসলে তখন নাকি অবশ্যই দেখা করবেন।
- কথা যখন দিয়েছি তখন অবশ্যই দেখা হবে।
- কবে আসবেন?
- তুমি বলো, এবং কোন যায়গা?
- আজকে বিকেলে আসতে পারবেন? জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে।
- কয়টা বাজে আসতে হবে?
- চারটা বাজে হলে ভালো হয়।
- ঠিক আছে পৌঁছে যাবো।
- সত্যি আসবেন?
- হ্যাঁ আসবো।
অফিসে বলে সেখান থেকে লান্সের খানিকটা পরেই তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পরলাম। উত্তরা থেকে জাতীয় সংসদ ভবন যেতে অনেক সময় দরকার তাই আগে থেকে বের হওয়া ভালো।
আমি সাড়ে তিনটার দিকে পৌঁছে গেলাম, বৃষ্টির কাছে কল দিলাম, সে পাঁচ মিনিট পরেই এসে হাজির হয়েছে। কিন্তু তাকে দেখে বিস্মিত হয়ে গেলাম কারণ আগের সেই বৃষ্টি আর নেই। চেহারা কেমন যেন হয়ে গেছে, পরিচিত যে কেউ তাকে দেখে অবাক হবে।
- কেমন আছেন সজীব ভাই?
- ভালো আছি, তোমার এ কি অবস্থা? এমন হয়ে গেলে কেন?
- কেমন সজীব ভাই? আমি তো আমার মত আছি কিছু তো পরিবর্তন দেখিনা।
- সবকিছু কেমন হয়ে গেছে, আচ্ছা তুমি কি কোন কিছু নিয়ে ডিপ্রেশনে আছো?
- জীবন টা এমন কেন সজীব ভাই?
- কেমন মনে হয় তোমার কাছে?
- সাজাতে চাই একরকম কিন্তু সেটা সৃষ্টিকর্তা কেন ভিন্ন ধরনের সাজিয়ে দেয়? আমার মনের চাওয়া অনুযায়ী সাজিয়ে দেয় না কেন?
- কারণ তিনি সকল ক্ষমতার মালিক সেটা যেন আমরা উপলব্ধি করতে পারি। সৃষ্টিকর্তা জগতের সকল ক্ষমতা আমাদের দেন নাই তাই আমরা তাকে স্মরণ করি। যদি সবকিছু আমাদের হাতে থাকতো তাহলে আমরা কখনো তাকে মূল্যায়ন করতাম না বৃষ্টি। কি হইছে জানতে পারি?
- আমাকে আপনার অফিসে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন? স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে তাহলে আলাদা জীবন শুরু করতাম। এভাবে যে আর থাকতে চাই না সজীব ভাই।
- স্বামীর সাথে কি ভালো সম্পর্ক নেই?
- একঘেয়ে হয়ে গেছি, তার মাঝে বিয়ের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন ভালবাসা স্পর্শ পাইনি। মাঝে মাঝে গভীর রাতে তার চাহিদা পূরনের জন্য আমাকে ডেকে তোলে। তারপর নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে পতিতা-দের মতো ছুড়ে ফেলে দেয়। ওয়াশরুমে গিয়ে চোখ মুখ ধুয়ে কান্না করতে করতে এসে ঘুমিয়ে যাই। তার সেই স্পর্শের মধ্যে কোন ভালবাসার ছোঁয়া থাকে না, যা দেখতে পাই সেটা হচ্ছে তার তীব্র চাহিদা। এ জন্য খুলনা থেকে এখানে আসতে ইচ্ছে করে না সজীব ভাই, তবুও মা-বাবার দিকে তাকিয়ে আসতে হয়। যদি নিজেই একটা চাকরি পাই তাহলে আর মা-বাবার কথা মানতে হবে না।
- কেবল মাত্র আরম্ভ, আরো কিছুদিন দেখাে যদি মানিয়ে নিতে পারো। কারণ একটা বিয়ের মতো পবিত্র বন্ধন ছিন্ন করা ঠিক না। যদিও আমাদের এই ইসলাম ধর্ম তালাককে জায়েজ করেছে কিন্তু সেটা কিন্তু সবচেয়ে নিকৃষ্ট। ইসলামের মধ্যে যতগুলো জায়েজ কাজ আছে তার মধ্যে তালাক দেওয়া সবচেয়ে নিম্নমানের।
- কিন্তু হাঁপিয়ে যাচ্ছি সজীব ভাই, বড্ড ক্লান্ত লাগে জীবনের পথচলা।
কিছু একটা বলতে যাবো তখনই দেখি সামনে মোহনা এবং তার সাথে আরো দুটি মেয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। মোহনার চোখের তীব্র দৃষ্টি আমার দিকে, আমি তাকানো মাত্র তার সাথে চোখে চোখ পরলো। আমার দিকে তাকাতে তাকাতে সে আর সেই মেয়ে দুটো আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেল। আমিও মোহনাকে কিছু বললাম না আর সেও কিছু বললো না, তবে তার মনে নিশ্চয়ই সৃষ্টি হয়েছে সন্দেহ আর আমার মনে সৃষ্টি হয়েছে ভয়।
কি আশ্চর্য!
