গুঞ্জরনের নীড়ে

পর্ব - ১৪

🟢

কোচিংয়ে পেপার ফাইনাল শুরু হয়ে গেছে। আট দিনে আট পেপার। তারপর সাবজেক্ট ফাইনাল; মডেল টেস্ট। একে অভাগা পঁচিশ আমরা! পরীক্ষার দিন কাছাকাছি এসেছে। তারপর গিনিপিগের মত আমাদের উপর চলছে নানান এক্সপেরিমেন্টের শখ। প্রথমে বললো, ভর্তি পরীক্ষায় লিখিত অংশ রাখবে। একরকম আতঙ্কে থাকলাম। তার দুইদিন পর বললো, নতুন বিষয় যোগ করব—-‘মানবিক গুণাবলী ও মানসিক দক্ষতা’। মানুষ না গরু-ছাগল আমরা? হাতে আছে আর কয়দিন যে এরমধ্যে নতুন বিষয় শিখবো? পরীক্ষার সময় বাড়িয়েছে পনেরো মিনিট। এতেই আশঙ্কা আরো বেড়েছে কয়েকগুণ। না জানি কত কঠিন প্রশ্ন করবে! ইয়া মাবুদ, রক্ষা করো!

ইকবালের সাথে মুখ দেখাদেখি বন্ধ বলতে গেলে। গর্দভ ব্যাটা! সেকেন্ড টাইম দিচ্ছিস; একটু তো হুশ থাকা উচিত? এ-সময় কে প্রেমে পড়ে? পাগলও তো নিজের ভালো বোঝে। তুই বুঝবি না কেন?

সকালবেলা কোচিং থেকে ফেরার পথে দেখা হলো। ফ্ল্যাটে ঢুকছিলাম আমি; ও বেরোচ্ছিল। সেদিনের পর এই প্রথম মুখোমুখি হওয়া। কিছু বলবে এই ভয়ে আমি দৌড় দিয়ে ছাদে উঠে গেলাম। পাছে মা দরজা খুলতে দেরি করে?

ইকবাল বোধ হয় আশাহত হলো। পেছন পেছন সিঁড়ির কয়েকটা ধাপ উঠে এলো, উঁকি দিয়ে ছাদের দরজায় চোখ রাখতেই দু’জনের চোখাচোখি হয়ে গেল। আমি ঢোক গিললাম। ত্বরিতে মাথা সরিয়ে নিলাম। পর পরই ইকবালের ঠাণ্ডা গলা শোনা গেল,

“আই রেসপেক্ট ইয়্যু, জিনিয়া। জবরদস্তি করে কিছু হয়না। নেমে এসো।”

“তুমি চলে যাও!”

আমি লুকিয়ে থেকেই প্রত্যুত্তর করলাম। বিপরীতে ইকবাল কিছু বললো না। একটুপর আওয়াজ পেলাম ওর চলে যাওয়ার। আমিও নেমে এলাম সুড়সুড় করে।

এই লুকোছাপা চললো আরও কিছুদিন। দেখা হয়; কথা হয়না। কিংবা আমার সাথে কেউ বা ওর সাথে আন্টি থাকে—-সুযোগ হয়না। আমি স্বস্তির শ্বাস ফেলি। অন্তত এই ওছিলায় বেঁচে যাচ্ছি!

______________

সাবজেক্ট ফাইনাল শুরু হলো এরমধ্যে। বিকেলবেলা ঘরে বসে পড়ছি; ভাইয়া এলো চায়ের কাপ নিয়ে। কাপটা টেবিলে রেখে মাথায় টালা মেরে বললো,

“পড়তে পড়তে আন্ধা হ, পাগলা!”

“মারিস কেন, শয়তান?”

আমি পাল্টা ওর বাহুতে চড় বসিয়ে দিলাম। ভাইয়া আবারও ছোট ছোট দুটো চাটা মারলো মাথায়,

“এইসময় আলো থাকে? এই আলোতে পড়ে চোখ নষ্টর ধান্দা? বিকেলবেলা চা-পানি বানাবি-খাবি। এত নাটক কিসের?”

