প্রকাশকালঃ জুন ১৭, ২০২৬
সেদিন যখন পাহারের ধারে মোটা বৃক্ষে তনয়ের ঝুলে থাকা লা"শটা স্বচক্ষে দেখেছিলো তখন বন্ধু মহলের সাতজনের চোখেই ছিলো অশ্রু। আত্মহ'ত্যার মতো একটি কাজ যে তনয় করতে পারে তা যেন কল্পনাতীত ছিলো। কিন্তু তার লিখা শেষ চিঠিটাই প্রমাণ করেছিলো সে নিজেকেই নিজে বিদায় জানিয়েছে। কিন্তু আজও ঠিক একই ভাবে যখন মায়ার আত্মহ'ত্যার খবর পেলো তখন যেন বিষয়টা একটু খুঁচিয়ে দেখার মতোই মনে হলো নিধির। মায়া ছিলো বেশ চঞ্চল ধাঁচের মেয়ে। মা বাবার আদরের, কখনো কোনো জিনিসের অভাব ছিলো না তার, না জড়িয়েছে কোনো প্রকার প্রণয় সম্পর্কে। তাহলে কি এমন কারন যে মায়াও আত্মহ'ত্যা করলো?
মায়ার দাফন কার্য শেষেই বন্ধুমহলের ছয় সদস্য একত্রিত হলো পরিচিত বটতলায়। রোমানা ভীষণ নরম মনের মেয়ে, মায়ার মৃত্যুটা মেনে নিতে পারে নি সে। এখনো কেঁদেই যাচ্ছে। সায়র নিশ্চুপ,চোখ তার টকটকে লাল হয়ে আছে। নাক টেনে নিয়ে রোমানার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো...
"এবার একটু থাম রোমানা।আমাদের নিজেদের সামলাতে হবে। বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে। "
রোমানার কান্নার বেগ বাড়লো, নিজেকে যে সামলাতে পারছে না সে। বার বার মায়ার সেই বিস্তৃত হাসিখানা ভাসছে মুখের সামনে। রোদ্রের দৃষ্টি অদূরে। ওভাবে থেকেই বললো..
"মায়া কেন এমনটা করলো দোস্ত? ওর তো কোনো কিছুর কমতি ছিলো না।"
পল্লবের হাতে ফোন, মায়ার দেওয়া শেষ ফেইসবুক স্ট্যাটাসটা জ্বলজ্বল করছে সামনে।
"" আমায় কেউ খুঁজো না, আমি হারিয়েছি নিজ গন্তব্যে। আমার জন্য কান্না করে সময় নষ্ট করো না কেউ। "
এতটুকুই, মায়া কি বুঝিয়েছিলো সেই লিখাটুকু দিয়ে? পল্লব ফোনে দৃষ্টি রেখেই কাতর স্বরে বললো...
"সেদিন তনয় ও ঠিক এভাবেই হারিয়ে গেলো, আর আজ তুইও মায়া?"
ডুকরে কেঁদে উঠলো ছেলেটি। কাধে ভরসার হাত হিসেবে ঠাঁই নিলো সৌরভের হাত। এই বন্ধু মহলটা প্রায় ১২ বছরের। কত কত বিপত্তির পরেও এই আটজন একসাথে থেকেছে এই এতগুলো বছর। কেউ কখনো কারোর থেকে কিছু গোপন রাখে নি। একজন বিপদে পড়লে বাকি সাতজন এগিয়ে যেত তার পাশে। কত আড্ডা,কত দুষ্টুমি, কত স্মৃতি। সব কিছু থেকে কিভাবে যেন দুটো প্রাণ হুট করেই হারিয়ে গেলো।
নিধি উঠে দাঁড়ালো, সন্ধ্যা নামছে যে ধরনীর বুকে। বললো...
"চল, বাড়ি ফিরতে হবে এবার।"
সায় জানালো সবাই। রোদ্র বললো...
"আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে তনয় আর মায়ার সুইসাই'ডের বিষয়টা। "
নিধি হাত উঁচিয়ে বাঁধা দিলো রোদ্রকে।বললো...