দুজনের দেখা হয়ে গেছে, দেখা হবার জন্য দুজনের মনের মধ্যে দুজনের প্রতি নতুন কিছু সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু একটা সন্দেহ আরেকটা ভয়, দুজনের মধ্যে সেই রাগারাগি আরো ভয়ংকর হচ্ছে সেটা চোখের সামনে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি।
এরপর বৃষ্টি তার নিজের দুঃখের আরো অনেক কিছু বলে যাচ্ছে কিন্তু সেগুলো আর মনোযোগ দিয়ে শোনা হলো না। আমার অন্যমনস্ক ভাব বৃষ্টি বুঝতে পেরেছে তাই বৃষ্টি বললোঃ-
- আপনি মনে বিরক্ত হচ্ছেন, চলেন বাসায় ফেরা যাক সজীব ভাই।
- আসলে ঠিক বিরক্ত না, হঠাৎ করে অর্পিতার কথা মনে হলো তাই মনটা খারাপ হয়ে গেছে।
- আপনি কিন্তু তার কাহিনি বলেন নাই আজও।
- কতদিন থাকবে এবার?
- এখনো সপ্তাহ খানিক আছি।
- এরমধ্যে আরেকবার দেখা করবো আর সেদিন নাহয় সবকিছু বলবো।
- ঠিক আছে ধন্যবাদ, এবার চলুন নাহলে আমার স্বামী আবার সন্দেহ করবে। তার সাথে না থাকার কারণ হিসাবে আরেকটা বিষয় হচ্ছে সন্দেহ, সে আমাকে প্রচুর সন্দেহ করে। আমার সকল বন্ধুদের ত্যাগ করতে বলে, আমি তবুও চেষ্টা করছি সবকিছু মানিয়ে নিতে।
- সেটাই উত্তম পন্থা অবলম্বন হবে। এই রিক্সা যাবে? আচ্ছা ঠিক আছে সাবধানে নিয়ে যেও।
- বৃষ্টি রিক্সায় উঠে বললো, আসি সজীব ভাই।
- ভালো ভাবে যেও, বাসায় পৌঁছে একটা কল দিও।
★★
আরো দুদিন পেরিয়ে গেছে কিন্তু মোহনার সাথে দেখা হচ্ছে না। আগে যাও একটু সৌজন্যমূলক কথা বলতো কিন্তু এখন বাসায় এলে তাকে সামনেই পাই না আমি। সুযোগ করে তাকে বৃষ্টির সবকিছু খুলে বলতে চেষ্টা করছি কিন্তু সুযোগ হচ্ছে কোই? কিন্তু মোহনা তো আমার কাছে আসেই না আর সামনেও পরে না।
বৃষ্টির সাথে যেদিন মোহনা আমাকে দেখেছে তার ঠিক তিনদিন পর রাতের খাবার খেয়ে ছাঁদে গেলাম। ছাঁদের দরজা খুলেই দেখি মোহনা দাঁড়িয়ে আছে, মনে মনে ভাবলাম আজই সুযোগ তার সম্পুর্ন ভুল ভাঙ্গাতে পারবো। কিন্তু আমাকে দেখেই মোহনা আস্তে আস্তে দরজার দিকে এগিয়ে আসছে।
মনে হয় এখনই নেমে যাবে, আমি দরজার সামনেই ছিলাম তাই মোহনার হাতটা ধরে বললামঃ-
- তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে মোহনা, প্লিজ একটু সময় নিয়ে শুনবে?
- হাত ছাড়ুন বাবাও কিন্তু ছাঁদে আছে।
আমি ধপ করে হাত ছেড়ে দিয়ে চারিদিকে তাকিয়ে দেখি ছাঁদের দক্ষিণ প্রান্তে দাঁড়িয়ে স্যার আমার আর মোহনার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি এতটা লজ্জিত হয়ে গেলাম যে সেটাই আমার জীবনের স্মরনীয় লজ্জিত ঘটনা।
হাত ছাড়ার সাথে সাথেই মোহনা নেমে গেছে আর স্যারকে দেখে আমিও দ্রুত সিড়ি বেয়ে নেমে গেলাম।
নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে বাতি বন্ধ করে শুয়ে পরলাম। সেই রাতে আর চোখে ঘুম আসে না, অনেক রাত পর্যন্ত শুধু অন্ধকারে লজ্জা পেয়ে গেলাম। সমস্ত রাত্রি শুধু ভাবলামঃ-
আজকের ঘটনার জন্য চাকরি চলে যাবে নাকি?
এ বাড়ি থেকে আমাকে কি বেরিয়ে যেতে হবে?
স্যার আমার বিরুদ্ধে কি এ্যাকশন নেবে?
পরদিন সকালে অফিসে গিয়ে কাজের মধ্যে ছিলাম, এগারোটার দিকে স্যারের রুমে ডাক পরলো। আমি ভাবলাম সত্যি সত্যি তাহলে এই অফিসের চাকরি নেই আর।
- স্যার আসসালামু আলাইকুম।
- ওয়া আলাইকুম আসসালাম, মুখটা গম্ভীর করে স্যার বললো, বসো সজীব।
- জ্বি।
- তোমাকে একটা কথা বলার জন্য ডাকলাম, কিছু মনে করবে না তো?
- মনের ভয় আরো বেড়ে গেল বললাম, না স্যার বলেন আমি কিছু মনে করবো না।
- আগামীকাল থেকে তোমাকে অফিসে আসতে হবে না।
- আমার গলা শুকিয়ে গেল, মনটা খারাপ করে মাথা নিচু করে বললাম, কিন্তু স্যার।
- স্যার কঠিন গলায় বললেন, কোন কিন্তু আমি শুনতে চাই না সজীব, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাই সেটাই হবে।