“আরেকবার মারলে কিন্তু বাবাকে ডাকবো আমি! হাত লাগায় দেখ!”

“এই দিলাম। ডাক দেখি! বাবা তো বাসায় নাই!”

বলতে বলতেই আরেকবার মারলো। আমি এবার গরম চায়ের কাপ তুললাম,

“চা মাথায় ঢালবো তোর, বেয়াদব!”

ভাইয়া দাঁত বের করে হাসলো। আমার পিত্তি জ্বলে গেল এবার। মারতে গেলেই আমার চুল ধরে জোরে টান দিলো। রাগে-দুঃখে আমি চিৎকার করে উঠলাম,

“মা! তোমার ছেলে আমাকে মেরে ফেললো!”

“মিথ্যা কথা বলিস কেন? মা, কিছু করিনি আমি।”

দুইজনই মারামারি শুরু করে দিলাম। সাধারণত আমি খামচে ধরায় ওস্তাদ, এর আগেও খামচে চামড়া তুলে দেয়ার রেকর্ড আছে। আজকে কোনোভাবে সুবিধা করতে না পেরে শেষমেষ ডান হাতের কবজি কামড়ে ধরলাম। ভাইয়া এটা আশা করেনি, হাত সরানোর কথা হয়তো তাই ভাবেও নি। কামড়টা পড়লো ভালোমতন; ব্যথায় চিৎকার শুরু করলো,

“এই কুত্তা! ছাড়!”

আমি ছাড়ছি না দেখে চুল টানাটানি করতে লাগলো। একসময়ে মা এসে ঢুকলেন রণক্ষেত্রে। হাতে খুন্তি নাচিয়ে চিৎকার করলেন,

“জানোয়ারের দল, কি শুরু করছিস! ছাড়! নাহলে তোদের বাপ আসুক, দেখিস কি করি!”

তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দিলাম দু’জনে। আমি চুল ঠিক করতে ব্যস্ত; ভাইয়া নালিশ করতে। মাকে হাত দেখাচ্ছে,

“জলাতঙ্ক হবে, মা। মানুষরূপী কুত্তা কামড়াইছে!”

“ঠিক হইছে। দুজনে যেরকম। একটা কাপ পাঠায় এতো কাহিনী!”

মা শ্রাগ জানালো। আমি চেঁচিয়ে উঠলাম,

“ওয়াক থু! হাত কতদিন ধুস না, গিদর। মনে হচ্ছে ময়লা খেয়ে ফেলছি!”

আমি ওয়াক ওয়াক করতে করতে দৌড়িয়ে বেসিনের সামনে দাঁড়ালাম। ভাইয়া পেছন থেকে হাসতে লাগলো। গা জ্বালানোর জন্য বলতে লাগলো,

“বাথরুমে গিয়ে হাত ধুইনাই। ভালো করে দেখ তো, কীসের স্বাদ লাগে?”

জানি মিথ্যা; তবুও পেট মোচড়ায়। বমি আসে। আমি ওয়াক ওয়াক করি। মা রেগে অস্থির হয়ে দু’জনকে বকতে বকতে রান্নাঘরে ঢোকেন। জীবন তো এভাবেই যায়!

____________

দুপুরের দিকে আমি আর ভাইয়া একটা কাজে কলেজে যাবো। গলির মোড়ে আমাকে দাড় করিয়ে ভাইয়া রিকশা ঠিক করতে গেছে। অধিকাংশ সময়েই এখানে দাঁড়ালেই রিকশা পাওয়া যায়। আজকে একটাও নেই। আমি দাঁড়িয়ে আছি, তখনই ইকবালকে দেখা গেল। রিকশায় করে আসছে। আমাকে আর দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ভাইয়াকে একবার দেখে নিচু স্বরে বললো,

“রিকশা খুঁজছ? এটায় যাবে?”