"আজ থাক ওসব।কাল সকালে দেখা হচ্ছে। তখন কথা বলা যাবে না হয়। ফিরে যাই চল। "
সেদিনের মতো আসর ভাঙলো। যার যার নীড়ে ফিরে গেলো ছয়জনই। রাত আড়াইটার সময় হুট করেই ঘুম ভেঙে গেলো নিধির। মায়া নেই, কেমন যেন অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে এখনো। ফোন হাতে নিয়ে মায়ার আইডিটায় স্ক্রল করলো সে। এগারো ঘন্টা আগে তার শেষ পোস্ট, সেই সুই'সাইড নোটটি। আরেকটু নিচে যেতেই দেখলো ঠিক বারো ঘন্টা আগেই মায়ার আরেকটি পোস্ট। সুন্দর একটি পাহাড় চূড়ার ছবি আর ক্যাপশনে বন্ধু মহলের ছয়জনকে ট্যাগ দিয়ে লেখা....
" আমরা আবার পাহাড়ে যাবো,মেঘের মায়ায় মুগ্ধ হবো,সাথে করে তনয়কেও নিয়ে যাবো,ও তো খুব পাহাড় ভালোবাসতো, তাই না বল? "
বুক চিরে এক দীর্ঘ নিশ্বাস বেরিয়ে এলো নিধির।মায়ার সাথে আর যাওয়া হলো না সেই পাহাড় চূড়ায়।নিজেকে সামলে নিয়ে বন্ধুদের ওয়াটসআ্যাপ গ্রুপে একটা টেক্সট দিলো..
"কাল একবার পুলিশ স্টেশনে যাবো আমরা। "
---------
পরদিন ঠিক নিধির কথা মতো বাকি পাঁচ জন উপস্থিত হলো পুলিশ স্টেশনের সামনে। হুট করে থানায় আসার কারন জানতে চাইলো সবাই-ই। নিধি উত্তর দিলো..
"মায়া আর তনয়ের মৃত্যুটা আমার কাছে মোটেও স্বাভাবিক লাগছে না। ডায়েরী করবো আমরা।"
কিন্তু থানার ওসি ডাইরী লিখতে রাজি নয়। সুই'সাইড কেসের কোনো ডাইরী হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। অনেক চেষ্টা করেও ডাইরী লিখাতে পারলো না কেউ। বাধ্য হয়ে ফিরে এলো পুলিশ স্টেশন থেকে। সেদিন রাতে ঘটলো আরো একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সাড়ে নয়টার সময় হুট করেই রোদ্রের মা ফোন করে কান্নারত কন্ঠে জানালো, রোদ্র নিজ হাতের শিরা কেটে আত্মহ'ত্যা করার চেষ্টা করেছে। সায়র, নিধি,রোমানা,পল্লব আর সৌরভ।সবাই তটস্থ, হঠাৎ রোদ্রের আবার কি হলো?
পরদিন সকালে জ্ঞান ফিরার পর সবাই গেলো তার সাথে দেখা করতে। মোটামুটি সুস্থ সে। সৌরভ তার মাথায় গাট্টা মেরে বললো...
"তুইও আবার কেন এমন করতে গেছিলি ভাই? তোদের আসলে হয়েছেটা কি? "
রোদ্র নিজেও কেমন যেন শকের মধ্যে আছে। আস্তে করে বললো...
"আমি বুঝতে পারছি না.."
সাথে সাথেই সায়র চেচিয়ে বললো...
"মর'তে গেছিলি তুই নিজে থেকে। বুঝতে পারছিড না কি হ্যা? তোরা শোন,,ওর সাথে এখন কথা বলাটাই বেকার। বেরিয়ে আয় তোরা।"
সায়র ভীষণ অভিমানি। আজ যেন তার সাথে সাথে বাকিরাও অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সবাই বেরিয়ে গেলো, শুধু নিধি ছাড়া।নিধি গম্ভীর কন্ঠে রোদ্রকে জিজ্ঞেস করলো...
"এমন কেন করলি তুই?"
রোদ্র যেন সুযোগ পেলো একটু কথা বলার। উদ্বিগ্ন কন্ঠে বললো...