“সমস্যা নেই। তুমি যাও।”

আমি ওকে বলতেই ভাইয়া এসে পড়লো—-“আজকে রিকশার কি হইছে! একজনও রাজি হয়না!” ইকবাল ভাইয়াকে দেখে সালাম দিলো। কথা বললো টুকটাক। যদিও ভাইয়া ওর এক বছরেরই বড় মাত্র। কিন্তু বেশ সম্মান দিয়ে কথা বলে। এটা ভালো ব্যাপার!

ইকবাল রিকশা ছেড়ে দিয়ে নেমে পড়লো। ভাইয়া আমাকে উঠতে বললো। আমি একপলক ইকবালের দিকে তাকালাম। চোখাচোখি হলো। ধরা পড়া চোরের মতো চোখ সরাতে হলো। এই ছেলে একদিন ধরা খাওয়াবে আমাকে! এমনভাবে তাকায় কেউ?

কিন্তু ধরা যে এই মুহূর্তেই খাবো, তা কে জানতো? একটু দূরে আসতেই ভাইয়া বললো,

“ইকবাল ছেলেটার থেকে দূরে থাকবি। ওর নজর অন্যরকম।”

আমি চমকে উঠতেই শুধরে নিলো,

“খারাপ বলিনি। পছন্দ করতে পারে। ও ছেলেও খারাপ না। আন্টির খুব জমে মার সাথে। ইকবালকেও পছন্দ করে। কিন্তু এগুলোর সময় এখন না।”

আমি অন্যদিকে তাকিয়ে থাকি। রিকশা চলতে থাকে, রোদ-বাতাস দু’টোই লাগে গায়ে—-ভালো লাগে। ধীরে ধীরে বলি,

“ইকবাল কনফেস করেছে।”

“আচ্ছা।” ভাইয়া অবাক হলো না। রাগও করলো না। আমার মতোই কণ্ঠ নামিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“তুই কি বললি?”

“ওটাই। সময় নেই।”

“গুড।”

আমি পাশ ফিরে ওর মুখটা দেখার চেষ্টা করি। আমাদের দুই ভাইবোনের যেরকম ‘পিছলামো-ফাজলামো-ইতরামো’ করা অভ্যাস তাতে এত ‘কুল কনভারসেশন’ মানায় না। আগের কোনো অভিজ্ঞতা নেই; তবুও আমি আন্দাজ করেছিলাম ভাইয়া রাগ করবে। অন্তত আমাকে তো চেতাবেই! কিন্তু তেমন কিছুই হলো না। শান্ত হয়ে জানতে চাইলো,

“ওকে পছন্দ?”

“হয়তো?”

আমিও প্রশ্নই করলাম। ভাইয়া হাসলো। বিদ্রুপ করে বললো,

“আমি শালা ভার্সিটি উঠেও প্রেম করতে পারিনি; আর তোরা? ভার্সিটি যাওয়ার আগেই?”

“চুপ থাক!”

আমি লজ্জায় মাথা নামিয়ে ফেললাম। কলেজের সামনে এসে রিকশা ছাড়লাম। কাজ করলাম। ফিরতি পথে ভাইয়া জানালো তার মতামত,

“মেডিকেলে চান্স পেয়ে নে। কথা দিচ্ছি, তোর পছন্দের ছেলের হাতে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করবো। মা-বাবা সবাইকে মানাবো। আপাতত একটা সিট দখল কর নিজের!”

গুঞ্জরনের নীড়ে মৌরিন আহমেদ

ভাইয়ার কথায় ভরসা পেলাম। বলতে পারেন ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেখলাম। আমাদের মত মধ্যবিত্ত বাঙালি বড় ভাইদের যেমন দায়িত্ব-কর্তব্য অনেক থাকে তেমন ওদের মতামতের উপর আস্থাও রাখে পরিবার। বুজুর্গরাও অনেকসময় পরিবারের তরুণ সদস্যের বড়জনকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আর বাবার অসুস্থ হবার পর বাসায় ভাইয়ার মর্যাদাই আলাদা। একা হাতে ওইসময় ও যা করেছে; কঠিন দিনগুলোতে যেভাবে সামলেছে—-ওর গুরুত্ব বেড়েছে কয়েকগুণ।

আজ শুক্রবার। রেটিনার একটা পরীক্ষা আছে। সারাদেশ ব্যাপী একযোগে অনুষ্ঠিত হবে মেডিকেল স্ট্যান্ডার্ড ‘ডক্টরস হান্ট’। ঠিক দুই সপ্তাহ পর যখন মেডিকেলে পরীক্ষা তখন একদম অনুরূপ পরীক্ষা হবে শুনে আগ্রহী হয়েই প্রস্তুতি নিয়েছি। দেখা যাক একবার নিজেকে যাচাই করে!

পরীক্ষার সিট পড়েছে শিশু নিকেতন স্কুলে; সময় সকাল দশটা। আটটার দিকে নাশতা করতে বসে ভাইয়া একদফা বদমায়েশি করলো। ওর ভার্সিটিতে এখন ছুটি চলছে। সেমিস্টার ফাইনালের আগে প্রিপারেশন লিভ। মোটামুটি একমাসের মত সময় পাচ্ছে। বুঝিনা এত সময় দেয়ার মানে কি? ঠিকই তো একটা পরীক্ষার পর তিন-চারদিন ছুটি পাবে।

ছুটি পেয়ে ওর তো মজাই মজা। সুযোগ পেলেই আমাকে খোঁচায়। আমি তো বলতে গেলে এই বছরের শুরু থেকেই পড়ছি। পড়ছি আর পড়ছি। একটুও ফুরসৎ পেয়েছিলাম কি! আজকে আবার বন্ধুদের নিয়ে যাবে তিস্তা ব্যারেজে ঘুরতে। তাই লাফালাফিটা বেশিই চলছে! বেরোনোর সময় আমাকে বললো,

“যা গরু, পড়ালেখা করে মানুষ হ!”

আমি দুম করে পিঠে একটা মার দিয়ে দৌড় দিলাম। এক দৌড়ে ঘরে ঢুকে দরজা আটকালাম। ভাইয়া হুশিয়ারি দিলো,

“এসে শোধ তুলবো, দেখিস!”

“এসে শোধ তুলবো, দেখিস! আসিস!”

আমি ঘরের ভেতর থেকেই ভেঙালাম। মা হামেশার মতো দুজনের উদ্দেশ্যে বকাবকি শুরু করলেন।

পরীক্ষার জন্য বাসা থেকে বেরিয়েছি; ভাড়াটিয়া আন্টির সাথে দেখা। ইকবালও মাত্র বেরিয়েছে নাকি। ওরও সিট শিশু নিকেতনে। রাস্তায় বেরোলেই দেখা হয়ে যাবে। আমি মাথা নাড়িয়ে বেরিয়ে এলাম।

ইকবালকে দেখা যাচ্ছে। একটু দূরে অবশ্য!

আমিও দ্রুত পা চালালাম। একটুপর ইকবালের সমান্তরালে পৌঁছে; রাস্তার অন্যপাশে হাঁটতে লাগলাম। ইকবাল আমাকে দেখল। কিছুক্ষণ উসখুস করে প্রশ্ন ছুঁড়ল,

“ডক্টরস হান্ট?”

আমি মাথা নাড়ালাম। যদিও জানি, তবুও জিজ্ঞেস করলাম,

“শিশু নিকেতনে?”

“হ্যাঁ। তুমি?”

এবারও মাথা নাড়ালাম। ইকবাল হঠাৎ রাস্তা পেরিয়ে এলো। আমি কোনো অনুযোগ করলাম না। দুজনে পাশাপাশি হাঁটতে লাগলাম। মোড়ে আসতেই দাঁড়াতে হলো। আমি কোনো অটো রিকশা না খুঁজে দাঁড়িয়ে রইলাম। দেখি, ইকবাল কি করে!

ইকবালও চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। যেন আমার অপেক্ষাতেই! জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই দু’জনের চোখাচোখি হলো। অনুরোধের স্বরে ধীরে ধীরে বললো,

“একসাথে যাবে?”