"আমি জানি না দোস্ত, ওরা তো কেউ শুনতেই চাইছে না আমার কথা। কাল সবার সাথে দেখা করার পর আমি কখন কিভাবে বাড়ি ফিরলাম তাও মনে করতে পারছি না আমি। কখন নিজের হাত কাটলাম আমার তাও মনে করতে পারছি না। জ্ঞান ফেরার পর আমি নিজেও অবাক যে আমি হসপিটালে কিভাবে এলাম, আর কেনই বা এলাম। "
নিধির দু:চিন্তা বেড়েছে একধাপ। কপালে পড়েছে সূক্ষ্ণ ভাজ।বললো...
"হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ করা হলে আবার যাবো থানায়। এবার তুই নিজে ভিক্টিম হিসেবে বয়ান দিবি। "
রোদ্রের বয়ান গ্রহনযোগ্য হলো। থানায় ডায়েরি লিখা হলো। তদন্ত চলবে জানিয়েছে ওসি। থানা থেকে ছয় জন একসাথেই বেরিয়েছে। তপ্ত রোদে রাস্তার ধার ধরেই ছায়াপাতে হাটছিলো তারা। গন্তব্য পরিচিত সেই বটমূলে।
সায়র বললো...
" ডায়েরী তো করা হলো। আদেও কি কিছু সত্য বেরিয়ে আসবে?"
নিধি বিচক্ষণ, তারও মন বলছে ওসি এই কেসটি নিয়ে তেমন ঘাটবেন না। তদন্ত চলবে না।
পল্লব ভেবে বললো..
"সৌরভ? তোর মামা তো দূদকে আছে, তিনি কি কোনো ভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারবে? "
সৌরভের দিক কোনো উত্তর আসলো না। সে নিরবেই হাটছে। রোদ্রও জিজ্ঞেস করলো...
"কিরে কিছু বলছিস না কেন?"
সৌরভের নিশ্চুপ ভাবে নিধি, রোমানা সবাই-ই এবার চোখ তুলে তাকালো তার দিকে। ছেলেটার চোখ সায়রের চোখে নিবদ্ধ। কি অদ্ভুত সেই দৃষ্টি, এদিক ওদিক নড়ছেও না। সায়র ভ্রু কুঁচকালো। বলতে নিলো...
"তোর আবার কি হলো সৌরভ?"
কথাটা শেষ হলো কি হলো না হঠাৎই সৌরভ রাস্তার কিনারা থেকে দ্রুত পায়ে হেটে মাঝ রাস্তায় যেতে লাগলো। নিধি তড়িৎ গতিতে তার হাত চেপে ধরলে সৌরভ তাকে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দেয়। হঠাৎই মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রাস্তার অপর পাশ থেকে একটি ট্রাক এসে পিষে ফেললো সৌরভকে। ছুটে গেলো সবাই চিৎকার দিয়ে। রাস্তায় তার রক্তের ছড়াছড়ি, কত মানুষের জটলা। নিধি তার রক্তাক্ত মাথাটা নিজের কোলে তুলে নিয়ে কান্নারত কন্ঠে ডাকতে লাগলো। প্রাণপাখি তার যায় যায়। সায়র উঠে দাড়িয়ে ফোন করলো এম্বুলেন্সকে। তখন সৌরভের গোলগোল দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হলো তার দিকে। নিজের ভাঙা, রক্তাক্ত একটু হাতের তর্জনী উঁচিয়ে তাক করলো সায়রের দিকে। দম বন্ধ হওয়া অবস্থায় অতি কষ্টে উচ্চারণ করলো....
"ও্ ওর চোখ... ওর চোখ ভয়ঙ্কর। শ্ শেষ করে দিলো আ্ আমায়"
আর একটি বাক্যও বের হলো না সৌরভের মুখ দিয়ে। চিরতরের জন্য হারিয়ে গেলো সেও। বন্ধু মহল থেকে তৃতীয় জনও বিদায় নিলো।
তারা স্তব্ধ। মনের মধ্যে বয়ে চলছে অজানা আতঙ্ক। সেদিনের সৌরভের বলা শেষ কথাটি ভাবায় নিধিকে। কি বোঝাতে চেয়েছিলো সৌরভ সেদিন? সায়রের চোখ ভয়ঙ্কর। কিন্তু কেন?
দিন কাটলো ছয় সাতেক। এরপর অলৌকিক ভাবে পল্লবের লা'শ মিললো পরিচিত সেই বটতলায়। মৃত্যুর ধরণ স্থানীয়রা জানালো, বটতলার শানে বাঁধানো গোল চাকতিতে নিজের মাথা নিজেই ঠুকেছিলো পল্লব। যতক্ষণ না মস্তিষ্ক হতে রক্তক্ষরণ হয়েছে ততক্ষণ ঠুকে গেছে ওভাবেই। তারপর তারও হৃদযন্ত্র থমকে গেলো।
থানায় সন্দেহভাজন হিসেবে একটি নাম উঠলো। জেরা করার জন্য তুলে আনার কথা ছিলো পুলিশের। কিন্তু নিধি বললো....
"তার চোখ ভয়ংকর, ঐ চোখে কিছু একটা নিশ্চই আছে। তাকে আমরাই নিয়ে আসবো থানায়।"
কথাখানা ভিত্তি পেলো। দু দিন পরেই সায়রের জন্মদিন। এই দুটো দিনে দেখা হয়নি কারোর। কিন্তু সেদিন আবার একত্রিত হলো চারজন। আটজন থেকে বন্ধুমহলটা চারজনের হয়ে গেলো। টিকে থাকাটা যেন দায়।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পর নিধি ঠোঁটের কোনে হাসি নিয়ে এগিয়ে গেলো সায়রের কাছে। হুট করেই তার চোখে একটি কালো পট্টি বেঁধে দিলো সে। সায়র বিমূর্ত হয়ে বলতে নিলো...
"আরেহ,কি করছিস নিধি? চোখ বাঁধছিস কেন?"
নিধি তার কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে করে বললো....
"সারপ্রাইজ.. "
সেই সারপ্রাইজের নাম দিয়েই সায়রকে এক প্রকার ধরে বেঁধে নিয়ে গেলো থানায়। ওসি জিজ্ঞেস করলো...
"এই তাহলে এতগুলো খুনের আসামি। "
সায়রের হৃদপিণ্ড সচল হয়ে উঠলো। হাত উঁচিয়ে চোখের বাঁধন খুলতে যাবে,ততক্ষণে একজন কনস্টেবল এসে তার দু হাত পেছনে নিয়ে বেঁধে ফেললো। সায়র জিজ্ঞেস করলো...
"নিধি,রোদ্র কি হচ্ছে এসব? কোথায় নিয়ে এলি আমাকে?"
নিধির কন্ঠ কাপে।নিজের ছোট বেলার একজন বন্ধুকে এভাবো হেনস্তা করতে বুকও কেঁপেছিলো রোমানা,রোদ্র, নিধির। কিন্তু কাজটা করা ভীষন প্রয়োজন। জীবন থেকে একটি কাটা তুলে ফেললে হয়তো আর কোনো প্রাণ হারিয়ে যাবে না। কাতর কন্ঠে বলে উঠলো নিধি....
"আমায় ক্ষমা করিস তুই সায়র। তুই যা করেছিস, এরপর তোকে পুলিশে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো না আমাদের। "
সায়র ছটফট করছে নিজেকে বন্ধন মুক্ত করার জন্য। কিন্তু সে অপারগ।চেঁচিয়ে রেগে বললো....
"এটা তোরা ঠিক করিস নি নিধি, আমার সাথে প্রতারনা করেছিস...."
রোমানার চোখে জল,তবুও সে জিজ্ঞেস করলো....
"তনয়, মায়া, সৌরভ, পল্লব।ওদের কেন মেরেছিস সায়র? কি ক্ষতি করেছে ওরা তোর? কেন এত বছরের বন্ধুত্বের প্রতিদান হিসেবে ওদের মৃত্যু দিলি?"
সায়র উত্তর দিলো না। তার কাছে কোনো উত্তর নেই। কেন মেরেছে সে জানে না। রোদ্র প্রশ্ন করলো...
"তোর চোখে কি আছে সায়র? কি করে তুই ঐ চোখ দিয়ে বশিভূত করে ফেলিস সবাইকে? আমিও সেদিন তাহলে তোর বশিভূত হয়েই সুইসাইড করতে গিয়েছিলাম।"
সায়র ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলে উঠলো...