আমি একটু সময় নিলাম। ইকবালের সাথে রিকশায় কখনোই যাবো না। অটোতে যাওয়া যায়! একই অটোতে তো কত মানুষ যায়। মাথা নাড়িয়ে বললাম,

“অটো দাড় করাও।”

ইকবাল খুশি হলো। খুশি তো আমিও হলাম। প্রকাশ করলাম না। অটোতে মুখোমুখি বসা হলো। কিন্তু কোনো কথা নেই। নিঃশব্দ যাত্রা শেষ করে আমরা ‘এক্সাম সেন্টারে' পৌঁছলাম। রুমে ঢোকার আগে ইকবাল বললো,

“পরীক্ষা শেষে অপেক্ষায় থাকবো।”

আমি পিছু ফিরে তাকালাম না। কারণ ফিরে তাকালে আমার চেহারার লাজুক হাসিটুকু দেখে ফেলতো ইকবাল!

________

একঘণ্টা পনেরো মিনিটের পরীক্ষাটা শেষ করে বেরোলাম। ইকবাল ঠিক রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মুখটা হাসি হাসি। পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে ওর। আমারও খারাপ হয়নি। কিন্তু ভালো লাগছে না। মাথার উপর চড়া রোদ। বাসায় যেতে ইচ্ছে করছে!

স্কুলের মাঠজুড়ে মানুষ। গেটের দিকটায় তো যাওয়ার উপায় নেই। লোকে লোকারণ্য বোধ হয় একেই বলে। কোনো সত্যিকারের ভর্তি পরীক্ষা নয়; অথচ তারপরও এত মানুষের ভিড়! সত্যিকারের পরীক্ষার দিন তবে কি হবে? সেদিন পা ফেলারও জায়গা পাবোনা মনে হয়!

ভিড় ঠেলে যদিও বের হলাম একসময়ে, কিন্তু অটো ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না। একে শুক্রবার; তার’পর এরকম জনতার ঢল। রিকশাওয়ালা মামারাও আজকে বেশ ব্যবসায়ী মুডে আছেন। বিশ টাকার ভাড়া চেয়ে বসে আছে পঞ্চাশ টাকা! ইকবাল তবুও রাজি, আমি মানা করে দিলাম। একটা জোয়ান ছেলের সাথে এক রিকশায় যাওয়া যাবেনা। এতোটা উদার মনের হতে পারেনি আমি!

শেষ অবধি একটা ফাঁকা অটো পাওয়া গেল। উৎসুক যাত্রীর সাথে ধাক্কাধাক্কি নামক যু;দ্ধ শেষে দু’জনেই দু’টো সিট বাগাতে পারলাম।

গেট পেরিয়ে বাসায় ঢুকতেই চেঁচামেচি আর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। বুকটা ধ্বক করে উঠলো আমার। মার কণ্ঠ! কি হয়েছে? বাবা! বাবার কিছু হয়েছে? আমি দৌঁড়ে ফ্ল্যাটের দরজায় এসে দাঁড়ালাম; আন্টিও বেরিয়ে এসেছে ফ্ল্যাট থেকে। চোখে প্রশ্নমালা—-‘কে কাঁদছে? কেন কাঁদছে?’—-আমি জবাব দিতে পারলাম না। ‘মা মা’ করে চিৎকার করতে করতে ব্যাগে থাকা এক্সট্রা চাবি দিয়ে দরজা খুললাম। এক ছুটে মার ঘরে গেলাম, স্বস্তি মিললো। না বাবার কিছু হয়নি। সে তাড়াহুড়ো করে শার্ট পড়ছে; দূর্বল হাতে পড়তেও কষ্ট; তার চোখের পানি! আমি হতভম্ব হয়ে ডাকলাম,

“বাবা? কি হয়েছে?”

মা মুখ তুলে তাকালো। বিছানার কাছে মেঝেতে বসে হাউমাউ করে কাঁদছিল এতক্ষণ। আমাকে দেখে চিৎকার করে বললো,

“নিশান আর নেই রে, জিনিয়া! আমার নিশান আর নেই!"

আমার হাত থেকে ব্যাগটা পড়ে গেল!

Story Cover