"হ্যা আমার চোখ অদ্ভুত। আমি পারি সবাইকে বস করতে।এটা আমার ক্ষমতা, যা আর কারোর কাছে নেই। তোদের আমি ছাড়বো না বলে দিলাম।তোরা কেউ বাচবি না,,আমি আসবো।ফিরে আসবো আমি আবার।"
সায়রকে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হলো গরাদে।তবে তার ক্ষিপ্ততা দাগ কাটলো তিনটি হৃদয়ে। তারা আজ আরেকটি সংখ্যা হারালো। বিষন্ন মন, তেমনি বিষন্ন প্রকৃতিও। তুমুল ঝড় তুলেছে চারদিকে। সন্ধ্যা পেরিয়ে গভীর রাত। বিদ্যুৎ পৃষ্ঠের শব্দে কেঁপে কেঁপে উঠছে ঘুমন্ত নিধি। প্রকৃতি আজও কেন এত কালছে? আজ তো তার রঙিন হওয়ার কথা ছিলো।
ফোনের আওয়াজে ঘুম ভাঙলো নিধির। রাত বাজে প্রায় একটা। এতরাতে রৌদ্র কল দিচ্ছে কেন? রিসিভ করতেই রোদ্রের ভয়াতুর কন্ঠ ভেসে এলো নিধির কানে..
"দোস্ত,, সায়র পালিয়েছে জেল থেকে। এক মুহুর্তের জন্য ওর চোখের বাধন খোলা হয়েছিলো, তখনই কন্সটেবলকে আবার বশ করে ও। নিজে পালিয়ে যায় আর কনস্টেবল নিজের মাথায় নিজেই গু'লি করে মারা যায়।"
নিধি স্তব্ধ।মুখ থেকে একটি কথাও বের হলো না তার। রোদ্র আবার বললো...
"আমায় ক্ষমা করিস নিধি। এই জীবনে আর তোদের সাথে দেখা হবে না। আমি হারিয়ে যাচ্ছি চিরতরে।"
নিধি চিৎকার করে ডাকলো রোদ্র বলে। কিন্তু ততক্ষণে রোদ্রের কল কেটে গিয়েছে। নিধির বুক কাঁপছে। কি হবে কি হবে ভয়। হুট করেই রুমের দরজায় খ্ট করে আওয়াজ এলো কানে। নিধি তাকালো সেই দিকে। তার মায়ের চোখে মুখে উদ্বিগ্নতা। নিধিকে বললেন...
"নিধি রে। রোমানার বাবা কল দিয়েছে,, ওকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। "
এই একটা কথাই যথেষ্ট ছিলো নিধিকে এলোমেলো করে দেওয়ার জন্য।তবে কি এবার সত্যিই ইতি ঘটবে সবকিছুর?
দ্রুত পায়ে বিছানা ত্যাগ করে ছুটলো নিধি। রোমানাকে খুঁজতে হবে যে করেই হোক। ঘরের সদর দরজা খুলতেই থমকে গেলো নিধি। সামনে একটি মানব অবয়ব দাঁড়িয়ে। বৃষ্টিতে ভিজে চুবচুবে হচ্ছে সেই অবয়ব। আকাশের গর্জনের সহিত বিদ্যুৎ চমকালো মুহুর্তেই, সাথা সাথে অবয়বটির বি'ষেলী সবুজ চোখ দুটি জ্বলজ্বল করে উঠলো৷।
নিধি পিছিয়ে গেলো দু কদম। মুখ থেকে বেরিয়ে এলো একটি নাম..
"সায়র??"
ঝরো হাওয়ার আয়াসে ঘরে থাকা দেওয়ালের বড় ফ্রেমে বাঁধানো নিধিদের আটবন্ধুর ছবিটি ছিটকে পড়লো নিচে। সাথে সাথেই ঝনঝনিয়ে আওয়াজ হলো। টুকরো টুকরো হয়ে গেলো ছবির কাচ।বিধ্বস্ত সেই ছবি,তেমন ভাবেই মহা বিধ্বস্ত দেখালো সায়রের সেই সবুজ চক্ষুর দৃষ্টি।
নিধির গলায় স্বর আটকালো। চলার শক্তি হারালো।চার দিকে নিবদ্ধ দেওয়াল যেন চেপে ধরলো তাকে। দৃষ্টিতে শুধু সায়রের সেই বিষচক্ষু।
তবে কি এই বিষচক্ষুই ছিলো অষ্টক বন্ধুমহলটির ধ্বংসের কারন?